একজন কনিকা রহমানের কাহিনী...
একই ঘটনার উপর কেউ হয়ত লিখে থাকবেন ইতিমধ্যে। কিন্তূ বিষয়টা খুবই জরুরী এবং এর উপর অতিরিক্ত একটা লেখা আশাকরি পাঠকদের ধৈর্য্যচুতির কারণ হবেনা। কে জানে এই লেখালেখির মধ্য দিয়েই হয়ত একদিন দাঁড়িয়ে যাবে আমাদের জন্মভূমি। ব্লগ নামের শক্তিশালী মাধ্যম একদিন নষ্ট সমাজের মুর্তিমান আতংক হয়ে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে অনেকের মত আমিও ব্যাপক আশাবাদী।
আজকের ’দৈনিক আমাদের সময়’এ বেরিয়েছে খবরটা। কণিকার পায়ে অপারেশন হবে পংগু হাসপাতালে। ভাই মোস্তাক সাথে এসেছে বোনকে সান্ত্বনা দিতে। দেশীয় ডাক্তারদের হরেক রকম হেলা অবহেলার কাহিনী অনেকের মত কণিকারও জানা ছিল। তাই কেমন একটা অজানা আশংকায় দুলে উঠেছিল তার মন। ডাক্তাররা বাম পায়ের বদলে ডান পা কেটে নেবে, এমন একটা ভয়ের কথা ভাইকে বলতেই ভাই ধমকের সূরে আস্বস্ত করল বোনকে। তবু অস্বস্তি একটা রয়েই গেল, এবং তা নিয়েই যেতে হল অপারেশন টেবিলে।
কণিকা বোধহয় আগ হতেই টের পেয়েছিল কি ঘটতে যাচ্ছে তার ভাগ্যে। হলও তাই, গুনে গুনে বাম পায়ের বদলে ডান পায়ের গোড়ালিটা কেটে নিল ডাক্তারগন। সৌরজগতের কোথাও কোন গ্রহ নক্ষত্রের পতন হলনা, দেশীয় জীবনেও ঘটলনা কোন ছন্দোপতন। লোক চক্ষুর অন্তরালে যা ঘটল তা হল, শরীয়তপুরের কণিকা রহমান নামের একজন নষ্ট বাম পায়ের চিকিৎসা করতে এসে হারিয়ে ফেল্ল তাঁর ডান পা। ভাই মোস্তাকের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার বদলে ডাক্তারকুল ব্যস্ত হয়ে উঠল খবর পাগল মিডিয়া ঠেকাতে। হাসপাতালে হট্টগোল হচ্ছে জানতে পেরে ঘটনাস্থলে ছুটে এলেন শাহ আলম নামের জনৈক ডাক্তার। কথা ছিল এই শাহ আলমই অপারেশন করবেন কণিকাকে। জুনিয়র ইয়ার দোস্তদের উপর কণিকার ভার ছেড়ে দিয়ে সিনিয়র শাহ আলম কেন এবং কোথায় গিয়েছিলেন এ প্রশ্নের উত্তর কেবল তিনিই দিতে পারবেন। বাংলাদেশের চিকিৎসা বানিজ্যে এ ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয়, এমনটা হরহামেশাই ঘটছে।
পাঠক, আপনাদের কি পরিচয় আছে সাদা এপ্রোণের এসব জুনিয়র-সিনিয়র ইয়ার-দোস্তদের ইয়ারীর সাথে? মানুষের বাঁচা মরার সন্ধিক্ষনে খোদার ঠিক পরের আসনটায় বসে লাল নীল শিবিরে বিভক্ত এসব পিচাশের দল রুগী নিয়ে কোন্ ধরনের মারফতী খেলায় মত্ত হন তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানার কথা। অনেকেই বলবেন সব ডাক্তার নিশ্চয় এক নয়। আমি বলব ডাক্তারের অভিধানে ভুল নামের কোন শব্দ থাকা অপরাধ। এমনটা মেনেই ডাক্তারী পড়তে আসা উচিৎ। অন্য সব প্রফশনের ভুল ফিক্স করা সম্ভব হলেও ডাক্তারদের ভুল যে শোধরানো সম্ভব নয় তা আবারও প্রমান করল কণিকার ভুল অপারেশন। এধরনের প্রফেশনাল ক্রাইমের বাইরে বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজ রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাঝে মধ্যে এমন সব ঘটনার জন্ম দেন যা গিনিজ রেকর্ডবুকে ঠাঁই নেয়ার দাবী রাখে; রুগী পেটানো, সেবিকা আক্রমন, হাসপাতালের ইনফ্রষ্ট্রাকচার ভাংচুর, নিজদের মধ্যে রক্তারক্তি, মৃত্যুপথযাত্রী রুগীদের জিম্মি করে দাবী আদায়, এ জাতীয় ঘটনা বিশ্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় একবারেই অশ্রুত।
আমার এ লেখা পড়ে দায়িত্বপরায়ন দাবীদার ডাক্তারদের যদি গাত্রদাহ হয় দয়া করে প্রমান করবেন আপনাদের ভালমানুষীপনা। রাজনৈতিক বিরুদ্বচারন ছাড়া এক ডাক্তার অন্য ডাক্তারের প্রফেশনাল ক্রাইম নিয়ে কথা বলছে, বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত এমনটা শোনা যায়নি। ঢাকা শহরে যেমন তেমন, মফস্বলে রুগীর কাছে ডাক্তার মানেই রক্তচোষা ভ্যম্পায়ার, যারা কর্পোরেট চাহিদার কাছে রুগীদের জিম্মি করে গড়ে নেয় নিজদের ভাগ্য। একদিকে ঔষুধ কোম্পানীর নগদ নারায়ণের জন্যে রুগীদের মাত্রাতিরিক্ত ঔষুধ গেলানো, পাশাপাশি ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কমিশনের জন্যে পেটের রোগে চোখের এক্স-রে করাতে বাধ্য করা, এসব আর যাই হোক চিকিৎসা হতে পারেনা। সাহষ থাকলে প্রতিবাদ করুন এসব জঘন্য অন্যায়ের, বিচার দাবী করুন এসব লাগামহীন অপরাধের।
কনিকার ডাক্তার সর্বজনাব শাহ আলম ক্ষমা চেয়েছেন সতীর্থদের ভুলের জন্যে। কি চমৎকার বদন্যতা! এ ধরনের ভন্ডামী বাংলাদেশের ডাক্তারদের পক্ষেই সম্ভব। পৃথিবীর অনেক দেশে এমন ভুল শাস্তিযোগ্য জঘন্যতম অপরাধ। রাজনীতির কড়াল গ্রাস হতে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যতদিন মুক্ত না হচ্ছে পাঠকদের অনুরোধ করব আপনজনকে অপারেশন টেবিলে পাঠিয়ে দয়াকরে মনিটর করবেন এসব ডাক্তারদের ডাক্তারীপনা।
- ধন্যবাদ।
http://www.amadershomoy.com/content/2010/03/03/news0242.htm
লেখক ওয়াচডগ
- ওয়াচডগ -এর ব্লগ
- ২০ টি মন্তব্য
- ০৩ মার্চ ২০১০, ১০:০০
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ২০ টি মন্তব্য
-
মাহাফুজুর রহমান০৩ মার্চ ২০১০, ১০:১৪
প্রথম আলোয় একটা শিরোনাম আছে,
ক্লিনিকে বসেই ফেনসিডিল সেবন করছিলেন চিকিৎসক।
ডিবি পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরে পেলে।
আপনার লেখা পড়ে মাথা গরম হয়ে গেল।আমার দাবী ঐ কুত্তার পা কেটে পেলা হোক।
ওয়াচডগ ভাই,আপনার লেখায় আমার ভালো লাগে।এই এ্যাড্রেসটায় ডুকেন।এই ব্যাপারে একটা পোষ্ট চাই।এই সব লেখা আমার আসেনা।আশা করি আপনি কিছু লিখবেন।
http://www.amardeshonline.com/pages/details/2010/03/03/20982 -
সজল শর্মা০৩ মার্চ ২০১০, ১১:০৫
মেডিক্যাল বেছে নেই নাই। এখন মনে হচ্ছে খোদার রহমতে ভাল একটা কাজ করেছি। না হলে কত গালি যে শুনতে হত।
ডাক্তার তো দেশে প্রতিবছর পিঁপড়ের সংখ্যার মত বের হয়। কিন্তু অবস্থা এই। এগুলো তোদেশেরই বদনাম। তাই কেউ আর এখন দেশী পিশাচ মানে ডাক্তারদের বিশ্বাস করে না। কারও একটু সামর্থ থাকলেই পাশের দেশ ভারতে চলে যায়।
শুধুই আফসোস। হতভাগী রোগিনীর জন্য মুখের বুলি শুভকামনা ছাড়া কিছুই বলার নেই। ডাক্তারদের এই ভুলে তাকে তো আজীবন ভুগতে হবে।
প্রশাস্ন এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে আশাকরি। আদালতের শরণাপন্ন হওয়া দরকার। এবং রোগিনীর সারা জীবনের ভরণ-পোষণ এবং চিকিতসা হাসপাতাল অথবা ডাক্তারদের তরফ থেকে দেবার ব্যবস্থা হোক এককালীনভাবে। কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যবস্থা বাইরের উন্নত দেশগুলোতে আছে দেখেছি। সে ব্যবস্থা করা হোক। এ ছাড়া আর কোন সুবিচার দেখছি না। যতই সুবিচার হোক তাও কম রয়ে যাবে হারানোর তুলনায়। -
রুম্মান২১০৩ মার্চ ২০১০, ০১:৪৬
আমি বিরোধিতা করছি আপনাদের মনোভাবের, একজন ডাক্তারের ভুলের জন্য পুরো ডাক্তারী পেশাকে অসম্মান করবেন না, দয়া করে।
যারা অপরাধ করেছেন তাদের বিচার দাবি করছি। -
দেবদাস০৩ মার্চ ২০১০, ১১:১২
ঘটনাটা কালকে রাতে পড়েছিলাম প্রথম আলোতে।
"পাঠক, আপনাদের কি পরিচয় আছে সাদা এপ্রোণের এসব জুনিয়র-সিনিয়র ইয়ার-দোস্তদের ইয়ারীর সাথে? মানুষের বাঁচা মরার সন্ধিক্ষনে খোদার ঠিক পরের আসনটায় বসে লাল নীল শিবিরে বিভক্ত এসব পিচাশের দল রুগী নিয়ে কোন্ ধরনের মারফতী খেলায় মত্ত হন তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানার কথা। অনেকেই বলবেন সব ডাক্তার নিশ্চয় এক নয়। আমি বলব ডাক্তারের অভিধানে ভুল নামের কোন শব্দ থাকা অপরাধ। এমনটা মেনেই ডাক্তারী পড়তে আসা উচিৎ। অন্য সব প্রফশনের ভুল ফিক্স করা সম্ভব হলেও ডাক্তারদের ভুল যে শোধরানো সম্ভব নয় তা আবারও প্রমান করল কণিকার ভুল অপারেশন। এধরনের প্রফেশনাল ক্রাইমের বাইরে বাংলাদেশের ডাক্তার সমাজ রাজনীতির ছত্রছায়ায় মাঝে মধ্যে এমন সব ঘটনার জন্ম দেন যা গিনিজ রেকর্ডবুকে ঠাঁই নেয়ার দাবী রাখে; রুগী পেটানো, সেবিকা আক্রমন, হাসপাতালের ইনফ্রষ্ট্রাকচার ভাংচুর, নিজদের মধ্যে রক্তারক্তি, মৃত্যুপথযাত্রী রুগীদের জিম্মি করে দাবী আদায়, এ জাতীয় ঘটনা বিশ্ব চিকিৎসা ব্যবস্থায় একবারেই অশ্রুত।" - ইউনিভার্সাল ট্রুথ। -
তাসনিমা নূর০৩ মার্চ ২০১০, ১১:১৯
এত বড় ভূল! মেয়েটা আশংকা করল যা তা-ই হল! ডাক্তাররা কি অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেও জানতে চায় না কি করার জন্য তারা এসেছেন? -
হীরা-সিটিজি০৩ মার্চ ২০১০, ১২:২৫
কিছু বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছি........
শুধু রাগে সারা শরীর জ্বলছে.... -
রুহশান আহমেদ আবীর০৪ মার্চ ২০১০, ০৬:০২
আমার আম্মুকে বলব, আমি মেডিক্যালে পড়বনা, যদি উপায় না ই থাকে মেডিক্যাল ছাড়া, তাহলে শপথ নিলাম, পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করব,জান দিয়ে। আমি আমার দেশকে ভালবাসি!:i
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক