ফেব্রুয়ারি
০৯

বিমানের এঞ্জিন পাহাড় বাইয়্যা যায়...

Photobucket
গল্পটা বেশ চালু গল্প, বিশেষ করে এঞ্জিনীয়ারিং মহলে। বাংলাদেশের কোন এক উপজেলা শহর। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের অধীনে পুকুর কাটার প্রকল্প পাশ করা হল অনেক কাঠখড় পুঁড়িয়ে। বেশ বড় প্রকল্প, বড় অংকের টাকা জড়িত প্রকল্প বাস্তবায়নে। ক্ষুধার্ত এঞ্জিনীয়ারং গুষ্টি ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা চক্র একহয়ে সিদ্বান্ত নিল অনেকদিন টাকা পয়সার মুখ দেখা হয়না, পুকুর কাটা বাদ দিয়ে প্রকল্পের পুরো টাকাটাই নিজদের ভেতর ভাগাভাগি করতে হবে। বাস্তবেও হল তাই, যে যাঁর পকেট ষ্ফীত করে নির্ধারিত সময় কাটিয়ে বদলি হয়ে চলে গেল অন্য শহরে। নতুন রাজনৈতিক সরকারের আওতায় নতুন ব্যবস্থাপনা ও এঞ্জিনীয়ারিং দল আসতে বিশেষ দেরী হলনা। কাগজপত্র ঘেটে তাঁরা বুঝে পারল পুকুর কাটার নামে বড় ধরনের পুকুরচুরি হয়ে গেছে এখানটায়। তারাই বা বাদ যাবে কেন, সিদ্বান্ত নিল উপরওয়ালার কাছে নতুন একটা প্রকল্প উপস্থাপন করতে হবে। ঢাকার প্রকল্প অফিসে বেশ ইনিয়ে বিনিয়ে বলা হল, গেল ম্যানেজমেন্টের আমলে কাটা পুকুরটা জনজীবনে বড় ধরনের অসূবিধা করছে, তাই ভরে ফেলতে হবে এটাকে। প্রকল্প পাশ হল, টাকা এল এবং সবাই মিলে ভাগাভাগি করে নিল।

বাংলাদেশ বিমানের দুরবস্থার উপর স্থানীয় দৈনিকের একটা প্রতিবেদন পড়ছিলাম। আবুধাবিতে গত ১০ই জানুয়ারী আগুন লাগে বিমানের ডিসি-১০ উড়োজাহাজের একটা এঞ্জিনে। পরদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম-মাস্কাট ফ্লাইটের আরও একটা ডিসি-১০ উড়োজাহাজ বিকল হয়ে পরে চট্টগ্রামে। উড়োজাহজ বিশেষজ্ঞরা অনেক আগেই মত দিয়েছেন বিমানের বোঝা মান্ধাতা আমলের ডিসি-১০ গুলো না সড়ালে বিমান বাংলাদেশ কোনদিনই পায়ের উপড় দাঁড়াতে পারবেনা। কিন্তূ মহল বিশেষ এই উড়োজাহাজগুলোকে ফ্লাইট বহরে ধরে রাখার জন্যে একেবারেই বেপরোয়া। কারণ? মেরামত বানিজ্য। হিসাব মতে নতুন একটা উড়োজাহাজ পরিচালনা ব্যয় ঘন্টায় ৪ হাজার ডলার, আর বিমানের ডিসি-১০ উড়োজাহাজ পরিচালনা ব্যয় ঘন্টায় ১২হাজার ডলার। বিমান বহরে বর্তমানে ডিসি-১০’এর সংখ্যা চারটি।

বিমান প্রতিবছর গড়ে উড়োজাহাজের প্রায় দুই হাজার যন্ত্রাংশ দেশের বাইরে মেরামত করিয়ে থাকে। বিমানের তালিকাভুক্ত মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেরামত শেষে যন্ত্রাংশের ব্রেকডাউন পার্টস (খুচরা যন্ত্রাংশ) পরিবর্তন না করেও ইনভয়েস (ভাউচার) দেখিয়ে গড়ে প্রতিটি যন্ত্রাংশের বিপরীতে কয়েক হাজার ডলার অতিরিক্ত বিল করে থাকে মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই হিসাবে বছরে গড়ে দুই হাজার যন্ত্রাংশের বিপরীতে বিমান বছরে ৩০ কোটি টাকা গচ্চা দিচ্ছে। মেরামতকারী প্রতিষ্ঠানের নামে কতিপয় মধ্যস্বত্বভোগীর সঙ্গে যোগসাজশ রয়েছে বিমানের একশ্রেণীর কর্মকর্তার। কারণ মেরামত কাজে হাত দিতে পারলেই মেলে অর্থ। বিমানের স্টোর বিভাগের ২০০৬ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ভুয়া কাজ বন্ধ করায় ওই বছর ৩০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছিল। অথচ তার আগের বছরেও ৩০ কোটি টাকা বেশি নিয়ে গিয়েছে এই ব্যবসায়ীরা।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে হয়তো উড়োজাহাজের একটি যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করা হলো। এ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্র তখন একটির স্থানে তিনটি যন্ত্রাংশের বিল দেখাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে বিমানের উড়োজাহাজ মেরামত করে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীরা বছরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ওয়ার্কশপের কারিগরি রিপোর্টে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে যন্ত্রাংশ বদল করা হয়নি। তারপরও শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়ে বিল করে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। খোদ শীর্ষস্থানীয় কর্তাব্যক্তিরা এর দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় বছরের পর বছর ধরে বিমানের কোটি কোটি টাকা লুটপাট হয়ে যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কর্তারা ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ নিয়মিত মাসোহারা পেয়ে থাকে। ঈদের সময় মেলে বিশাল অঙ্কের বোনাস।

নিউ ইয়র্ক-ঢাকা রুটের বিমান পরিচালনাকে অলাভজনক বলে যেদিন বন্ধ করে দেয়া হল আমার মত ম্যাংগো পিপলদের অনেকেই অবাক হয়নি। বিমানের টিকেট নিয়ে তোঘলকী কারবার আর উপরে বর্নিত করুন ইতিহাস, এই দুইয়ের সমন্বয়ে পৃথিবীর কোন এয়ারলাইন্স টিকে থাকে এর কোন উদাহরন নেই। ধন্য দেশের ধন্য বিমান!
তথ্যসূত্রঃ http://www.shamokal.com/


২৫টি মন্তব্য

  • মেহেদী বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:১৮:১৩

    আচ্ছা ইঞ্জিনে রঙ দেয়ার কোনো খবর পাওয়া গেল কী ?

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:২৩:৩৯

    মাল কামানোর নতুন ধান্ধা! নিশ্চয় বাস্তবায়ন হবে। সরকার পরিবর্তন হলে পরিবর্তন হবে পুরানো সরকারের রঙ। চক্র! শালার চক্ররে!!

    ধন্যবাদ মেহেদী ভাই।

    মেহেদী বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:২৫:৩৪

    আমি ভাবছিলাম যদি ইঞ্জিনে রঙ দিয়ে দেয় তাহলে ইঞ্জিনটাও নতুন হয়ে গেল

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:২৭:৪৩

    দুই নম্বর লাইনের বিশেষজ্ঞরা নিশ্চয় এ পথ মাড়িয়েছেন ইতিমধ্যে। আমি শুনেছিলাম বিমানের রঙ বদলানো হবে!

  • আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:৪০:০৩

    দেশীয়দের বাইরেও আরেকটা সিন্ডিকেট আছে সেটা হল মেরামত কারী প্রতিষ্টান এবং এর সংশ্লিষ্ট ইন্জিনিয়ার। দাম শুনলে বিমান আসলেই পাহাড় বাইয়্যা যাবে।
    টোটালি বিমানে সফলতা আসা বেশ কষ্ট সাধ্য।
    আমার জানা মতে বিমান প্রতি মন্ত্রী বেশ চেস্টা করছেন এবং জি এম কাদের বেশ চৌকশ একজন লোক বলে মনে হয়েছে।

    মেহেদী বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৮:৪৮:৪৬

    জি এম কাদেরকে আমার কাছেও তাই মনে হয়। তবে উনিতো আর একা কিছু করতে পারবেন না।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:২৩:১৯

    এই বিদেশী মেরামতকারীরাই হচ্ছে দেশীয় রুই-কাতলাদের মূল খাদ্য। ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে সরিয়ে নেয়া হয় ডলার-পাউন্ড, জমা হয় বিদেশী ব্যাংকে। হুজুরের দল বিদেশ সফরে যান, গন্ধ নেন কুড়িয়ে পাওয়া অর্থের।

    হোসেন মোহম্মদ এরশাদের ভাই জি এম কাদের ভাল কেউ হলে সফলতা কামনা করছি উনার। আকাশের বিমান আকাশেই থাকুক এমনটাই দেখতে চাই।

  • সুজন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৯:৩৭:৫৫

    বাংলাদেশী বিমানী শুভ সকাল।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:২৪:৩৪

    শুভ সকাল আপনাকেও।

  • সজল শর্মা বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৯:৪৬:২৫

    বিমানের টিকেট নিয়ে তোঘলকী কারবার আর উপরে বর্নিত করুন ইতিহাস, এই দুইয়ের সমন্বয়ে পৃথিবীর কোন এয়ারলাইন্স টিকে থাকে এর কোন উদাহরন নেই। ধন্য দেশের ধন্য বিমান!

    -তারপরেও যে ঠিকে আছে, তার জন্য ধন্য হে বঙ্গ জননী বলতে হয়।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:২৫:৫১

    বিমান এখন অসূস্থ রুগী। আসুন দোয়া করি সবাই মিলে!

  • ময়না পাখি বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ০৯:৫৮:৪৫

    "ব্যাপার না" সবকিছুতে এই কথা বলে দিলেই হয়। আমরা সব কিছুতেই অভ্যস্ত। সবকিছু হজম করার অসাধারন ক্ষমতা নিয়েই বাঙ্গালী হতে হয়।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:২৮:৩০

    আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মহান উক্তি অনেকদিন বেঁচে থাকবে নিশ্চয়~

  • সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:১১:২০

    এ দেশে সবই সম্ভব ..... ভালো ইঞ্জিন খারাপ করে ত ঠিক করা...........

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১০:২৬:৩৭

    টাকা আমার চাই, নইলে ইঞ্জিন!!!

  • ইলিয়াজ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:১৯:৪৩

    আকাশে অশান্তির পায়রা

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:২২:৫০

    হা হা হা! দারুন বলেছেন!

    কারিম ভাই বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:২৭:৩৯

    ঠিক না

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:৩২:৪৮

    আসলে এমনটা ঠিক হওয়া উচিৎ না। কিন্তূ যেভাবে ঘন ঘন মুখ থুবড়ে পরছে!!!

  • সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:২৬:১৭

    যখন খোলাবাজারে গরুগোস্ত ৮০টাকা কেজি ছিলো তখনো বিমান গোস্ত কিনতো ২০০ টাকা দরে। যন্ত্রপাতির কথা বাদই দিলাম। আমি মনে প্রাণে কামনা করি বিমান বন্ধ হয়ে গিয়ে সবাই চাকুরী হারাক।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:৩১:০৬

    Biman is nothing but a corporate scam! ধন্যবাদ আপনাকে।

    ইলিয়াজ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১২:৪০:০৭

  • কারিম ভাই বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:২৯:৪৩

    স্যার, যাই বলেন না কেন বিমান কিন্তু একটা দিক দিয়া অনেক বড় বড় এয়ারলাইন্সের চেয়ে ভালো । অনেক বছর ধরে বিমান কিন্তু বড় ধরনের কোন দূর্ঘটনায় পড়ে নাই

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:৩৪:৩৪

    নিশ্চয় উপরওয়ালার হাত আছে।

  • ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:৪২:১৭

    Photobucket
    উপরওয়ালার হাত না থাকলে এত বড় র্দুঘটনার পরও বিমান পাখা মেলছে



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫