ফেব্রুয়ারি
০৮

২১শে ফেব্রুয়ারি নিয়ে কিছু প্রাসংগিক ভাবনা ...

Photobucket
মনটা আজ ভাল নেই। গাছ গাছড়ার প্রতি দুর্বলতা সাড়া জীবনের। যখন যেখানেই বাস করেছি দু’একটা গাছ কাছাকাছি রাখার চেষ্টা করেছি। আমেরিকার এই রুক্ষ্ম পশ্চিমে এসেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।২০০৯'এর জানুয়ারীতে দেশে গিয়েছিলাম প্রায় ৪ বছর পর। ফেরার পথে স্যুটকেস ভরে জিনিষপত্র টানার পর্ব শেষ করেছি সেই কবে। কিন্তূ একেবারেই কিছু আনা হয়না এমনটা বোধহয় সত্য নয়। এ যাত্রায় বেশ ক’প্যাকেট বীঁজ এনেছি চাষাবাদ করব বলে। ঘরে ফিরেই স্থানীয় হোম-ডিপো হতে আলিশান ক’টা টব কিনে টমেটোর বীঁজ পুতে দিলাম দেশীয় টমেটো খাব বলে। গরম পেরিয়ে শীত এল। বীঁজ হতে গাছ বেরিয়েছিল সেই কবে, ডাল-পালাও গজিয়েছিল দেখার মত। কিন্তূ হায়, টমেটোর মুখ আর দেখা হলনা! উঁপড়ে ফেলতে হল ভালবাসার গাছগুলোকে।

যাই হোক, আমার লেখার বিষয় বিদেশে বসে দেশী টমেটো খাওয়ার তোঘলকী স্বাদ নিয়ে নয়। আসছি সে প্রসংগে।

মোহম্মদপুর অফিসটায় প্রথম যেদিন জয়েন করি সেদিনই মনে মনে হিসাব কষে নেই কোথায় সেট করব ফুলের টবগুলো। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বিভিন্ন সূত্র হতে জোগাড় করতে শুরু করি হরেক রকম ফুলের গাছ ও বীচি। বছর না ঘুরতেই বদলে যায় অফিসটার চেহারা। শীত, গ্রীস্ম, বর্ষায় নিজের সন্তানের মত আগলে রাখি গাছগুলোকে। ফেব্রুয়ারীর সোনাঝড়া এক সকাল। অফিসে ঢুকতেই দেখলাম গাছগুলোর উপর দিয়ে বয়ে গেছে প্রচন্ড ঝড়। শুধু ফুল নয়, গাছগুলোও কেউ উঁপড়ে নিয়ে গেছে। অফিসের পিয়ন কাচুমাচু সূরে বলল, ’স্যার, পাড়ার পুলাপাইনে শহীদ মিনারে ফুল দিব, তাই গত রাইতে উঠ্যাইয়া লইয়্যা গেছে’, তার কথায় শোকের ছায়া দূরে থাক বরং উট্‌কো ঝামেলা হতে মুক্তি পাওয়ার ছায়া দেখতে পেলাম। কিন্তূ আমার মনে হল হূৎপিন্ডের অর্ধেকটা কেউ ছিড়ে নিয়ে গেছে। ঝিম মেরে বসে রইলাম অনেকক্ষন। হ্যাঁ, দিনটা ছিল ২১শে ফেব্রুয়ারি। প্রাইভেট কোম্পানী, বছরের প্রায় ৩৬৫ দিনই অফিস করতে হয়। সে দিনটাও এর ব্যতিক্রম ছিলনা।

দিনটার আয়োজন ছিল চোখে পরার মত, অফিসে আসার পথেই তা খেয়াল করেছি। চারদিকে ভাবগম্ভীর অথচ উৎসবমূখর পরিবেশ। পরনে শান্ত সৌম্য পোশাক আর হাতে ফুল নিয়ে অনেকেই ছুটছে শহীদ মিনারের দিকে। টুকটাক যা কাজ ছিল তা সেড়ে আমিও বেরিয়ে পরলাম একই গন্তব্যে। মোহম্মদপুর বাজারটা পার হলেই চোখে পরবে ষ্টেডিয়ামটা এবং কাছাকাছি শহীদ মিনারটা। মাসের ১ তারিখ হতেই শুরু হয়েছিল ঘষামাজার কাজ। একদল উৎসাহী তরুন দিনরাত পরিশ্রম করে বদলে দিয়েছে মিনারটার চেহারা। আঁলপনা আর ফুলের নদীতে ডুবে আছে পাদদেশ। বাংলা অক্ষর আর শহীদদের স্মরণে লেখা ব্যানার ফেষ্টুনে ছেয়ে গেছে চারদিক। সাথে বাঁজছে ২১শে ফেব্রুয়ারির অমর সংগীত। মিনারের এক কোনায় আমার ভালাবাসার ফুলগুলো দেখে ভূলে গেলাম সকালের কষ্টগুলো। মন্ত্রমুগ্ধের মত গিলছিলাম সবকিছু। সৃত্মির অলি-গলি হাতড়ে কখন চলে গিয়েছিলাম কৈশোরে খেয়াল করিনি। পাকিস্তান আমলে পাথর মেরে ইংরেজী সাইনবোর্ড ভাংগার সৃত্মি মনে হল এই তো সেদিনের কথা। অথচ দেখতে দেখতে কতগুলো বছর পার হয়ে গেল। ’ভাইয়া এই ব্যাজটা নিতে হবে আপনাকে’, অফিস পিওনের সেই পুলাপাইনদের একজনের কর্কশ কথায় ফিরে এলাম ১৯৯২ সালে। নিতেই হল কালো ফিতার ব্যাজটা, বিনিময়ে পকেট হতে খসে গেল বেশ কিছু টাকা। রিক্সা নিয়ে আসাদগেটের দিকে এগিয়ে যেতে পুলাপাইনের আরও দু’তিনটা দল পথ আগলে দাড়াল, সাবার হাতে একই জিনিষ। প্রায় জবরদস্তি করে খসিয়ে নিল আরও কিছু টাকা।

পরদিন আফিস যাওয়ার পথে আবারও দেখলাম শহীদ মিনারটাকে। ব্যানারগুলো নেই, ফুলগুলোর অর্ধেকটাই হাওয়া, বাঁকি অর্ধেক মরি মরি করছে। চারদিকে বিদায়ের চিন্‌হ। সপ্তাহ জুড়েই চল্‌ল এ দেখাদেখি। এভাবে ফেব্রুয়ারী গড়িয়ে মার্চ ঠাই নিল ক্যালেন্ডারের পাতায়। প্রথম তারিখেই চোখে পরল দৃশ্যটা; ২১শে ফেব্রুয়ারির সব চিন্‌হ মুছে গেছে শহীদ মিনার হতে। ব্যানারগুলোর জায়গায় ঠাঁই নিয়েছে ভাসমান পতিতাদের শুকাতে দেয়া বাবুরহাটী শাড়ি। ওটাই ওদের স্থায়ী ঠিকানা। সাড়া রাত খদ্দেরের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়, সকাল হতেই ফিরে আসে আপন ঠিকানায়। এভাবেই কেটে যায় সাড়াটা বছর, ব্যতিক্রম শুধু ফেব্রুয়ারী মাসটা।

আমার এক দূর সম্পর্কীয় আঁত্মীয়, জাদ্‌রেল রাজনীতিবিদ। ভদ্রলোকের পোশাকের ক্লজেট্‌টার কথা না বল্‌লেই নয়। ভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্যে থরে থরে সাজানো থাকে ভিন্ন পোশাক। ২১শে ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে শহীদ মিনার যাওয়ার জন্যে এক সেট, সন্ধ্যায় শহীদ্‌দের স্মরণে মহতী সভায় বক্তব্য দেয়ার এক সেট এবং রাতে মদ ও জুয়ার আসরে যোগ দেয়ার ভিন্ন সেট। শহীদ দিবসে রাজনীতিবিদ্‌দের ভাল ভাল কথা শুনলেই কেন জানি না ঐ আঁত্মীয়ের ক্লজেট্‌টার কথা মনে পরে যায়।

২১শে ফেব্রুয়ারি, জাতীয় শহীদ এবং আর্ন্তজাতিক ভাষা দিবস। বাংলা ভাষাবাসী প্রতিটা মানুষের রক্তে মিশে আছে এ দিনটার মূল্যবোধ। সময়ের চাহিদা মিটিয়ে অদ্যাবদি দিবসটা টিকে আছে আপন মহিমায়, এবং ভবিষতে হাজার বছর টিকে থাকবে তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। নতুন সহস্রাব্দীর সাথে বদলেছে আমাদের প্রয়োজন এবং চাহিদা, বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নতি হচ্ছে বিস্ফোরন্মূখ গতিতে। যে ইংরেজীকে তাড়ানোর জন্যে এক সময় রনসাজে সজ্জিত হতাম সে ইংরেজীর দৈন্যতায়ই আমাদেরকে এখন অপদস্থ করছে পৃথিবীর অলিগলিতে । সন্দেহ নেই বিশ্বায়নের প্রেক্ষপটে বদলেছে জাতিতে জাতিতে সহাবস্থানের নিয়ম কানুন। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগবে, এমন একটা বাস্তবতায় আমাদের জাতীয় জীবনে ২১শে ফেব্রুয়ারির ভূমিকা কি পূনঃমূল্যায়নের দাবী রাখে? বিদেশী বর্গীদের বিদায় করেছি অনেকদিন হয়ে গেল, ভাষা নিয়ে তেজারতী করার স্পর্ধাও কবর দিয়েছি স্বাধীনতার মধ্য দিয়ে। সময়ের চাকায় চড়ে ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনকে আমরা কোন গলিতে নিয়ে গেছি আসুন তার দু’একটা উদাহরনের সাথে পরিচিত হইঃ একটা সময় ছিল যখন ২১শে’র প্রথম প্রহরে মিনারে ফুল দেয়া নিয়ে রক্তারক্তি ছিল রাজনৈতিক সাংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। মিনারের পাদ্‌দেশে ধর্ষনের মত ন্যক্কারজনক ঘটনাও আছে দিনটা উৎযাপনের তালিকায়। অন্যের সাজানো বাগান তচনচ করে মিনারে ফুল অর্পনের কথা নাইবা উল্লেখ করলাম। এক কথায়, সমাজের রঁন্ধ্রে রঁন্ধ্রে অবক্ষয়ের যে ভয়াবহ চিত্র তা হতে রেহাই পায়নি শহীদ দিবস পালনের ইতিহাসও।

৩৯ বছরেও একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের শিক্ষিতের হার ৫০ ভাগ অতিক্রম করেনি, এ সংখ্যাটাই কি হতে পারেনা ভাষা দিবস পালনে আমাদের সাফল্যের মাপকাঠি? মিনারকে বৈধ-অবৈধ ফুলের সাগরে ভাসিয়ে, ভন্ড নেতা-নেত্রীর ততোধিক ভন্ড ভাষনে আপ্লুত হয়ে আমরা সাধারণ মানুষেরা আন্দেলিত হই শহীদ্‌দের আত্মত্যাগে। কিন্তূ ফুল একদিন শুকিয়ে যায়, সে ফুল সড়িয়ে মোহম্মদপুর মিনারের মত অনেক মিনারে পতিতারা ফিরে পায় তাদের স্থায়ী আবাস, নেতা-নেত্রীরা দিনান্তে শহীদ্‌দের জন্যে নির্গমিত চোখের জল মুছে হাতে তুলে নেন লাল নীল পানি। আমরা চাইলেই কি পারিনা অন্তত এই দিনটাকে গতানুগতিক বলয় হতে বের করে নির্দ্দিষ্ট কিছু কর্মসূচী নিয়ে পালন করতে? এই যেমন, শিক্ষার হারকে সন্মানজনক পর্য্যায়ে নিয়ে আসা, শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমাসাময়িক চাহিদার সাথে খাপ খাইয়ে পুনঃবিন্যাস করা, শিক্ষাংগন হতে ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি দূর পূর্বক সন্ত্রাষ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা, এমন আরও কিছু কর্মসূচী। ফুলের মালায় শহীদ মিনার ভাসানোর চাইতে শিক্ষা ব্যবস্থার জ্বলন্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে সালাম, রফিক, বরকত ও জাব্বরদের আত্মদানের প্রতি অধিকতর সন্মান প্রদর্শন করা যেত, আশাকরি আমার এ ভাবনা অন্যায় কোন ভাবনা নয়।

শীত এবং বসন্ত পেরিয়ে আবারও ফিরে আসবে গ্রীস্মকাল। দেশ হতে আনা বীঁজগুলোর ভান্ডার শেষ হয়নি, সযত্নে উঠিয়ে রেখেছি সামনের গরমে রোপনের আশায়। না ফলুক দেশী টমেটো, অন্তত আশায় তো কাটানো যাবে ক’টা দিন! একই আশায় সাড়াটা জীবন বুক বেধে আছি, আমার দেশ হতে একদিন, কোন একদিন দূর হবে ভন্ডামীর রাজত্ব, জয় হবে সত্য, ন্যায় আর বেঁচে থাকার নূন্যতম মূল্যবোধ।

সবাইকে ফেব্রুয়ারি মাসের শুভেচ্ছা।
NB: ২১শে ফেব্রুয়ারির চলমান সাংস্কৃতিকে কটাক্ষ অথবা অবমূল্যায়ন করা আমার লেখার উদ্দেশ্য ছিলানা, আশাকরি কেউ ভুল বুঝবেন্‌না। আমার লেখায় অনেক বানান ভুল থাকতে পারে, এ আমার জ্ঞানের দৈন্যতা। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।


৩৪টি মন্তব্য

  • অরু বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৩:২৮:০৮

    আপনার পোস্ট আমার বেশ পড়া হয়,
    দিনগুলো কেমন যেনো লৌকিকতা হয়ে যাচ্ছে। অনুভব করতে পারি না। দেখাতে পারি।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:২২:০১

    জেনে খুব ভাল লাগলে যে আপনি লেখাগুলো পড়েন। ধন্যবাদ আপনাকে, ভাল থাকুন।

  • আকাশ ডট মামুন বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৩:৩১:২৯

    আপনার ভাবনাগুলো মসৃণ চলার পথ খুজে পাক।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:২২:২০

    ধন্যবাদ আপনাকে।

  • মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ সৌরভ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৩:৩৬:৪৯

    স হ ম ত

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:২২:৪৪

    ধ ন্য বা দ ।

  • আমি বাংলাদেশী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৩:৫৭:২৩


    ইউ টিউবে বাংলা গানের একটা ভিডিও দেখেছিলাম।
    গানের কথাগুলা এমন - "আমার দয়াল বাবা কলা খাবা গাছ লাগায়া খাও, পরের গাছের পানে কেন মিটমিটায়া চাও"।

    শহীদ মিনারে ফুল দিতে হলে নিজের পয়াসা দিয়ে ফুল কিনে দাও। অন্যের গাছের ফুল ছিড়ে কেন? আর ফুল কেনার সার্মথ্য না থাকলে ফুল দিও না।

    আসলেই আমরা আদ্ভুত এক জাতি!

    আমি বাংলাদেশী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৩:৫৯:৩১

    আসলেই আমরা অদ্ভুত এক জাতি!

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:২৩:৫৩

    গানের ভিডিওটা আগেই দেখেছি। খুবই বক্তব্য সম্পন্ন গান। কঠিন রাজনৈতিক ম্যাসেজ। মনে করিয়ে দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  • মেহেদী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:৪২:৩৭

    চাইলে তো পারতাম। কিন্তু চাইবে কেডা। চাওয়ার মানুষ নাই।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৪:৫৪:৪২

    যে কাজ এখনই শুরু করা যেত তা হয়ত ঠিকই শুরু হবে, তবে ততদিনে নদীতে অনেক পানি গড়িয়ে যাবে। - ধন্যবাদ আপনাকে।

    রঙ্গীলা বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৫:২৬:১১

    শুধু মুখে চাইলেই হবে না মেহেদী ভাই।আমাদেরকে অন্তর দিয়ে চাইতে হবে।কিন্তু তার আগে আমাদের অন্তরটাকে পরিস্কার করতে হবে।এইসব ভন্ডামীর রাজনীতে থেকে না বের হয়ে আসার আগ পর্যন্ত আমাদের কিছুই হবে মনে হয় না।ভান্ডামী দেশ প্রেম দিয়ে দেশের উন্নয়ন হবে না,এজন্য খাটি দেশ প্রেমের দরকার রয়েছে।

    ধন্যবাদ ওয়াচডগ ভাই একটা সুন্দর পোস্টের জন্য। আমি অফ্লাইন থেকে পানার এই পোস্টটি পড়ছিলাম।
    মন্তব্য করতে লগইন করলাম।
    ভাল থাকুন।

    মেহেদী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৫:৩৫:৪৯

    তাইতো বলছি, কে চাইবে।

    রঙ্গীলা বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৫:৪১:১৪

    যারা চায় ওদের চাওয়ার কোন দাম নেই,আর যাদের দাম আছে ওরা চাইবে না।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:০২:১৫

    @রংগীলা ভাই, প্রথমত ধন্যবাদ সময়করে পড়া ও মন্তব্যের জন্যে। আমি বিশ্বাষ করি ভাল-মন্দ বুঝার ক্ষমতা নিয়েই মানুষের জন্ম হয়। সুতরাং জাতি হিসাবে কোনটা আমাদের ভাল তা কমবেশী সবাই বুঝে। সমস্যা হল নষ্ট রাজনীতি। আমাদের বেচে থাকাটাই রাজনীতিমূখী হয়ে গেছে, যার কারনে ব্যক্তিগত পছন্দগুলোকে বলি দিতে হচ্ছে রাজনৈতিক বাস্তবতার কাছে। ২১শে ফেব্রুয়ারি পালনও এর বাইরে যেতে পারছেনা। তবে এ নিয়ে কাউকে না কাউকে কথা বলতে হবে। জনপ্রিয় বাংলা ব্লগগুলোই হতে পারে এর শুরু। এসব ব্লগে দেশের শিক্ষিত অংশের উপস্থিতি দিন দিন বাড়ছে, তাই আশাহত হওয়ার কারন নেই। সময়ই এর উত্তর দেবে।

    আবারও ধন্যবাদ আপনাকে।

  • সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:০৩:৪৩

    আজকের লেখায় দুটো অংশ - প্রথম অংশটি দারুন উপভোগ্য হয়েছে।
    পরের অংশর ওয়াচডগশিপ বরাবরের চাইতেও ভালো হয়েছে, আমার মতামত।
    বানানের ব্যপারে নিজের স্বীকারোক্তির পর আর কিছু বলা শোভন হবেনা

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:১৪:৩১

    গড় ধন্যবাদের চাইতেও অতিরিক্ত কিছু ধন্যবাদ রইল মন্তব্যের জন্যে। এ ধরনের মন্তব্য লেখার প্রেরনা হিসাবে কাজ করে। আমার লেখার কমন ভুলগুলো (চন্দ্রবিন্দু অন্যতম) ধরিয়ে দিলে বরং উপকৃত হব।

    সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:২৭:০৩

    আপনার সম্মতি পাওয়াতেই ভুলগুলো চিহ্নিত করতে একটু চেষ্টা করলাম।

    সাড়া জীবনের - সারা
    গ্রীস্ম, গ্রীস্মকাল - গ্রীষ্ম
    সোনাঝড়া - সোনাঝরা
    সৃত্মির - স্মৃতির
    চোখে পরার - চোখে পড়ার
    চোখে পরবে - পড়বে
    চিন্‌হ - চিহ্ন (আগে হ পরে ন)
    সাড়াটা বছর - সারাটা
    অদ্যাবদি - অদ্যবধি
    পূনঃমূল্যায়নের - পূনর্মূল্যায়নের
    ফুল সড়িয়ে - সরিয়ে
    পুনঃবিন্যাস - পূনর্বিন্যাস
    নূন্যতম - ন্যুনতম (খুব সম্ভবত)

    উঁপড়ে, আঁলপনা, বাঁজছে, আঁত্মীয়, রঁন্ধ্রে রঁন্ধ্রে - চন্দ্রবিন্দু হবেনা

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:৩৮:৫৪

    ধন্যবাদ। তুলে রাখলাম ভবিষত লেখার জন্যে। আশাকরি এভাবে কাটিয়ে উঠতে পারব সাধারন ভুলগুলো।

    - ধন্যবাদ আবারও

    সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:৪১:৫৭

    আমিও একটি টাইপিং ভুল করেছি-

    অদ্যাবধি তে 'দ্য' এর পর 'আ-কার' হবে

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৭:৩৪:১৭

    ধন্যবাদ। একটা নোটবই বানাচ্ছি সন্দেহজনক বানানগুলোর জন্যে।

  • ‍নিমফুল বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৬:৪৩:০৫

    ভালো লে্খা.......যেটা ঘটে সত্যি সত্যি.....

    আপনাকে ভাষার মাসের শুভেচ্ছা, শুধু ভাষার মাসে নয় সবসময়ের জন্য।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৭:৩৫:৩৬

    ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা আপনাকেও।

  • আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৭:০৮:৩৯

    "৩৯ বছরেও একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের শিক্ষিতের হার ৫০ ভাগ অতিক্রম করেনি"----
    আমার এখন অশিক্ষিতদের নিয়ে একটু মাথা ব্যাথা নেই আমার মাথা ব্যাথা এই ৫০ ভাগ যে গুলোকে শিক্ষিত বলেছেন তাদের নিয়ে। বুঝে নেয়া সম্ভব কি বলা হয়েছে।
    আসলে যেখানে সম্মান জানানো হয় সে জায়গা গুলো সংরক্ষিত রাখা উচিত। ভাবতে অবাক লাগে এখানে একটা জায়গা আছে যেখানে বিয়ার ফেস্টিবেল হয় প্রতি বছর আর সে জায়গাটার গেইট খোলা হয় ঐ উৎসবের সময়ই কেবল। যে জিনিস যে অবস্তায় আছে সারা বছর ঐ অবস্থায় থাকে। জায়গাটা মাল্টি ইউজ ও হয় না। সারা বছরই প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকে।
    বানান বিষয়ে কিছু টিপস এখানে পাবেন। আমি ও ভাই ইচ্ছা থাকা শব্দ লিখতে পারিনা বানান নিয়ে সংশয় থাকে বলে। সাইদ ভাইকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ --আর পোস্ট দেয়ার পর ও এডিট করা যায়। আমি বানান ঠিক করি পোস্ট দিয়ে তারপর উনাদের সাহায্য নিয়ে। নিমফুল আপা সাইদ ভাই, খালেদ ভাই উনাদের সহায়তায় আমার শেষ পোস্ট খানা মনে হয় বানান ভুল মুক্ত হয়েছে।
    http://prothom-aloblog.com/users/base/saifuzzamankhaled/269
    শুভেচ্ছা আপনাকেও।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৭:৩৮:২৭

    ধন্যবাদ এরশাদ ভাই। বরাবরের মত এ মন্তব্যেও আপনার সাথে আমার মিল খুঁজে পাই। আমাদের প্রথম সমস্যা আমাদের শিক্ষিত অংশ, এ ব্যপারে দ্বিমত নেই।

    সবার সহযোগীতা নিয়ে আশাকরি বানান সংক্রান্ত দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারব। ভাল থাকুন।

  • জেড এইচ সৈকত বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৮:২০:১৫

    আপনার লেখাটায় দেশপ্রেম এবং দেশের প্রতি আমাদের লোক দেখানো ভালোবাসা কিংবা একদিনের জন্য বাঙালি হয়ে উঠার কথা সুন্দর ভাবে তুলে ধরেছেন। আমরা অনেই আছি মাঝে মাঝে দেশের গোষ্ঠী উদ্ধার করতে কাছা বেধে নেমে পড়ি। তার জন্য শিশুরা যেমন অন্যের বাড়ির ফুল গাছের ডালপালা ভেঙ্গে শহীদ মিনারে জড়ো করে বয়স্করা কম যায়না। এইতো গত ১৬ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ফুল দেয়ার দৃশ্য দেখলাম । কার মাথার উপর দিয়ে কে আগে গিয়ে ক্যামেরার সামনে দাড়াবে তার প্রতিযোগিতা চলে। আর জুতো নিয়ে যাওয়া কোন ব্যাপার হল;শহীদ মিনার তো দেখি অনেকের আয়েশ করে বাদাম খাওয়ার জায়গা।
    আমরা আসলে সবাই নিজেদের উন্নতি নিয়ে এতই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে দেশের কথা ভাবার সময় কই আমোদের !

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৮:৩১:২৫

    নিজকে প্রকাশের এই রুগ্ন দৌঁড়ে আমরা সমাহিত করছি আমাদের ঐতিয্য।শহীদ মিনার বানাচ্ছি কিন্তূ ব্যর্থ হচ্ছি যথাযত সন্মান দেখাতে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে চলছে অসূস্থ প্রতিযোগীতা এবং তাতে শহীদ মিনারকেও ব্যবহার করছি নির্বিচারে।

    ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে।

    জেড এইচ সৈকত বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৮:৪২:৪০

    একটু আপনার অবগতির জন্য... ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সাইদুর রহমান চৌধুরী ভাই বরেছে বলেই বলা।

    " তা প্রত্যয়ের পূর্বে "ঈ" কার হয়না "ই" কার হয়। যেমন

    প্রতিযোগী প্রতিযোগিতা

    সহযোগী সহযোগিতা

    পরের বার খেয়াল রাখবের বিষয়টি। ধন্যবাদ ভাল থাকুন।

    জেড এইচ সৈকত বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৮:৫৯:৩১

    "ঐতিহ্য"

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৯:৫৮:১৯

    আমার যেকোন লেখায় যখন খুশি আপনি বানান ভুল ধরিয়ে দিতে পারেন। এ ধরনের শোধরানোকে আমি বিশেষ উপকার হিসাবেই নেব। আশাকরি এভাবেই বেরিয়ে আসতে পারব ভুলের চক্র হতে। আসলে বাংলা চর্চা বলতে যা কিছু তার সবটাই ছিল মফস্বলের ছোট একটা ইস্কুলে। কলেজ জীবনে ইংরেজী মাধ্যম এবং পরবর্তীতে এঞ্জিনীয়ারিং জীবনে তৃতীয় একটা ভাষায় লেখাপড়ার জন্যেই বাংলার তেমন উন্নতি ঘটাতে পারিনি। তবে ব্লগিং আমাকে সাহায্য করছে অস্বীকার করবোনা।

    ধন্যবাদ আবারও।

  • মুরুব্বী বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৯:১৮:৩৪

    শুভকামনা বন্ধু।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ০৯:৫৮:৫৮

    আপনার জন্যেও শুভ কামনা রইল। ভাল থাকুন।

  • চারুমান্নান বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ১১:১০:১৬

    ""ফুলের মালায় শহীদ মিনার ভাসানোর চাইতে শিক্ষা ব্যবস্থার জ্বলন্ত সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে সালাম, রফিক, বরকত ও জাব্বরদের আত্মদানের প্রতি অধিকতর সন্মান প্রদর্শন করা যেত, আশাকরি আমার এ ভাবনা অন্যায় কোন ভাবনা নয়।""
    আপনি সব সময় দেখছি ‍আমাদের বাংলার জাতীয় ইশুকে অপছন্দ করেন, আপনার দেখা এক নেতা নিয়ে তো বাংলাদেশ নয়,এটা আমাদের এক অন্যরকম ইশু যা' না হলে আজ আপনি বাংলায় এই কথাটা লিখতে পা‍রতেন না, তাই এই সব ফ্যাইজলামী ইশু নিয়ে ব্লগের পরিবেশ নষ্ট করবেন না ।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৮ ১১:৫০:৫৭

    জ্বি ভাই, আমার লেখাগুলো এ রকমই। কোন ইস্যুতে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা যেদিন ব্লগ মালিকরা কেড়ে নেবে আমার লেখা এমনিতেই বন্ধ হয়ে যাবে। Until then হেপি ব্লগিং!



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫