ফেব্রুয়ারি
০৫

অলি বার বার ফিরে যায়, অলি বার বার ফিরে আসে...

গলার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, সন্দেহ নেই খুব শীঘ্র পায়ের আওয়াজও পাওয়া যাবে। এমনটা হতে বাধ্য, কারণ ৯০দিন ঘনিয়ে আসতে পারে যে! যাদের জানা নেই তাঁদের কানে কানে বলছি, ৯০ দিন পার হয়ে গেলে বেতন-ভাতা, হাতখরচ, পকেট খরচ, তেল খরচ ও যাবতীয় খরচ সহ আস্ত সদস্যপদই বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। শুল্কমুক্ত গাড়ির গন্ধে সংসদের বাতাস যখন মৌ মৌ করছে সময়মতই উনারা বুঝতে পারলেন নিজদের ভেতর কাইজ্জা বিবাদ করলে 'জনগণের স্বার্থ' রক্ষা করা সম্ভব হবেনা! অবলা এই জনগণের কথা ভেবেই ফিরে আসার সিদ্বান্ত নিলেন শেষ পর্যন্ত। জনগণের চোখ ও শ্রবন যন্ত্রে বেশ কিছু ত্রুটি ছিল, চাইলেও তাদের দেখতে ও শুনতে অসূবিধা হচ্ছিল পেছনের সাড়িতে বসে মহামান্যরা কি বলছেন। দাবি জানালেন সামনে আসন দেয়ার। মনে হচ্ছে চিকিৎসা শেষে ১৫কোটি মানুষের ৩০কোটি চোখ ও ৩০কোটি কান এখন সূস্থ, বিশেষ কোন অসূবিধা ছাড়াই তাঁরা এখন দেখতে পাবে পেছনের সাড়ির চাঁদ বদনগুলো।

দুই ইয়াতিমের জননী, তিন তিন বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, ৪কোটি টাকার ইয়াতিমী ফান্ড নিয়ে আদালতী ফ্যসাদে জড়িয়ে আছেন। দেশীয় ইয়াতমদের জন্যে বিদেশী খয়রাতী এনে অনেক বছর কাটিয়ে দেয়ার পর বুঝতে পারলেন, ’যাহা কিছু উত্তম তাহা নিজ ঘর হইতেই শুরু করা উত্তম’। এক শহীদ পরিবারের দুই ইয়াতিমকে অনেকদিন ধরে দুঃখ-কষ্টে লালন করেছেন, কেউ যদি ইয়াতিমী ফান্ডের খয়রাতী অর্থ পাওয়ার অধিকার রাখে নিশ্চয় নিজ সন্তানদ্বয়! ৪কোটি ৪৪ লাখ টাকা বিলিয়ে দিলেন দুই সন্তানের মাঝে। ইয়াতিমদ্বয় ধন্য হল, ধন্য হল বাংলাদেশ। এতকিছু ধন্য হলে হবে কি, দেশের আদালত ধন্য হলনা, তারা সমনজারী করল ইয়াতিম পরিবারের ততোধিক ইয়াতিম কর্নধারকে। ইয়াতিমদ্বয়ের ব্যথায় ব্যথিত সাংসদরা গো ধরল, এই অবলা পরিবারকে আইনী ঝামেলা হতে সন্মানের সাথে মুক্তি না দিলে তেনারা সংসদমূখী হবেন্‌না। ৩০০কোটি টাকার সম্পত্তিতে বাস করে ইয়াতিম পরিবারের সবাই মুচকি হাসল। এক মাঘে শীত যায়না এমনটা ভেবে পুলকিত বোধ করল। সে পুলক ছড়িয়ে পরল সাংসদদের মাঝে, তারাও হাসল। গো ধরা প্রতিজ্ঞা টুটে গেল জিঞ্জিরা তৈরী ম্যানিলা দড়ির মত।

গল্পটা ইস্কুলের পাঠ্য বইয়ে পড়েছিলাম, ইংরেজীতে। এক রাজা, বেজায় মহব্বত করেন তার প্রজাদের। গরীব প্রজারা জায়গা-জমির অভাবে চাষাবাদ করতে পারেনা শুনে রাজা প্রায়ই ব্যথিত হন। প্রজাদের প্রতি মহব্বত প্রমানের তাগাদায় অদ্ভূদ এক ঘোষনা দিলেন রাজা, "আগামীকাল সূর্য্যদোয় হতে সূর্য্যাস্ত পর্য্যন্ত যে যতটুকু জায়গা দৌঁড়াতে পারবে ততটুকু জায়গা তার"। তবে শর্ত হল, সূর্য্যাস্তের ঠিক আগে রাজদরবারে ফিরে আসতে হবে। অনেকেই দৌঁড়াল এবং সময়মত রাজ দরবারে ফেরত এসে বুঝে নিল জমির দখল। কিন্তূ রাজ্যের লোভি এক প্রজা, সেই যে দৌঁড় শুরু করল থামলনা কোথাও। দৌঁড়ায় আর জমির মালিকানার কথা ভেবে মনের আনন্দে হাসে। হাসতে হাসতে অনেকটা জমি দৌঁড়ে ফেলে সে। বেলা গড়িয়ে যায়, রাজ দরবারে ফিরতে হবে সূর্য্যাস্তের আগে, উলটা পথে দৌঁড়াতে শুরু করল সে। অনেক দেরী হয়ে গেছে, পশ্চিম দিগন্তে সূর্যটা হেলে পরতে শুরু করেছে ততক্ষনে। দরবারে পৌঁছানোর আগেই সূর্য্য ডুবে গেল, তবু সে পৌঁছল এবং পৌঁছা মাত্রই পিঞ্জিরা হতে জান নামের পাখীটা উড়ে গেল (ইন্না লিল্লাহে... রাজেউন)। আমাদের সাংসদদের জন্যে এমন একটা দৌঁড়ের আয়োজন করলে কেমন হয়? লোভ লালসা মাপার এ হতে পারে সহস্রাব্দীর সেরা দৌঁড়! পরিবেশ নাই, কথা বলার সূযোগ নাই, সামনে বসতে না দিলে মানিনা, নেত্রীর ডাইনে না হলে চলবেনা, এটা না হলে হবেনা, ওটা না হলে আসবনা; বছরের পর বছর ইংলিশ রোড মার্কা এ সব বস্তাপচা পেচাল আর কাহাতক সহ্য করা যায় আপনারাই বলুন? আমরা মানি আর না মানি, দেশটাতো আসলে উনাদেরই। অংশিদারিত্বের মালিকানা নিশ্চিত করতে এমন একটা দৌঁড়ের আয়োজন করলে আমজনতা বিনামূল্যে বেশ কিছু ম্যাংগো পাওয়ার সূযোগ পেত। যত ধানাই পানাই করুক না কেন, মাননীয় সাংসদরা শেষ পর্য্যন্ত কিন্তূ ফিরে আসেন এই সংসদেই, হোক তা শুল্কমুক্ত গাড়ির টানে অথবা ৯০ দিনের বেড়াজালে।

বিনাশুল্কে গাড়ি আমদানীর পারমিট হাতে নিয়ে সংসদ হতে কেটে পরার নতুন পাঁয়তার করলে দয়া করে ধাওয়াবেন মহামান্য সাংসদদের। এটা ওনাদের পাওনা হয়ে আছে।

দ্রষ্টব্যঃ ১) মহামান্য শব্দটা পড়তে হবে "মহামান্য" হিসাবে।২) বানান ভুলের জন্যে ক্ষমা প্রার্থী।


১৬টি মন্তব্য

  • সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৬:০৮:৫০

    পড়ে গেলাম, কিছু বলতে ইচ্ছা করেনা, সবই যেন অরণ্যে রোদন
    ম্যাংগো পিপলের কথা কে শোনে?

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৮:১৭:৩১

    কিছু না বলে আসুন অপেক্ষায় থাকি। সামনে অনেক নাটক অপেক্ষা করছে।

  • শামান সাত্ত্বিক বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৬:২২:১৩

    "ইংলিশ রোড মার্কা এ সব বস্তাপচা পেচাল"

    - সুন্দর বলেছেন। ভাল লাগলো।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৮:১৯:১৯

    ভাংগা রেকর্ড বার বার বাজালে কেমনটা লাগে বলুন? আরে ব্যটারা সংসদে আসতে মন চায় চলে আয়, এত নাটিক কেন?

  • কবিরনি বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৮:১৪:৩০

    একটা মানুষ সংসদ এ আসতেছে এইটা কে শুভ বুদ্ধি'র উদয় না বলে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বলতেছেন আর জনগণের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ করতেছেন সকাল বেলায় - কারন কি? আমরা আপনার কি ক্ষতি করেছি? আমরা এখনো স্বপ্ন দেখতে চাই বিরোধি দল নিজ স্বার্থ জলান্জলি দিয়ে সকল মান অপমান ভুলে জনগণের জন্য সংসদ এ ফিরছে।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৮:২০:০৪

    সকাল বেলার স্বপ্ন নাকি মিছা হয়!

  • জেড এইচ সৈকত বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৮:২৬:১১

    এখন নিজের পদ বাঁচানোর জন্য..................................................

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:১৩:০৭

    বাঁচাতেই হবে, কোটি টাকা @ ষ্টেক!

  • মুরুব্বী বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৯:১৯:৪৩

    এ আমাদের বাংলাদেশ।
    পূর্ণ গণতন্ত্র ভোগী।
    আয়েশী এবং বিলাসী গণতান্ত্রিক।
    ষষ্ঠ নয় অষ্ট ঋতুর এ দেশ
    এ আমার বাংলাদেশ।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:১৪:১৪

    সবকিছু নিয়েই বোধহয় আমরা বাংলাদেশী!!!

  • সুজন বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ০৯:৪৪:৩৪

    শুভ সকাল।

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:১৪:৪১

    শুভ সকাল আপনাকেও।

  • সকাল বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:৩৯:৪৬

    শুভ সকাল

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:৫০:১১

    শুভ সকাল। দিনটা আপনার ভাল কাটুক।

  • এনরিকো ফারমি বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১০:৫৪:০০

    মারাত্মক লিখেছেন!

    ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০২/০৫ ১১:০৬:৪৯

    সামনে আমার বিপদ ঝুলছেনা তো? আছেন কেমন?



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫