রাজনীতির ১/১১ বনাম ১/১১'র রাজনীতি...
রাজনীতির দিগন্ত রেখায় ১/১১’র রেশ চীরদিনের মত মিলিয়ে গেছে এ জাতীয় উপসংহারে আসার সময় এখনো হয়ত আসেনি। মিশন ১/১১ বিদায় নিয়েছে ঠিকই, কিন্তূ যাদেরকে ঘিরে এই আয়োজন তাঁরা জীবনের শেষ দিন পর্য্যন্ত এ অধ্যায়কে মনে রাখবেন তাতে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ১/১১’র উত্থান ছিল হঠাৎ ধেয়ে আসা কালবৈশাখীর মত, এমনটা মনে করা হবে দেশটার রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অস্বীকার করা। অনিশ্চয়তার ঘোলা পানিতে মৎস শিকার দেশীয় রাজনীতির পুরানো সাংস্কৃতি, অতীতে অনেকেই অংশ নিয়েছেন এ ধরনের শিকারে এবং তুলে নিয়েছেন বিএনপি, জাতীয় পার্টির মত লাভজনক পন্য। কোন প্রেক্ষাপটে ১/১১ আধ্যায়ের অভ্যুদয় ঘটেছিল এ নিয়ে আর্ন্তদলীয় বিতর্ক চলতে পারে অনন্তকাল ধরে, কিন্তূ সাধারণের মানুষের কাছে এর কোন প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না। ঘটনা ১৯৭১ সালে ঘটেনি যা নিয়ে জাতির স্মৃতিতে তেনা পেচানো যাবে। ক্ষমতার পালা বদলে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রয়োজন হয় এ প্রশ্নের উত্তরেই লুকানো আছে ১/১১’র ভ্রুন। রাজনীতিবিদ্রা যত তাড়াতাড়ি এ সহজ সত্যটা উপলদ্বি করতে পারবেন ততই উনাদের জন্যে মংগল, এবং মংগল ১৫কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশেরও।
দলীয় লাভ ক্ষতির মাপকাঠিতে রাজনীতিবিদ্রা মূল্যায়ন করছেন ১/১১কে, স্বভাবতই ক্ষতিগ্রস্ত দল বিএনপির কাছে এ শুধু একটা তারিখ নয় বরং তাদের জন্যে সাম্রাজ্য পতনের শুরু। ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে আওয়ামী লীগ হয়ত ভূলে যাওয়ার ভান করছে ১/১১’র তিক্ত স্বাদ, যা সময় এলে বানের গতিতে বেরিয়ে আসতে বাধ্য। ভোটের দৌড়ে ফলাফলের ঘোড়া যদি অন্য আস্তাবলে ঠাই পেত নিশ্চয় বদলে যেত ১/১১ মূল্যায়নের মেরু। এমনটাই আমাদের রাজনীতি, ব্যক্তি ও দলীয় লাভ লোকসানের র্নিলজ্জ প্রদর্শনী। কথা, কাজ ও লেখায় রাজনীতিবিদ এবং তাদের সেবাদাসের দল আমাদের এটাই বুঝাতে চাইছে ১/১১’র ফলে সবচাইতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের অর্থ যদি রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটপাটের অবাধ লাইসেন্স হয়ে থাকে, নিশ্চয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে গণতন্ত্র। মামুন, ফালু, খোকা, আমান, তারেক, মহিউদ্দিন আলমগীর আর হাজী সেলিম গংদের জন্যে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কি তা আমাদের জানা হয়ে গেছে। একজন বাবর আলী ও একজন মোর্শেদ খানের গুপ্তধন রক্ষার্থে যদি মন্ত্রের প্রয়োজন হয় বাংলাদেশের গণতন্ত্র হচ্ছে সে মন্ত্র, এবং এ গণতন্ত্রের প্রাইস ট্যাগ এক কাপ চা ও একটা আকিজ বিড়ি। আঠারটা মাস বাংলাদেশের মানুষ চা আর বিড়ি হতে বঞ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তূ বিনিময়ে পেয়েছে বনখেকো ওসমান গনি, ব্যাংক খেকো বাকির ভাই, অফিস পিওন ফালু, লাগেজ ব্যবসায়ী বাবর, রাজনীতিবিদ তারেক জিয়া, রাস্তার ফকির মামুন, সাংবাদিক আতিকুল্লাহ আর আমলা আলমগীরদের নগ্ন তৈলাক্ত নিতম্ব। এক বছরের ব্যবধান খুব একটা বড় ব্যবধান নয়, এত তাড়াতাড়ি শাক দিয়ে সমুদ্র ঢাকতে রাজনীতিবিদ্রা সমর্থ হবেন এমনটা আশা করার কোন কারণ নেই।
১/১১ কি আদৌ কিছু দিয়েছে আমাদের? এমন একটা প্রশ্নের আগে আমাদের জানতে হবে ঐ সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশাই বা ছিল কি। শর্ট টার্মে এ ছিল দেশের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রন। লগি বৈঠার দামামায় দেশের কেন্দ্রবিন্দুতে পানি পথের যুদ্ব থামানোর কৃতিত্ব দেশের রাজনীতিবিদ্দের নয়, এ কৃতিত্ব ১/১১’র কথিত ষড়যন্ত্রকারীদের। আমাদের নিজদেরই উত্তর দিতে হবে, ঐ মুহুর্তে কোনটা ছিল বেশী জরুরী, পাথর যুগের বর্বর গণতন্ত্র, না একবিংশ শতাব্দীর মনুষ্য জীবন? শর্ট টার্ম সরকারের কাছে লং টার্ম প্রত্যাশা এক অর্থে বিদঘুটে সরকারকে আইনী বৈধতা দেয়া। আমরা কি তৈরী ছিলাম ঐ সরকারকে বৈধতা দিতে? এ প্রশ্নের উত্তর আমাদেরই দিতে হবে। লং টার্ম সফলতার খাতায় কিছুই জমা করতে পারেনি ১/১১’র সরকার, এ জন্যে কি তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যায়? উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, তা হলে রাজনৈতিক সরকারগুলোকে কেন আসামী করতে পারছিনা আমরা? জনগণের রায়ে তারা তো ৫ বছরের জন্যে ক্ষমতাসীন হন, কি এমন সাফল্য এই সরকারগুলোর? আর যদি ব্যর্থতার প্রসংগ টানা হয় এর ফিরিস্তি দিতে আরব্য উপন্যাসের সহস্র রজনীও যথেষ্ট হবেনা। ১/১১ আর যাই হোক আমাদের উপহার দেয়নি হ্যাঁ/না ভোটের ভন্ডামী, জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়নি চীফ মার্শাল ল এডমিনস্ট্রেটর নামের পোয়াতী জেনারেল যাদের পশ্চাৎদেশ হতে জন্ম নেয় বিএনপি/জাপার মত জারজ সন্তান।
রাজনীতিবিদ এবং তাদের সহযোগী লুটেরা দল বিদেশী চক্রান্তের দোহাই দিয়ে ধামাচাপা দিতে ভালবাসেন ১/১১’র উত্থানকে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বিদেশীদের হাতে তুলে দিয়ে দেশ বিক্রীর নীল নক্সাই নাকি ছিল ১/১১’র মুল উদ্দেশ্য। শুনতে খুব ভাল শোনায় যা দেশপ্রেমের অংগ প্রত্যংগগুলোতে সুড়সুড়ি দেয়। জানিনা দেশের কোন সম্পদকে কুক্ষিগত করার জন্যে বিদেশীরা এমন ষড়যন্ত্রে জড়াচ্ছে। যতদূর জানি ঢাকা সহ দেশের সব জায়গায় গ্যাসের অভাবে শুধু শিল্প কারখানাই বন্ধ থাকছেনা, সাথে বন্ধ থাকছে বাসা বাড়ির রান্নাবান্না। এই গ্যাসের জন্যেই কি এত তেনা পেচানো? কোথায় সে গ্যাস? গ্যাস যদি না হয় তা হলে কি তেল? মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হতে এখনো হাতে পায়ে ধরে বাকিতে কমমূল্যে তেল আমদানী চলছে বহু বছর ধরে। তা হলে মাটির তলায় কি এমন গুপ্তধন লুকানো আছে যার জন্যে ১/১১’র মত মহা আয়োজন দরকার ছিল? এর উত্তর রাজনীতিবিদ্দের জানা থাকলে এখনই তা প্রকাশ করা উচিৎ। এমন একটা তত্ত্ব আমাদের রাজনীতির মাঠে পেনালটি গোলের মত কাজ করে, দেশ বিক্রী! আমার জানা নেই ১৫কোটি বহুমূখী মানুষ আর হাহাকার করা মাটির তলা নিয়ে বিশ্বের কোন দেশ দখল নিতে আসবে বাংলাদেশকে। আমরা নেংটা হয়েও যদি কাউকে আমাদের শরীর নিবেদন করি এ নষ্ট শরীর ছোঁয়ার মত খদ্দের পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। দেশ বিক্রীর মায়াকান্না কেবলই রাজনৈতিক ভাওতাবাজী, লুটেরা দলের কদর্য্য চেহারা লুকানোর বহুবিধ কলাকৌশলের অংশ মাত্র।
১/১১’র মত বেআইনী সরকারের জন্মদাতা রাজনীতিবিদ নিজেরা, এর ভালমন্দের দায় দায়িত্ব নিতে হবে তাঁদেরকেই, এতে সাধারণ জনগণকে জড়ানোর কোন সূযোগ নেই। রাজনীতিবিদ্দের জন্যে এর প্রয়োজন ছিল, আর আমাদের জন্যে প্রয়োজন ছিল ভাল মন্দ চেনার একটা সূযোগ। আমরা নিশ্চয় চিনেছি, রাজনীতিবিদ্রা চিনেন্নি এটাও বোধহয় সত্য নয়। সচিবালয়ের অলিগলিতে এখনো যখন কমিশন হাত বদল হয় নিশ্চয় ১/১১’র প্রেতাত্মা দাঁত বের করে ভয় দেখায়, না চাইলেও সামনে এসে দাঁড়ায় নাজিমুদ্দিন রোডের দিনগুলি। মইন উদ্দিন ফকরুদ্দিনের গুষ্টি উদ্বার করে ক্ষমতা হারানোর ব্যথা হয়ত সাময়িক উপশম সম্ভব হচ্ছে, কিন্তূ তাতে ক্ষমতার রংগমঞ্চে নতুন মুয়া-ফুয়াদের আগমনের সম্ভাবনা দূর হচ্ছে এমনটা ভেবে শান্তি পেলে রাজনীতিবিদ্রা ভুল করবেন।
লেখক ওয়াচডগ
- ওয়াচডগ -এর ব্লগ
- ৭০ টি মন্তব্য
- ১১ জানুয়ারি ২০১০, ০১:২৬
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৭০ টি মন্তব্য
-
আমি বাংলাদেশী১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:১৫
"রাজনীতিবিদ এবং তাদের সহযোগী লুটেরা দল বিদেশী চক্রান্তের দোহাই দিয়ে ধামাচাপা দিতে ভালবাসেন ১/১১’র উত্থানকে।"
আমাদের "বিশিষ্ট" রাজনীতিবিদরা হচ্ছে মির জাফরের আধূনিক সংস্করন। এরাই কিন্তু ১/১১'র সময় বিদেশী দূতাবাসগুলোতে গিয়েছে ওদের পা চাটতে। এই মির জাফররাই আবার আমাদের বলছে ১/১১ হচ্ছে বিদেশী চক্রান্ত। -
সনাতন১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:২১
১/১১’র মত বেআইনী সরকারের জন্মদাতা রাজনীতিবিদ নিজেরা, এর ভালমন্দের দায় দায়িত্ব নিতে হবে তাঁদেরকেই। সহমত। -
মুরুব্বী১২ জানুয়ারি ২০১০, ০১:২৯
১/১১ বেআইনী সরকারের জন্মদাতা।
এটাই সতত সত্য।
জাতির সাথে প্রতারণা।
জাতির নিজ স্বত্তাকে বন্ধক রাখা। -
বজগ১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০৫:৫০
১/১১ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্থ করেছে এবন বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ যদি এই হয় তবে একই আদলতে মঈন উ আহমেদ এর সাথে সাথে খালেদ মোশারফ, কর্ণেল তাহের, মেজর জিয়া, এরশাদ ৭৫-৯০ মধ্যবর্তী সকল শাষকেরও বিচার করতে হবে কারন এরা সবাইও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পথকে বাধাগ্রস্থ করে দেশে সামরিক শাসন এনেছে। -
আহমেদ মামুন১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৫:০০
১/১১ এটা প্রয়জন তখন ছিল।
আমরা বেশি উতলে উঠে ছিলাম।
রাষ্টে বাবার উপর বাবা আছে।
আমার বিশ্বাস আমাদের দেশের
নেতারা শিক্ষা নিয়েছে।
না নিলে আবার
জেল, রিমান্ড, হাসপাতাল, জামিন,চলবেই.............. -
ফারুক১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:০০
হয়ত কোন একদিন আদালত রায় দিবে ফখরুদ্দীন সরকার অবৈধ ----, কিন্তু ১/১১ দরকার ছিল । -
কাহেনি১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:০৬
আসসালামু আলাইকুম,
আপনার পোস্ট নিয়া মন্তব্য করিবার পূর্বে আপনার ভাষা নিয়া সন্তব্য করিতেছি।
আপনি লিখিয়াছেন :
''১/১১ আর যাই হোক আমাদের উপহার দেয়নি হ্যাঁ/না
ভোটের ভন্ডামী, জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়নি চীফ মার্শাল ল
এডমিনস্ট্রেটর নামের পোয়াতী জেনারেল যাদের পশ্চাৎদেশ হতে জন্ম নেয় বিএনপি/জাপার মত জারজ সন্তান। ''
এতোখানি অশালীন ভাষার প্রয়োগ কেনা এইরকম একটা পোস্টে দরকার হইলো--বুঝিতে পারিলাম না। গনতন্ত্র লইয়া কথা বলিবেন। ভালো কথা। তাহার পূর্বে আপনার নিজেকেই তো আরো আরো সহনশীল হইতে হইবে। আমাদের সকলেরই উচিত মতামত প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সহনশীল হওয়া । আমাদের আরো রুচিবান হইবার প্রয়োজন রহিয়াছে।
আমি বুঝিতে পারিতেছি না---- আমাদের এই ব্লগটার এমন বেহাল দশা হইতেছে কেন?
মাননীয় মডারেটর। আমি এখনো আপনার উপর আস্থা রাখিতে চাহিতেছি। আপনি আরো সচেতন হউন। একই কথা বলিতেছি এই ব্লগের সকল বন্ধুগণকেও। এই দশা কাহারো কাম্য হইতে পারেনা।
পরম করুণাময় আমাদের সকলকে তাওফিক প্রদান করুন। -
সারোয়ার হোসেন১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৪৭
কাহেনী,
ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
আমি কিন্তু ওয়াচডগের উলেলখিত কথায় কিছু মনে করিনি, আমি কিন্তু আরো খারাপা ভাষায় বলি।
আমার মত ব্যবসায় নামুন এবং নেমে দেখুন, নষ্টা রাজনীতির দব্রা পয়দা নেয়া যারজ সন্তানেরা কিভাবে প্যাচেরঁ মারপ্যাচেঁ ফেলে চাদাঁ আদায় করে। আপনি যদি ভূক্তভূগি না হয়ে থাকেন, তাহলে ওয়াচডগের মত যারা এমন ভাষা ব্যবহার করবে, তাদের লেখায় নুংরামীর ছাপ পাওয়ারই কথা।
ধন্যবাদ। -
আ,শ,ম,এরশাদ১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:২৭
ধন্যবাদ ওয়াচডগ ভাল বিশ্লেষনের জন্য
এবং উভয় দলের জন্য উত্তম ঝা ঝা.। -
সৈয়দ আমিরুজ্জামান১২ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৪৪
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর। ড. ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। ১৪ দলের নেতৃত্বে দেশের জনগণের ২৩ দফা আর্থ-সামাজিক অসাম্প্রদায়িক ন্যূনতম কর্মসূচী ও ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, চরম রাজনৈতিক সংঘাত ও নৈরাজ্যকর এক পরিস্থিতিতে সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপে ড. ফখরুদ্দীন আহমদের সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ১/১১-এর প্রেক্ষাপট নানা বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কারণ সে সময় এর গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক এখতিয়ারাধীন যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেত, সে পথে ড. ফখরুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালিত হয় নি। তবে চারদলীয় জোটের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার মানসে সাজানো বাগান নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ড. ইয়াজুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ভেঙে দেওয়া দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। ১/১১-এর পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত সরকার দীর্ঘ দুই বছর জনগণের অনুমোদন দেশ পরিচালনা ছিল অসাংবিধানিক। তবে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করেছে।
ড. ফখরুদ্দীন সরকারের সময় বড় দলগুলোর রাজনৈতিক নেতাদের ওপর একটি বড় ধাক্কা আসে। এ ধাক্কাটি ছিল স্বাভাবিক ছিল না। আমরা স্বীকার করি, বুর্জোয়া রাজনীতিক-আমলা-ব্যবসায়ীরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছিল, যা দেশের মানুষের কাছে মোটেও কাম্য ছিল না। ব্যক্তিগত, পারিবারিক, দলীয় ও গোষ্ঠীস্বার্থে তারা দেশ-জাতি-জনগণের কথা ভুলে গিয়েছিল। ঘুষ-দুর্নীতি-অনিয়ম, শোষণ-লুণ্ঠন, স্বেচ্ছাচারিতা, সামাজিক অনাচার, স্বজনপ্রীতি বুর্জোয়া রাজনীতি ও শাসন ব্যবস্থাকে কলুষিত করে তুলেছিল। জনগণ এ থেকে পরিত্রাণ চেয়েছিল। সেটা কী হয়েছে? হয় নি। রাজনীতিকরা এত বড় একটা ধাক্কার পরও পুরনো অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নবম জাতীয় সংসদ গঠিত হওয়ার পর দেশের মানুষ ভেবেছিল এবার হয়তো সংসদ স্বাভাবিক গতিতে চলবে। নতুন ধারার রাজনীতির স্লোগান দিয়ে শীর্ষ দলগুলো মানুষকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করলেও পুরনো খোলস থেকে তারা এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। দুর্নীতিবাজ হিসেবে থ্যাত ও চিহ্নিত রাজনীতিক-আমলা-ব্যবসায়ী লোকজনকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের একটি অশুভ তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির মাতম চারদিকে দৃশ্যমান। যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ বিগত নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিল সেখানেও আশাব্যঞ্জক নয়। বড় দলগুলোর বা বুর্জোয়া রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বড় দলগুলোর রাজনীতিকরা হিংসাত্মক রাজনীতির দিকেই ধাবমান। জনজীবনের সমস্যা-সংকট নিরসন ও সার্বিক উন্নয়নের প্রয়োজনে জনগণের গণতান্ত্রিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বড় দলগুলো বড়ই উদাসীন। তা অবস্থাদৃষ্টে অনুমান করা যায়।
জনগণের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে নয়, শুধু শুধু সংসদ বর্জন সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে স্বাভাবিক রীতি-নীতি হতে পারে না। অবশ্য সংসদ বর্জন দেশে নতুন কোনো ঘটনা নয়। নব্বই-পরবর্তী যে ক'বার সংসদ গঠিত হয়েছে (বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারি '৯৬ ছাড়া) প্রতিবারই দেখা গেছে বিরোধী দলের সাংসদদের সংসদ বর্জনের ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারি দলের সাংসদরাও বেশিরভাগ সময় সংসদে থেকেছেন অনুপস্থিত। যে প্রত্যাশা নিয়ে জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠায় সাংসদ হয়ে তারা সে দায়িত্ববোধের কথা ভুলে যান। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সংসদ হওয়ার কথা সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু। অথচ দেখা যায় ধারাবাহিক বর্জনের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে সংসদীয় গণতন্ত্রকে করা হয় অকার্যকর। আওয়ামী লীগও বিগত সংসদে বিরোধী দল হিসেবে তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ ছিল না। ধারাবাহিক সংসদ বর্জনের মধ্য দিয়ে সে সময় তারাও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথারীতি পালন করেননি। তখন বিএনপি সরকারি দল হিসেবে সে সময় সংসদ পরিচালনায় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের সদিচ্ছা ও নিষ্ঠার যথেষ্ট অভাব ছিল। কিন্তু বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে রাজনীতিকদের অবস্থা দেখে মনে হয়েছিল এবার যে সংসদ গঠিত হবে তা হয়তো হবে কার্যকর ও গঠনমূলক। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের পর নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আমরা যা লক্ষ্য করলাম তা অত্যন্ত হতাশাজনক। একটুও বদলায়নি বুর্জোয়া রাজনীতিকদের মানসিকতা। বিরোধী দল প্রথম সারিতে আসন সংখ্যা কম দেওয়া হয়েছে বলে সংসদ বর্জন করে আর ফেরেনি। প্রথম সারিতে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে নিশ্চয়ই সংসদের একটি নিয়ম বা পদ্ধতি রয়েছে। বর্তমান বিরোধী দল একাধিকবার সংসদে সরকারি দল হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছে। সে সময় কী পদ্ধতিতে প্রথম সারিতে বিরোধী দলকে কয়টি আসন দেওয়া হয়েছিল তা নিশ্চয়ই তাদের জানা আছে। সে হিসাব করলেই তো সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা। স্পিকার আবদুল হামিদ সম্প্রতি এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আসন বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে বিরোধী দলকে সংসদে যোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এখন অবশ্য খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সব মামলা প্রত্যাহার, তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন, সংসদে প্রথম সারিতে আসন বৃদ্ধিসহ আরও কিছু দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, যা মানলে তারা সংসদে যাবে অন্যথায় নয়। রাজনীতিতে দরকষাকষি, কৌশল থাকতেই পারে। তবে তা অবশ্যই জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট হতে হবে। বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জনজীবনের সমস্যা-সংকট নিরসন ও সার্বিক উন্নয়নের প্রয়োজনে জনগণের গণতান্ত্রিক মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া উত্থাপন রাজনৈতিক প্রক্রিয়ারই একটি অংশ; কিন্তু সংসদে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে এ ধরনের দরকষাকষি অনভিপ্রেত। বিরোধী দল সংসদে গিয়ে তাদের দাবিগুলো সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করবে, না মানলে ওয়াকআউটসহ বিভিন্ন পন্থা রয়েছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করলে তারা জাতির সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারে। সংসদকেই করতে পারে দাবি আদায়ের ক্ষেত্র। সংসদীয় গণতন্ত্রকে যেখানে শক্তিশালী ও কার্যকর করা দরকার। কিন্তু তা না করে বিরোধী দলের ধারাবাহিক সংসদ বর্জন কোনো ইতিবাচক দিক হতে পারে না। স্পিকার আবদুল হামিদের সাম্প্রতিক অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলের চিফ হুইফ জয়নাল আবদিন ফারুক এমপি ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, শুধু আসন বণ্টনের জন্য বিরোধী দল সংসদ বর্জন করেনি। তাহলে প্রমাণিত হয় শুরুতে আসন বণ্টন নিয়ে তাদের সংসদ বর্জন ছিল একটি অজুহাত মাত্র। বিগত নির্বাচনে বিএনপি জোট ধরাশায়ী হয়েছিল। অনেক বড় বড় নেতা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির গত স্থায়ী কমিটির কোনো সিনিয়র নেতাই নির্বাচিত হতে পারেননি। তারা চান না সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী হোক। দলের ভেতর থেকে তারাই নানা অজুহাত দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন, যাতে সাংসদরা সংসদে যেতে না পারেন। সংসদে যাওয়া-না যাওয়া নিয়ে বিএনপির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায়। যে কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বিএনপি। রাজনীতিতে ওঠানামা আছে, আছে জয়-পরাজয়। নির্বাচনে প্রত্যাশিত আসন না পাওয়া বা কম আসন পাওয়া কোনো বিষয় নয়। মূল বিষয় হচ্ছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নিমিত্ত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সঠিক ভূমিকা পালন করা। স্বাধীনতার পর গণপরিষদ মাতিয়ে রেখেছিলেন বিরোধী পক্ষের মাত্র দু'জন সাংসদ, ন্যাপের সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত (বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা) ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি মানবেন্দ্র নারায়ণ লারমা (এমএন লারমা)। '৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের সময় সংসদে ওয়ার্কার্স পার্টি ও আওয়ামী লীগের মাত্র ৩৯ জন সাংসদ সরকারি দলকে চাপিয়ে রাখতেন। মূলত বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে চান কি-না তার ওপরই সংসদের কার্যকারিতা নির্ভর করে। সংবিধান অনুসারে সংসদের অনুমতি ছাড়া একাধিক্রমে নব্বই বৈঠক দিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে সংসদ সদস্যপদ শূন্য হয়। নব্বই দিবস পূর্ণ হওয়ার আগেই হয়তো তারা একদিনের জন্য সংসদে এসে সদস্যপদ ঠিক রাখবেন। কিন্তু জনগণের কাছে এটি প্রত্যাশিত নয়। বিরোধী দলের সাংসদরা কার্যকর, গঠনমূলক ও ইতিবাচক ভূমিকার মধ্য দিয়ে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবেন স্বাভাবিকভাবে দেশের জনগণের এমনটিই প্রত্যাশা। নিয়ম রক্ষা বা সদস্যপদ টিকিয়ে রাখার জন্য সংসদে যাবেন অন্যথায় নয়। এটি সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির জন্য কোনো শুভ দিক হতে পারে না। সরকার ও বিরোধী দল গঠনমূলক আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশের উন্নয়নসহ জনজীবনের সমস্যা-সংকট সমাধানে বর্তমান সংসদকে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু ও কার্যকর করবে বলে দেশের মানুষের প্রত্যাশা। গণতান্ত্রিক বুর্জোয়া শাসনব্যবস্থায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণের সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুই হচ্ছে সংসদ। সেই সংসদকে কার্যকর ও গঠনমূলক করতে সব সাংসদেরই দায়িত্ব রয়েছে। পরিবর্তনের রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে দেখতে চায় দেশের মানুষ। -
সৈয়দ আমিরুজ্জামান১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০১:১৫
মাও সেতুঙ এ ধরনের কথা বলেন নি।
কার্ল মার্কস বলেছিলেন, দুমা (পার্লামেন্ট) হচ্ছে শুয়োরের খোয়ার। -
েলাপা১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০১:৩৫
*১/১১* আমাদের জাতীয় জীবনে একটি আলোড়লন সৃষ্টি করেছিল, নিঃসন্দেহে। কিন্তু তারপরও কী আমাদের *ওনারা বদলেছেন* ? যেই লাউ, সেই কদু! ওনারা কী অস্বীকার করতে পারেন, ওনাদের দুর্নীতির কথা, দলীয়করণের কথা? তাহলে সবি মিথ্যা?
*১/১১* সাধারণ মানুষের নয় বরং ওনাদের ক্ষমতার লালসার কর্মফল ছাড়া আমি আর কিছুই বলতে পারিনা।
আপনি সুন্দর লিখেছেন। ধন্যবাদ আপনাকে। -
বজগ১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:২৩
ড. ফখরুদ্দীন আহমদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন ,বিদেশি নাগরিক হওয়ার সুযোগ ছিল না ইফতেখারের
ড. ফখরুদ্দীন আহমদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন
http://bangladesh-71.info/blog/?p=11
ড. ফখরুদ্দীন আহমদ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন ,বিদেশি নাগরিক হওয়ার সুযোগ ছিল না ইফতেখারের
দুলাল আহমদ চৌধুরী: ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ফখরুদ্দীন আহমদ ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরীর বাংলাদেশ ব্যতীত অন্যকোনো দেশের নাগরিকত্ব নেই। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যতীত অন্যকোনো দেশের পাসপোর্টে বিদেশ ভ্রমণের নজিরও তাদের নেই। দুজনের পারিবারিক সূত্র তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এ দুজনকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অভিহিত করে তদন্ত দাবি করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ড. ফখরুদ্দীন আহমদের ঘনিষ্ঠজন তার সঙ্গে আলাপ করে এ প্রতিবেদককে জানান, ফখরুদ্দীন বাংলাদেশের নাগরিক। বিশ্বের আর কোনো দেশে তার নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব নেই এবং কখনো ছিলও না। তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্টে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন। তিনি যদি অন্যকোনো দেশের নাগরিক হতেন কিংবা তার দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকত, তবে বিগত চারদলীয় জোট সরকারের সময় তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করার সুযোগ ছিল না। এছাড়া তার জানা মতে, উপদেষ্টা পরিষদের কোনো সদস্যের বিদেশি বা দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল না। যারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বলছেন তারা অনুমাননির্ভর, ভিত্তিহীন তথ্য প্রকাশ করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন। দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রায় ৬ মাস পর গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে সস্ত্রীক ড. ফখরুদ্দীন আহমদ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে যান। এ সময়েও তিনি স্বাভাবিক নিয়মে ঢাকাস্থ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে ভিসা নেন। আগামী এপ্রিল-মে নাগাদ তার দেশে ফেরার কথা।
সূত্রমতে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুবছর নিয়ে বই লেখার উদ্যোগ নিলেও তথ্য-উপাত্ত বিন্যাস করতে দেরি হওয়ায় এখনো লেখা শুরু করতে পারেননি ফখরুদ্দীন আহমদ। তবে পড়াশুনা করেই এখন তার সময় কাটছে।
অপরদিকে ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরীর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, এ খবর সংবাদপত্রে দেখে ড. ইফতেখার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সূত্রমতে, পররাষ্ট্র ক্যাডারের এই কর্মকর্তা চাকরি জীবনে সর্বশেষ ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। একজন রাষ্ট্রদূতের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই অন্য দেশের নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্ব নেয়ার সুযোগ নেই। পুরো চাকরিজীবন তিনি ডিপ্লোমেটিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেছেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালে ২০০৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে তার স্ত্রী দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের পর তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঢাকা থেকে ভিসা নিয়ে সিঙ্গাপুর যান। দীর্ঘ চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ২ মাস আগে তার স্ত্রী মৃত্যুবরণ করেন। ড. ইফতেখার বর্তমানে সিঙ্গাপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কর্মরত।
সূত্র ড. ইফতেখারের বরাত দিয়ে জানায়, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তার নাগরিকত্বের খবর সঠিক নয়। বাংলাদেশি পাসপোর্ট ছাড়া তার আর কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও গতকাল এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে চাকরিরত অবস্থায় অন্য দেশের নাগরিকত্ব নেয়ার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে ড. ইফতেখার আহমদ চৌধুরীরও সুযোগ ছিল না। সম্পাদনা: হাসান জাকির -
কাহেনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:৪৮
ভ্রাতা সারোয়ার হোসেন,
''আমার মত ব্যবসায় নামুন এবং নেমে দেখুন, নষ্টা রাজনীতির দব্রা পয়দা নেয়া যারজ সন্তানেরা কিভাবে প্যাচেরঁ মারপ্যাচেঁ ফেলে চাদাঁ আদায় করে। আপনি যদি ভূক্তভূগি না হয়ে থাকেন, তাহলে ওয়াচডগের মত যারা এমন ভাষা ব্যবহার করবে, তাদের লেখায় নুংরামীর ছাপ পাওয়ারই কথা।''
আপনার কথায় কোনো যুক্তি নাই। এইটা অশালীন ভাষা প্রয়োগের একটা অযুহাত মাত্র।
আপনি এই ভাষায় কাহারো সমালোচনা করিতে পারেন না। এই দরিদ্র দেশে আমাদের কাহারো জীবনই আনন্দের মধ্য দিয়া কাটে না। তাহার মানে কি এই যে কুৎসিদ শব্দ প্রয়োগ করিতে হইবে?
বরং এইটা অসহনশীল আচরণেরই একটা ক্ষুদ্র নমুনা। আর াসহনশীলতা কখনোই গনতন্ত্রের পক্ষে যায় না। কাজেই যাহারা গনতন্ত্রকে পরিচ্ছন্ন দেখিতে চাহিতেছেন, তাহাদের সকলের আচরণও পরিবরতন করিবার সময় আসিয়াছে।
গনতন্ত্র ''জনগন''-কে নিয়া । আপনি -আমি-আমরা তাহার বাহিরে পরি না।
ছহি-ছালামতে তাকুন। -
সারোয়ার হোসেন১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৪৩
জনাব কাহেনী,
আপনি নিশ্চই ওয়াচডগের ব্যাখ্যায় বুঝতে পেরেছেন, কোন্ কথাটি অশালীন বা..... বলা হয়েছে।
ভাই, আমার একটা উদাহরণ দেই, আমি কখনো কাওকে মারধর করতে পারতাম না।
১৯৯৫ সনের ঘটনা, সবে বিয়ে করেছি। বিয়ে করে নতুন বউ নিয়ে ভাড়া বাসায় উঠেছি। ছোট্ট একটা বাসা, দু'রুমের। টুকটাক করে নতুন সংসারের জিনিসপত্র কিনছি। একদিন একটা নতুন কালার টিভি এবং ভিসিডি (ডিভিডি তখনো বের হয়নি) কিনে আনলাম। যেদিন কিনে আনলাম, সেদিন কিযে আনন্দ দু'জনের মনে। কিন্তু সেই রাতেই চোর এসে ঘরের অন্যান্য জিনিসপত্রের সাথে আমার সখের টিভি/ডিভিডিও নিয়ে গেল। সকালে আমার ও আমার স্ত্রীর অবস্থা... বুঝতেই পারছেন। এর ক'দিন পর আমার পাশের বাসা থেকেও একটি টিভি চুরি হওয়ার চোর ধরা পড়ল। আমি সেদিন অনায়াসে মন ভরে চোরকে মারতে পেরেছি এবং তার হাতের আঙ্গুলের নখের পাশ দিয়ে মোটা সুই ঢুকিয়েছি। রক্তে আর তার আর্তচিৎকারে এলাকা গরম হয়ে গেল। সবাই বলল, 'ছেলেটার সাহস আছে"। আমি এই সাহস কিন্তু আমার জিনিস চুরি হবার আগে পাই নাই। ঘটনার প্রেক্ষিতেই তা তৈরী হয়েছে। এখনো রাস্তাঘাটে চোর ধরা পড়লে আমার মাথায় আগুন ধরে যায় এবং ............।
জনাব কাহেনী, গুনী কথা বলার আগে বলুন ত আমি কি করেন ?
যদি ব্যবসা করেন, কি ব্যবসা করেন?
আমার মত কন্সট্রাকনের ব্যবসা করে দেখুন... (সাইটে রড আনলে ২/১ বান্ডেল রড হাসিমুখে তারা বলেকয়ে নিয়ে যায়, ইট আসলে ৫/১০টা ইট লাগবে বলে ২০০/৩০০ ইট নিয়ে যায়, বড় কোন (বঙ্গ....) নেতার মৃর্ত্যুবার্ষিকীতে কাঙ্গালী ভোজ করানোর জন্য ১০,০০০/- টাকা হাদিয়া জোর করে হাসিমুখে নিয়ে যায়..., নামীদামী একজন মেয়রের ভাইকে চাদাঁ না দেয়ার কারনে মারামারি করে লোক খুন হয় এবং সেই খুনের ভার আমার কোম্পানীর ঘাড়ে চাপানো হয়.. ইত্যাদি ইত্যাদি) কি মজা! তখন দেখি আপনার মুখ থেকে এমন গুনী কথা বের হয় কিনা। এসব দামী দামী কথা আমিও জানি। ততটা খারাপ না হলেও মোটামোটি ভাল স্কুল (শাহীন স্কুল) , কলেজ (ঢাকা কলেজ) এবং বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা) থেকেই পড়াশুনা করেছি এবং অনেক গুনী গুনী কথা শিখেছি। কিন্তু বাস্তবে এসে সেইসব গুনী কথা..........
ধন্যবাদ।
ঢাকা শহরে ব্যবসা করতে চাইলে আমার ফোন নাম্বার নিতে পারেন, ভাল উপদেশ দিতে পারব।
ভাল থাকবেন। -
কাহেনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:৫০
''''১/১১ আর যাই হোক আমাদের উপহার দেয়নি হ্যাঁ/না
ভোটের ভন্ডামী, জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়নি চীফ মার্শাল ল
এডমিনস্ট্রেটর নামের পোয়াতী জেনারেল যাদের পশ্চাৎদেশ হতে জন্ম নেয় বিএনপি/জাপার মত জারজ সন্তান।''
:! :q
:q -
কবিরনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৩৫
খুব সুন্দর বিশ্লেষন। ধন্যবাদ ওয়াচডগ। তবে গতকাল কি গত পরশু শুনলাম এক টকশোতে ১/১১ এর বীজ রোপিত হয়েছিল ২০০৬ সালের কোন এক সন্ধায় দুই জন সি আই এ কর্তা এবং বাংলার সনামধন্য ১৪ জন বুদ্ধিজীবিকে নিয়ে এক বিদেশী দুতের বাসভবনে। টাইম ম্যাগজিন এ প্রকাশিত দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে এমন একটি ফিচার নিয়েই বসেছিল বৈঠক। তৃতীয় শক্তির উথানই ছিল লক্ষ। কিন্তু মাইনাস টু ফমুর্লা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে ছেড়ে দে মা কেদে বাচি পরিস্থিতির উদ্ধব হলে তারা আর জারজ সন্তানের জন্ম ঘটানোর দিকে অগ্রসর হয় নি। আর শত প্রতিকূলতায় জারজ সন্তান লালন পালন করে বড় করার পিছনে যেয়ে মেধা লাগে তা তাদের ঘটে ছিল না।
সেই যাই হোক মোটা দাগে যা বলতে চাই যত দূর্দিনই আসুক যত বিপদই আসুক অনিবার্চিত সরকার চাই না! চাই না! চাই না। নাই মামার চেয়ে কানা মামা মন্দের ভাল। -
কবিরনি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ১০:০৬
এ ধরনের সমস্যা কিন্তু আগেও হয়েছিল। লোক দেখানো ১৫ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার দ্বারাই সে সমস্যার সমাধান ঘটেছে। বিদেশী শক্তি লাগেনি সেনাবাহীনিও লাগে নি। ১/১১ এর আগে যে ভাবে সেনাবাহীনিকে আমন্ত্রন জানানো হয়েছে ওভাবে বোধহয় আগে কোনদিন হয় নি। পল্টনে এর আগে বহু মানুষই মরেছে। টানা ৭ দিনও হরতাল হয়েছে এমন রেকর্ডও আছে। সারা দেশে তার জন্য জরুরি অবস্থা দিতে হয় নি। তাই উপায় থাকে না কথাটা বোধহয় ঠিক না।
তবে তারপরও যদি নিরুপাই হয় তবে সেনা বিপ্লব কেন হবে জন বিপ্লবও হতে পারে। -
ইন্জি।আলমগীর১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:২২
আমি ও চাই সত্যি কথা বেরিয়ে আসুক সেই সাথে দেশে আসুক শান্তি
www.alamgers.blogspot.com -
মোজাম্মেল কবির১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:৫১
দেশবিক্রি .... জাতীয় সস্তা ও ধোকাবাজী ধরনের কথা শুধু বার বার নিজেদের দৈন্যতাই প্রকাশ করে। প্রকাশ করে নিজেদের মগজের দৌড় .....
১/১১ এর ঘটনা জাতির চোখে পরিস্কার। একে ধামাচাপা দেয়ার সুযোগ নেই । -
সারোয়ার হোসেন১৩ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৪৮
""আঠারটা মাস বাংলাদেশের মানুষ চা আর বিড়ি হতে বঞ্চিত হয়েছে ঠিকই, কিন্তূ বিনিময়ে পেয়েছে বনখেকো ওসমান গনি, ব্যাংক খেকো বাকির ভাই, অফিস পিওন ফালু, লাগেজ ব্যবসায়ী বাবর, রাজনীতিবিদ তারেক জিয়া, রাস্তার ফকির মামুন, সাংবাদিক আতিকুল্লাহ আর আমলা আলমগীরদের নগ্ন তৈলাক্ত নিতম্ব।""-- ভাল বলেছেন।
ধন্যবাদ।
ভাল থাকবেন। -
কাহেনি১৩ জানুয়ারি ২০১০, ০২:২২
আসসালামু আলাইকুম,
ওয়াচডগ, সারোয়ার হোসেন,
ভ্রাতাগণ, আমি নিজেও তেমন কোনো আইডিয়াল জগতে বসবাস করি না। প্রতিদিন আমাকেও নানা কারনে মিরপুর-মতিঝিল, মিরপুর-শাহবাগ, গাজিপুর চলাচল করিতে হয়।
একটা কথা: গনতন্ত্রের পথ রাতারাতি পরিবর্তনের পথ নহে। আর হাজােরা সমস্যা থাকার পরেও গনতন্ত্রের বিকল্প অন্য কিছুই হইতে পারেনা।
পাকিস্তান বারবার বিকল্প খুজিয়াছে। পায় নাই। ইন্দোনেিশয়া খুজিয়াছে। চিলি, আর্জেন্টনা এরাও খুজিয়াছে। শেষতক সেই গনতন্ত্রের পথেই আসিতে হইয়াছে।
ভারত সবচাহিতে ভালো উদাহরণ।
ব্রিটিশ গনতন্ত্রের বয়স ৩০০ বছর। আর আমাদের? সেইখানেও রাজনীিতবিদগণের কাহানী নানারকম ভাবে এখনো শোনা যায়।
আমাদের সময় লাগিবে। আমাদের রাজনীতিবিদগণের ব্যর্থতার সীমা নাই। তাহা আমি স্বীকার করি। তবে এইটাও মনে রাখিতে হইবে, তাহাদের ব্যর্থতা শুধু তাহাদের একার নহে। জনগনেরও দায় রহিয়াছে।
আমিখোলাখুলিভাবে বলি :রাজনীতিতে অন্যকোনো বাহিনীর হস্তক্ষেপ চাহি না। এই দুনিয়ার একটি দেশের নাম বলুন যেই দেশ সেনাশাসনে প্রভূত উন্নতি করিতে পারিয়াছে। বরং কঙ্গো (অধুনা জায়ারে,) নাইজেরিয়া সহ আফ্রিকার দেশগুলোর আজ বেহাল দশা। তাহাদের সম্পদের অভাব নাই। চটকদার জিনিস প্রথম-প্রথম ভালো লাগিলেও শেষে কোনো কাজের হয় না। সেনাশাসন অনেকটা সেইরকম।
জবাবদিহির ব্যবস্থা না তাকিলে যে-কোনো তন্ত্র ''স্বৈরতন্ত্র'' হইয়া দাড়ায়। তাহা যতোই ভালো হউক।
১/১১ আমাদের রাজনীিতবিদগণের ব্যর্থতার কারণে ঘটিয়াছে তাহা যেমন ঠিক, তেমনি কারো কারো উৎসাহের কারণেও ঘটিয়াছে। কিন্তু গনতন্ত্রের ব্যর্থতার কারণে আপনি বিকল্প খুজিতে পারে না। আপনার পুত্রের শিক্ষকের বিকল্প আপনার বাসার দারোয়ান হইতে পারে না। বাগানের মালিকে দিয়া আপনি আপনি আপনার সংসার চালাইতে পারেন না।
এই যে এই কথাগুলি বলিতে পারিতেছি এইটাও কিন্তু গনতন্ত্রের পরিনাম। আর ব্যবসার কথা বলিতেছেন? রাস্তাঘাটের ব্যবসা তুলিয়া দিয়া ,গ্রামের বাজার ভািঙয়া দিয়া ১/১১-এর কর্তাগণ কি খুব বিবেচনার কাজ করিয়াছিলেন? আমার চেয়ার ভাঙা। এইটা আগে বদলাইতে হইবে। নতুন চেয়ার দিবার পরেই আপনি পুরাতন চেয়ার সরাইবেন।
আর যাহারা জেলখানায় রহিয়াছে তাহারা কি খারাপ অবস্থায় রহিয়াছে? ১/১১-এর কর্তাগণই সেই সব আসামীদের বহাল তবিয়তে রাখিয়াছে। সেই সময়ে কারাবন্দী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেেনর ডায়ারি পাঠ করিয়া দেখিতে পারেন। কারাবন্দীদের টাকায় মসজিত পর্যন্ত বানানো হইতেছে।
আমার শেষ কথা এই যে আমরা কোনো অবস্থাতেই সেনা শাসন চাহি না। এইটা মানুসকে আরো অসহশীল করিয়া দেয়। রাজনীিতেত অসহনশীরতা ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব পড়িয়া থাকে। সামাজিক জীবনেও। যেই সব দেশে গনতন্ত্র নাই, সেই সব দেশের মানুষজন তুলনামূলকভাবে কম অসহনশীল। এইটা খেয়াল করিয়া দেখিবেন।
পরম করুণাময় বঙ্গদেশের গনতন্ত্রকে হেফাজত করুন। -
জাকির বেপারী১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০৬:৫৮
''দেশ বিক্রী'' এই শব্দটি বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের জন্য নিষিদ্ধ করা উচিৎ। সস্তা কিছু শব্দ ব্যবহার করে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ প্রতিনিয়ত গরম করা হচ্ছে - যেমন : ভারতের দালাল, সৈরাচার, রাজাকার, স্বাধীনতার ঘোসক, স্বাধীনতা বিরোধী ইত্যাদি। -
অাব্দুন নূর১৪ জানুয়ারি ২০১০, ০৭:০৯
১/১১ যদি কালদিবস হয় তাহলে ৭৫-৯০ মধ্যবর্তী সময়কে বলতে হবে ঘোর কালদিবস। ১/১১ রাজনীতির নামে এক দল দূর্নীতিবাজের মুখোশ অামাদের সামনে উন্মোচন করেছে। ১/১১ না হলে অামরা জানতাম না অামাদের অর্থনীতিকে কিভাবে খুবলে খাোয়া হয়েছে।
১/১১ কে অনেকে অসাংবিধানিক বলেন। অাসলেই কি অসাংবিধানিক? জরুরী অবস্থা জারীর জন্য রাষ্ট্রপতিকে সংবিধনে কি কোন অধিকার দেোয়া হয়নি? জরুরী অবস্থা জারীর সাংবিধনিক ক্ষমতা একমাত্র রাষ্ট্রপতির। জরুরী অবস্থা জারী হলে রাষ্ট্রপতিকে সহায়তা করার দায়ীত্ব সেনাবাহীনির। অামরা সেনাবাহীনিকে ধন্যবাদ জনাই কারণ তারা হ্যঁা/না ভোটের দিকে যায় নাই।
জন্ম যদি সঠিক পথে না হয় তাহলে তাকে যা বলা যায় তাই বলেছেন, এতে অন্যায় বা বিতর্কের কিছু দেখছি না।
ধন্যবাদ। -
সাইফুজ্জামান খালেদ১৪ জানুয়ারি ২০১০, ১১:০৫
১/১১ ঠিক কি ভুল সেটা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে তবে এটা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই ১/১১ এর পূর্ববর্তী অবস্থা ১/১১কে অনিবার্য করে তুলেছিল। নির্মোহভাবে দেখলে দেখা যাবে এ অনিবার্য করে তুলার সিংহভাগ দায় বি এন পি-জামাতের। তাদের ক্ষমতালিপ্সা এবং চক্রান্তের কারণেই দেশে প্রায়-গৃহযুদ্ধ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল। মহাজোটেরও কিছু দায় আছে তবে ঐ ক্ষেত্রে সর্বাত্মক আন্দোলন ছাড়া তাদের আর কী করার ছিল? ১ কোটি ৩০ লাখ ভূয়া ভোটারসহ আজিজ মার্কা নির্বাচনে অংশ নেওয়া হতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। মহাজোট সেটা করে নি বলে তাদের খুব বেশি দোষ দেওয়া যায় না।
যে কারণেই হোক ১/১১ এর মতো পরিস্থিতি কোনমতেই কাম্য নয়। এটা নিইয়ে অনেকে আবার রাজনীতি করতে চান সেটাও ঘৃণ্য। বি এন পি এ দিবসকে কালো দিবস হিসাবে পালন করেছে। ভালো কথা। কী জন্য পালন করেছে? অভিযোগ ১/১১ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্থ করেছে এবন বিরাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগ যদি এই হয় তবে একই আদলতে মঈন উ আহমেদ এর সাথে সাথে খালেদ মোশারফ, কর্ণেল তাহের, মেজর জিয়া, এরশাদ ৭৫-৯০ মধ্যবর্তী সকল শাষকেরও বিচার করতে হবে কারন এরা সবাইও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পথকে বাধাগ্রস্থ করে দেশে সামরিক শাসন এনেছে। আর বিরাজনীতিকরণে এদের ভুমিকা আছে। বিশেষ করে জিয়ার বিখ্যাত একটি উক্তি থেকে এটা খুব সহজে বুঝা যায়____
"i will make politics difficult for politicians" -
বিডি বাইকার১৪ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৫০
১/১১ আমাদের দেশের জন্য অবশ্যই দরকার ছিল। মানুষ দুই বছরে আওয়ামী এবং বিএনপি সহ দেশের অনেক চোরদের চিনেছে। হায় কি দিনই না গেছে.....রাস্তার কুকুরের মত মানুষকে পিটিয়ে মারা!!! বিশ্ববিদ্যালয়ের গাধা গুলোকে দিয়ে ছাত্র অভ্যুথান???......আর এই গাধার বাচ্চারা এখনও রাজনীতির নামে সহপাঠির মাথা ফাটায়.....বলি অই গাধার বাচ্চারা আজ পর্যন্ত কোন মন্ত্রী, এমপি, সচিব এদের সন্তানদের ছাত্র রাজনীতি করতে দ্যাখছস রাস্তায় মিছিলে??? না মারামারি করতে দ্যাখছস কোন দলের হয়ে......তোদের যদি চাবকাইতে পারতাম......পড় রে বাপরা পড় তগো বাপ মা তগোরে মারামারি করতে পাঠায় নাই....... -
িরমঝিমবৃষ্টি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৪:৪৯
@বিডি বাইকার, ধন্যবাদ মন্তব্যটির জন্য। আপনার সাথে আমি একমত। একটু যোগ করতে চাই যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও (বেশিরভাগ শিক্ষক, সবাই নয়) এই গাধার বাচ্চা গুলোর ইন্ধন দাতা। -
িরমঝিমবৃষ্টি১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৪:৩৯
১/১১ নিয়ে চোরের দল অনেক কথা বলে বেড়াচ্ছে।
তাদের যদি সাহস থাকে তো "রাজনৈতিক মামলা" নামে মামলা প্রত্যাহার না করে আদালতে গিয়ে প্রমাণ করুক তারা চোর না।
আমাদেরই দুর্ভাগ্য চোরের দল আবার ক্ষমতায় এসেছে।
চোরের দলই আবার বিরোধী দলে। আমারাই তাদেরকে ক্ষমতাই বসিয়েছি, আমরাই তাদেরকে বিরোধী দলে পাঠিয়েছি। আমরাই তাদেরকে ভোট দিয়েছি।
দোষ আসলে আমাদেরই।
ধন্যবাদ ওয়াচডগ। লেখাটি উপহার দেবার জন্য। -
সারোয়ার হোসেন১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৫৪
আরে মেহেদী ভাই,
কেমন আছেন?
হ্যাঁ রে ভাই, খুব ব্যস্ত, শুষ্ক মওসুমে আমাদের কাজ বেড়ে যায়।
বৃষ্টি বাদলের দিনে কন্সট্রকশনের কাজ তেমন একটা করা যায় না ,তাই।
ধন্যবাদ।
ভাল থাকুন। -
মেহেদী১৫ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৫৬
এই ব্যবসার কথা শুনলে খুব ভয় লাগে।
সারয়োর ভাই সবসময় নিরাপদে থাকুন এই দোয়া করি। -
আহমেদ মামুন১৭ জানুয়ারি ২০১০, ০৪:২০
সাপের লাজ ধরে টানাটানিকরলে সাপ গর্ত থেকে বের হবেই।
আর গর্ত থেকে বের হলে কামড় দিবেই।
১১/১ হল পাপীর প্রাশ্চিত্তের ফসল।
এটা আমাদের দেশের রাজনীতির চিরাচরিত নিয়ম।
এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক