বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

ড্রাগ, সুন্দরী আর সাগরের দেশ কলম্বিয়ায় -১ম পর্ব


কথা ছিল এ যাত্রায় ক্যরাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ ডমিনিকান রিপাবলিক যাব। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন ডমিনিকান, একসাথে নিউ ইয়র্কে অনেকদিন কাজ করেছি। তার মুখে দ্বীপটার বর্ণনা শুনেতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা। দূর সস্পর্কের আত্মীয়ের হলিডে রিসোর্টে ডিসকাউন্ট রেটে থাকার ব্যবস্থা করতে পারবে এমন একটা নিশ্চয়তা দিয়ে অনেকদিন ধরেই অনুরোধ করছিল ঘুরে আসার জন্যে। প্ল্যান মাফিক রাজধানী সান্তা ডমিনংগোতে দুটো দিন কাটিয়ে বাকি সময়টা কাটাব পুন্তা কানায় বন্ধুর আত্মীয়ের রিসোর্টে, এভাবেই পরিকল্পনা এগুচ্ছিল। কিন্তূ বাধ সেধে বসল আমার গিন্নী। ডমিনিকান রিপাবলিক নয়, প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ায় যেতে হবে বিশেষ কোন কারণ ছাড়াই। পুরা ট্রিপটাই ছিল একটা বিশেষ দিনে গিন্নীকে দেয়া আমার উপহার। পছন্দটা ছিল তার জন্যে বরাদ্দ, সুতরাং মেনে নেয়া ছাড়া উপায় ছিলনা। কলম্বিয়ার রাজধানী বগোটা ইতিমধ্যে ঘুরে এসেছি আমি, দ্বিতীয় বার দেশটায় কি দেখব গিন্নীকে জিজ্ঞেষ করতেই তেলে বেগুলে জ্বলে উঠল। হয় কলম্বিয়া নয়ত কোথাও না, এক কথায় চরমপত্র।

তর্কাতর্কি শেষে ভ্রমনের যে আইটেনারীরা আমরা দাঁড় করালাম তা দেখে অভিযোগ করার মত কিছু খুঁজে পেলামনা। রাজধানী বগোটা নয়, আমরা যাব ক্যারাবিয়ান সাগর পাড়ের শহর সান্তা মারতা ও কার্তাহেনা দ্যা ইন্ডিয়াতে। পথে একটা দিন কাটাব দেশটার অন্যতম বড় শহর বারাংকিয়ায়। সান্তা মারতার ’ইরোতামা’ নামের যে রিসোর্টে বুকিং দিলাম তার কিছু ছবি ইন্টারনেটে দেখে মাথা খারাপ হওয়ার মত অবস্থা। সমুদ্রের নীলাভ ঢেউ আর মাথার উপর ঝকঝকা সূর্য্য, এ দু’য়ের সমন্বয়ের সাথে সুন্দরীদের অতি সংক্ষিপ্ত পোশাকে উদ্দাম চলাফেরা, সবকিছুই দারুন একটা সময়ের স্বপ্নালু হাতছানি হয়ে সামনে দাঁড়াল। সান্তা মারতা হতে কার্তাহেনা তূলনামুলক খুব একটা দূরের শহর নয়, আইটেনিনারীতে এ শহরটা আমিই যোগ করেছি অন্য একটা কারণে। আমার অন্যতম প্রিয় লেখক গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস এ শহরে বাস করেছেন এবং ভূবনখ্যাত উপন্যাস ’ওয়ান হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিট্যুড’ লেখার সময় মাঝে মধ্যে এখানে এসে সময় কাটাতেন। এ দু’টা সমুদ্র শহরের মাঝের শহর বারাংকিয়া বিখ্যাত অন্য কারণে। এ শহরেই জন্ম কলম্বিয়ার বিখ্যাত গায়িকা শাকিরার, এবং শহরটার পরিচিতি বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতার চ্যম্পিয়ন তৈরীর কারখানা হিসাবে।

শীতের শেষে প্রকৃতিতে তখন বসন্তের মেলা। অক্টোবরের তেমনি এক সকালে পেরুর রাজধানী লিমার হোরহে চাভেস এয়রাপোর্ট হতে রওয়ানা হয়ে গেলাম প্রতিবেশী দেশ কলোম্বিয়ার উদ্দেশ্যে।

- চলবে
ঘুরে আসার নিমন্ত্রন রইল।
১৩ টি মন্তব্য
milis দখিনো হাওয়া০৮ জানুয়ারি ২০১০, ১০:৫৭
I'll take you to the candy shop
I'll let you lick the lollipop
Go 'head girl, don't you stop
Keep going 'til you hit the spot
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১০
পড়ে ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
sayedurchowdhury সাইদুর রহমান চৌধুরী০৮ জানুয়ারি ২০১০, ১১:২৮
অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের।
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১১
দেখি তাড়াতাড়ি লেখা যায় কিনা। ধন্যবাদ।
ferdousmirza ফেরদৌস মির্জা০৮ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৪৯
ভাললাগল। অপেক্ষা অন্য পর্বের।
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১১
পড়ার জন্যে আপনাকেও ধন্যবাদ।
murubbe মুরুব্বী০৮ জানুয়ারি ২০১০, ১১:৫৪
অপেক্ষা।
ধন্যবাদ।
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১২
এক অপেক্ষা মায়ার জালে বান্ধা, বান্ধারে!
amarkobita আমার কবিতা০৯ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:৩৫
বাহ: চমতকার !
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১২
ধন্যবাদ।
mahmud মাহমুদ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ০৯:৪৫
আমি সাথে আছী, লিখুন ভাই নিয়মিত। এসব দেশে হয়তো জীবনে কোনদিন যাওয়া হবেনা, আপনার চোখ দিয়ে ঘুরে আসি।
watchdog ওয়াচডগ০৯ জানুয়ারি ২০১০, ১১:১৩
ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই। আপনার ভ্রমন কাহিনীও কিন্তু মন দিয়ে পড়ি। অলসতার কারনে মন্তব্য করা হয়ে উঠেনা। ভাল থাকুন।
hiron_mirzapur হিরন ০৯০২ এপ্রিল ২০১০, ১১:০২
পরের পর্ব চাই

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment