বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১২, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১৯ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


যেসব ব্যাপার নির্বাচনের ফলাফলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে

২৯ ডিসেম্বরের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক শাসন থেকে গণতন্ত্র হত্যাকারীদের শাসনে পদার্পণ করেছে। এ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে নানারকম হিসেব নিকেশ চলছে, চলবে। বিগত নির্বাচনগুলোর ভোটের হিসাবের সাথে এবারের নির্বাচনের ফলাফল সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়াতেই এসব জল্পনা-কল্পনা। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের জরিপগুলোর সাথেও তেমন কোনো মিল নেই এ ফলাফলের। যদিও আপাত দৃষ্টিতে নির্বাচন সুষ্ঠূ হয়েছে এবং বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষকদল তার সার্টিফিকেটও দিয়েছেন, তা সত্ত্বেও এবারের নির্বাচনে এমন কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে যা এধরনের একপেশে ফলাফলকে সন্দেহবিদ্ধ করার জন্যে যথেষ্ট।
১/১১ এর পটপরিবর্তনের পর সুশীল-সামরিক জোট সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই সেই সরকারের আওয়ামীপ্রীতি জনগণের দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। দুর্নীতির নামে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢালাও গ্রেফতারের মাধ্যমে এই পক্ষপাতিত্বের সূত্রপাত। আওয়ামী আমলে দুর্নীতির হার কয়েকগুণ বেশি হওয়া সত্ত্বেও আশ্চর্যজনকভাবে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ধরপাকড় তুলনামূলক কম করা হয়। ৭ নভেম্বরের জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ছুটিকে বাতিল করা এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করায় সরকারের একতরফা আচরণের প্রকাশ ঘটে। এছাড়াও বিএনপির সংস্কারপন্থী বিদ্রোহী নেতাদের প্রতি সরকার তথা সিইসির পক্ষপাতমূলক আচরণ বিএনপি ভাঙনে সরকারের দুরভিসন্ধির বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু ছিল না। নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার। দেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে কখনো মাইনাস টু ফর্মুলা কখনো চাপানো সংস্কার আবার কখনোবা জাতীয় ঐক্যমতের সরকার গঠনের আইডিয়া প্রকাশ হতে থাকে। এর সবই জনগণ একে একে প্রত্যাখ্যান করতে থাকলে অবশেষে সরকার নিরুপায় হয়ে টালবাহানাসুলভ আচরণ ত্যাগ করে নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণকে আশ্বস্ত করে। এরই মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে চরম ধস নামে। অগণতান্ত্রিক সরকারের কারণে দেশ ২০ বছর পিছিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে যে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বাহানায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছিল তার সামান্যই বাস্তবায়িত হয় এ আমলে। টিআইবির রিপোর্টে ধরা পড়ে যে, বড় দুর্নীতিগুলোর ক্ষেত্রে একটা ধাক্কা এলেও ছোট দুর্নীতিগুলো বহুগুণে বেড়ে যায় এ সময়।
সব মিলিয়ে কিছু সাফল্য সত্ত্বেও অসাংবিধানিক সরকারের ব্যর্থতার খতিয়ানটিই নিঃসন্দেহে বড় হয়ে পড়েছিল। সুতরাং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্যে পরবর্তী সরকার এমনটি হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে যারা তাদের সব কাজের বৈধতা দান করে তাদের রেহাই দেবেন। সেই সময় শেখ হাসিনাই এগিয়ে আসেন তাদের উদ্ধারে। ঘোষণা দেন নির্বাচিত হলে তাদের সব কাজের বৈধতা দেবেন। ফলে আ’লীগ স্বাভাবিকভাবেই পরিণত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রিয়ভাজনে।
এমতাবস্থায় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে থাকে সরকার। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে সিইসির পক্ষপাতিত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগের সাথে সংলাপে সিইসি শেখ মুজিবুর রহমানের ভূয়সী প্রশংসা এবং মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের অবদানকে অকুণ্ঠচিত্তে স্মরণ করলেও বিএনপির সাথে সংলাপে এধরনের সৌজন্য দেখান নি। নির্বাচনের পূর্বে সিইসি এবারের নির্বাচনকে ৭০’র নির্বাচনের মতো করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। যার প্রতিফলন আমরা বাস্তবেই পেয়েছি এবারের নির্বাচনে।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই আওয়ামী লীগের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী মনোভাব ধরা পড়ে। এর আগে শেখ হাসিনার দীর্ঘ বিদেশে অবস্থান এ আত্মবিশ্বাসের গোপন নিয়ামক শক্তি হতে পারে। সাথে সাথে এতদিনের পক্ষপাতমূলক অবস্থান থেকে সরে এসে সিইসিও নিরপেক্ষ আচরণ শুরু করেন। অপর দিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচন প্রস্তুতিকালীন এমন আত্মবিশ্বাস দেখা যায়, যা সচেতন মহলের মনে সংশয় সৃষ্টি করে। বিশেষত আওয়ামী লীগের ভিশন-২০২১ এবং শেখ হাসিনার রাষ্ট্রপ্রধানসূলভ ভাব নিয়ে দেশের রাঘববোয়ালদের সাথে একাধিক মতবিনিময় সংশয়কে আরো বৃদ্ধি করে। তাদের আত্মবিশ্বাস এবং চরিত্রের অবিশ্বাস্য ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে এক গল্পের কথা মনে পড়ছিল। যেখানে গ্রামের এক গবেট ছাত্র পরীক্ষার আগে কোনো এক ফকিরের তাবিজ পেয়ে পড়াশোনা ছাড়াই পরীক্ষায় খুব ভালো করার ব্যাপারে চরম আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং সহপাঠীদের সাথে পড়াশোনার প্রসঙ্গ উঠলে পড়াশোনাকে খুব সহজ ব্যাপার হিসেবে চালিয়ে দেয় এবং গর্বভরে বলে, “এতদিন পড়াশুনা করি নি বলে কিছু পারতাম না, এখন বই-পুস্তক ধরে দেখছি এতদিন অযথাই ভয় করেছি ওসব। পড়লে সবকিছুই খুব সহজ।”
তবে গল্পের এই গবেট ছাত্রটির সাথে আ’লীগের নেতাকর্মীদের আত্মবিশ্বাসের পার্থক্যটা হলো, ফকিরের তাবিজ সেই ছাত্রটিকে সাফল্য দিতে পারে নি কিন্তু আ’লীগকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেই অদৃশ্য শক্তিটি বিজয়ী করতে সক্ষম হয়েছে।
নির্বাচনে গণমাধ্যম ও বিভিন্ন জরিপ প্রতিষ্ঠানের জরিপে আ’লীগের এমন একচেটিয়অ বিজয়ের আভাস তো ছিলই না বরং অনেকক্ষেত্রে চারদলের বিজয়ের সম্ভাবনাই ছিল উজ্জ্বল। অন্ততপক্ষে একটি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতার আশা করা হয়েছিল নির্বাচনে। উপরন্তু মাঠে-ময়দানে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টার তুলনায় শেখ হাসিনার প্রচেষ্টা কম দৃষ্টিগোচর হওয়া সত্ত্বেও এই নির্বাচনে বিএনপিসহ চারদলীয় জোটের নজিরবিহীন পরাজয় স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
নির্বাচনে আপাত দৃষ্টিতে কারচুপির কোনো ঘটনা ধরা না পড়লেও জনগণকে যে বড় কোনো সূক্ষ্ম প্রতারণা করা হয়েছে তা নির্বাচনের ফলাফলে ধরা পড়ে। এ ধরনের ফলাফলের জন্যে ময়দানে জয়ী দলটির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হতে হয়। এবারের নির্বাচনে সেই ধরনের একচেটিয়া গণজোয়ার দেখা যায় নি। বরঞ্চ একাধিক আসনে ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে যা দেখেছি তাতে চারদলের পক্ষে গণজোয়ার থাকা সত্ত্বেও সেখানে তাদের পরাজিত হতে হয়েছে।
এ পরাজয়ের পেছনে কোন কোন ব্যাপার কাজ করেছে সে ব্যাপারে বিভিন্নজন যা বলছেন, সেসব কেবলই বলার জন্যে বলা। প্রকৃতপক্ষে এর পেছনে এমন কোনো সূক্ষ্ম প্রতারণা কাজ করেছে যা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে না বলা গেলেও ভবিষ্যতে কখনো না কখনো তা উদঘাটিত হবে। তবে যে বিষয়গুলো ভেবে দেখবার মতো তার ক’টি আমি উল্লেখ করছি।
প্রথমত, নির্বাচনের অনেক আগেই সিইসি বলেছিলেন, এবারের নির্বাচন হবে ৭০’র নির্বাচনের মতো। কার্যতই ফলাফলে তেমনটিই দেখা গেল। এধরনের ভবিষ্যদ্বাণী কিভাবে করলেন তিনি? সিইসি কি তাহলে গণনা জানেন?
দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগকে কখনোই নির্বাচনের সময় এতটা নমনীয় দেখা যায় নি যতটা নমনীয় তারা এবার ছিল। রাতারাতি আওয়ামী চরিত্র যদি তারা বদলে ফেলে তবে ভালো কথা, তবে ২০০ আসনের বেশি সিট পাবার ব্যাপারে তাদের এবং ৩০ সিট পাবার ব্যাপারে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এরশাদের দৃঢ় আশাবাদ সেই সময় অনেকটা হাস্যকর শোনা গেলেও পরবর্তীতে সেটিই সত্য হয়েছিল। এভাবে মিলে যাওয়াটা কি অবিশ্বাস্য নয়?
তৃতীয়ত, নির্বাচনের দিন ভোর থেকেই আওয়ামী ঘরানার ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো চারদলীয় ঐক্যজোটের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলতে থাকে যে, বিভিন্ন স্থানে চারদলের প্রার্থীরা টাকা বিতরণ করতে গিয়ে আটক হয়েছেন (সন্ধ্যায় বিজয় নিশ্চিত বুঝতে পেরে পরে তারা আর এই অভিযোগ করে নি) অথচ মহাজোটের প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে টাকা বিতরণের সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার খবর (নীলফামারী- ৩ আসনে মহাজোটের প্রার্থী কাজী ফারুক কাদের) কিংবা দেশের নানা জায়গায় চারদলের নেতাকর্মীদের হয়রানির খবর সুস্পষ্ট প্রমাণসহ পাওয়া গেলেও তারা তা প্রচারিত না করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে।
চতুর্থত, আমার ব্যক্তিগত পর্যালোচনায় মনে হয়েছে এবারের নির্বাচনে সুকৌশলে একটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। আওয়ামী লীগ এবার মহাজোটে জাতীয় পার্টিকে রেখেছে নিজেদের পূর্ণ স্বার্থ সংরক্ষিত রেখে। নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টি তাদের আসনগুলোতে আ’লীগ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে মহাজোট ত্যাগ করে। পরবর্তীতে তাদের সে দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের মহাজোটে নিয়ে আসা হলেও কার্যত আ’লীগের নেতারা জাতীয় পার্টির আসনগুলোতে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেনি। বরং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং আশ্চর্যজনকভাবে যে আসনগুলোতে নৌকা ও লাঙ্গল উভয় প্রতীকই ছিল সেখানে নৌকার প্রার্থীরাই জয়ী হয়েছে। বৃহত্তর রংপুরের আসনগুলোতে যা অনেকটাই অসম্ভব। এতে বোঝা গেল আ’লীগ তাদের প্রার্থীদের ঠিকই জয়ী করে এনেছে। আর এরশাদকে কলা দেখিয়ে তারা তাকে মহাজোটে রেখেছে ‘মহাজোট’ নামটির স্বার্থকতা অর্জনের উদ্দেশ্যে মাত্র। অথবা নির্বাচনের পর জনগণকে এ কথা বোঝাবার জন্যে যে, চারদলীয় জোটের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল আ’লীগের নেতৃত্বে একতাবদ্ধ, আর এজন্যেই তাদের এই পরাজয়।
পঞ্চমত, বিভিন্ন আসনে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ার থাকাতো দূরের কথা, জনতা ছিল তাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত। তাসত্ত্বেও এসব আসনে তারা জয়ী হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে তারা তাদের জয়ের ব্যাপারে ঘোষণা দিয়েছে এই বলে যে, তিনটি ভোট পেলেও জয়ী হবেন তারাই। গাইবান্ধা-১ আসনে এমনটি ঘটেছে।
ষষ্ঠত, আ’লীগের পক্ষ থেকে বড় গলায় বলা হচ্ছে, দুর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে এটি গণরায়। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে বিএনপির এমন অনেক ভিআইপি প্রথম সারির প্রার্থী যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি কিংবা যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন নেই তারা কী করে পরাজিত হলেন? অন্যদিকে শহীদ জিয়ার হত্যাকারী কিংবা এরশাদের মতো সর্বজনস্বীকৃত স্বৈরাচার ও দুর্নীতিবাজ নির্বাচিত হলেন কী করে?
সপ্তমত, আ’লীগের সব সিনিয়র নেতাই এবারের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন কিন্তু বিএনপির সিনিয়র নেতাদের তিনজন ছাড়া সকলেই পরাজিত হয়েছেন। পরাজিত এসব বিএনপি নেতাদের কারো কারো বিরুদ্ধে যেমন দুর্নীতির মামলা রয়েছে তেমনি মামলা রয়েছে আ’লীগের জয়ী সেসব প্রার্থীদের অনেকের বিরুদ্ধেও। সত্যি যদি জনগণ এবারের নির্বাচনে বিবেচনা প্রয়োগ করে থাকে তবে তারা কি আ’লীগের ব্যাপারে বিবেচনা খাটায় নি?
অষ্টমত, যেসব আসনে চারদলের প্রার্থীদের বিজয় ছিল সুনিশ্চিত সেসব আসনের অধিকাংশ কেন্দ্রগুলোতে প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল আ’লীগ সমর্থন করেন এমন লোকদের। এ ব্যাপারে যথেষ্ট প্রমাণও দেয়া যেতে পারে। এছাড়া ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক বুথের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যালট বক্স এবং নির্দিষ্ট ভোটারের পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের দোহাই দিয়ে নির্বাচনকে যত স্বচ্ছই বলুক নির্বাচন কমিশন, অতিরিক্ত এই ব্যালট বক্স এবং ব্যালট পেপার পাঠানোর উদ্দেশ্য যে অস্বচ্ছ ছিল তা অচিরেই প্রমাণিত হবে ইনশাআল্লাহ।
নবমত, নির্বাচনের আগের দিন আ’লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি’র কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম হঠাৎ করেই দৈনিক আমার দেশ পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে এক আজব অভিযোগ উত্থাপন করেন। সরকারি বিজি প্রেসের এক কর্মকর্তার সাথে যোগসাজস করে তিনি নাকি প্রচুর পরিমাণ ব্যালট ছাপিয়ে নিয়েছেন এবং এই ব্যালট কিভাবে বাক্সবন্দী করতে হয় তার প্রশিক্ষণও দিয়েছেন বাছাইকৃত কর্মীদের। মাহমুদুর রহমান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে এইচ টি ইমামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এইচ টি ইমাম এই অভিযোগ আর উত্থাপন করেন নি। এখন প্রশ্ন হলো এরকম একটি গুরুতর অভিযোগ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে করার পূর্বে তিনি কি সত্যি নিশ্চিত হয়েছিলেন নাকি নিছক সন্দেহের বশেই এমনটি বলেছেন? কোনো নিশ্চিত প্রমাণের ভিত্তিতে যে অভিযোগটি ছিল না তা স্পষ্ট হয়েছে পরবর্তীতে এ সম্পর্কে আ’লীগের পক্ষ থেকে উচ্চবাচ্য না করা থেকে। কিন্তু সন্দেহের বশে এত বড় কথা তখনই কেউ বলতে পারে যখন এধরনের আইডিয়া তার নিজের মাথায় থাকে। নির্বাচনের ফলাফলে অকল্পনীয় ওলট-পালটগুলো সচেতন মহলের কাছে এই সন্দেহের উদ্রেক করেছে যে, এইচ টি ইমাম যে অভিযোগটি উত্থাপন করেছেন, সে অপরাধে তারা নিজেরাই আবার জড়িয়ে পড়েন নি তো?
নির্বাচনের আগে ২৭ অক্টোবর দৈনিক নয়াদিগন্তে প্রকাশিত ফরহাদ মজহারের কলাম পড়েই এবারের নির্বাচনে যে একটি কারিশমা দেখে যেতে পারে তা আঁচ করা গিয়েছিল। সেখানে তিনি বাংলাদেশে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের ব্যাপারে লিখতে গিয়ে দেখিয়েছিলেন যে, এবারের নির্বাচনে পরাশক্তি স্বাভাবিকভাবেই জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির উত্থান আশা করে না। কেননা, জাতীয়তাবাদী-ইসলামীশক্তি এদেশে তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পক্ষান্তরে আ’লীগকে এক্ষেত্রে তারা তাদের বিশ্বস্ত সহযোগী ভাবতে পারে। এবারের নির্বাচনে ফরহাদ মজহারের সেই অনুমান সঠিক ছিল বলে আমার বিশ্বাস। বাংলাদেশে এবারের নির্বাচনে অকল্পনীয়ভাবে জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির চরম পরাজয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের নিরঙ্কুশ বিজয়ে তাদেরও পরোক্ষ মদদ ছিল নিশ্চয়ই। অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ঘাড়ে সওয়ার হয়েই তারা এই দুরভিসন্ধির বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে হয়তো। একাজে প্রশাসনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে সাজানো হয়েছে এবং এনজিওগুলোকে সুকৌশলে ব্যবহার করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই, বাংলাদেশকে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে পূর্ণ শাসনাধীন রাখা এবং এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধানসহ সকল ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো সংস্কার সাধন করা।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল যদি সত্যিই গণরায় হয়ে থাকে তবে তাতে কোনো অসুবিধে থাকার কথা নয়। সরকারের কর্মকাণ্ডের সুফল-কুফল জনগণই ভোগ করবে। কিন্তু জনগণকে যদি ধোঁকা দেয়া হয়ে থাকে তবে ধোঁকার সেই তত্ত্ব নিশ্চয়ই আ’লীগ পরের নির্বাচনেও প্রয়োগ করবে। ২০২১ সাল পর্যন্ত আ’লীগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে তাদের ক্ষমতায় থাকার ইঙ্গিত বহন করে।
যেসব অসঙ্গতিপূর্ণ ব্যাপার ধরা পড়েছে এই নির্বাচনে তাতে কোনোদিন যদি বেরিয়ে পড়ে যে, নীতির মুখোশ পরে জনগণকে চরম প্রতারণা করা হয়েছে, তবে জনগণ নিশ্চয়ই তা মেনে নেবে না। আমার বিশ্বাস, তাদের সেই প্রতারণা অতি সূক্ষ্ম হলেও প্রকৃত সত্য একদিন নিশ্চয়ই বেরিয়ে আসবে। আর প্রতারণার ফলাফলকে গণরায় হিসেবে চালিয়ে দেয়ার ফলও একদিন পেতে হবে সংশ্লিষ্টদের, কোনো সন্দেহ নেই।
৩৫ টি মন্তব্য
bbq_hearts ফারুক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৩২
মজাতো-----,
আনত্রজাতিক আদালতে অনুলিপী পাঠানো হইল।
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:৩৫
ধন্যবাদ। এই পদে আপনাকে নিয়োগ দেয়া হইল।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৪০
ভাই, নূন্যতম লজ্জা থাকলে এই পোষ্টটা দিতেন না। ২টা আসন পাইয়া আসলেই যে মাথা নষ্ট হইয়া গেছে এইটা তার প্রমাণ। তাছাড়া জাতীসংঘ বলছে বিচারে সহযোগীতা করবো, মাথা তো খারাপ হওনেরই কথা!
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫২
আওয়ামী লীগ জয়ী হলে এরকম লম্বা কথা বলে আর হারলে বলে সুক্ষ/স্থুল কারচুপি ইত্যাদি।
ফলাফল বিপরীত হলে দেশ আজ রক্তের বন্যা বইতো। বিএন পি সহজে মেনে নিয়েছে সেজন্য তারা ধন্যাদ পাওয়ার দাবী রাখে।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫৫
বিএপি এখন যে কাজ করছে অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার মতো। গতবারেরটা তো আমি বলতেছি না যে কারচুপির নিবার্চন ছিলো।
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০১
আপনি বলবেন কেন? শেখ হাসিনা নিজেই বলেছিলেন স্থুল কারচুপি হয়েছে।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০৮
@দুর্বলপাশা, ধরে নিচ্ছি এই পোষ্টটা আপনি করেন নি। সেই বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকগুলো এমন পোষ্ট দিয়ে ব্লগে একটা অন্য রকম পরিবেশ তৈরি করতে চায় যেন, কেউ এগ্রেসিভ হয় আর সে ব্যান খায়। পনি খেয়াল করুন, যে পোস্ট দিলো তার খবর নাই। সুতরাং... নো কমেন্টস!!!!!!!!

:! :! ব্যান খাওয়াতে চায় :! :!
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:২১
আমি পোস্ঠ পাঠালে নিজের নামেই পাঠাবো। অন্যের নামে পাঠাবো কেন? আমি খেটে খাওয়া মানূষ এত সস্তা আবেগকে বিশ্বাস করিনা।
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:০৮
নেটের লাইন এতক্ষণ ছিল না বলে উত্তর দিতে পারি নি। শুরু করলাম এবার।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়টি এ পোস্টের সাথে অপ্রাসঙ্গিক। আর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আ'লীগ করবে কি না তা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ রয়েছে। কেননা, গত ১ জানুয়ারি সুজনের প্রতিবেদনে খোদ আ'লীগে যুদ্ধাপরাধী সাংসদ থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৪৭
এরকম নিরন্কুশ বিজয় আসলেই সন্দেহ যুক্ত।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫৩
এই নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ছিলো ২ভাগে বিভক্ত। নিকট অতিথের শাসনামল সবাই মনে রাখে। এমন পরিস্থিতিতে নিবাচনের ফল এমন নিরুংকুশ হতেই পারে। তাছাড়া বিএনপি কয়েক অঙশে বিভক্ত আর যারা তাদের সাথে ছিলো, তারা ছিলো বিভিন্ন অভিযোগে অভযুক্ত। সবচেয়ে বড় ডুবানি দিছে জামাত বিএনপিকে। তাদের পিঠে রয়েছে রাজাকার প্লাস যুদ্ধাপরাধীর খেতাব!!!
jakir জাকির বেপারী০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০০
ঢাকা বিভাগে বি,এন,পি একটা আসনে পাশ করে নাই ! যেটা অবশ্যই অবিশ্বাস্য মনে হয়, যেমন- শামসুল ইসলাম, হামিদুল্লাহ খান, মিজানুর রহমান সিনহা, সাদেক হোসেন খোকা প্রমুখ প্রার্থী যখন ফেল করে তখন সত্যিই অবাক হই।
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০৭
এত ঘন ঘন রাজাকার বলিয়েন না। এটা পচে গেছে। কে ভাল? আমাদের কে একদল খেয়েছে ৭১ সালে। আর আরেকদল খাচ্ছে বর্তমানে। আমরা একবার কুকুরের খাবার আরেকবার বিড়ালের।
স্বাথের্র প্রয়োজনে আওয়ামীলীগও জামাতের সাথে লিয়াজু করেছিল স্বৈরাচার পতনের সময়। তখন রাজাকারের প্রসঙ্গ আসেনি কারন সেটা লিগের পক্ষে ছিল্।এত বছর পর এসে বিএন পি র পতন হয়েছে রাজাকারের জন্য এর সাথে আমি একমত না। বি এন পি র সাথে জামাতের সম্পর্ক আজকে নয়।
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:১২
নির্বাচনে আ'লীগ জিততেই পারে তবে বেশকিছূ অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। আমি সেগুলোর উল্লেখ করেছি মাত্র। সবশেষ আজ চাঁদপুরে ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। প্রতারণা যে হয়েছে তা এক সময় উন্মোচিত হবে আশা করি।
jakir জাকির বেপারী০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫২
আপনি লিখেছেন - ''সেই সময় শেখ হাসিনাই এগিয়ে আসেন তাদের উদ্ধারে। ঘোষণা দেন নির্বাচিত হলে তাদের সব কাজের বৈধতা দেবেন। ফলে আ’লীগ স্বাভাবিকভাবেই পরিণত হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রিয়ভাজনে।''
- ভালো একটা পয়েন্ট ধরেছেন।

আমার মতে বি,এন,পি'র এই বিশাল পতনের পিছনে আরো কিছু কারন আছে -
১. এই নির্বাচনে বি,এন,পি ছিল ৩ভাগে বিভক্ত ছিল। ২০০১-এর নির্বাচনে আমরা যে সকল ত্যাগী নেতাদের বি,এন,পি-তে দেখেছিলাম। সেইসব বি,এন,পি নেতারা এবার বি,এন,পি-র সাথে ছিল না।
২. প্রচার মাধ্যম ও মিডিয়া বেশিরভাগই ৪দলের বিরুদ্ধে কাজ করেছে। বিশেষ করে তারেকের দুর্নীতি ফলোআপ করে প্রচার করেছে।
৩. স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে বি,এন,পি-র সম্পর্ক থাকার কারনে নব প্রজন্ম ৩৪% ভোট বি,এন,পি-কে দেয় নাই।
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:১৬
আপনি যে বিষয়গুলোর উল্লেখ করেছেন সেগুলোও কারণ হতে পারে। তবে মূল কারণ অন্যটি। এবারে যে হারে ভোট পড়েছে তাতে স্বয়ং সিইসিও অবাক। কোনো কোনো আসনে তো ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পড়েছে। অথচ ঐসব আসনের কেন্দ্রগুলোতে দুপুরের পর থেকেই ভোটার সংখ্যা ছিল একেবারে কম।
mohsinreza মহসীন রেজা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫৩
ভাইজানের কথার সাথে একমত হতে পারলাম না। দূর্নীতি করার সুযোগ বিএনপিরই বেশি ছিল। কারণ তারা সবচেয়ে বেশিবার ক্ষমতায় ছিল। তাছাড়া তাদের ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পরপরই ১/১১'র পরে দূর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এতে বিএনপির লোকজনই যে বেশি ধরা পরবে......এটাতো সাধারণ অনুমান। আর ১৫ই অগাস্টকে শোক দিবস করা হয়েছে এটাকে আপনি আ.লীগের প্রতি পক্ষপাত বলছেন কেন? শেখ মুজীবের মৃত্যু দিবসকে শোক দিবস করা হয়েছে বলেতো সাধারণ মানুষের ভিতর আমি কোন বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিনি। কারণ শেখ মুজিবতো আর দলীয় নেতার গন্ডীতে সীমাবদ্ধ নন। আর নির্বাচনের বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে আপনি যেসব অভিযোগ করেছেন সেগুলো একটাও তো স্পেসিফিক না। মানে ধোপে টিকছে না।তবুও আপনাকে ধন্যবাদ।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫৮
এই কথাগুলো আসলে আসছে ২ আসন পাওয়া বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকগুলোর কাছ থেকে। স্পেসিফিক করে বলুক না কোথায় কারচুপি হয়েছে?
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:২৭
টিআইবির জরিপ অনুসারে আ'লীগ আমলে বাংলাদেশ প্রথম দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়। আ'লীগ আমলের দুর্নীতির পরিমাণ জোট সরকারের আমলে উল্লেখযোগ্যহারে কমে আসে। তবে মিডিয়ার কল্যাণে এবং জোট সরকার সর্রশেষ ক্ষমতায় থাকায় তাদের আমলের দুর্নীতি বেশি ধরা পড়ে চোখে।

১৫ আগস্ট শোক দিবস ঘোষণায় কোনো আপত্তি নেই। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার যখন ৭ নভেম্বরের ছুটিকে বাতিল করে তখনই তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

কারচুপি দেশের অনেক জায়গায়ই হয়েছে। এর প্রমাণ বৃহত্তর রংপুরের আসনগুলোতে যেখানেই লাঙ্গল ও ‍নৌকা প্রতীক ছিল, সেখা‍নেই জিতেছে নৌকা। যা অবশ্যই অসম্ভব।
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৬:৫৮
এখানে একজন তার স্বাধীন চিন্তাকে উপষ্থাপন করতেই পারে। পছন্দ না হলেই তাকে আক্রমন করতে হবে এমনতো কথা নেই।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০০
মতামত জানাবো না?
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:১৪
রাজাকারের প্রসঙ্গটা আসে শুধুমাএ মানুষকে ধোকা দেওয়ার জন্য। যে দলটাকে বাংলাদেশে রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করা যাচ্ছেনা তাদেরকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করবেন এটা প্রহসন। আই ওযাশ, ১৫ টাকায় চাল খাওয়ানোর মত একটা মিথ্যা আশ্বাস ছাড়া কিছুই নয়।
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:২৮
অতি প্রতিক্রিয়াশীল মনোভাব আওয়ামী বাকশালী চরিত্র।
sharmabangla সজল শর্মা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০০
কোন মতামত দেওয়ার ইচ্ছা নেই- শুধু একটি কথাই বলে যাই,
আফসোস।
apitap এপিটাপ০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:০২
আসলেই!!!!!!!
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:৩০
আফসোস আ'লীগের জন্য। প্রতারণা করে ক্ষমতায় যেতে হলো বলে!
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:১৯
এই ধরনের কাদা ছোড়া ছুড়িটা আসলেই খুব জঘন্য লাগে আমার কাছে।
sharmabangla সজল শর্মা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:২৬
পাশা ভাই- এই পোস্টটি কি আপনি করেছেন?
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:৩০
কেন ভাই এধরনের প্রশ্ন কেন? আমি তো আমার একাউন্ট থেকেই করতে পারি।
sharmabangla সজল শর্মা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:৪০
ভুল বুঝবেন না, আপনি যেভাবে সবগুলো মন্তব্যের উত্তর দিচ্ছেন তাতে এটা আপনার পোস্ট বা আপনাকে এই ব্লগারের প্রতিনিধি হিসেবে ধরে নেওয়া হবে। আপনার নিজস্ব কোন মতামত থাকলে তা এখানে মন্তব্য করার চেয়ে পোস্ট হিসেবে প্রকাশ করলে ভাল হবে।
durbolpasha পাশা০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:৫১
আসলে আমি বিষয়টা নিয়ে খুবই বিরক্ত। প্রকাশের ভঙ্গিটা যাই থাকুক আমি এ ধরনের আলোচনাকে নিন্দা করছি্ যারা এক চেটিয়া কথা বলে তাদের ভুল গুলো ধরিযে দেওয়ার চেস্ঠা করছি। অন্য কোান বিষয় নেই। ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী
jakir জাকির বেপারী০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৭:৫১
@সজলদা, সুন্দর বলেছেন। যে পোষ্ট করেছে তার কোনো খবর নাই, সে পোষ্ট দিয়ে ভেগেছে। কোনো মন্তব্যর উত্তর দেয়নি
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৩ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:৩৪
দুর্বল পাশা ভাইকে ধন্যবাদ। এতক্ষণ নেটের লাইন ছিল না বলে উত্তর দিতে পারি নি।

ভাবতে অবাক লাগে মানুষ কী করে আ'লীগের মতো দলের অন্ধভক্ত হয়ে থাকতে পারে!
nirobpathok নিরব পাঠক০৪ জানুয়ারি ২০০৯, ১২:৪১
একটা খথাই বলি.....
যারা কারচুপি হয়নি বলেছেন আর যারা কারচুপি হয়নি বলছেন দুই দল ই ঠিক ...

হা হা হা হা হা
আসলে রাজনীতি জিনিষটা আমার কাছে এখন শুধু কৌতুক ছাড়া আর কিছুই মনে হয়না....

ভাইজান আমার কথায় কেউ কষ্ঠ পাইলে ক্ষমা চাই....
unmochok উ‍‍ন্মোচক০৪ জানুয়ারি ২০০৯, ০৯:৩১
কী বললেন বুঝলাম না। মন্তব্যটা আরেকবার পড়ে দেখুন।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment