নির্বাচন ২০০৮ ও আমাদের ভবিষ্যত: 'A Secular Plan' (দ্বিতীয় পর্ব)
বাংলাদেশ পর্যবেক্ষন রাজনীতি
আগের লেখাটা দেয়ার পর আওয়ামীলিগের 'A Secular Plan' এর পক্ষে বিভিন্ন ব্লগে ও আলোচনায় প্রচুর বক্তব্য পাওয়া গিয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে তারা কিন্তু মাদ্রাসার ছাত্র নন (বা প্রায় সবাই সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত) এবং মাদ্রাসা সিস্টেমের ঘোর বিরোধী। মূল আলোচনা শুরু করার আগে তাদের মন্তব্যগুলোর বিষয়ে কিছু বলে নিতে হচ্ছে তাই-
প্রথমেই এটা সবার বুঝা উচিত যে 'A Secular Plan' নামে সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রচারনাটা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। দ্বিতীয়ত এতে মার্কিনিদের একটা সুস্পষ্ট আগ্রাসনের পথ খুলে দেয়া হচ্ছে।
একজন বাংলাদেশী নাগরিক হয়েও দেশের বিরুদ্ধে এধরনের আত্মঘাতী প্রচারণার পক্ষে যেতে তাদের একটুও বাঁধেনি। দেখা যাচ্ছে তথাকথিত আধুনিক শিক্ষা তাদের ভেতরে দেশপ্রেম ও দেশাত্ববোধ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ! এদেরকেই আবার মাঝে মাঝে দেখা যায় বাংলাদেশকে 'ব্যর্থ রাষ্ট্র' হিসেবে প্রমাণ করতে কালঘাম ছুটিয়ে ফেলেন। তাদের নেতৃরা দেশের বাইরে গিয়ে দেশের দূর্নাম করতে সিদ্ধহস্ত। অথচ অন্যদিকে মাদ্রাসার শিক্ষক বা ছাত্রদের কোনদিন দেখা যায়নি বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দিতে। এমনকি দেশের বাইরে গিয়ে দেশের নামে দূর্নাম রটানোতেও তাদের কোন ভূমিকা কোন কালেই ছিলো না।
তো যাই হোক, কথা হচ্ছে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ে। তথাকথিত প্রগতিশীলরা ও তাদের বিদেশী সাহায্যপুষ্ট মিডিয়া দ্বারা সৃষ্ট প্রচলিত ধারনা হচ্ছে মাদ্রাসায় সব অকাট মূর্খ আর বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ তৈরি হয়। কিন্তু দেখা গেল মিডিয়ার এই প্রপাগান্ডাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এই 'বোধশক্তিহীন জড়পদার্থ'রা ঢাকা ভার্সিটির মত বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের কঠিন ভর্তিপরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার মত যোগ্যতা অর্জন করে ফেলছে। তাদের কেউ কেউ নাকি আবার ঢাকা ভার্সিটির "গ" এবং "খ" বিভাগে প্রথম দ্বিতীয়ও হয়ে গিয়েছে। প্রপাগান্ডায় অশ্ব ডিম্ব প্রসবে ব্যার্থ হওয়ায় অত:পর বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করে এদের রুখাতে হয়েছে। সজীব ওয়াজেদ জয় তার আমেরিকান সেনা বন্ধুকে সাথে নিয়ে এখন আবার সেনাবাহিনীতেও এদের নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করেছেন। তারা এই বিষয়ে এতই মদদপুষ্ট ও আত্মবিশ্বাসী যে নির্বাচন হওয়ার এক মাস আগেই এই বিষয়ক খোলাখুলি ঘোষণাও দিয়ে ফেলেছেন।
তো আওয়ামীলিগের নেতৃত্বে 'A Secular Plan' এর অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার কার্যক্রমটা কতদূর পর্যন্ত বাস্তবায়ন হতে পারে তার একটা হিসেব করে ফেলি-
১) মাদ্রাসা ছাত্রদের সেনাবাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোন মাদ্রাসা ছাত্র সেনাবাহিনীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পায় তার ব্যবস্থা নেয়া হবে
২) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সকল পাবলিক বিশ্বিবিদ্যারয়ে মাদ্রাসা ছাত্রদের নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হবে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাদ্রাসার ছাত্রদের নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েও গিয়েছে।
৩) সকল সরকারী অফিস-আদালত মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য নিষিদ্ধ হবে। যারা ইতিমধ্যে মাদ্রাসা থেকে পাশ করে নিজ যোগ্যতাবলে ওখানে প্রবেশ করেছেন তাদেরকে কোন না কোনভাবে বহি:স্কার করা হবে।
৪) মাদ্রাসা ও এর সাথে জড়িতদের জন্য সরকারী সকল সুবিধা বাতিল করা হবে। এমনিক মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত করলেও আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু থাকবে না।
সর্বপরি মাদ্রাসা এবং মাদ্রাসার ছাত্রদের এদেশের যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত করার মহা-পরিকল্পনা নিয়ে আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।
কথা হচ্ছে কেন তাদেরকে এভাবে বঞ্চিত করা হবে? প্রাথমিক ভাবে বলা হচ্ছে মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা দুর্বল এবং এর মান উন্নয়ন করতে হবে। বেশীর ভাগ মাদ্রাসাগুলের শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে আমার মনেও প্রশ্ন আছে। কিন্তু এটা তো আমাদের জাতীয় বাস্তবতা। আমাদের মত দরিদ্র একটি দেশে এই বাস্তবতা কাটিয়ে ওঠা সত্যিই কঠিন। মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের সাধারণ শিক্ষার জন্য দেশজুড়ে যে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশও আশংকাজনক খারাপ। কিন্তু সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা আজ পর্যন্ত কেউ উচ্চরণও করেনি। শুধু মাদ্রাসা'ই তাদের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু! কেন?
আরো যুক্তি দেখানো হয় মাদ্রাসা থেকে টেরোরিস্ট তৈরি হচ্ছে.. তাই মাদ্রাসা শিক্ষা ক্ষতিকর। আমি দাবী করছি না যে মাদ্রাসার কেউ কেউ সন্ত্রাসী ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে না। কিন্তু এর জন্য তার মাদ্রাসা শিক্ষাকে দায়ী করাটা কতটুকু সাজে? বিশ্বের বেশীর ভাগ সন্ত্রাসী-ই কিন্তু মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত নয়। The New York Times এর The Madrassa Myth শিরোনামের লেখাটায় PETER BERGEN and SWATI PANDEY পরিষ্কার ভাবেই বলেছেন যে সাধারন স্কুল-কলেজ শিক্ষিতদের ভেতরেই সন্ত্রাসী বেশী। যারা দুই-একটি ঘটনা উল্লেখ করে গোটা মাদ্রাসা সিস্টেমটাকেই সন্ত্রাসী বানানোর কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন তারা কেন সাধারণ স্কুল-কলেজকে সন্ত্রাসী তৈরির কারখানা হিসেবে ঘোষনা করছেন না কেন সেটাই প্রশ্ন। যে অযুহাতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পক্ষে ঠিক একই কারণে কেন তারা সাধারণ স্কুল কলেজের ছাত্র/ছাত্রদের থেকে সকল নাগরিক সুবিধা কেড়ে নিতে চাচ্ছেন না?
এরকম অনেক প্রশ্নই তোলা সম্ভব। সবগুলো বিবেচনা করলে শিক্ষার মান, সন্ত্রাসবাদ ইত্যাদি কিন্তু ধোপে টেকে না। তাহলে মাদ্রাসার বিষয়ে তাদের ক্ষোভটা আসলে কোথায়?
এরজন্য আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষা চালুর ইতিহাসটা জানতে হবে। ইসলামের উপর ব্রিটিশ ও হিন্দুদের যৌথ আক্রমন থেকে মুসলিম প্রজন্মকে রক্ষার জন্যই মূলত মাদ্রাসা শিক্ষা চালু করা হয়েছিলো। সেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অনুগতরা এখনো মুসলমান ও ইসলামকে খেয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রত। এখন তারা এতটাই শক্তিশালী যে প্রকাশ্যে ইসলামকে শত্রু হিসেবে ঘোষনা করার দু:সাহস দেখাচ্ছে। বলা হচ্ছে, ইসলামই (Islamism) হচ্ছে বাংলাদেশের সংবিধান ও তার সেকুলার উপাদানের প্রধান বিপদ।
আর তাই মার্কিন সেনা কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোষনা দেয়া হয়- "বাংলাদেশের একমাত্র রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা তাঁর ভাষায় ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া।"
...(চলবে)..

Phonetic
ইনশাল্লাহ্, ইসলামের বিরুদ্ধে যেকোন আগ্রাসনের কঠোর জবাব দেওয়া হবে..।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের নিবন্ধের বেশ ভালই ব্যবচ্ছেদ চলছে...
আপনার কথায় অনেক যুক্তি আছে। কিছু ঘটনার জন্য সব মাদ্রাসাগুলো কে বাতিল করার কুনো মানে হয় না। "সেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অনুগতরা এখনো মুসলমান ও ইসলামকে খেয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রত" আপনি কি এখানে " হিন্দুদের " বলতে কি বুঝাতে চেয়েছেন? ভারত।
এটা বুঝতে হলে ইতিহাস সম্পর্কে আপনার কিছু ধারণা দরকার... এই উপমহাদেশের গত ২০০ বছরের ইতিহাস পড়ে নিতে পারেন।
আমার ঠিক জানা নেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কবে কোন মাদ্রাসা ছাত্র প্রথম হয়েছে। আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত শিক্ষা ব্যবস্হা মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা অনুসরন করেনা। তাহলে কেন ভর্তূকি দেওয়া সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সরকার তাদেরকে অধ্যায়ন করার সুযোগ দেবে ?
একমত।
ভাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তো মানুষ না। এদেশের জনগনের মাঝেও ওরা পড়েনা !
তাইনা?

?
ওরাতো কখনই এদেশে ভ্যাট ট্যাক্স দেয়নি !
১টি টাকাও সরকার অদের কাছ থেকে রাজস্ব হিসাবে পায়নি!
তাহলে কেন ভর্তূকি দেওয়া সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে সরকার তাদেরকে অধ্যায়ন করার সুযোগ দেবে ?
আপনি কি মনে করেন যে যারা সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়ার স্বপ্ন দেখে তাদের সবাই খুব গরিব ঘরের??????
সরকার ওর থেকে টাকা নিবে আবার ওকে পড়তে দিবেনা এ কেমন কথা?
যদি মনে না করেন তবে ওদের কে সুজোগ দিতে আপত্তি কোথায় বুঝলাম না!
আমরা মাদ্রাসা ছাত্রদেরকে কি বাংলাদেশের বাহিরের কেউ মনে করছি ?
মৌলবাদ নিয়ে আমরা বড় বড় কথা বলি মাদ্রাসা ছাত্র শিক্ষক দের মুন্ডু পাত করি
কিন্তু দেশের বিদ্দ্যাপিঠ গুলোতে মেধাবী ছাত্ররা নোংরা রাজনীতির শিকার হয়ে অকালে ঝরে যাচ্ছে
তার দিকে আমাদের কি বিন্দু মাত্র আগ্রহ নেই
বাহ
হায় সেলুকাস তোমার রাজ্যের সকলকে প্রজাদের তাদের সঠিক এবং গুরুত্বপুর্ণ সমস্যা গুলো বুঝার সামর্থ্য দাও ....................
আমিন................
বাংলাদেশে সন্ত্রাসী তৈরির সবচে' বড় দুইটা কারখানা হইল ছাত্রলীগ আর ছাত্রদল। এই দুইটা বন্ধের দাবী কেউ করে না।
বাংলাদেশের জেনারেল শিক্ষা ব্যাবস্থা কি স্বর্গীয় কোন শিক্ষা ব্যাবস্হা? এটা কি মান সম্মত? এখানে কি কোন সমস্যা নাই? আমি জেনারেল লাইনের ছাত্র হিসেবে এর অবস্হা ভালই জানি, এক কথায় লেজে গোবরে।
জয় এর কথায় ১টা এড: এর কথা মনে পড়ে গেলো "মাথা ব্যথা হইলে মাথা কাইটা ফালানো আর কি
"
স্বাধীনতার স্বপক্ষের
শক্তি বলে কথা 
জয় । ও তার মায়ের
রাজনৈতিক কর্তব্য বা তাদেঁর ভাষায় ‘A Secular Plan’ হচ্ছে ইসলামি রাজনীতির বা ‘ইসলামিজম’ ঠেকাতে বাংলাদেশে পরিপূর্ণ যুদ্ধে নেমে পড়া।
বাহ!বাহ!বাহ!বাহ!বাহ!বাহ!
দেশ প্রেমিক
ভাবার সময় এসেছে
ওরা আসলে চায় কি?
@কুয়াশা ভোর। আমার যতটুকু মনে পড়ছে, ২০০৬ সালের খ ইউনিট ভরতি পরীক্ষায় ২য় হয়েছিল মাদ্রাসার এক ছাত্র। ইউসিসির এক সংবর্ধনায় তাকে এটা নিয়ে ঠাট্টাও করা হয়।
মৌলবাদ যে বাংলাদেশে ধীরে ধীরে সমস্যা হয়ে উঠছে, আমার কোন সন্দেহ নেই। সাধারণ সন্ত্রাসী আর মৌলবাদীর ভেতর অনেক ফারাক। বাংলাভাই এর যে সব অনুগত শিষ্য ইসলাম রক্ষার তাগিদে বিচারক, আইনজীবী ও মানুষ হত্যা করে অবলীলায়, তাদের নিরাপদে রাখার জন্য "সেই ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ব্রিটিশ ও হিন্দুদের অনুগতরা এখনো মুসলমান ও ইসলামকে খেয়ে ফেলার প্রচেষ্টায় রত" বলে কল্পিত শত্রু খাড়া করে বাংলাভাইদের রেখে যাওয়া হিংস্র জঙ্গীদের পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের ভাবনা অবশ্যই ভিন্ন।
ভাই
"মৌলবাদ"
ঠেকানোর জন্য যে আমেরিকা থেকে সেনা আমদানি কোরতে হবে তা তো জানা ছিলোনা ।
আমরা সু সস্পস্ট ভাবে হিংস্র জঙ্গীদের বিরোধী ।
বাংলাদেশকে নিয়ে 'A Secular Plan' এর ভাবনা অবশ্যই আমাদের কি কাজে লাগবে সেটা একটু বুঝিয়ে বলেন
@নীলকমল
মৌলবাদী কারা এবং তারা কিভাবে ধীরে ধীরে সমস্যা হয়ে ওঠছে সেই বিষয়ে একটা বিস্তারিত পোস্ট দিয়ে ফেলুন। নাকি শুধু মিডিয়ার বানানো বায়বীয় মৌলাবাদী দৈত্তের পেছনে দৌঁড়াচ্ছেন?
তাছাড়া এই ইস্যুতে মৌলবাদী ধোঁয়া তোলার আগে দেশের দিকে তাকানো দরকার। 'মৌলবাদী' শব্দটা তার মূল বৈশিষ্ট হারিয়ে আমাদের এখানে একটা রাজনৈতিক টার্মস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সেক্যুলার গোষ্ঠী তাদের বিরুদ্ধ মতকে এখানে মৌলবাদী আখ্যা দিয়ে থাকে.. এখন এই বিরুদ্ধমতের কাল্পনিক মৌলবাদী ভূত তাড়াতে রাক্ষস খবর দিলে তো সমস্যা! মূল পয়েন্টটা বুঝতে হলে দলীয় স্বার্থের বাইরে এসে দেশের জন্য ভাবতে হবে।
১০০% ঠিক বলেছেন ত্রিভুজ ভাই
আমরা কিন্তু " মৌলবাদ " শব্দটাকে প্রকৃত অর্থে ব্যবহার না করে খারাপ অর্থে ব্যবহার করছি
যারা দেশ বিরোধী সন্ত্রাসী কাজে লিপ্ত তাদের আমরা এক কথায় সন্ত্রাসী বললেই হয়
খামাখা " মৌলবাদ " শব্দটাকে নিয়ে মাতা মাতি করছি কেন
আমরা আসলে মাথা ব্যাথা ভাল করার জন্য মাথা কাটার পরামর্শ দিছি
বিশাল গবেষনা
গবেষনা না ভাই অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ মাত্র
আলোক-উজ্জ্বল চমৎকার লেখা,
@ত্রিভুজ।
প্রেসিডেন্ট বুশ ও লাদেনের মুখোমুখি আলোচনার একটি ছবি দেখেছিলাম বেশ আগে। প্রসিডেন্ট বুশ তথা সাম্রাজ্যবাদীদের সাথে মৌলবাদীদের বিরোধকেই বরং রাজনৈতিক ধোঁয়া বলে আমার মনে হয়। সাম্রাজ্যবাদী বিরোধীদের শায়েস্তা করা বা দমন করার জন্য এই পাহারাদার দের ওরা পুষে থাকে। তবে মাঝে মাঝে তাদেরও মুখোমুখি হয়ে যেতে দেখা যায়, যেমন পোষা কুকুর পাগল হয়ে গেলে মনিবকেই তার বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিতে হয়। এখানে রাক্ষস মানে কাদের ডেকে আনার কথা বলছেন? আমেরিকা? আমেরিকা তো মৌলবাদীদের চেয়েও বড় বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।
মোল্লাদের প্রতি গভীর প্রেম না থাকলে, নাসারাদের হাত থেকে ইসলাম রক্ষা করার জন্য রগ কাটা, গলা কাটার ট্রেনিং না থাকলে আর ইসলাম চর্চা করার জন্য দাড়িতে মুঠি ভরিয়ে দিতে না পারার জন্য মুসলমানদের বেত মারার ট্রনিং না থাকলে বাংলদেশের মৌলবাদীদের ধারালো দাঁত চোখে না পড়ার কথা নয়।
মৌলবাদী ধোঁয়া? বায়বীয় দৈত্য?? কাল্পনিক ভুত??? মিডিয়ার বানানো??!! বড় নিজামীর সুর শুনতে পাচ্ছি অন্য আরেক নবীন নিজামীর কন্ঠে। বাংলাভাই, শায়ক আবদুর রহমানকে রক্ষার জন্য কিই না করেছেন আপনারা?? বাংলাভাই ধরা পড়ার আগেও ঠিক এই কথাগুলিই তো বলতেন, নাকি??
আর দয়া করে আমাকে আওয়ামী লীগের কথা বলবেন না, আওয়ামী অবশ্যই মৌলবাদী বিরোধী রাজনৈতিক দল নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও তারা আজ ধারণ করে না, যেমন বিএন পি করেনা, মুক্তিযুদ্ধের সুফলটাই (বিজয়) তারা ভোগ করতে চায়। হাসিনার পোষাক দেখুন, উনাকে কোন গনতান্ত্রিক দলের নেতা বলেও আমার মনে হয় না, শুধু মাত্র একজন তছবি গোনা মুসলমান মহিলা ছাড়া।
"শুধু মাত্র একজন তছবি গোনা মুসলমান মহিলা ছাড়া।"
এটি বললেও ভুল বলা হবে। সাধারণ মুসলমান মহিলাদের অপমান করা হবে। কারণ তারা অন্তত ভোট জয় করার জন্য হাসিনার মতো হঠাৎ হিজাব পড়েন না। বা কোরআন শরীফ নিয়ে ড: বদরুদ্দোজা চৌধুরি'র মতো লোক দেখানো তেলাওয়াত করেন না।
এমন কিছু ব্লগার আছে, যারা বিষয়বস্তু সর্ম্পকে না বুঝেই মন্তব্য করে। তাতে অনেক লেখার মূল তাৎপর্য ব্যহত হয়। তাছাড়া কেউ কেউ আছে কোন ভদ্রতার সীমারেখা মানে না। এখানে অনেকে আসে বয়স্ক ও তাদের বাপ-চাচাদের বয়সী। মতামতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। তাই বলে এতটা অসভ্য ভাষা! সেদিন দেখলাম বিডি আইডল কে একজন তুই-তোকারি করছে। যদিও বিডি আইডলকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনিনা। খুব খারাপ লাগলো আমাদের বর্তমান লগী-বৈঠা জাতীয় Secular স্বভাব দেখে। আমার কাছে মনে হচ্ছে বর্তমানে মানুষের মাঝে বিবেক বোধ লোপ পাচ্ছে। একরোখা একচোখা চিন্তা-চেতনার বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হচ্ছে তার ভিতর। সে কখোনই চিন্তা ও দূরদর্শীতার গভীরতায় যেতে পারছেনা ।
আপনার সুন্দর ও দূরদর্শী লেখার জন্যে ধন্যবাদ।
চমৎকার বিশ্লেষন। ফরহাদ মাঝারের আর্টিকেলটা পুরো পড়া হয়নি, অনেক বড় বলে ধৈর্য থাকে না। তবে প্রথাবিরোধী হিসেবে উনাকে আমি পছন্দ করি।
এবারে দু'-একটা কথা না বললেই নয়। আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যাবস্থা পশ্চাৎপদ, এটা অস্বীকার করার উপাই নাই, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এটার জন্য দ্বায়ী কে? আমাদের সর্বোচ্চ বরাদ্দকৃত শিক্ষাবাজেটের কতটুকু অংশ ব্যায় হয়েছে মাদ্রাসাশিক্ষার আধুনিকায়নে??
"মজার বিষয় হচ্ছে আমাদের সাধারণ শিক্ষার জন্য দেশজুড়ে যে হাজার হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোর শিক্ষার মান ও পরিবেশও আশংকাজনক খারাপ। কিন্তু সেগুলো বন্ধ করে দেয়ার কথা আজ পর্যন্ত কেউ উচ্চরণও করেনি।"---তবে এইটা হতেপারে একটা দারুন পাল্টা জবাব।
এবার আসি রাজনীতির ময়দানে, আমাদের এই পরিণতির জন্য দু'টো বড় দলের কেউই দায় এড়াতে পারবে না। আর আওয়ামীলীরের ব্যাপারেও একই কথা খাটে। আওয়ামীলীগ ঐতিহ্যবাহী সংগঠণ, তাদের গঠণতন্ত্রেও নিশ্চয়ই কোন খারাপ কথা লেখা না্য, কিন্তু প্রশ্ন হল প্রয়োগিক রাজনীতি আর পুস্তকে আবদ্ধ দলীয় সংবিধানের যে কতোটা ফারাক, এটা্তো আর গঠনতন্ত্রে লেখা নাই। ভাবতে অবাক লাগে, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দি, মাওলানা ভাষানীর মত নেতাদের আদর্শে যাদের আদর্শিত হওয়ার কথা ছিল, তারা কি-না কেবল নিজেদের দলী্য স্বার্থের জন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পিছপা হয় না, জোট সরকারকে ব্যার্থ প্রমাণ করতে গিয়ে আওয়ামী প্~রপাগন্ডায় বাংলাদেশকে বেশ কয়েকবারট আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ব্যার্থ রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হতে হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ একটা গণতান্ত্রিক দলের কাছথেকেকি আমরা দেশবাসী এ-ই আশা করি?!! ঢালাও ভাবে আমি কখনও কোনও রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করি না, কিন্তু দু:খিত, এগুলো না বলে পারলাম না।
রেড অক্টোবর এর সাথে দ্বিমত পোষন করার অবকাশ নাই
আপনাদের মত মানুষ থাকতে বিশ্বে ইসলাম কে রোখা যাবেনা। চাই ভিন্নধর্মীরা যতই অপছন্দ করুক। লেনিন টিচারের মন্তব্যগুলো খুব রূঢ়। ত্রিভুজ ভাই আপনার ভিতর অনেকে জামাত-ই ইসলামীর গন্ধ পায়। শুনে খুব খারাপ লাগল। আমি আপনার অন্যরকম ফ্যান।
@রিয়াদ
আপনার মন্তব্যের একটা ছোট্ট সংশোধনী:
উনার (ত্রিভুজ) ভিতর অনেকে জামাতের দুর্গন্ধ পায়।