মহাজাগতিক পথচারী

জানুয়ারি
১০

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও ইসলাম

পর্যবেক্ষন রাজনীতি চিন্তা ভাবনা ইসলাম

ইদানিং রাজনীতির অঙ্গনে যে শব্দগুলো খুব বেশি শোনা যায় তার ভেতরে একটি হচ্ছে "ধর্মভিত্তিক রাজনীতি"। সত্যি কথা বলতে কি, "ধর্মভিত্তিক" শব্দটার ভেতরেই একটু গলদ আছে। দুই কলম পড়াশোনা আছে কিন্তু 'ইসলাম' সম্পর্কে ধারণা ধোঁয়াটে এরকম যেকারোই "ধর্মভিত্তিক রাজনীতির" বিপক্ষে অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। এর কারণ অনুসন্ধান করতে হলে ধর্মের নামে যে অত্যাচার আর সন্ত্রাস খ্রিস্টানরা করে গিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। "মৌলবাদ" শব্দটার উৎপত্তি কোথা হতে তাও জানতে হবে। সেসব ইতিহাস লব্ধ জ্ঞান "ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি"-তে আমাদের উৎসাহ দেয়া তো দূরের কথা, বরঞ্চ রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাজনীতিতে ধর্মীয় মতবাদের প্রধান্য দেয়ার পথে বাঁধা হিসেবে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় ধর্ম ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার যেকোন অধ্যায় বিশেষ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা ভাবতেই অন্ধকার আর খারাপ একটি ব্যবস্থার চিত্র ভেসে ওঠার উপক্রম হয়। কোন একটি ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের ধর্ম থেকে বহুযোজন সরে এসে মনগড়া বিধানের দোহাই দিয়ে পৃথিবীতে কি অনাচার সৃষ্টি করেছিলো তা দিয়ে অনেক কিছু যেখানে বিচার করা হচ্ছে সেখানে ধর্মীয় মতাদর্শ থেকে দেশ পরিচালনা তো দূরের কথা ধর্মগুরুদের প্রাধান্যের কথা ভাবাটাই কষ্টকর। অথচ এই আমরা যদি জ্ঞান আহরনের পথে আরেকটু উদার হতে পারতাম, আরো অধিক জ্ঞান পিপাসা আমাদের থাকতো তা হলে নিঃসন্দেহে এক দলের সীমাবদ্ধতা ও ইতিহাস দিয়ে সামগ্রিক ভাবে ধর্মকে বিচার করতে যেতাম না। কোন এক ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী ও বিকৃতকারীদের সৃষ্ট নৈরাজ্য থেকে ধর্মভিত্তিক জুজুর সৃষ্টি হতো না।

ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে আবার ফিরে আসি। ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি করা যাবে কি যাবে না এই আলোচনা করার আগে ইসলামের সাথে রাজনীতির সম্পর্কে তা বুঝতে দুইকলম জ্ঞান আহরণ করা উচিত। রাজনীতির সাথে ইসলামের সম্পর্ক জানতে হলে যে জ্ঞান প্রথমেই অর্জন করতে হবে সেটি হচ্ছে, "ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা"। জীবনের এমন কোন দিক নেই যে-বিষয়ে ইসলামের দিক্‌-নির্দেশনা পাওয়া যায় না। প্রতিদিন সকালে ঘুমভাঙার পর থেকে ঘুমানো পর্যন্ত, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে পরিষ্কার গাইডলাইন প্রদান করা জীবন ব্যবস্থার নাম ইসলাম। রাজনীতি যেহেতু জীবনের বাইরের কোন বস্তু নয় সেহেতু পরিপূর্ন এই জীবন ব্যবস্থা রাজনীতিতেও আমাদেরকে পথ প্রদর্শন করে, করাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত না জেনে আসা সিদ্ধান্তগুলো ভুল হওয়াই স্বাভাবিক। কোন কিছু সম্পর্কে ভাসা ভাসা জ্ঞান থেকে কোন সিদ্ধান্তে আসা ও ইতিহাসের কিছু চিত্র দিয়ে সমগ্র মানবজাতির ইতিহাস ও ঘটনাকে মূল্যায়ণ করা বোকামী ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য হোক আর নিজেদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা থেকেই হোক আমরা বরাবরই এই বোকামী করে আসছি।

বিভিন্ন দিক বিচার বিশ্লেষণ না করলে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে অনেক যুক্তিই দাঁড় করানো সম্ভব। আমাদের ভেতরে বেশির ভাগই যেখানে নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনার উপরে ভরসা নেই, অন্যদের দেখে ও অন্যদের মাথাকে নিজের মাথা ভেবে তাদের কথাকে কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করেই মেনে নেয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠেছে সেহেতু এটা খুব স্বাভাবিক যে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে রায় দিচ্ছে। আগেই বলেছি, ইসলামী রাজনীতি কেন নিষিদ্ধ হওয়া উচিত না তা বোঝার জন্য ইসলাম আসলে কি এবং ইসলামের ব্যাপ্তি কতটুকু সেটা জানা জরুরি। আর যেহেতু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধকারীদের মিছিলের বেশিরভাগই হয় ইসলাম বিদ্বেষী অথবা ইসলাম সম্পর্কে প্রায় অজ্ঞ সেহেতু তাদের পক্ষে সত্যিকার অর্থেই বিষয়টা অনুধাবন করা কষ্টকর। খুব সহজ ভাষায় বিষয়টি তাদেরকে বোঝানোর জন্য বলা যেতে পারে যে- কমিউনিজম, সেক্যুলারিজম এবং আরো বিভিন্ন ধরনের মতবাদের ভিত্তিতে যেমন রাজনীতি হতে পারে তেমনি ইসলামি সিস্টেমেও তা করা যেতে পারে, কারণ ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা। সুতরাং অন্যসকল মতবাদের পাশাপাশি ইসলামি মতবাদও উপস্থান করার সুযোগ রাখতে হবে। মানুষের তৈরি বিভিন্ন মতবাদ যেখানে রাজনীতির হাতিয়ার হতে পারে তা হলে 'পরিপূর্ন জীবন বিধান' ইসলামও এই রাস্তায় তাদের সাথে পাল্লা দিতে পারে, পারা উচিত। রেসের ময়দানে কমিউনিজম আর সেক্যুলারিজমের ঘোড়ার সাথে ইসলামের ঘোড়াও পাল্লা দেয়ার অধিকার আছে। কোন ঘোড়া রেসে কেমন পারফর্ম করছে বা কোন ঘোড়া অধিকতর উপযোগী ও কার্যকরী সেটা রেসে নামার পর বিবেচনা করা যাবে। কিন্তু রেসের আগেই প্রতিপক্ষের ঘোড়াকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই সুস্থ্য চর্চা নয়।


২৯টি মন্তব্য

  • নীরব পথিক বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৮:৪২:৪৪

    কেমন আছেন ত্রিভূজ ভাই ??

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৯:০৮:১৯

    হ্যাঁ, এইতো ...কাটছে দিন ব্যস্ততায়। দুইদিন টানা জেগে আছি, তাই এই মূহুর্তে ঠিক বুঝতে পারছি না কেমন আছি। আশা করি আপনারা সবাই ভাল আছেন।

  • স্বপ্নবালক বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৮:৪৮:৪১

    মানুষের তৈরি বিভিন্ন মতবাদ যেখানে রাজনীতির হাতিয়ার হতে পারে তা হলে 'পরিপূর্ন জীবন বিধান' ইসলামও এই রাস্তায় তাদের সাথে পাল্লা দিতে পারে, পারা উচিত। রেসের ময়দানে কমিউনিজম আর সেক্যুলারিজমের ঘোড়ার সাথে ইসলামের ঘোড়াও পাল্লা দেয়ার অধিকার আছে। কোন ঘোড়া রেসে কেমন পারফর্ম করছে বা কোন ঘোড়া অধিকতর উপযোগী ও কার্যকরী সেটা রেসে নামার পর বিবেচনা করা যাবে। কিন্তু রেসের আগেই প্রতিপক্ষের ঘোড়াকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই সুস্থ্য চর্চা নয়।

    চমৎকার বলেছেন ত্রিভুজ ভাই। কেমন আছেন?

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৯:১০:০৩

    এইতো... কাটছে দিন .. আপনার খবর কী?

  • আলরাহিম বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৮:৫৬:৪৪

    দারুন লিখেছেন ভাইয়া।
    কেমন আছেন আপনি?

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৯:১১:৫০

    ধন্যবাদ আলরাহিম। ফেসবুকে সম্ভবত আপনার জন্মদিনের নিউজ দেখেছিলাম। উইশ করবো করবো করে কাজের ভেতরে হারিয়ে গেলাম, তাই বিলেটেড হ্যাপি বার্থডে।

  • বই পাগল বলেছেন ২০১০/০১/১০ ১৯:০৯:১১

    অথচ এই আমরা যদি জ্ঞান আহরনের পথে আরেকটু উদার হতে পারতাম, আরো অধিক জ্ঞান পিপাসা আমাদের থাকতো তা হলে নিঃসন্দেহে এক দলের সীমাবদ্ধতা ও ইতিহাস দিয়ে সামগ্রিক ভাবে ধর্মকে বিচার করতে যেতাম না।"
    আসলে সমস্যা হচ্ছে আমাদের অনেকের ভাবনা ধর্মকে রাজনীতির বাহিরে রাখতে পারলে আধুনিক হয়ে যাওয়া যাবে। ধর্ম পুরাতন বিষয়। একশ্রেণীর মিডিয়ার অপপ্রচারের ভক্ত হয়ে অনেকেই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে গেছে। কিন্তু এটা যে মহা মরিচিকা এটা তারা বুঝতে পারছে না।
    আমাদের ভেতরে বেশির ভাগই যেখানে নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনার উপরে ভরসা নেই, অন্যদের দেখে ও অন্যদের মাথাকে নিজের মাথা ভেবে তাদের কথাকে কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করেই মেনে নেয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠেছে সেহেতু এটা খুব স্বাভাবিক যে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে রায় দিচ্ছে।

    একটা দল দেখে তাকে ইসলামের প্রতিনিধি ভাবা মহা বোকামী। সুযোগ থাকলে ভাল ইসলামী দল আসবে। যারা মুসলিম হয়ে এই পথ বন্ধ করতে চায় তারা যে কত্ত বড় ঝুকিঁপূর্ণ, পরিত্যক্ত কাজের সাথে নিজেদের অন্তর্ভূক্ত করেছে তা বলাই বাহুল্য। তাদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করছি।

    রেসের ময়দানে কমিউনিজম আর সেক্যুলারিজমের ঘোড়ার সাথে ইসলামের ঘোড়াও পাল্লা দেয়ার অধিকার আছে। কোন ঘোড়া রেসে কেমন পারফর্ম করছে বা কোন ঘোড়া অধিকতর উপযোগী ও কার্যকরী সেটা রেসে নামার পর বিবেচনা করা যাবে।

    প্রতিযোগিতা থেকে বের করে দেওয়া ভাল কিছু না। আর আমাদের মাঝে কতগুলো না বুঝে নিজেরা আধুনিক সাজার জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আবারও বলছি আল্লাহ তুমি ওদের হেদায়েত দাও।
    সত্য কথা বলার সাহস থাকা উচিত। আর আমাদের দেশে এমন যে দল যে সিদ্ধান্ত নেয় তা ভুল হলেও আমরা মেনে নিয়ে এর ভালোর যুক্তি তুলে ধরি। যতদিন নিজেদের দলের সমালোচনা করার পরিস্থিতি তৈরি হবে না ততদিন বাংলাদেশের উন্নতি হবে না।


    ত্রিভুজ ভাই আপনার যুক্তিগুলো অনেক অনেক অনেক বাস্তবসম্মত।
    ধন্যবাদ এই সময়ে এরকম সুন্দর একটা পোস্ট দেওয়ার জন্য।
    অনেক বোকা ভাবে ধর্ম ভিত্তিক দলের পক্ষে যে কথা বলে সে ই কথিত মৌলবাদী একটা রাজনৈতিক দলের সমর্থক। এই ধারণা যে ভুল তা প্রমাণের সময় এসেছে।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২০:০৫:১৫

    মানুষ আর পশুর মাঝে সবচাইতে বড় পার্থক্য হচ্ছে মানুষের নিজস্ব চিন্তা চেতনা ও বিবেক আছে পশুর তা নেই। যারা এই চিন্তা চেতনা ও বিবেকের ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছে তারা নিজের অজান্তেই নিজেকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে।

    পড়া ও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ বই পাগল।

    আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০১/১১ ০০:৪৯:০৩

    আমার রিপ্লায়টা পড়ার আগে একটু নিজেকে ভেবে রাখুন যে আপনি কেবল এর দুর্বল দিক গুলো খুজে নিবেন না। কারন মাইন্ড সেট যদি হয়ে থাকে যে আমি যাই লিখেছি তা আপনার মতপুত হবে না । এবং আমার আগের লেখা গুলোর বিবেচনায় এনে যদি ভাবেন যে উনি তো বিপক্ষেই লিখবেন তাহলে কিন্তু আমার রিপ্লায়টা নেগেটিভই থেকে যাবে। তাই আগে বলে নিলাম একটু পজেটিভ দৃষ্টি ভঙ্গিনিয়ে পড়ুন-----

    "অথচ এই আমরা যদি জ্ঞান আহরনের পথে আরেকটু উদার হতে পারতাম" -----এই আমার শব্দের মধ্যে আপনাকে না ফেলে কিছু কথা বলেছি---কারন ধরে নিছি যে আপনি উদার এবং যারা এর বিপক্ষে বলছে তারা আপনার ভাষায় বিপদ গামী----
    প্রসংগ ক্রমে আপনার প্রোফাইল-- যেটা আমার খুব কাছের ----আমার বেড়ে উঠার সাথে সম্পর্কিত জায়গা- বলে--কিছু কথা বলতে চাইলাম যদি ও এটাকে নিছক যুক্ত খন্দন হিসাবে না দেখে আপনার যুক্তির পার্শ্বযুক্তি হিসাবে দেখতে পারেন------
    এর আগে একটু করে অনুরুধ রাখছি নিচে আমার কমেন্ট খানা পড়ার জন্য । কারন সেখানে কিভাবে আমার মনোজগতিক পরিবর্তন গুলো এসেছে তা জানিয়েছি--মানে একজন মধ্যবিত্ত মুসলিম ঘরের ছেলে কেন বলছে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির খারাপ ফলের কথা।

    @একশ্রেণীর মিডিয়ার অপপ্রচারের ভক্ত হয়ে অনেকেই ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে গেছে। কিন্তু এটা যে মহা মরিচিকা এটা তারা বুঝতে পারছে না।-----
    ---এটা ও ঠিক যে এক শ্রেনীর সঠিক প্রচারে( সঠিক হয়ত আপনার জন্য) আপনি ধর্মের পক্ষে গেছেন । ব্যাপারটা এমন যে আপনার মধ্যেও কিছু মাইন্ড সেট বিষয় কাজ করেছে ---যেমন আপনি হয়ত যে দলটা ইসলামী রাজনীতি বন্ধের দাবী তুলছে তাকে অপছন্দ করেন --
    তাই আপনার যুক্তির শাখা প্রশাখা গুলো সেদিকে গেছে যতটা না নিরেট যুক্তির সাথে বুঝা পড়া হয়ে আসেনি।
    ব্যাক্তিগত যদিও তবুও বলতেই হয় আপনি ইসলামী কোন দলের সাথে কি সম্পৃক্ত? শেষ প্যারার কথা ধরে ভেবে নিলাম না আপনি বাংলাদেশের কোন ধর্ম ভিত্তিক দলের সমর্থক নন। বেশ ভাল। কিন্তু মহা মরিচিকা যেটাকে এভয়েড করলে সেটা কেন আপনিও করতে গেলেন? আপনি কি চাননা দেশটা ইসলামী হুকুমতের দেশ হোক। আপনি কি চান না ইসলাম ইজ এ কোড অভ কন্ডাক্ট ফর লাইফ এর প্রায়োগিক বাস্তবায়ন? যদি চান তাহলে আপনার কনট্রিবিউশন কই? নাকি আপনিও নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনার উপরে ভরসা না রেখে যারা এর পক্ষে কথা বলেছে তাদের সাথে গলা মেলালেন যে এটা হলে জঙ্গী বাড়বে ---ঝুকিঁপূর্ণ, পরিত্যক্ত কাজের সাথে নিজেদের অন্তর্ভূক্ত করেছে ---সে আপ্ত বাক্য শুনালেন। আপনি একটা নিরাপদ দুরত্বে বাস করে বলছেন ----কোনদিকে অন্তরভুক্ত না হয়ে যে ইহা করা বেশ অন্যায়। যেটা আপনি করছেন না।আল্লাহর উপর আস্থা যদি থাকে তাহলে কেমনে বলেন যে "কেউ চাইলে ইসলামের গতি রোধ করতে পারবে।" নাকি তাদের মতই আপনার ও এই ব্যাপারে আস্থা কম ? যেখানে আল্লাহ বলেছেন আমি ইসলামের হেফাজত কারী। সেখানে কারো সাধ্য আছে সেটা নাড়ানোর?

    সুযোগ থাকলে ভাল ইসলামী দল আসবে। --- সুযোগ ছিল এবং আছে ইসলাম প্রচারের। আর কেন ভাবলেন দল আগে আসবে তারপর ইসলাম হবে। কেন ইসলামের প্রারম্ভের কথা ভুলে গেলেন? ইসলাম সমাজে প্রতিষ্টার আগে ব্যাক্তি জীবনে প্রতিষ্টার আগে কেন ক্ষমতায় প্রতিষ্টানে দেখতে চান। সমাজ থেকে দল হয়ে ওঠবে। সবার স্বর একই হলে তখনই তামাম ভষ্ট ধবংস হবে।

    অন্যদের দেখে ও অন্যদের মাথাকে নিজের মাথা ভেবে তাদের কথাকে কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করেই মেনে নেয়ার অভ্যাস গড়ে ---- এই জিনিসটা আপনার মধ্যে ও যে আছে সেটা দেখেন নাই । আপনি ও অন্যের মাথা থেকে জেনেছেন। আর আমি অন্তত কারু জানার পরিধি নিয়ে তাচ্ছিল্য করি না। খেয়াল করে যদি থাকেন বিভিন্ন জায়গায় আমার কমেন্ট গুলো তাহলে আমাকে নিশ্চয় বুঝে নিতে পেরেছেন। আরেকটা কথা এখানে অপ্রাসংগিক যদিও----একজন মুসলমান ঘরের মানুষের জন্য মুসলমান হওয়া যতটা সহজ বা ধর্মিক হওয়া যতটা সহজ ততটা কিন্তু এর বাইরে যাওয়া সহজ নয় । বাইরে যেতে হলে তাকে প্রচুর জানার দরকার পড়ে, সাহসের ও দরকার---- এদের মেধাকে প্রথমেই আপনি কু মেধা হিসাবে উড়িয়ে দেয়া কিন্তু জ্ঞান আহরনের যে উদার মানসিকতার কথা বলেছেন সেটার সাথে সাংঘর্ষিক।

    আর আমাদের মাঝে কতগুলো না বুঝে নিজেরা আধুনিক সাজার জন্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে কথা বলছে। --------------->
    আপনি নিজে নিজে বুঝেছেন বলে রায় দিলেন ---সেটা কিন্তু সুন্দর বিতর্কের সুত্রপাতে নান্দনিক নয়। একই দেশে বড় হয়ে আপনি বুঝে ফেলেছেন সে বুঝল না ----ব্যাপারটা বেশ কৌতুহল উদ্দিপক। আসলেই সবাই কি সমান ব্রেইনের অধিকারী।

    ঘোরার রেসের কথা নিচে ও বলেছি আবারো বলেছি
    চাইনা আমার ধর্মকে ঘোড়ার রেসে তোলোক কোন ভুল ঘোড় সওয়ারী।
    চাইনা আমার ধর্মের ঘোড়া হেরে যাক ডাস ক্যাপিটালের কাছে।
    ইসলাম বিস্তার হয়ে আসুক সমাজের তৃণ মুল থেকে ---আগে ক্ষমতা তারপর ইসলামী শাসন সেটা চাপিয়ে দেয়ার মতই হবে এই সেমি সেকুলার দেশের জন্য।

    বলি একটা মাঝামাঝি জায়গায় থেকে বেশ গুছিয়ে কিছু তথ্য ছড়ানো যায়। ইসলামী দল চাইলে ইসলামী দলের সাথে সম্পৃক্ত হোন সবাই। পরিপুর্ন ইসলামী রাষ্ট্র বানাই । আসুন বসি কেমনে করা যায় হুকুমতের রাষ্ট্র। কি ভাবে প্রয়োগ করা যায় ইসলামী বিধান গুলো সেটা দেখি। আমাদের কালচারটা ইসলামী করে ফেলি। আপনি বদলান-- আমি বদলাই সমাজ বদলাক। নিজের সাথে বুঝা পড়া দরকার আগে। পুর্ন ইসলামী সমাজ জীবেনের জন্য আপনি কতটুকু উপযুক্ত? কতটুকু মোমিন হয়েছি হতে পেরেছি? যা চলছে চলুকনা বলেতো বসে থাকা যায় না । ইসলাম কায়েমে দেরী করলেতও আল্লাহ মাফ করবে না। বর্তমান ইসলামী দল গুলোর খারাপ দিক গুলোর কথা আপনিও মেনে নিয়েছেন। তাহলে তাদেরকে আরো দিবেন ধর্ম নিয়ে ব্যবসার এজেন্সি? নাকি কেড়ে নিবেন? নেয়া উচিত নয়কি? নাকি পত্রিকার মধ্য পন্থি কলামিষ্টের ভাষায় বলবেন দেশে শুধু শুধু একটা বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা। যেটা আপনিও বলেছেন খারাপ সেটার মুল উৎপাটন জরুরী। ইসলাম চাইলে সম্পুর্নই চাইতে হবে---কেবল যারা এর বিরুধিতা করছে তাদের মুখে কিছু বলে দিলেন তাতে একজন মুসলমানে দায়িত্ব শেষ না। এখানে ব্যাপারটা হয়েছে সরকার দলকে যাদের পছন্দ নয় তারা একটা যুক্তি খাড়া করছে কেবল। প্রকৃত ইসলাম প্রেমী হিসাবে নয়। প্রকৃত ভাবে ইসলামী হুকুমতের রাষ্ট্র হিসাবে ও নয়। আর প্রকৃত ইসলামী রাষ্ট্রের রূপরেখাও অনেকের কাছে ষ্পষ্ট নয়।

    বই পাগল বলেছেন ২০১০/০১/১১ ১৭:৩৬:৪১

    প্রথমেই এরশাদ ভাই, আমি একটা কথা বলে নিই আমি অনেকটা মূর্খ প্রকৃতির। আপনার মত এত জ্ঞানগর্ভ আলোচনার সক্ষমতা আমার নেই।
    আমার প্রোফাইল সম্পর্কে পড়ছেন দেখে ভাল লাগল। তবে আমাদের অর্থনীতি বিভাগের মধ্যে আমি সে কমজনের একজন যে কখনো বায়তুল মালের চাঁদা দিই নাই। তবে হয় কি এই কলেজে পড়তে গিয়ে রাজনৈতিক সংঘঠনের চাপে পড়ে ইসলামী দলগুলোর প্রতি ভক্তিই উঠে যায়। সেরকম অনেক বড় ভাইকে দেখেছি।
    ইসলাম চাইলে সম্পূর্ণ চাইতে হবে, অল্প চাইলে হবে না, এই যুক্তি তারাই দিচ্ছে যাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যায়। ধরেন বন্যার সময় সাহায্য দরকার। এখন বন্যার্তদের সংখ্যা দেড় লাখ। সাহায্য আসছে অপ্রতুল। বেশি হলে দশ হাজারের জন্য হবে। খেলে সবাই খাবে না খাইলে কেউ খাবে না এ যুক্তিতে ঐ সাহায্য গ্রহণ থেকে বঞ্চিত থাকা কি ঠিক হবে? তবে বন্যার্ত যারা পাবে না এই আশঙ্কা করে তারা কিন্তু এটাতে সমর্থন দিবে এবং তারাই এর পক্ষে থাকবে। কিন্তু খোলা চোখে এটা কিন্তু ভুল যুক্তি।
    আল্লাহর প্রতি আপনার আস্থা দেখে খুব ভাল লাগল। তবে আপনার আস্তা কি সেরকম না, একজন খুন করল। এখন বিচার করা হবে। খুনী সেখানে বলল, আল্লাহ তো বলছেন তার নির্দেশ ছাড়া একটা পাতাও ছিড়ে না। এখন খুনটাও আমি আল্লাহর নির্দেশে করছি। আমি কেন শাস্তি পাবো?
    সব কাজে কি আল্লাহকে এরকম বিশ্বাস করেন? করলে ................................
    আপনি যেটা আমার মধ্যে আছে বলছেন, সেটা অনেকাংশে ভুল। নিজ পক্ষের ভুল আমি মেনে নিই না। আর মুসলিম পরিবারে জন্ম নিলে সে বিষয়ে জ্ঞান আহরণের কথা বলেছেন, আপনার কথা
    আরকেটা কথা এখানে অপ্রাসংগকি যদওি----একজন মুসলমান ঘররে মানুষরে জন্য মুসলমান হওয়া যতটা সহজ বা র্ধমকি হওয়া যতটা সহজ ততটা কন্তিু এর বাইরে যাওয়া সহজ নয় । বাইরে যতেে হলে তাকে প্রচুর জানার দরকার পড়,ে সাহসরে ও দরকার---- এদরে মধোকে প্রথমইে আপনি কু মধো হসিাবে উড়য়িে দয়ো কন্তিু জ্ঞান আহরনরে যে উদার মানসকিতার কথা বলছেনে সটোর সাথে সাংর্ঘষকি।
    নাস্তিকের যুক্তি সব সময় বেশি থাকে। ঐগুলো খুঁজাকে কেউ যদি মনে করেন জ্ঞানের সমৃদ্ধি তাহলে আমার বলার কিছু নাই। আল্লাহ অনেক কিছু রহস্যময় করে রাখছেন। যা দেখি নাই তা মিথ্যা এই ধরণের নীতি নিয়ে অনেক কথা বলা যায়।
    প্রকৃত ইসলাম পাইতেছি না। এজন্য ইসলামী দলকে রাজনীতির সুযোগই দিবো না এটা হচ্ছে সে বাবার মত যে বাবা ছেলে পরীক্ষায় ফাস্ট হচ্ছে না এজন্য ছেলেকে মেরে ফেলছে। প্রথম হয় না, ছেলে রেখে কি লাভ।
    প্রতিযোগিতার কথা বলছিলেন ত্রিভুজ ভাই। হারুক তারপরও প্রকাশ্যে অস্তিত্ব থাকুক নাস্তিকতাবাদীদের বিরুদ্ধে।

    আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০১/১১ ২৩:০২:০০

    একটা সম্পুর্ন সিষ্টেম এবং বন্যার সংখ্যা তাত্বিক সাহায্য কি এক? মৌলিক সংখ্যা আর যৌগিক সংখ্যার মিল কেবল তারা দুটিই সংখ্যা। আমি এই অর্থে বলেছি যে আমাদের অনেকের মানসিকতা এই যে ইসলামী দল থাকুক কিন্তু আমি উহাতে থাকব না মাঝামাঝিএকটা জায়গায় দেখে যাই।
    আওয়ামীলীগ বিএনপি উভয় দলেই আছে । কারনটাও স্বাভাবিক কারন আমরা যতটানা ধার্মিক তার চেয়ে ধর্ম ভিরু।
    ২য় যেটা বলেছেন আল্লাহ ইসলামের হেফাজত কারী। সেখানে আপনার উদাহরনটি বেশ সুন্দর হয়েছে। একজন খুন আর সম্পুর্ন ইসলাম এক করে দেখলে কি হবে। আল্লাহ না চাওয়া পর্যন্ত কি একটা রাষ্ট্র হতে পেরেছিল? আগের আর একটি পুষ্টে উদাহরন হিসাবে দিয়েছিলাম---মুতার যুদ্ধের কথা ---আল্লাহর কুদরতী ছিল বলেই মুসলমানরা অল্প শক্তি নিয়ে সে যুদ্ধ জয়লাভ করে। তেমনি আবাবিল পাখির পাথর নিক্ষেপকেও।
    বিপক্ষের যুক্তি পড়লেই যে নিজের ঈমান ক্ষতি হবে এমন নয়। অনেক বড় বড় ইসলামী চিন্তাবিদগন নাস্তিকদের যুক্তির জবাব দিয়েছেন তাদের যুক্তি পড়েই। এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা প্রশ্ন তোলায় ব্যাখ্যা প্রমানে ইসলামের যুক্তি গুলো আরো দৃঢ হয়।

    আর বাংলাদেশের প্রেক্ষপট খুব ভিন্ন--

    বেশীর ভাগ ধর্মপন্থী দল গুলো ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল । আর যেহেতু তারা প্রকাশ্য নিজ দেশের জন্মের বিরুধিতা করেছিল তাই স্বাধীনতা পরবর্রতী এই নায্য দাবী উঠে যে তাদের দল নিষিদ্ধ করতে হবে।
    আর তারাতো ঘোড়ার রেসে তখনি হেরে গেছে---হারিয়েছে নৈতিক অধিকার।তাদের সেই সময়ের পশু আচরন এখনো দগদগে জীবন্ত


    পৃথিবীর যে কোন সরকারই সেই সময় সেটাই করত। এমনকি বিএনপি আমলে হরকাতুল জিহাদ নিষিদ্ধ কেন হয়েছে? ঐ একই দেশ দ্রোহীতার জন্য। তাই আমার মনে হয় আপনি ও একমত হবেন যে যে দলগুলো স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরুধিতা করেছে সে দল গুলো নিষিদ্ধ থাকা উচিত। এইটুকু আবেগীতো বাংলাদেশের মানুষেরা হতেই পারে। তাই না?
    যদিও যে অর্থে আইনমন্ত্রী বলেছে যে ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি সেটার কিছুই হবে না। বড়জোর দল গুলো তাদের নাম চেন্জ করবে। তবুও আমরা বিচার বিশ্লেষনে ফানা ফানা হয়ে যাচ্ছি।

    ইসলাম কায়েম কিভাবে হওয়া উচিত সেটা কি সংক্ষেপে একটু বলবেন---মানে আগে ক্ষমতা গ্রহন তারপর সামাজিক বিস্তার নাকি সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড আগে তারপর রাষ্ট্র পরিচালনা---প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ।---
    ধন্যবাদ রেসপন্সের জন্য।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:২১:৫৬

    অনেক আলোচনা হচ্ছে দেখছি। অফিসের কাজের চাপে ব্লগে সময় দেয়া কঠিন। তবু দেখি আজকে সময় বের করতে পারি কিনা। আর এরশাদ ভাই, আপনি সম্ভবত লেখাটা ভাল করে পড়েননি। এখানে ইসলামিক কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি করার অধিকার বিষয়ক আলোচনা হচ্ছিলো। ইসলামিক রাজনীতি ভাল না সেক্যুলার রাজনীতি ভাল, কোন দেশে ইসলামিক রাজনীতি কারা করছে বা কিভাবে করছে বা কিভাবে করা উচিত সেসব পরের টপিক। আলোচনায় প্রাসঙ্গিক আর একাডেমিক থাকা উচিত।

    যাই হোক, সময় করে এই বিষয়ে বিস্তর আলোচনা করতে হবে। আপাতত ধন্যবাস সবাইকে আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য।

  • রঙ্গীলা বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২০:১০:৫৬

    সালাম ভাই। কেমন আছেন?
    ভাল থাকুন।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২০:২৪:৪৪

    ওয়ালাইকুম আসসালাম। আপনিও ভাল থাকুন।

  • মুরুব্বী বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২০:২৫:৫৫

    কোন ঘোড়া রেসে কেমন পারফর্ম করছে বা কোন ঘোড়া অধিকতর উপযোগী ও কার্যকরী সেটা রেসে নামার পর বিবেচনা করা যাবে। কিন্তু রেসের আগেই প্রতিপক্ষের ঘোড়াকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই সুস্থ্য চর্চা নয়।

    বন্ধু ত্রিভুজ,
    আমি আপনার কথায় বা লিখায় যেটা এসেছে
    পূর্ণ সহমত পোষন করছি।
    ধন্যবাদ।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:৩৫:১১

    ধন্যবাদ মুরুব্বী।

  • সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২০:৩২:১৮

    অধিকাংশ মুসলিম এটা ভুলতে বসেছেন যে 'ইসলাম' শুধুই ফেইথ সিস্টেম নয়, রিলিজিয়ন নয়, এটি একটি কোড অভ কন্ডাক্ট ফর লাইফ। এটা যতদিন তারা না বুঝবে ততদিন এই বিরোধিতা চলবেই।

    এর দায়িত্বও ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে নিতে হবে, তারা প্রচলিত রাজনীতি না করে মুসলমানদের ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্দ্যোগ আগে নেয়া দরকার। কাজেই মুসমানেদের অজ্ঞতা যেমন আছে, ধর্মগুরুদের চরম ব্যর্থতাও আছে।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:৩৬:১২

    সহমত। সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।

  • আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২১:১৭:৫০

    দুই কলম পড়াশোনা আছে কিন্তু 'ইসলাম' সম্পর্কে ধারণা ধোঁয়াটে এরকম যেকারোই "ধর্মভিত্তিক রাজনীতির" বিপক্ষে অবস্থান থাকা স্বাভাবিক। ------

    তাহলে কি ধরে নিলাম যারা এর পক্ষে আছে তাদের পড়াশুনা কয়েক হাজার কলম আর ইসলাম সম্পর্কে পান্ডিত্য পুর্ন ধারনা রাখেন? কেন এমন মনে হল ?
    মজার ব্যাপার হল এই ব্যাপারটা দুর্বল যুক্তিহীনরা করে থাকে । আমিতো কখনো বলতে পারি না দুনিয়া বা ইসলাম সম্পর্কে ইসলামের প্রায়োগিক দিক সম্পর্কে আপনার ধারনা যথেষ্ট নয়।
    মনে রাখা উচিত আপনি যে লাইব্রেরীতে পড়েছেন ব্লগিং করতে এসেছে তারাও একই লাইব্রেরীতে একই আলো বাতাসে বড় হয়েছে----আর এটা ভাবা দরকার যে বিশেষ করে যারা ব্লগিং করে তারা এত কম জেনে ব্লগিং করতে আসে না । যেমন আপনি একটা পোষ্ট দিছেন অনেক কিছু জেনে দিছেন আপনার সাইড থেকে তাই নয় কি? আর কেউ কমেন্ট করলে সে ও কিন্তু তার জায়গায় কিছু জেনে দিচ্ছে। সেখানে যদি বিপক্ষবাদী মানুষটাকে বলা হয় দু কলম জানা তাহলে লিখকের অন্তসার শুন্যতা প্রকাশ পায়।

    সামুর পোষ্টেও বলেছি
    আর ইসলাম আর রাজনীতি এসবের সমসলোচনা করতে গেলে প্রথম যে গালিটা আসে সেটা হল অমুকের ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতার ফলে এই কথা বলেছে----আর ধর্মপক্ষীয় মানুষটি মনে করে তার জানা জিনিসটা পারফেক্ট----আর বিপক্ষ পথ ভ্রষ্ট---
    সুবিধা হল যিনি ধর্মের পক্ষে কথা বলেন ----এখন মোটামোটি আস্তিক একজন মানুষ ইসলামের রাজনীতির ব্যাপকায়ন কেন জরুরী নয় ----সেটা বলতে গেলে -----ধর্মের সম্পুর্ন বিপক্ষে গিয়ে যুক্তি দিতে পারেনা তাকে যুক্তি দিতে হয় রয়ে সয়ে----

    রাজনীতির সাথে ইসলামের সম্পর্ক জানতে হলে যে জ্ঞান প্রথমেই অর্জন করতে হবে সেটি হচ্ছে, "ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা"। --------
    বাংলাদেশে লিডিং দেয়া ইসলামী দলের যে কোন একটার কর্মী হিসাবে বা তাদের অধিকৃত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ হিসাবে খুব অল্প বয়সেই হাতে পেয়ে যায় ইসলামী সংগঠনের দাওয়াত পত্র। এবং অন্য কোন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে জামাই আদর সুলভ এমন দাওয়াত না পাওয়ায় ইসলামী সংগঠনটির প্রতি একটা মোহ জন্মে এবং যে বয়সে একজন কিশোরের সংগঠন প্রীতি জন্মে সেই বয়সেই কিন্ত আমি দাওয়াতটা পাই-----বেশ । পুস্তিকা বই লিফলেট মিটিং এ মনোযোগ এবং উৎসাহের সাথে শুনছি উদ্দ্যম নিয়ে অন্য বন্ধুদের দাওয়াত দিচ্ছি। সে সময়ে যদি ও বুঝতে পারিনি কিন্তু আজ বুঝতে পারছি যে "ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা" এটা অনেক বার শুনেছি এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই রাজনীতিতে ইসলাম আছে বা ইসলামে রাজনীতি জায়েজ আছে সেটা প্রকাশে। যতটা না তারা জীবনের আরো অনেক বিধান আছে সে গুলো উন্নতির দিকে নজর দিত তার চেয়ে বেশী বলত "ইসলাম একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা" এর মধ্যে রাজনীত আছে রসুলের জীবন পর্যালোচনা করলেও দেখা যাবে পুরাটাই রাজনীতিক জীবন। সে সময়ের মনোযোগী শ্লোতা আজকে বসেছি অনেক হিসাবে ,চোখ কান খোলা রেখছি । শুধু তাদের কথা, সাঈদী সাহেবের কথায় কান কাঁড়া করে রাখিনি। নিজের পড়াশুনার বিষয় ও রাজনীতি বিজ্ঞান তাই বসেছি অনেক বিশ্লেষনে । বসেছি নিজের প্রান প্রিয় ধর্ম নিয়ে তার বিশ্লেষনে । দেখতে শুরু করলাম এর প্রায়োগিক দিক। অনেকতো শুনলাম দেখলাম কিন্তু এখনতো এপ্লায় এর দরকার। কই
    পেলামনা পুর্ন জিবন বিধান পালনের পুর্ন মানুষ । দেখলাম সামজিক বিস্তারের চেয়ে তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রিক বিস্তার, ব্যাক গ্রাউন্ড এর কাজ না করে কর্মীদের নৈতিক ভাবে সৎ না করে শুড়ু করে দিল জনপ্রিয়তা যাচাই আজকে অমুক দলতো কালকে অমুক দলের লেজুড় ভিত্তি। খুব কাছ থেকে দেখলাম তাদের সাথে ইসলাম নামটা যুক্ত থাকায় বেশ সুবিধা জনক ভাবে আছে। চরিত্রের নৈতিক ভিত্তর চেয়ে প্রভাবশালী হওয়ার মানসিকতা প্রবল। এখন আপনি বলতে চাইবেন তাদের দোষের কারনে কি ইসলাম দোষের হতে পারে? না ভাই। এর পরে আমি ভাবলাম ঠিক আছে অন্যন্য দেশে দেখি । কই দেখলাম নাতো সেই খোলাফায়ে রাশেদিন ম্য় ইসলামী জৌলুস। এতে হলাম দিন দিন হতাশ। কারন তাত্বিক বিষয় নিয়ে আমি কি করব প্রায়োগিক দিকটাই যদি না দেখি। যদি না দেখি বলা তত্ব বা বিধান গুলো বাস্তবায়নে কান্ডারী নেই। যারা আছে তারা ইসলামী নাম বেঁচে খায়। ইসলামী ব্যাংকের ডিরেক্টর হয়। ইসলাম নাম থাকায় অন্য দলের চেয়ে বেশী সুবিধা আদায় করে। ঘোড়ার রেসে বাঁশি দেয়ার আগেই থাকে অন্যদের চেয়ে সুবিধা জনক অবস্থানে। কারন সবার মেনিফেষ্টু নিয়ে সমালোচনা করা যায় কন্তু তাদেরটা নিয়ে অন্যকেউ টু শব্দটি ও করতে পারবে না। ধর্মপ্রান মানুষ গুলোকে দিচ্ছে ধোকা বেহেস্তর টিকি ক দেয়ার নামে ভোট আদায়। নাসির গ্রুপ, হাবিব গ্রুপ নামক ক্যাড়ার বাহিনীর মাধ্যমে এলাকা দখল। কই ইসলামের প্রসারতো এভাবে হবার কথা নয় ? ইসলামের প্রসারতো একে একে বহু জন হতে হতে রাস্ট্রিয় পর্যন্ত যাওয়া। আগে ক্ষমতা দখল তারপর সামজিক ভাবে ইসলাম প্রতিষ্টা এটা আমি মানতে পারছিনা ...।এই মানতে না পারার কারনে দেশে দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদের লেলিহান শিখা দেখে দেখে বাংলাদেশের হরকাতুল, বোমা ফাটা ইত্যাদি বিষয় আমাদের ঘর পুড়া গরুর সিঁদুর দেখার মত বলতে ইচ্ছে হচ্ছে ধর্মীয় রাজনীতির রাষ্ট্রিয় পৃষ্ট পোশকতা চাই না।


    চাইনা আমার ধর্মকে ঘোড়ার রেসে তুলোক কোন ভুল ঘোড় সওয়ারী।
    চাইনা আমার ধর্মের ঘোড়া হেরে যাক ডাস ক্যাপিটালের কাছে।
    ইসলাম বিস্তার হয়ে আসুক সমাজের তৃণ মুল থেকে ---আগে ক্ষমতা তারপর ইসলামী শাসন সেটা চাপিয়ে দেয়া হবে এই সেমি সেকুলার দেশের জন্য।



    প্রসংগ ক্রমে ---তাহলে আমিতো মুসলমান ---আমি ও চাই জীবনের সব ক্ষেত্রে ইসলাম চলুক।
    তাহলে কিভাবে কায়েম হবে ---আপনার পোষ্টে করা ম্যাকানিকের মন্তব্য পাঠকের জন্য দিলাম----
    সলাম যেভাবে শুরুতে কায়েম হয়েছিলো ঠিক সেইভাবে।
    নবী মুহাম্মদ (সাঃ) যেইভাবে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে গেছেন ঠিক সেইভাবে।
    সাহাবী (রাঃ) রা যেইভাবে নিজেদের জীবন ও পরিবারকে ইসলামের সুশিতল ছায়া তলে এনে নিজেদের একজন উদাহারন হিসেবে রেখে গেছেন ঠিক সেইভাবে।
    আজকে আপনি যুবক ত্রিভুজ একজন ইমানদার মুসলমান হলেন এবং সিনসিয়ারিটির সাথে ইসলাম পালন করে বিয়ে করলেন পরিবার পরিজন নিয়ে আবারো সিনসিয়ারিটির সাথে ইসলামের হুকুম আহকাম পালন করলেন আপনার দেখা দেখি আপনার প্রতিবেশিও ইসলামের প্রতি অনুরাগি হলেন তারাও একসময় বেশ সিনসিয়ার হয়ে গেলেন একসময় দেখবেন পুরা মহল্লা আপনার মত বা আপনার চাইতেও বেশি দ্বীনদার মুসলমানে ভরে গেছে এইভাবে ক্রমান্বয়ে পুরা রাস্ট্র ভালো সৎ ইমানদার মুসলমানে ভরে গেল তারপর এই আপনিই যদি রাস্ট্র ক্ষমতায় যান আপনি কি কোনো আন ইসলামিক কাজ সমর্থন করতে পারবেন।
    পারবেন না কারন ততদিনে সব্বাই আপনার স্ট্যান্ড্যার্ড অনুযায়ী মুসলমান হয়ে গেছে।
    শুধু জামাতে ইসলামী না ইসলাম ধর্মের নামে রাজনীতি করে ক্ষমতা দখল করতে চাওয়া আমি জঘন্যতম একটা কাজ হিসেবে মনে করি ।
    কারন
    তোমরা ধর্মকে স্বল্প মুল্যের বিনিময়ে বিক্রি করো না
    আর রাজনীতির মাধ্যমে ইসলামের বিনিময়ে একটা ভোট কেনা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:৫৭:৩৩

    প্রথমেই আপনি বিষয়টাকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পক্ষে যারা আছে তাদের হাজারকলম পড়াশোনা আছে এমনটা আমি দাবী করিনি। বরং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বিরুদ্ধে না জানা মানুষের কিছু বৈশিষ্ট তুলে ধরেছি মাত্র। লক্ষ্য করুন, আপনি যে ম্যাকানিকের বক্তব্য কোট করেছেন সেই ম্যাকানিক কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে না। যেমন তিনি মাজহাবকে রাজনীতির সাথে গুলিয়ে ফেলেছেন। এছাড়াও তার বক্তব্যে অনেক অসঙ্গতি আছে কিন্তু আপনার কাছে তার বক্তব্যকেই সঠিক মনে হচ্ছে। অজ্ঞতা বা ধোঁয়াটে জ্ঞানের কারণেই এরকমটা হয়ে থাকে।

    আর একটি কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি করা যাবে কি যাবে না টাইপ আলোচনায় কারা কি করছে সেগুলো বলা নিতান্তই অপ্রাঙ্গিক। মূল আলোচনাকে পাশকাটাতে লোকজন এটা করে থাকে। সামহোয়্যারইনে এধরনের উদাহরণ বেশি পাওয়া যায়। আপনাকেও ঐ পথে যেতে দেখে কিঞ্চিৎ হতাশ হয়েছি। সামহোয়্যারইনের শেষের দিকের কয়েকটি প্রশ্ন আর জবাব দেখতে পারেন-
    http://www.somewhereinblog.net/blog/trivuzblog/29075461

    ভাল থাকুন।

  • তুস বলেছেন ২০১০/০১/১০ ২৩:৩৯:৪৬

    ধন্যবাদ ত্রিভুজ ভাই

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:৩৪:২৮

    আপনাকেও ধন্যবাদ।

  • মোহাম্মদ রাসেল বলেছেন ২০১০/০১/১১ ১২:২৮:৩৮

    ধন্যবাদ ত্রিভুজ ভাই চমতকার পোষ্টের জন্য।

    ত্রিভুজ বলেছেন ২০১০/০১/১২ ১২:৩৬:৫৩

    পড়ার জন্য আপনাকেও ধন্যবাদ।

  • শামান সাত্ত্বিক বলেছেন ২০১০/০১/১২ ২১:৫৫:৩২

    আশম এরশাদের মন্তব্যের উত্তরে দেখলাম, আপনি বললেন, "এখানে ইসলামিক কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি করার অধিকার বিষয়ক আলোচনা হচ্ছিলো।" আমিও চেষ্টা করবো আপনার "ইসলামিক কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি করা"-র দিকে ফোকাস রেখে আলোচনার করার, আপনার এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে।

    আমার জানামতে বাংলাদেশে ইসলামিক কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি তো '৭১-এর অনেক আগেই হয়েছে। তাই নয় কি? এখন আবার নতুন করে তা বলা হচ্ছে দেখে একটু আশ্চর্য হচ্ছি। '৭৫ পরবর্তী থেকে তো বাংলাদেশে ইসলামিক কনসেপ্ট নিয়ে রাজনীতি শুরু হয় নি। তাই আপনার উপসংহারের বক্তব্য দেখে একটু আশ্চর্যই হলাম:

    "রেসের ময়দানে কমিউনিজম আর সেক্যুলারিজমের ঘোড়ার সাথে ইসলামের ঘোড়াও পাল্লা দেয়ার অধিকার আছে। কোন ঘোড়া রেসে কেমন পারফর্ম করছে বা কোন ঘোড়া অধিকতর উপযোগী ও কার্যকরী সেটা রেসে নামার পর বিবেচনা করা যাবে। কিন্তু রেসের আগেই প্রতিপক্ষের ঘোড়াকে ময়দান থেকে সরিয়ে দেয়াটা অবশ্যই সুস্থ্য চর্চা নয়।"

    ভাইয়া, ইসলামের ঘোড়া কি এই ভূখন্ডে আগে থেকে রেসে ছিল না, সেই '৭১-এর আগে থেকে? এটা কি ইতিহাস সত্য নয়। এই যে, মুসলিম লীগ, জামায়েতে ইসলামী তারা কি ইসলামী কনসেপ্টে রেসের ঘোড়া নয়? তাদের জন্ম তো '৭১-এর অনেক আগে। ভুল বললাম কি?

    '৭১-র পূরবর্তী ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধের কোন দাবী বা আন্দোলন কি বাঙ্গালী জাতি বা জাগ্রত জনতা করেছিল? আপনার কাছে তথ্য থাকলে আমাকে জানাবেন।

    কিন্তু এখন বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বন্ধ করার কথা কেন বলছে, তা নিশ্চয়ই ভেবেছেন বলে এই পোস্ট লিখেছেন। তাই তো! কিন্তু একবারও কি আপনি বাংলাদেশের জন্মের '৭১ কে উল্লেখ করেছেন। আপনি কিন্তু ইউরোপের খ্রীষ্টানদের কথা বলেছেন:

    "এর কারণ অনুসন্ধান করতে হলে ধর্মের নামে যে অত্যাচার আর সন্ত্রাস খ্রিস্টানরা করে গিয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে হবে। "মৌলবাদ" শব্দটার উৎপত্তি কোথা হতে তাও জানতে হবে। সেসব ইতিহাস লব্ধ জ্ঞান "ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতি"-তে আমাদের উৎসাহ দেয়া তো দূরের কথা, বরঞ্চ রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাজনীতিতে ধর্মীয় মতবাদের প্রধান্য দেয়ার পথে বাঁধা হিসেবে দাঁড়ায়।"

    অথচ আমাদের নিজের দেশে ইসলামের নামে '৭১-এ যা হয়েছিল, আপনার লেখাতে সেই সাথে তার উল্লেখ করা কি উচিত ছিল না? পাক হানাদার বাহিনী থেকে শুরু করে মুসলিম লিগ, জামায়াতে ইসলামী নামক তথাকথিত ইসলামী ঘোড়াগুলোর বিকৃত অমানবিক, অপাশবিক কর্মকান্ড? তারা কি ইসলাম নামক শান্তির ধর্মের মান, মর্যাদা, সন্মান রেখেছে? বরং "আলবদর, আল শামস, রাজাকার" নামক ইসলামের পবি্ত্র নামগুলোর মর্যাদা ধুলায় মিশিয়ে দেয়নি?

    '৭১-এর আলবদর, আল শামস, রাজাকারদের কথা মাথায় রেখেই আবার আপনার লেখায় ফিরে আসছি:

    "এমতাবস্থায় ধর্ম ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার যেকোন অধ্যায় বিশেষ করে রাষ্ট্র ব্যবস্থার কথা ভাবতেই অন্ধকার আর খারাপ একটি ব্যবস্থার চিত্র ভেসে ওঠার উপক্রম হয়। কোন একটি ধর্মের অনুসারীরা নিজেদের ধর্ম থেকে বহুযোজন সরে এসে মনগড়া বিধানের দোহাই দিয়ে পৃথিবীতে কি অনাচার সৃষ্টি করেছিলো তা দিয়ে অনেক কিছু যেখানে বিচার করা হচ্ছে সেখানে ধর্মীয় মতাদর্শ থেকে দেশ পরিচালনা তো দূরের কথা ধর্মগুরুদের প্রাধান্যের কথা ভাবাটাই কষ্টকর।"

    এখন এই স্বাধীনতার পরে "ধর্মভিত্তিক রাজনীতি"-র বিপক্ষে এই বাংলাদেশে বিশাল জনমত তৈরি হওয়ার হেতুটা কি তা নিশ্চয়ই এখন অনুধাবন করতে পারছেন? যখন এই বাংলাদেশের বাঙ্গালী জনগনের অস্তিত্বের লড়াই শুরু হয়ে গেছে, তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে "পোড়ামাটির নীতি" বাস্তবায়নের জন্য পাক হানাদার বাহিনী ইসলাম রক্ষার কথা বলে, এই দেশে তাদের দোসর ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগীতায় একের এক ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ঘটিয়ে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছে, সেখানে কি "ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে" ভয় পাবে না, ভাইয়া?

    আপনি বলেছেন, "বিভিন্ন দিক বিচার বিশ্লেষণ না করলে ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে অনেক যুক্তিই দাঁড় করানো সম্ভব। আমাদের ভেতরে বেশির ভাগই যেখানে নিজেদের বুদ্ধি বিবেচনার উপরে ভরসা নেই, অন্যদের দেখে ও অন্যদের মাথাকে নিজের মাথা ভেবে তাদের কথাকে কোন রকম চিন্তা ভাবনা না করেই মেনে নেয়ার অভ্যাস গড়ে ওঠেছে সেহেতু এটা খুব স্বাভাবিক যে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী এবং ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধের পক্ষে রায় দিচ্ছে।"

    - আসলে ভাইয়া, বাংলাদেশের জনগণ কখনো তাদের মতামত দিতে ভুল করে না, তাদের সামর্থের পরিপ্রেক্ষিতে। সামর্থ্য বলতে কোন ভাল রাজনৈতিক দল (সেটা আপনার মতে ইসলামিক বলুন বা আমাদের প্রচলিত রাজনৈতিক দলগুলোর কথা বলুন) না মিললে, মন্দের ভালকে তারা আপাততঃ বেছে নেয়। তার অসংখ্য প্রমাণও পাবেন।

    আপনার আরেকটা বক্তব্যকে বিশ্লেষণ করে, আজকের মত এখানে শেষ করবো। সেটা হলো আপনি বলেছেন:

    "অথচ এই আমরা যদি জ্ঞান আহরনের পথে আরেকটু উদার হতে পারতাম, আরো অধিক জ্ঞান পিপাসা আমাদের থাকতো তা হলে নিঃসন্দেহে এক দলের সীমাবদ্ধতা ও ইতিহাস দিয়ে সামগ্রিক ভাবে ধর্মকে বিচার করতে যেতাম না। কোন এক ধর্মের অপব্যাখ্যাকারী ও বিকৃতকারীদের সৃষ্ট নৈরাজ্য থেকে ধর্মভিত্তিক জুজুর সৃষ্টি হতো না।"

    ইউরোপে খ্রীষ্টানদের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের জন্মের ইতিহাসের দিকে তাকালে খুব সহজেই "ধর্মভিত্তিক জুজুর" ভয় আমার মধ্যে সৃষ্টি হয়। আমিও তাই চাই, জামায়াতে ইসলামী বা মুসলিম লীগ এসব যারা ইসলামের ঘোড়ায় সওয়ারী হয়ে '৭১-এ ইসলামকে চরম অপমানিত ও বিপর্যস্ত করেছে, তাদের বাংলাদেশের মাটিতে নিষিদ্ধ করা হোক। নতুন কোন ইসলামিক রাজনৈতিক দল আসুক, যারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খাকে ধারণ করে সত্যিকারের ইসলামকে এ দেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠা করবে। ইসলাম সত্যের ধর্ম হলে সকল বাধা বা প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তার জয় অবধারিত।

    আমিও আপনার মত আইটি-র লোক। একটা প্রোগ্রামে আছি এখন, "ভিজুয়াল ইফেক্ট ফর ফিল্ম এন্ড টিভি"। অন্য কোথাও এখন মন্তব্য করি না। মূল্যবান পড়াশুনা বাদ দিয়ে শুধু নৈতিক কারণে আপনার পোস্টের উত্তর দিতে বাধ্য হলাম। আপনার লেখার ফোকাসটা ঠিক রেখেই আমি উত্তর দিয়েছি, এই বিশ্বাস আমার আছে। অপ্রাসঙ্গিক কিছু আসে নি। আশা করি, আপনিও সদুত্তর দেবেন।

  • সকাল বলেছেন ২০১০/০১/১২ ২২:০০:১৯

    ত্রিভুজ দা রাজনীতি নিয়ে জটিল বিশদ লেখা পড়ে কিচু শিখলাম
    ভালো থাকবেন
    সামুতে আপনার কমেন্ট পেয়ে ভাবছি উবুন্টু নেব

  • কবিরনি বলেছেন ২০১০/০১/১২ ২২:০৭:৩৩

    আলোচনা চলুক।

  • অপ_দেবতা বলেছেন ২০১০/০১/১২ ২২:২৩:০৩

    যখন শুধু একটা পদ পাওয়ার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হয় ,তখন বোধহয় ধর্ম রাজনীতি নিরুৎসাহ‍ীত করা উচিত ।

    আমার পছন্দ তাবল‍ীগ । ওনা দের আমি প্রশ্ন করেছিলাম , আপনারা রাজনীতি থেকে দূরে থাকেন কেন ? হেসে আমাকে উত্তর দিলেন ------ যখন সব মানুষ ভাল এবং সৎ হবে , তখন রাজনীতি অবশ্যই সুস্থ ধারায় আসবে । আর আমরা ‍লোক কিভাবে সৎ থাকবে তা জানাই ।

    ৭১ এ রাজাকার যারা ছিল তা‍রা মুসলমানই ছিল ,
    ৭১ যারা যুদ্ধ করেছিল তাদের বৃহৎ অংশ মুসলমানই ছিল ।
    বাকীদের বেশির ভাগ তো বেড়া ‍পার হয়ে ভারত ।
    দেশ শান্ত হলে আবার ফেরত ।

    ধর্ম যখন ইসলাম বলল , তখন আমারা কিছু বলি নি ।
    কিন্তু যখন বলল রাষ্ট্র ভাষা উর্দু , তখন আমরাই সাবধান করলাম ।
    এটা চিন্তা করা উচিত ।

    যারা নামাজ পড়ে মু‍ক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিল ,
    তারাই যখন আমার দেশ স্বাধীন এর পর ধর্ম পালন করল , তাদেরই রাজাকার বলা হল ।আর যারা বলল তারা বেশির ভাগই দেশ পলাতক ছিল।


    মুসলমানদের দমানোর জন্যই শুধু যদি, ধর্ম রাজনীতি নিষিদ্ধ হয় ,তাহলে আফসোস ।

    আর যদি জামাত কে থামানেরা জন্য হয় , তাহলে সমস্যা কি ?

  • রিসাত বলেছেন ২০১০/০১/১৫ ১৬:৪৬:০৫

    কোন ধর্মের কম্প্লিটনেস বা ইন কম্প্লিটনেস নিয়ে কথা বলতে চাই না। ধর্ম একটা সময় পৃথিবী টিকিয়ে রাখতে এবং মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে অবদান রেখেছে এবং এখন রাখছে এবং ভবিষ্যতেও হয়ত রাখবে।

    ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করি না ঠিক আছে, এবং বলি না যে এইটাকে নিষিদ্ধ করতে হবে। গনতন্ত্রে কখনও কোন কিছু নিষিদ্ধ হতে পারে এইটা মানতে বা বিশ্বাস করতে আমি নারাজ। কিন্তু ভাইয়া এই যে জামাতের ধর্মভিত্তিক রাজনীতি এইটা আসলে রাজাকার ভিত্তিক। জামাত তাদের সাংগঠনিক চার্টের টপ লেভেল থেকে রাজাকার এবং তাদের দোসরগুলাকে বের করে দিতে পারলে জামাতের বিরোধিতা আমি কখনও করতাম না।

    WHY WASTE YOUR LIFE MAKING SOMEBODY ELSE'S DREAM??



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫