নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রতি অনায্য ফি আরোপ - শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও জবাবে কড়া লাঠি চার্জ
পড়াশোনা
![]()
একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়ার মত আর্থিক অবস্থা কয়টা পরিবারের থাকে? সেখানে আমরা তাও চেষ্টা করি আমাদের ভাই-সন্তানদের পড়াতে। কারণ চাকরীর বাজারে সবাই নর্থ সাউথ, আইউবি, আইবিএ খোজে। অনেক কষ্টে আমরা তাদের খরচের তালিকা দেখে কত ধরনের কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করে পড়াব তাই ঠিক করি। মনে মনে প্রস্তুতি নেই কতটা বিপদে পড়ে যাব, এবং কি করে তা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। তারপর একটা বাজেট দাঁড় করাই কি করে বাড়ি বিক্রি না করে পড়াতে পারি। অমুকের কাছ থেকে এত টাকা ধার নিব, মোটরসাইকেলটা বিক্রি করব, বিলাশী পোষাক, খাবার ছেড়ে দেব, দুই ঈদে একবার জামা দিব, না দিতে পারলে আরো ভাল, নিজেত নিবই না। সিএনজ়ি ছেড়ে দিব, বাসে লাগুক কষ্ট, লাগুক দুই ঘন্টা, ও পড়তেতো পারবে। এইসব দেখে আত্বীয়দের "গরিবের ঘোড়া রোগ" টিপ্পনী শোনার জন্যও মানসিক প্রস্তুতি নিতে হয়।
ছয় থেকে আট লাখ টাকা খরচ করে দেশের নামকরা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াই, সন্তান দ্রুত পড়া শেষ করে চাকরীতে ঢুকতে পারলে সংসারে চাপটা কমে যাবে বলে। নামকরা ইউনিভার্সিটি যেহেতু, তারা তাদের নাম ও মান দুটোই খেয়াল করবে। হঠাৎ মাথায় পড়ল বাঁজ!
বাবাঃ কি হল?
আমিঃ ওর বুঝি পড়াশোনাটা বন্ধই হয়ে গেল।
বাবাঃ কেন?
আমিঃ টিউশন ফি প্রতি ক্রেডিটে ১৫০০ টাকা বাড়ান হল। মানে? ওর ১২৪ ক্রেডিটের কোর্সে অতিরিক্ত ১,৮৬,০০০ টাকা দিতে হবে।
বাবাঃ কিন্তু ভর্তির আগে যে তালিকা দেয়া হয়েছিল তাতেতো অন্য হিসাব ছিল!
আমিঃ আমাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব?
বাবাঃ আমার পেনশনের বেশিরভাগ টাকাইতো ইউনিভার্সিটিতে দিতে হচ্ছে, বাকি টাকা কোথায় পাব?
আমিঃ চাইলেও আমার কোম্পানী আমার বেতন বাড়িয়ে দেবে না।
বাবাঃ তোরা না বললি এটা ভাল ইউনিভার্সিটি।
আমিঃ লোকে তাই বলে।
বাবাঃ এটা্তো কোচিং সেন্টার না যে চাইলেই বদলে দেব। এখন ওর পড়াশোনার কি হবে?
বাবার কাছে আমার উত্তর নেই। উত্তর জানা গেল কদিন পরেই। কি হল? ছাত্ররা আন্দলন করল, এবং ইউনিভার্সিটি নতুন ফি শুধুমাত্র নতুন ছাত্রদের জন্য প্রজোয্য করল, পুরোনো ছাত্ররা বেঁচে গেল। ইউনিভার্সিটি কথা দিল। নিজেদের ভাগ্যবান ভাবতে শুরু করলাম, যাক আর কয়টা দিন দেরি করে ভর্তি করালে বোধহয়, বাজেট ফেইল করত, ওকে আর নর্থ সাউথে ভর্তি করা যেত না। খুশি আর ধরে না। আবার শুরু হল স্বপ্ন দেখাঃ দ্রুত পড়া শেষ করে চাকরীতে ঢুকতে পারলে সংসারে চাপটা কমে যাবে বলে, সোফা নিয়ে মায়ের ঘ্যানঘ্যানানি থাকবে না, বাবার চিকিৎসাটা শুরু করতে পারি, একটা আইপডও কিনতে ইচ্ছা করে।
দুমাস যেতে না যেতেই আবারও বাঁজ। এবার কি হল? ৫০০ টাকা বেড়ে গেল। মানে অতিরিক্ত ৬২,০০০ টাকা গুনতে হবে। এতে ১০,০০০ ছাত্রের জন্য প্রতি সেমিস্টারে ইউনিভার্সিটি ৭৫ মিলিয়ন টাকা করে অতিরিক্ত পাবে। কদিন পরপরই এরা টাকা বাড়ায়। যালিম সুদখোর মহাজনকেও বুঝি হার মানায়। মহাজনরা কি কারো লেখাপড়া জিম্মি করে টাকা আদায় করত? আমার জানা নেই। হয়ত করত।
বাবাঃ কিন্তু ইউনিভার্সিটি না কথা দিল? এরপর আর কয় মাস পর আবার বাড়াবে?
কেউ জানে না। জিম্মি ব্যবসাটা এখন এই দেশে বেশ ভাল চলছে। রিক্সাওয়ালা, সিএনজিওলা, সরকারি অফিসের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিডিআর জোয়ানরা পর্যন্ত সবাই জিম্মি করবে তো দেশের ১ নাম্বার প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি কেন পিছিয়ে থাকবে? তাদেরওতো কাউকে না কাউকে, কিছু না কিছু নিয়ে জিম্মি করতে ইচ্ছা করে। চলছে এবং চলবে।
দেখেন, নির্লজ্য রাজনীতিবিদদের মত কেন আপনারাও আমাদেরকে সাধারন জ্ঞানহীন গরু, ছাগল ভাবেন? আপনি বলতে চান আপনার ব্যবসার কোন ফোরকাস্ট ছিল না কখন আপনার ছাত্রদের ওপর যুলুম করতে হবে? ক্যাম্পাস বানাচ্ছেন খুব ভাল। এটাতো ম্যাজিকের মত হয়ে যায়নি। বহুদিন ধরে এটা হয়েছে। আপনারা আগে বুঝতে পারেননি কখন আপনারা টাকা নিয়ে বিপদে পড়বেন? যদি বলেন ফোরকাস্ট ছিল না তাহলেঃ হয় আপনারা মিথ্যা বলছেন, নয়তো কোন সাইড বিজনেস নিয়ে বিপদে পড়েছেন সেটাকে স্টিমুলাস প্যাকেজ দিতে চাচ্ছেন, বা খেয়ে ফেলেছেন, নয়তো আপনারা একটা প্রতিষ্ঠান চালানোর যোগ্যতা রাখেন না।
ক্যাম্পাসতো হুট করে আপনাদের মাথার ওপর বোঝা হয়ে পড়ে যায়নি যে এখনি আপনাদের পুরোনো ছাত্রদের ওপরে এর দায়ভার চাপাতে হবে? ক্যাম্পাস বানাচ্ছেন এটা আপনার ব্যবসার ভাল্যু অ্যাডেড সার্ভিস হিসেবে থাকুক, এটার দায় কেন পুরোনো ছাত্রদের ওপর চাপাচ্ছেন? যদি তাই হয় যারা ৭ বছর ধরে আপনাদের ক্যাম্পাস ফি দিয়ে আসছে তাদের টাকা ফেরত দিন, তাদেরকেতো ক্যাম্পাস দিতে পারেননি, কিন্তু টাকাতো নিয়েছেন ঠিকি। ন্যায় নীতির ধার ধারেন না, জিম্মি ব্যবসাটা যে আপনারাই ইউনিভার্সিটিগুলির মধ্যে আগে শুরু করবেন তা অনুমানই করা যায়।
আমি ৩ বছর আগেও ছাত্র ছিলাম। আমার সময় ৩ টা ইউনিভার্সিটির ফি অমানুষিকভাবে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু কন্ট্রাক্টের বাইরে কারও ১ টাকাও বাড়েনি, এমনকি এই জন্য কাউকে আন্দোলনও করতে হয়নি, ব্যাপারটা এতই স্বাভাবিক ছিল। পুরোনো ছাত্ররা আগের মতই ফি দিত। নতুনরা বেশি দিয়ে যারা ভর্তি হতে পারতো, হত। বাংলাদেশের ইতিহাসে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিই প্রথম যে এইভাবে ছাত্রদের ক্যারিয়ার জিম্মি করে জোচ্চুরির আশ্রয় নিল। কন্ট্রাক্ট ভঙ্গ করলো, কথার বরখেলাপ করলো ২ মাসের মাথায়ই।
ছেলেমেয়েরা আজকে শান্তিপূর্ণ আন্দলন করলো। কিন্তু মাননীয় ভিসি পুলিশ ডেকে ছাত্র ও ছাত্রীদেরও পেটালেন। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিগুলির মধ্যে ইতিহাসে এই প্রথম কোন ভিসি পুলিশ ডেকে নিজের ছাত্রছাত্রীদের পেটালেন! বাংলাদেশে কখনো কোনভাবে এটা ঘটেনি। বিশ্বাস করুন এটা কোন ভিসির জন্য সম্মানজনক কথা নয়। আশা করি এই অনুভূতি আপনি এখনো হারাননি। কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে কুকুর বিড়ালের মত শিকার করে পেটানোর মত কারো অনুভূতি আছে বিশ্বাস করতে অনেক কষ্ট হয়।
আমি বিজনেসের ছাত্র ছিলাম না। আপনারা না বিজনেস স্টাডি পড়ান? এটা জানেন না সম্পর্ক কি জিনিস? আমরা কি কোনদিন আমাদের কোন আত্বীয়র কাছে আপনাদের ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে ভাল কথা বলব? কথা দিয়ে কথা রাখেন না, মাঝপথে বিপদে ফেলেন, আমাদের ছেলে মেয়েদেরকে পুলিশ দিয়ে পেটান। আমরা নিজেরাই কখনো ওদের গায়ে হাত তুলিনি। সুস্থ পরিবেশে বড় হতে হবে ভেবে পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে দেইনি। আর আপনাদের প্রতারনা আর অনায্য দাবির প্রতিবাদ করায় আজকে মির্মমভাবে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছেন।
গড হ্যাভ মার্সি অন ইয়োর সোউলস!

Phonetic
ভর্তির আগে শিক্ষার্থীদের থেকে যে ফি নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তা পালন করা উচিত। হঠাৎ করে বেতন/ফি বাড়ানো নিঃসন্দেহে ক্রেতা অধিকার ক্ষুন্ন করে। নর্থ-সাউথের এ দুঃখজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।
i have different oponion about this matter
সত্যি খুব দু:খজনক ব্যপার। ওদের সুমতি হোক, এটা কামনা করছি মনে প্রানে।
এইটা তো ভাই এদের চরিত্রের একটা অঙ্গ।এরা কোনো দিন ই ঠিক হবে না,যত দিন না এই ছাত্ররা জেগে উঠবে,আমরা জেগে উঠব।
দুঃখজনক.
ভাই... বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই টাকার খেলা।এরা পড়াশোনা কে পুজীঁ করে ব্যবসা করে।ব্যবসা ছাড়া কিছু বুঝে না।এদের "Non Profitable Organization" একটা ব্যবসায়িক শ্লোগান ছাড়া কিছুই না।
কাল সারাটা দিন আমরা রাস্তায় ছিলাম, আর ভিসি এসি রুমে বসে আমাদের মারার নির্দেশ দিচ্ছিল।
এ লজ্জা কার আমাদের নাকি ভিসির?
আমাদের দেশে সবচকিছুতেই কেমন একটা দুষ্ট চক্র তৈরি হয়ে যায়।
tragic...but this was expected.
Private universities simply doing business here rather educating.
They even lost their social responsibilities.
Shame on this administration...
অন্যায় ভাবে ছাত্রছাত্রীদের উপর এ অত্যাচারের জন্য তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
এ ধরনের কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের সুনাম নষ্ট করছে।
আমি MBA করছি NSU তে। প্রতি ক্রেডিটে ৫০০০ টাকা দিতে হত এতদিন। এখন নাকি ৬০০০ করে দিতে হবে। মানে হল ১ সেমিস্টারে ২টা সাবজেক্ট নিলে, ১০০০*৩*২ = ৬০০০ টাকা অতিরিক্ত দিতে হবে শুধু সাবজেক্ট ফি হিসেবে। তার সাথে সেমিস্টার ফি....। এতদিন ৩৪০০০ টাকা দিয়ে ১ সেমিস্টারে ২টা সাবজেক্ট নেয়া যেত, এখন সেটা গিয়ে দাঁড়াবে ৪০০০০ এ। আবার এর সাথে সেমিস্টার ফি ও বেড়েছে কিনা কে জানে............। Undergraduate এ ও অনেকটা এই রকম ই বেড়েছে। NSU ১টা নোটিস দিয়েছিল নতুন ফি কি রকম হবে তা নিয়ে, আবার তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ছাত্ররা তো আর এমনি এমনি আন্দোলন করছে না।
শিক্ষা নিয়ে নির্লজ্জ বাণিজ্য চলছে। এটা আমাদের জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। সমস্ত প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে ফেলে দেশের উচ্চ শিক্ষার যে কি বারোটা বাজিয়েছে তা আর বলাই বাহুল্য। দেশের সমস্ত সচেতন মহল এবং শিক্ষাবিদরা যদি এ অবস্থার কোন পরিবর্তনের চেষ্টা না করেন তাহলে গোটা জাতির জন্য তা ক্ষতিকর হবে।
শিক্ষা, চিকিতসার মত মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো বাণিজ্যের পণ্য হতে পারেনা।