বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

সাম্প্রতিক রাজনীতি ভাবনা

আমি সাধারণত রাজনীতি নিয়ে কোন কথা বলি না। মাঝে মাঝে দু’এক জায়গায় মন্তব্য করি। এই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে আমি নিজেকে নিরপেক্ষ বলেই পরিচয় দেই। কারণ এমন কোন দল নেই যাকে আমি মনে প্রাণে পূর্ণ সমর্থন দিতে পারি। আজকে কেন জানি মনে হল- রাজনীতি নিয়ে একটু নিজের মতামত ব্যক্ত করি। সেই কারণেই এই লেখার অবতারণা। বর্তমান কিছু বিষয় নিয়েই কথা বলব।

বাংলাদেশে নির্বাচন হয়েছে- তা তো প্রায় মাস ছয়েকের উপরে হতে চলল। আওয়ামীলীগ বিপুল সখ্যা গরিষ্ঠতা লাভ করে জয়লাভ করলো। বিগত বিএনপি সরকারের সময়ে জনগণ যে কারণে ভেতরে ভেতরে তখনকার সরকার ব্যবস্থার উপর নারাজ ছিল, তার অন্যতম কারণ দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি, সিন্ডিকেট। আরও অনেক কারণ আছে- সেদিকে যাচ্ছি না। তারপরে আমাদের ফখরুদ্দিন সাহাবের সরকার বাংলাদেশের অনেক প্রচলিত রীতিকে ভঙ্গ করে দূর্ণীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করলেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে- তখন দ্রুত সিদ্ধান্ত হত এবং দ্রুত কার্যকর হত। এই ব্যাপারটি সরকারের অবস্থানকে উপরে তুলেছিল। কিন্তু দ্রব্যমূল্যের কারণে এই সরকারের জনপ্রিয়তা ষোলকলায় পূর্ণ হয়নি। তারপরে নির্বাচন এলো- নতুন সরকার গঠন হলো। নির্বাচনের ফলাফল থেকেই বুঝা যায় দেশের জনগণ আওয়ামীলীগের উপর কতটুকু ভরসা করেছে। নতুন সরকার এসেছে- অনেকেই বলবেন বেশি দিন হয়নি। ছয় মাসের বেশি সময় কিন্তু অনেক দীর্ঘ সময়।

আওয়ামীলীগ সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু কিছু দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে ধরেছে। চালের দাম মানুষের হাতের নাগালে। এই ব্যাপারগুলো এই সরকারের সফলতা বলে ধরা যায়। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে কিছু বলব না। অন্য প্রসঙ্গের মধ্যে সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুৎ বিপর্যয়। ঘড়ির কাটাকে এগিয়ে নিয়ে লাভ-ক্ষতির যতই হিসাব করা হোক না কেন- যোগান না থাকলে কি আর লাভ আসে। দেশে সব থেকে বড় প্রয়োজন বিকল বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে নিয়ে আসা। নতুন শক্তিকেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা। সবাই এখন বলছে- পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনার খবর বেরিয়েছে- কিন্তু তেমন অগ্রগতি নজরে আসছে না। এই ছয় মাসের মধ্যে বিদ্যুতের ব্যাপারে তড়িৎ গতিতে কোন ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিৎ ছিল। সরকারের এমন কচ্ছপগতি তাদের জন্য সফলতা বয়ে আনবে না। পাঁচ বছর তো আর পেরিয়ে যেতে সময় লাগবে না। দেখা যাবে হয়তো- সরকারের শেষ পর্যায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করা হচ্ছে নির্বাচনে মানুষকে বুঝানোর জন্য। ঐ রাজনীতিতে যদি সরকার চলে যায় তাহলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বর্তমানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে টিপাইমুখ বাঁধ। ভারত বাঁধ দিবে, বিদ্যুত তৈরি করবে- এ ব্যাপারে দাদাগিরি দেখাবে এটাই স্বাভাবিক। ইতিহাস সাক্ষী- শক্তিশালী দেশের কাছ থেকে বেশিরভাগ সময়ই এমন আচরণ পাওয়া যায়। বর্তমান সরকারের জন্য দূর্ভাগ্যই বলতে হবে যে ভারত তাদের শাসনামলেই এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে উঠে পড়ে লেগেছে। ভারতপন্থী বলে আওয়ামীলীগের বদনাম আছে- তা এখন আরও জোরদার হচ্ছে। ভারত জোরপূর্বক বাঁধ দিয়ে দিলে কিছুই করা যাবে না, বাংলাদেশের অন্য সরকার থাকলেও পারত না। আমরা তো আর অস্ত্রের ভয় দেখাতে পারব না। আমাদেরকে বিচার চাইতে হবে জাতিসংঘের কাছে বা অন্য দেশের কাছে। আর বিচারের ফলাফল যাই হোক না কেন তা যে দুর্বল দেশের বিরুদ্ধে যায়, ইতিহাস এ ব্যাপারেও সাক্ষ্য দিবে। তো যাই হোক- টিপাইমুখ বাঁধ হলে বাংলাদেশের ক্ষতি হবে, এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা মতামত দিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাতে কিন্তু জনগণ সরকারের উপর খুশী হতে পারছে না। তারওপর বাংলাদেশের কূটনৈতিক জ্ঞানশূণ্য মন্ত্রীদের বেফাঁস বক্তব্যে জনগণ আদৌ খুশী হচ্ছে না। এখানে মহাশয়া খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনার চেয়েও বিচক্ষণ মনে হয়েছে। তিনি সরকারে না থাকলেও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। ভোটের সময়ে এই সামান্য প্রয়াসটুকু খালেদা জিয়াকে অনেক সহায়তা করবে। চিঠির ফলাফল কি হবে, ভারত সরকার কি ব্যবস্থা নেবে- সেসব পরের কথা। দেশের জনগণের কাছে এই উদাহরণ অনেক বড় হয়ে দেখা দিবে। শেখ হাসিনা চাইলে অনেক ব্যবস্থা নিতে পারতেন, বাঁধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে পারতেন। ফলাফল কি আসে- সেটা ছিল পরের বিষয়। ভারত তখন জোর করে বাঁধ দিয়ে দিলেও এর দোষ সরকারের ঘাড়ে পড়ত না। যদিও বিরোধী দল তখন এ নিয়ে মাঠ গরম করতে চেষ্টা করত।

আওয়ামীলীগ যদি ভেবে থাকে যে এত বিপুল সমর্থনের পর বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকে আর ছাড়বে না, তাহলে সেটা মস্ত বড় এক ভুল করছে তারা। বাংলাদেশের জনগণ দুই তীরের মাঝেই সীমাবদ্ধ। হয় আওয়ামীলীগ, না হয় বিএনপি। আওয়ামীলীগ মনের মত কাজ না করতে পারলে বিএনপির পাল্লা ভারি হতে থাকবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে। আওয়ামীলীগ যদি ভেবে থাকে যে তারেক আর কোকোর ঘটনায় জনগণ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে- তাহলে এটা হবে মস্ত বড় ভুল ধারণা। কারণ বাংলাদেশের মানুষ দূর অতীতের চেয়ে নিকট অতীত বা বিগত বর্তমানের কথাই মনে রাখে বেশি- ইতিহাস সাক্ষী আছে। আগামী নির্বাচনের সময়ে বিএনপির দূর্ণীতির ঘটনা দূর অতীত হয়ে যাবে, মানুষ তখন হিসেব করবে আওয়ামীলীগ সরকার কি দিয়ে গেল। সরকারের কাজের উপরেই নির্ভর করবে- কে পার হবে নির্বাচনের বৈতরণী। আর বিএনপির দূর্ণীতি নিয়ে এত খুশী হওয়ারও কারণ নেই, স্বয়ং আওয়ামীলীগ কিন্তু তুলসী পাতার মত নয়। বাংলাদেশের মানুষ- ঠিক নদীর এপার আর অপারের সুখ কাহিনী নিয়েই ব্যস্থ থাকে। আওয়ামীলীগ মনের মত কাজ না করলে বলবে- ইস্ বিএনপিকে ভোট দিলে হয়তো ভাল হত। বিএনপির কাজে খুশী না হলে বলবে- নৌকায় ভোট দিলেই ভাল হত। যেহেতু এখন আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করেছে আগামী নির্বাচনের জন্য কিছু করতে হলে ভেবেচিন্তে ভাল কাজগুলো প্রথম থেকেই করতে হবে। তা না হলে- বিএনপি যদি কোন কিছু না করে, কোন প্রচারণা না চালায়- তারপরেও ওদের পাল্লা ভারি হতে থাকবে।

শেখ হাসিনাকে এবার অনেক ক্ষেত্রেই সঠিভাবে কাজ করতে দেখা গেছে। অতীতের মত ভুলের দিকে না গিয়ে ভুলের ব্যাপারে সতর্ক আছেন তিনি। এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতার সাথে কাজ না করলে সামনে আবার পরাজয়ের মুখ দেখতে হবে। ছাত্ররাজনীতির বিষয় নিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ঘটনা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা এই কমসময়ের মাঝে অনেক কমিয়ে দিয়েছে। এই বিষয়গুলো আওয়ামীলীগকে ভাবতে হবে। তা না হলে- ভবিষ্যতের ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে না।

আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে- ধানের উৎপাদন বেড়েছে। চালের দাম কমেছে। কিন্তু কৃষক ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। এই ভুল বারবার কেন সরকারগুলো করে যায়- তা বুঝা যায় না। কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলে সে উৎপাদন কমিয়ে দেবে, উৎপাদন কমিয়ে দিলে আগামী বছর আবার চাল সংকট দেখা দিবে। চাল সংকট মানে চালের দাম আকাশে উঠবে আর ভেতো বাঙ্গালীর মাথা গরম হবে। ভেতো বাঙ্গালী যে পেটের জ্বলায়- গরম মাথায় সরকারকে আশীর্বাদ করবে না, এই ব্যাপারে তো নিশ্চিত থাকা যায়। শুধু ধানের কথা বললাম। অন্য কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে। তা না হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঘোড়ার লাগাম টানা সহজ হবে না।

কিছুদিন আগে ঝড় হয়ে গেল। বর্ষা এসে গেছে- এখন আসবে বন্যা। ত্রাণ সামগ্রী কিন্তু সুষ্ঠভাবে বিতরণ হচ্ছে না। সেই আগের মতই লুটপাট রয়ে গেছে। অতীতের বারবার ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে শিক্ষা না নিলে কি ফলাফল আসে তা সরকারকে এখন থেকেই ভেবে রাখতে হবে।

আওয়ামীলীগ সরকারের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল অতি দেশ ভক্ত সাজতে যাওয়া। বাংলা ব্যাকরণের অতি উপসর্গ কখনই ভাল ফলাফল বয়ে নিয়ে আসে না। তাই কে স্বাধীনতা ঘোষনা করলো, কে কি করলো- এসব ব্যাপারকে মুখ্য না করে বর্তমান বিষয়গুলোকে মুখ্য করা উচিত। বাংলাদেশের মানুষ জানেই, সরকার বদলের সাথে সাথে বই পত্রে ইতিহাস কিছুটা পরিবর্তন হয়। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বেশিরভাগ বাঙ্গালীই জানে। যারা দেশের জন্য কাজ করেছেন তাঁদের প্রতি সম্মান সকলেই দেখাবে। তাই এসব নিয়ে এত মাতামাতির কোন কারণ নেই। কেউ সম্মান না জানাতে চাইলে জোর করে রেডিও-টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধের কথা ২৪/৭ বলেও তাকে দিয়ে সম্মান দেখানো যাবে না। তাই এসব ব্যাপারকে বড় বিষয় করা উচিত নয়। দেশের অনেক মুক্তিযুদ্ধা এত বছর পরেও অবহেলিত তাদের জন্য কাজ করলে জনগণ খুশী হবে। বক্তব্যসার দেশপ্রেমে কোন কাজ হবে না। রাজাকারদের বিচারের কথা বলা হয়েছে- ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন শুধু যদি রাজাকারের বিচার বিচার করে সময় পার করে দেন- তাহলে কাজের কিছুই হবে না। জনগণ তখন খুশী না হয়ে বিরক্ত হবে।

আজকে দেখলাম- বঙ্গবন্ধুর পরিবারের নিরাপত্তার জন্য নতুন করা হবে। নতুন আইনের আসলেই কি কোন প্রয়োজন আছে? এই আইন করা মানে এটাই প্রমান করা জনগণের নিরাপত্তার জন্য যেসব আইন আছে তা ফলপ্রসূ না। তাই বিশেষ আইন করতে হচ্ছে। বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা এমনিতেই বিশেষ নিরাপত্তা সাহায্য পেয়ে থাকেন। এতকিছু থাকার পরেও আবার আইন করা, জনগণ থেকে দূরে সরে যাওয়ারই সামিল। যেখানে দেশের জনগনই অনেকস্থানে নিরাপত্তার অভাবে আছে- সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এসব আইন বানালে তা সুফল বয়ে আনবে না। তাছাড়া গত আওয়ামীলীগ শাসনামলে বঙ্গবন্ধুর খুনের বিচার নিয়ে কতকিছু হল। ভাবা হল- যাক, এবার তাহলে খুনীদের ফাঁসী হবে। সেই পাঁচ বছরেও হয়নি। আরও পাঁচ বছর চলে গেলেও হয়নি। আরও দুই বছর চলে গেলেও হয়নি। আর এখন তো চলছে। আইনকে আইনের পথেই চলতে দেন। এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক বিষয় বানিয়ে মাঠ গরম করাকে জনগণ আর পছন্দ করে না। খুনীদের বিচার সবাই চায়- আইনের মাধ্যমেই সেটা হোক। সরকারের প্রভাবে বিচার হলে অনেকেই বিচারের উপর প্রশ্ন তুলবে।

দেশে কিছুদিন পরপর নতুন আইন আসে। এত আইন বানিয়ে কি হবে যদি তার বাস্তবায়ন না হয়। নতুন আইনের প্রয়োজন যখন আইন হোক। কিন্তু রাস্তাঘাট ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেতু ভেঙ্গে যাচ্ছে, নদী ভাঙ্গনে মানুষ ঘরবাড়ি হারাচ্ছে- সেসব দিকে খেয়াল হারিয়ে শুধু নতুন আইন বানালে কি আর জনগণ আগামীবারের পাল্লাকে ভারী করবে?

বলতে গেলে আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে আসা যায়। দেখার বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থায় উপযুক্ত ক্ষেত্রে বিচক্ষণতার অভাব। এই অভাবটুকু সত্যিই অভাব না অভাবের অভিনয়- তা চির রহস্য হয়ে আছে। যাই হোক- রাজনীতির আলোচনার আওয়ামীলীগের প্রসঙ্গ বেশি এসেছে কারণ তারা সরকারে আছে। একটি বিষয় না বললেই নয়- আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা নির্বাচনের পরে নির্বাচনের সময়কার জনপ্রিয়তার চেয়ে অনেক কমে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে ভরাডুবি নিশ্চিত। সেই ভরাডুবিতে বিদ্যুৎ প্রসঙ্গ ভূমিকা রাখবে, টিপাইমুখ বাঁধ প্রসঙ্গ ভূমিকা রাখবে, ছাত্রলীগের কার্যকলাপের প্রসঙ্গ থাকবে। বর্তমানেও যদি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে দেখা যাবে- আওয়ামীলীগ গত ফলাফলের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে। আর স্বভাবতই সেখানে বিএনপির ফলাফল এগিয়ে যাবে। এটাই রাজনৈতিক সমীকরণ।
৫৩ টি মন্তব্য
godhulirsurjo গোধুলীর সুর্য২৩ জুন ২০০৯, ০৬:৫০
এত বড়
পড়ছি
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫০
ধন্যবাদ।
prantik প্রান্তিক২৩ জুন ২০০৯, ০৬:৫২
"সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে ভাল বলেছেন, মোটামোটি একমত"
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫১
ধন্যবাদ আপনাকে।
charukotha চারু কথা২৩ জুন ২০০৯, ০৬:৫৭
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫১
khairul_ খায়রুল...।২৩ জুন ২০০৯, ০৬:৫৯
চমৎকার বর্ননা করছেন সজল ভাই। ধন্যবাদ।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫২
আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই।
qmilon ‍িমলন২৩ জুন ২০০৯, ০৬:৫৯
দাদা, সন্যাসীদের এসব দিকে নজর না দেয়াই ভালো। কি বলেন ?
নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখাটি ভালো হয়েছে, ধন্যবাদ।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫৪
মাঝে মাঝে দিতে হয় কারণ জগতের মঙ্গল করাই সন্ন্যাসের উদ্দেশ্য। প্লেটোর মত বলতে গেলে দার্শনিক শাসকই পারে সঠিকভাবে দেশ শাসন করতে। তাই- আমরা সন্ন্যাসীরা চাই আগামীতে বাংলাদেশের শাসনভার সন্ন্যাসী মনোভাব সম্পন্ন নেতাদের হাতে পড়ুক। তাহলে দূর্ণীতি হবে না, স্বজনপ্রীতি হবে না, অনৈতিক কাজ হবে না। সুশাসন চলবে। মানুষের উপকার হবে।
jakir জাকির বেপারী২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫৯
একমত সজলদা
opo_debota অপদেবতা২৩ জুন ২০০৯, ০৭:০২
ভাল লেখছেন,

ক্ষমতাই কি সবকিছু?
জনগন না ?
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫৯
জনগণ সবকিছুর মূলে- এই কথাটি সত্য হয় ৫ বছরে একবার। তা না হলে ক্ষমতাই সব।
charumannan চারুমান্নান২৩ জুন ২০০৯, ০৭:০৫
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:০০
inamul_hoque ইনামুল_হক২৩ জুন ২০০৯, ০৭:০৬
ভাল। সরকার এতই যদি বুঝত, তা হলে তারাও উপকৃত হত আমরাও হতাম।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:০২
আমি নিজেই বুঝি না- এত সহজ সমীকরণ বাংলাদেশের সরকারগুলো কেন বুঝলো না আর এখনও বুঝতে পারছে না।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৩ জুন ২০০৯, ০৭:০৮
ব্লগের রাজনৈতিক লেখাগুলো আমি পারত পক্ষে এড়িয়ে চলই। কারন এসব লেখায় বিশ্রি একটা দলীয় আনুগত্যের গন্ধ ভুড়ভুড় করে। আপনার লেখাটা নিরেপক্ষ দৃষ্টিকোন থেকে ভাল হয়েছে।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:০৭
আমার আদর্শ বাংলাদেশের উন্নয়ন হোক। এই আদর্শের সাথে কারও মিল পাই না তাই কাউকে সমর্থন করি না। তবে ভাল কাজ যে করবে তার পাশে অবশ্যই থাকব।
bbq_hearts ফারুক২৩ জুন ২০০৯, ০৭:১২
দাদাগিরিই মুল সমস্যা, পরর্বাতি নিরর্বাচনের কথা ও সরকার কে মনে রাখতে হবে , কিন্তু সব সরকারই মনে করে ভারত কে হাতে রখালে নিরর্বাচনে জয় লাভ করা যায়, এই কারনে খালেদা সরকারকেও তেদের সময় ভারতকে হুজুর হুজুর করতে হইয়েছে, মুল সমস্যা দাদাগিরি।
খালেদা সরকারের আমলে ভারত সেটেলাইটের মাধ্যমে নানা ভাবে প্রমান করার চেস্টা করছে তাল্পট্টি তাদের ,আমরাও সেটেলাইটের মাধ্যমে প্রমান বা প্রচার চালাইতে পারতাম , তখন সরকার কিছু বলে নাই সামনে নিরর্বাচন বলে, সব কিছুর মূলেই দাদাগিরি ।

আজকে খালেদা সরকার থাকলে একই পরিনিত হইত , আই মিন খালেদা থাকিত হাসিনার জায়গায় আর হাসিনা খালেদার জায়গায়। ( দাদাগিরি নিপাত যাক)
opo_debota অপদেবতা২৩ জুন ২০০৯, ০৭:২৬
সত্যিই,
তবু আমরা না বললে ওরা কি করবে তা বোঝা যায়
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:০৯
এগুলো হচ্ছে রাজনীতির এপিঠ-ওপিঠ। লঙ্কায় গেলে সব হয় রাবণ আর যেতে না পারলে হয়ে যায় নিরীহ সদাচারী মানুষ।
charumannan চারুমান্নান২৩ জুন ২০০৯, ০৭:১২
ভাল, সজল দা ।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:০৯
ধন্যবাদ আপনাকে।
sujanpranto12 সুজন২৩ জুন ২০০৯, ০৭:১৮
গুরুজি, দুনিয়াবি জিনিসে আমাদের চিন্তা ভাবনা না করাই ভাল। আমরা হলুম সন্ন্যাসী।
opo_debota অপদেবতা২৩ জুন ২০০৯, ০৭:২৭
মায়ানমারে কিন্তু সন্নাসীরা বিদ্রোহ করে
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:১১
সন্ন্যাসীরা সবসময় জগতের মঙ্গল চায়। তারা ব্যক্তিগত নয় সমষ্টিগত মঙ্গল চায়। তাই দেশ-ভাবনা সন্ন্যাসের মধ্যেই পড়ে।
samsulalammehedi মেহেদী২৩ জুন ২০০৯, ০৭:৫০

ঘটনা কি সজল ভাই?
আপনার কলমে রাজনীতি?
যাক খারাপ হয়নি। সহমত।

কেমন আছেন?
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:১২
আগামীতে এমন হতে পারে- আমি রাজনীতিতে নেমে গেছি।
jakir জাকির বেপারী২৩ জুন ২০০৯, ০৮:২৭
কৃষক ন্যায্য মূল্য না পেলে সে উৎপাদন কমিয়ে দেবে, উৎপাদন কমিয়ে দিলে আগামী বছর আবার চাল সংকট দেখা দিবে। -একমত

সর্বোপরি ভাল লিখেছেন, পোষ্টটা সকলের আলোচনার জন্য স্টিকি করা উচিৎ ছিল।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:১৩
ধন্যবাদ জাকির ভাই। কৃষি ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
meghlashomoy রকিব হাসান২৩ জুন ২০০৯, ০৮:৫৬
ধন্যবাদ সজল ভাই। আপনার সাথে সহমত পোষন করছি।

http://prothom-aloblog.com/users/base/meghlashomoy/119

সময় করে আমার এই পোস্টটি একবার পড়বেন।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:১৪
ধন্যবাদ আপনাকে। পড়ে আসলাম আপনার পোস্ট। খুব সুন্দর হয়েছে।
lubna09 লুবনা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:১৯
‌আমি রাজনীতির ঘোড় বিরোধী, তবু শেখ মুজিব কে আমি আদর্শ ভাবি, কিন্তু কষ্ট পাই যখন দেখি তার মেয়ে তাকে ছোট করছে, যেমন-এতোদিন ছিল ভাসানী নভো থিয়েটার সেদিন দেখলা, নাম পাল্টে হয়েছে শেখ মুজিব নভো থিয়েটার, আমার প্রশ্ন এই জিনিস গুলো শেখ হাসিনা বদলাতে পারছেন না, ভাসানীর কি কোন অবদান নেই এই দেশের প্রতি যে তার নামটা রাখা যাবে না। এই মানসিকতা না পাল্টালে কোন রাজনিতিক দল আর এই দেশের জনগনের ভোট পাবে না ভবিষ্যতে।
sharmabangla সজল শর্মা২৩ জুন ২০০৯, ০৯:২১
শেখ মুজিবকে অবশ্যই সম্মান করি- আর সবারই করা উচিৎ। আওয়ামীলীগ সরকারের সাথে অনেক আদর্শেই মিল খুজে পাওয়া যায় না।
mou মৌসুমী দত্ত২৩ জুন ২০০৯, ০৯:৪৪
পত্রিকায় পড়েছি ভাষানী থিয়েটারের পূ্র্ব নাম বংগবন্ধুর নামেই ছিলো।বিএনপি এসে এ নাম বদল করে।যখন এ নাম বদল করেছিলো তখন তো কেউ কিছু বলেনি।
আসলে পূর্বের ঘটনা না জানা থাকলে মানুষ সম্বন্ধে ভুল ধারনা হয়।
explorar_tahsin এক্সপ্লোরার_‍তা‍‍হসিন২৪ জুন ২০০৯, ০১:১৩
যেটাই হোক, একজন নাম বদল করলেই আর একজনকে নাম বদলাতে হবেই? মাওলানা ভাসানী তো বিএনপি'র লোক নন, তাহলে এতে বর্তমান আওয়ামী কিছু পণ্ডিতবর্গের সমস্যা কোথায়? আর বিএনপি ও মহাফাজিল। আর কোন কিছুর নাম দিতে পারে নাই শ্রদ্ধেয় ভাসানীর নামে! স্থানের কি এতই অভাব যে বঙ্গবন্ধুর নামটাই পরিবর্তন করতে হবে! কেন এত টানাহেঁচড়া! যাই হোক, দিয়েই যখন ফেলেছিল, তখন আর পরিবর্তন করা উচিত ছিলনা সরকারের।(আমি এসব দলের নাম মুখে আনতেও ঘৃণা করি। তারপরও বলতে হল। তারা নিজেদের স্বার্থ ছাড়া কিছুই বুঝেনা।)
rasel_kabir600 রাসেল কবীর২৩ জুন ২০০৯, ১১:০১
ভাল লিখেছেন, সজল দা ।
আপনার সাথে একমত।
sharmabangla সজল শর্মা২৪ জুন ২০০৯, ১২:৪৮
সহমতের জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
explorar_tahsin এক্সপ্লোরার_‍তা‍‍হসিন২৪ জুন ২০০৯, ০১:০৪
চমৎকার লেগেছে আপনার এই বিশ্লেষণধর্মী সমালোচনামূলক পোস্টটি। অনেক সময় নিয়ে পড়লাম। আমি পুরোপুরি আপনার সাথে একমত। আর এজন্যই দেশের রাজনীতিকে আমি ঘৃণা করি। রাজনীতি এখানে শুধুই ক্ষমতার জন্য, দেশের জনগণের জন্য নয়। দেশের কি হলো, না হলো, তা ভাবার সময় তাদের নেই। তারা শুধু আছে, ক্ষমতায় বসে কতটুকু দাপটের সাথে চলে পকেট পুরানো যায়। হায়রে.... রাজনীতি।:! :!
sharmabangla সজল শর্মা২৪ জুন ২০০৯, ১২:৫০
রাজনীতিবিদরা নিজের প্যাকেট গরম করুক, তাও মেনে নেওয়া যায় যদি তারা আগামী ৫ বছরের চিন্তা মাথায় রেখে কিছু হালকা হালকা কাজ করে যেত। তাহলেও দেশের অনেক উন্নয়ন সম্ভব ছিল।
trivuz ত্রিভুজ২৪ জুন ২০০৯, ০১:২৩
ভাল ও বেশ গঠনমূলক বিশ্লেষণ।
sharmabangla সজল শর্মা২৪ জুন ২০০৯, ১২:৫০
ধন্যবাদ আপনাকে।
smc এস মাহবুব২৪ জুন ২০০৯, ০৫:৪৭
এই সরল সমীকরণ যদি রাজনীতিবিদরা বুঝতেন তাহলে মানুষের জন্য কাজ করতেন।
কিন্তু হায় !
ক্ষমতায় যাওয়ার পর পর তাদের চশমা বদলে যায়।
ক্ষমতায় যারা পাঠিয়েছে সেই জনগণ হয়ে যায় গৌন
sharmabangla সজল শর্মা২৫ জুন ২০০৯, ০৩:০৩
তাদের চশমা বদলে যায়- একথা ঠিক। তারা তখন কাছের জিনিস ভাল দেখে, দূরের জিনিস দেখতে পায় না।
asmarshad আ,শ,ম,এরশাদ২৪ জুন ২০০৯, ০৬:৪৫
ধন্যবাদ গুরু, ভাল লিখেছেন,
১,সরকার বদলের সাথে সাথে বই পত্রে ইতিহাস কিছুটা পরিবর্তন হয়। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বেশিরভাগ বাঙ্গালীই জানে। যারা দেশের জন্য কাজ করেছেন তাঁদের প্রতি সম্মান সকলেই দেখাবে। তাই এসব নিয়ে এত মাতামাতির কোন কারণ নেই।

@ এটা সম্ভবত আপনি ঘোষকের ব্যাপারটা নিয়ে বলেছেন। এটি তত্বাবধায়ক সরকারের আমলের এক ব্যাক্তির মামলার ফলে রায়। স্বাধীনতার দলিল ঘষামাজা যারা করেছে, যারা অসত্য তথ্য ঢুকিয়েছে সেটা ঠিক করা ও জনগনের দাবি। সরকার বদলের সাথে বই পত্রের পরিবর্তনটা যদি সত্যের পক্ষে হয় তাহলে সেটা কেন করবে না। স্বাধীনতার দলিল(হাসান হাফিজ সম্পাদিত) এটি রক্ষা করাতে আমার মনে হয় ভাল কাজ করেছে।

৩। একটি বিষয় না বললেই নয়- আওয়ামীলীগের জনপ্রিয়তা নির্বাচনের পরে নির্বাচনের সময়কার জনপ্রিয়তার চেয়ে অনেক কমে গেছে।

@
এটা তথ্য গত ভাবে সমর্থন যোগ্য নয়। এটি একটি সাপেক্ষ ধারনা। আমরা মজ্জাগত ভাবে সরকার বিরুধী সে যেই দলেই হোক। কোন জরিপ থেকে এই তথ্য সমর্থন যোগ্য নয়, সাম্পতিক ইকোনোমইষ্টের প্রতিবেদনে ও জরিপ থেকে দেখা গেছে সরকারের সমর্থন আগের মতই আছে।

৪। আর একটা কথা বলি সেটা হল বাংলাদেশে এমন কোন সরকার আসবে না যে বিরুধী দলকে বা বিরুধীমতের কাউকে জীবনে ও খুশি রাখতে পারে,

৫, আপনার সমসাময়িক বিষয়ে লেখা এটি, তাই এ সময়ের আলোচিত ২টি ব্যাপর, বিএনপির সংসদে না যাওয়া। এটি আমি বলব বিএনপির দায়িত্ব হীনতা, এই ব্যাপরে এবং খালেদার বাড়ির ব্যাপরে একটু দিলে মনে হয় আরো পারফক্ট হত, কারন সংসদে না যাওয়া এবং সংসদে সামনের সারির আসন দাবি করা নিয়ে ও বিএনপি হাস্যকর অবস্তায় আছে, এ ছাড়াও এত দিন হয়ে গেছে ওরা সংসদের উপনেতে নির্বাচন করতে পারল না। তাই উনাদের ণিজের ব্যার্থতা গুলো ও আগে ডাকতে হবে। তাদের অনেক নবীন সদস্য আছেন। যাদের প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্বেও সংসদে যেতে পারছেনা।
সামনের সারির আসন বড় না দেশ বড় না দল বড়? উনাদের মুখে শুনি ব্যাক্তির চেয়ে দল বড়,দলের চেয়ে দেশ বড়, দেশ বাঁচা ও মানুষ বাচাও এখন উনারা বাড়ি বাঁচাও এবং সামনের সারির আসন বাড়াও আনন্দোলনে ব্যাস্ত।
বুঝা উচিত তাদের দেশের জনগন চায়নি সামনের সারিতে বেশী করে। ভাল কাজ করে গেলে হ্য়ত ভবিষ্যতে বসতে ও পারবে সামনের বেশী আসনে।
sharmabangla সজল শর্মা২৪ জুন ২০০৯, ১২:৪৭
১। সঠিক ইতিহাস আসুক- সুস্থ মনের সকল নাগরিক সেটাই চায়। এখন ইতিহাস ঠিক করতে গিয়ে অন্য প্রসঙ্গ ভুলে গেলে তো আর দেশ চলবে না। ইতিহাসের কাজও চলুক, সমান্তরালে অন্য কাজও চলুক- এটাই জনগণ আশা করে। কিন্তু দেখা গেছে, একদল ঠিক করতে থাকে আরেকদল এসে সেটা কাটতে থাকে। একদল নতুন আইন করে, আরেকদল সেই আইন রদ করে নতুন আইন করে। তাহলে দেখা যাচ্ছে স্থিতিশীলতা নেই। তাই এসব বিষয়কে গৌণ রেখে অন্য কাজে হাত দেওয়া উচিৎ। মুখ্য- অতীব জরুরী বিষয়ও চলুক, সমান্তরালে গৌণ কাজগুলোও চলুক। যেমন: এখন বিদ্যুতের ব্যাপারে জরুরী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন কারণ মানুষ দূর্ভোগে আছে। নতুন আইন, আর ইতিহাস সঠিক করার কাজ আরও ছয় মাস পরে বাস্তবায়ন হলেও সমস্যা হবে না কারণ গত ৫ বছর যদি ওভাবে চলে আসতে পেরেছে, জনগণের উপর কোন খারাপ প্রভাব ফেলতে পারেনি- তাহলে আরও ছয় মাস চললেও মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। কিন্তু দেশে জ্বলন্ত বিষয়গুলো সমাধান করতে হবে। বিদ্যুতের একটা সমাধান আসার পরে, অথবা টিপাইমুখের ব্যাপারে কোন সফল সমাধানের পরে যদি এই রায়গুলো আসত বা পদক্ষেপ আসতো তখন সরকারে দ্বিগুণ লাভ হত।

২। সরকারের জনপ্রিয়তার সাথে মতভেদ থাকবেই- এটা স্বাভাবিক। বাংলাদেশে প্রত্যেক দলের কিছু ধ্রুব সমর্থনকারী আছে যাদের সমর্থন দুনিয়া উল্টে গেলেও পরিবর্তন হবে না। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করে পরিবর্তনশীল সমর্থকদের উপর যাদের সমর্থন সরকারের কাজের উপর নির্ভর করে। ঢাকায় তো আওয়ামীলীগ আসন পেয়েছে। এখন ঢাকার সাধারণ মানুষকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়- তাহলেই বুঝা যাবে। গরম আর লোডশেডিংয়ের প্রভাবে অতিষ্ঠ কোন নাগরিকই সরকারের গুণগান করবে না যদিও ভোটে সে এ দলের পক্ষেই ভোট দিয়েছে। এ তো গেল একটি বিষয়। আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীরে গেলে দেখা যাবে কনপ্রিয়তা কমে গেছে। তবে ছয় মাস হয়েছে- এই সময়ে ধরে নেওয়া হয় নির্বাচনের মতই অবস্থা রয়ে গেছে। আমি রাজনীতি নিয়ে এত মাথা ঘামাই না, তবে আমার যুক্তিতে, সামগ্রিক অবস্থা পর্যালোচোনা করে, কিছু পেছনের ইতিহাস মাথায় রেখে বলতে হয়- সরকারের জনপ্রিয়তা কমেছে। তবে তা এখনও প্রভাব ফেলার মত অবস্থায় যায়নি। সরকারকে সচেতন হওয়া দরকার আগেভাগেই।

৩। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতিই এমন। সরকার ভাল করুক আর খারাপ করুক, বিরোধী দল উভয় অবস্থাতেই সরকারের বিপক্ষে থাকবে।

৪। আমি অনেক বিষয়ই আলোচনা করিনি। আমার কাছে যা গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে তাই নিয়ে এসেছি। বিরোধী দলের সংসদে না যাওয়া কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ এরকম নাটকের অভিনয় প্রতিবার ঘটে। আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকলে তারাও এমন করে। আমাদের মেহফিলের ভাষার বলা যায়- সংসদ হচ্ছে জনপ্রতিনিধিদের জলসাঘর। সংসদের আলোচনা হচ্ছে রাজনৈতিক শায়েরী। শায়েরী শুনার পর আমরা যেমন মারহাবা মারহাবা বলি- উনারাও তেম টেবিল ছাপড়ে সমর্থন দেন। জনগণ এসবের উপর এত বেশি নজর দেয় না। তাদের নজর সরকারের কাজের উপর থাকে। জনগণ দেখবে তার পাশে ভাঙ্গা রাস্তা মেরামত হলো কি না, ভাঙ্গা সেতুটি ঠিক হলো কি না, লোডশডিং কমলো কি না, জিনিসপত্রের দাম কমলো কি না- এইসব। বিরোধী দল কি করছে না করছে সেটা জনগণের কাছে এখন গৌণ। সরকারই মুখ্য। তবে এই সমীকরণ ধ্রুব যে সরকারের জনগণের মনের মত কাজ না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরোধী যেকোন দলের সমর্থন বাড়তে থাকবে।
amibangladeshi আমি বাংলাদেশী২৪ জুন ২০০৯, ০৯:৩১
চমৎকার লেখা।
আপনি আমাদের রাজনীতির সঠিক চিত্রটি তুলে ধরেছেন।
sharmabangla সজল শর্মা২৪ জুন ২০০৯, ১২:৪৭
ধন্যবাদ আপনাকে।
kazimustofa কাজী মোস্তফা২৫ জুন ২০০৯, ০৪:২৩
রাজনীতি বড্ড কঠিন ও খুব সোজা বিষয়। এটা নিয়ে যে কেউ যে কোন মস্তব্য করতে পেছপা হবে না। সকলেরই নিজস্ব বিশ্বাস ও চিন্তা ভাবনা আছে এবং সকল ভাবনাই সঠিক। রাজনীতি নিয়ে politics করতে ভাল লাগে না। ধন্যবাদ।
sharmabangla সজল শর্মা২৫ জুন ২০০৯, ০৫:৩৬
ধন্যবাদ।
akmnizam আশাবাদী মানুষ২৫ জুন ২০০৯, ০৫:৫৩
চমৎকার আলোচনা । খুব ভাল লেগেছে ।
sharmabangla সজল শর্মা২৫ জুন ২০০৯, ০৫:৫৮
ধন্যবাদ জনাব।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment