নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন না হলে আমাদের করনীয়।
সামনে নির্বাচন। রাজনীতির মাঠ গরম। বাইরে হিমেল হাওয়া থাকলেও উত্তেজনা আর উত্তাপের শেষ নেই। প্রার্থী-সমর্থক সবাই উত্তপ্ত। ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে যাচ্ছেন। ভোট প্রার্থনা করছেন। এই সময় সাধারণ ভোটার হিসেবে নিজেকে খুব সম্মানিত মনে হয়। সব দলের প্রার্থী আসছেন। হাত মেলাচ্ছেন। জড়িয়ে ধরছেন। কাঁদো-কাঁদো গলায় ভোট চাইছেন। আমার খুব ভাল লাগে। আমার মতো সবাই-ই এই বিষয়টা উপভোগ করছেন। আমাদের মানে ভোটারদের এই ভাললাগাটা যেন নির্বাচনের পরেও থাকে। নির্বাচনের পর আমরা কী কী করতে পারি তা এই পোস্টের বিষয়। আশা করি গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল ভেবে কেউ বিরক্ত হবেন না।
আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে দিন বদলের সনদ। আর বিএনপি-দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও।
এখানে আমি কারও ইশতেহার নিয়ে কথা বলছি না। ইশতেহারের বাইরে প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন তা মনে রাখবেন। এবার আমাদের করণীয় কী বলছি- প্রার্থীদের আমরা যা বলতে বা মনে করিয়ে দিতে পারি-
০ তিনমাস চলে গেল রাস্তা ঘাটের উন্নতি হলো না। রাস্তার অভাবে অমুকের স্ত্রীকে হাসপাতালে নেবার পথেই সন্তান প্রসব করতে হয়েছে ফলে স্ত্রীটি মারা গেছে। আপনি রাস্তা করে দেবেন বলেছিলেন- না কী এখন এলাকার রাস্তার কথাই ভুলে গ্যাছেন।
০. আপনি বলেছিলেন, আমার এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। তাহলে আপনার দেহরক্ষী দুজনের পরিচয় কী আপনি ভুলে গিয়েছেন। আপনি বেতন দিয়ে সন্ত্রাসী পুষছেন?
০. রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আখড়া। পুলিশ তাদের ধরছে না। এলাকাবাসীকে মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দিচ্ছে তারা আপনার লোক, মাসে মাসে আপনাকে বাট্টা দিচ্ছে। তাহলে আপনাকে ভোট দিয়ে কী ভুল করেছিলাম?
০. স্কুল কলেজের মোড়ে বখাটেরা বসে থাকে। আমাদের মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। ওরা আপনার নামে এখনও শ্লোগান দিয়ে ভয় দেখায়-শীষ বাজায়। আপনার ছোট ভাই ওদেরকে বসিয়ে রেখেছে বলে মেয়েদের হুমকি দেয়া হয়।
০. থানাটা কী আপনার নিজের? মামলা নিতে পুলিশের এতো অনাগ্রহ, কথায় কথায় আপনার অজুহাত দেখায়। আপনি বললেই মামলা হবে?
০. আপনাকে ভোট দেয়নি বলে হিন্দু পাড়ায় রাতের আঁধারে হামলা চালানো হচ্ছে। হামলাকারীরা বলছে ভোট দ্যাও নাই এইবার দেশ ছাইড়া ভাগ। নাইলে তোমার মাইয়াডারে তুইলা নিয়া যামু। এসব কী আপনার শান্তিপ্রিয় মানসিকতার বহি:প্রকাশ? আপনি চুপ করে থাকবেন না। জবাব দিন।
০. ত্রাণের টিন দিয়ে আপনার নামে গড়ে তোলা কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ এখন কী ওই কমিউনিটি সেন্টারে থাকবো।
০. আমাদের বস্তিটার দিকে একবার ফিরেও তাকালেন না। ছয় মাস তো গেল। নলকুপ নাই, বিদ্যুত নাই। আমরা কী... আপনাকে ভোট দিয় ভুল করেছি।
০. আপনার ছোট ভাইয়েরা আমাদের গার্মেন্টসে গিয়ে টাকা চাচ্ছে। এটা না কী চাঁদা নয়। আপনার নির্বাচনী খরচ পুষিয়ে নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের খরচ আমাদের কাছ থেকে পুষিয়ে নেবেন জানলে আপনাকে কী কেউ ভোট দিত, আমাদের জানালে খুঁশি হবো।
০. আপনার স্ত্রী ব্রিজের টোল থেকে প্রতি রাতে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আমরা চলবো কীভাবে। আপনার স্ত্রী কেন ব্রিজটা ইজারা নিলেন না।
০. আপনার ছেলেটা গাড়ি ছিন্তাই করে ধরা পড়লো। আপনাকে ভোট দিয় লজ্জা পাচ্ছি। আপনার কী লজ্জা নেই।
আপনাকে আর কত বলবো। আপনি আপনার কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেননি। আমরা আগামী পাঁচিট বছর আপনার কথা মনে রাথবো। আগামী নির্বাচেন আপনি আবার ভোট চাইতে আসলে তখন আপনার জবাব পেয়ে যাবেন। এখনও সময় আছে নিজেকে সংশোধন করুন। আমরা ভোটাররা এবার একজোট হয়েছি। নির্বাচন এলেই আপনারা এলাকায় আসবেন অতিথি পাখি হয়ে তা হবে না। মনে রাখবেন আপনাকে আমরাই জয়ী করেছি। পরাজয়ের চাবিকাঠিও আমাদের হাতেই।
ব্লগার বন্ধুরা আপনাদের আরো যা যা বলার এখনই তালিকা করে রাখুন। ভাল থাকবেন সবাই।
আওয়ামী লীগ তাদের ইশতেহারের নাম দিয়েছে দিন বদলের সনদ। আর বিএনপি-দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও।
এখানে আমি কারও ইশতেহার নিয়ে কথা বলছি না। ইশতেহারের বাইরে প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের যেসব প্রতিশ্রুতির কথা বলছেন তা মনে রাখবেন। এবার আমাদের করণীয় কী বলছি- প্রার্থীদের আমরা যা বলতে বা মনে করিয়ে দিতে পারি-
০ তিনমাস চলে গেল রাস্তা ঘাটের উন্নতি হলো না। রাস্তার অভাবে অমুকের স্ত্রীকে হাসপাতালে নেবার পথেই সন্তান প্রসব করতে হয়েছে ফলে স্ত্রীটি মারা গেছে। আপনি রাস্তা করে দেবেন বলেছিলেন- না কী এখন এলাকার রাস্তার কথাই ভুলে গ্যাছেন।
০. আপনি বলেছিলেন, আমার এলাকায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই হবে না। তাহলে আপনার দেহরক্ষী দুজনের পরিচয় কী আপনি ভুলে গিয়েছেন। আপনি বেতন দিয়ে সন্ত্রাসী পুষছেন?
০. রাস্তার মোড়ে মোড়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আখড়া। পুলিশ তাদের ধরছে না। এলাকাবাসীকে মাদক ব্যবসায়ীরা হুমকি দিচ্ছে তারা আপনার লোক, মাসে মাসে আপনাকে বাট্টা দিচ্ছে। তাহলে আপনাকে ভোট দিয়ে কী ভুল করেছিলাম?
০. স্কুল কলেজের মোড়ে বখাটেরা বসে থাকে। আমাদের মেয়েরা স্কুলে যেতে পারে না। ওরা আপনার নামে এখনও শ্লোগান দিয়ে ভয় দেখায়-শীষ বাজায়। আপনার ছোট ভাই ওদেরকে বসিয়ে রেখেছে বলে মেয়েদের হুমকি দেয়া হয়।
০. থানাটা কী আপনার নিজের? মামলা নিতে পুলিশের এতো অনাগ্রহ, কথায় কথায় আপনার অজুহাত দেখায়। আপনি বললেই মামলা হবে?
০. আপনাকে ভোট দেয়নি বলে হিন্দু পাড়ায় রাতের আঁধারে হামলা চালানো হচ্ছে। হামলাকারীরা বলছে ভোট দ্যাও নাই এইবার দেশ ছাইড়া ভাগ। নাইলে তোমার মাইয়াডারে তুইলা নিয়া যামু। এসব কী আপনার শান্তিপ্রিয় মানসিকতার বহি:প্রকাশ? আপনি চুপ করে থাকবেন না। জবাব দিন।
০. ত্রাণের টিন দিয়ে আপনার নামে গড়ে তোলা কমিউনিটি সেন্টার করা হয়েছে। আমরা গরীব মানুষ এখন কী ওই কমিউনিটি সেন্টারে থাকবো।
০. আমাদের বস্তিটার দিকে একবার ফিরেও তাকালেন না। ছয় মাস তো গেল। নলকুপ নাই, বিদ্যুত নাই। আমরা কী... আপনাকে ভোট দিয় ভুল করেছি।
০. আপনার ছোট ভাইয়েরা আমাদের গার্মেন্টসে গিয়ে টাকা চাচ্ছে। এটা না কী চাঁদা নয়। আপনার নির্বাচনী খরচ পুষিয়ে নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের খরচ আমাদের কাছ থেকে পুষিয়ে নেবেন জানলে আপনাকে কী কেউ ভোট দিত, আমাদের জানালে খুঁশি হবো।
০. আপনার স্ত্রী ব্রিজের টোল থেকে প্রতি রাতে টাকা নিয়ে যাচ্ছে। আমরা চলবো কীভাবে। আপনার স্ত্রী কেন ব্রিজটা ইজারা নিলেন না।
০. আপনার ছেলেটা গাড়ি ছিন্তাই করে ধরা পড়লো। আপনাকে ভোট দিয় লজ্জা পাচ্ছি। আপনার কী লজ্জা নেই।
আপনাকে আর কত বলবো। আপনি আপনার কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করেননি। আমরা আগামী পাঁচিট বছর আপনার কথা মনে রাথবো। আগামী নির্বাচেন আপনি আবার ভোট চাইতে আসলে তখন আপনার জবাব পেয়ে যাবেন। এখনও সময় আছে নিজেকে সংশোধন করুন। আমরা ভোটাররা এবার একজোট হয়েছি। নির্বাচন এলেই আপনারা এলাকায় আসবেন অতিথি পাখি হয়ে তা হবে না। মনে রাখবেন আপনাকে আমরাই জয়ী করেছি। পরাজয়ের চাবিকাঠিও আমাদের হাতেই।
ব্লগার বন্ধুরা আপনাদের আরো যা যা বলার এখনই তালিকা করে রাখুন। ভাল থাকবেন সবাই।
লেখক শামীমা সুমি
- শামীমা সুমি -এর ব্লগ
- ৭ টি মন্তব্য
- ২৫ জানুয়ারি ২০০৮, ০৯:৩৫
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৭ টি মন্তব্য
-
আতিকুর রহমান২৬ ডিসেম্বর ২০০৮, ০৯:৪৯
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে কি করব? আপনার কথাগুলো গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যাদের ভোট দেই তাদেরকে কথা শুনানোর অধিকার এবং প্রয়োজন দুটোই আছে। -
সুমিন শাওন২৬ ডিসেম্বর ২০০৮, ০৯:৫১
প্রতিশ্রুতির কথা বাদ দিয়া নিজের জানের চিন্তা কইরা কইলমা কালাম মুখস্থ রাখা ভালো -
নীড় সন্ধানী২৮ ডিসেম্বর ২০০৮, ০৮:০৫
খুবই চমৎকার হয়েছে আপনার লেখাটা।
তবে অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না হবার সম্ভাবনা ৯৯%। এটা জেনেই আমরা ভোট দেই। আগামী ৫ বছর পরে আপনি তাকে ভোট দেবেন না তাও ঠিক। কিন্তু এই ৫ বছরই যথেষ্ট সারাজীবনের কামাইয়ের জন্য। পরের পাঁচ বছর অন্য কেউ এই আসনটা কিনে নিবে, তখন আবার নতুন মানুষের প্রতিশ্রুতি। আবার অপেক্ষা। আবার আশাভঙ্গ। আবার নতুন মুখ। এভাবেই চলছে যুগ যুগ......
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
তাই তো !!!
--গরীব মানুষ কমিউনিটি সেন্টার দিয়ে কি করবে --..... ঠিক বলেছেন