ফেব্রুয়ারি
২৬

মুখোমুখি যাত্রা

সময় ২৩:৪৬:১৯

আমার কবিতা

কড়া করে নিতে চাই তোমার ঠোঁটের রস
চায়ের মত চুমুকে।
অমুকে অমন বলে
কেমন কেমন
লাজে নত হই।
ঝুলে থেকে শূণ্যে
মহাকাল মহাশূণ্যে
শুধু তাকিয়ে তাকিয়েই

ফেব্রুয়ারি
১৪

শান্তি শান্তি শান্তি

সময় ১৬:২৯:২৩

আমার কবিতা

কুসুমপুর তোমাকে আমি দেখিনি
অথবা উদয়পুর
দাক্ষিণাত্যেও যাইনি সবুজ সমুদ্র সমারোহে
যাইনি পাহাড় ছোঁয়া মেঘ ফটিক জল স্পর্শ নিয়ে
তুমি স্বপ্নপুরীর জলকন্যা
চলো জলকে হেসে ভেসে

মজনুন হইনি আমি
ডুব সাঁতার দিতে শিখে নিয়েছি মন
শৈবাল সরিয়ে নিয়ে
রেখেছি মুক্তো দানা সাদা সব

তুমি মুক্তি দিলে আমাকে
বিদ্ধশর নিষিদ্ধ যন্ত্রণা শুষে নিলে
আমি তোমাকে নিয়ে বাঁধিবো গান
ক্ষুধা আমার করিবো দূর
প্রান্তর রক্তিম পেরিয়ে শব যাত্রায় হবো লীন

উন্মুখ হও তুমি
ছুঁড়ে ফেলে দাও পতিত অঙ্গ সব
রঙ্গ মঞ্চে সতী-সাধ্বী? হয়ে উঠো নর্তকী স্বর্ণা
নাও দেখে আমার প্রসন্ন পরম নির্মল রোদ কান্তি।
শান্তি।
শান্তি।

ফেব্রুয়ারি
০৭

পরশ পাহাড়

[শেষ পর্ব]

সময় ১২:২৬:০৩

আমার গল্প

পরশ পাহাড় [শুরুর পর্ব]
পরশ পাহাড় [মধ্য পর্ব]

এ ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে যায়। সাব্বিরের পাহাড়ে ঘোরার নেশা কাটে না। মায়ের অজান্তে সুযোগ পেলেই সে পাহাড়ে চলে যায়। মুক্ত স্বাধীন জীবনটা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। পাহাড়ের কোথাও কোথাও ঘুরলে কোন কোন জায়গাকে তার খুব রহস্যময় মনে হয়। কী না কী আছে এতে। শুধু তার নিজের মত আবিষ্কার করার অপেক্ষা। ঔ যে দূরে পাহাড় ঘেরা লেকটা। কী সুন্দর প্রকৃতির কোলে শরীর এলিয়ে বয়ে চলেছে। সাব্বির তার কাছে পৌঁছে যায়। এই লেকের নীরব নিঃসঙ্গ সময়ের রুপ তাকে বেশী টানে। কিন্তু সে রুপের দেখা হয়ে উঠে না যে! কোথা থেকে এত মানুষ যে আসে এ লেকের কাছে! পাহাড়-প্রকৃতি আর লেকের নিঃসঙ্গতা তাকে ভীষণ টানে। কী জানি, এদের সাথে তার এক আত্মার সম্পর্ক সে খুঁজে পায়। বছরের কোন কোন সময়ে এলে সে এই পাহাড়-প্রকৃতি বা লেককে মোটামুটি নিঃসঙ্গ অবস্থায় পাবে, তা জানা হয়ে গেছে তার। এই তো কিছুদিন আগে, সে ফিরতে বেশ দেরী করে ফেলে। বুকের ভেতরটা কেমন ধুকু-পুকু করতে থাকে, যদি আজ মা কিছু বলে। মাঝে মাঝে তাকে না পেলে মা যে কেমন অস্থির হয়ে উঠে। ...

ফেব্রুয়ারি
০৬

পরশ পাহাড়

[মধ্য পর্ব]

সময় ২১:০৫:৫৫

আমার গল্প

পরশ পাহাড় [শুরুর পর্ব]

তাই এবারে সে উৎসাহ খুঁজে পেতে চায়। তার বয়েসের বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে মাঠে ঘুরে ফিরে। সুযোগ বুঝে কক ফাইট (মোরগের লড়াই)-এর বৃত্তের মাঝে ঢুকে পড়ে। বাছাই পর্বে ফাইটে টিকে থাকা যে আটজনকে বেছে নেয়া হয়, তাতে তার নাম আসে। প্রথম চারজনের মাঝেই সে ছিল। একটা আকাঙ্খা গড়ে উঠে সাব্বিরের মাঝে। খেলায় যে চতুরতার আশ্রয় সে নিয়েছে, তা অনুসরণ করলে প্রথম তিনজনে তার নাম আসাটা অসম্ভব কিছু না। সে সেদিনের মত বাসায় পৌঁছে যায়। মনে মনে ভালভাবে সে ফন্দি আঁটে, কিভাবে অন্যদের আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচাবে। সে ডিফেন্সিভ খেলতে ভালবাসে। অন্যরা কাঁধ দিয়ে আক্রমণে এলেই সে কুঁজো হয়ে নুইয়ে পরে। তাই আক্রমণগুলো তার গায়ে আর লাগে না। অন্যরা নিজেদের মধ্যে ফাইট করুক, ঝরে পড়ুক। কিন্তু সে নিজে তাতে শরীক হবে না। যখন সংখ্যা কমে তিনে আসবে, তখনই সে সুযোগ খুঁজবে কিভাবে দু'জন মিলে একজনকে আক্রমণ করা যায়। পরিকল্পনা পাকাপাকি করে রাতে সে ঘুমাতে যায়। রাত তার আর কাটে না, যেন স্বপ্নেও সে দেখে কিভাবে তাকে যুদ্ধে টিকে থাকতে হবে। সকালে ঘুম থেকে সে ঠিকমত উঠতে পারে না। চোখে ঘুমের ...

ফেব্রুয়ারি
০৬

পরশ পাহাড়

[শুরুর পর্ব]

সময় ১৪:১৯:৪৫

আমার গল্প

[গতবছর এই দিনে কবিতা দিয়ে ব্লগে আমার আগমন ঘটেছিল। ফলশ্রুতিতে এক গাদা কবিতা লেখা। আজ এই দিনে বছর পরিক্রমায় একটা গল্প দিয়ে শুরু করছি। আশা করি, সব সময়ের মত আপনাদের সাথে পাবো। আপনাদের উৎসাহ, ভাল-মন্দ মন্তব্য এবং অল্প-বিস্তর সমালোচনা-আলোচনা আমার এ চলার পথকে আরো সমৃদ্ধশালী করে তুলবে, এ বিশ্বাস পোষণ করি। সবাইকে শুভেচ্ছা ও মঙ্গল কামনা।

ব্লগে অনুগল্পের যে ধারা চলছে, তার সাথে এ যাত্রায় তাল মিলাতে পারছি না আমার অক্ষমতার কারণে। তাই পাঠকের পাঠাভ্যাসের কথা বিবেচনা করে আমার গল্পটাকে ছোট ছোট তিন পর্বে তুলে ধরা। আগ্রহী পাঠকদের সুবিধার্থে পর্ব তিনটি দু'দিনের মধ্যে ব্লগে দিয়ে দিতে চাই। আপনাদের আশীর্বাদ কাম্য।]


পাহাড়ের পাদদেশে থেকে থেকে কেমন যেন উন্মনা হয়ে উঠে সাব্বির। দৃষ্টি তার দূরে ফেলতে পারে না। বাড়ি পালানো ছেলের মতো লুকিয়ে লুকিয়ে পাহাড়ে চড়েছে সে। তাও সুযোগ বুঝে, যখন মা বাসায় থাকেন না বা দুপুরে খাওয়া শেষে গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেলে। বাবা তো অফিসে, কখনও কখনও অফিসের কাজে ট্যূরে। কষ্ট করে পাহাড়ে একবার উঠে পড়লে কি চমৎকারই না লাগে। মজাও কী কম। পৃথিবীর নির্মল বায়ু সেবন, সে ...

জানুয়ারি
৩০

জহির রায়হান: আমাদের পরিচিতির এক জ্বলন্ত পুরুষ

সময় ১৪:০১:৪৪

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব

আবার পোস্ট দিতে হলো এই মহান ব্যক্তির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা দেখিয়ে।



শ্রদ্ধাজ্ঞলি: আজ ৩০শে জানুয়ারী, জহির রায়হানের অন্তর্ধান দিবস বলে প্রচলিত। ১৯৯২ সালের এই দিনে তার অন্তর্ধানকে স্মরণ করে জহির রায়হান চলচ্চিত্র সংসদ একটি স্মরণিকা প্রকাশ করে। প্রদত্ত ছবি ও লেখা সবকিছুই সে স্মরণিকা থেকে নেয়া। "জহির রায়হান অনুজ জাকারিয়া হাবিব থেকে জহির রায়হানের অপ্রকাশিত লেখা, স্বাক্ষর ও স্হিরচিত্র সমূহ সংগৃহীত" বলে স্মরণীকায় উল্লিখিত। সে সাথে উপরের লেখাসহ নীচের শ্রদ্ধাজ্ঞলি-তে ব্যবহৃত কাব্যিক ঘরানার উক্তি দু'টো "জহির রায়হানের ১৯৫৬ সালের ডায়েরীর পাতা থেকে নেয়া"।




সে সাথে পড়ুন জহির রায়হানের অপ্রকাশিত অসম্পূর্ণ গল্প। গল্পটি আমার ১৯ থেকে ২৬ পোস্টে ...

জানুয়ারি
২৩

U2 এবং আমার গান লেখার প্রয়াস

সময় ০০:০৫:০১

গানের অনুবাদ ও গান লেখা

গায়ক বোনো in U2: It's A Beautiful Day

উৎসর্গ: আমাদের চলচ্চিত্রের যোদ্ধাকন্ঠ প্রয়াত আলমগীর কবির। ২০ শে জানুয়ারী যার লোকান্তর দিবস।

টনি ব্রাক্সটন এবং আমার গান লেখার প্রয়াস| মিন্ডি স্মিথ এবং আমার গান লেখার প্রয়াস
শেনায়া টুইন এবং আমার গান লেখার প্রয়াস
| সিনেড ও'কনোর এবং আমার গান লেখার প্রয়াস
ডায়ানা ক্রাল এবং আমার গান লেখার প্রয়াস| ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা এবং আমার গান লেখার প্রয়াস


অনুবাদ: It's A Beautiful Day

শক্ত লৌহদন্ডের ন্যায় হৃদয়
পাথর ভূমি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে
এই শহরে বাসা ভাড়া করে থাকার
কোন জায়গা নেই তোমার

ভাগ্য যে তোমার ভাল নেই
তাই চিন্তিত হচ্ছো তুমি -
ভীড়ে আটকা পড়ে তুমি
চলছো না তো একটুখানি
ভাবছো বন্ধু এক এসে
করবে উদ্ধার
শুভেচ্ছার বিনিময়ে কেউ যদি তোমায়
বাড়ায় সাহায্যর হাত

কী সুন্দর দিন আজ
নেমে এলো আলো ঝলোমল পৃথিবী
আহ্‌, কী ...

জানুয়ারি
১৪

শ্রদ্ধাজ্ঞলি: নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন শ্রদ্ধাস্পদেষু

সময় ১১:৩৭:৪৭

স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব


[১৯৯৮ সালে যিনি বেশ জোরের সাথেই বলেছিলেন তিনি আর দশ বছরের বেশি বাঁচবেন না। মৃত্যুর দশদিন আগেই যিনি তার আসন্ন অবধারিত মৃত্যু সম্পর্কে বলে দিয়েছেন। আজ তার মৃত্যুবার্ষিকীতে এই নিবেদন - তারই দিনলিপি থেকে তুলে দেয়া তিনটি কবিতা - যা তিনি ২০০৩ সালের বিভিন্ন সময়ে লিখেছেন।

সৌজন্যে "দৈনিক ইত্তেফাক"। দিনলিপির বিস্তারিত পড়তে বিনীত উৎসাহ জানান হচ্ছে দৈনিক ইত্তেফাক জানুয়ারী ১৬, ২০০৯]


২৫.১০.০৩ ইং

সহসা মৃত্যু এসে দাঁড়ালো সম্মুখে
সাঁঝতারা চোখে নিয়ে হায়
ছিঁড়ে খুড়ে যাই আমি কুঁকড়ে কুঁকড়ে যাই
অপূর্ব ভয়ে কাঁপলো সকল স্নায়ু
পশ্চিম আঁধার ও বেগুনি দিগন্ত।
পথের অতীত আরেকটি পথ এসে
গন্তব্যের ইঙ্গিতে দাঁড়ালো সম্মুখে।
আমি মৃত্যুচ্ছায়া চির লুপ্তি শূণ্য সুপ্তির
দেশ থেকে এসেছি
শূণ্যতার পাখায় উড়ায়ে ফুরায়ে নিব
বই থাকলো পিছন শিউলি বকুল দিন
থাকলো পিছন ওই তাহাদের মুখ

উষর নীলে বাষ্প যাত্রা
নিঃশ্লোক সশ্লোক।



০৮.১২.০৩ ইং

আজ বোধ হয় অগ্রহায়ণের পূর্ণিমা
আরেক সঙ্গী ছায়া চলেছে পথে পথে
আরেক কালিন্দী তবু সুখ নেই সুখ ...

ডিসেম্বর
১৪

রক্তপিয়াসুর রক্তিমাভ কথন

সময় ০৯:২৮:৫৩

আমার কবিতা

[বিগত ২৬শে মার্চে লেখার চেষ্টা করেছিলাম। এখন পরিশোধন করা হলো।]


যখন ডিম্বানু নিষিক্ত হলো
আমি টের পেলাম না
যখন মাতৃজঠরে 'আলাকাহ' রুপ পেলো
আমি টের পেলাম না
যখন মস্তিষ্ক ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তৈরি হলো
আমি টের পেলাম না
যখন শিশু পেল পূর্ণতা
মাতৃগর্ভ পেলেও
আমি টের পেলাম না।
অতঃপর পৃথিবী তার দ্বার উন্মুখ অবারিত করলো
তখনও আমি টের পেলাম না।

যায় দিন মাস
চক্রাকারে ঋতু
তবুও টের পেলাম না।

আমার পৃথিবীর রঙ হতে থাকে কালো
রাত দিন মিলে মিলে হয় বিষন্ন বিকৃত মলিন
ছুটে যায় যত্রতত্র বৃহৎ ভয়ংকর ভয়াবহ অজগর দ্রুত
অশান্ত নেতা আমার শান্তির পতাকা উড়ায় -
প্রাণ ভরে আমি করি উপভোগ
অথচ তখনও পেলাম না টের।

নেতার নির্দেশে
একের পর এক
বুদ্ধির পর বুদ্ধি
মুক্তির পর মুক্তি
আমা কর্তৃক নিঃশেষিত হলেও
আমি টের পেলাম না।

যখন একদিন আমার চোখে তারা কালো কাপড় পড়ায়
হিঁচড়ে টেনে আমাকে নিয়ে যায়
গর্জনশীল সুবিশাল সমুদ্রের সুনীল আয়োজনে
সেই নিকষ কালো আঁধারে সত্য সত্যই
আমি প্রথম টের পাই।
সে সাথে এক রাইফেল বাটের সুতীব্র আঘাত
তমসাচ্ছাদিত হয়ে উঠে আমার ...

নভেম্বর
০৯

টনি ব্রাক্সটন এবং আমার গান লেখার প্রয়াস

সময় ০০:১৭:৫০

গানের অনুবাদ ও গান লেখা

টনি ব্রাক্সটন : Unbreak My Heart

মিন্ডি স্মিথ এবং আমার গান লেখার প্রয়াস
শেনায়া টুইন এবং আমার গান লেখার প্রয়াস|সিনেড ও'কনোর এবং আমার গান লেখার প্রয়াস
ডায়ানা ক্রাল এবং আমার গান লেখার প্রয়াস|ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা এবং আমার গান লেখার প্রয়াস

অনুবাদ: Unbreak My Heart

আমাকে এত যন্ত্রণার মাঝে ছেড়ে দিও না
আমাকে এই বাদলা ঝড়ে বাহিরে রেখো না।
ফিরে এসে আমার হাসি ফিরিয়ে দাও
ফিরে এসে আমার কান্নাকে করো উধাও।
বাহুতে আমায় জড়িয়ে নাও।
কী নিষ্ঠুর অর্থহীন রাত!
আমার সে রাতগুলো ফিরিয়ে দাও -
যখন জড়িয়ে রেখেছিলাম তোমায় আমি।

অভঙ্গুর করো হৃদয় আমার
বলো, তুমি হবে আবার আমার।
দোর হতে আমার চলে যাওয়ার সময়
জীবন হতে আমার চলে যাওয়ার সময়
যে ক্ষত করেছো হৃদয়ে তুমি, তাকে করো অক্ষত আজ।
ক্রন্দনহীন করো চোখের জল এই
অনেক অনেক রাত শুধু কেঁদে যাই।
অভঙ্গুর করো হৃদয় আমার এই
হৃদয় আমার এই।

বিদায় নামের ...

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫