রহম তার মৃত্যুর বাহান্ন দিন পরে কবর থেকে উঠে আসে। যে যেভাবে শুয়ে ছিল ঠিক ওই অবস্থা থেকে পা গুটিয়ে এনে প্রথমে বসে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর কেন যে সে মৃত অবস্থাতেই শোয়া থেকে উঠে বসে এবং কেন আবার বসা অবস্থা থেকেই দুই পায়ে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায় তা সে বুঝতে পারে না। বসবার অথবা উঠে দাঁড়াবার কোন প্রণোদনা অথবা আবারও বেঁচে উঠবার কোন আকাঙ্ক্ষা কিংবা আসলে মানবিক কোন বোধ তাড়িত হয়ে সে কবর থেকে উঠে আসে না। মৃত মানুষ এবং মৃত্যু মানবিকতারও উর্দ্ধে দূর চন্দ্রালোকে অধিমানবিকতা হয়েই বেঁচে থাকে হয়তো। ভেদ বিভেদের বেঁচে থাকবার শেষে সে কেবলই এক শরীর, সেই শরীর সম্পর্ক শিকড়ের বাঁধন ছিন্ন হয়ে সামগ্রিক হয়ে ওঠে, তার আর নাম পরিচয়ের দরকার হয় না, সীমানার দরকার হয় না। আর এসব প্রয়োজন নেই বলেই তার জীবন চলবার পথের শেষ হেয় এলে আরেক অদৃশ্য পথ থাকে। মহাকালগামী হয়তো সেই পথে শাদা সারসের রথে শাদা কাফন জড়িয়ে, দূরে, দূর বিন্দুতে, ফাগুন জোৎন্সায় গা ভাসিয়ে, উর্দ্ধলোকের অদৃশ্যে, নৈঃশব্দ্যে সওয়ার হয়ে অন্তহীন অনন্তের পথে তাদের ভ্রমণ হয়। সেই ভ্রমণের ইতিহাস থাকে না, কাল থাকে না, সে হয়তো কেবলই ভ্রমণ, হয়তো গন্তব্যহীন। আজ কী ...