বৃহস্পতিবার ১৭ মে ২০১২, ৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪১৯ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem


বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনাঃআসুন আমরা এ নোংরা বিতর্কের চিরাবসান ঘটায়

রাজনীতি নিয়ে কোনদিনই আমি সক্রিয়ভাবে মাথা ঘামায় না। স্বার্থান্নেষি স্বভাব, কপটতা আর ভন্ডামির কারনে কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতিও আমার নিরঙ্কুষ সমর্থন নেই। ব্লগের রাজনৈতিক লেখাগুলোও আমি পারতপক্ষে এড়য়ে চলি- কারন বেশিরভাগ লেখায় বিশ্রি একটা দলীয় আনুগত্যের গন্ধ ভুড়ভূড় করে। তারপরও আজ আমি রাজনৈতিক এই লেখাটা লিখছি অনেকটা বিবকের তাড়নায়।

ইতিহাস হচ্ছে একটা জাতির শিকড়। আর সেই শিকড়েই যদি পচন ধরে তবে জাতি হিসাবে আমাদের পতন অবশ্যম্ভাবী। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ব্লগে অনেক লেখা পড়লাম। জতি হিসাবে এটা আমাদের জন্য লজ্জ্বার যে এর জন্য আমাদের হাইকোর্টের ধারস্ত হতে হয়েছে। ইতিহাসের একটা দিব্য সত্যকে রাজনৈতিক কারনে বিকৃত করার চেষ্টা সত্যিই নিন্দার্হ।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষন কে দিয়েছেন তার প্রমান দেশি বিদেশি বিভিন্ন পত্রপত্রিকা, বই, দলিল এবং সমসাময়িক বিভিন্ন মানুষের জবানীতে পাওয়া যায়। এটা নিয়ে বিরাট একটা লেখা অনায়াসেই লেখা যায়।কিন্তু আমি সংক্ষেপে কিছু উল্ল্যেক করব।
সনামধন্য মুক্তবিশ্বকোষ Wikipedia তে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে বলা হচ্ছে-
“The independence of Bangladesh was declared by Sheikh Mujibur Rahman through a message on March 26, 1971 just before he got arrested on the night of March 26, 1971 at about 1:30 a.m. (as per Radio Pakistan’s news on March 29, 1971). Declaration of Independence signed by Sheikh Mujibur Rahman was as follows.”

Today Bangladesh is a sovereign and independent country. On Thursday night, West Pakistani armed forces suddenly attacked the police barracks at Razarbagh and the EPR headquarters at Pilkhana in Dhaka. Many innocent and unarmed have been killed in Dhaka city and other places of Bangladesh. Violent clashes between E.P.R. and Police on the one hand and the armed forces of Pakistan on the other, are going on. The Bengalis are fighting the enemy with great courage for an independent Bangladesh. May Allah aid us in our fight for freedom. Joy Bangla.”

তাঁর ঊপরের স্বাধীনতার ঘোষনাটি তাৎক্ষণিকভাবেই মেসেজ আকারে একটি পোর্টেবল ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সুবেদার মাজ/মোঃ শওকত আলি তাদের পিলখানার বাসস্থানের ইপি আর এর সিগ্নালের মাধ্যমে প্রচার শুরু করেন। মেসেজটি প্রচারিত হওয়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং করাচী নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মোঃ শওকত আলি এবং তার সহকর্মী মেসেজটি প্রচারের সময় হাতেনাতে ধৃত হন। পরে তাদের নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়।



গত স্বাধীনতা দিবসে অনলাইন প্রত্রিকা “হাজারদুয়ারীতে”আসাদুজ্জামান রুমন লিখেছেন
“স্বাধীনতার ঘোষকের কথা বললে সাধারনভাবে যে প্রমান সবাই চোখের সামনে পেতে চায় তা হলো 'দি স্টেটসম্যান' পত্রিকার মার্চ ২৭, ১৯৭১ এর সংখ্যাটি। মি. রহমান-এর উদ্বৃতি দিয়ে প্রকাশ করা ঘোষনাটিকেই ধরা হয় মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক ঘোষনা। বলাহয় মি. রহমান বলতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানকেই বুঝিয়েছিলো স্টেটসম্যান। আর তাই মেজর জিয়াউর রহমান হলেন বংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক।

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে বাস্তবতা ছিলো খানিকটা ভিন্ন। মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম থেকে প্রথম যে ঘোষনাটা পাঠ করেন (বঙ্গবন্ধুর পক্ষে) তার সময় ছিলো ২৭ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট। ২৭ মার্চের সন্ধ্যায় প্রচারিত ঘোষনাটি ২৭ তারিখের পত্রিকায় আসাটা কোনভাবেই যুক্তিসিদ্ধ হয় না। প্রশ্ন থেকে যায়, তাহলে দি স্টেটসম্যান কোন ঘোষনার কথা উল্লেখ করেছিলো, আর মি. রহমান বলতে কাকে বুঝিয়েছিলো?

ইতিহাস বিকৃতির স্বীকার অনেকেই মানতে নারাজ যে ২৫শে মার্চের কালো রাতে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হাতে আটক হবার আগেই আলোচনা ভেস্তে গেলে কি পরিস্থিতি হতে পারে তা আঁচ করেছিলেন এবং তাঁর লিখিত দু'টি ঘোষনার পাশাপাশি নিজের কণ্ঠে একটি মেসেজ তৈরী করেছিলেন যা কিনা ২৫শে মার্চের কালো রাতে পাকিস্তানী সামরিক জান্তার হত্যাজজ্ঞ শুরু হওয়ার পর একটি হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে প্রচার করা হয়।

এই প্রি-রেকর্ডেড মেসেজ এবং হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের বিষয়টি গোঁপন থাকে বঙ্গবন্ধু স্বয়ং এবং তাঁর খুব কাছের কয়েকজন সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে। ২৫শে মার্চ রাত ১১:৩০ মিনিটে বলধা গার্ডেন থেকে হ্যান্ডি ট্রান্সমিটারের সাহায্যে 'রেডিও পাকিস্তান ঢাকা'-এর ফ্রিকোয়েন্সীর খুব কছাকাছি ফ্রিকোয়েন্সীতে প্রচার করা হয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি, যাতে করে যারা যারা রেডিও পাকিস্তানের ঢাকা কেন্দ্র শুনবে তারা তখন মেসেজটিও শুনতে পাবে, এই ছিলো উদ্দেশ্য। আর সবচেয়ে বড় যে উদ্দেশ্যটি ছিলো তা হলো ঢাকায় অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী সাংবাদিকদের এবং আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের কাছে মেসেজটি পৌঁছানো। সে উদ্দেশ্য যে সফল হয়েছিলো তার প্রমান ডেভিড লসাকের 'পাকিস্তান ক্রাইসিস' বইটি। এই মেসেজটিই হচ্ছে মহান স্বাধীনতার ঘোষনা যা বাংলাদেশ ডকুমেন্ট হিসেবে ভারতে সংরক্ষিত আছে এবং যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার দলিলে রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আমলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, তৎকালীন ডেইলী টেলিগ্রাফের সাংবাদিক লসাক তাঁর বইটি প্রকাশ করেন বিলেত ফিরে গিয়ে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের আগেই।

গোটা পৃথিবী যাতে বাংলার মানুষের স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনকে উগ্র-বিচ্ছিণ্ণতাবাদীদের আন্দোলনে রূপ না দিতে পারে সেজন্যই বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছিলেন সঠিক সময়ের। সিদ্দিক সালিক তাঁর "হুইটনেস টু স্যারেন্ডার"- এ লিখেছেন যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে গোঁপন বৈঠকের সময়ই নির্ধারিত হয়েছিলো যুদ্ধ বাঁধলে কয়টা সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ পরিচালিত হবে এবং কে হবেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।

২৫ শে মার্চ রাতে ইয়াহিয়া বাঙালী জাতিকে ব্লাফ দিয়ে পালিয়ে যাবার পরই বঙ্গবন্ধু গোঁপন পরামর্শ মোতাবেক সিনিয়র নেতাদের ভারতে পালিয়ে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দেন। অত:পর তিনি নায়ীম গওহর ও মোশাররফ হোসেনের মাধ্যমে টেলিফোন বার্তা পাঠান চট্টগ্রামে জহুর আহম্মদ ও এমআর সিদ্দিকের কছে। এর পরপরই বলধা গার্ডেন থেকে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর "দিস মে বি মাই লাস্ট মেসেজ, ফ্রম টুডে বাঙলা দেশ ইজ ইন্ডিপেন্ডেন্ট..." এই অবিস্মরণীয় প্রি-রেকর্ডেড মেসেজটি। এই মেসেজটির কথা ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ বেতার ভাষনে বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান থেকে প্রকাশিত শ্বেতপত্রেও উল্লেখ করা হয়।

একই ঘোষনার মেসেজ ইপিআর যখন পাঠাতে শুরু করে ততোক্ষণে ২৫ শে মার্চের রাত শেষ হয়ে ২৬ শে মার্চ শুরু হয়ে গিয়েছিলো বলেই আমরা আমাদের স্বাধীনতা দিবস পালন করি ২৬ শে মার্চ।

রবার্ট পেইনের ম্যাসাকার অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু তখন আরেকটি যুদ্ধ ঘোষনার মেসেজ ডিকটেট করেন "পাক আর্মি সাডেনলী এট্যাক্ট ইপিআর বেইস এট পিলখানা এন্ড রাজারবাগ পুলিস লাইন, কিলিং সিটিজেন্স..."।

২৬ শে মার্চ দুপুরে প্রথম স্বাধীনবাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয় এম এ হান্নানের ভরাট কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা বার্তা। বেলাল মোহাম্মদের তত্ত্বাবধানে আবুল কাশেম সন্দীপ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনার উল্লেখ করে সাধারণকে উদ্দীপ্ত করার জন্য বিভিন্ন ধরণের বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন।

এর মধ্যে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ফোর্স নিয়ে প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে করতে পিছিয়ে পটিয়া চলে আসেন। তখন তাঁকে অনুরোধ করা হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে পাহারা বসানোর জন্য। মেজর জিয়া সে অনুরোধ সানন্দে গ্রহন করেন এবং ২৭ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনে এলে বেলাল মোহাম্মদ তাঁকে অনুরোধ জানান যেন সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তিনি একটি ঘোষনা দেন।

মেজর জিয়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পরপর দুটি ঘোষনা পাঠ করেন যার দ্বিতীয়টি ছিলো এরকম, "আই, মেজর জিয়াউর রহমান ডু হেয়ারবাই ডিক্লেয়ার দ্যা ইনডিপেন্ডেস অফ বাংলাদেশ অন বিহাফ অফ আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লীডার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান...", বেলাল মোহাম্মদের "স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র" বইতে উল্লেখ আছে তা।

একথা ঠিক যে মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষনা সবচাইতে বেশী মানুষ শুনেছে এবং বঙ্গবন্ধুর ডাকে পলিটিশিয়ানদের সাথে সেনাবাহিনীও যোগ দিয়েছে যুদ্ধে- এই ঘোষনায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তুমুল জাগরণ তৈরী হয়।

পক্ষান্তরে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার মেসেজ পাঠানো হয় বঙ্গবন্ধুর প্রি-রেকর্ডেড সেই মেসেজটির মাধ্যমে। আর মাস পিপোলের কাছেই যদি মেসেজ পৌঁছানোর কথা বলি, তাহলে ৭-ই মার্চের সেই অবিস্মরণীয় ভাষনের কথা বলতে হয়।“



সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত CIA (USA) রিপোর্টেও পরিষ্কারভাবে উল্ল্যেখ আছে যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক। এমন কি অনেক পাক অফিসারও বঙ্গবন্ধুর স্বাধিনতার এই ঘোষনা বি ডি আর অয়্যারলেসের মাধম্যে শুনতে পান। (Ref. "Witness to Surrender" by Pakistani Army officer Major Siddik Salek).



২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর কতৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার এই ঘোষনা ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্র "Documents on the war of Independence."এর ৩নং খন্ডের শুরুতে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। এটি প্রথম শহীদ জিয়ার আমলেই ১৯৮২ সালে বিষিষ্ট কবি-সাংবাদিক হাসান হাফিজুর রহমান এর সম্পাদনায় এবং একটি বিশেষ প্রত্তয়ন কমিটির তত্তবধানে প্রকাশিত হয়। শহীদ জিয়া নিজেকে কখনো স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে দাবী করেন নি। এমন কি তার জীবদ্দশায় তার সামনে কেঊ এ দাবী তুলতে সাহস পান নি। তাই তিনি তার নিজের শাষন আমলেই প্রকাশিত ১৫ খন্ডের স্বাধীনতার দলিলপত্রে শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে সীকৃতি দিয়ে যান।
২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষনা বিচ্ছিন্ন ভাবে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন ঘটনা নয়। এটি দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে চলে আসা বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামের অবশ্যম্ভাবী ফল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারীর ঘটনায় যে চেতনাবোধের জন্ম হয়েছিল সেই চেতনার হাত ধরেই এর আগমন।



এখানে আরেক টা কথা বলে রাখি যে জিয়াউর রহমানকে তাঁর এই তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষনার জন্য পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে ৭১রে কিংবা তার পরে কোন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়নি। বরং পাকিস্তানি শাষকগোষ্টি বঙ্গবন্ধুর খুনের মাত্র ৮ দিন পরেই তাঁকে “চিফ অফ আর্মি”হিসাবে নিয়াগপ্রাপ্ত হওয়ার জন্য অভিনিন্দিত করে।আর সামান্য কমন সেন্স থাকলেই বুঝা যায় যে শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে দাবী করটা কতটা অযৌক্তিক। আমাদের স্বাধীনতা দিবদ ২৬ মার্চ। আর শহীদ জিয়া ২৭শে মার্চ স্বন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় এ ঘোষণা পাঠ করেন। এখন প্রশ্ন হল শহীদ জিয়াই যদি স্বাধীনতার ঘোষক হন তবে কীভাবে তিনি ঘোষনা করার ১ দিন আগেই দেশ স্বাধীন হয়েছিল? স্বাধীনতার তথাকথিত ঘোষক ঘোষনা দিলেন না, তার আগেই আমরা স্বাধীন হয়ে গেলাম? ঘোষনা দেওয়ার আগেই যদি স্বাধীন হয়ে যায় তবে এই ঘোষনা মুল্যই বা আর কী(তর্কের খাতিরে বললাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ২৭শে মার্চের শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করাটা এক যুগন্তকারী ঘটনা।)

বঙ্গবন্ধুই যে স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক তার প্রমান বিভিন্ন সমসাময়িক ব্যক্তির কথায় পাওয়া যায়।
“Tajuddin came to my residence for shelter in that terrible night. It was, most probably, 12:45am (26th March). With great concern Tajuddin told me about two serious events: 1. Bangabandhu has officially declared the independence of Bangladesh and sent it to Chittagong and other districts via wireless; 2. I implored him (Bangabandhu), holding his knees, to leave his residence and hide out, but he did not agree” … Mr Abdul Gafur, Engineer Bangladesh Railway

“…Before he was arrested, Sheikh Mujib made a formal declaration of independence of Bangladesh sometime between 12:00am and 1:30am on March 26, 1971. It was broadcast over the clandestine Swadhin Bangladesh Betar (Radio) controlled by the Mukti Fauj (freedom fighters) at noon of March 26, 1971” … SK Chakrabarti, The Evolution of Politics in Bangladesh

“...The 25th of March was spent by Sheikh Mujibur Rahman and his party leaders in awaiting a call from General Pirzada for a final meeting with Yahya Khan and also for the final drafting session for working out the details of interim transfer of power. No such call came. At zero hours on the 26th March, the army swung into action against the unarmed people of East Pakistan, launching operation on a war scale. Meanwhile Sheikh Mujibur Rahman proclaimed the birth of sovereign Independent State of Bangladesh” … Prabodh Chandra, Bloodbath in Bangladesh




“…In the night of March 25, 1971, he (Mujib) formally declared the independence of Bangladesh. This declaration was later broadcast all over the country via wireless. In the morning of March 26, 1971, I got this message at Mymensingh Agricultural University (BAU). The then Vice Chancellor of BAU, Kazi Fazlur Rahman called all the teachers, showed them Mujib’s declaration message and said: “This message came via the Mymensingh Police Line and Mr Rafiq Bhuiyan, the leader of Mymensingh Awami League, personally brought this message to me”. Immediately after the VC’s announcement, a meeting was held where Mr Bhuiyan read out the declaration of independence and recounted the dreadful military crack down in Dhaka city the previous night…” …Shamsuz Zaman Khan

…“Soon after darkness fell on March 25, the voice of Sheikh Mujibur Rahman came faintly through a wavelength close to that of the official Pakistan Radio. In what must have been, and sounded like, a pre-recorded message, the Sheikh proclaimed East Pakistan to be the People’s Republic of Bangla Desh. He called on Bengalis to go underground, to reorganise and to attack the ‘invaders’…” …David Loshak, Pakistan Crisis

বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জিয়া এক অবিস্মরণীয় নাম। মুক্তি্যুদ্ধে তাঁর অবদানের জন্য জাতি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি বাংলাদেশের সম্মাণিত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি দূর্ণীতি করেন নি, সজনপ্রীতি করেন নি। এসব কারনেও জাতি তাকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করবে। একটা বিকৃত ইতিহাসের মাধ্যমে তাকে সম্মাণিত করটা পক্ষান্তরে তার স্মৃতির প্রতি অবমাননা করা।

ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারো ধার ধারে না; কারো রক্তচক্ষুকে সে পরোয়া করে না – আবেগের ছিটেফোটা মূল্যও নেই তার কাছে। পর্যালোচনা করা, সমালোচনা করা, মুল্যায়ন করা ইতিহাসের কাজ না - ইতিহাসের কাজ হল ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। ইতিহাস সহস্র প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপন গতিতে তার কাজ করে চলে। তার গতির সামনে ইতিহাস বিকৃতিকারীদের জমানো জঞ্জাল খড়কুটার মতই ভেসে যায়। সে সত্য আজ আবারও প্রামাণিত হল।

বিকৃতির মাধ্যমে ইতিহাসের যজ্ঞানল জ্বালানো যায় না; জ্বালানো যায় নিজেদের খুব ছোট ছোট চিতানল। আর সেই সব ছোট ছোট চিতানলের আগুনে একটা জাতির ললাটে আঁকা হয় কলঙ্ক তিলক -যেমন আমাদের কপালে হয়েছে। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, “সত্য বর্জন করা সহজ; কিন্তু সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করা সহজ নয়”। কিছু তথাকথিত স্বার্থান্নেষি, মোসাহেব, পদলেহী(এর চেয়েও অনেক খারাপ কমপ্লিমেন্ট দেওয়া যায়, এর চেয়ে ভাল দেওয়া যায় না) বুদ্ধিজীবি, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতিবিদ সত্যকে বর্জন করে ইতিহাস বিকৃত করার সে সহজ কাজটা করেছেন। এখন তাদের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ সেই বর্জিত সত্যকে পূণর্গ্রহণ করার কঠিন কর্মসাধনের। দায়টা যতটা না আমদের তারচেয়ে অনেকবেশি তাদের নিজদের। তা নাহলে যে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়েও তাদের জায়গা হবে না।


রেফারেন্স:
The Sheikh Mujib Declaration of Independence of Bangladesh:U.S. Government RecordsandMedia Documentationt

স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে ক্যাচাল, একটি প্রামাণ্য উপস্থাপনা

Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh’s Declaration of Independence

Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh's Declaration of Independence - Mashuqur Rahman and Mahbubur Rahman Jalal present new research

Who declared the independence of bangladesh?

Bangabandhu’s Declaration of Independence By Bahzad Ahmed

Bangladeshi Declaration of Independence From Wikipedia, the free encyclopedia

*পাকিস্তান ক্রাইসিস - ডেভিড লসাক
*হুইটনেস টু স্যারেন্ডার - সিদ্দিক সালিক
*আমেরিকান স্লট রিপোর্ট
*পাকিস্তান সরকারের শ্বেতপত্র
*ম্যাসাকার - রবার্ট পেইন
*স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র - বেলাল মোহাম্মদ
৭৩ টি মন্তব্য
sharmabangla সজল শর্মা২৫ জুন ২০০৯, ০৪:৫৪
সকালে পড়েছিলাম। লগইন না থাকায় মন্তব্য করা হয়নি। খুব প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়েছেন। আশাকরি পাঠকদের মধ্যে যারা এই ভুলের আবর্তে আবর্তিত তারা এখন সঠিক তথ্য জেনে নিবেন।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ০৪:৫৭
আমিও তাই আশা করি গুরুজি।
karim_bhai কারিম ভাই২৫ জুন ২০০৯, ০৪:৫৪
বস, অসাধারন পোষ্ট দিয়েছেন । আগে প্রিন্ট করে নেই
karim_bhai কারিম ভাই২৫ জুন ২০০৯, ০৪:৫৫
অনেক তথ্য সমৃদ্ধ পোষ্ট । এই পোষ্ট লাইফ টাইম ষ্টিকি থাকা উচিত
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ০৪:৫৭
ধন্যবাদ করিম ভাই।
bbq_hearts ফারুক২৫ জুন ২০০৯, ০৬:২৪
ব্রেভো খালেদ ভাই , অনেক স্ট্রাগল করেছেন ধন্যবাদ আপনাকে , খুব বেশী করে মনে পড়ছে "যারা ইতিহাস পাল্টিয়েছে , জাতি তাদের ক্ষমা করবে না "
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ০৭:৪২
ধন্যবাদ ফারুক ভাই।
samimsikder টোকাই সিকদার২৫ জুন ২০০৯, ০৯:০৬
দুর্লভ
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:২৪
ধন্যবাদ ভাই।
lubna09 লুবনা২৫ জুন ২০০৯, ০৯:১০
ফেভারিট ও নিলাম, অনেক বড় তাই পুরোটা পড়িনি, পরে ধীরে ধীরে পড়বো। শুভ সকাল খালেদ ভাই।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:২৫
শুভ সকাল আপা।
asmarshad আ,শ,ম,এরশাদ২৫ জুন ২০০৯, ০৯:২৭
খালেদ ভাই খুব ভাল একটি তথ্য সমৃদ্ধ পোষ্ট,
মেপের ছবির সাইজটা ছোট রাখলে ভাল হত। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে এটি ভেংগে যায়।
ছবি ৪০০গুন ৪০০ রাখতে হয়।
কৃতগ্ঘতা আপনার প্রতি। সত্য কিছু ঝিনিস তুলে দেয়ার জন্য।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:২৭
এরশাদ ভাই, আপনাকেও ধন্যবাদ, ভবিষ্যতে ছবি দেওয়ার সময় আপনার কথাটা মনে রাখব।
sajalchakraborty হাজারি২৫ জুন ২০০৯, ০৯:৩২
এই পোসট টা নির্বাচিত হোক।
অসাধারন।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:২৭
সজল হাজারি ভাই, ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
shamanshattik শামান সাত্ত্বিক২৫ জুন ২০০৯, ০৯:৪৯
বেশ গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট। অনেক ধন্যবাদ। প্রয়োজন যাদের, তাদের শুভ বুদ্ধির উদয় হোক।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৩০
তাদের শুভ বুদ্ধি উদয় হোক এটাই আমাদের কাম্য।
anumitra অনু মিত্র২৫ জুন ২০০৯, ১০:০০
অসাধারন খালেদ ভাই------- এতো সুন্দর একটি পোস্ট দেয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন ----- শুভ কামনা রইল।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৪০
আপনার প্রতিও শুভ কামনা।
wahiduzzaman ওয়াহিদুজ্জামান মিঠু২৫ জুন ২০০৯, ১০:১২
ধন্যবাদ ভাই আপনি খুবই সময়োপযোগি পোষ্ট দিয়েছেন।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৩৯
ধন্যবাদ মিঠু ভাই।
mony মণি২৫ জুন ২০০৯, ১০:২০
খুবই তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। কিন্তু ভয় হই ক্ষমতার পালা বদলের সাথে সাথে আবার ইতিহাস পরিবর্তন হবে না তো।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৩৮
ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারো ধার ধারে না; কারো রক্তচক্ষুকে সে পরোয়া করে না – আবেগের ছিটেফোটা মূল্যও নেই তার কাছে। পর্যালোচনা করা, সমালোচনা করা, মুল্যায়ন করা ইতিহাসের কাজ না - ইতিহাসের কাজ হল ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা। ইতিহাস সহস্র প্রতিবন্ধকতার মাঝেও আপন গতিতে তার কাজ করে চলে। তার গতির সামনে ইতিহাস বিকৃতিকারীদের জমানো জঞ্জাল খড়কুটার মতই ভেসে যায়।
sadid_hasan না বলা কথা২৫ জুন ২০০৯, ১০:৫২
অসাধারণ পোস্ট খালেদ ভাই। চালিয়ে যান।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৩৬
ধন্যবাদ সাদিদ ভাই।
neemphul ‍নিমফুল২৫ জুন ২০০৯, ১২:১৭
প্রিয়তে নিলাম...
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৫ জুন ২০০৯, ১২:৩৭
ধন্যবাদ।
bbq_hearts ফারুক২৯ জুন ২০০৯, ০৬:৩০
রি_ স্টিকির জন্য কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৯ জুন ২০০৯, ০৮:০৯
কর্তৃপক্ষ কে ধন্যবাদ । ধন্যবাদ আপনাকেও।
anson এনসন৩০ জুন ২০০৯, ০৯:২৪
অসাধারন।ইতিহাস এর প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরায় আপনার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ৩০ জুন ২০০৯, ০৯:৩৫
ধন্যবাদ
zamanekushay জামান একুশে০১ জুলাই ২০০৯, ০৫:০৫
গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট..........ধন্যবাদ আপনাকে।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০১ জুলাই ২০০৯, ০৬:১৯
ধন্যবাদ জামান ভাই।
tufael1987 তোফাএল০১ জুলাই ২০০৯, ০৭:১৫
অসাধরন লিখছেন খালেদ ভাই। অনেক ধন্যবাদ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০১ জুলাই ২০০৯, ০৭:১৭
ধন্যবাদ তোফাএল ভাই।
sondhi420 স‍ন্ধি০১ জুলাই ২০০৯, ০৯:০৬
তারপরও ওইসব আঁতেলরা স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক কেন করে এটাই বুঝি না। সত্য কথাটা মানতে এতো আপত্তি কেন? জেগে থেকে যে ঘুমায় তাকে জাগায় সাধ্যি কার?
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০১ জুলাই ২০০৯, ১০:২৩
ধন্যবাদ সন্ধি ভাই।
moury মৌ০১ জুলাই ২০০৯, ১০:৩০
অসাধারন............
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০১ জুলাই ২০০৯, ০৬:১৯
ধন্যবাদ আপু।
kabirony কবিরনি০২ জুলাই ২০০৯, ০৫:০১
সবই ঠিক আছে তবু জিয়ার ঘোষনাটা একটু পরে দেখবেন। বঙ্গবন্ধু নিজে স্বাধীনতার ঘোষনা দেওয়ার পর জিয়ার এ রকম একটি ঘোষনা দেওয়ার কি মানে থাকতে পারে। সে কেনই বা বলবে "I have taken command as the temporary Head of the Republic."
২৭ এ মার্চের সব গুলো আন্তর্জাকিত পত্রিকা ঘেটে দেখা যায় সেনাবাহীনি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দখল করেছে ২৬শে মার্চ।

I, Major Ziaur Rahman, on behalf of Bangobondhu Sheikh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People's Republic of Bangladesh has been established. I have taken command as the temporary Head of the Republic. I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our Motherland. By the grace of Allah, victory is ours.

বঙ্গবন্ধু, এম এ হান্নান সবাই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছে কিন্তু সেই ডাক দেশ বা বিদেশে কোথাও পৌছাতে পারেনি সেভাবে যেভাবে যে জিয়া'র আহবানটি দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল। একটা দিকভ্রান্ত জাতিকে বঙ্গবন্ধুর আহবানে দেশ স্বাধীনের কথা (৭ই মার্চের ভাষনের কথা) মনে করিয়ে দিয়েছিল যখন সব সব বাঘা বাঘা আওয়ামীলীগ নেতারা জান বাচঁাতে পলায়নপর ছিল।
স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে জিয়াউর রহমানকে স্বীকর্তি দিলে বঙ্গবন্ধুর পাহাড় সমান অবদান ছোট হয়ে যায় না। এ যেন অযথা তর্ক সদ্য ভুমিষ্ঠ সন্তানের কানে কে আযান দিয়েছে পিতা না মৌলবী। বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে প্রমান করলে তার গৌরব কিন্চিত বাড়ে কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এক নাম না জানা সেনা জিয়া কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দিলে শুধু জিয়াকে নয় বাংলাদেশ নির্ভিক সেনাবাহীনি, ৭১এর মহান মুক্তিযোদ্ধারা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সবাইকেই গৌরাবান্বিত করা হয়। তাই সব অর্ঘ্য কেন দেবী মাকেই পেতে হবে পুরহিতের অবদান কি এতটুকু নেই। তাকেও কি দেবীর পাশাপাশি একটু সম্মানিত করা যায় না।
asmarshad আ,শ,ম,এরশাদ০২ জুলাই ২০০৯, ০৯:০০
অসাধরন তথ্য দিয়েছেন আপনি। আমার আর কোন কিছু বলার নেই। তবে একটা ব্যাপার আওয়ামীলীগ এই ব্যাপারটাতে জিয়ার অবদানকে ও কোন ভাবেই ছোট করে দেখতে পারবে না।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০২ জুলাই ২০০৯, ০৯:০৭
আমি পোষ্টটা দেওয়ার পর থেকে আশা করেছিলাম কছু বিরুদ্ধ যুক্তি পাব যা খন্ডন করতে গিয়ে ইতিহাসের না-জান অরো অনেক সত্য বের হয়ে আসবে। কিন্তু কয়েকদিন চলে যাওয়ার পরও সেরকম কোন কিছু না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে আপনি এলেন – ধন্যবাদ।

আপনি বলেছেন “বঙ্গবন্ধু ও এম এ হান্নান সবাই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছে কিন্তু সেই ডাক দেশ বা বিদেশে কোথাও পৌছাতে পারেনি সেভাবে যেভাবে যে জিয়া'র আহবানটি দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল”। এটা একটা মস্ত বড় ভ্রান্ত ধারনা যা ইতিহাস বিকৃতিরই ফল।১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ সন্ধ্যায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে সারা বিশ্বের ইংরেজি ভাষার শীর্ষ স্থানীয় দৈনিকগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়। এসব দৈনিকের ওপর একটি জরিপ চালানো হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২৬শে মার্চ সকালে কলকাতায় পৌঁছা শেখ মুজিবর রহমানের প্রকৃত বার্তা থেকে এবং ২৬শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচার থকে সারা বিশ্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা জানতে পারে।

১৯৭১ সালের মার্চে বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে কীভাবে বাংলাদেশের স্বাধীতার ঘোষণা প্রকাশিত হয়েছিল, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিম্নলিখিত ইংরেজি দৈনিকগুলোতে জরিপ চালানো হয়ঃ ভারতের দ্য স্টেটসম্যান এবং দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া; আর্জেন্টিনার বুয়ের্স এয়ার্স হেরাল্ড; অস্ট্রেলিয়ার দ্য এইজ এবং দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড; মিয়ানমারের দ্য গার্ডিয়ান; কানাডার দ্য গ্লোব এন্ড মেইল; হংকংয়ের দ্য হংকং স্ট্যান্ডার্ড; ইন্দোনেশিয়ার দ্য জাকার্তা টাইমস; জাপানের আসাহি ইভিনিং নিউজ; নেপালের দ্য রাইজিং নেপাল;ফিলিপাইনের ম্যানিলা টাইমস;সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস; দক্ষিন আফ্রিকার দ্য প্রিটেরিয়া নিঊজ; থাইল্যান্ডের দ্য ব্যাংকক পোষ্ট; যুক্তরাজ্যের দ্য দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য টাইমস অব লন্ডন; যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর সান, দ্য বোষ্টন গ্লোব, শিকাগো টাইমস, জিস্টিয়ান সায়েন্স মনিটর, লস এঞ্জেলেস টাইমস, দ্য নিঊইয়র্ক টাইমস, দ্য ফিলাডেলফিয়া ইঙ্কুরিয়ার, সানফ্রাসিসকো ক্রোনিকেল এবং দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

১৯৭১ সালের ২৭ষে মার্চ নয়াদিল্লি থেকে প্রকাশিত দ্য স্টেটমেন্ট পত্রিকায় ২৬ শে মার্চ দুটি বার্তার ব্যখ্যা দেওয়া হয় এভাবেঃ
“পাকিস্তানি বাহিনী আন্দোলনকে চাপা দিতে অগ্রসর হোয়ার পর শুক্রবার ষেখ মুজিবুর রহমান দূটি বার্তা স্প্রচার করেছেন। ইঊএনআই এ কথা জানায়।
একটি অজ্ঞাত রেডিও স্টেশন থেকে বিশ্বের কাছে পাঠানো এক বার্তায় আওয়ামী লীগ নেতা (শেখ মুজিব) ঘোষনা দিয়েছেন যে , “শ্ত্রু আগাত হেনেছে এবং জঙ্গন বীরের মতো লড়াই করছে”। বার্তাটি কলকাতা থেকে শোনা হয়েছে।

রেডিও স্টেষনটি নিজেকে ‘স্বাধিন বাংলা বেতার কেন্দ্র’ হিসাবে বর্ণনা করেছে। শিলং থেকে শুনা স্টেষনটির পরবর্তী সম্প্রচারে তিত্ন বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন প্রজাতন্ত্র ঘোষনা করেছেন”।

এভাবে দেখা যায় প্রায় জরিপকৃত প্রায় সব পত্রিকায় ২৬শে মার্চের বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা ২৭শে মার্চ গুরুত্ব সহকারে ছাপানো হয়। তখনো কিন্তু জিয়াঊর রহমান তাঁর ঘোষনাটি পাঠ করেন নি। বিশ্বের এরকম সব প্রভাবশালী পত্রিকায় ছাপানো হওয়ার পরও যদি আপনি বলতে চান যে বিশ্ববাসীর কাছে পৌছায়নি তাহলে আমার কিছু বলার নেই।
আপনি আরো বলেছেন, “-------যখন সব সব বাঘা বাঘা আওয়ামীলীগ নেতারা জান বাচঁাতে পলায়নপর ছিল”। আপনার এ কথা থেকে বুঝা যায় আপনি আমার লেখাটা পুরুটা না পড়েই আপনার মন্তব্য দিয়েছেন। “গোটা পৃথিবী যাতে বাংলার মানুষের স্বাধীকার আদায়ের আন্দোলনকে উগ্র-বিচ্ছিণ্ণতাবাদীদের আন্দোলনে রূপ না দিতে পারে সেজন্যই বঙ্গবন্ধু অপেক্ষা করেছিলেন সঠিক সময়ের। সিদ্দিক সালিক তাঁর "হুইটনেস টু স্যারেন্ডার"- এ লিখেছেন যে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর সিনিয়র সহকর্মীর মাঝে গোঁপন বৈঠকের সময়ই নির্ধারিত হয়েছিলো যুদ্ধ বাঁধলে কয়টা সেক্টরে ভাগ হয়ে যুদ্ধ পরিচালিত হবে এবং কে হবেন যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক।
২৫ শে মার্চ রাতে ইয়াহিয়া বাঙালী জাতিকে ব্লাফ দিয়ে পালিয়ে যাবার পরই বঙ্গবন্ধু গোঁপন পরামর্শ মোতাবেক সিনিয়র নেতাদের ভারতে পালিয়ে গিয়ে যুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশনা দেন”।

আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের ভারতে চলে যাওয়া পুর্ব পরিকল্পিত স্ট্রেটেজিরই একটা অংশ – যা পরে যতার্থ বলে প্রমানিত হয়েছে। আর কাদের আপনি “জান বাচাঁতে পলায়নপর ছিল” এ আপবাদ দিচ্ছেন? সৈয়দ তাজঊদ্দিন আহমেদ, এম. মনসুর আলী,সৈয়দ নজরুল ইসলামদের মত ত্যগী নেতাদের- যারা দেশের জন্য নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিয়েছিলেন। বিরোধী দলের কেঊ পর্যন্ত যাদের হেয় করার জন্য কোন মিথ্যে রটনা রটানোর সাহস পায়নি, বরং শ্রদ্ধা করেছে। নিজের জীবন দেওয়ার বিনিময়ে হয়তো “জান বাচাঁতে পলায়নপর ছিল” আজ তাঁদের এই অপবাদই প্রাপ্য।হায় সেলুকাস! বিচিত্র এ দেশ,বিচিত্র এদেশের মানুষেরা।

“আর সামান্য কমন সেন্স থাকলেই বুঝা যায় যে শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে দাবী করটা কতটা অযৌক্তিক। আমাদের স্বাধীনতা দিবদ ২৬ মার্চ। আর শহীদ জিয়া ২৭শে মার্চ স্বন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় এ ঘোষণা পাঠ করেন। এখন প্রশ্ন হল শহীদ জিয়াই যদি স্বাধীনতার ঘোষক হন তবে কীভাবে তিনি ঘোষনা করার ১ দিন আগেই দেশ স্বাধীন হয়েছিল? স্বাধীনতার তথাকথিত ঘোষক ঘোষনা দিলেন না, তার আগেই আমরা স্বাধীন হয়ে গেলাম? ঘোষনা দেওয়ার আগেই যদি স্বাধীন হয়ে যায় তবে এই ঘোষনা মুল্যই বা আর কী(তর্কের খাতিরে বললাম। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে ২৭শে মার্চের শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষনা পাঠ করাটা এক যুগন্তকারী ঘটনা।)

ইতিহাস বিকৃতকারীরা এটা বুঝতে পেরেছিলেন – তাই ২৭শে মার্চটাকে ২৬ শে মার্চ করতে চেয়েছিলেন, যদিও তাদের সেই অপচেষ্টা বৃথায় গিয়েছিল।

আমি একটা চিঠি লিখে পোষ্টম্যানের দিয়ে পাঠালাম। এতে পোষ্টম্যানই চিঠির লেখক হয়ে যাবে না –আমিই থাকব। তেমনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনা অন্য কেঊ পাঠ করলেই সে ঘোষক হয়ে যায় না। যে কেঊ স্বাধীনতার ঘোষনা দিতে পারেন না, একটি দেশের স্বাধীনতা ঘোষনা দেওয়ার অধিকার বিশেষ একজনের হাতেই সংরক্ষিত থাকে। ৭১এ বাংলাদেশের সে বিশেষ একজনটা ছিলেন মুজিব- যে অধিকার তিনি নিজের কীর্তিগুনে আদায় করেছেন।

আপনার যদি আরো কিছু জানার থাকে তবে বলব রেফারেন্সে দেওয়া ডুকুমেন্টগুলো দেখুন। আশা করি আপনার সব সন্দেহের অবসান হবে। অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে আপনার মন্তব্যের জন্য।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০২ জুলাই ২০০৯, ০৯:২৪
ছোট করে দেখার কোন অবকাশই নেই।
kabirony কবিরনি০৩ জুলাই ২০০৯, ০৯:৫৯
আমি পোষ্টটা দেওয়ার পর থেকে আশা করেছিলাম কছু বিরুদ্ধ যুক্তি পাব যা খন্ডন করতে গিয়ে ইতিহাসের না-জান অরো অনেক সত্য বের হয়ে আসবে। কিন্তু কয়েকদিন চলে যাওয়ার পরও সেরকম কোন কিছু না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। অবশেষে আপনি এলেন।

আমি এলাম আর আপনি ভাবলেন পাইছি!! সমস্ত জমিয়ে রাখা ক্ষোভ একসাথে লিখে তুলোধুনা করলেন। আমি কিন্তু আমার মন্তব্যে বঙ্গবন্ধু স্বাধিনতার ঘোষনা দেননি এ কথা একবারের জন্যও বলিনি। তবে স্বাধীনতার ঘোষনা নিয়ে বির্তক নতুন কিছু নয়। অপরাধীর

কাঠগড়ায় যখন দাড়িয়ে পরেছি তাই দু কথা বলেই ফেলি। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন জিয়া on behalf of mujib বলেছিলেন কি বলেন নি তা নিয়ে বিতর্ক হত। ২৬শে মার্চ না ২৭শে মার্চ তাই নিয়ে বির্তক হত। এম এ হান্নান না জিয়া তাই নিয়ে বির্তক হত। জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছায় স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন কি দেন নি তাই নিয়ে বির্তক হত। তবে এই বছর দশেক ধরে শুনছি বঙ্গবন্ধু নিজেই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন। বিচারালয় থেকে এ ব্যাপারে রায় নিয়ে আসা হয়েছে। সত্যিই জাতি হিসাবে আমরা খুব ভাগ্যবান। কিছুদিন পরে মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযুদ্ধ করে কোন ভুল করেনি বিচারালয় থেকে সেই রায়ও নিয়ে আসতে হবে। আপনার কথার সূত্র ধরেই বলতে হয় - " হায় সেলুকাস! বিচিত্র এ দেশ,বিচিত্র এদেশের মানুষেরা"
জিয়াউর রহমানের ঘোষনা, না বঙ্গবন্ধুর ঘোষনা , না এম এ হান্নান এর ঘোষনা কোনটি ব্যাপক মানুষের কাছে পৌছেছিল সমসাময়িক আপনার কিছু বয়োজ্যেষ্ঠ আত্বীয় স্বজনকে জিজ্ঞাসা করলেই পেতে পারেন। এ জন্য এত কষ্ট করে বিদেশী পত্রিকা ঘাটার দরকার নেই। বিদেশী পত্রিকাই বলেন আর দেশবাসীই বলেন কে তখন জিয়ার নাম জানে। আর জিয়া তো বঙ্গবন্ধুর হয়েই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছে তাই বিদেশী পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর নাম আসাটাই স্বাভাবিক। আর ২৫শে মার্চের কালো রাতের পর আওয়ামীলীগ নেতাদের জাতিকে একটি সুষ্ঠ দিক নির্দেশনা দিতে ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছিল। মানেন আর না মানেন বঙ্গবন্ধুর অর্বতমানে সেই সময়টুকু কিন্ত জিয়াই রাষ্ট্রপতি ছিল যেহেতু তার ঘোষনায় স্পষ্ট দেখতে পাই - "I have taken command as the temporary Head of the Republic." আপনার চিঠি বয়ে নিয়ে যাওয়া পোষ্টম্যানটির সাহস কিন্তু মন্দ নয়।
বঙ্গবন্ধু কোন কারনে যদি স্বাধিনতার ঘোষনাটি বন্দী হবার আগে ওয়্যালেস ম্যাসেজ এ না দিতে পারতেন তাহলে কি ২৬ শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস হত না। তাই ২৭শে মার্চ জিয়া ঘোষনা দিয়েছে তাই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস কিভাবে হয় যুক্তিটি নিতান্তই ছেলেমানুষি। সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর ডাক্তার মা সন্তানকে বাচাঁনোর কতর্ব্য পালন করতে গিয়ে বাইরে অপেক্ষমান পিতা কে খবর দিতে যদি একটু দেরী করে তাই বলে কি সন্তানের জন্মসময় পালটে যায়।
যাই হোক আমার বক্তব্য বোধহয় অনুধাবন করতে আপনার কিন্চিত ভুল হয়েছে। আমার মূল কথাটি কিন্তু ছিল -
"বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসাবে প্রমান করলে তার গৌরব কিন্চিত বাড়ে কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে এক নাম না জানা সেনা জিয়া কে স্বাধিনতার ঘোষক হিসাবে স্বীকৃতি দিলে শুধু জিয়াকে নয় বাংলাদেশ নির্ভিক সেনাবাহীনি, ৭১এর মহান মুক্তিযোদ্ধারা, সেক্টর কমান্ডারগণ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সবাইকেই গৌরাবান্বিত করা হয়।" সময়ের প্রয়োজনে সঠিক সময়ে দেশপ্রেমিক হিসাবে সবচেয়ে গুরত্বপূর্ণ অবদানটি রাখার জন্য।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ১১:০৭
আমাকেও বলতে হচ্ছে আমার বক্তব্য বোধহয় অনুধাবন করতে আপনারও কিঞ্চিত ভুল হয়েছে। আমার লেখাটার ঊদ্দ্যেশ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে কার কী অবদান তা নিরুপন করা না – এখানে আমি জাস্ট আলোচনা করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনা এবং তা নিয়ে সৃষ্ট কিছু বিকৃতি নিয়ে। আমার লেখায় জিয়া কিংবা অন্য কারো ৭১রে স্বাধীনতা যুদ্ধের ভুমিকা নিয়ে আমি আলোচনা করিনি। তাই কাঊকে বড়ো করা বা ছোট করার প্রশ্নই ঊঠে না। আমাকে বলবেন আমার লেখায় কোণ অংশটা পড়ে আপনার মনে হয়েছে আমি জিয়াকে তাঁর প্রাপ্য সম্মান থেকে বঞ্চিত করে ছোট করা চেষ্টা করেছি? যদি সেরকম কিছু থেকে থাকে তবে আমি তাঁর জন্য ক্ষমাপ্রার্থণাপূর্বক তা বাদ দিয়ে দিব।

আর দয়া করে বলবেন আমার ঊত্তরের কোন অংশটা পড়ে আপনার মনে হয়েছে আমি আপনার ঊপর আমার জমানো সব ক্ষোভ ঝেড়ে আপনাকে তুলাধোনা করার প্রয়াস পেয়েছি? আমি যে কোন মন্তব্য করার সময় এবং রিপ্লাই করার সময় সচেষ্ট থাকি যাতে কাঊকে মনে আঘাত দেওয়া না হয়, কাঊকে অবমাননা করা না হয়। তার পরও যদি আমার ঊত্তরে আপনাকে অনিচ্ছকৃতভাবে কোন আঘাত করে থাকি তাহলে আমি তার জন্য করজোড়ে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আমার ঊত্তরে আপনার দেওয়া পয়েন্টগুলো জাস্ট খন্ডন করতে চেয়েছি। আপনার পয়েন্টগুলো ছিল____________

১। বঙ্গবন্ধু ও এম এ হান্নান সবাই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছে কিন্তু সেই ডাক দেশ বা বিদেশে কোথাও পৌছাতে পারেনি সেভাবে যেভাবে যে জিয়া'র আহবানটি দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে নাড়া দিয়েছিল।

২। ২৬শে মার্চের পরে সব সব বাঘা বাঘা আওয়ামীলীগ নেতারা জান বাঁচাতে পলায়নপর ছিল।

তার উত্তর আমি বিভিন্ন রেফারেন্সসহ দিয়েছি। আশা করি সেখান থেকে আপনি আপনার ঊত্তর পেয়েছেন।

আপনি বলেছেন, ” আর জিয়া তো বঙ্গবন্ধুর হয়েই স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছে তাই বিদেশী পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর নাম আসাটাই স্বাভাবিক”। এ থেকে বুঝা যায় আপনি আবারো আমার উত্তরটা ভালোভাবে না পড়েই তর্ক করতেছেন। আমি যেসব পত্রিকার রেফারেন্স দিয়েছি তা ২৭শে মার্চ দিনের। আর জিয়াউর রহমান ঘোষনটা পাঠ করেছিলেন ২৭শে মার্চের সন্ধ্যের ৭.৩০ দিকে। তিনি এ ঘোষণা দেওয়ার আগেই পত্রিকাগুলোতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষনটা প্রচারিত হয়েছিল। অতএব আশা করি এটা না বললেও বুঝবেন যে এসব পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সাথে জিয়াউর রহমানের ঘোষনাটার কোন সম্পর্ক নেই।

আপনি আরো বলেছেন, “২৭শে মার্চ জিয়া ঘোষনা দিয়েছে তাই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস কিভাবে হয় যুক্তিটি নিতান্তই ছেলেমানুষি। সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর ডাক্তার মা সন্তানকে বাচাঁনোর কতর্ব্য পালন করতে গিয়ে বাইরে অপেক্ষমান পিতা কে খবর দিতে যদি একটু দেরী করে তাই বলে কি সন্তানের জন্মসময় পালটে যায়?“

আমি এ ব্যপারে আপনার সাথে সম্পূর্ণ একমত। শুধু আপনাকে একটা প্রশ্ন করব, “মনে করেন ভুমিষ্ট হওয়া শিশুটা আপনি। এখন আপনার বয়েস ৩৮ বছর। এখন আপনি কাকে বেশি গুরত্ব দিবেনঃ আপনার জন্মদাত্রী মাকে নাকি ঐ ডাক্তারকে?” এটা কোন মতে অস্বীকার করা যায় না যে আপনার জন্মের বেলায় ঐ ডাক্তারের অবদান বিরাট। এই সত্যটা মেনে নিয়েও আপন কি পারবেন আপনার জীবনে আপনার মায়ের সাথে ঐ ডাক্তারের গুরত্বটা তুলনা করতে? জানি পারবেন না – মা মাই; তার সাথে কারো তুলনা চলে না। এখন যদি আমরা আমাদের স্বাধীনতার ঘোষনটাকে একটি সন্তানের সাথে তুলনা করি তবে বলব এখানে মুজিবের ভূমিকাটা জন্মদাত্রী মায়ের আর এম. এ. হান্নান ও জিয়ার ভূমিকাটা বাইরে অপেক্ষমান পিতার কাছে খবর পৌঁছিয়ে দেওয়া ডাক্তারের। মা মাই; তার সাথে কারো তুলনা চলে না।

আজ আমার শরীরটা একটু খারাপ। তাই আর কিছু লিখলাম না। আপনার যদি আরও কোন জিজ্ঞাসা থাকে তবে বলব জিজ্ঞাসা করার জন্য। আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করব তার ঊত্তর দিতে। ধন্যবাদ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ১১:৫২
২টা অনুরোধ________________________________

১। আমার আরো অনেক কিছু অন্তর্ভূক্ত করা ইচ্ছে ছিল এই লেখাটিতে। কিন্তু পোষ্টির কলেবর দৃষ্টিকটু রকমের বড় হয়ে যাচ্ছে দেখে সে ইচ্ছে ইস্থফা দিয়েছি। আপনি যদি সত্যিকারভাবেই সত্যান্নেষী হন তবে আপনাকে অনুরোধ করব রেফারেন্সে দেওয়া ডুকুমেন্টগুলো ভালোভাবে পড়ার জন্য। আপনার সব জিজ্ঞাসার জবাব এতে পাবেন।

২। আপনার মন্তব্য পড়ে মনে হয় আপনি আবেগ দিয়ে ইতিহাসকে বিচার করতে চাচ্ছেন। ইতিহাস বড় নির্মম। সে কারো ধার ধারে না; কারো রক্তচক্ষুকে সে পরোয়া করে না – আবেগের ছিটেফোটা মূল্যও নেই তার কাছে। ইতিহাসের অতল সমুদ্র থেকে আপনি যদি সত্যিই ‘প্রকৃত সত্য’ নামের মুক্তাটা আহরণ চান তবে এই আবগটাকে তীরে ফেলে রেখেই ইতিহাসের অতল সমুদ্রে নামতে হবে।
_______________________________________________________
charger মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ সৌরভ০২ জুলাই ২০০৯, ০৫:৪৬
অনেক ধন্যবাদ খালেদ ভাই, অনেক কষ্ট করে অসাধারণ একটা পোস্ট দিয়েছেন বলে।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০২ জুলাই ২০০৯, ০৯:১০
ধন্যবাদ সৌরভ ভাই।
firozchoudhury ফিরোজ জামান চৌধুরী০২ জুলাই ২০০৯, ১০:৩১
ধন্যবাদ খালেদ, দারুণ একটি পোস্ট দিয়েছেন সে জন্য।
`সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালবাসিলাম...'
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০২ জুলাই ২০০৯, ১০:৪৮
রবীবাবু তো বলেই খালাস___কিন্তু সবাই কী পারে? যদি পারত তবে আমাকে এই পোষ্টটাই দিতে হত কোনদিন। আবারও বলব রবীন্দ্রনাথ "বোঝাপড়া" কবিতাই যেমন বলেছিলেন__

'মন রে আজ কহ যে
ভাল-মন্দ যাহাই আসুক
সত্যরে লও সহজে"
masudkarim নিখর তাবিক০২ জুলাই ২০০৯, ১১:৪৬
অনকে দিন ধর েএসব প্রশ্নরে জবাব খুজচ্ছিলাম।ধন্যবাদ অনকে অনকে...........দশ েদশ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ০৮:১৩
আপনাকে ধন্যবাদ ১০শে ১০ দেওয়ার জন্য।:
masudkarim নিখর তাবিক০২ জুলাই ২০০৯, ১১:৪৭
অনকে দিন ধর এসব প্রশ্নরে জবাব খুজচ্ছিলাম।ধন্যবাদ অনকে অনকে...........দশ েদশ।
atmselim এ, টি, এম, সেলিম০৩ জুলাই ২০০৯, ০৯:৪৯
অসাধারণ পোস্ট । কিন্তু লাভ কি, যাদের জন্যে লেখা, তারা কি এগুলো পড়ে???
অবশ্য, না পড়লেও ইতিহাস মিথ্যে হয়ে যায় না । গায়ের জোরে সবকিছু চেন্জ হলেও ইতিহাস চেন্জ হয় না ।

আমার ধারনা, কোনোও কিছুতেই আমাদের এ বিভক্তি দুর হবার নয় । আমাদের দেশের অনেক বাঘা বাঘা প্রফেসর-বুদ্ধিজিবি রা মিথ্যা ইতিহাস লেখেন, বলেন । তাদের কি হবে?? তারা কিন্তু সব ই জানেন বোঝেন, তারপরও তারা তা বিশ্বাস করেন না । কেন করেন না, তা কিন্তু আমরা সবাই জানি .... ।

ভালো থাকবেন খালেদ ভাই, আরোও কিছু তথ্যবহুল লেখা দেখতে চাই ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ০৫:৪৪
আসলেই এটা জাতি হিসাবে আমাদের জন্য লজ্জার যে আমারা অনেক জাতীয় মৌলিক বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারি নি। এটার জন্য দায়ী কিছু স্বার্থান্নেষি, মোসাহেব, পদলেহী বুদ্ধিজীবি, ইতিহাসবিদ আর রাজনীতিবিদ। তবে দায়ী যেই হোক দায়টা কিন্তু আমাদের - পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের এসব সত্যকে তুলে ধরার। সেই দায়ভারটা স্বীকার করে যদি আমরা সবাই নিজেদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিজেদের সাধ্যমত চেষ্টা করি তবে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি একদিন এই বিভেদের দেয়ালটা আমরা দূর করতে পারব। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
sujanpranto12 সুজন০৩ জুলাই ২০০৯, ০৯:৫২
পোষ্টটা আমার দেখাই হয়নি কেন?

পোষ্টটা প্রিয়তে নিলাম খালেদ ভাই।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ১১:১১
ধন্যবাদ সুজন ভাই।
stsmtanveer শরীফ মোহাম্মদ তানভীর০৩ জুলাই ২০০৯, ১১:৪৪
"নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভাল।"
আমি সব সময়ই সব লেখার সমালোচনা করতে চাই। কিন্তু এ পোস্টটি এত সুন্দর করে দিয়েছেন যে সমালোচনা করার ভাষা খুঁজে পেলাম না।
ধন্যবাদ অসাধারণ শৈল্পিক গাঁথুনি সমৃদ্ধ লেখার জন্য। আশা করি ভবিষ্যতেও এরকম বিতর্কিত বিষয় নিয়ে সুস্থ চিন্তাধারার সুন্দর পোস্ট দিবেন।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৩ জুলাই ২০০৯, ০৯:৪৪
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।
sadi সাদি০৪ জুলাই ২০০৯, ০৮:৩৬
পোষ্টটা প্রিয়তে নিলাম খালেদ ভাই।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ০৪ জুলাই ২০০৯, ০৮:৩৮
ধন্যবাদ সাদী ভাই।
sahajada সাহাজাদা০৪ আগস্ট ২০০৯, ০৭:১৪
আপনিো ইতিহাসের ঠিকানায় নাম লেখালেন. আপনাকে অনেক দিন মনে রাখবে সত্য তথ্য সমৃদ্ব পোষ্টের জন্য. প্রিয়তে নিলাম।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ১৩ আগস্ট ২০০৯, ০৮:৫৪
ধন্যবাদ আপনাকে।
mahamanab মহামানব১৬ আগস্ট ২০০৯, ০৪:১৫
বাংলাদেশ কি স্বাধীন ?
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ১৬ আগস্ট ২০০৯, ০৯:৩১
অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই জাতি হিসাবে আমাদের অনেক বার্থতা আছে, আছে অনেক সীমাবদ্ধতা। তারপরও আমরা স্বাধীন। আমাদের যা করার ছিল স্বাধীনীতার এত বছর পার হওয়ার পরও তার অনেক কিছুই করতে পারি নি। সেটা আমদের ব্যার্থতা। সে বার্থতার অজুহাতে আমাদের কোনো অধিকারই নেই স্বাধীনতাকে অস্বীকার করার। তা হলে তা হবে লাখ শহীদ আর ধর্ষিতাদের ত্যাগকে অস্বীকার করার সামিল। আমি জীবনে উন্নতি করতে না পেরে ব্যার্থ হলে আমার জন্মটা নিশ্চয় মিথ্যে হয়ে যাবে না।
mostafiz_dhaka মোস্তা১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯, ১০:৩৯
অসাধারণ লেখা ।
mostafiz_dhaka মোস্তা১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯, ১০:৪০
অসাধারণ লেখা ।
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯, ০৮:৫৯
ধন্যবাদ মোস্তা ভাই।
t12oami987 ডাহুক রহমান০১ জানুয়ারি ২০১০, ১২:২২
চমৎকার পোস্ট। বর্তমান সরকার ১৯৮২ সালে সরকারী ভাবে প্রকাশিত স্বাধীনতার দলিলপত্রের উপর ভিত্তি করে বঙ্গবন্ধুর ২৬ তারিখের ঘোষনার কথা উল্লেখ করছে পাঠ্যবইগুলোতে। সময়কালটা লক্ষ্য করবেন, ১৯৮২ সাল। তখন প্রকাশিত সরকারী দলিলেও ২৬শে মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষনের কথা আছে। স্ক্যান করা পাতাটি দেখা যাবে এখানে -

http://www.scribd.com/doc/1045387/Declaration-SMR-Bangladesh-Swadhinata-Juddho-Dalil-Potro-Volume-3


এই একই বিষয়ে আরও বেশ কয়েকটা পোস্টের লিংক দেওয়া গেল:

১. ১৯৭১ এ মেজর জিয়াউর রহমান

http://www.somewhereinblog.net/blog/cameramanblog/28957867

২. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনার ইতিহাস

http://tanmoy.amarblog.com/posts/47708

৩. বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাঃএর কিছু দালিলিক প্রমাণ,আশা করি বিভ্রান্তি এবার দূর হবে

http://www.somewhereinblog.net/blog/mosiurrahman/28969609
saifuzzamankhaled সাইফুজ্জামান খালেদ১১ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:৩৮
লিঙ্কের জন্য ধন্যবাদ।
t12oami987 ডাহুক রহমান০১ জানুয়ারি ২০১০, ১২:৩৬
২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষনার বিষয়ে ১৯৭১ সালের অনেক আন্তর্জাতিক নিউজ-মিডিয়া, আমেরিকান বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের নানা রিপোর্ট রয়েছে। যা রিপোর্ট করা হয়েছিল সেটা অবিকৃতভাবে দেয়া হলো
এখানে -

http://www.nybangla.com/Muktijoddho/Final-Declaration-BSMR.pdf

লিস্টের কয়েকটি নাম উল্লেখ করা হল রিপোর্টিং ডেইটসহ:

১. আমেরিকান ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সী (২৬শে মার্চ, ১৯৭১)

২. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট টেলিগ্রাম (৩১শে মার্চ, ১৯৭১)

৩. আমেরিকান সিনেট রিপোর্ট (জুলাই ২৭, ১৯৭১)

৪. নিউ ইয়র্ক টাইমস (২৭শে মার্চ, ১৯৭১)

৫. ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল (২৯শে মার্চ, ১৯৭১)

৬. টাইম, নিউজউইক (৫ই এপ্রিল, ১৯৭১)

৭. বাল্টিমোর সান (৪ই এপ্রিল, ১৯৭১)

৮. আমেরিকান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেইট- রিসার্চ স্টাডি (ফেব্রুয়ারী ২,১৯৭২)

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

কথা হল এত ঐতিহাসিক তথ্য আর নির্ভরযোগ্য প্রমান থাকার পরও এই বিষয়ে বিতর্ক তৈরী করা হয় কেন? প্রখ্যাত জার্মান বেতার সংস্থা ডয়েশ-ভেলের মতে ''... রাজনৈতিক প্রাধান্য বিস্তারের জন্য ইতিহাস বিকৃতি। মসনদ দখলের জন্য এই বিতর্ক জিইয়ে রাখা হয়েছে। বিতর্কে জয়ী হবার জন্য দলিলপত্র পরিবর্তন করা হয়েছে.. ''

এই বিষয়ে তাদের প্রতিবেদন শোনা যাবে এখান থেকে-

http://www.nybangla.com/Muktijoddho/Declaration/germanRadio.mp3

উপরে দেয়া সব লিন্ক, ডকুমেন্ট পড়ার পরও যদি কেউ যদি বিভিন্ন আঙ্গিকে বিতর্ক তৈরী করতে চান তাহলে তার উদ্দেশ্য কি তা বুঝার জন্য ডয়েশ-ভেলের মন্তব্যই যথেস্ট। যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অবুঝ থাকতে চান তারা তা থাকুন, তবে মুক্তিযুদ্ধোত্তর নতুন প্রজন্ম যাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম হয়নি তারা সঠিক ইতিহাস জানার চেস্টা করলে সত্যটা জানবেই।

( এই মন্তব্যটি- সামুব্লগার সেলটিক সাগর- এর। তার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে এখানে কপি পেস্ট করা হল)
fix বজগ১৯ জানুয়ারি ২০১০, ০৮:১৪
Sheik Mijib Arrested After a Broadcast
New York Times
27/03/1971

http://www.bangladesh-71.info/portal/
Advertise on NYTimes.com
Article Preview
LEADER OF REBELS IN EAST PAKISTAN REPORTED SEIZED; Sheik Mijib Arrested After a Broadcast Proclaiming Region's Independence DACCA CURFEW EASED Troops Said to Be Gaining in Fighting in Cities -Heavy Losses Seen
New York Times Link
*
E-MAIL

By The Associated Press

March 27, 1971, Saturday

Page 1, 307 words
http://select.nytimes.com/gst/abstract.html?res=F50F10F63A55127B93C5AB1788D85F458785F9


NEW DELHI, Saturday, March 27 -- The Pakistan radio announced today that Sheik Mujibur Rahman, the nationalist leader of East Pakistan, had been arrested only hours after he had proclaimed his region independent and after open rebellion was reported in several cities in the East. [ END OF FIRST PARAGRAPH ]
reformer সংস্কারক২৮ জানুয়ারি ২০১০, ০১:১২
মনে হচ্হে এই মুহুরতে আমার জন্ম হোলো।
..................

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment