আর হলো না বলা, আমার না বলা কথা।

ডিসেম্বর
২২

তিনি-৮

সময় ১৫:৪৩:৫২

জীবন হৃদয়


(২৬ বছরের এই জীবনে অনেক মানুষের সাথেই আমার দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সত্যিকারের মানুষ, কেউ বা অমানুষ। আবার অনেকেই এমন ছিলেন যাদের আমি চিনতেই পারিনি। সেইসব নিয়েই আমার এই ধারাবাহিক “তিনি”)


আমার ৬ষ্ঠ জন্মদিনে তিনি আমার জন্য একটা কালো সুটকেস নিয়ে এলেন। উপহার হিসেবে। খুলে দেখলাম, ভেতরে ২২ টা খাতা (অংক, ইংরেজী, বাংলা লেখার জন্য, লাল-নীল রুল টানা টানা), ১৯ টি গল্পের বই, ১১ প্যাকেট রঙ পেন্সিল আর কয়েক ডজন রাবার, পেন্সিল ও কলম। আমি খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। তখনও ঠিকঠাক পড়তে শিখিনি, অক্ষরজ্ঞান পূর্ণ হয়নি, স্কুলে ভর্তি হয়েছি মাত্র। খানিকক্ষণ পরপর তাই সুটকেস খুলে নতুন বই-খাতা-পেন্সিলের গন্ধ শুঁকতে লাগলাম। আব্বু-আম্মুও খুব অবাক হয়ে গেলেন তাঁর কাণ্ড দেখে। তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি তো পুরো দোকান নিয়ে এসেছেন, ব্যাপার কী?” তিনি হাসতে হাসতে বললেন, “তোমাদের ছেলে বড় হচ্ছে, স্কুলে যাচ্ছে, এগুলো ওর কাজে লাগবে।”

আমার ৭ম জন্মদিনে তিনি নিয়ে এলেন ৬টি বই- চিল্ড্রেনস নলেজ ব্যাংক এর ৬টি খণ্ড, যাতে আমার ছোট মাথায় জেগে ওঠা অনেক অনেক আজগুবি প্রশ্নের জবাব দেয়া রয়েছে। তিনি বললেন, “ছেলে পড়তে ...

  • ৭৪টি মন্তব্য

নভেম্বর
০২

তিনি-৭

সময় ১৫:৪৩:৩৭

জীবন হৃদয়


(২৬ বছরের এই জীবনে অনেক মানুষের সাথেই আমার ক্ষণিকের জন্য দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সত্যিকারের মানুষ, কেউ বা অমানুষ। আবার অনেকেই এমন ছিলেন যাদের আমি চিনতেই পারিনি। সেইসব নিয়েই আমার এই ধারাবাহিক “তিনি”)


"এই আমার মেয়ে। ৩০ বছর বয়স। যেদিন ও জন্ম নিলো, ডাক্তার বললেন, ওর আয়ু মাত্র ১ বছর। সেই ১টা বছর আমি কত জায়গায় যে গেছি! কত ডাক্তার, কত ওষুধ! সবারই এক কথা। মেয়েটা আর বাঁচবে না। আমি কারও কথা বিশ্বাস করিনি। দেখতে দেখতে বছরটা পেরোলো। কাকতালীয় হলেও সত্যি, আমার মেয়ে বেঁচে গেল। ডাক্তাররা অবাক হলেন। বললেন, এমন তো হওয়ার কথা নয়! তাঁরা ভবিষ্যৎবাণী করলেন, এই মেয়ে এবার বেঁচে গেলেও ওর অনেক দুঃখ, সামনে অনেক বিপদ! আমি ভয়ে ভয়ে ওকে বড় করতে লাগলাম।

ডাক্তারদের কথা সত্যি হল। আমার মেয়ের একের পর এক স্ট্রোক হল, মোট- ৫ বার। ও বাকশক্তি হারাল, বুদ্ধি হারাল, একেবারে ছোট বাচ্চাদের মত হয়ে গেল। শেষ স্ট্রোকে ওর ব্রেনের যে অংশ মানুষের ক্ষুধার উদ্রেক করে, সেটাও নষ্ট হয়ে গেল। তারপর থেকেই পাকস্থলীতে ইনজেকশন দিয়ে খাবার দিতে হয়। আমি হতাশ হইনি কখনোই। আমি জানি, যে বাঁচার সে বাঁচবেই। আর যার সময় শেষ, তাকে চলে যেতে ...

  • ৫৫টি মন্তব্য

অক্টোবর
২০

তিনি-৬

সময় ১৬:১১:১৯


(২৬ বছরের এই জীবনে অনেক মানুষের সাথেই আমার ক্ষণিকের জন্য দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সত্যিকারের মানুষ, কেউ বা অমানুষ। আবার অনেকেই এমন ছিলেন যাদের আমি চিনতেই পারিনি। সেইসব নিয়েই আমার এই ধারাবাহিক “তিনি”)

ঠাস করে একটা শব্দ হল। মেঝেতে পড়ে যেতে যেতে বুঝলাম চড় খেয়েছি। কানের এক পাশটা গরম হয়ে গেছে। উঠে দাঁড়ালাম কোনো রকমে। মুখটা কাঁদো-কাঁদো করে আছি, সাথে মিশেছে বিস্ময়। চড় খাওয়ার কারণ ধরতে পারছি না। যদিও যিনি মেরেছেন তাঁর জন্য এটা খুবই সাধারণ ব্যাপার। শুনেছি, একবার রেগে গিয়ে তিনি দোতলা থেকে পড়ার টেবিলটা ফেলে দিয়েছিলেন! আমি ৮ম শ্রেণীতে পড়ি, যিনি চড় দিলেন তিনি দ্বাদশ এ। আমার উচ্চতা ৪ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি আরও ১ ফুট বেশি তো হবেনই। মাথা উঁচু করে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছি। ঘাড়টা টনটন করছে। লাঞ্চের পরে তিনি আমাকে ডেকেছেন। ইংরেজী উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ছিল আজ। আমি ভাল করতে পারিনি। স্টেজে ইংরেজী বলা এই প্রথম, খারাপ তো হবেই। এটাই কি চড় খাওয়ার কারণ? কিন্তু আমি তো চেষ্টা করেছি, গাফিলতি তো করিনি কোথাও!

তিনি গর্জে উঠলেন- “কী, হ্যাঁ! টপিক এসেছে ভেজিটেবল গার্ডেন, তুমি ভিলেজ গার্ডেন কোথায় ...

  • ৫০টি মন্তব্য

সেপ্টেম্বর
২৭

তুমি কি কেবলি ছবি!

সময় ০১:৩৮:১৭




























সূত্রঃ

মোবাইল ক্যামেরায় তোলা কিছু ছবি,
স্থানঃ আলবার্টা ও ব্রিটিশ কলম্বিয়া, ...

  • ৬১টি মন্তব্য

সেপ্টেম্বর
১৭

তিনি-৫

সময় ১০:০৯:১৪


(২৬ বছরের এই জীবনে অনেক মানুষের সাথেই আমার ক্ষণিকের জন্য দেখা হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ছিলেন সত্যিকারের মানুষ, কেউ বা অমানুষ। আবার অনেকেই এমন ছিলেন যাদের আমি চিনতেই পারিনি। সেইসব নিয়েই আমার এই ধারাবাহিক “তিনি”)

ভদ্রমহিলা মিটিমিটি হাসছেন। আমি অবাক হলাম। কড়া ওষুধ খেয়ে হাসপাতালের বিছানায় পড়ে আছি। মাথা ঝিমঝিম করছে। আমার যে অবস্থা তাতে কারো হাসার কথা নয়। নিদেনপক্ষে আমার দিকে তাকিয়ে মুখ গোমড়া করে আমাকে সমবেদনা জানানোর কথা। তবে কি কোথাও ভুল হচ্ছে? তিনি হয়ত হাসছেন না, আমারই চোখের ভুল। ডাক্তার তো বলেই গেছেন- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হল ধীরে ধীরে দৃষ্টি হারানো। আমি নড়েচড়ে বসলাম। ভদ্রমহিলার হাতে ঝাড়ু জাতীয় কিছু একটা। আমার রুম পরিস্কার করতে এসেছেন। কিন্তু কাজ শুরু না করে তিনি আমার দিকে তাকিয়ে আছেন। কারণটা কী?

মহিলা নিজেই নীরবতা ভাঙ্গলেন। আমার দিকে এগিয়ে এসে বললেন, তুমি জানো একটা কথা? আমি বললাম, কী? তিনি বললেন, তোমাকে দেখে আমার ছেলের কথা মনে পড়ছে। এবার আমার দ্বিগুণ অবাক হবার পালা। আমি চট করে আমার গায়ের রংটা দেখে নিলাম। নাহ, এখনো কালোই আছি। ওদিকে ভদ্রমহিলা খুব ফর্সা। তাঁর ছেলে ...

  • ৫৬টি মন্তব্য

সেপ্টেম্বর
০৬

কিছু গল্প, কিছু শিক্ষা-২

সময় ১২:০৭:৪৪


এক দেশে ছিল এক বৃদ্ধ লোক। সে ছিল খুবই দুষ্ট প্রকৃতির। নানাভাবে মানুষের অনিষ্ট করে বেড়ানোই ছিল তার কাজ। একদিন সে তার এক প্রতিবেশীর নামে গুজব ছড়ালো যে সে চোর। সবাই সে কথা বিশ্বাস করল। পুলিশ এসে সেই প্রতিবেশী লোকটাকে ধরে নিয়ে গেল। তদন্তে দেখা গেল প্রতিবেশী লোকটা নির্দোষ। তাকে ছেড়ে দেয়া হল। জেল থেকে বেরিয়ে সে বৃদ্ধ লোকটার নামে মিথ্যা হয়রানির দায়ে মামলা করল।

আদালতে বৃদ্ধ লোকটাকে বিচারক মিথ্যা গুজব ছড়ানোর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। বৃদ্ধ বলল- "আমি তো কথার কথা বলেছিলাম, কাউকে ক্ষতির উদ্দেশ্যে বলিনি ওগুলো।"

বিচারক সব শুনলেন। চূড়ান্ত রায় দেয়ার আগে তিনি বৃদ্ধকে বললেন-"একটা কাগজে তুমি ওই প্রতিবেশী লোকটির নামে যা যা বলে বেড়িয়েছ, সব লেখো। এরপর কাগজটা ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলো। তারপর ওই টুকরো কাগজগুলো তোমার বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে দাও। এখন বাসায় যাও। কালকে তোমার রায় দেয়া হবে।"

পরের দিনের কথা। আদালতে বিচারক বৃদ্ধকে বললেন-"রায় শোনার আগে তোমাকে একটা কাজ করতে হবে। গতকাল যে কাগজের টুকরোগুলো রাস্তায় ফেলেছিলে, সেগুলো সব কুড়িয়ে একত্র করে নিয়ে এসো।" বৃদ্ধ লোকটি অবাক হল। বলল-"কিভাবে এটা ...

  • ৫২টি মন্তব্য

আগস্ট
১৩

আমার যদি একটা আকাশ থাকত!

সময় ০৮:০৪:২৮

কবিতা


আমার যদি একটা আকাশ থাকত!
অত সুবিশাল নয়, অল্প একটু।
সে আকাশের পানে চেয়ে,
কাটিয়ে দিতাম হাজার বছর।

আমার যদি একটা পাহাড় থাকত!
অত উঁচু নয়, সামান্য একটু।
সে পাহাড়ের চূড়ায় চেপে,
তাকিয়ে থাকতাম দূর-বহুদূর।

আমার যদি একটা নদী থাকত!
অত দীর্ঘ নয়, ছোট্ট একটু।
সে নদীর জলে নেমে,
সাঁতরে যেতাম অচিনপুর।

আমার যদি একটা তুমি থাকত!
আকাশ, পাহাড়, নদী,
আমার হত সবই,
যেন ঘুমে পাওয়া এক স্বপ্নের ...

  • ১০৫টি মন্তব্য

আগস্ট
০৮

কিছু গল্প, কিছু শিক্ষা-১

সময় ১১:৩০:৫৪

জীবন


(আমরা মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব। মানে, গুনে, আচরণে আমরা ভালো হব না তো, কে হবে? মহান আল্লাহ এই দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন আমাদের পরীক্ষা নেয়ার জন্য। সেই পরীক্ষায় যে আমাদের উত্তীর্ণ হতেই হবে। চলুন না কিছু গল্প শোনা যাক!)

এক দেশে ছিল এক কামার। কামার মানে বুঝলেন না? যারা কাঠের কাজ জানে। তো, সেই কামার ছিলেন খুব দক্ষ এবং অভিজ্ঞ। খুব সুন্দর কাঠের বাড়ি বানাতে পারতেন। সবাই তার প্রশংসায় ছিল পঞ্চমুখ। একদিন সেই কামার ভাবলেন, অনেক তো বয়স হল, আর নয়, এবার অবসর নেওয়া যাক! পরিবারের সাথে জীবনের শেষ দিনগুলো কাটাবেন তিনি। যেই ভাবা সেই কাজ। কামার তার মনিবের কাছে গেলেন। সব কথা খুলে বললেন। মনিব দুঃখ পেলেন খুব। এত ভালো একজন কামারকে হাতছাড়া করতে কিছুতেই তার মন চাইছিল না। তিনি কামারকে অনুরোধ করলেন, "দেখো, তুমি চলে যাবে ঠিক আছে। কিন্তু যাবার আগে আমাকে আর একটি বাড়ি বানিয়ে দিয়ে যাও। এটাই হবে তোমার শেষ কাজ, আমি কথা দিচ্ছি।"

কামার খুব মনোক্ষুণ্ণ হলেন। কিন্তু তিনি মনিবকে তা বুঝতে দিলেন না। বললেন, "ঠিক আছে হুজুর, আপনার কথাই রইল।"

কামার তার জীবনের শেষ বাড়িটি বানানো শুরু করলেন। কিন্তু কিছুতেই তার কাজে মন বসছিল না। ...

  • ৬৮টি মন্তব্য

আগস্ট
০২

দৃশ্যকল্প

সময় ০৯:৪৭:৪৫


দৃশ্যঃ ১

তিনি রিকশা চালান। সংসারে ৭ জন মানুষ। দিনে যা রোজগার করেন, দিনেই শেষ হয়ে যায়। সবাই মিলে দুই বেলা ভাত খান। সাথে থাকে শাক, কোনোদিন লাল, কোনোদিন পালং। গত রাতে একটানা বৃষ্টি হয়েছে। ভোরে বড় রাস্তায় গিয়ে তাঁর চোখ চকচক করে ওঠে। কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। আজ এই পানির দোহাই দিয়ে কিছু বাড়তি রোজগার করা যাবে। সারাদিন খুব খাটেন তিনি। রাতে চাল আর শাক এর সাথে দুই কেজি ডাল নিয়ে বাড়ি ফেরেন। সারা গা ভেজা, মুখে দিগ্বীজয়ীর হাসি। স্ত্রীকে হাঁক দিয়ে বলেন, "আইজ ডাইল আনছি গো বউ, শাক দিয়া ডাইল খামু"। সন্তানেরা সব নড়েচড়ে বসে। বাবাকে আজ তাদের খুব ভালো মানুষ মনে হয়। আজ কতদিন পর তারা শাক-ডাল দিয়ে ভাত খাবে!

দৃশ্যঃ ২

একটি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার। বাবা সরকারী ব্যাংকের কেরানী। দুই ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে অভাবের সংসার। ঢাকা শহরে থাকেন, বাড়ি ভাড়া দিতে গিয়েই অর্ধেক বেতন শেষ হয়ে যায়। ছেলেমেয়েদের ভালো-মন্দ খাওয়াতে পারেন না। রাতের খাবার খেতে বসেছেন তারা। মেন্যু সেই ভাত, ডাল আর ডিম। বড় ছেলের প্লেটে ভাত, ডাল তুলে দিতেই সে চিৎকার করে ওঠে-"আজও ডালভাত রান্না করেছ? এই বৃষ্টির দিনে ইলিশ-খিচুড়ি রান্না করলে পারলে ...

  • ৬৬টি মন্তব্য

জুলাই
২৩

তোমার খোলা হাওয়া

সময় ১১:৫১:৫০


তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে, টুকরো করে কাছি,
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি।

সকাল আমার গেল মিছে, বিকেল যে যায় তারি পিছে গো--
রেখো না আর, বেঁধো না আর কূলের কাছাকাছি।
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি!

মাঝির লাগি আছি জাগি সকল রাত্রিবেলা,
ঢেউগুলো যে আমায় নিয়ে করে কেবল খেলা।
ঝড়কে আমি করব মিতে, ডরব না তার ভ্রু-কুটিতে--
দাও ছেড়ে দাও, ওগো, আমি তুফান পেলে বাঁচি!

তোমার খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে, টুকরো করে কাছি,
আমি ডুবতে রাজি আছি, আমি ডুবতে রাজি আছি।


সূত্রঃ অখণ্ড গীতবিতান, প্রকাশক বিশ্বভারতী, পৌষ ১৩৮০ সংস্করণ
রচনাকালে রবি ঠাকুরের বয়সঃ ...

  • ৪৫টি মন্তব্য

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫