ব্ল গা ব লী

অক্টোবর
২৫

সরকারের প্রেসনোট, জননিরাপত্তার প্রেতাত্মা ও হিজবুত তাহরীর

প্রথমেই নোট দিয়ে রাখি, হিজবুত তাহরীর নামে যে দলটিরে সম্প্রতি আওয়ামীলীগ সরকার নিষিদ্ধ করেছে তার রাজনৈতিক শ্লোগান 'খেলাফত' এবং এ বিষয়ে দলটির অবস্থান এর সাথে আমার ভিন্ন বোঝাপড়া আছে। সেটি খুবই ভিন্ন প্রসঙ্গ। কিন্তু সেই মতভিন্নতা দলটিরে নিষিদ্ধ করার মতো ফ্যাসিবাদি তৎপরতারে সমর্থন করার জন্য আমাকে প্ররোচিত করে না। 'ইসলাম', 'খেলাফত' এই বিষয়গুলোর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ফেনোমেনা সহ ইসলামের ভিতরকার কিছু তাৎপর্যপূর্ণ বিতর্ক আছে, বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিচারে তার প্রগতিশীল পর্যালোচনাও জরুরী বলে মনে করি আমি।

কিন্তু নিষিদ্ধ করা কেন?

এ বিষয়ে বর্তমান সরকার একটি প্রেসনোট দিয়েছে। সরকারের প্রেসনোট অনুযায়ী, জননিরাপত্তার জন্য হুমকির কারণ হওনের কারণে সরকার হিজবুত তাহরীর নামে সংগঠনটিরে নিষিদ্ধ করেছে। ভাল কথা। তাহলে এখন জননিরাপত্তা বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ বৈকি। এই গুরুত্বপূর্ণতারে আমলে নিয়ে শব্দটির বিবিধ প্রয়োগ এবং ব্যবহারগুলিরে আসুন একটু ধর্তব্যে আনি।

সাম্প্রতিকতম সময়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি আখ্যায়িত করে এগার-এক রেজিমের হোম মিনিস্ট্রি থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। তার সাথে একটি গোয়েন্দা রিপোর্টের কথাও বলা হয়েছিল, প্রথম আলো ডেইলি স্টার যেটি ফলাও করে প্রচার করেছিল। তিনি লগি-বৈঠা আহ্বান করে ঢাকার রাস্তা রক্তাক্ত করার পৈশাচিক কর্মকান্ডের একজন আসামীও ছিলেন। পরিহাস হলো, সেই সময়ে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিশেবে ঘোষিত হাসিনাই বর্তমানে হিজবুতের টুটি টিপে ধরতে এই শব্দবন্ধটিরেই বেছে নিয়েছে।

আসলে এই জননিরাপত্তা ব্যাপারটি বেশ সরস, দরকারী জায়গাটিতে সব ফ্যাসিবাদিরাই তা প্রয়োগের মাধ্যমে বিপরীত মতকে দমনের সুযোগ গ্রহণ করে। প্রকৃত অর্থে জননিরাপত্তার জন্য হুমকির কথা যদি বলতেই হয় তাহলে প্রথমেই আসে আওয়ামীলীগ বিএনপির মত রাজনৈতিক দলগুলো, তারপরে প্রথম আলো ডেইলি ষ্টারের মত মিডিয়া, সুবিধাবাদি সুশীল সমাজ- যারা স্বার্থের বিনিময়ে দেশের সর্বস্ব বিকিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। গণতন্ত্রের টুটি টিপে ধরে।

পত্রপত্রিকা পড়ে যদ্দুর জানা যায়,

হিজবুত তাহরীরের কোন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে কোনরকম চাঁদাবাজি, লুণ্ঠন, বা অস্ত্রসহ গ্রেফতার অথবা নাশকতামূলক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে নাই সরকার। দুই হাজার এক সালে কার্যক্রম চালু করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এই দলটি সবচেয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক দলগুলোর একটি।

গোয়েন্দা রিপোর্টে অন্য যে কয়েকটি সন্দেহভাজন দলের তালিকা দেওয়া হয়েছে সেগুলো প্রায় কোনোটাই কিন্তু প্রকাশ্য অস্তিত্ত্ব নাই। জরুরী অবস্থাসহ সব ধরণের বাঁধার পরিস্থিতিতেও টিপাইমুখ বাঁধ, পিলখানা ষড়যন্ত্র, সাগরের তেলগ্যাস রফতানি, এশিয়ান হাইওয়ের নামে করিডোর দেয়ার চেষ্টা, টাইগার শার্ক নামে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া, টিফা চুক্তি- এইসব দেশীয় স্বার্থ সংস্লিষ্ট ব্যাপারগুলোতে এই দলটির সোচ্চার তৎপরতার সংবাদ গণমাধ্যমগুলো জুড়ে সবসময় ছিল। তাহলে এই দলটি দেশ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয় কীভাবে? 'জননিরাপত্তা'র সংজ্ঞা কী?

জননিরাপত্তার নামে এই ফ্যাসিবাদি চর্চাকে এখন গুরুতর প্রশ্ন করার সময় এসেছে। এগার একের রেজিমের উত্তরসুরি এই একদলীয় সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকারের অতীতও গণমাধ্যম এবং সব ধরণের রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় বাকশাল গঠনের মত কালো উদাহরণে ভরপুর। বিজয়ের অব্যবহিত পরেই, উপজেলা নির্বাচন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক-রাজনৈতিক আন্দোলনের মুহূর্তগুলোতেও পৈশাচিক দমন এবং বল প্রয়োগের যে উদাহরণ তারা রেখেছেন, তাতে এই একদলীয় সরকারের ফ্যাসিষ্ট উপকরণগুলো স্পষ্ট হয়ে এসেছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের আরো অপরাপর তৎপরতাগুলো বিশ্লেষণ করে সচেতন মহল প্রশ্ন করতেই পারে যে, এর গন্তব্য কোথায়?


৩টি মন্তব্য

  • সারওয়ার চৌধুরী বলেছেন ২০০৯/১০/২৫ ১৩:২৯:৫৯

    যে যায় লংকায় সে রাবন অথবা......

    ‘’the contemporary resurgence of religion is a postmodern phenomenon. Both postmodern philosophy and Religious theology reject the modernist claim in the infallibility of reason. ‘’
    Unlike modernism, It seems postmodernism has, too, the binary opposition—dark and bright!

    উত্তরাধুনিকতার ধারনার বান্ডিলের উপর আমার ব্লগে সিরিজ পড়ার জন্য দাওয়াত।

  • ধ্রুবো বলেছেন ২০০৯/১০/২৫ ১৩:৩০:২৫


    এগুলো কি তাহলে?

  • হাইড্রো এক্স বলেছেন ২০০৯/১০/২৬ ২২:০১:১৪

    ব্যাপারটার মূল আরো গভীরে। কেন যেন মনে হচ্ছে এটা ঝড়ের আগের আলামত। এই দেশকে ঘিরে মার্কিনদের ব্যাপক কোন প্লান আছে। তা না হলে কেন ফট করে ব্যান?



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫