স্ব ধ্যান-ধারণা

ডিসেম্বর
৩০

ফলাফলটা আগেই আঁচ করতে পারছিলাম

সময় ২০:১৫:৪৫

যখন সারা দেশ বিজয় দিবসের দিনে এক সুরে বলে “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই”, তখন তো এটা স্বাভাবিকই এই দল যেই জোটে আছে সেই জোট হারতে বাধ্য। তবুও যে দুইটা সিট জামায়াত পাইছে সেইটা কিন্তু আশ্চর্য্যজনক! যুদ্ধাপরাধীদের জোটে নিয়েই হারছে বিএনপির চারদলীয় জোট। আর এরপর যতই “দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও” বোঝানো হউক না কেন, কোনো প্রভাবই এতে হবে না।
মানুষ জানে মহাজোটে স্বৈরাচারী একটা দল আছে। কিন্তু কেউ কি চাইবেন যুদ্ধাপরাধীদের নাকি স্বৈরাচারীদের? যতই অপরাধ করুক না কেন, যুদ্ধাপরাধ হলো এগুলোর চেয়ে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম।
আর গত কয়েক বছরের দুর্নীতির (হাওয়া ভবনের নানা ধরনের সিন্ডিকেট) পরেও মানুষ কি বোকা হলেই একমাত্র চারদলকে জয়ী করবে। হ্যাঁ, আওয়ামী আমলেও হয়েছে দুর্নীতি, কিন্তু গত কিছু বছরের দুর্নীতি মানুষের স্মৃতিতে কালরাত্রির মতো হয়ে আছে। মানুষ এখন এসব থেকে মুক্তি চায়। আর এ মুক্তির জন্য দুইটাই তো জোট, মহাজোট নয় চারদলীয় জোট। আর যুদ্ধাপরাধীদের যে কোনো মূল্যেই রুখবে দেশের মানুষ, আর এজন্যই ...

  • ১৩টি মন্তব্য

ডিসেম্বর
২৬

এদের কি এখনো শিক্ষা হয়নি?

সময় ০০:৪৪:১২

হাসিনা আপা আর খালেদা ম্যাডামের কি এখনো শিক্ষা হয়নি? গত দু’বছরের ‘রাজনৈতিক গুণগত পরিবর্তন’ কি আদৌ এদের হবে না? নির্বাচনী ইশতেহার তো দু নেত্রীই দিলেন। কিন্তু এতে তো শুধুই ভালো দিকগুলো বললেন। খারাপ কি ঘটবে না? তাহলে কেন তা আগে থেকেই বলছেন না। জনগণ জানে যেই আসুক না কেন, এই বাংলার মাটি থেকে দুর্নীতি রোধ এত সহজ নয়। এই দু’দল একে অপরকে শুধু বকেই যাবেন, পুলিশের নিরাপত্তায় থাকবেন যখন নেতা-কর্মীরা একে অপরের বিরুদ্ধে লেগে যাবে? কতটা কাপুরুষোচিত আচরণ বলুন? তাদের সেই পুরোনো বক্তৃতা দিয়েই যাবেন, উন্নয়নের জোয়ারের লিস্ট বলেই যাবেন…আর কতো? এবার নিজেদের ভুলগুলোও এবার স্বীকার করুন। দেখেন না, যদি সত্য স্বীকার করেন, হয়ত ভোট বাড়তেও পারে। আমি তো মনে করি অবশ্যই বাড়বে। জনগণ বুঝবে “যাক, দু’বছরে কিছুটা হলেও শিক্ষা হয়েছে”। ভুল যে কত করেছেন তা জনগণ সবই জানে, তাই যতই নিজেদের উন্নতির ফলক তুলে ধরেন না কেন, হাওয়া ভবন আর সুধা সদনের কথা সকলেই জানে।
এবার সময় হলো নিজেদের সত্যিকারের রূপটাও কিছুটা তুলে ধরার। নির্বাচনের আর বেশী সময় নেই। তাই আশা করব নিজেদের ভালো ঢোল পেটানোর সাথে সাথে খারাপ ঢোলটাও একটু ...

  • ১১টি মন্তব্য

ডিসেম্বর
১৯

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কে দেবে?

সময় ০৬:৩৫:১৩

নির্বাচনী আমেজে পুরোপুরি রমরমা সারা বাংলাদেশ। ২৯শে ডিসেম্বর হতে যাচ্ছে বহুল অপেক্ষার অবসান। ঘটতে যাচ্ছে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। হয়তবা মহাজোট কিংবা চারদলীয় জোট। একজোট নাহয় আরেক জোট ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু এতে কি হবে? সংখ্যালঘুরা যারা বাংলাদেশের হিন্দু, খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ থেকে শুরু করে নানা ছোটখাট গোষ্ঠীদের দ্বারা গঠিত তাদের ভাগ্যের কি কোনো পরিবর্তন হবে?
অনেকে বলেন আওয়ামী লীগ হচ্ছে সংখ্যালঘুদের বন্ধু। আমার প্রশ্ন, বন্ধুই যদি হতো, তাহলে শত্রুসম্পত্তি আইন কেন তাদের সময়ে বলবৎ ছিল? শুধুমাত্র ভারতে চলে গেলেই একটি হিন্দু পরিবারের সম্পত্তি এই আইনের দ্বারা সরকারের অধীনস্ত হয়ে যাবে? তার আগে দেখার বিষয় কেনই বা ২০% সংখ্যালঘু থেকে আজ ১০% এরও কম সংখ্যালঘু বাংলাদেশে? কেন তারা ঘর-বাড়ি, জমি-জমা ছেড়ে বা দখলের ভয়ে বা এলাকার প্রভাবশালীদের দাপটে মাতৃভূমি ছেড়ে যাবে? যতটা অধিকার একজন সংখ্যাগরিষ্ঠের আছে বাংলাদেশে সুন্দরভাবে বসবাসের তেমনি করে কি অধিকার নেই একজন সংখ্যালঘুর?
এখন নির্বাচনের সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ভয়, ২০০১ এর ঘটনার পুনরাবৃত্তি। সেসময় যেভাবে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত, ...

  • ৪টি মন্তব্য

ডিসেম্বর
০৪

প্রকৃত শিল্পীকে জয়ী করুন

সময় ০৪:৪৯:২০

দীর্ঘ সাত মাস ধরে ক্লোজআপ ওয়ান চলছে। খোঁজা হচ্ছে একজন প্রকৃত শিল্পীকে যে দেশে-বিদেশে বাংলাদেশের সংগীত ভুবনকে সুন্দরকরে প্রসারিত করবে তার বহুমুখী গানের মূর্ছনায়। আজ প্রায় দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে সেই খোঁজা। চুরাশি হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে চার জন আজ সর্বশেষ প্রান্তে: অপু, লিজা, আতিকসাজু। প্রত্যেকেই তাদের সুরের মূর্ছনায় ভোলাতে চেয়েছে বাংলাদেশের মানুষদের দেশে ও প্রবাসে। সাথে বিচারকগণ তো তাদের উৎসাহ দিয়েই গেছে।
২০০৫ ও ২০০৬ সালে যেই ভুল করেছিল বলে অনেকে মনে করেন, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সেজন্যই আমার এই লেখা। ১০ লক্ষ টাকা আর একটা গাড়ি পেয়ে গতবারগুলোর বিজয়ীরা ভুলে গেছে বিনম্রতা। অনেকে প্রবাসে এসে অশোভন আচরণও করেছে। শিল্পী তো তখনই শিল্পী থাকে যখন সে মানুষের হৃদয়ে অবস্থাণ করে। অহংকার আর গর্বের তোপে এরা ভুলেই যায় এদের অতীত। আর তাছাড়াও গানের দিক থেকে বিচার করলেও অনেক সংগীত বোদ্ধারা মানবেন এদের অক্ষমতার কথা। অথচ গত দু’বারই দ্বিতীয় বিজয়ী ...

  • ১১টি মন্তব্য

নভেম্বর
৩০

কোথায় এগুচ্ছে সোনার বাংলা???

সময় ০৪:৩০:৫৭

গত রাতে কিছু মোল্লার মতো লোক ঢাকার "বলাকা" ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলল। আরো শুনলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের একটি প্রতিকৃতিও নাকি এরা ভেঙেছে। আরো খবর জানলাম, আজ কিংবা আগামীকাল হয়ত "অপরাজেয় বাংলা"কেও ভাঙবে এরা। বাহ, কতই না উন্নতি হচ্ছে বাংলাদেশের! কত উন্নয়নের ধারায় বয়ে যাচ্ছে দেশ! এরই জন্য কি মুক্তিযোদ্ধারা বাপ-মা, ভাই-বোন ছেড়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল? এরই জন্য কি মা-বোনেরা সম্ভ্রম দিয়েছিল? এরই জন্য কি ভারতীয়রা আমাদের সাহায্য করেছিল? এরই জন্য কি তিরিশ লক্ষ লোক প্রাণ দিয়েছিল?
ধিক্কারের ভাষাও হারিয়ে ফেলেছে বাংলা। সরকারের করুণভাবে নগ্ন সমর্থন এসব মৌলবাদীদের পক্ষে কিসের ইঙ্গিত বহন করে তা সচেতন পাবলিক ঠিকই জানে। এখন কথা হলো কাদের জন্য এসব? পশ্চিমাদেরকে সন্তুষ্ট করার জন্য? যেভাবে আজ ফখরুদ্দীন সরকার (বিশেষ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) এদের ভরণ-পোষণ করছে তাতে বাংলাদেশে একটা গৃহযুদ্ধের আশংকা আমার মনে উদিত হচ্ছে। আর তা যদি হয়ই তাহলে সংস্কৃতিমনা, প্রগতিশীল জনগণ বনাম মৌলবাদী, গোড়া মুসলিমদের মধ্যেই হবে বোধহয়। কিন্তু এ ঘটনা কবে হয় আর কিভাবে হয় সেটাই এখন দেখার ...

  • ৩টি মন্তব্য

নভেম্বর
২৭

মুম্বাই হামলা সম্পর্কে কিছু কথা

সময় ২২:১৫:৪৫

মুম্বাইতে গতকাল হামলা হয়ে গেলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায়। হোটেল, ক্যাফে থেকে শুরু করে হাসপাতালে পর্যন্ত আততায়ীরা হামলা চালায় নিরীহ লোকজনদের ওপর। পুলিশের জিপ হাইজাক করে নিয়ে সেটা ব্যবহার করে যত খুশী লোক মারতে পারে এই পণে মাঠে নামে সন্ত্রাসী বাহিনী “ডেকান মুজাহিদীন”। জানিনা কতটুকু সত্য যে এরাই ঘটনাটা ঘটিয়েছে, তবে এটুকু নিশ্চিত যে, পূর্ব-পরিকল্পনা করে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীই এই কাজ করেছে। কাপুরুষোচিত বললেও মনে হয় কম হবে এসব নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য মানুষরূপী পশুদের অপকর্মের তুলনা করতে গেলে। এদের না সাহস আছে সশস্ত্র কোনো বাহিনীর (পুলিশ, আর্মি) বিরুদ্ধে সামনাসামনি যুদ্ধ করার, কিন্তু মূর্খের মতো মগজ আছে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার। ধর্মকে ব্যবহার করে এরা নিজেদেরকে বেহেস্ত তো দূরের কথা, দোযখেও স্থাণ পাবার জন্য রাখছে কিনা সন্দেহ। কোনো ধর্মের কোনো পুস্তক বা কোনো ঈশ্বরের বাণী হিংস্রতাকে প্রশ্রয় দিতে পারে না - সে যত পন্ডিত, আলেমরাই বোঝাক না কেন। আল্লাহর নামকে ব্যবহার করে এরা অন্য প্রকৃত আল্লাহর বান্দাদের অমুসলিমদের কাছে ছোট করছে। মনে হচ্ছে, মাদ্রাসা ব্যাপারটাকেই বন্ধ করে দেয়া উচিত, বা ...

  • ১৯টি মন্তব্য

নভেম্বর
০৮

শুরু করি নির্বাচন নিয়ে

সময় ২২:০০:০৪

এটি আমার প্রথম পোস্ট। আসলে বলার তো অনেক কিছুই আছে, কিন্তু ভেবে দেখলাম নির্বাচনকে ঘিরেই প্রথম পোস্টটা করি।

২০০৮ একটা পটপরিবর্তনের বছর। নির্বাচনের বছর। যেমনভাবে বিশ্বের সর্বশক্তিশালী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন হলো রাষ্ট্রপতি নির্ধারণের, তেমনি করে বাংলাদেশের মতো একটি ছোট দেশেরও নির্বাচন হতে যাচ্ছে এই বছরই। আমি অনেক মিল-অমিল খুঁজে পেলাম এই দুটি দেশের নির্বাচনকে ঘিরে।

আটটি বছর "লেইম ডাক" বুশের শাসনে দিন কাটাল আমেরিকাবাসী। এতে দেশের তো উন্নতি তো হলোই না বরং অবনতিই বেশী। বিশ্ব আজ এক অর্থনৈতিক দুরবস্থা পার করছে, যখন এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার সৈন্য পাঠিয়ে রেখেছেন দুটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশে। নিউক্লিয়ার, বায়োলজিক্যাল ও কেমিক্যাল অস্ত্রের সন্ধানে নেমে কিছুই তো পেলো না আর মারতে লাগল নিরীহ মানুষজন। এমন ক্রান্তিলগ্নে এলেন বারাক ওবামা, রিপাবলিকান প্রার্থী জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করে। পরিবর্তনের সুর নিয়ে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে মার্কিন ইতিহাসে ২১৬ বছরের শ্বেতাঙ্গ শাসনের অবসান ঘটিয়ে আসছেন বারাক ওবামা আগামী জানুয়ারীতে হোয়াইট হাউজে। সকলের মাঝে কেমন যেন স্বস্তির ...

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫