স্ব ধ্যান-ধারণা

জানুয়ারি
১৬

হায়রে পাশ্চাত্য!

অনেকদিন ধরেই এই লেখাটি লিখব লিখব করে আর লেখা হচ্ছিল না। অবশেষে ভাবলাম ভার্সিটি আবার খোলার আগেই লিখি। আর সেই সাথে একটু বুঝে নেই এ সম্পর্কে ফোরাম/ব্লগ মহলগুলো কি ভাবছে। ঠিক আছে, আর ভূমিকা না বাড়িয়ে মূল কথায় আসি।

প্রত্যেকটি জাতিই তাদের নিজ নিজ সংস্কৃতি, কৃষ্টিকে সম্মান করে চলে। প্রত্যেকের কাছে ধর্ম যেমন (অন্তত আস্তিকদের কাছে) গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সংস্কৃতিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এমনি আমাদের বাঙালী সমাজেরও দীর্ঘ আচার-সংস্কৃতি বহুকাল থেকে বিদ্যমান আছে। বৃটিশ শাসন, পাকিস্তান শাসন আমাদের বাংলা ভাষা কেড়ে নেবার মতো চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে আমাদের সংস্কৃতির প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা-ভক্তির কাছে।

কিন্তু সম্ভবত গত ২০০০ পরবর্তী সময় থেকে বা হয়ত এর কিছুটা আগে থেকেই আমাদের বাঙালী সমাজে পাশ্চাত্যের প্রভাব ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। বর্তমান সময়ে এর প্রভাব আরো বেশী করে চোখে পড়ার মত। যেখানে বিজয় দিবসের দিন রাস্তা-ঘাটে হিন্দি গান চলে কিংবা নতুন ঢাকায় ছেলে-মেয়েদের কাপড়-চোপড় পশ্চিমা ধাচের পড়ে ঘোরে তখন কি করে আমাদের বাঙালী সংস্কৃতি সামনের দিনে টিকে থাকবে?

তাছাড়া, আজকাল পশ্চিমা ধাচের মতো বাংলাদেশেও বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড সম্পর্ক এবং এর ফলে রমনা পার্কে বা ওইরকম স্থাণগুলোতে যুবক-যুবতী খোলামেলাভাবে যে সব আচরণ করে, তা তো আজ থেকে ২০ বছর আগেও বাঙালী কল্পনাও করতে পারেনি। যে কোনো প্রাচীন সময়ের চেয়ে আজকাল কিশোর-কিশোরী রাস্তায় যেভাবে ঘুরে বেড়ায়, তাতে মুরুব্বীরাও লজ্জা পাবার অবস্থা দাঁড়ায়।

তাছাড়া, ইংরেজীর কথা তো এখনো বলাই হয়নি। আজকাল ইংরেজীর ব্যবহার বাংলার বদলে যে হারে বাড়ছে, তাতে আমার তো শঙ্কাই হয় কোনদিন জানি বাংলা ভাষাটাই বিশ্ব থেকে বিলীন হয়ে যায়! একবার একটা সেমিনারে শুনেছিলাম, যে হারে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে গর্ভপাত হয় বছরে, তাতে ২০৩৮ সালের মধ্যে নাকি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কৃষ্ণাঙ্গই আর খুঁজ়ে পাওয়া যাবে না। আমার তো মনে হয়, বাঙালীদের মধ্যে যদি বাংলা ভাষার ব্যবহার নিয়ে কোনো সমীক্ষা করা হয়, তাতে এরকম একটা ফলাফল পাওয়াটা আশ্চর্য্যের কিছু হবে না।

যা হোক, অনেকে বলবেন, সময়ের তালে, যুগের পরিবর্তনের সাথে চলতে গেলে, বিশ্বায়নের সময়ে এইসব হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু, তাই বলে কি আমার বাংলা সংস্কৃতিকে ভুলে গিয়ে? আমার মায়ের ভাষাকে ফেলে দিয়ে? একবার এক বাংলা ছবিতেই এক প্রবীণ অভিনেতা বলেছিলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা মানে নিজের আচার-সংস্কৃতিকে ভুলে যাওয়া নয়, বরং নিজের সংস্কৃতিকে আঁকড়ে ধরে পথ চলা। যেমন করে সাগরে জাহাজ ডুবলে এক টুকরো কাঠের প্রয়োজন হয় ভেসে থাকবার জন্য, তেমনি করে এই বিশ্বে টিকে থাকতে হলেও আমাদের সেই কাঠের জায়গায় আমাদের সংস্কৃতিকে ধরে রেখেই এগোতে হবে।

মূলপোস্ট


৯টি মন্তব্য

  • শেখ আমিনুল ইসলাম বলেছেন ২০১০/০১/১৬ ২৩:২৮:৫৯

    ভাই মন খারাপ কইরেন না, দেশ এগিয়ে চলছে

    কেমন আছেন আপনি?

    পাপ্রদজ বলেছেন ২০১০/০১/১৬ ২৩:৩৩:৫৮

    দেশ এগিয়ে চলার নাম যদি হয় আমাদের বাঙালী সংস্কৃতির বিসর্জন, তাহলে ভাই এই এগিয়ে চলার সাথে আমি একমত হতে পারলাম না।

    আর হ্যাঁ, ভালো আছি ভাই। আপনি ভালো তো?

    শেখ আমিনুল ইসলাম বলেছেন ২০১০/০১/১৬ ২৩:৩৮:১৭

    আপনারা যারা প্রবাসে আছেন দেশের জন্য অনেক ভাবেন। আমাদের চেয়েও অনেক বেশি ভালোবাসেন। আপনার অনুভূতিকে আমি শ্রদ্ধা জানাই।
    আমি ভাল আছি।
    ভাল থাকুন পাপ্রদজ ভাই।

    পাপ্রদজ বলেছেন ২০১০/০১/১৬ ২৩:৪৩:২১

    আসলে কথাটা অস্বীকার করব না। প্রবাসীরা আসলেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে চায়, কিন্তু হয়ত পেরে উঠতে পারে না। সেটা হয়ত দেশ থেকে দূরে থাকার ফলে এক মায়ার টানে। আর আপনারা দেশের মানুষরাও দেশকে যে কম ভালোবাসেন সেকথা বলব না।

    ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

  • আশমএরশাদ বলেছেন ২০১০/০১/১৬ ২৩:৫৫:৪২

    প্রথম কথা হল সংস্কৃতিকে দেয়াল দিয়ে আটকানো যায় না---

    দ্বিতীয় কথা হল প্রজান্মন্তরের চোখে পরবর্তী প্রজন্ম বেয়াড়াই ঠেকে ---

    আজ থেকে ২০ বছর আগেও বাঙালী কল্পনাও করতে পারেনি -- এর বিশ বছর আগের প্রজন্ম ঠিক সেইম কথাটা আপনাকে দেখে বলেছে--- সামনে ও বলবে---
    যেমন ২০ বছর আগে ও আমি কল্পনা করি নাই একটা ব্লগে এসে এই ব্যাপারে আপনাকে কিছু বলব---
    সামনে বলবে কি জানেন আমরাতো ডেটিং করেছি পার্কে তোমরা খোলা রাস্তায় ---
    এবং এই ক্রম গতি ঠেকানো কোন ভাবেই সম্ভব নয়- বলে আমার মনে হয়---

    আর কাপড় চোপড় সেটাতো আসলে গ্লোবাল ভিলেজ এর একটা ফ্যাশন স্কুলের সবাই ছাত্র---
    পাশ্চাত্য বলেন আর গ্রীক বলেন কাপড়টা চলে গেছে ফ্যাশনের কাছে ---চায়নার মত দেশে ও যেখানে পাশ্চাত্য পোশাক ঠেকানো যায় নি সেখানে অন্য দেশের পক্ষেতো সম্ভব নয়---এটা ছাড়া ও ইনফরমেশ---- আজকে লেটেষ্ট কি বের হয়েছে গুগল দিয়ে আপনি পাবেন---
    পোশাক এর ব্যাপারে আমার মত হল সেটা ব্যাক্তির অভিরুচি---প্রাপ্ত বয়স্ক কাউকে বাঁধা দেয়ার ইচ্ছা আমার খুব একটা হয় না---আর পোশাকটা খুব কম দেশই পেরেছে পাশ্চাত্য ফ্যাশন টেকাতে---


    তাতে মুরুব্বীরাও লজ্জা পাবার অবস্থা দাঁড়ায়। ---নারী পুরুষের সহজ সম্পর্ক অনেক জটিলতার অবসান ঘটায় ---মুরুব্বিদের মধ্যে যে জড়তা সেটা কি আপনার মধ্যে আছে --- নেই ----তাহলে--লজ্জা একদিন কেটে যাবে দেখতে দেখতে--- মানুষকে স্বাভাবিকতাকে মনে হয় দমিয়ে রাখা যাবে না---খোলামেলা ছিল না যখন তখন ও কেলেংকারী কোন অংশে কম হয়নি ----যে জাতির মানসিক অবদমন যত বেশী সে জাতির সৃজনশীলতা তত বেশী নিম্ন মুখী---
    ভাষার ব্যাপারে একমত --অন্য ভাষা জানুক সমস্যা নেই সেটা মিক্স করলে ভাষাকে শংকর করলে সমস্যা ---

    হিন্দি গান--- গানের আবেদন সুর বানী এবং কম্পোজিশন সব মিলিয়ে এবং আমাদের ভাষার নৈকট্যের কারনে এ দেশে সমাদৃত বহু যুগ আগে থেকেই--( দুই ভাষার উৎপত্তি সম্ভবত সংস্কৃত) তাই এটা যখন বেড় রুমে প্রবেশ করেই ফেলেছে তাকে জোর করে তাড়ানো যাবে না ---তবে জাতীয় দিবসে হিন্দি গান বাজানো উচিত না---

    এই গুলো অনেক বিশ্লেসনের আবেদন রাখে অল্প কথায় বলা সম্ভব হয়ে ওঠে না---
    ধন্যবাদ আপানেক--

    পাপ্রদজ বলেছেন ২০১০/০১/১৭ ০০:০৫:০০

    হুমম ... আপনার কথাগুলো অস্বীকার করব না। যে বিষয় কিছু বছর আগেও সভ্য মনে হয়নি বাঙালী সমাজে, আজ তো তা স্বাভাবিক। তেমনি হয়ত সামনের কিছু বছর পরে হবে বর্তমানেরটা। কিন্তু বিশ্বায়নের কথা বলে, যুগের পরিবর্তনের কথা বলে যদি আমরা নিজেদের পোশাক-আশাক, ব্যবহার পালটে ফেলি, তাহলে সেটা কি সমীচীন হবে? হ্যাঁ, চীনারাও পশ্চিমা ধাচের পোশাকে যখন নিজেদেরকে মানিয়ে ফেলেছে, সেখানে আমাদের তো এর চেয়ে সহজেই পশ্চিমা পোশাকে সংমিশ্রিত হওয়াটা স্বাভাবিক। তবুও বলব, নিজেদের কৃষ্টি রক্ষাটা নিজেদেরই দায়িত্ব।

  • ওয়াচডগ বলেছেন ২০১০/০১/১৭ ০০:৫২:০৬

    সভ্যতা বিবর্তিত হয় অর্থনীতিকে ঘিরে, সাংস্কৃতিকে ঘিরে নয়। অর্থাৎ অর্থনৈতিক বিবর্তনের ঢেউ সাংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য। এমনটাই হয়ে আসছে অনাদিকাল ধরে, আমাদের দেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সাধ্যের মধ্যে না থাকলে আমাদের জনগন কিছুতেই টেলিভিশন ক্রয় করতন, আর টিভি ক্রয় না করলে শুধু ভারতীয় চ্যানেল কেন দেশী চ্যানেলও দেখার প্রশ্ন আসতনা। একইভাবে অর্থনৈতিক মুক্তি নারীর জন্যেও এনে দেয় পছন্দের স্বাধীনতা, যার কারনে পরিবর্তন আসছে যুগ যুগ ধরে চলে আসা মানব-মানবীর ঐতিহাসিক সম্পর্কে। পিতামাতা পছন্দ করে সন্তানের বিয়ে দেবে এবং সন্তান বিনা বাক্যে তা মেনে নেবে, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে এ ধরনের সামাজিক ধারায় পরিবর্তন/পরিবর্ধন অবশ্যম্ভাবী। ডেটিং বলতে যা বুঝাতে চাইছেন তা পরিবর্তনেরই অংশ, এ কেবল মাত্র শুরু। আর যদি ইংরেজীর কথা বলেন তা হলে বলতে হয়, এটাও অর্থনীতির দাবি

    পাপ্রদজ বলেছেন ২০১০/০১/১৭ ০২:৪২:০০

    হুমম...সত্যই বলেছেন। তবে এই পরিবর্তন কি আমাদের জন্য সুখকর কিনা সেটাই আশঙ্কার বিষয়।

  • বিটলা বলেছেন ২০১০/০১/১৭ ০৩:৪৪:৪৬

    হায় হায় আর নাই নাই কইরা ইচ্ছু হইবেক না ভাই। সবি টেইম টেইম কি বাথ হে।



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫