প্রসঙ্গ: রাম মন্দির-বাবরি মসজিদ
রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ সম্পর্কে কিছু কথা অনেকদিন ধরেই বলব বলব করে বলা হচ্ছিল না। কিন্তু সাম্প্রতিককালে নয়াদিগন্তের একটি খবর পড়ার পরে এ বিষয়ে লিখতে অনুপ্রাণিত হয়েছি।
প্রথমেই আসি কিছু অতীত ইতিহাসে। হিন্দু ধর্মের ভগবান বিষ্ণু অষ্টম অবতার রাম নামে ৭৩০০ BC এর দিকে পৃথিবীতে আসেন রাক্ষস রাবণকে বধ করবার জন্যে। অযোধ্যা নামক নগরীতে রাজা দশরথের ঘরে জন্ম নেন রাজপুত্র হিসেবে।
এরপর ১৫২৭ AD এর দিকে মুঘল সম্রাট বাবর এসে শ্রীরামের জন্মভূমিস্থল অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণ করেন। ১৯৪০ এর পূর্বে এটির নাম ছিল "মসজিদ-ই-জন্মস্থাণ"। অর্থাৎ বুঝতেই পারছেন কার জন্মভূমিস্থল বোঝানো হচ্ছে। এমনকি সম্রাট বাবরও সেই জায়গায় মসজিদ নির্মাণ করলেও নামের মধ্যে রেখে গেছেন এর সংকেত। পরবর্তীকালে এর নাম পরিবর্তন করে বাবরি মসজিদ নির্ধারিত হয়।
১৯৯২ সালে একদল উগ্রবাদী হিন্দু বাহিনী সেই বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলে। এতে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ হয় যার ফলে ঘটে যায় কিছু মর্মান্তিক হানাহানির ঘটনা। অঞ্চলটিকে ঘিরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লেগেই থাকে। অন্যদিকে ভারতের সুপ্রীম কোর্ট আজও এর সুরাহা করতে পারেনি।
এবার আমার মূল বক্তব্যে আসি। মুঘল সম্রাট ভারতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভারতবর্ষের নানা স্থাণে মসজিদ, প্রাসাদ, দুর্গ ইত্যাদি তৈরি করতে থাকেন। কিন্তু এত অন্যান্য জায়গা থাকতে কেন তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থভূমি অযোধ্যায় (যেখানে হিন্দুরা বিশ্বাস করে তাদের একজন ভগবানের অবতার জন্ম নিয়েছিলেন হাজার হাজার বছর আগে) মসজিদ করতে গেলেন? এটা কি তিনি হিন্দুদের ধর্মীয় দৃষ্টিকোণে পুণ্যস্থাণ গ্রাস করার চেষ্টা নাকি অন্য কিছু? যদি ধরে নেই তিনি তৎকালীন সময়ের হিন্দু অধ্যুষিত মানুষদের মসজিদ নির্মাণের মাধ্যমে ইসলামে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছিলেন, তাহলে এটা কি মুসলিমদের ধর্ম প্রচারে আগ্রাসী ভূমিকা না যা কিনা আজকে মার্কিনরা করছে ইরাক, আফগানিস্তানে? যদিও মার্কিনীদের উদ্দেশ্য ধর্ম প্রচার নয়, আধিপত্য বিস্তার বা অন্য কিছু, কিন্তু মার্কিনীদের যদি আগ্রাসী ভূমিকার জন্য দোষী বলা যায়, তাহলে কি সেসময়ের মুঘল সম্রাট একই দোষে দোষী নন?
বিষয়টাকে যদি আমি একটু অন্যভাবে দেখি যে, আজ মুসলিমদের পুণ্যস্থাণ হিসেবে স্বীকৃত মক্কা-মদীনার মতো অঞ্চল যেখানে প্রতি বছর লাখ লাখ মুসল্লী জড়ো হন হজ্ব বা অন্যান্য ধর্মীয় উদ্দেশ্যে, সেইখানে যদি হিন্দু দেব-দেবীর মন্দির বা খ্রীষ্টানদের গীর্জা নির্মিত হয়, তাহলে কি সেটা ঠিক হবে? এই ধরনের ভূমিকা কি হিন্দু বা খ্রীষ্টানদেরকে আগ্রাসী ধর্মান্ধ বা ধর্মপ্রচারক (যে নামেই আখ্যা দেয়া হোক না কেন) হিসেবে প্রমাণ করবে না? সেই একই ভূমিকায় যখন মুঘল সম্রাট বাবর ছিলেন, তখন কি তাকেও মুসলিম আগ্রাসী ধর্মপ্রচারক বলা ভুল হবে?
আর তাই যদি মেনে নেই, তাহলে কিছু হিন্দুর একটি মসজিদ ভাঙ্গন (যেখানে তাদের বিশ্বাসে তাদের দেবতার এই পৃথিবীতে জন্মভূমি বলে চিহ্নিত) কি খুবই অন্যায়? আজ যদি মক্কা-মদীনার মতো ইসলামিক ইতিহাসে পবিত্র ভূমি এইসব স্থাণে হিন্দু মন্দির বা খ্রীষ্টান গীর্জা গড়ে ওঠে, তাহলে কি মুসলিমরা একযোগে তাদের পুণ্যস্থাণ বাঁচাতে লড়বে না? তাহলে সেই একই অজুহাতে যদি কিছু হিন্দু তাদের পুণ্যভূমি পুনরুদ্ধারে চেষ্টা চালাতে গিয়ে মসজিদ ধ্বংস করে, তাহলে সেটা কি খুবই অন্যায়ের পর্যায়ে পড়ে?
আসলে এই লেখা লেখার উৎসাহ পেয়েছি যখন কিছু মুসলিম ভাই আমাকে তাদের ধর্মের নানা সু-দিকগুলো তুলে ধরেছিলেন আমারই এক প্রশ্নের জবাবে। তাদের কথায় বুঝতে পেরেছি, জানতে পেরেছি, মুসলিম ধর্মগ্রন্থ কোরআনের নানা দিক। কিন্তু এই যদি আসল বাস্তব দাঁড়ায়, তাহলে কিভাবে মেনে নেয়া যায় আপনারাই বলুন?
একজন মুসলিম যেমন চাইবে না তার ধর্মের পুণ্যভূমি মক্কা-মদীনায় মসজিদের বদলে অন্য কোনো ধর্মের উপাসনালয় থাকুক, তেমনি একজন হিন্দুও তো চাইবে না তার ধর্মীয় পুণ্যস্থাণে কোনো অন্য ধর্মের উপাসনালয় থাকুক। তাহলে ভারতীয় মুসলিমদের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষ কতটা যুক্তিযুক্ত আপনারাই বলুন?
সবশেষে এটুকু বলতে চাই যে, কারো ধর্মে আঘাত করে অন্য ধর্ম যদি আধিপত্য বিস্তার করতে চায়, তাহলে সেই আধিপত্য বিস্তারকারীর এই কথা ভুললে চলবে না, There is a supreme power over him।
[আর উপরের লিংকে দেয়া খবরটি ইদানীংকালে একটা ফোরামের মাধ্যমে জানতে পেরে এ বিষয়ে অনেক কিছু কথা যা অনেকদিন ধরেই বলব বলব করে বলা হচ্ছিল না, তা এক সুযোগে বলে ফেললাম।]
মূলপোস্ট

Phonetic
"প্রথমেই আসি কিছু অতীত ইতিহাসে। হিন্দু ধর্মের ভগবান বিষ্ণু অষ্টম অবতার রাম নামে ৭৩০০ BC এর দিকে পৃথিবীতে আসেন রাক্ষস রাবণকে বধ করবার জন্যে।"
এর নাম ইতিহাস!!! যাযাবর আর্যদের ভারতবর্ষে আগমন কবে, রামায়ণ মহাভারতের রচনাকালই বা কবে?
ইতিহাস বাদ দিলেও, আপনার যুক্তি অসহিষ্ণু, সিদ্ধান্ত উস্কানিমূলক।
অন্যান্য সবকিছু অস্বীকার করলেও এটা তো অস্বীকার করতে পারবেন না যে, রামায়ণ-মহাভারত মুঘল সম্রাটের অনেক আগেকার কালের ঘটনা।
এর জন্যই তো বললাম, আপনার যুক্তি অসহিষ্ণু, সিদ্ধান্ত উস্কানিমূলক। ধরতে না পারলে চলুন আরো আগে থেকে আলোচনা শুরু করি, সেই আর্যদের আগমন থেকে। রামায়ণ-মহাভারত থেকে যে ভারতবর্ষের ইতিহাস শুরু নয়, তা তো স্বীকার করেন? সেক্ষেত্রে মুঘলদের খানিক আগে কে আসলো, এ আলোচনা একপেশে।
যদি ধরে নেই রামায়ণ-মহাভারতের আমলে এর চেয়ে আগের নিদর্শন ধ্বংস হয়েছে, এবং পরে মুঘল আমলে সেসবকালের নিদর্শন ধ্বংস হয়েছে। তাহলে তো এটা একটা cycle এ পড়ে গেল। ধ্বংস আর গড়া।
সামুতে ইতোমধ্যে আমার জবাব পেয়ে গেছেন আশা করি। এ ধরণের cycle খুব খারাপ জিনিস। তবে কোনটি ইতিহাস, কোনটি সঠিক ইতিহাস নয়, এও কিন্তু কম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে না। এ পোস্টের ইতিহাস সংক্রান্ত অংশে আলোচনা করতে চাইলে বলবেন। আমরা শুধু ইতিহাস অংশটুকু নিয়ে যার যার রেফারেন্সসহ আলোচনা করতে পারি।
@মাভেরিক: আপনি আরীয়ান ইনভেইশন থিওরিতে ব্রেইন-ওয়াশড হয়ে আছেন। এটা আমি আগেও দেখেছি। আর আপনার ঐ থিওরির বিরুদ্ধে আমি অনেক কিছুই উপস্থাপন করেছি ব্লগে। তারপরেও আপনি আপনার গীতে রয়ে গেছেন। থাকতেই পারেন- আপনার নিজস্ব ব্যাপার। ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শাসনে শিখিয়ে দিয়ে যাওয়া কথা কি এত সহজে ভুলা যায়। লেখক যে সময়কালের কথা বলেছেন তা রামায়ন মহাভারতে বণিত মহাকাশীয় বিভিন্ন ঘটনার পযবেক্ষণে নির্ণিত। আরও অনেক কিছু আছে, যা আমার বিভিন্ন পোস্টে লেখেছি। যাই হোক; পেছনের কথা- বিভিন্ন থিওরি আসতে পারে। যার যেমন খুশী গবেষণার রিপোর্ট লেখতে পারে কিছু যুক্তি দেখিয়ে। সেই থিওরি যার ইচ্ছে বিশ্বাস করতে পারে। এসবে কিছু যায় আসে না। অনেক আলোচনাই নিয়ে আসা যায় কিন্তু এসব নিয়ে প্যাঁচাল পাড়তে ভাল লাগে না, তাই সাধারণত লেখি না। আর লেখক এখানে উস্কানিমূলক কিছু বলেছেন বলে মনে হয়নি। সবার নেগেটিভ দিকের কথাই তুলে এনেছেন। ইতিহাসে কি ঘটেছে তা আর নাইবা বললাম। সবাই জানেন। তাই " কৃষ্ণ করলে লীলা আর আমি করলে মহাপাপ"- এই ধরণের মন-মানসিকতা বেরিয়ে আসা উচিত।
শর্মা-ই-আযম বলেছেন: "@মাভেরিক: আপনি আরীয়ান ইনভেইশন থিওরিতে ব্রেইন-ওয়াশড হয়ে আছেন। এটা আমি আগেও দেখেছি।"
--কে যে ব্রেইনওয়াশড হয়ে আছেন, তা আশা করি, ইতোমধ্যে ব্লগের সবাই জেনেছেন এবং দেখেছেন। তবে ব্রেইনওয়াশিং-এর চেয়েও ভয়ঙ্কর হলো ইচ্ছাকৃত ইতিহাস বিকৃতি, যা আমি আমার "প্রাচীন পৃথিবীর বিস্ময়, সিন্ধু লিপি (Indus Script), আর্য প্রোপাগাণ্ডা (Aryan Propaganda) এবং নতুন আলো"
(http://prothom-aloblog.com/users/base/serendipity/215)
পোস্টে বলেছি। এছাড়া আগমন-আগ্রাসনের পার্থক্য আপনার জানার কথা।
"আর আপনার ঐ থিওরির বিরুদ্ধে আমি অনেক কিছুই উপস্থাপন করেছি ব্লগে। তারপরেও আপনি আপনার গীতে রয়ে গেছেন। থাকতেই পারেন- আপনার নিজস্ব ব্যাপার। ব্রিটিশদের ২০০ বছরের শাসনে শিখিয়ে দিয়ে যাওয়া কথা কি এত সহজে ভুলা যায়।"
--আপনি কবে কী সুনির্দিষ্টভাবে উত্থাপন করেছেন, আমার মনে পড়ে না। তবে যতদূর মনে পড়ে এ ব্যাপারে আপনি কোনো বস্তুনিষ্ঠ গবেষণালব্ধ প্রমাণ দেখাতে পারেননি। গুগল সার্চে অনেক কিছুই পাওয়া যেতে পারে; তা পড়ে আনন্দ পাওয়া যায়, কিন্তু ইতিহাস হিসেবে তা প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
"লেখক যে সময়কালের কথা বলেছেন তা রামায়ন মহাভারতে বণিত মহাকাশীয় বিভিন্ন ঘটনার পযবেক্ষণে নির্ণিত। আরও অনেক কিছু আছে, যা আমার বিভিন্ন পোস্টে লেখেছি। যাই হোক; পেছনের কথা- বিভিন্ন থিওরি আসতে পারে। যার যেমন খুশী গবেষণার রিপোর্ট লেখতে পারে কিছু যুক্তি দেখিয়ে। সেই থিওরি যার ইচ্ছে বিশ্বাস করতে পারে। এসবে কিছু যায় আসে না। অনেক আলোচনাই নিয়ে আসা যায় কিন্তু এসব নিয়ে প্যাঁচাল পাড়তে ভাল লাগে না, তাই সাধারণত লেখি না।"
--প্যাঁচাল পাড়তে ভালো লাগে না শুনে খুশি হলাম। সেক্ষেত্রে অন্যকে ব্রেইনওয়াশড বলে প্রথমেই কেন প্যাঁচাল শুরু করে দেন? হয় স্বভাবিক আলোচনা করুন, না হয় দূরে থাকুন। স্ববিরোধিতা কেন? কী অদ্ভুত!!!
"আর লেখক এখানে উস্কানিমূলক কিছু বলেছেন বলে মনে হয়নি। সবার নেগেটিভ দিকের কথাই তুলে এনেছেন। ইতিহাসে কি ঘটেছে তা আর নাইবা বললাম। সবাই জানেন। তাই " কৃষ্ণ করলে লীলা আর আমি করলে মহাপাপ"- এই ধরণের মন-মানসিকতা বেরিয়ে আসা উচিত।"
--আপনার মনে হয়নি উস্কানিমূলক, আমার মনে হয়েছে। সামহ্যোয়ার ইন ব্লগেরও মনে হয়েছে, সেখানে এটি মুছে দেয়া হয়েছে। আর পোস্টটি আবার পড়ুন, কৃষ্ণ করলে লীলা আর আমি করলে মহাপাপ, এটি কার মানসিকতা উপলব্ধি করবেন।
@মাভেরিক: আপনার লেখা তো আমি পড়েছি। ষাঁড়কে ঘোড়া বানানো হয়েছে দেখিয়ে আপনি একটি মতবাদ উপস্থাপন করে গেলেন। কিন্তু সেখানে হয়তো আপনি জানতেন না যে, ষাঁড় থাকলেও আপনার মতবাদ অসার।
ঘোড়া কিছু হোক আর না হোক, ষাঁড় কিন্তু আর্য দেবতা শিবের বাহন। আর কেউ যদি ষাঁড়কে ঘোড়া বানিয়ে থাকে, সেই বানানোতে আর্যদের তো কিছু আসে যায় না। যাই হোক- অনেক কিছুই গুগল সার্চে পাওয়া যায়, এটা আপনার মুখ থেকে শুনে ভাল লাগছে। এখানেও আপনি স্ববিরোধী হয়ে গেলেন। আপনার অনেক রেফারেন্স কিন্তু নেট থেকে, গুগল ব্যবহার না করলেও হয়তো অন্য কোন সার্চ ইঞ্জিন দিয়ে প্রাপ্ত।
আমার ব্লগের প্রিয় পোস্টের তালিকায় অনেক পোস্টই আছে। হয়তো আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে যখন পোস্ট দিয়েছিলাম। নতুবা দেখেও না দেখার ভান করেছেন। কালকে রামের কাহিনী নিয়ে যেহেতু কথা উঠেছে, তাই বলছি- তালিকায় শ্রীলঙ্কায় নির্মিত তথ্যচিত্র আছে। দেখে নিতে পারেন। আরও অনেক কিছু বলা যায়। কিন্তু আশাকরি আপনি আপনেক কিছুই জানেন, যদিও আড়ালে রাখেন। তাই আপনাকে আর জানাতে গেলাম না।
ধর্ম নিয়ে প্যাচাল পাড়ার কোন খায়েশ আমার কোন কালেই ছিল না। এখানে এসে কিছু মূর্খের কারণে(যারা ধর্ম নিয়ে চ্যাঁচামেঁচি করে) মাঝে মাঝে লেখতে বাধ্য হই। তা না হলে ধর্মকে অন্তরের বিষয় হিসেবেই স্থান দিয়ে আমি চলি। আমারটা মহান, অন্যেরটা ছাইপাশ- এমন হীনতর মানসিকতা নেই। আর ঐ মানসিকতার নীচদের কারণেই মাঝে মাঝে বাধ্য হয়েই লেখতে হয়। আমার লেখার ধরণ তো আপনি জানেনই- শায়েরী, শরাব, কবিতা, গল্প, গান। প্রথমে এভাবেই শুরু ছিল। শায়েরীর পাঠক তো আপনিও ছিলেন। কিন্তু কিছু নীচ-গর্ভস্রাবদের হীন কার্যকলাপে মাঝে মাঝে ভিন্ন থিমে লেখতে হয়েছিল। তাই ব্রেইন-ওয়াশড ক্যাঁচাল-প্যাঁচালের দায়ভার আমার কাঁধে শোভা পাবে না।
সা:ইনে তো অনেক কিছুই মনে হতে পারে। সেখানে নাকি বাংলাদেশের অতি দেশপ্রেমিকরা পাকিস্তানের পতাকা লাগিয়েও আসে, আর তার প্রতিবাদ করে নিষিদ্ধ হয় অনেকে; এমনই ঘটনার ঘনঘটার কথা শ্রুত হয়েছিল। আরও অনেক ঘটনার ঘনঘটার কথা শুনা যায় সেখানে। তাই বুঝতেই পারছেন। প্রথম আলোতে নিষিদ্ধ হয়নি। আমার ব্লগেও কিন্তু হয়নি। কি আর বলবো। আমার কলেজের ইংরেজী শিক্ষক মোতাহার হোসেন একবার বলেছিলেন- প্রজাপতি ফুল থেকে মধু নেয় আর মাকড়শা নেয় বিষ। উনার সেই কথার প্রতিফলন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে আমিও দেখতে পাই। অদ্ভূত দুনিয়া! (বিভিন্ন জনের কাছে বিভিন্নভাবে উপস্থাপিত হতেই পারে। নির্ভর করে- কে কিভাবে নিয়েছে।)
ঘোর কলিকাল!!!
পরিশেষে; আপনাকে ধন্যবাদ।
বুঝলাম। তো এখন কি করতে বলেন?
আপনার পোস্টের এনডিং ক্লিয়ার নয়। আর অস্বচ্ছের আরেক নামই ক্যাচাল। মুসলিম প্রধান একটা ব্লগে এসব বিষয় নিয়া ক্যাচাল করে লাভ হবে না। একজন মুসলিম তার দৃষ্টিকোন থেকে কোনদিনই মসজিদ ভাঙাকে সমর্থন করবে না।
ঐটাতো অনেক বড় ব্যাপার, আপনে বলেন দেখি, ইন্ডিয়ান মুভির বড় বড় মুসলিম নায়করা কেন মুম্বাইয়ে বাড়ি কিনতে গেলে বাধা দেয়া হয়?
আর একটা প্রশ্ন: আপনি কোথায় বড় হয়েছেন বলবেন কি(ইউ.এস. যাওয়ার আগে)? এটার উত্তর না দিলেও সমস্যা নাই।
আমি কিন্তু বলিনি একজন মুসলিমকে মসজিদ ভাঙ্গা সমর্থন করতে। বরং অন্যান্য মুসলিমদের উচিত সেইসব মুসলিমদের বোঝানো যারা মন্দির-গীর্জা ভাঙচুর করে, সংখ্যালঘুদের বাডি-ঘর দখল করে, জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দেয়।
আর ভারতের মুভি স্টারদের কথা যেটা বললেন, সেটা যেমন তাদের ক্ষেত্রে ঘটছে, তেমনি বাংলাদেশেও কিন্তু একজন সাধারণ সংখ্যালঘুর প্রপার্টি বেদখল, কিংবা শত্রু সম্পত্তি আইনের মাধ্যমে সরকারের ঘরে চলে যায়। দোষ দুটোই। কোনোটাই জাস্টিফাইড না।
আর আমি বড় হয়েছি ঢাকায়। কিন্তু আমার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। যেখানে অনেক সময়েই আমার আত্মীয়-স্বজনরা বিভিন্ন সময়ে নির্যাতিত হয়েছে।
বাংলাদেশের মুসলিম যথেষ্ট ভদ্র। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু, সংখ্যাবেশী এটা গননা করা অমূলক,এখানে ধর্মীয় সংঘর্ষ নাই বললেই চলে।।
বরং ইন্ডিয়ার মত এতততততততততত বড় একটা দেশের মুসলমানদের উপর নন-স্টপ ডিসক্রিমিনেশান করা হচ্ছে(যা বুঝানোর জন্য ফিল্ম স্টারদের কথা বলা হয়েছে) সেটা আপনার চোখেই পরছে না। এটা একটু হতাশাজনক।
এই কথাটা মেনে নিতে পারলাম না যে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংঘাত একেবারে নেই। বরং ১৯৭১ থেকে শুরু করে দেখলে দেখতে পাবেন নানা সময়ে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করা হয়েছে। তার নমুনাস্বরূপ: http://bdhindu.blogspot.com/
আর যেটা বলেছেন মুম্বাইয়ে মুভি স্টাররা বাড়ি ক্রয় করতে পারেন না ধর্মীয় কারণে সেটা তো অবশ্যই কাম্য নয়। তাই বলে কিন্তু এমন নয় যে মুসলিমরা discriminated হচ্ছে। যেমন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বেশ কিছু মন্ত্রী আছে মুসলিম। অথচ বাংলাদেশে হাতে গোণা ক'জন মন্ত্রী আছেন সংখ্যালঘু?
@দখিনো হাওয়া এবং পাপ্রদজঃ বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘাত খুবই নগন্য। সাম্প্রদায়িক সংঘাতের নামে বেশিরভাগ সময় যা আসে তা রাজনৈতিক কারণে এম্পলিফাইড হয়ে আসে।
"একজন মুসলিম তার দৃষ্টিকোন থেকে কোনদিনই মসজিদ ভাঙাকে সমর্থন করবে না।"- এই কথা যেমন সত্য তেমনি একজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মুসলিম অন্য ধর্মের উপাসনাস্থল ভাঙ্গাকেও সমর্থন করবে না। আর সাধারণ মানুষ(যে ধর্মেরই হোক না কেন) তা তো কখনই করে না।
পাকিস্তানের করে যাওয়া শত্রুসম্পত্তি বিষয়ক আইন শীঘ্রই পরিবর্তিত হবে। দেশ স্বাধীন হলেও ভূমি সংক্রান্ত রেকর্ডে এখনও পূর্বপাকিস্তান রয়ে গেছে। সবকিছু সংশোধন হয়ে শীঘ্রই বাংলাদেশের নতুন রেকর্ড আসবে বলে শুনেছি। আর এ নিয়ে কাজও চলছে। তাই শত্রুসম্পত্তি নিয়ে বাংলাদেশকে দায়ী করা চলে না।
মুম্বাইয়ে মুসলমান ম্যুভি স্টাররা বাড়ি কিনতে পারেন না বলে শুনেছি, পড়েছি। কেন এই নিয়ম করা হয়েছে জানা নেই। তবে শুনেছি জঙ্গি রিলেটেড বিষয়ের জন্য হতে পারে। আবার মহারাষ্ট্রের কোন প্রাদেশিক আইনও থাকতে পারে। মহারাষ্ট্রের অনেক কিছুই কেমন জানি- সেখানে বাঙ্গালি বা ভারতের অন্যান প্রদেশের মানুষরা মারাঠিদের হাতে মার খায়। একবার চাকরীর জন্য পরীক্ষা দিতে গয়ে খুনাখুনিও হয়ে গেছে বলে খবরে পড়েছি। মুম্বাই ছাড়া অন্যান্য শহরে কি বাড়ি কেনা যায়? এই উত্তরটা আমার জানা নেই। যদি অন্যান্য শহরে কেনা যায় তাহলে মুম্বাইয়ে হয়তো মারাঠি কম্পলেক্স কাজ করছে।
সংক্ষেপে বলি-
১। আপনার বর্ণিত ইতিহাসের কোন রেফারেন্স দেন নি, এখন মন্তব্যের ঘরে দিয়ে দিতে পারেন।
২। বাবরের সময়ের 'আগ্রাসন' আর এযুগের 'আগ্রাসন' কে এক করে ফেলার কোনই সুযোগ নেই। বাবরের যুগে কোন আন্তর্জাতিক কোড অব কন্ডাক্ট ছিল না, 'মাইট ইজ রাইট' ছিল সেযুগের মন্ত্র, বাবরী মসজিদ যখন ভাঙ্গা হয় তখন একই মন্ত্র প্রয়োগ করার কোন সুযোগ সভ্য পৃথিবীতে আর নেই। কাজেই মার্কিনদের বর্তমান মুসলিম নিপীড়ন আর বাবরের হিন্দু 'নিপীড়ন' সমান অপরাধ নয়।
১। বেশীরভাগ রেফারেন্সই উইকিপিডিয়া ও এনসাইক্লোপিডিয়া।
২। অপরাধ দুইই। wrong is wrong, whenever it is committed।
৭৩০০ এর বহু আগেই পুরো পৃথিবী ছিলো দুইজন মুসলিমের, নবী আদম ও তার স্ত্রী হাওয়ার। কাজেই রাম যে মন্দির নির্মান করেছিলেন তা মুসলিমদের যায়গাতেই করেছিলেন।
সাইদুর আর চৌধুরীর কমেন্টে ডবল +
@সাইদুর রহমান চৌধুরী
? বর্তমান সময়ের কেউ কি দেখেছেন? সুতরাং পুরো বিষয়টাই বিশ্বাসের ওপর। যখন আপনা বিশ্বাসে আঘাত পায় একজন মানুষ (যেমন, প্রেমের বিষয়ে বা ধর্মের বিষয়ে), তখন যেমন উল্টা-পাল্টা কিছু করতে সে পিছপা হয় না, এই বিষয়টাও আমার কাছে অনেকটা একইরকম লাগে।
যেমনভাবে মুসলিমরা বিশ্বাস করে আদম-হাওয়া প্রথম মানব-মানবী, তেমনি কিন্তু হিন্দুরাও বিশ্বাস করে মনু-শতরূপা প্রথম মানব-মানবী।
আসলে ধর্ম বিষয়টাই বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। কে দেখেছেন বলেন তো আদম-হাওয়াকে? কিংবা যীশুকে? অথবা শ্রীকৃষ্ণ-শ্রীরামকে? অথবা হযরত মোহাম্মদ (স
না দেখলেও যথার্থ রেফারেন্স এবং কবর তো আছে, পৃথীবির প্রথম মানুষদের। আপনি যদি ডারউইন মতবাদে বিশ্বাসী না হোন তাহলে অবশ্যই প্রথম মানুষে বিশ্বাস করা উচিৎ।

ডারউইন মতবাদ: উল্লুক হতে মানুষ মতবাদ।
@সাইদুরঃ ধর্মীয় কাহিনীতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়। সেদিকে যাচ্ছি না। যার যার ইতিহাস-বিশ্বাস যার যার কাছে থাক। আশাকরি এভাবে মন্তব্য প্রদানে ভেবেচিন্তে করবেন।
ধন্যবাদ, শর্মাজি। আমার মন্তব্যটি আমি খুব বিরক্ত হয়ে করেছি, কারণ ভাই প্রাপদজ যেন ইচ্ছা করেই একটি ঝামেলা তৈরীর মিশন নিয়েছেন। তার কি আর কোন লেখার বিষয়বস্তু নেই।
আপনি একদিন নিবারনদাকে তিরস্কার করেছিলেন একটি লেখার জন্য, আমি আশা করেছিলাম আপনি প্রাপদজকেও তাই করবেন, কিন্তু আপনি তা করেন নি।
নিবারনদার লেখাটি প্রভোকেটিভ ছিলোনা, কিন্তু এ লেখাটি প্রভোকেটিভ।
আমি আপনার ভূমিকায় হতাশ হয়েছি, আপনার সম্পর্কে আমার মূল্যায়ন বরবরই সমীহের। এখনো তাই।
অনেক কিছুই ঘটে যায়, অনেক মন্তব্যই হাতে এসে যায়- আসতেই পারে; আপনিও লেখতেই পারেন।
এই লেখার বিষয়বস্তু ধর্মের চেয়ে ধর্ম নামধারী রাজনৈতিক হওয়ায় এই লেখককে কিছু বলিনি। যদিও এই লেখাও অন্তসারশূণ্য। তবে এই পোস্টে লেখকের প্রতি করা আমার মন্তব্য এবং পোস্টের উদ্দেশ্যে করা মন্তব্য থেকে বুঝতে পারবেন আমি কি বুঝাতে চেয়েছি। আর বাকি মন্তব্যগুলো না করে পারিনি, তার কারণ বুঝতেই পারছেন বা আপনাকেও উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করার কারণও বুঝতে পারছেন।
কাউকে আমি তিরস্কার করেছিলাম বলে মনে আসছে না, তবে জনাব নিবারণকে দুই ধর্মের সমালোচনা না করতে বলেছিলাম। আদেশ করে নয়, অনুরোধেও নয়- সাধারণ ভাষায়। তবে সেটা তিরস্কারের মানসিকতায় ছিল না। হয়তো আপনার কাছে তাই লেগেছে।
এনিওয়ে; আর কিছু বলার নেই।
আপনার ব্যাখ্যার জন্য ধন্যবাদ।
আপনাকে আমি ভুলও বুঝিনি।
এজাতীয় লেখা না আসাই উচিৎ বলে মনে করি।
ভাল থাকবেন।
আমার ভূমিকা সর্বদাই একই রকম। ধর্ম ব্যাপার আমার অন্তরের। বাহিরের বাড়াবাড়ি ধর্মকে আমার কাছে বিরক্তিকর করে ফেলে। আমার ভূমিকায় আপনি হতাশ হতে পারেন। তবে আমার এই মন্তব্য পড়লে আশাকরি হতাশ হবেন না। মন্তব্যটি ছিল- হয়তো খেয়াল করেননি।
"শর্মা-ই-আযম বলেছেন ২০১০/০১/০৮ ১৪:৪২:১১
উগ্রবাদী মানুষ সব জাতির মধ্যেই দেখা যায়। তবে সাধারণ মানুষ সম্প্রীতিই পছন্দ করে। উগ্রতার নিদর্শনের চেয়ে সম্প্রীতির নিদর্শন অনেক বেশিই পাওয়া যাবে। উগ্রতা যা ঘটেছে তা ছিল ভুল; তা যে জাতিই করে থাকুক না কেন, যে জাতিই শুরু করে যাক না কেন। অনেকে হয়তো স্বীকার করে, অনেকে করে না। আর এই ধর্ম নিয়ে ক্যাঁচাল-প্যাঁচালে এখন ধর্ম ব্যাপারটিকেই(বাহ্যিক ধর্ম প্রদর্শন) বিরক্তিকর মনে হয়। ধর্ম অন্তরের ব্যাপার, অন্তরেই তা সুন্দর। অনেক কিছুই বলা যায়- কিন্তু এসব নিয়ে কথা বাড়াতে ইচ্ছে হয় না। জগত যেমনি চলে চলুক।"
আর এখানে আমার বেশকিছু মন্তব্য পোস্টের বিষয়ের বাইরের দিকেই হচ্ছে। এই পোস্টকে নিয়ে উপরের মন্তব্যটিই করা। বাকি মন্তব্যগুলো কথায় কথা আনে ধারার। আশাকরি এবার আর হতাশ হবার কিছু আর থাকবে না।
একজন মুসলিম যেমন চাইবে না তার ধর্মের পুণ্যভূমি মক্কা-মদীনায় মসজিদের বদলে অন্য কোনো ধর্মের উপাসনালয় থাকুক, তেমনি একজন হিন্দুও তো চাইবে না তার ধর্মীয় পুণ্যস্থাণে কোনো অন্য ধর্মের উপাসনালয় থাকুক। তাহলে ভারতীয় মুসলিমদের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নিয়ে সংঘর্ষ কতটা যুক্তিযুক্ত আপনারাই বলুন? ----
একটু ভাবুন ----না চাওয়াটা ঠি.। কিন্তু যখন যুগ যুগ ধরে থাকে। যার ভুলে বা শুদ্ধেই হোক সেখানে একটা মসজিদ নির্মান হয়ে আছে। যেহেতু প্রতিষ্টিত হয়েই আছে তাহলে সেটা ভাংগা এই সভ্য সময়ে কতটা যুক্তি যুক্ত? ফেতনা সৃষ্টি না করাই কি ভাল না। সেখানে মসজিদ থাকলে যে হিন্দুয়ানা নষ্ট হবে এমন কি?
ধরুন বাংলাদেশে টংগি ইজতেমা মাটের পাশে একটা মন্দির আছে----এখন ইজতেমার কারনে কি সেটা ভেংগে ফেলা আপনি সমর্থন করেন?
কিছুদিন আগে একটা খবর পড়েছিলাম তাও ইন্ডিয়ার একটি মন্দির বিষয়ে---যে মন্দিরের ২০ বছর ধরে পরিচালক একজন মুসলিম। তার এক হিন্দু বন্ধু তাকে মন্দিরটা দেখে রাখতে বলেছিল এবং তারা(সম্ভবত ২ ভাই) মিলে সেটা দেখেরেখেছিল।
তাই যতটুকু আমদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রিতি আছে সেটা অটুট থাকুক ,অটুট রাখতে চেষ্টা করি।
আপনার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ জেনে ভালো লাগলো।
আসলে যে ভুক্তভোগী সেই জানে, বুঝতে পারে অপর ভুক্তভোগীর ব্যথা। আমার কথা হয়ত কোনো এমন ভুক্তভোগীর পক্ষে বোঝা সম্ভব হবে।
বিপক্ষে কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই বাবরি মসজিদ ভাঙা, উপমহাদেশের আদিবাসীদের উপেক্ষা করে আর্যদেরকে ভারতবর্ষের আদি অধিবাসী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অপপ্রয়াস, এবং সিন্ধু সভ্যতাকে কাল্পনিক সরস্বতী সভ্যতা ঘোষণা দেয়া, এগুলো বিজেপি সরকারের আমলে মাথা চাড়া দিয়ে উঠা উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের ঘৃণ্য অপকৌশল। খোদ ভারতেই এরা আজকাল তেমন পাত্তা পাচ্ছে না।
@আশমএরশাদ
ধন্যবাদ মাভেরিক ভাই। মানুষ এখন অনেক ফাষ্ট---অন্ধ প্রলয়ের নৃত্য কুশিলব আর হয় না কেউ সহজে।
উগ্রবাদী মানুষ সব জাতির মধ্যেই দেখা যায়। তবে সাধারণ মানুষ সম্প্রীতিই পছন্দ করে। উগ্রতার নিদর্শনের চেয়ে সম্প্রীতির নিদর্শন অনেক বেশিই পাওয়া যাবে। উগ্রতা যা ঘটেছে তা ছিল ভুল; তা যে জাতিই করে থাকুক না কেন, যে জাতিই শুরু করে যাক না কেন। অনেকে হয়তো স্বীকার করে, অনেকে করে না। আর এই ধর্ম নিয়ে ক্যাঁচাল-প্যাঁচালে এখন ধর্ম ব্যাপারটিকেই(বাহ্যিক ধর্ম প্রদর্শন) বিরক্তিকর মনে হয়। ধর্ম অন্তরের ব্যাপার, অন্তরেই তা সুন্দর। অনেক কিছুই বলা যায়- কিন্তু এসব নিয়ে কথা বাড়াতে ইচ্ছে হয় না। জগত যেমনি চলে চলুক।
প্রথমেই আসি কিছু অতীত ইতিহাসে। হিন্দু ধর্মের ভগবান বিষ্ণু অষ্টম অবতার রাম নামে ৭৩০০ BC এর দিকে পৃথিবীতে আসেন রাক্ষস রাবণকে বধ করবার জন্যে। অযোধ্যা নামক নগরীতে রাজা দশরথের ঘরে জন্ম নেন রাজপুত্র হিসেবে।
এটি একটি মিথ্যা কল্পকাহিনী । এর কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ নেই । আর মুঘলদের বদানতার কারনেই এখনও হিন্দু ধ্র্ম টিকে আছে । তবে আশার বিষয় হচ্ছে মানুষ এখন অনেক সচেতন । এসব কল্পকাহিনী দিনে আর আটকে রাখা যাবে না । এখন ঠাকুর ঘরেও আড্ডা দেওয়া যায় ।
মন্তব্যের আগে ভাল করে ভেবেচিন্তে করবেন। আশাকরি বিবেকবুদ্ধি রয়েছে। কোন কিছুকে মিথ্যে কল্পকাহিনী বলতে হলে আগে পিছে অনেক কিছু ভেবে দেখতে হয়। মিথ্যে কাহিনী বলতে গেলে বর্তমান যুগে অনেক কিছুকেই মিথ্যা বলা যায়। যেটা নাস্তিকরা সাধারণত করে থাকে। আর ইতিহাস ভাল করে জেনে নেবেন, এই অনুরোধ থাকলো।
অন্য একটি ব্লগে আপনার এই হাস্যকর প্রভোকেটিভ পোস্টটি মুছে দেয়া হয়েছে। আপনি ৭৩০০ পর্যন্ত গুনতে জানেন বলে মনে হয় না। সন-তারিখ , সত্য-মিথা, কল্পনা-বাস্তব, ধর্ম-হিতোপদেশ, সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন।
অনুগ্রহ করে কবিগুরুর অমর পংক্তি মনে রাখবেনঃ
কবি, তব মনোভূমি
রামের জনমস্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য জেনো।
বাবরি ভাঙার পরে আদালতের নির্দেশে তার নিচে খনন করে কিছু পিলার পাওয়া যায়, সেগুলো প্রায় সমসাময়িক, কিন্তু নিযুক্ত প্রত্নতত্ত্ববিদ তাকে মন্দিরের অংশ বলে প্রমাণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করে চাকুরী হারান। পরে দেখা যায় বাবরি আসলে আরো পুরাতন এক মসজিদের ওপরে নির্মিত হয়েছিল। এলাহাবাদ হাইকোর্ট সময় উপযুক্ত দেখলেই (অর্থাৎ হিন্দু ফ্যানাটিসিজম একটু কমলেই) রায় ঘোষণা করবেন। [উইকিপিডিয়া থেকে]
তবে রামায়ণের গল্প পড়ে মজা পাই। যদিও সীতাকে পরিত্যাগ করার ব্যাপারে রামের কাপুরুষোচিত আচরণ খুব মর্মাহত করেছিল ছোটবেলায়। পরে নিজেকে বললাম - এটা তো গল্প, কি আসে যায়।
হিন্দু ধর্ম মানে রামায়ণ-মহাভারত নয়, প্রাচীন বেদ গুলিই এর প্রকৃত ভিত্তি।
তর্ক বির্তক জমে উঠেছে দেখা যাচ্ছে। এরই ভিতর থেকে সত্য মুক্তি পাক। আমি না হয় পরে জয়েন করব। তবু এই ফাকে শক্ত শক্ত কথার ভীড়ে একটা সাদা মাটা কৌতুক বলে গেলাম-
"এবার কোন ভাবেই কোন কিছু করা যাবে না। দান দান তিন দান। পরিদর্শক সাহেব তৃতীয়বারের মত আসছেন। কোন গাফলতি দেখলেই কনর্ফাম স্কুলের বরাদ্দ বাতিল। স্কুলে তাই সাজ সাজ রব। হেড স্যারের মাথার যে তেরটি চুল অবশিষ্ট ছিল তার তিনটি ইতিমধ্যে গেছে। প্রথম বার যখন পরিদর্শক সাহেব আসলেন সেবার সব ভন্ডুল করে দিয়েছিল হুজুর স্যার। তার অভ্যাশ ছিল ক্লাশ ঘুমানো। পরিদর্শক সাহেব যেদিন আসবেন সেদিনও ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ছাত্রদের বলা ছিল পরিদর্শক সাহেব কে আসতে দেখলেই তাকে যেন তুলে দেই। কিন্তু পাজি'র পা ঝারা ছাত্ররা তুলল তাকে এমন সময় যখন অলরেডি উনি ক্লাশে ঢুকছেন। কোন মতে সামলে চোখ কচলে যখন বললেন - বুঝলে ছাত্ররা একেই বলে ঘুম। আজ আমরা কাগজে কলমে ঘুম কাকে বলে শিখলাম - ততক্ষনে পরিদর্শকের যা বোঝার তা বোঝা হয়ে গেছে। ২য় বার ভন্ডুল করল ক্লাশ ফাইভের ফাস্ট বয় দ্বিপ। তখন অংক ক্লাশ চলছিল। পরিদর্শক যখন জিজ্ঞাসা করল -
:এক হালি কলাম দাম ১টাকা হলে তিন হালি কলার দাম কত?
দ্বীপ জিজ্ঞাসা করে বসল
: কি কলা স্যার?
: এই ধর সাগর কলাই।
: ১ টাকায় এক হালি সাগর কলা আপনার ...... মধ্যে দিয়ে দেবে।
তাই এবার আর কোন ভুল না। হুজুর স্যারকে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। ছাত্রদেরও শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে কোন প্রশ্ন নিয়ে যেন কথা বেশি না বলা হয়। পারলে স্পষ্ট বলতে হবে না পারলে শুধু বলবে আমি জানি না। যা হোক নির্ধারিত সময়েই পরিদর্শ সাহেব এসে হাজির। চা-নাস্তার আপ্যায়ন শেষে তাকে নিয়ে যাওয়া হল ক্লাশ ফাইভের ঘরে। তখন সমাজের ক্লাশ চলছে। এই স্কুলের সবচেয়ে ভাল স্যার পরিমল বাবু। তাই বুদ্ধি করে তার ক্লাশেই নিয়ে যাওয়া। যথারিতি পরির্দশক সাহেব ক্লাশে ঢুকেই ফাস্ট বয় কে জিজ্ঞাসা করলেন-
: কি পড়ানো হচ্ছে।
: জি ইতিহাস
: আচ্ছা বলত বাবরী মসজীদ কে ভেঙেছে
: আল্লাহ কসম স্যার আমি ভাঙিনি।
পরির্দশক সাহবে চোখ কটমট করে পরিমল স্যারের দিকে তাকাতেই উনি বলে উঠলেন-
: আপনার কি মনে হচ্ছে আমি ভাঙিছি
রাগে গজগজ করতে করতে পরির্দশক ছুটলেন হেড স্যারের রুমে। ঘটনার আদ্যপান্ত শুনে হেড স্যার বললেন-
: দ্বীপ স্যার ক্লাশের ফাস্ট বয়। সৈয়দ বংশের ছেলে। একটু কথা বেশি বলে। কিন্তু খুব ভাল ছেলে। মসজীদ ভাঙার মত কাজ ওর দ্বারা সম্ভব না। পরিমল বাবু বছর দুয়েক হল এ স্কুলে এসেছে। আবার হিন্দু। তাকে সন্দেহ করা যেতে পারে। তবে কেন জানি মনে হচ্ছে স্যার আপনার কোথাও ভুল হচ্ছে। মসজিদ ভাঙার মত সাহস তার হবে না। তবুও আমি এখনি তদন্ত করব।
এ সব শুনে আর এক মুর্হত ওই স্কুলে পা না রেখে সোজা পরির্দশক সাহেব চললেন স্থানীয় এম.পি'র কাছে। তাকে ওই স্কুলের কথা বলে বরাদ্দ বাতিলের সুপারিশ করতে। সব শুনে এম.পি সাহেব ফোন করলেন শিক্ষা মন্ত্রীকে।
: স্যার আমার এলাকায়তো আগামীবার জেতা কষ্ট হয়ে যাবে।
: কেন কি হয়েছে
: আমার এলাকার এক স্কুলের টিচারের মসজিদ ভাঙা নিয়ে হুলুস্থল কান্ড। এই যে একজন আসছে স্কুলের বরাদ্দ বাতিল করতে। স্কুল বন্ধ করলে তো আমার ভোট পাওয়া হবে না। স্যার আপনি একটু দেখেন। যাতে বরাদ্দ বাতিল না করে ঘটনার মিমাংসা করা যায়।
তাই শুনে শিক্ষা মন্ত্রী ফোন করলেন ধর্ম মন্ত্রীকে
: কি আপনারা শুধু চাদঁ দেখা নিয়ে থাকেন নাকি ঘটনার কিছু খোজঁ খবর রাখেন।
: কেন কি হয়েছে?
: রহমত গন্জে যে হিন্দুরা মসজীদ ভেঙে ফেলছে। তার খবর রাখেন। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা বাধঁলে তো সরকার পড়ে যাবে।
: আমি এখনি দেখছি।
এই বলে ধর্ম মন্ত্রি ফোন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে।
: রহমত গন্জে বাবরী মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে। যেকোন মূহর্তে দাঙ্গা বাধঁতে পারে। আপনি ইমিডিয়েটলি স্পেশাল ফোর্সের ব্যাবস্থা করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ততখনাত সব জায়গায় ইনফোরমেশন দিয়ে দেন। আর প্রধানমন্ত্রীকে জানানো কর্তব্য মনে করে ফোন দেন
: সর্বনাশ হয়ে গেছে
: কি হয়েছে
: দেশ জুড়ে দাঙ্গা বাধঁতে পারে। রহমত গন্জের বাবরী মসজীদ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
: এই খবর এত দেরীতে আমাকে দেয়া হচ্ছে কেন? আপনাদের মন্ত্রী করে তো ভারী বিপদে পড়লাম।
প্রধানমন্ত্রী ততখনাত অর্থ মন্ত্রীকে ফোন করেন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে অর্থ বরাদ্দ চাই। রহমত গন্জে বাবরী মসজীদের চেয়েও আরও সুন্দর মসজীদ ৪৮ ঘন্টার মধ্যে করে দিতে হবে। আমি কোন কথায় শুনতে চাই না। এমনিতেই বহুত ঝামেলায় আছি"
ধন্যবাদ। হেসে হেসে হার্টের ব্যায়াম সেরে নিলাম।
পোস্টে কিছু বলার নাই , আপনি বলিলেন অনেকেই আলোচনা করিল , আমিও নিজে নিজে একটা সিদ্ধান্ততে পৌছাতে পারলাম ।
তবে পোস্ট মুছে দেওয়া বা এই রকম লেখার অনিচিত এই কমেন্ট কাম্য হতে পারে , সবারই উচিত আলোচনায় অংশ নেওয়া এবং এতে করে অনেক দিক বেরিয়ে আসবে ।