এই নাকি বাঙালী?
সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটেছে নিউইয়র্ক সহ বিভিন্ন স্থাণে যা আমার মনকে খুব নাড়া দিয়েছে। এ নিয়ে লিখব লিখব করে আর লেখা হচ্ছিল না। বিষয়টি আসলে আমাদের বাঙালীদের কিছু জিনিস নিয়ে।
মূল কথায় আসি...
প্রবাসে (নিউইয়র্ক) গত ৬-৭ বছর ধরে যে আছি, এর মাঝে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালী/বাংলাদেশীরা প্রবাসে থাকলেও দেশীয় আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সকলই যথাযথভাবে পালনের যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। আমি বয়সে ছোট হিসেবে কোনো গ্রুপ বা গোষ্ঠীতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করি না জড়িত হবার। যদিও এদের উদ্দেশ্য লোকহিতকর, তবুও কোনো নির্দিষ্ট দলে যোগ দিতে চাই না এই কারণেই যাতে অন্য দল বা লোকেরা মন খারাপ না করে বা দূরে ঠেলে না দেয়। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব ভালো সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করি। এইসব দল বা গ্রুপ বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি), ধর্মীয়, অথবা সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
মূলত যে কারণে এই লেখাটি লিখছি তা আসলে কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া কিছু আঞ্চলিক সমিতির কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথমদিকে এইসব সমিতি ভালো মতো চললেও পরের বছরগুলোতে এদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। মূলত সমিতির বা দলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের অনৈক্যের সূচনা হয়।
এর মধ্যে সেদিন স্থাণীয় এক পত্রিকায় পড়লাম এখানকার জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের (এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন) এই বছরের কমিটি গঠনের নির্বাচনে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতানৈক্যের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি সংঘটিত হয়। পরে পুলিশ এসে একজনকে নাকি ধরেও নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। হতাহতও হয়েছে কিছু লোক। এইসব হতাহতের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কিছু কিশোর-কিশোরীও নাকি আছে। আবার সেই রিপোর্টে আরও পড়েছি যে, এবারের জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাকি অর্ধ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে।
এত কিছুর পরে আবার গত সপ্তাহের অথবা এর আগের সপ্তাহের (ঠিক মনে করতে পারছি না) পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি হয়ে গেছে। ছবিতে দেখিয়েছে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় একজনের পাশে বসে।
এইসব খবর পড়ে বা দেখে শুধু প্রশ্নই আসল মনে। এই কি বাঙালীর পরিচয়? প্রবাসে এসেছে সন্তানদের মানুষ করতে, নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে, দেশের সম্মান বাড়াতে। আর এইসব হাঙ্গামা কি দেশের সম্মান খুব বৃদ্ধি করবে? একটু মর্যাদা (সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হলে) পাবার জন্য এত কিছু করা কি আমাদের রূপ বিশ্বে অন্যান্য দেশের লোকদের কাছে কি খুবই বাড়ায়? স্থাণীয় সরকার কি দেখছে না বাঙালী/বাংলাদেশীদের কি রকম আচরণ? এমনিতেই বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের রেকর্ডে (দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন) বিদেশীরা একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশীদের, তার ওপর আবার এমন কর্মকান্ড...হায় রে কপাল!
উপরন্তু, আমার মাথায় ঢুকল না যে বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে মানুষ করতে চেষ্টা করে সুদূর প্রবাসে, তারা কি করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন হীন কাজ করতে পারে? বেশীরভাগ বাচ্চারাই এদেশে জন্ম। তাই তারা ঠিকমতও জানেও না তাদের পিতৃগত বা মাতৃগতভাবে সংস্কৃতি সম্পর্কে। আর এই যদি দেখে তাদের বাবা-মা করছে তাদের সামনে, তাহলে এই প্রজন্ম কি শিখবে?
শুধু এটুকুই নয়, আমি যদিও বেশী বুঝি না টাকা-পয়সার হিসাব তবুও একটি সংগঠনের নির্বাচনের ব্যয় যদি জানতে পারি অর্ধ মিলিয়ন ডলার তাহলে তো মাথাই ঘোরপাক খেতে থাকে। ঠিকমত একটা বাসা নিয়ে থাকতে পারি না, অথচ এরা এত ডলার খরচ করে নির্বাচনে(!) এর চেয়ে যদি দেশের দুস্থ-হতদরিদ্র লোকদের এক বেলার খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন এইসব লোকগুলো তাহলে না জানি কতগুলো প্রাণ বেঁচে যেত। একেই বলে কপাল! যার নাই, তার কিছুই নাই! আর যার আছে, তার নির্বাচনে ব্যয় করার জন্য ভুরি ভুরি ডলার আছে!
আবার পাঠকের নিকট শেষ প্রশ্ন, এই কি বাঙালী? এই কি মোদের পরিচয়? এই কি আমাদের স্বভাব?
মূলপোস্ট
মূল কথায় আসি...
প্রবাসে (নিউইয়র্ক) গত ৬-৭ বছর ধরে যে আছি, এর মাঝে নানা অভিজ্ঞতা হয়েছে। বাঙালী/বাংলাদেশীরা প্রবাসে থাকলেও দেশীয় আচার-আচরণ, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি সকলই যথাযথভাবে পালনের যতটা সম্ভব চেষ্টা করে। আমি বয়সে ছোট হিসেবে কোনো গ্রুপ বা গোষ্ঠীতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করি না জড়িত হবার। যদিও এদের উদ্দেশ্য লোকহিতকর, তবুও কোনো নির্দিষ্ট দলে যোগ দিতে চাই না এই কারণেই যাতে অন্য দল বা লোকেরা মন খারাপ না করে বা দূরে ঠেলে না দেয়। সবার সঙ্গে যতটা সম্ভব ভালো সম্পর্ক রাখারই চেষ্টা করি। এইসব দল বা গ্রুপ বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুর, কুমিল্লা ইত্যাদি), ধর্মীয়, অথবা সাংস্কৃতিক ভিত্তিতে গড়ে ওঠে।
মূলত যে কারণে এই লেখাটি লিখছি তা আসলে কিছুদিন আগে নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া কিছু আঞ্চলিক সমিতির কিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রথমদিকে এইসব সমিতি ভালো মতো চললেও পরের বছরগুলোতে এদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেয়। মূলত সমিতির বা দলের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ধরনের অনৈক্যের সূচনা হয়।
এর মধ্যে সেদিন স্থাণীয় এক পত্রিকায় পড়লাম এখানকার জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের (এটি আমেরিকায় সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক সংগঠন) এই বছরের কমিটি গঠনের নির্বাচনে নানা রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মতানৈক্যের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি সংঘটিত হয়। পরে পুলিশ এসে একজনকে নাকি ধরেও নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। হতাহতও হয়েছে কিছু লোক। এইসব হতাহতের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কিছু কিশোর-কিশোরীও নাকি আছে। আবার সেই রিপোর্টে আরও পড়েছি যে, এবারের জালালাবাদবাসী এসোসিয়েশনের নির্বাচনে নাকি অর্ধ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ করা হয়েছে।
এত কিছুর পরে আবার গত সপ্তাহের অথবা এর আগের সপ্তাহের (ঠিক মনে করতে পারছি না) পত্রিকায় দেখলাম চট্টগ্রাম এসোসিয়েশনের সাধারণ সভাকে কেন্দ্র করে মারামারি, হানাহানি হয়ে গেছে। ছবিতে দেখিয়েছে পুলিশ এসে আহত অবস্থায় একজনের পাশে বসে।
এইসব খবর পড়ে বা দেখে শুধু প্রশ্নই আসল মনে। এই কি বাঙালীর পরিচয়? প্রবাসে এসেছে সন্তানদের মানুষ করতে, নিজেদের ভাগ্যোন্নয়ন করতে, দেশের সম্মান বাড়াতে। আর এইসব হাঙ্গামা কি দেশের সম্মান খুব বৃদ্ধি করবে? একটু মর্যাদা (সংগঠনের প্রেসিডেন্ট হলে) পাবার জন্য এত কিছু করা কি আমাদের রূপ বিশ্বে অন্যান্য দেশের লোকদের কাছে কি খুবই বাড়ায়? স্থাণীয় সরকার কি দেখছে না বাঙালী/বাংলাদেশীদের কি রকম আচরণ? এমনিতেই বাংলাদেশের গত কয়েক বছরের রেকর্ডে (দুর্নীতিতে টানা ৫ বছর চ্যাম্পিয়ন) বিদেশীরা একটু নিচু দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশীদের, তার ওপর আবার এমন কর্মকান্ড...হায় রে কপাল!
উপরন্তু, আমার মাথায় ঢুকল না যে বাংলাদেশীরা তাদের সন্তানদের দেশীয় আচার-সংস্কৃতিতে মানুষ করতে চেষ্টা করে সুদূর প্রবাসে, তারা কি করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে এমন হীন কাজ করতে পারে? বেশীরভাগ বাচ্চারাই এদেশে জন্ম। তাই তারা ঠিকমতও জানেও না তাদের পিতৃগত বা মাতৃগতভাবে সংস্কৃতি সম্পর্কে। আর এই যদি দেখে তাদের বাবা-মা করছে তাদের সামনে, তাহলে এই প্রজন্ম কি শিখবে?
শুধু এটুকুই নয়, আমি যদিও বেশী বুঝি না টাকা-পয়সার হিসাব তবুও একটি সংগঠনের নির্বাচনের ব্যয় যদি জানতে পারি অর্ধ মিলিয়ন ডলার তাহলে তো মাথাই ঘোরপাক খেতে থাকে। ঠিকমত একটা বাসা নিয়ে থাকতে পারি না, অথচ এরা এত ডলার খরচ করে নির্বাচনে(!) এর চেয়ে যদি দেশের দুস্থ-হতদরিদ্র লোকদের এক বেলার খাবারেরও ব্যবস্থা করতেন এইসব লোকগুলো তাহলে না জানি কতগুলো প্রাণ বেঁচে যেত। একেই বলে কপাল! যার নাই, তার কিছুই নাই! আর যার আছে, তার নির্বাচনে ব্যয় করার জন্য ভুরি ভুরি ডলার আছে!
আবার পাঠকের নিকট শেষ প্রশ্ন, এই কি বাঙালী? এই কি মোদের পরিচয়? এই কি আমাদের স্বভাব?
মূলপোস্ট
লেখক পাপ্রদজ
- পাপ্রদজ -এর ব্লগ
- ৮ টি মন্তব্য
- ০৫ আগস্ট ২০০৯, ১০:২২
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৮ টি মন্তব্য
-
এস এ এ০৫ আগস্ট ২০০৯, ১০:২৯
আসলে শুধুমাত্র প্রবাসীরাই এ কষ্টটা বুঝতে পারে। আমি এ বিষয়ে একটা লেখা দিয়েছিলাম কয়েকদিন আগে। পড়ে দেখতে পারেন।
আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীরা কেমন আছেন -
ওয়াচডগ০৫ আগস্ট ২০০৯, ১০:৩৮
ঢেকী স্বর্গে গিয়েও ধান ভাংগে। শুধু নির্বাচন কেন, প্রায় প্রতিটি বনভোজনেও হাতাহাতি এখন নৈমত্তিক ব্যপার। বাংলাদেশী এবং মারামারি, এ দু'টো একে অপরের বৈমাত্রীয় ভাই। ৬ বছর নিউ ইয়র্কে বাস করে তার অনেক প্রমান পেয়েছি। -
বলুন খান১১ আগস্ট ২০০৯, ০৯:১৫
আমি বাংলাদেশে থাকতে একমাত্র ভুগোল বই ছাড়া কখনো জালালাবাদ নামটি শুনিনি। আর এখানে এসে ঠিকানা পত্রিকার কল্যানে জানতে পারি তাদের কথা। এটা এখনো আমার মাথায় আসেনা আমেরিকাতে এসে এসব করে এরা কি আনন্দ পায়। তবে দুঃখজনক হলেো সত্য যে প্রবাসী বাঙ্গালীদের এ ধারা চলতেই থাকবে। কারণ বাঙ্গালীদের কাছে বরাবরই দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে নিজ বড়্।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক