....শ্যাওলার শিশির ভেজা জলে, প্রতিবিম্ব আঁকে, বখে যাওয়া সূর্যের রক্তলাল উষ্ণতা.....

মার্চ
১৭

একটা স্বপন তুলে নিও প্রেম দিয়ে মোড়া!

সময় ০৭:২৭:০৮

শোন, শোন তুমি!
ওখানে যাও,
ঐ যে...............

ভাঙ্গা কুঁড়ে'র ফুটো চালার নিচে!
যেখানে
শীতের রাতে ঘিরে থাকে
কুয়াশা মাখা আদর!
তার ঠিক একটু পাশে,
জোসনা নীলে দেখতে পাবে
ঘুমিয়ে আছে স্বপ্ন-পুকুর!
গুটিগুটি পায়ে নেমে এসো পাড়ে,
সেখানে
ছুঁয়ে দিলে স্বপ্ন ছিড়ে যাবে!

একটা কলস সাথে নিও,
মাটি দিয়ে গড়া,
একটা স্বপন তুলে নিও
প্রেম দিয়ে ...

  • ১৮টি মন্তব্য

মার্চ
১৬

মিহিন ভালোবাসা!

সময় ০৬:১৩:১৪

পৃথিবীর শেষ জোসনা মাখানো মিহিন ভালোবাসা
আজ নিঃস্ব, গৃহহীন!
সহস্রাব্দ পুরানো উজান নদীর পথে
একা একা ফিরে সঙ্গিবিহীন!
নির্ঘুম জোনাকি আলো জ্বেলে রাখে,
নির্জনে!
ছিঁড়ে যাওয়া অনুভূতির ঠিক মধ্যখানে!

মিহিন ভালোবাসা
একটি ঘাসফুল ছুঁয়ে বয়ে যায়
উত্তরমুখী বায়ুর সমতলে!
পরিযায়ী পাখির ঠোঁটের ফিরতি পথে!
অজগর কুন্ডলী পাকিয়ে ঢুকে পড়ে
তুন্দ্রার খোঁয়াড়ে!

অতঃপর
স্যাতস্যাতে বসনে সেজে বসে থাকা
মিহিন, মিহিন ...

  • ৬৩টি মন্তব্য

মার্চ
১৫

একদিন ঘুম ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে জেগে উঠেছিলাম, মহাকালের অন্ধকূপে!

সময় ০৬:৪৬:১৯

একদিন ঘুম ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে জেগে উঠেছিলাম,
মহাকালের অন্ধকূপে!
এখন কেন , আমার রুপোলী প্রহরগুলো
জলরঙ্গে হারিয়ে গেছে?

অথচ ঘুমিয়ে পড়ার আগে
বাষ্পীয় মেঘের চুল ছুঁয়ে-ছুঁয়ে, ঝরে পড়েছিলাম
বৃষ্টির সাথে একাকার হয়ে!
মিষ্টি লু-হাওয়ার হু-হু সুরে
ডাহুক ডাকা অভিমানী মনে গান শুনেছিলাম
উষ্ণ বালুর বুকে!
বাম পাঁজরের স্বপ্ন হাতে নিয়ে
উঁচু-উঁচু পাহাড় চূড়ার মাঝে পথ হেঁটেছিলাম
তোমার ভাঙ্গা মূর্তিটুকু পেয়ে!

হঠাৎ
আমি ঘুমিয়ে গেলাম, ঘুম্র হ্রদের তীরে।
মৃত্যুর কাছাকাছি স্বাদে,
কৃষ্ণতার গাঢ়তায় নিমজ্জিত স্বপ্নীল সমতটে।

তারপর,
একদিন ঘুম ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে ,
আমি জেগে উঠেছিলাম,
মহাকালের অন্ধকূপে!
এখন , আমার রুপোলী প্রহরগুলো
জলরঙ্গে মিলিয়ে ...

  • ২৪টি মন্তব্য

মার্চ
০৬

আবার ফিরে এল রাত, জোনাক জোনাক আলোর অবরুদ্ধ কাল!

সময় ০৬:১১:০৫

আবার ফিরে এল রাত, জোনাক জোনাক আলোর অবরুদ্ধ কাল!
শ্যাওলার শিশির ভেজা জলে মিশে থাকে কবরের দীর্ঘশ্বাস।

ঐ যে, সেখানে রাত ঘুমালে,
লাল পাহাড়
সন্ন্যাসময় নির্লিপ্ততায় জড়িয়ে ধরে
কালো কিছু আঁধার!
বোহেমিয়ান স্বপ্নগুলো ছিপ ফেলে বসে থাকে
অন্ধ-কূপের ভিতর!

আবার ফিরে এল রাত, দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে,
শেষ চুম্বনের ভুলে যাওয়া স্বাদ ঠোঁটে ...

  • ৪৬টি মন্তব্য

মার্চ
০৫

রাতের কাব্য

সময় ০৮:৩২:২৭

তক্ষক ডাকে,
ডেকে উঠে মাঝ রাতে।
দক্ষিনের জংলায় ভূতে পাওয়া যোগিনী,
ধ্যান ভেঙ্গে কাঁদে,
দুষ্টু শেয়ালের আস্ফালনে!
চন্দ্রাহত কোকিল অযাচিতে গেয়ে উঠে গান,
ডাহুক-ডাহুক,
গম্ভীর অভিমান!
এখন,
কাল চাঁদময় রাত,
খসে যাওয়া তারাদলও লুকানো
ধুসর কিংবা সাদা মেঘের ফাঁকে।
পরিপূর্ন কৃষ্ঞগহবরের কালোতায়,
নেমে আসে,
রাতের ...

  • ২৪টি মন্তব্য

মার্চ
০৪

শব্দগুলো নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়

সময় ০৩:১৩:২৮

শব্দগুলো কাঁপছে শুদ্ধতার মিছিলে,
খুঁড়ছে,
নামছে,
প্রতিটি ঘুমন্ত কোষে!

শব্দগুলো মাতালের মত ধুঁকে,
রাত্রি কাটায়
ব্যাভিচারী হয়ে,
কবিতার দুয়ারে দুয়ারে!

শব্দগুলো চির দুখী পাগল থাকে,
বেদনা-বিধুর
পরাস্ত সৈনিকের মত,
পরাভূত ক্লান্ত রাতে!

শব্দগুলো হয় না সম্রাজ্ঞী কবিতা,
ছলনা করে,
হেসে লুটিয়ে পড়ে,
যেন ব্যাবিলনের বারবনিতা!

শব্দগুলো নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়,
শুন্যতায়,
রুক্ষতায়,
নিশ্চুপ কোন ভরা ...

  • ৫৮টি মন্তব্য

ফেব্রুয়ারি
২৩

আমার শূন্য আলোক ঘর

সময় ০০:৩৪:৪৮

চকমকি পাথর ঠুকে-ঠুকে
জ্বেলে ছিলাম সবুজ আগুন।
দাবানল থেকে চুরি করিনি এতটুকু আঁচ!
জ্বলন্ত শিখায় আলোকিত,
আমার অরন্য নিবাস!
তুমি তখনও অবয়বহীন ছিলে!
কালো জোছনার সবটুকু সুখ মেখে!
অন্ধকার, একাকী গুহা প্রাঙ্গনে!
ছায়া-ছায়া ভালোবাসায়,
বাম-পাঁজরে প্রোথিত বেদনা
জড়ো হয়, হাতের মুঠোয়!
রঙ্গ নেই, তুলি নেই
নেই কোন প্রতিমা!
সাদা-কালো বোধ
কেবল, হৃদয়ের নীলিমা!
তবু
আমি এঁকেছি গুহাচিত্র
নিঝুম স্বর্ণলতার আসরে!
আমার
শূন্য আলোক ...

  • ৫০টি মন্তব্য

ফেব্রুয়ারি
২১

কালা তাহার চউখ..

সময় ১১:৩০:৫২

১৯৫২'র ২২শে ফেব্রুয়ারী....

করিম গাতক আজ ৬ দিন পর বাড়ি ফিরল। করিম'র ঘরে আছে তার ৩মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শেফালি।

সবে মাত্র সন্ধ্যা মিলিয়ে চারপাশে একটা অদ্ভুৎ মায়াবী পরিবেশ। করিম আর শেফালি মুখোমুখি বসা। তাদের মাঝখানে একটা প্রদীপ। প্রদীপ'র কাঁপা-কাঁপা আলো শেফালি'র চোখে মুখে খেলা করছে......

করিম:বউ তুমারে খুবৈ সোন্দর লাগতাছে!
শেফালি কথাটা না শুনার ভান করে বলল,আপনের বাদ্য-বাজনা কেমুন হইল?
করিম:আহা! আর কইও না, সোমপুরের দেওয়ান সাব তো আমার গানের দেওয়ানা হইয়া গেছিল!২০ টেকা, বুজলা বউ, ২০টেকা শিরোপা দেল! মানুষ একখান! বউ চউখে কি কাজল দিলা নাকি? তুমার চউক দেইখা মনে একখান জবর পদ আইলো! হুনবা??
শেফালি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে বলল, কি শুরু করলেন, আইচ্ছা হুনান!
সাথে সাথেই করিম'র চেহারা উদাস হয়ে গেল। সে ঘোর লাগা গলায় বলল,

রুপের কইন্যা, সোনার বরণ
কালা তাহার চউখ,
চউখ দেখিয়া জুড়ায়ে গেল
করিম পাগলার দুখ।

করিম'র পদ শুনে হঠাৎ শেফালি'র দুচোখ পানিতে ভরে গেল!কিছুক্ষন পর ধাতস্ত হয়ে শেফালি বলল, যান, আপনার খালি রঙ্গের কতা!
শেফালি'র কথা শুনে করিম হো হো করে হেসে উঠল।তারপর আবার একটা পদ শুরু ...

  • ২২টি মন্তব্য

ফেব্রুয়ারি
১৯

নির্জন বিষন্নতা!

সময় ০০:৩৬:৫৮

১.
কবির উদাস মুখে সিগারেটের ধুয়া ছাড়তে লাগলো।এখন প্রায় ১০ ঘন্টা হয়ে গেছে, তারপর ও সে সহজ হতে পারছেনা।মাঝে মাঝেই তার এমন হয়।তখন হারিয়ে খোঁজে নিজেকে।২-৩ দিন পর্যন্ত ভোঁতা অনুভূতি তাকে কষ্ট দেয়।কবির মনে মনে আবৃত্তি করল
মন্ তু শুদম্ তু মন্ শুদী,মন্ তন্ শুদম্
তু জাঁ শুদী
তা কসী ন গোয়েদ্ বাদ্ আজ্ ঈঁ মন্ দিগরম্
তু দিগরী।

আমি তুমি হলেম,তুমি আমি হলে,আমি দেহ
তুমি প্রান
এরপর কেহ যেন নাহি বলে, তুমি আন
আমি আন।

মনটা গাঢ় বিষাদে ভরে আছে।একটু হালকা করার জন্য কবির গিটার নিয়ে বসল।টুং টাং করতে করতে মাইনর কর্ডে সুর পেল।তারপর খুব ধীর গলায় গেয়ে উঠল..
underneath a silver moon
the ship is like a ghost
she's been out there for a week
just waiting for the wind to blow
but now she's off and running
and there's nothing i can do
cos' i am just a prisoner here
until this war is through

and iam singing
sailor,
can you here me
sailor,here my call
sailor,take me with you
sailor,take me home.........

নাহ!মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল।কবির তার চিরচেনা মুখোশটা আটতে পারছেনা।যে মুখোশটা থাকলে সে হয়ে যায়, ফানি বয়,কারো কারো কাছে জোকার!!সে গিটারটা রেখে ওয়াশরুমে গেল।তার মুখে ৪-৫ দিনের খোচাঁ খোচাঁ দাড়ি।কবির কোথায় যেন ...

  • ৪৮টি মন্তব্য

ফেব্রুয়ারি
১৫

এই নির্জনে..........

সময় ২৩:২৮:৪০

দৃষ্টির অন্তরালে'র
একটি খোড়া কবর!
তাকিয়ে ছিল আমার দিকে।
আমি তখন শুকনো বালির,
পঁচে যাওয়া ঘাসফুল হয়ে
জড়িয়ে থাকি কবরের উপরিতল!
কবর!
কবর আমাকে অস্ফুট স্বরে,
বার্তা পাঠায়!
বলে,
প্রিয় মহাকালের কাঁচ ঘরে,
মাটির বসন নিয়ে সেজে আছি আমি,
যেন মধু-মাসের প্রেয়সী!
ফুল শয্যার প্রদীপ নিভিয়ে,
চল,
চল তবে মিশে যায়,
একাকার হয়ে!
এই ...

  • ৪৬টি মন্তব্য

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫