এপ্রিল
১৩

আমার মিউজিকবেলা [শেষ পর্ব]


আমার মিউজিকবেলা [শেষ পর্ব]

আমার মিউজিকবেলা -১
আমার মিউজিকবেলা -২

[প্রথম দুটো পার্টের লিঙ্কের সাথে পার্ট দুটোও এখানে কপি-পেস্ট করে দিলাম। পুরানো পাঠকরা ৩ নং থেকে শুরু করতে পারেন]
++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

আমার মিউজিক বেলা। হুমম... শুরুটা হয়েছিলো অনেক তাড়াতাড়ি-ই। স্পেসিফিকলি ক্লাস ৮- এর শেষের দিকে। বোরহান চাচুর জাম্বো ফ্রেটের গিটারটাও ছিলো মরা মার্কা। হাওয়াইয়ান গিটারের মতো ফ্রেটের এক ইঞ্চি উপরে তার। কতক্ষণ বাজালেই হাত লাল হয়ে যেতো। বাসা থেকে বরাবরি ঠ্যাংগানির উপর রাখা হতো। মিউজিক নেভার পারমিটেড। ‘শিশু একাডেমী’ তে যেতাম ক্লাস থ্রী-ফোরে। মিউজিক না, আঁকিবুঁকি শিখতে। ক্লাস শেষ হলে অথবা ক্লাসের ফাঁকেই মিউজিক সেকশনে চলে যেতাম। ‘নভেম্বর রেইন’এর মিউজিক ভিডিও তে ধুলোর উপর বাজানো স্লেশের সলোটা দেখলেই মাথা খারাপ হয়ে যেতো। ইস! এরকম ঝাকানাকা একটা সলো বাজাতে পারলে জীবনটাই সার্থক হয়ে যেতো! আরেকটু হাত পাকার পর মনে হলো – ‘আরে ধুর! এরকম লিড বাজানো কিস্যু না! দেখে দেখে একটা বাচ্চা ছেলেও বাজাতে পারবে। আসলে মাথা খাটিয়ে কম্পোজ করাটাই আসল’

সলো ভালো লাগতো আর ভালো লাগতো প্লাকিং। কোন গানের ইন্ট্রোটা প্লাকিং-এ হলেই তুলে ফেলতাম। আজ এতোদিন পর মনে হয় আমি খুব লাকি ওই সময় ‘ইউটিউব’ ছিলো না। নাইলে আর দেখতে হতো না......... কর্ড প্রগ্রেসন আর ট্যাবের ভুরি ভুরি টিউটোরিয়াল নিয়েই জীবন শেষ হয়ে যেতো! ভার্সিটিতে আসার পর রাজী থেকে দেখলাম- দাঁত দিয়ে বাজানো, ঘাড়ের পিছনে নিয়ে বাজানো এসব আসলে সব স্টেজ সো! কোন ব্যাপার-ই না। একটু সো-অফ আর তাতেই দর্শকরা ক্রেজী হয়ে যায়।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

রাজী আমার ভার্সিটি লাইফের খুব ক্লোজড একজন ফ্রেন্ড। একটু পাগলা বলে ওর সাথে কেউ ল্যাব করতে চাইতো না। প্রথম টার্ম ছাড়া বাকি সব টার্মই আমরা একসাথে ল্যাব করেছি। ইলেক্ট্রিক্যাল- ক্রেইজি সাবজেক্ট। একটু ভালো রেজাল্ট থাকলেই তাই সবাই সবাই এটাতেই ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু বন্ধু রাজী ভর্তি হলো ডেডিকেটেডলি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য!! কেইট ওয়াক, এডোবি ইক্যুলাইজার, গিটার প্রো সহ আরো কত কত সফটওয়্যার নিয়ে পড়ে থাকে দিনরাত।

আর ছিলো বাংগী। বাংগী (নামটা বিখাউজ পোলাপানের দেয়া, আসল নাম-তানজীল, তবে আসল নামটাই এখন বিস্মৃতপ্রায়) ন্যাংটু কালের ফ্রেন্ড। সেন্ট মেরীস টু ভার্সিটি। আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা বরাবরি ভালো। রাজী যোগ হওয়ায় একেবারে সোনায় সোহাগা। মাঝেমধ্যে জ্যামিং-এ বসতাম। পালা করে বেস আর লিড বাজাতাম। তবে রাজী -র যে কোন সলো-ই ছিলো স্পেশাল। বাংগীও এখন অনেক ইম্প্রুভড। রেকর্ড করা হতো হেডফোনের মাউথপিস দিয়ে। প্র্যাক্টিস প্যাডে আর পি.সি. পাবো কই? তাই এমনি রেকর্ডার এই রেকর্ড করা হয়েছিলো। রেকর্ডিংটা ইম্পোর্টেন্ট ছিলো, কারণ ওই টুং-টাং থেকেই ক্রিয়াটিভ কিছু বের হয়ে যেতো।

আবির ভাই ছিলেন সিভিলের। ইনিও ইস্পাহানিয়ান, গরম পাবলিক। এখন রিয়েল এস্ট্যাট ব্যবসায় বিজি। আরেক অদ্ভূত চিড়িয়া!! ছিলেন বাঁহাতি, নো প্রবলেম, ডানহাতি গিটারকেই উনার মতো ধরে নিয়ে, উনার সুবিধা মতো কর্ড ধরে বাজাতেন। পুরা ক্লাসিক্যাল গলা। ছোটকালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাইজ-টাইজ পাওয়া। কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম তো এখনো পেলে ধরে বেঁধে রেখে গান শুনেন। রাতের বেলা কারেন্ট গেলেই হলো, বিশালদেহী শরীর নিয়ে উদুম গায়ে ভ্যানের উপর বসে হেঁড়ে গলায় শুরু হয়ে যেতো উনার জলসা। পারতেনও!! টানা ঘন্টাখানেক!!! ~‘হ্যালো ঢাকা, আমার কথা......... শুনতে কি পাও তুমি?? হ্যালো ঢাকা’~~~
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

মিউজিক থেকে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে কি শিখলাম?? দেখি কিছু রিকল করতে পারি কি-না~

‘দোস্ত, আমার সাথে মিউজিক করতে হলে তোকে আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে’- গিটারের জ্যাক ঠিক করতে করতে রাজী-র বলা কথাটা ছিলো পুরোপুরি খটকা লাগার মতো। আজব তো! মিউজিকের সাথে ভালো মানুষের কি সম্পর্ক!! পরে বুঝলাম এর মাহাত্ম্য- কখনো কারো সামনে সো-অফ করা যাবেনা, কারো মিউজিক নকল করা যাবেনা, কখনো মিউজিক নিয়ে গর্ব করা যাবেনা। এই ছিলো তার সারমর্ম। ‘নে-শুরু কর- G-Bm-C-D-A#7~ ~ ~ …. … ’

রাজীর এই ভালো মানুষী ফলো করা ছিলো আর দশ জনের জন্য অনুকরণীয়। All fare in love, war (& exam hall)’‘ নিজেদের স্বার্থে এই মহৎ বাক্য আমরা একটু এডিট করে ক্যুইজের সময় ইধার-উধার এক আধটু তাকানো যায়েজ করে নিয়েছিলাম। কিন্তু রাজী এখানেও ছিলো একদম ক্লিন এন্ড ফেয়ার। আধা ইঞ্চি ঘাড় এদিক ওদিক হতো না!

মিউজিক ব্যাপারটা আসলে পুরোপুরি সাইন্টেফিক। কলেজে ফিজিক্স সেকেন্ড পার্টে খালি সাউন্ড নিয়েই একটা চাপ্টার ছিলো। ওখান থেকে কোন প্রশ্ন ফাইনালে আসতোও না, আসলেও কেউ আন্সারও করতো না, তাই কেউ পড়তোও না। কলেজে তো চাপ্টারটা ধরলোই না! মোজাম্মেল স্যার উনার ব্যাচে কিন্তু খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়িয়েছিলেন। আর কেউ পড়ুক না আমি পড়েছিলাম, টিউনিং ব্যাপারটা পুরোপুরি রেজোন্যান্স, ভাইব্রেন্সি আর ইকোর কারসাজি। খুব মজা পেয়েছিলাম বুঝতে পেরে। মিউজিক থেকে আমার এখনো এই বুঝার ব্যাপারটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ‘বি প্র্যাক্টিক্যাল এন্ড অ্যাকুরেইট’-ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই মেজর সেন্সটাও মনে হয় মিউজিক থেকেই পাওয়া। আর ফাস্ট টাইপিং স্পীডের প্রতি যে একটা ফেসিনেশন... দেখলেই মনে হতো মিউজিক্যাল কী-বোর্ডের উপর যেনো হাত উড়ে বেড়াচ্ছে!!

কলেজে থাকতে তো মোটামোটি ফ্রিক হয়ে গিয়েছিলাম। পড়ার স্টাইলটাও ছিলো অদ্ভূত। আধা ঘন্টা পড়ি তো দশ-পনেরো মিনিট মিউজিক। অবস্হা এমন ছিলো যেনো- স্লিপ মিউজিক, ইট মিউজিক, ড্রিঙ্ক মিউজিক, বাথ মিউজিক, ...... ব্লা ব্লা ব্লা এন্ড......... gf মিউজিক এক্সাম আসলে প্যাক করে খাটের নিচে। School of Rock নামেও একটা মুভি দেখছিলাম কদিন আগে। ম্যান, আই যাস্ট ফ্লাই ব্যাক টু দোস ডেজ। ব্যাপক মজা পাইলাম মুভিটা দেখে।

মাঝে মাথায় ঢুকেছিলো ‘ডিজিটাল টিউনার’ বানানোর পোকা। 2-2 তে মনে হয় তখন। প্রথমবারের মতো প্রোজেক্ট সাবমিশন। মাইক্রোকন্ট্রোলার/ অ্যাম্বেডেড সিস্টেম নিয়ে এমনিতেই আগ্রহ ছিলো। তেমন কিছু না। প্রত্যেক নোটের স্পেসেফিক ফ্রিকুয়েন্সি থাকে যেটা টিউনার থেকে অটোম্যাটিক সেন্স করে গিটারের তার লুজ না টাইট করতে হবে ইন্ডিকেটর লাইট দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই জিনিসের দামই বাজারে হাজার টাকা। ইচ্ছা ছিলো প্রজেক্ট হিসেবেই জমা দিব, আমার অসংখ্য হাফ-ডান প্রোজেক্টের মতো এটাও আলসেমি আর সময়াভাবে আর করা হয়নি।
+++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++


দেশের মধ্যে- জাহান, কমলের সলোগুলো ভালো লাগতো। ব্ল্যাক, ওয়ারফেজ, আর্টসেল এর একটা ক্রেজ আছে বলে না- ওদের লিডের মধ্যে একটা নিজস্ব স্বকীয়তা আছে তাই। আইয়্যুব চাচ্চু আনডাউটেডলি এই সাব কন্টিনেন্ট এর মধ্যে একজন বেস্ট। বাট, সে পুরোপুরি জোই সাট্রিয়ানির নকল। মাথার হ্যাট থেকে শুরু করে বডি ল্যাংগুয়েজ সবটুকুই। আমার তো মনে হয় সে বরং আনপ্লাগড এই অনেক বেশী জেনুইন। ফামী ভাইয়ের (বাংলা ব্যান্ডের কার্তিক ) হাত শুনেছিলাম গুলির মতো ছুটে । সামনা সামনি আর দেখা হয়ে উঠেনি। দীপন ভাইয়ের ক্লোজড ফ্রেন্ড। দুজনই ইস্পাহানীর। অবশ্য মিউজিক জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই ফাস্ট আর মেলোডি দুইটা দুই টার্মসে দেখি। দীপন ভাই, মাশফিক ভাইদের গানগুলার দু একটা তো জোশ!!
Renaissance (রেঁনেসা) খালি আমাদের গ্রামের বাড়ি সম্পৃক্ত সেজন্য না মেলোডী বিচারে সময়ই আলাদা। তাই বরাবরি পছন্দ। দেশের বাইরে স্ল্যাশ এর সলোগুলো ভালো লাগতো। তবে রবীন্দ্র- নজরুল সং এখনো মাস্টারপিস। এরকম সেকেন্ড আর কেও বানাতে পারবেনা... একরকম সিলসিলা বলতে পারেন। লিরিক্সের বস নিঃসন্দেহে- সুমন চ্যাটার্জী। সবশেষে ওস্তাদের ওস্তাদ- জন ডেনভার।

দেশের ইয়ং জেনারেশন মিউজিশিয়ানদের মধ্যে আরেকটা জিনিস দেখলাম- আগা থেকে গোড়া সব গাঞ্জুবেবী (গাঞ্জাখোর) !! OMG!! কি পরিমাণ এগুলো বলে বুঝানোর মতো না। ‘মাদককে না বলুন’ প্রোগ্রামে অনেক মাদকসেবী সেলিব্রিটিকে বিশেষ অতিথির আসনে দেখলে তো মেজাজই নষ্ট হয়ে যায়। তবে ব্যতিক্রম যে নাই তাও বলছিনা।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

মিউজিক যে সবসময় ভালো লাগে... তাও না। মাম্মি-ড্যাডি’র কিছু পোলাপান আছে রাস্তা দিয়ে বিশাল সাউন্ড ছেড়ে গাড়ি নিয়ে যাবে অথবা কানে এয়ারফোন লাগিয়ে মাথা ঝাঁকাতে থাকে সমানে যা দশ হাত দূর থেকেও শুনা যায়...... দেখলে মনে হয় থাবড়ায় কাপড় খুইল্যা নীল ডাউন করিয়ে রাখি। আজকালকার পোলাপানও এমন... তিনটা পোলা এক জায়গায় মানেই একটা ব্যান্ডদল ফর্ম হয়ে যায়। আর হিন্দি গানে কেনো যেনো আমার এ্যালার্জীটা বরাবরই। শুনলেই অটোম্যাটিক গা চুলকাতে থাকে। (এ.আর. রহমান এর কয়েকটা গান ছাড়া) আর লিম্প-বিজকিট, লিঙ্কিন পার্কের গান শুনলে তো আধা ঘন্টা পরে মাথার স্ক্রু চেঞ্জ করে আসতে হয়। হার্ড রক ব্যান্ডের ছবিওয়ালা টি শার্ট পরা, মাথা চুল রাঙ্গানো, হাতে চুরিওয়ালা বাঙ্গালী মিউজিশিয়ান গুলারে দেখলে বলতে ইচ্ছা হয়- “ভাই, কাউয়্যা (কাক) হয়ে ময়ূর হতে চান ক্যান??”

গান শুনার চেয়ে বরং কিছু গানের লিরিকসগুলো ভালো লাগতো। মজার কথা মনে পড়লো। বাংলা ২য় পত্রে তো প্রায় সময়ই ‘জনৈক মনীষী ওস্তাদের ওস্তাদ (আমার রিয়েল নামটা) বলেছেন’ বলে গানের লাইন চাঁপাঁ মেরে দিতাম। স্যার-ম্যাডামদের থেকে কেনো যেনো বরাবরই একটা আলাদা প্রশ্রয় পেয়ে এসেছি সবসময়। হাসি মুখে এক আধটু বকে দিতেন- এই যা!

ভার্সিটির প্রথম দিকেও আমার বেশ ইন্টারেস্ট ছিলো। নিউ মার্কেটের পাশে ‘মেলোডি’-র দোকানে দুদিন পরপর ঢুঁ মারতাম আর একস্টিক, ক্লাসিকাল গিটারের সাথে প্রসেসরের প্রাইজটা দেখতাম। মানিব্যাগে Peavey-র একটা পিক রাখতাম সবসময়। এই তো কদিন আগে বিকেলবেলা- নেটওয়ার্কিং ল্যাব ফাইনাল দিয়ে ৮তলার বারান্দায় দাঁড়িয়েছিলাম। নিচে দেখি এক ছেলে সিভিল/ টেক্সটাইল ডে-র প্রোগ্রামে স্টেজে বাজাচ্ছে ফগার মেশিনের ছাড়া ধোঁয়ার ভিতর- আইবানেজ মনে হলো দূর থেকে- সুইট চাইল্ড ও’ মাইন!!... গানস এন্ড রোজেস!! সামনে Rag day-র রঙ কালি মেখে ভূত কয়েকজন নাচানাচি করছে। পরে তাড়াতাড়ি দোতালার রেম্পে এসে দেখলাম। আইবানেজটা বাঁ উরুতে রাখা, ট্রিমোলোটা মুঠোতে রেখে, প্রসেসরের প্যাডেল থেকে কন্ট্রোল করছিলো। পুরোটাই বাজালো ছেলেটা, একটাও মিসটোন হয়নি! ওয়াও! আরে!! এসব বুঝার সমঝদার এখানে আছে?? রক অন!!
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

মিউজিক ইম্পেক্টটা আসলে অসাধারণ! মনে হয় যেনো- আই যাস্ট কাম অফ নাউ, ইয়েস! আই অ্যাম ইন মাইসেলফ!!
তবে এরকম অবসেসড হয়ে থাকাটা ইসলাম সাপোর্ট করে না। আমার বরাবরই মনে হতো এই একটা কাজ যার কোন ধরণের goal নাই। সারাক্ষণ মনে হতো – আরে! সব পোলাপান এসব করে সিম্পলি ক্যাম্পাসে কিছু বাক-বাকুম পায়রা অর চিকি থাকে, ওদের সামনে একটা পার্ট নেয়ার জন্য। আর না হয় বড়জোর বিয়ে বাড়িতে বাজিয়ে টু পিস কামানো। আরো হয়তো কারণ থাকতে পারে। আই ওয়াজ নেভার ইন্টারেস্টেড। টাইম পাসিং এর জন্য আরো অনেক বহুত জিনিস আছে। গিভ ইট আপ!! এনরিক ইগলিয়াস –এর ‘হিরো’ অর মেটালিকা-র ‘হিরো অফ দ্য ডে’ হওয়ার কোন দরকার নেই আমার। কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেয়া আর হয়নি।

রাজী বলতো – ‘দোস্ত, তুই খালি নিজের জন্য মিউজক করবি। এই মিউজিক সেন্সটা সবার মধ্যে থাকে না। ইউ স্যুড কেরি ইট আপ’।
আমি বলতাম- নোপ, আই স্যুড পে দিস টাইম সামহোয়ার এলস্।’
বাংগী- ম্যান, উই নিড টু ডু সামথিং ডিফারেন্ট!
মি- হ্যাঁ কর, সবাই তো ‘তুমি-তুমি’ করে গান গায়, ওগুলোর জায়গায় ‘আপনি-আপনি’ বসায় গান গাইলেই হলো! যা ফোট! বাক বাকুম টাইপের কোন লিরিক্স আমি লিখতে পারুম না।

ডিফারেন্ট কিছু যদি করতেই হয় তবে গ্রামের বাড়ি- চুনতী-র ঐতিহ্যবাহী গানগুলাই নতুন করে কম্পোজ করতাম। ফামী ভাইরাও (বাংলা ব্যান্ড) তো লালনের গানগুলাকেই নতুন মাত্রা দিয়েছেন। রাজীকেও বললাম, সেও খুব ইন্টারেস্টেড। কিন্তু আসল সমস্যা গানগুলার আগা মাথা সুর কিসুই জানিনা। আর ফোক গানগুলার সাথে এই জেনারেশন তেমন ইউজড টু না
অবশ্য এক্সপেরিমেন্টাল কিছু করা যেতে পারতো।

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++


ইসলাম মিউজিক সাপোর্ট করে কি-না তা নিয়ে অনেক কন্ট্রোভার্সিয়াল কথা বার্তা আছে। নেটেই কিছুদিন ঘাঁটাঘাঁটি করলাম। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম- যেটা নিয়ে কনফিউশন আছে, ওদিকে পা মাড়াবার দরকারটাই বা কি? মিউজিক করে লাভটা কি? বিটলসের জন লেনন ছাড়া বাকি কয়জনের নাম কয়জন বলতে পারবে? কে বলবে না যতবার আমরা গান শুনছি ততবার মৃত গায়কদের উপর আল্লাহ-র গজব হচ্ছে না?’ ঢাল তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ করার নাম জিহাদ না। ‘জিহাদ’ অর্থ- Strive/ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে চেষ্টা করা। নাহয় একটু জিহাদ প্র্যাক্টিসই করলাম আর মিউজিক প্র্যাক্টিস অফ রাখলাম।

আমি কখনো মিউজিকটা টাকা খরচ করে শিখতে চাইনি। যা শিখেছিলাম সব নিজে নিজেই। কাউকে শিখিয়ে ধান্দবাজিটা করাটাও আমার কাছে খটকা লাগতো। হালাল হবে তো টাকাটা?? তাই ওই পথে যাইওনি। স্রেফ এই একটা কারণে আমি কখনো কনসার্টেও যাইনি টাকা খরচ করে। সিডি ডিভিডি কিনার আগেও দশবার চিন্তা করতাম। আর এই ফ্রী দুনিয়ার যুগে টাকা খরচ করে কেনার মানেই তো বুঝিনা আমি।

ঘন্টার পর ঘন্টা ফ্রেটের এক মাথা থেকে ট্যাপিং প্র্যাক্টিস করতাম, এক স্কেল থেকে আরেক স্কেল, এক নোট থেকে আরেক……ফাটায় বাজাতাম। আর পাওয়ার কর্ডের রিফিংগুলা আলাদা সময় নিয়ে করতাম। নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয় আজ এতোদিন পর- ইস! খোদার কাছে কি জবাব দিব এই সময় গুলার?? Index finger made to declare an ace of our Supreme Being. How can I apply it elsewhere?স্কুলের ক্লাস পার্টি, কলেজের ফাংশনের ছবিগুলো দেখলে মাথার চুল ছিঁড়তে ইচ্ছে করে মাঝেমধ্যে। স্টিভ ভাই, মামস্টেন, এরিক ক্লেপটন এদের টিউটোরিয়াল নিয়ে পোস্ট দিলে এখন ১০০+ পোস্ট দেয়া যাবে। তাতে আমার লাভটা কি হবে শুনি??

= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

ডিজিটাল ঐশ্বর্য্যে ভরপূর এক যুগ পেয়েছি আমরা। আমার তো মনে হয় সওয়াল–জবাব আমাদের জন্য যে কোন সময়ের মানুষের চেয়ে আরো কঠিন হবে। কোরান তেলাওয়াত শুনার জন্য তো আর মসজিদে দৌড়াতে হয় না এখন আর! শুনতে শুনতে যদি হিন্দি- স্প্যানিশের মতো ভিনদেশী গান মুখস্হ হয়ে যেতে পারে তবে কেনো ছোট সূরা গুলো মুখস্হ হবে না?? মোবাইল, MP3 প্লেয়ারে দশটা গান রাখতে পারলে একটা সূরা তো অন্তত রাখা যায়।

লিরিক্সের ব্যাপারটা উঠলে আমার মনে হয় কাজী নজরুলের কথা। খালি এক হামদ-না’ত লিখার কারণেই তো মনে হয় বেহেশতে চালে যাবেন উনি। সেই কবেকার আমলের হামদ- না’ত-ই এখনো ব্যবহার হয়। হাল আমলের নব্য লেখক কবিদের জন্য তো এ এক বিরাট চ্যালেঞ্জ!! তবে এই পথে এখনকার কেউ চেষ্টা করেন বলেও মনে হয়না।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

মাঝে মধ্যেই ইচ্ছে করে আবার শুরু করি। আবার সামলে নিই- মনে পড়ে আবুল আ’লা মওদূদী- র বলা একটা কথা-
***সত্যে উপনীত হওয়ার আগে কতনা বই আমি পড়েছি। প্রাচীন, আধুনিক, দর্শন, বিজ্ঞান , অর্থনীতি, রাজনীতি প্রভৃতি বিষয়ে আলমারীকে আলমারী উজাড় করেছি। কিন্তু যখন চোখ খুলে কোরান পড়লাম, খোদার কসম তখন মনে হলো আগের সমস্ত পড়াই ছিলো নিস্ফল ব্যর্থ প্রয়াস। জ্ঞানের মূল সূত্র এখন আমার হাতের মুঠোয়। ক্যান্ট, হেগেল, নিটসে মার্কস সহ পৃথিবীর সমস্ত বড় বড় চিন্তাবিদ দার্শনিকদের এখন আমার কাছে শিশু মনে হয়। সারাজীবন তারা যেসব সমস্যা সমাধানের জন্য সাধনা গবেষণা করে বড় বড় গ্রন্হাবলী রচনা করে সেগুলি সমাধানে ব্যর্থ হয়েছেন, এই মহাগ্রন্হে একেকটি দু’দুটি বাক্যে সেগুলোর সমাধান রাখা আছে। এই আল-কুরআনই আমার প্রকৃত সহায়-শুভার্থী মহাগ্রন্হ।***

Gosh! I was so closed to be demolished!! Who knows for my sin my ancestors will not be penalized?? For being accused not to teach me the code of Islam perfectly. এই ভয়ে আর ধরা হয়ে উঠে না।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

অনেককে বলতে শুনেছি- ‘মিউজিক আর সিগার এই দুটো সাথে থাকলে মনে হয় সাথে কেউ যেনো আছে’ আমি বলি- ‘আমার সাথে তো সবসময়ই একজন থাকে!! ~ মাই ক্রিয়েটর। সো আই ডোন্ট নীড এলস্’

“And I believe tonight is the night that I decide
That I get busy living and I get ready to die
So that when the fateful day does come
When I’m six feet in the ground
The poor and the weak and t


৩৬টি মন্তব্য

  • ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৩০:৪৯

    When I’m six feet in the ground
    The poor and the weak and the orphan and meek will miss having me around


    When I pass I don’t want to leave a life of regret
    So I give rise to change today by trying not to forget
    Those pleasures do pass and sunrises end and stars do fade away
    But it’s love and it’s virtue and honor and truth that remain for all days”

    আরে!! কারিম সালামা-র লিরিক্স যে আমার কথা বলে!!
    = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

    আমার প্রথম মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্টটা ভাইয়া থেকে ফুটানো। আফ্রিকার জঙ্গলের প্যান্থারের মতো চকচকে কালো বডি-র উপর লেখা ‘Signature’। এখনকার যে কোন Signature এর সাথে পার্থক্যটা হাতে নিলেই অথবা পিক আপ দেখলেই বুঝা যায়। আজ বছর দেড়েকের বেশী হলো- মিউজিক ছাড়লাম। ওই ইন্সট্রুমেন্টটার নেক-টা ভাংগা, সব তার ছিঁড়া, পারমানেন্টলি প্যাক আপ করা। পি.সি. তে একটা রেকর্ডিং ও নাই। সব ডিলিট করে দিয়েছি। এখন বরং জেইন ভিখা, সামি ইউসুফ, কারিম সালামা, আহমেদ বুখাতির, ইসলামী নাশিদের গানগুলা বরং ভালো লাগে। কারিম সালামা খুব মিউজিক ইউজ করে, তারপরো গানের কথাগুলোতে ইসলামের অনেক মোরালিটি থাকে। এদিক থেকে জেইন ভিখাই বেস্ট। কোন মিউজিক নাই। শুধু হামিং আর হামিং (মুখ দিয়ে একসাথে কয়েকজন সিঙ্ক্রোনাইজড সাউন্ড করে)। আর সামি ইউসুফের ‘আসমা- আল্লাহ’ তো অসাধারণ!! গালিব ভাই বলেন- ওয়ার্কস লাইক ইউর সোলেস! ৬০-৭০ বছর বয়সে কখনো যদি মিউজিক করার ইচ্ছা জাগে আবার তাইলে হয়তো এরকম কিছুই করবো।

    ভুল থেকে যে শিক্ষা নেয়, তার মৃত্যু নাই- হাদীস। প্রথম পার্টটা টাইপ করার সময় অনেকবার ব্যাক স্পেস চেপে অনেক লেখা মুছে দিয়েছিলাম। আবার কি মনে করে সব রেখে দিলাম, হয়তো আমার ভুল থেকে আর কেও শোধরাতে পারে.........। হয়তো আর দশজনকে বলার জন্যই খোদা আমাকে ওই পথে নিয়েছিলেন। ‘কোন শ্রমই কখনো বৃথা যায়না’- প্রবাদ বাক্য কথাটাকে এখন আর খালি প্রবাদ বাক্য বলে মনে হচ্ছে না, ধ্রুব সত্য বলে মনে হচ্ছে।
    একটাই মাত্র জীবন, এটাও যদি এভাবে মিউজিকের পিছনে শেষ করে দিই??

    এই পুরা লেখা নিয়ে একটা কথাই বলতে চাই, ~ I write messages in hopes of helping someone. It may cause someone bother. But I know my omnipotent will be satisfied upon me if I can stop someone from doing a wrong deed with words. জানি আমার পুরা লেখার বিপরীতে অনেক কথাই বলা যাবে। But let me be alone with my thoughts………
    = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =

    পরিশেষে-
    অনেকেই বারবার জিজ্ঞেস করে – তুই মিউজিক ছাড়লি ক্যান?? তাদের প্রতি কিছু লিখার তাড়না থেকেই এদ্দূর লেখা। এখন থেকে এই লিঙ্কটা শেয়ার করলেই হবে। বলি বলি করেও আরো কিছু কথা শেয়ার করা হলো না...
    উৎসর্গ – রাজী-কে। এজ, উই বোথ লস্ট আওয়ার ইন্ট্রোডিউসার টু মিউজিক। :’(

  • ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৩২:২৫

    [আরেকটা সাইটে আমি অন্য একটা নামে লিখি রিপ্লাইগুলো ইংরেজীতে হলেও কিছুটা ইন্সপায়ারিং ছিলো। উৎসাহী কেউ থাকলে দেখতে পারেন-
    এখানে ]

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ২৩:১৬:৪৫

    এই লিঙ্কটা মনে হয় কেউ দেখেনি ভাগ্যিস!!

    ইঊসুফ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ২৩:৩১:৩৯

    আমি দেখছিলাম তো.. ঐ দিনই..

  • হে চয়ন বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৪৫:৩৪

    নতুন পথে যাত্রা হোক শুরু

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৪৬:৫০

    পড়ে না কি না পড়ে সবার আগে তাড়াহুড়ো করে মন্তব্য করলেন??

    হে চয়ন বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০২:০০:২৯

    ওস্তাদ আগের পার্টগুলো আগেই পড়া ছিল!!

  • রা‍‍‍ফিউল রাজী রিটন বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৪৭:৩০

    ফেভারিট পোস্ট হিসাবে রাখলাম। পড়ব।

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০১:৫৩:৩০

    অনেক ধন্যবাদ! আমিও রাখলাম।
    আমি লিখি কম, আর এটাইপ পোস্টের জন্য অনেক চিন্তা ভাবনাও করতে হয়।
    পড়ে মন্তব্য করলে খুশি হবো

  • সৌম্য বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০৩:৪০:০৬

    অদ্ভুত সুন্দর প্রাঞ্জল ভাষা।
    দারুন লিখছেম

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ১৫:৫৩:৪৪

    আমার ঘরে সৌম্যদা প্রথমবার!!
    আবার আসবেন

  • ফাতেমা আবেদীন নাজলা বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০৪:০০:৪৬

    শোন ইসলাম মিউজিক পারমিট করে কিনা এইটা নিয়ে কনফিজউড হয়ে মিউজিক করা ছেড়ে দিছ? মনে করতেছ আল্লাহ তোমাকর ছেড়ে যাবে? শয়তান মনে বাসা বাধবে? মৃত ব্যক্তিদের গান বার বার শুনে তাদের উপর গজব নাযিল করছ? হা হা আমি খুব খুব হাসলাম তোমার না হাজার হাজার মুসলমানের এই ধারণা শুনে।
    তোমরা ইসলামকে এখনো চিনতে পারো নাই। ইসলাম, কোরআন , মুহামমদ(সঃ) শুধু মুসলমানদের জন্য না,। পৃথিবীর সকল মানুষের। যে গ্রহন করবে সে মুসলমান হবে যে গ্রহন করবে না সে অবিশ্বাসী হবে। ইসলাম মুলত কি বলে জান তোমার যে কোন ভালো কাজকে আল্লাহ পুরস্কৃত করবে।তোমার একটা ভাল গান যদি একটা মানুষ কে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনে, একটা মানুষ কে দেশপ্রেম শেখায়, একজনকে একটা পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে? বোনকে শ্রদ্ধা , মাকে সম্মান ভাইকে আদর্শবান হতে শেখায় ? তুমি কি বলবা এই গান খারাপ? আর মিউজিকের কথা বলছ? কেও কি আমাকে দেখাতে পারবে ইসলামে সংগীত নিষেধ। ইসলাম অশ্লীলতা, আন্যায় পাপ নিষেধ। দিজেন্দ্রলালের "ধন ধান্য পুস্প ভরা "শুনলে তোমার কি মনে জানি না আমার মনে আমার দেশের চেয়ে কোন কিছু সেরা নাই।এই গান আমাকে দেশপ্রেম শিখাইছে। আর দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ। অনেক গান মানুষকে ভালোবাসতে শেখায়। তোমার একটা টিউন যদি একটা মানুষের মনে কোন ধরণের আনন্দ প্রদান করে তাকে কোন ভালো কাজে উৎসাহিত করে তোমার মৃত্যুর পর ও ঐ গান "সদকায় জারিয়া" হিসাবেই আল্লার কাছে বিবেচিত হবে। আল্লাহ বলেছেন তোমার মৃত্যুর পর তোমার সমস্ত নেক আমল তোমাকে সাহয্য করবে। নেক আমল মানে কি ? সারারাত নামায পড়া সারাদিন কোরআন পড়া? তাহলে এই আয়াতের কি গুরুত্ব------তোমরা নামাজ আদায় কর এর পর দুনিয়াতে ছড়িয়ে পড় তোমাদের রিজিক অন্বেষনের জন্য। আমাদের একমাত্র কাজ যদি জিহাদ হয় তাহলে আল্লাহ আমাদের তো পৃথিবীতে পাঠাতেন না। বেহেশতে এত চমৎকার সব উপহার আছে তার থেকে লোভ সামলাতে পারি কিনা তাই দেখতেন। জিহাদ মানে যে কোন ভালো কাজের জন্য লড়াই করে। যে ছোট বাচ্চাটার পড়তে ইচ্ছা করে না শুধুমাত্র তার বাবা মা কস্ট পাবে বলে মন দিয়ে পড়ে সেটাও তার জন্য জিহাদ। হাদিসে কুদসী পড়ছ- আল্লাহ কেয়মতের দিন তোমার কাছে আসবেন বলবেন আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম, তুমি আমাকে খাদ্য দাওনি, আমি অসুস্থ ছিলাম তুমি সেবা করনি। মানুষ বলবে ইয়া আল্লাহ আপনি কোথায় ছিলেন? --বলতে পারো আল্লাহ কোথায় ছিলেন ? আমাদের চারপাশে।
    কোরআন নিজে একটা বিশাল ছন্দ আর সুরের মহিমান্বিত। তুমি খুব খেয়াল করে পড়ে দেখতো কোর সুরায় ছন্দ নেই কোন সুরা সুর করে তেলাওয়াত করা যায় না। আল্লাহ নিজেই জানেন তার বান্দার খুব প্রিয় জিনিস সুর তাই পাখির কন্ঠে গান দিয়েছেন নদির পানির স্রোত কে মধুর করেছেন, রাতের বেলা বাতাস বয়ে যাওয়ার শব্দ কে সুরাপিত করেছেন। কোরআন কে এমন ভাবে নাযিল করেছেন যা তার বান্দাদের আকৃষ্ট করে। পৃথিবীতে এমন অনেক গ্রন্থ আছে যার কোন সুর নাই বলে আমরা আকৃষ্ট হই না। বেহেশতে সুর থাকবে। তবে পৃথিবীতে নয় কেন।
    তুমি আবার গান শুরু কর। ধর্মকে মানা ফরজ। কিন্তু ধর্মকে আনন্দহীন বর্ণহীন করে কঠোর কোন নিষেধাজ্ঞা বানিয়ে ফেলো না। ধর্ম তোমার আত্বশুদ্ধি তোমার বাধা নয়।গান গাইতে না পারার কস্ট তোমাকে কোনদিন একবারের জন্য ও যদি তোমাকে নাড়া দেয় সেইদিন তুমি জিহাদের দোহাই দিয়ে ধর্মকে দায়ী করবে। বলবে আমার এই প্রিয় কাজটার কথা ইসলামে এই কাজটার জন্য যদি কোন ভালো ফল থেকে থাকে সেটা অবশ্যই আল্লাহর কাছে গ্রহনীয়।
    অনেক বকরবকর করলাম। এটাকে শুধু পড়বে তোমার কাছে ভালো মনে হলে মনে রেখো মানতে হবে না। খারাপ কোন কিছু মনে হলে মুছে দিও মন্তব্যটা

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ১৫:৫৪:৪১

    বাপস!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!

    আজব ঢাকা বলেছেন ২০০৯/০৪/১৬ ১৫:২৪:৩২

    নাজলা আপার বক্তব্য ভালো লাগছে.........

  • ইঊসুফ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০৯:১৬:৪২

    আপনার পরিবর্তনকে স্বাগত জানাচ্ছি। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুন। আমাদের সকলকে সৎ ও সত্য পথের উপর অবিচল রাখুন আমীন।

    ইন্সট্রুমেন্ট ছাড়া দেশাত্মবোধক/নৈতকাসমৃদ্ধ/হামদ/নাত -এসবে কিন্তু বাধা নেই। আশা করি আপনার ভেতর থেকে ফের কোনো জেইন ভিখা/আহমাদ বুখাতির জেগে ওঠবে... কোনো দিন... কোনো সময়... হঠাৎ...

    যে কোনো পরিবর্তন খুব সহজ, কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন। আপনাকে ছোট একটা পরামর্শ দিই। তা হলো, সম্ভব হলে একজন ভালো শিক্ষক/ব্যক্তিকে আধ্যাত্মিক গুরু বানিয়ে নিবেন। (ওস্তাদের ওস্তাদ -এরও ওস্তাদ প্রয়োজন আছে ।) যিনি আপনার ভালো মন্দগুলো জানবেন, প্রয়োজনে মন্দগুলো শুধরে ভালো থাকার পরামর্শ দিবেন।

    আর আপনি তো বলেছেনই, "I write messages in hopes of helping someone. It may cause someone bother. But I know my omnipotent will be satisfied upon me if I can stop someone from doing a wrong deed with words." তো, কারো কিছু আর বলার থাকে না।

    আপনার সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করছি। অনেক ভালো থাকবেন। আমার, আপনার, সকল মুসলিমদের জন্য বেশি বেশি দু'আ করবেন।

  • টোকাই সিকদার বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০৯:৩৫:৪৭

    ‍িনর্দোষ গানে পাপ নেই

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ২৩:১৭:২৯

    মানি। লিখেছিও তা।

  • আনন্দময়ী বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ০৯:৪৮:৪১

    লেখাটা চিন্তা করে দেখবার মত।

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ২৩:১৫:৪২

    চিন্তা করতে থাকেন। শেষ হলে আবার মন্তব্য করবেন।

  • সুজন বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ১৫:৫৫:২২

    শেষ হয়ে গেল।

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৩ ২৩:১৬:১৬

    আরে শেষ না!! শুরু!!
    আরেকটা সিরিজ শুরু করব চিন্তা করছি।

  • রা‍‍‍ফিউল রাজী রিটন বলেছেন ২০০৯/০৪/১৪ ০০:২২:১৩

    প্রথমেই বলি, ঝাক্কাস লেখা!!

    পুরো বিষয়টির প্রতিক্রিয়া হিসাবে বলছি- আমি আপনার গালিব ভাইকে সমর্থন করি, - ওয়ার্কস লাইক ইউর সোলেস!

    তবে আমি বিশ্বাস করি জিহাদের ভাষা হিসাবে সংগীতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কিছু হতে পারে না। প্রসঙ্গত একটা কথা, একদিন টিভিতে এক ইসলামী অনূষ্ঠানে একটা হাদিস উদ্ধৃত হতে শুনলাম, সেটা মোটামুটি এই রকম- নবিজি বললেন, ’কে সেই রকম( ভাল বা মহৎ) গান গায়, তাকে আমার সামনে আনো, আমি তার মূখদর্শন করে আনন্দ লাভ করি।’

    আমি আমার আরও একটা বিশ্বাস এবং প্রত্যয় ব্যক্ত করে যেতে চাই আজ আপনার কাছে, একদিন গানের কাছে আবার ফিরে আসবেন আপনি। আপনার জন্য, মানুষের জন্য এবং একটা মহৎ বিপ্লবের প্রয়োজনে।

    কুরআন খুঁজে নিবে আপনাকে সময়ের প্রয়োজনে। যাও গান দেখি কারা এই গান গায়, বোমা নয় সব্বাই যেন খেতে পায়।

    আপনার জীবন সুন্দর হোক। আমার শুভকামনা সঙ্গে রইল।

  • শাহরিনা রহমান বলেছেন ২০০৯/০৪/১৪ ০২:১১:১০

    পরে পড়বো।

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৬ ০৬:৫০:১৩

    অনেক ধন্যবাদ লিটেল প্রিন্সেস, ফেভারিটে রাখার জন্য। অন্যদেরকে কি রিপ্লাই দিব দুদিন চিন্তা করেও বুঝছিনা।

  • আফরোজ বলেছেন ২০০৯/০৪/১৭ ০৯:২০:১৮

    আমি মিউজিক না ছাড়ার পক্ষে..

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২৩:০৮:০৯

    আমি তো পরে শুরু করার চান্স আছে বলেছি পড়ালেখা শেষ হোক। তারপর চিন্তা করবো।

  • নাসরীন জুবায়ের বলেছেন ২০০৯/০৪/১৮ ০১:২৫:১৭

    তুমি কি ইসলামের অন্যসব নিদে`শ গুলো মেনে চলো? গান কে ইবাদত মনে করো না কেন? বা এটা তোমার পেশা হতে পারে,

  • কারিম ভাই বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২২:৫৩:২৬

    উস্তাদ, সত্যিই চমৎকার লেখছ । পড়ে মনে হইলো কোন মহা খ্যাতিমান ব্যাক্তির আত্নজীবনি পড়ছি

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২২:৫৮:২৯

    অটোগ্রাফ এখনো ফ্রী!! আর কয়েক বছর পর আর থাকবে না!!

    কারিম ভাই বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২২:৫৯:৫২

    হে..হে... আগে জানলে নগদে নিয়া নিতাম । সত্যিই খুব ভালো লেখছ

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২৩:০৬:১৯

    অনেক ধন্যবাদ। আপনার মেইল আই ডি টা নাই।
    কয়েক জন ব্লগারকে গান সেন্ড করেছি। আপনাকেও দিতে পারতাম।

    কারিম ভাই বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২৩:১৯:৪৬

    মেইল কইরা দাও @
    ricoh22bd@ইয়াহু.কম

  • কারিম ভাই বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২২:৫৮:৩০

    লেখাটা পড়ে ৮/১০ বছর আগে চলে গেলাম । আমার এক বন্ধু মিউজিক করত, ব্যাস কাজ হয়ে গেল । আমরা ৪ বন্ধু মিলে ব্যান্ড গঠন ফেললাম । কিছুদিন একষ্টিকে টুংটাং দেন ব্যান্ড পর্ব শেষ

    ওস্তাদের ওস্তাদ বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২৩:০২:১৩

    চলে আসেন একদিন, জ্যামিং এ বসবো। ব্যাপার না, চিল্লাতে পারলেই হবে। বাজাবে তো কম্পিউটার।
    আর নাচার লোকের আশা করি অভাব হবে না।

    কারিম ভাই বলেছেন ২০০৯/০৪/২৪ ২৩:১৭:৪৩

  • মহিষ পালক বলেছেন ২০০৯/০৫/০৩ ০৫:০৬:৩৫

    নাজলা আপা যা বলেছেন শুনে তা ভালোলাগল ।.. যাই হোক অনেকে যারা ইসলাম নিয়ে নানা মন্তব্য করতে পারদর্শী তারা কন্ঠ এবং যন্ত্র -এই দুটি থেকে উচ্চারিত সূর-সঙ্গীতকে আলাদা করে দেখতে চান, কারন হিসেবে তারা বলেন কুর'আন এবং হাদীসে যার উল্লেখ নাই তা তারা অনিশ্চয়তার কারণে করতে পারবে না। আমি এই যুক্তির সাথে একমত নই। বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান-প্রযুক্তি যে পর্যায়ে গেছে তাতে আমরা এখন অনেক কিছুই করি যা কুর'আন ও হাদিসে নেই।

    আর একজন মাল্টি ইন্সট্রুমেন্টালিস্ট এবং মিউজিক কম্পোজার হিসেবে -আমি কন্ঠকে শুধু একটি জৈবিক সূরযন্ত্র বলতে চাই।.. প্রকৃত সঙ্গীত চর্চার মধ্যে এত জ্ঞানের সাধনা আছে যা ওই সাধারণ মানুষের পক্ষে বুঝা সম্ভব না । কয়েকটি সূরা আর হাদীসের জ্ঞান নিয়ে সরাসরি সঙ্গীতকে আক্রমণ করা যায় না, যেমনটি যায়না অন্য যে কোন জ্ঞানের শাখাকে । মনে রাখবেন কথার পিঠে কথা বলতে পারা কখনই প্রমাণ করে না যে আপনি জ্ঞানী , বরং প্রমাণ করে আপনি একটা মূর্খ ।



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫