আমার মিউজিকবেলা -১
১
আমার মিউজিক বেলা। হুমম... শুরুটা হয়েছিলো অনেক তাড়াতাড়ি-ই। স্পেসিফিকলি ক্লাস ৮- এর শেষের দিকে। বোরহান চাচুর জাম্বো ফ্রেটের গিটারটাও ছিলো মরা মার্কা। হাওয়াইয়ান গিটারের মতো ফ্রেটের এক ইঞ্চি উপরে তার। কতক্ষণ বাজালেই হাত লাল হয়ে যেতো। বাসা থেকে বরাবরি ঠ্যাংগানির উপর রাখা হতো। মিউজিক নেভার পারমিটেড। ‘শিশু একাডেমী’ তে যেতাম ক্লাস থ্রী-ফোরে। মিউজিক না, আঁকিবুঁকি শিখতে। ক্লাস শেষ হলে অথবা ক্লাসের ফাঁকেই মিউজিক সেকশনে চলে যেতাম। ‘নভেম্বর রেইন’এর মিউজিক ভিডিও তে ধুলোর উপর বাজানো স্লেশের সলোটা দেখলেই মাথা খারাপ হয়ে যেতো। ইস! এরকম ঝাকানাকা একটা সলো বাজাতে পারলে জীবনটাই সার্থক হয়ে যেতো! আরেকটু হাত পাকার পর মনে হলো – ‘আরে ধুর! এরকম লিড বাজানো কিস্যু না! দেখে দেখে একটা বাচ্চা ছেলেও বাজাতে পারবে। আসলে মাথা খাটিয়ে কম্পোজ করাটাই আসল’।
সলো ভালো লাগতো আর ভালো লাগতো প্লাকিং। কোন গানের ইন্ট্রোটা প্লাকিং-এ হলেই তুলে ফেলতাম। আজ এতোদিন পর মনে হয় আমি খুব লাকি ওই সময় ‘ইউটিউব’ ছিলো না। নাইলে আর দেখতে হতো না......... কর্ড প্রগ্রেসন আর ট্যাবের ভুরি ভুরি টিউটোরিয়াল নিয়েই জীবন শেষ হয়ে যেতো! ভার্সিটিতে আসার পর রাজী থেকে দেখলাম- দাঁত দিয়ে বাজানো, ঘাড়ের পিছনে নিয়ে বাজানো এসব আসলে সব স্টেজ সো! কোন ব্যাপার-ই না। একটু সো-অফ আর তাতেই দর্শকরা ক্রেজী হয়ে যায়।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =
রাজী আমার ভার্সিটি লাইফের খুব ক্লোজড একজন ফ্রেন্ড। একটু পাগলা বলে ওর সাথে কেউ ল্যাব করতে চাইতো না। প্রথম টার্ম ছাড়া বাকি সব টার্মই আমরা একসাথে ল্যাব করেছি। ইলেক্ট্রিক্যাল- ক্রেইজি সাবজেক্ট। একটু ভালো রেজাল্ট থাকলেই তাই সবাই সবাই এটাতেই ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু বন্ধু রাজী ভর্তি হলো ডেডিকেটেডলি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য!! কেইট ওয়াক, এডোবি ইক্যুলাইজার, গিটার প্রো সহ আরো কত কত সফটওয়্যার নিয়ে পড়ে থাকে দিনরাত।
আর ছিলো বাংগী। বাংগী (নামটা বিখাউজ পোলাপানের দেয়া, আসল নাম-তানজীল, তবে আসল নামটাই এখন বিস্মৃতপ্রায়) ন্যাংটু কালের ফ্রেন্ড। সেন্ট মেরীস টু ভার্সিটি। আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা বরাবরি ভালো। রাজী যোগ হওয়ায় একেবারে সোনায় সোহাগা। মাঝেমধ্যে জ্যামিং-এ বসতাম। পালা করে বেস আর লিড বাজাতাম। তবে রাজী -র যে কোন সলো-ই ছিলো স্পেশাল। বাংগীও এখন অনেক ইম্প্রুভড। রেকর্ড করা হতো হেডফোনের মাউথপিস দিয়ে। প্র্যাক্টিস প্যাডে আর পি.সি. পাবো কই? তাই এমনি রেকর্ডার এই রেকর্ড করা হয়েছিলো। রেকর্ডিংটা ইম্পোর্টেন্ট ছিলো, কারণ ওই টুং-টাং থেকেই ক্রিয়াটিভ কিছু বের হয়ে যেতো।
আবির ভাই ছিলেন সিভিলের। ইনিও ইস্পাহানিয়ান, গরম পাবলিক। এখন রিয়েল এস্ট্যাট ব্যবসায় বিজি। আরেক অদ্ভূত চিড়িয়া!! ছিলেন বাঁহাতি, নো প্রবলেম, ডানহাতি গিটারকেই উনার মতো ধরে নিয়ে, উনার সুবিধা মতো কর্ড ধরে বাজাতেন। পুরা ক্লাসিক্যাল গলা। ছোটকালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাইজ-টাইজ পাওয়া। কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম তো এখনো পেলে ধরে বেঁধে রেখে গান শুনেন। রাতের বেলা কারেন্ট গেলেই হলো, বিশালদেহী শরীর নিয়ে উদুম গায়ে ভ্যানের উপর বসে হেঁড়ে গলায় শুরু হয়ে যেতো উনার জলসা। পারতেনও!! টানা ঘন্টাখানেক!!! ~‘হ্যালো ঢাকা, আমার কথা......... শুনতে কি পাও তুমি?? হ্যালো ঢাকা’~~~
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =
মিউজিক থেকে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে কি শিখলাম?? দেখি কিছু রিকল করতে পারি কি-না~
‘দোস্ত, আমার সাথে মিউজিক করতে হলে তোকে আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে’- গিটারের জ্যাক ঠিক করতে করতে রাজী-র বলা কথাটা ছিলো পুরোপুরি খটকা লাগার মতো। আজব তো! মিউজিকের সাথে ভালো মানুষের কি সম্পর্ক!! পরে বুঝলাম এর মাহাত্ম্য- কখনো কারো সামনে সো-অফ করা যাবেনা, কারো মিউজিক নকল করা যাবেনা, কখনো মিউজিক নিয়ে গর্ব করা যাবেনা। এই ছিলো তার সারমর্ম। ‘নে-শুরু কর- G-Bm-C-D-A#7~ ~ ~ …. … ’
রাজীর এই ভালো মানুষী ফলো করা ছিলো আর দশ জনের জন্য অনুকরণীয়। All fare in love, war (& exam hall)’‘ নিজেদের স্বার্থে এই মহৎ বাক্য আমরা একটু এডিট করে ক্যুইজের সময় ইধার-উধার এক আধটু তাকানো যায়েজ করে নিয়েছিলাম। কিন্তু রাজী এখানেও ছিলো একদম ক্লিন এন্ড ফেয়ার। আধা ইঞ্চি ঘাড় এদিক ওদিক হতো না!
মিউজিক ব্যাপারটা আসলে পুরোপুরি সাইন্টেফিক। কলেজে ফিজিক্স সেকেন্ড পার্টে খালি সাউন্ড নিয়েই একটা চাপ্টার ছিলো। ওখান থেকে কোন প্রশ্ন ফাইনালে আসতোও না, আসলেও কেউ আন্সারও করতো না, তাই কেউ পড়তোও না। কলেজে তো চাপ্টারটা ধরলোই না! মোজাম্মেল স্যার উনার ব্যাচে কিন্তু খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়িয়েছিলেন। আর কেউ পড়ুক না আমি পড়েছিলাম, টিউনিং ব্যাপারটা পুরোপুরি রেজোন্যান্স, ভাইব্রেন্সি আর ইকোর কারসাজি। খুব মজা পেয়েছিলাম বুঝতে পেরে। মিউজিক থেকে আমার এখনো এই বুঝার ব্যাপারটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ‘বি প্র্যাক্টিক্যাল এন্ড অ্যাকুরেইট’-ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই মেজর সেন্সটাও মনে হয় মিউজিক থেকেই পাওয়া। আর ফাস্ট টাইপিং স্পীডের প্রতি যে একটা ফেসিনেশন... দেখলেই মনে হতো মিউজিক্যাল কী-বোর্ডের উপর যেনো হাত উড়ে বেড়াচ্ছে!!
কলেজে থাকতে তো মোটামোটি ফ্রিক হয়ে গিয়েছিলাম। পড়ার স্টাইলটাও ছিলো অদ্ভূত। আধা ঘন্টা পড়ি তো দশ-পনেরো মিনিট মিউজিক। অবস্হা এমন ছিলো যেনো- স্লিপ মিউজিক, ইট মিউজিক, ড্রিঙ্ক মিউজিক, বাথ মিউজিক, ...... ব্লা ব্লা ব্লা এন্ড......... gf মিউজিক
এক্সাম আসলে প্যাক করে খাটের নিচে। School of Rock নামেও একটা মুভি দেখছিলাম কদিন আগে। ম্যান, আই যাস্ট ফ্লাই ব্যাক টু দোস ডেজ। ব্যাপক মজা পাইলাম মুভিটা দেখে।
মাঝে মাথায় ঢুকেছিলো ‘ডিজিটাল টিউনার’ বানানোর পোকা। 2-2 তে মনে হয় তখন। প্রথমবারের মতো প্রোজেক্ট সাবমিশন। মাইক্রোকন্ট্রোলার/ অ্যাম্বেডেড সিস্টেম নিয়ে এমনিতেই আগ্রহ ছিলো। তেমন কিছু না। প্রত্যেক নোটের স্পেসেফিক ফ্রিকুয়েন্সি থাকে যেটা টিউনার থেকে অটোম্যাটিক সেন্স করে গিটারের তার লুজ না টাইট করতে হবে ইন্ডিকেটর লাইট দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই জিনিসের দামই বাজারে হাজার টাকা। ইচ্ছা ছিলো প্রজেক্ট হিসেবেই জমা দিব, আমার অসংখ্য হাফ-ডান প্রোজেক্টের মতো এটাও আলসেমি আর সময়াভাবে আর করা হয়নি।
[চলবে]
আমার মিউজিক বেলা। হুমম... শুরুটা হয়েছিলো অনেক তাড়াতাড়ি-ই। স্পেসিফিকলি ক্লাস ৮- এর শেষের দিকে। বোরহান চাচুর জাম্বো ফ্রেটের গিটারটাও ছিলো মরা মার্কা। হাওয়াইয়ান গিটারের মতো ফ্রেটের এক ইঞ্চি উপরে তার। কতক্ষণ বাজালেই হাত লাল হয়ে যেতো। বাসা থেকে বরাবরি ঠ্যাংগানির উপর রাখা হতো। মিউজিক নেভার পারমিটেড। ‘শিশু একাডেমী’ তে যেতাম ক্লাস থ্রী-ফোরে। মিউজিক না, আঁকিবুঁকি শিখতে। ক্লাস শেষ হলে অথবা ক্লাসের ফাঁকেই মিউজিক সেকশনে চলে যেতাম। ‘নভেম্বর রেইন’এর মিউজিক ভিডিও তে ধুলোর উপর বাজানো স্লেশের সলোটা দেখলেই মাথা খারাপ হয়ে যেতো। ইস! এরকম ঝাকানাকা একটা সলো বাজাতে পারলে জীবনটাই সার্থক হয়ে যেতো! আরেকটু হাত পাকার পর মনে হলো – ‘আরে ধুর! এরকম লিড বাজানো কিস্যু না! দেখে দেখে একটা বাচ্চা ছেলেও বাজাতে পারবে। আসলে মাথা খাটিয়ে কম্পোজ করাটাই আসল’।
সলো ভালো লাগতো আর ভালো লাগতো প্লাকিং। কোন গানের ইন্ট্রোটা প্লাকিং-এ হলেই তুলে ফেলতাম। আজ এতোদিন পর মনে হয় আমি খুব লাকি ওই সময় ‘ইউটিউব’ ছিলো না। নাইলে আর দেখতে হতো না......... কর্ড প্রগ্রেসন আর ট্যাবের ভুরি ভুরি টিউটোরিয়াল নিয়েই জীবন শেষ হয়ে যেতো! ভার্সিটিতে আসার পর রাজী থেকে দেখলাম- দাঁত দিয়ে বাজানো, ঘাড়ের পিছনে নিয়ে বাজানো এসব আসলে সব স্টেজ সো! কোন ব্যাপার-ই না। একটু সো-অফ আর তাতেই দর্শকরা ক্রেজী হয়ে যায়।
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =
রাজী আমার ভার্সিটি লাইফের খুব ক্লোজড একজন ফ্রেন্ড। একটু পাগলা বলে ওর সাথে কেউ ল্যাব করতে চাইতো না। প্রথম টার্ম ছাড়া বাকি সব টার্মই আমরা একসাথে ল্যাব করেছি। ইলেক্ট্রিক্যাল- ক্রেইজি সাবজেক্ট। একটু ভালো রেজাল্ট থাকলেই তাই সবাই সবাই এটাতেই ভর্তি হয়ে যায়। কিন্তু বন্ধু রাজী ভর্তি হলো ডেডিকেটেডলি সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার জন্য!! কেইট ওয়াক, এডোবি ইক্যুলাইজার, গিটার প্রো সহ আরো কত কত সফটওয়্যার নিয়ে পড়ে থাকে দিনরাত।
আর ছিলো বাংগী। বাংগী (নামটা বিখাউজ পোলাপানের দেয়া, আসল নাম-তানজীল, তবে আসল নামটাই এখন বিস্মৃতপ্রায়) ন্যাংটু কালের ফ্রেন্ড। সেন্ট মেরীস টু ভার্সিটি। আমাদের আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা বরাবরি ভালো। রাজী যোগ হওয়ায় একেবারে সোনায় সোহাগা। মাঝেমধ্যে জ্যামিং-এ বসতাম। পালা করে বেস আর লিড বাজাতাম। তবে রাজী -র যে কোন সলো-ই ছিলো স্পেশাল। বাংগীও এখন অনেক ইম্প্রুভড। রেকর্ড করা হতো হেডফোনের মাউথপিস দিয়ে। প্র্যাক্টিস প্যাডে আর পি.সি. পাবো কই? তাই এমনি রেকর্ডার এই রেকর্ড করা হয়েছিলো। রেকর্ডিংটা ইম্পোর্টেন্ট ছিলো, কারণ ওই টুং-টাং থেকেই ক্রিয়াটিভ কিছু বের হয়ে যেতো।
আবির ভাই ছিলেন সিভিলের। ইনিও ইস্পাহানিয়ান, গরম পাবলিক। এখন রিয়েল এস্ট্যাট ব্যবসায় বিজি। আরেক অদ্ভূত চিড়িয়া!! ছিলেন বাঁহাতি, নো প্রবলেম, ডানহাতি গিটারকেই উনার মতো ধরে নিয়ে, উনার সুবিধা মতো কর্ড ধরে বাজাতেন। পুরা ক্লাসিক্যাল গলা। ছোটকালে জাতীয় পর্যায়ে প্রাইজ-টাইজ পাওয়া। কলেজের প্রিন্সিপ্যাল ম্যাডাম তো এখনো পেলে ধরে বেঁধে রেখে গান শুনেন। রাতের বেলা কারেন্ট গেলেই হলো, বিশালদেহী শরীর নিয়ে উদুম গায়ে ভ্যানের উপর বসে হেঁড়ে গলায় শুরু হয়ে যেতো উনার জলসা। পারতেনও!! টানা ঘন্টাখানেক!!! ~‘হ্যালো ঢাকা, আমার কথা......... শুনতে কি পাও তুমি?? হ্যালো ঢাকা’~~~
= = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = = =
মিউজিক থেকে প্র্যাক্টিক্যাল লাইফে কি শিখলাম?? দেখি কিছু রিকল করতে পারি কি-না~
‘দোস্ত, আমার সাথে মিউজিক করতে হলে তোকে আগে একজন ভালো মানুষ হতে হবে’- গিটারের জ্যাক ঠিক করতে করতে রাজী-র বলা কথাটা ছিলো পুরোপুরি খটকা লাগার মতো। আজব তো! মিউজিকের সাথে ভালো মানুষের কি সম্পর্ক!! পরে বুঝলাম এর মাহাত্ম্য- কখনো কারো সামনে সো-অফ করা যাবেনা, কারো মিউজিক নকল করা যাবেনা, কখনো মিউজিক নিয়ে গর্ব করা যাবেনা। এই ছিলো তার সারমর্ম। ‘নে-শুরু কর- G-Bm-C-D-A#7~ ~ ~ …. … ’
রাজীর এই ভালো মানুষী ফলো করা ছিলো আর দশ জনের জন্য অনুকরণীয়। All fare in love, war (& exam hall)’‘ নিজেদের স্বার্থে এই মহৎ বাক্য আমরা একটু এডিট করে ক্যুইজের সময় ইধার-উধার এক আধটু তাকানো যায়েজ করে নিয়েছিলাম। কিন্তু রাজী এখানেও ছিলো একদম ক্লিন এন্ড ফেয়ার। আধা ইঞ্চি ঘাড় এদিক ওদিক হতো না!
মিউজিক ব্যাপারটা আসলে পুরোপুরি সাইন্টেফিক। কলেজে ফিজিক্স সেকেন্ড পার্টে খালি সাউন্ড নিয়েই একটা চাপ্টার ছিলো। ওখান থেকে কোন প্রশ্ন ফাইনালে আসতোও না, আসলেও কেউ আন্সারও করতো না, তাই কেউ পড়তোও না। কলেজে তো চাপ্টারটা ধরলোই না! মোজাম্মেল স্যার উনার ব্যাচে কিন্তু খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়িয়েছিলেন। আর কেউ পড়ুক না আমি পড়েছিলাম, টিউনিং ব্যাপারটা পুরোপুরি রেজোন্যান্স, ভাইব্রেন্সি আর ইকোর কারসাজি। খুব মজা পেয়েছিলাম বুঝতে পেরে। মিউজিক থেকে আমার এখনো এই বুঝার ব্যাপারটাই মনে হয় সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ‘বি প্র্যাক্টিক্যাল এন্ড অ্যাকুরেইট’-ইঞ্জিনিয়ারিং এর এই মেজর সেন্সটাও মনে হয় মিউজিক থেকেই পাওয়া। আর ফাস্ট টাইপিং স্পীডের প্রতি যে একটা ফেসিনেশন... দেখলেই মনে হতো মিউজিক্যাল কী-বোর্ডের উপর যেনো হাত উড়ে বেড়াচ্ছে!!
কলেজে থাকতে তো মোটামোটি ফ্রিক হয়ে গিয়েছিলাম। পড়ার স্টাইলটাও ছিলো অদ্ভূত। আধা ঘন্টা পড়ি তো দশ-পনেরো মিনিট মিউজিক। অবস্হা এমন ছিলো যেনো- স্লিপ মিউজিক, ইট মিউজিক, ড্রিঙ্ক মিউজিক, বাথ মিউজিক, ...... ব্লা ব্লা ব্লা এন্ড......... gf মিউজিক
মাঝে মাথায় ঢুকেছিলো ‘ডিজিটাল টিউনার’ বানানোর পোকা। 2-2 তে মনে হয় তখন। প্রথমবারের মতো প্রোজেক্ট সাবমিশন। মাইক্রোকন্ট্রোলার/ অ্যাম্বেডেড সিস্টেম নিয়ে এমনিতেই আগ্রহ ছিলো। তেমন কিছু না। প্রত্যেক নোটের স্পেসেফিক ফ্রিকুয়েন্সি থাকে যেটা টিউনার থেকে অটোম্যাটিক সেন্স করে গিটারের তার লুজ না টাইট করতে হবে ইন্ডিকেটর লাইট দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এই জিনিসের দামই বাজারে হাজার টাকা। ইচ্ছা ছিলো প্রজেক্ট হিসেবেই জমা দিব, আমার অসংখ্য হাফ-ডান প্রোজেক্টের মতো এটাও আলসেমি আর সময়াভাবে আর করা হয়নি।
[চলবে]
লেখক ওস্তাদের ওস্তাদ
- ওস্তাদের ওস্তাদ -এর ব্লগ
- ২৫ টি মন্তব্য
- ১০ এপ্রিল ২০০৯, ১০:৪৫
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ২৫ টি মন্তব্য
-
মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ সৌরভ১১ এপ্রিল ২০০৯, ০২:৩৮
বস, আপনি দোহা ছিলেন তাই না। আপনার বাবা কি এখনো ফান্টাসে আছেন? আপনি একবার ওটার ছবি চেয়েছিলেন, নেটে খুঁজে তেমন ক্লোজ আপ ছবি ছবি না পেয়ে আমার ডায়েরির পাতা ছিঁড়ে স্কেন করে আপনার জন্য একটা ছবি দিচ্ছি----
-
মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ সৌরভ১২ এপ্রিল ২০০৯, ০১:৪৯
ওখানে অনেক কিছুই চেন্জ হয়ে গেছে। আপনাদের বাড়ি কোন এলাকায়?
চট্টগ্রাম আসলে বলবো, তবে এ বছর আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ
ধন্যবাদ আপনাকে
-
মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ সৌরভ১২ এপ্রিল ২০০৯, ০২:৪৫
আমি মুগলিনা শিয়া মসজিদের ওদিকে ছিলাম ১ বছর, আবু বকর মসজিদের পাশে ছিলাম ৩ মাস। এখন সালাতা থাকি, সানা রাউন্ডেবাউটের পাশের ব্লকে। ২০০৫ এ প্রথম আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত অনেক দ্রুত দোহাকে চেন্জ হতে দেখেছি।
-
আনন্দময়ী১১ এপ্রিল ২০০৯, ০৮:১৫
ওস্তাদ আমারে কবে গান শুনাইবা সেইটা কও, এত কথা জানি না। লেখা পড়েই খুব ভাল লাগছে। গান শুনতে আরো ভাল লাগবে জানি।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক