ছবি ঘর থেকে লেখা-রানা ও মাইক্রোসফট
আর কিছুক্ষণ পরেই জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে ল্যান্ড করতে যাচ্ছে রানা। প্লেনের জানালা দিযে নিচে বিসতৃত সিটিলাইন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে । প্রচন্ড ব্যস্ত এক দেশের ব্যস্ত এক শহর প্লেনের নিচে। হাইরাইজ বিন্ডিংয়ের আলো যেন সব এক সাথে জ্বলে আছে। অথচ মাত্র কিছুদিন আগেও রানা ছিল পুরনো ঢাকার এক অলস পাড়ার বাসিন্দা। তবে সেখানকার অন্য দশজন তরুণের থেকে ওর কৈশোর ছিল ভিন্ন।কম্পিউটরে অনেক আড়েই হাতে খড়ি হয়েছিল রানার । টুকটাকে প্রোগ্রামিং করতে করতে এক সময় ঢাকার বেশ বড় বড় একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে চাকুরিও নিয়ে নেই। এর মধ্যে প্রকোশল বিশ্ববিদ্যায়ে প্রবেশ করে আন্ডার গ্রাজুয়েশন শেষ করে প্রকোশল বিশ্ববিদ্যাযের দারুন ব্যস্ত লেখাপড়া শিডিউলে একটা পরিক্ষা পরে বেশ বড় বড় বন্ধে চাকুরি আর প্রোগ্রামিং দুটোই চালিয়ে যাচ্ছিল রানা। অনেক গভির রাত প্রর্য়ন্ত ইন্টারনেটে প্রোগ্রামিং নিয়ে তৈরি ভাল ভাল ওয়েব সাইট গুলিতে ঘুরে বেড়ানো রানার একটা অভ্যাসে পরিনত হয়েছিল । তুলনামুলক একটা স্লো ইন্টানেট কানেকশন থাকার কারনে ওয়েবসাইট লোড হওয়ার সময় ইন্সট্যান্ট মেসেজিংয়ে বন্দুদের সাথে আড্ডা চালাত। একদিন হঠাৎ করে এম এস এন ইন্সট্যান্ট মেসেঞ্জার ই মেইল এড্রেস এড করে রানা ।
এম এস এ- এ । বিল গেইস আসলেই মেসেঞ্জার আসে কিনা, নইলে বিল গেটস নামে যদি অন্য কেউ থাকে তবে তার সাতে একটু আলাপ করার কৌতূহল থেকে এড্রেসগুলো মেসেঞ্জার এড করে থাকে রানা।
billgates@ hotmail.com.
illgatesb@msn.com.
bill-gates@hotmail.com.
bill-gates@msn.com.
এরকম বেশ কিছু এড্রেস যোগ করে রাখে মেসেঞ্জারে । তখন পর্যন্ত রানা ভাবতে পারে নি এই ছোট্র দুষ্টুমির মাধ্যমে বিরাট পরিবর্তন গটে য়াবে তার জীবনে। তবে অকল্পনীয় বিশাল সারপ্রাইজটা পাওয়ার জন্য রানাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৪ ঘন্টা।
পরদিন রাত একটায় ইন্টারনেটে ঢোকে রানা । প্রথমে কৌতুহল নিয়ে এম এস এন এ লগইন করে । দেখতে পায় . billgates@msn.com. ঠিখকানাটি এক্রেপ্ট হয়েছে
অন্য প্রান্ত থেকে এবং একাউন্টের অধিকারি অনলাইনে ছিল তখন। ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা নিয়ে ডাবল ক্লিক করে ঠিকানাটিতে। টাইপ করে। হাই!
একটু পরে মেসেঞ্জারে মেসেজ আসে , হাই রানা ! নাইস টু মিট ইউ ।
তুমি কোথা থেকে ? উত্তেজনা চেপে রেখে জানতে চায় রানা ।
আমি রিচমন্ড, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে, তুমি?
আমি বাংলাদেশ থেকে।
বাংলাদেশ । দক্ষিণ এসিয়ায় তাই না । তোমার দেশ থেকে বেশ কয়েকজন আছে আমাদের কর্পোরেশনে । তখনো বিশ্বাস করতে পারছি না রানা য়ে অপরজনই সত্যিকারের বিল গেটস । ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন করা অনেকেরই ¯^fve| সতরাং এই পাবলিকও সহজে তাদের একজন হতে পারে, এখন খুব বিলগেটসের ভাব নিচ্ছে । অন্য পক্ষকে একটু বাজিয়ে দেখতে চাইছিল রানা । লিখল,ঠিক কতজনের মতো বাংলাদেশী আছে তোমার ওখানে ? কম না প্রায় আঠারো জনের মত এই মাসরেই আমরা আরো একজন নিয়েছি । তাই নাকি ? হাঁ , বাংলাদেশীরা বেশ ভালো করছে আমার এখানে । এম,এস অফিস টিমে সব চেয়ে বড় একটা টিম কাজ করেছে সাব কন্টিনেন্ট থেকে। হেই রানা , নাইস টকিং টু ইউ। লেটার । রানাকে এক ধরনের বিস্ময় আর দ্ধিধার মধ্যে রেখে সে দিন বিলগেটস একাউন্টের অধিকারী নেই থেকে বিদায় নিল । যদিও অনলাইনে ছিল কিন্তু বাকি পুরোটা টাইম মেসেঞ্জারে বিজি স্ট্যাটাস দিযে রেখেছিল। নেটে ঘন্টাখানেক ব্রাউজ করে যখন ইন্টারনেট কানেকশন ডিসকানেক্ট করবে ভাবছিল তখনই বিলগেটস একাউন্ট থেকে মেসেজ আসল।
হেই রানা , আমি তোমার হটমেইলের প্রোফাইলটা চেক করেছিলাম। তুমি প্রোগ্রামিংয়ে বেশ ভাল করেছ রানা। তোমার প্রেজেক্টের টপিকস্ বেশ ইন্টারষ্টিং। মানে, তুমি কি আমার পার্সোনাল পেইজে গিয়েছিলে?
হ্যাঁ,তুমি ফ্যান্টম ডট নেট মডিউল নিয়ে কাজ করেছ দেখলাম য়া আমি খুব ইন্টারেষ্টিং মনে করছি। হ্যাঁ । গত টাঁমে আমার প্রোজেক্ট আমি ফ্যান্টম ডট নেট ব্যবহার করেছি।
এর সম্ভাবনা তোমার কেমন মনে হয়। বেশ ভাল। আমার একটা ইচ্ছে আছে ডায়ালআপ ইন্টানেটে এর মাধ্যমে একটা কমপ্রেশন প্রোটোকল ডেভেলপ করা য়ায় মাধ্যমে এখনকার এক্রিসটিং লাইনে আরো দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার করা য়াবে।
সাউন্ড কুল ! তুমি কি আর একটু পরিস্কার করে বলবে !
এখানকার প্রসেসর বেশ উন্নত য়ার প্রসেসিং পাওয়ার অনেকটাই আইডেল থেকে যায়। যদি ডাটা ট্রান্সফারে প্রসেসিং পাওয়ার ব্যবহার করা য়ায় তবে মন্দ হয় না। য়ে ষ্টাইলে আমরা এখন নেটে ডাটড ট্রান্সফার করি তা এখন অনেটা বিটম্যাপ গ্রাফিক্্েরর মতো। নিশ্চযই জানা বিটম্যাপের তুলনায় ভেক্টর গ্রাফিক্্র অনেক পরিচ্ছন্ন আর অল্প জায়গা নিয়ে তার কাজ করতে পারে । ফ্যান্টম ডট নেট মডিউল দিয়ে নেটের ডাটা ট্রান্সফার স্ট্রাকচারকে বদলে দেওয়ার একটা সম্ভবনা আমি দেখি । ইউ নো হোয়াট!! মাস্ট বি আ কো ইনসিডেন্ট! আমাদের ঢিউচার প্ল্যানে রয়েছে স্যাটেলাইটের সাথে আর্থে একটা ইন্টেলিজেন্ট ডাটা ট্রান্সফার প্রোটোকল ডেভেলপ করা । এই প্রোজেক্টটিকে আমরা নাম দিয়েছি সিন্যাপসিস। ইতিমধ্যেই আমরা প্রোজেক্টার জন্য রিক্রুট শুরু করেছি ।
তোমার আইডিয়াটা এখানে দারুন ভাবে কাজে লাগাতে পারি ।হে লিসেন, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা যে তুমিই বিল গেইস । তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ আমার অনুভুতি। ওয়েল আই ওযাজ থিং কিং হ্যাভিং এ ভিডিও চ্যাট উইথ ইউ। তোমার কি ওযেব ক্যাম আছে । এর পরে তোমার নিশ্চযই কোন সন্দহ থাকবে না য়ে আমি সিরিযাস। আমার নিজের ওযেব ক্যাম নেই। তবে আমি সাইবার ব্যাফে থেকে তোমার সাথে ভিডিও চ্যাট করতে পারি যদি তুমি কালকে আমাকে সময় দাও। ওযেল, হোয়েন? ইউ বেটার সাজেস্ট কজ ইউ মাস্ট হ্যাভ আ বিজি শিডিউল । আরে না, বালমারকে সিইওর দাযিত্ব দেওয়ার পরে আমরা শিডিইল এখন অনেক হালকা । প্লিজ গিভ মি আ মিনিট, লেট মি সি মাই শিডিউল। সি ওর । .....ওয়েল আই উইল বি উইথ মাই ওয়েবক্যাম এ্যাট টু পি এম। পরদিন ঘুম ভেঙ্গে তাকিয়ে দেখে প্রায় ৯টা বাজে । প্রথমে অসম্ভব নরম এই বিছানায় কী করে এল তা মনে করতে কিছুটা সময় নিল রানার।
মস্তিস্কের নিউরনগুলো । দ্রুত লাক্্রারি হোটেল স্যুইটেরসব দেওয়ালে চোখ বুলিয়ে নিতেই মনে পরে গেল গত তিন চার দিনের সারপ্রাইজের পর সারপ্রাইজ গুলো । আজ ঠিক সারে ৯ টাই ট্রান্সপোর্ট আসার কথা । ঝটপট ফ্রেস হয়ে কাপড় পাল্টে নিচে নেমে আসলো। নাস্তা সারতে সারতেই আগের দিনের মাইকেল এসে হাজির , সাথে একজন ভারতীয নীলয় শ্রী বাস্তব । নীলমের সাথে পরিচিত হয়ে এক সাথে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ট্রান্সপোর্টে উঠে বসল তিনজন।ঠিক ২৩ মিনিট পরে রানাকে নিয়ে যাওয়া হলো মাইক্রোসফটের হেড কোয়ার্টারে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জানানো হলো বিলগেটস রানার জন্য অপেক্ষা করছে । পেটের মধ্যে এক রকম ফাঁকা অনুভূতি পা বাড়ায় রানা বিচমন্ডের মাইক্রোসফট হেড কোয়াটারের সুপ্রশন্ত করিডোর দিয়ে।করিডেরের একেবারে শেষ মাথায গিযে ডান দিকের রুমাটাই বিল গেটসর প্রধান রুম, বলে দেওয়া হয়েছে রানাকে। একটা এলসিডি মনিটরের দিকে তাকিয়েছিল গেটস যখন রানা খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে পা দেয়। মুখ তুলে রানাকে এক ঝলক দেখে নিয়ে তরল গলায় বলে ওঠে গেটস। হাই রানা। কোনো অসুবিধা হয় নি তো। না, একেবারেই না। এগিয়ে দেওয়া বিল গেটসর হাতে হ্যান্ডসেক করে বলে রানা। তোমার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে , তবে তার আগে আর একটু ডিটেইলস আলাপ করতে হবে। হ্যাঁ নিশ্চয়ই, জবাব দেয় রানা । আমাদের সিন্যাপসিস প্রোজেক্টটার কো-অর্ডিনেটর, বেন থমাস তোমাকে নিয়ে বসবে । ওর সাথে ফ্যান্টম ডট নেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারবে। তবে আগে বলো তুমি কী চিন্তা করেছ? জবাব দেওয়ার আগে একটু ভেবে নেয় রানা। ফ্যান্টম ডট নেট নিয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা আছে ওর। বিল গেটস যদিও চাইছে তাদের সিন্যাপসিস প্রোজেক্টকে সামনে রেখে কাজ শুরু করার , কিন্তু রানা ভাবছে অন্য কথা। তৃতীয় বিশ্বের দেশর মানুদের কিভাবে আরো সহজে, সুলভে ইন্টারনেট পৌছে দেওয়া যায় সেই পথেই এই গবেষণা প্রথমে পরিচালিত করতে হবে। তার কমেপ্রশন টেকনোলজি আগে তাই কনভেনশনাল ডায়ালআপ আপগ্রেডের জন্যই ব্যবহার করার এক রকম শর্ত দিতেই রানা প্রস্তুত হয়ে এসেছে এতটা পথ। স্যাটেলাইটের সাতে আর্থের ইন্টেলিজেন্ট ডাটা ট্্রান্সফার প্রোটোকল ডেভেলপ করার চাইতে বাংলাদেশর মতো আরো গরিব দেশে যাতে সবার কাছে সহজে ইন্টারনেট পৌঁছানো যায় সেটাই বড় লক্ষ হওয়া উচিত।
পৃথিবীর জন্য সেটাই বেশী দরকারী । তোমার টু পি এম মিনস হেয়ার এ্যাট ওয়ান ইন দ্যা নাইট । আমার জন্য ক্যাফেতে সেই সময় যাওয়া একটু কঠিন হয়ে য়াবে। তোমার দেশের টাইম ডিফারেন্স কত ইর্স্টান টাইম ডিফারেন্স কত ইর্ন্টান টাইমের সাথে ? প্রায় ১১ ঘন্টা। দ্যাটস হিউজ। ওয়েল দেন ইউ টেল মি ইওর কনভিনিয়েন্ট টাইম । হোয়েট ইউ গেট আফ ফ্রম বেড ? এট এবাউট ৭ এ এম ইন দি মনিং,হোয়াই? আই ক্যান ফিক্্র এটাইম ইন মাই লোকাল টাইম। এন্ড হোয়েন ইটস আফটার ননি হিয়ার ইউ হ্যাভ মনিং দেযার । কাজে তুমি যদি সকালে অফিস এট নাইস থার্টি । সো আই ক্যান পিত ইউ ক্যান অলসো ।
দারুণ হবে তাহলে । সময়টা আমার জন্য খুবই উপযগী। তোমাদের সকাল আটটা মানে আমার সন্ধ্যা ছয়টা । আমি তখন সবার ক্যাফেতে থাকব। তুমি কোন সাইটে ভিডিও কনফারেন্স করবে। তুমি এম এস এন মেসেন্জারে লগইন থেকো, আমি তোমাকে তখন সাইটের এ্যাড্রেস দিয়ে রাখব। পরের দিনটার মতো উত্তেজনার দিন আর খুব কমই এসেছে। আগে বিল গে সের সাথে দেখা করার আগে কাউকে সে বলেনি । বাই চান্স কেউ যদি তার সাথে ফাজলেমি করে তবে বিশাল ফসলে পড়বে ভেবে রানা ঠিক করে সেদিন একাই যাবে ক্যাফেতে । ঠিক করার সময়েই আগের নামে বিল গেটস লগ ইন করে। একটা বিদঘুটে নিউমারিক্যাল সাইট এ্যাড্রেসে রানা গেটসের সাথে ভিডিও চ্যাট করল । বাসা থেকেই বিল গেটস ভিডিও ক্যামেরার সামনে লগ ইন করছে ।একেবারেই সাদামাটা টি- শার্ট পরা বিল গেটসকে কর্পোরেট চেহারার সাথে ঠিখ মেলাতে পারছিল না রানা। তার পরেও কেউ বলে না দিলেও মূহুর্তেই রানা বুঝে ওঠে সে এখন বিশ্বের এক ধণী ব্যবসায়ীর সামনে। খুব বেশী দেরী হলো না , মাত্র বাইশ মিনিটে রানার প্রোজেক্ট নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরে রানাকে মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায নিল গেটস । রানা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না । একটার পর বকেটা সারপ্রাইজ যেন তার সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল কয়েকদিন ধরে । বিল গেইস জানিয়ে দিল G¤^vwm‡Z দুই ঘন্টার ভেতরে রানার ভিসার ব্যাপারে তথ্য চলে যাবে। রানা যেন তিন চার দিনের ভেতরে ক্যালিফোর্নিয়াতে চলে আসে তার জন্য বিল গেটস অনুরোধ করে আলাপ শেষ করে।সে দিন ছিল মাচেূর ২১ তারিখ । আজ আর ২৭ তারিখ । জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে মাইক্রোসফটের হেড কোযাটারে রটে গেছে সে কথাই বলছিল মাইকেল স্ট্রক, রানাকে নিতে আসা অনেকের ভেতর একজন। এযার পোর্ট থেকে সোজা একটা ঠোর স্টার হোটেলে নিয়ে এল রানা কে পৌছে দিয়ে জরুরি কিছু ফোন bv¤^vi দিয়ে বাকিরা বিদায় নিল । রাতটা পার করে পরদিন সকালে মাইক্রোসফট হেড কোয়ার্টারে বিল গেটসের সাথে দেখা করে রানা , এমনটাই সিডিউল করা হলো । জেট ল্যাগ আর নতুন জায়গা , সব মিলিয়ে ঘুমাতে অনেক দেরি হয়ে গেল রানার।
(সাদিক মোহাম্মদ আলম) (কম্পিউটার টুমরো-ওপেনসোর্স টুমরোজ ফিকশন-২০০৫) (সংগ্রহ- নোমান শাহরিয়ার) www.royalnoman.com
এম এস এ- এ । বিল গেইস আসলেই মেসেঞ্জার আসে কিনা, নইলে বিল গেটস নামে যদি অন্য কেউ থাকে তবে তার সাতে একটু আলাপ করার কৌতূহল থেকে এড্রেসগুলো মেসেঞ্জার এড করে থাকে রানা।
billgates@ hotmail.com.
illgatesb@msn.com.
bill-gates@hotmail.com.
bill-gates@msn.com.
এরকম বেশ কিছু এড্রেস যোগ করে রাখে মেসেঞ্জারে । তখন পর্যন্ত রানা ভাবতে পারে নি এই ছোট্র দুষ্টুমির মাধ্যমে বিরাট পরিবর্তন গটে য়াবে তার জীবনে। তবে অকল্পনীয় বিশাল সারপ্রাইজটা পাওয়ার জন্য রানাকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল ২৪ ঘন্টা।
পরদিন রাত একটায় ইন্টারনেটে ঢোকে রানা । প্রথমে কৌতুহল নিয়ে এম এস এন এ লগইন করে । দেখতে পায় . billgates@msn.com. ঠিখকানাটি এক্রেপ্ট হয়েছে
অন্য প্রান্ত থেকে এবং একাউন্টের অধিকারি অনলাইনে ছিল তখন। ভেতরে ভেতরে এক ধরনের উত্তেজনা নিয়ে ডাবল ক্লিক করে ঠিকানাটিতে। টাইপ করে। হাই!
একটু পরে মেসেঞ্জারে মেসেজ আসে , হাই রানা ! নাইস টু মিট ইউ ।
তুমি কোথা থেকে ? উত্তেজনা চেপে রেখে জানতে চায় রানা ।
আমি রিচমন্ড, ক্যালিফোর্নিয়া থেকে, তুমি?
আমি বাংলাদেশ থেকে।
বাংলাদেশ । দক্ষিণ এসিয়ায় তাই না । তোমার দেশ থেকে বেশ কয়েকজন আছে আমাদের কর্পোরেশনে । তখনো বিশ্বাস করতে পারছি না রানা য়ে অপরজনই সত্যিকারের বিল গেটস । ইন্টারনেটে পরিচয় গোপন করা অনেকেরই ¯^fve| সতরাং এই পাবলিকও সহজে তাদের একজন হতে পারে, এখন খুব বিলগেটসের ভাব নিচ্ছে । অন্য পক্ষকে একটু বাজিয়ে দেখতে চাইছিল রানা । লিখল,ঠিক কতজনের মতো বাংলাদেশী আছে তোমার ওখানে ? কম না প্রায় আঠারো জনের মত এই মাসরেই আমরা আরো একজন নিয়েছি । তাই নাকি ? হাঁ , বাংলাদেশীরা বেশ ভালো করছে আমার এখানে । এম,এস অফিস টিমে সব চেয়ে বড় একটা টিম কাজ করেছে সাব কন্টিনেন্ট থেকে। হেই রানা , নাইস টকিং টু ইউ। লেটার । রানাকে এক ধরনের বিস্ময় আর দ্ধিধার মধ্যে রেখে সে দিন বিলগেটস একাউন্টের অধিকারী নেই থেকে বিদায় নিল । যদিও অনলাইনে ছিল কিন্তু বাকি পুরোটা টাইম মেসেঞ্জারে বিজি স্ট্যাটাস দিযে রেখেছিল। নেটে ঘন্টাখানেক ব্রাউজ করে যখন ইন্টারনেট কানেকশন ডিসকানেক্ট করবে ভাবছিল তখনই বিলগেটস একাউন্ট থেকে মেসেজ আসল।
হেই রানা , আমি তোমার হটমেইলের প্রোফাইলটা চেক করেছিলাম। তুমি প্রোগ্রামিংয়ে বেশ ভাল করেছ রানা। তোমার প্রেজেক্টের টপিকস্ বেশ ইন্টারষ্টিং। মানে, তুমি কি আমার পার্সোনাল পেইজে গিয়েছিলে?
হ্যাঁ,তুমি ফ্যান্টম ডট নেট মডিউল নিয়ে কাজ করেছ দেখলাম য়া আমি খুব ইন্টারেষ্টিং মনে করছি। হ্যাঁ । গত টাঁমে আমার প্রোজেক্ট আমি ফ্যান্টম ডট নেট ব্যবহার করেছি।
এর সম্ভাবনা তোমার কেমন মনে হয়। বেশ ভাল। আমার একটা ইচ্ছে আছে ডায়ালআপ ইন্টানেটে এর মাধ্যমে একটা কমপ্রেশন প্রোটোকল ডেভেলপ করা য়ায় মাধ্যমে এখনকার এক্রিসটিং লাইনে আরো দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার করা য়াবে।
সাউন্ড কুল ! তুমি কি আর একটু পরিস্কার করে বলবে !
এখানকার প্রসেসর বেশ উন্নত য়ার প্রসেসিং পাওয়ার অনেকটাই আইডেল থেকে যায়। যদি ডাটা ট্রান্সফারে প্রসেসিং পাওয়ার ব্যবহার করা য়ায় তবে মন্দ হয় না। য়ে ষ্টাইলে আমরা এখন নেটে ডাটড ট্রান্সফার করি তা এখন অনেটা বিটম্যাপ গ্রাফিক্্েরর মতো। নিশ্চযই জানা বিটম্যাপের তুলনায় ভেক্টর গ্রাফিক্্র অনেক পরিচ্ছন্ন আর অল্প জায়গা নিয়ে তার কাজ করতে পারে । ফ্যান্টম ডট নেট মডিউল দিয়ে নেটের ডাটা ট্রান্সফার স্ট্রাকচারকে বদলে দেওয়ার একটা সম্ভবনা আমি দেখি । ইউ নো হোয়াট!! মাস্ট বি আ কো ইনসিডেন্ট! আমাদের ঢিউচার প্ল্যানে রয়েছে স্যাটেলাইটের সাথে আর্থে একটা ইন্টেলিজেন্ট ডাটা ট্রান্সফার প্রোটোকল ডেভেলপ করা । এই প্রোজেক্টটিকে আমরা নাম দিয়েছি সিন্যাপসিস। ইতিমধ্যেই আমরা প্রোজেক্টার জন্য রিক্রুট শুরু করেছি ।
তোমার আইডিয়াটা এখানে দারুন ভাবে কাজে লাগাতে পারি ।হে লিসেন, আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা যে তুমিই বিল গেইস । তুমি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ আমার অনুভুতি। ওয়েল আই ওযাজ থিং কিং হ্যাভিং এ ভিডিও চ্যাট উইথ ইউ। তোমার কি ওযেব ক্যাম আছে । এর পরে তোমার নিশ্চযই কোন সন্দহ থাকবে না য়ে আমি সিরিযাস। আমার নিজের ওযেব ক্যাম নেই। তবে আমি সাইবার ব্যাফে থেকে তোমার সাথে ভিডিও চ্যাট করতে পারি যদি তুমি কালকে আমাকে সময় দাও। ওযেল, হোয়েন? ইউ বেটার সাজেস্ট কজ ইউ মাস্ট হ্যাভ আ বিজি শিডিউল । আরে না, বালমারকে সিইওর দাযিত্ব দেওয়ার পরে আমরা শিডিইল এখন অনেক হালকা । প্লিজ গিভ মি আ মিনিট, লেট মি সি মাই শিডিউল। সি ওর । .....ওয়েল আই উইল বি উইথ মাই ওয়েবক্যাম এ্যাট টু পি এম। পরদিন ঘুম ভেঙ্গে তাকিয়ে দেখে প্রায় ৯টা বাজে । প্রথমে অসম্ভব নরম এই বিছানায় কী করে এল তা মনে করতে কিছুটা সময় নিল রানার।
মস্তিস্কের নিউরনগুলো । দ্রুত লাক্্রারি হোটেল স্যুইটেরসব দেওয়ালে চোখ বুলিয়ে নিতেই মনে পরে গেল গত তিন চার দিনের সারপ্রাইজের পর সারপ্রাইজ গুলো । আজ ঠিক সারে ৯ টাই ট্রান্সপোর্ট আসার কথা । ঝটপট ফ্রেস হয়ে কাপড় পাল্টে নিচে নেমে আসলো। নাস্তা সারতে সারতেই আগের দিনের মাইকেল এসে হাজির , সাথে একজন ভারতীয নীলয় শ্রী বাস্তব । নীলমের সাথে পরিচিত হয়ে এক সাথে মাইক্রোসফটের নিজস্ব ট্রান্সপোর্টে উঠে বসল তিনজন।ঠিক ২৩ মিনিট পরে রানাকে নিয়ে যাওয়া হলো মাইক্রোসফটের হেড কোয়ার্টারে। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর জানানো হলো বিলগেটস রানার জন্য অপেক্ষা করছে । পেটের মধ্যে এক রকম ফাঁকা অনুভূতি পা বাড়ায় রানা বিচমন্ডের মাইক্রোসফট হেড কোয়াটারের সুপ্রশন্ত করিডোর দিয়ে।করিডেরের একেবারে শেষ মাথায গিযে ডান দিকের রুমাটাই বিল গেটসর প্রধান রুম, বলে দেওয়া হয়েছে রানাকে। একটা এলসিডি মনিটরের দিকে তাকিয়েছিল গেটস যখন রানা খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে পা দেয়। মুখ তুলে রানাকে এক ঝলক দেখে নিয়ে তরল গলায় বলে ওঠে গেটস। হাই রানা। কোনো অসুবিধা হয় নি তো। না, একেবারেই না। এগিয়ে দেওয়া বিল গেটসর হাতে হ্যান্ডসেক করে বলে রানা। তোমার কাজ আজ থেকেই শুরু হবে , তবে তার আগে আর একটু ডিটেইলস আলাপ করতে হবে। হ্যাঁ নিশ্চয়ই, জবাব দেয় রানা । আমাদের সিন্যাপসিস প্রোজেক্টটার কো-অর্ডিনেটর, বেন থমাস তোমাকে নিয়ে বসবে । ওর সাথে ফ্যান্টম ডট নেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে পারবে। তবে আগে বলো তুমি কী চিন্তা করেছ? জবাব দেওয়ার আগে একটু ভেবে নেয় রানা। ফ্যান্টম ডট নেট নিয়ে বিশেষ এক পরিকল্পনা আছে ওর। বিল গেটস যদিও চাইছে তাদের সিন্যাপসিস প্রোজেক্টকে সামনে রেখে কাজ শুরু করার , কিন্তু রানা ভাবছে অন্য কথা। তৃতীয় বিশ্বের দেশর মানুদের কিভাবে আরো সহজে, সুলভে ইন্টারনেট পৌছে দেওয়া যায় সেই পথেই এই গবেষণা প্রথমে পরিচালিত করতে হবে। তার কমেপ্রশন টেকনোলজি আগে তাই কনভেনশনাল ডায়ালআপ আপগ্রেডের জন্যই ব্যবহার করার এক রকম শর্ত দিতেই রানা প্রস্তুত হয়ে এসেছে এতটা পথ। স্যাটেলাইটের সাতে আর্থের ইন্টেলিজেন্ট ডাটা ট্্রান্সফার প্রোটোকল ডেভেলপ করার চাইতে বাংলাদেশর মতো আরো গরিব দেশে যাতে সবার কাছে সহজে ইন্টারনেট পৌঁছানো যায় সেটাই বড় লক্ষ হওয়া উচিত।
পৃথিবীর জন্য সেটাই বেশী দরকারী । তোমার টু পি এম মিনস হেয়ার এ্যাট ওয়ান ইন দ্যা নাইট । আমার জন্য ক্যাফেতে সেই সময় যাওয়া একটু কঠিন হয়ে য়াবে। তোমার দেশের টাইম ডিফারেন্স কত ইর্স্টান টাইম ডিফারেন্স কত ইর্ন্টান টাইমের সাথে ? প্রায় ১১ ঘন্টা। দ্যাটস হিউজ। ওয়েল দেন ইউ টেল মি ইওর কনভিনিয়েন্ট টাইম । হোয়েট ইউ গেট আফ ফ্রম বেড ? এট এবাউট ৭ এ এম ইন দি মনিং,হোয়াই? আই ক্যান ফিক্্র এটাইম ইন মাই লোকাল টাইম। এন্ড হোয়েন ইটস আফটার ননি হিয়ার ইউ হ্যাভ মনিং দেযার । কাজে তুমি যদি সকালে অফিস এট নাইস থার্টি । সো আই ক্যান পিত ইউ ক্যান অলসো ।
দারুণ হবে তাহলে । সময়টা আমার জন্য খুবই উপযগী। তোমাদের সকাল আটটা মানে আমার সন্ধ্যা ছয়টা । আমি তখন সবার ক্যাফেতে থাকব। তুমি কোন সাইটে ভিডিও কনফারেন্স করবে। তুমি এম এস এন মেসেন্জারে লগইন থেকো, আমি তোমাকে তখন সাইটের এ্যাড্রেস দিয়ে রাখব। পরের দিনটার মতো উত্তেজনার দিন আর খুব কমই এসেছে। আগে বিল গে সের সাথে দেখা করার আগে কাউকে সে বলেনি । বাই চান্স কেউ যদি তার সাথে ফাজলেমি করে তবে বিশাল ফসলে পড়বে ভেবে রানা ঠিক করে সেদিন একাই যাবে ক্যাফেতে । ঠিক করার সময়েই আগের নামে বিল গেটস লগ ইন করে। একটা বিদঘুটে নিউমারিক্যাল সাইট এ্যাড্রেসে রানা গেটসের সাথে ভিডিও চ্যাট করল । বাসা থেকেই বিল গেটস ভিডিও ক্যামেরার সামনে লগ ইন করছে ।একেবারেই সাদামাটা টি- শার্ট পরা বিল গেটসকে কর্পোরেট চেহারার সাথে ঠিখ মেলাতে পারছিল না রানা। তার পরেও কেউ বলে না দিলেও মূহুর্তেই রানা বুঝে ওঠে সে এখন বিশ্বের এক ধণী ব্যবসায়ীর সামনে। খুব বেশী দেরী হলো না , মাত্র বাইশ মিনিটে রানার প্রোজেক্ট নিয়ে আলোচনা হওয়ার পরে রানাকে মাইক্রোসফটে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানায নিল গেটস । রানা যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না । একটার পর বকেটা সারপ্রাইজ যেন তার সামনে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিল কয়েকদিন ধরে । বিল গেইস জানিয়ে দিল G¤^vwm‡Z দুই ঘন্টার ভেতরে রানার ভিসার ব্যাপারে তথ্য চলে যাবে। রানা যেন তিন চার দিনের ভেতরে ক্যালিফোর্নিয়াতে চলে আসে তার জন্য বিল গেটস অনুরোধ করে আলাপ শেষ করে।সে দিন ছিল মাচেূর ২১ তারিখ । আজ আর ২৭ তারিখ । জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে মাইক্রোসফটের হেড কোযাটারে রটে গেছে সে কথাই বলছিল মাইকেল স্ট্রক, রানাকে নিতে আসা অনেকের ভেতর একজন। এযার পোর্ট থেকে সোজা একটা ঠোর স্টার হোটেলে নিয়ে এল রানা কে পৌছে দিয়ে জরুরি কিছু ফোন bv¤^vi দিয়ে বাকিরা বিদায় নিল । রাতটা পার করে পরদিন সকালে মাইক্রোসফট হেড কোয়ার্টারে বিল গেটসের সাথে দেখা করে রানা , এমনটাই সিডিউল করা হলো । জেট ল্যাগ আর নতুন জায়গা , সব মিলিয়ে ঘুমাতে অনেক দেরি হয়ে গেল রানার।
(সাদিক মোহাম্মদ আলম) (কম্পিউটার টুমরো-ওপেনসোর্স টুমরোজ ফিকশন-২০০৫) (সংগ্রহ- নোমান শাহরিয়ার) www.royalnoman.com
লেখক নোমান
- নোমান -এর ব্লগ
- ১ টি মন্তব্য
- ০২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৮:২৫
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক