বালিয়াটি জমিদার বাড়ি ; কথা দিলাম, আবার আসবো ......
#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#
উনিশ শতকের জমিদারদের জমিদার বাড়ির এক অনন্য নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। যদিও মানিকগঞ্জ তার পূর্বের খ্যাতি আর যশ হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই তবু এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এখনও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে তার আভিজাত্য আর ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেবার প্রবল আকাঙ্খায়।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ি ঢাকা থেকে ৩৫ কি. মি. উত্তরপূর্বে। বালিয়াটির পঞ্চিমে ৪ কি.মি গেলে মানিকগঞ্জ সদর। সকাল সাড়ে নয়টায় নবীনগর বাসষ্ট্যান্ড (স্মৃতিসৌধ এর মোড়) থেকে জনসেবা বাসে উঠলাম। ভালোই টানলো গাড়িটা। প্রায় ঘন্টা দেড়েক ভুট্টার ক্ষেত দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম সাটুরিয়া বাজার। সাটুরিয়া বাজার থেকে ১০ মিনিটের পথ, রিকসায়। জমিদার বাড়ির পৌছার আগেই চোখে পড়ল বেশ সুন্দর একটা পুরনো স্থাপনার স্কুল। ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অন্যতম সদস্য হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী। তার সহোদর ঈশ্বরচন্দ্র রায় চৌধুরীর নামেই এই স্কুলটির নামকরণ করা হয়। স্কুলটির সামনেই বিশাল প্রশ্বস্ত মাঠ।

স্কুলটিকে ঘিরে বালিয়াটি জমিদার পরিবারের এক করুণ ইতিহাস পাওয়া গেল। ছোট ছেলে ঈশ্বচন্দ্র রায় চৌধুরীর ইচ্ছে ছিল স্কুল ভবনটির জায়গায় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন। আর বড় ছেলে হরেন্দ্রকুমার রায়ের ইচ্ছে হাসপাতাল গড়ার। বড় ছেলে হরেন্দ্র সেভাবে তার পিতা নিত্যানন্দ রায় চৌধুরীকে রাজি করিয়ে ফেললেন। স্বাভাবিকভাবেই ঈশ্বর চন্দ্রের মন খারাপ। পরের দিন সকাল। ঈশ্বরচন্দ্রের ঘরের দরজা খুলে না। ধাক্কা ধাক্কি ডাকাডাকির পর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলা হল। দেখা গেল রাগে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে ছোট ভাই ঈশ্বরচন্দ্র। মনমরা হয়ে গেলেন বড়ভাই হরেন্দ্র। ছোটভাইয়ের শেষ ইচ্ছাতেই ঐ ভবনে স্থাপন করা হল একটি বিদ্যালয়। আর সেই বিদ্যালয়ের নামই হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যালয়। সময়টা ১৯১৯ সাল।
স্কুল ছেড়ে আর একটু সামনে মোড় ঘুরতেই চোখ জুড়িয়ে দেখা মিলল সিংহদরজার, তিন তিনটি ; আর অনুপম সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জমিদার বাড়ির। জানলাম বালিয়াটি এলাকার নামে পরিচিত এই প্রাসাদতুল্য চত্বরটি প্রায় ১৬৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী প্রাসাদতুল্য দালানের সমাবেশ। এই দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্যউনিশ শতক থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগের বিভিন্ন সময়ে একটি স্থানীয় ধনী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন গোবিন্দ রাম সাহা। তিনি মূলত খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকের শেষ দিকে একজন বর্ধিষ্ণু লবন ব্যবসায়ী ছিলেন।

এবার আসা যাক একটু ইতিহাসের দিকে, না তেমন কিছু না। কেউ আবার পড়ার বন্ধ করে দিবেন না যেন।
ভারতবর্ষে মূলত দুটি সময়ের মধ্যেই বড় বড় স্থাপনা বা প্রাসাদ তৈরীর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। একবার হচ্ছে মোঘল শাষণামলে আর অপরটি ব্রিটিশ রাজত্বকালীন সময়ে। দুটি সময়কালীন সমসাময়িক সময়ে স্থানীয় এলাকার স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তিশালীদের সমীহের চোখে দেখা হত। মোঘল পরবর্তী সময়ে সেই ধারা অব্যাহত ছিল একইভাবে। ব্রিটিশ রাজত্বকালীন সময়ে শুধু তারাই জমিজমা, ক্ষমতা, প্রতিপত্তির পসার ঘটায়নি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা অর্থ্যাৎ জমিদাররাও আড়ম্বরে গড়েছেন জাকজমকপূর্ণ পাচ্য আর পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে বিশাল বিশাল জমিদারী ভবন, স্থাপনা। আর এই জমিদার এবং তাদের জমিদারী বাংলা স্থাপত্যরীতির এক অনন্য স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। এসব পরিবারের মধ্যে পাবনার তারাশ রাজ, সিতলাই এর মিত্র, বলিহার এর চক্রবর্তী, নওগাঁর দুবলহাটির রাজ এবং মানিকগঞ্জের বালিয়াটির সাহা অন্যতম।


যদিও সময়ের আবর্তে মানিকগঞ্জ তার গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে তবুও সেই জাকজমকপূর্ণ ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে এখনো জানান দিচ্ছে যে তার বুকেই প্রোথিত আছে তোস্তা, ধনকোড়া, তেরশ্রী, পাকুটিয়া আর বালিয়াটির সুখদু:খ আর হাজারো কাড়ানাকাড়ার বর্ণাঢ্য ইতিহাস। মানিকগঞ্জ একসময় ঢাকা জেলার সাথেই অন্তর্ভূক্ত ছিল। আর বর্ণাঢ্য এ এলাকা এতই প্রাচুর্যে ভরা ছিল যে আশেপাশের অন্যান্য এলাকা থেকে মানিকগঞ্জ ছিল একেবারেই ভিন্ন। এছাড়া বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জের এক অনন্য অধ্যায়। এ জমিদার বাড়ির পর পর সাজানো ভবনগুলো এখনো যেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সাহা পরিবারের গৌরবোজ্জল ইতিহাস ধারন করে আছে।

আগেই বলেছিলাম এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা গোবিন্দ রাম সাহার কথা। মধ্য উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তার বংশধরেরাই জমিদারী লাভ এবং ভোগ করেন এবং তা ব্রিটিশ উপনিবেশকারীদের মধ্যসহ। এছাড়া এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের নিজ নিজ এলাকা ছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বাগান, মন্দির এবং দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপনের কৃতিত্বের দাবিদার। আর এ প্রসঙ্গে বালিয়াটির জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরী ও তার পুত্র জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরীর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় এই বালিয়াটির জমিদারের নামেই। আর এই হলের জন্য সমস্ত আর্থিক সহযোগীতা করেছিলেন জগন্নাথ রায় চৌধুরীর ছেলে জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরী। বর্তমানের কে এল জুবিলী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথ রায়েরই প্রত্যক্ষ কার্যক্রমে। সময়টা ১৮৬৮ সালের দিকে।

উল্লেখিত ব্যক্তিত্ব ছাড়াও এই বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সাথে যাদের কৃতিত্ব উজ্জ্বল তাদের মধ্যে নিত্যানন্দ রায় চৌধুরী, ঈশ্বরচন্দ্র রায় চৌধুরী, বৃন্দাবন চন্দ্র, কানাই লাল, যশোর্ধ লাল, হীরা লাল চৌধুরী এবং হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরীর নাম বিশেষ ভাবে অগ্রগন্য। এছাড়া এ জমিদার বাড়ির চারপাশে হরনাথ রায় চৌধুরী, হরিবোল রায় চৌধুরী এবং দীনেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর কিছু কিছু নিদর্শনাদি আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
যা হোক, অনেক ইতিহাস হলো, এবার ফিরে আসা যাক বাস্তবে। বলছিলাম একটু সামনে এগুতেই চোখ জুড়িয়ে দেখা মিলল সিংহদরজা, তিন তিনটি ; আর অনুপম সৌন্দর্য নিয়ে দাড়িয়ে থাকা মস্ত জমিদার বাড়ি।


বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মূলত ভিন্ন ব্লকে প্রায় একই রকম দেখতে পাঁচটি জমিদারবাড়ির সমন্বয়। তার মধ্যে দক্ষিণমুখো প্রশ্বস্থ তিনটি স্থাপনা রাস্তার দিক থেকে চোখে পড়ে। আর তার আগেই চোখ আটকে যাবে অনন্য স্থাপনার আলাদা আলাদা তিনটি সিংহ ফটকে। প্রতিটি ফটকের উপর দন্ডায়মান তেজস্বী সিংহ। জমিদার বাড়ির গৌরবময় ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয় মুহুর্তে। ভেতরের প্রতিটি দালান নকশাখচিত আর করন্থিয়ান ডিজাইনের গোলাকার কলামে সারিবদ্ধভাবে সুসজ্জিত যা লম্বায় প্রায় ৪০০ ফুট।

স¤প্রতি বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগের তত্তাবধানে সংস্কার চলছে। তাই সাধারনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। অগত্যা আর কি করা। ওখানকার কেয়ারটেকার এর সাথে ‘ফিস ফিস’ চুক্তি করতে হলো বাধ্য হয়েই।
ভেতরে ঢুকেই আমার বিক্ষিপ্ত মন শান্ত হয়ে এলো বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অনুপম নির্মানশৈলী আর হারানো জাঁকজমকের অতীত সন্ধানে। পুরো জমিদার বাড়িটি প্রায় ২০ একর জমির। পুরো প্রাঙ্গনে বিভিন্ন মাপের ঘর রয়েছে ২০০টির উপরে। প্রথমে ঢুকলেই সারি সারি সাজানো সিন্দুক যা প্রদর্শনের জন্য অপেক্ষা করে আছে। বলে রাখা ভালো এই জমিদার বাড়িটি কিছুদিন আগেও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী আর কিছু দপ্তরের অধীনে দখল ছিল। মূলত তাদের সরিয়ে দখলমুক্ত করাই বর্তমান প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের সাফল্যমাত্র। এ বাড়ির সমস্ত সরঞ্জাম, তৈজষ, মূল্যবান স্মৃতিসামগ্রী সব লুট হয়ে গেছে সেই ৪৮ সালে। তারপর ধীরে ধীরে সাধারণ লোকজনের হাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইসব ভবন আর ভবনের আসবারসহ অন্যান্য। বিশ কিছু সামগ্রী স্থানান্তর করা হয়েছে জাতীয় যাদুঘর, শাহবাগে। আর বালিয়াটিতেই একটা রুমে অবশিষ্ট কিছু মালামাল রক্ষিত আছে। সে রুম এখন তালাবদ্ধ। তবে বিশেষ ‘ফিস ফিস’ চুক্তিমতে আমি সে রুমে প্রবেশ করতে পেরেছিলাম। জানলাম ঐ রুমই ছিল জমিদার বাড়ির মূল বৈঠকখানা।



প্রথম বাড়ি পেরিয়ে ভেতরে গেলে চারটি মহল। যা জমিদারবাড়ির অন্দরমহল নামে পরিচিত। সব তালাবদ্ধ। শুনশান পিনপতন নিরবতা। বাইরের প্রচন্ড গরমের মধ্যেও অন্দরমহলের ভেতর শীতল আবহাওয়া। সব কিছু মিলে কেমন যেন অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয় মন, মননে, শরীরে। তালা খুলে খুলে একে একে ঘুরে দেখলাম সব, অন্দরমহল, ঘর, বারান্দা, কুয়োতলা, ছাদ .....
অন্দরমহলের উত্তরে বিরাট বিরাট ঘাট বাঁধানো পুকুর। টলটলে জলের বাঁধানো ঘাটে বসে কাটিয়ে দিলাম বেশ কিছুক্ষণ।

এবার ফিরে আসার পালা। অদ্ভুত ছিমছাম আর নিরবতায় ভরা বালিয়াটি জমিদার বাড়ি আমাকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল পুরোটা সময়। কিভাবে ৩টি ঘন্টা পেরিয়ে গেল টেরই পেলাম না।
ফেরার সময় খারাপ লাগছিল। যেন কিছুর পেছনের টান। হয়তোবা তাই। অতীত সমৃদ্ধি আর গৌরবের ক্ষয়িষ্ণু বর্তমান পেছনে তো টানবেই।
#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#
উনিশ শতকের জমিদারদের জমিদার বাড়ির এক অনন্য নিদর্শন বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। যদিও মানিকগঞ্জ তার পূর্বের খ্যাতি আর যশ হারিয়ে ফেলেছে অনেক আগেই তবু এই বালিয়াটি জমিদার বাড়ি এখনও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে তার আভিজাত্য আর ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেবার প্রবল আকাঙ্খায়।
বালিয়াটি জমিদারবাড়ি ঢাকা থেকে ৩৫ কি. মি. উত্তরপূর্বে। বালিয়াটির পঞ্চিমে ৪ কি.মি গেলে মানিকগঞ্জ সদর। সকাল সাড়ে নয়টায় নবীনগর বাসষ্ট্যান্ড (স্মৃতিসৌধ এর মোড়) থেকে জনসেবা বাসে উঠলাম। ভালোই টানলো গাড়িটা। প্রায় ঘন্টা দেড়েক ভুট্টার ক্ষেত দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম সাটুরিয়া বাজার। সাটুরিয়া বাজার থেকে ১০ মিনিটের পথ, রিকসায়। জমিদার বাড়ির পৌছার আগেই চোখে পড়ল বেশ সুন্দর একটা পুরনো স্থাপনার স্কুল। ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়। এ স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অন্যতম সদস্য হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী। তার সহোদর ঈশ্বরচন্দ্র রায় চৌধুরীর নামেই এই স্কুলটির নামকরণ করা হয়। স্কুলটির সামনেই বিশাল প্রশ্বস্ত মাঠ।
স্কুলটিকে ঘিরে বালিয়াটি জমিদার পরিবারের এক করুণ ইতিহাস পাওয়া গেল। ছোট ছেলে ঈশ্বচন্দ্র রায় চৌধুরীর ইচ্ছে ছিল স্কুল ভবনটির জায়গায় একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবেন। আর বড় ছেলে হরেন্দ্রকুমার রায়ের ইচ্ছে হাসপাতাল গড়ার। বড় ছেলে হরেন্দ্র সেভাবে তার পিতা নিত্যানন্দ রায় চৌধুরীকে রাজি করিয়ে ফেললেন। স্বাভাবিকভাবেই ঈশ্বর চন্দ্রের মন খারাপ। পরের দিন সকাল। ঈশ্বরচন্দ্রের ঘরের দরজা খুলে না। ধাক্কা ধাক্কি ডাকাডাকির পর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলা হল। দেখা গেল রাগে অভিমানে আত্মহত্যা করেছে ছোট ভাই ঈশ্বরচন্দ্র। মনমরা হয়ে গেলেন বড়ভাই হরেন্দ্র। ছোটভাইয়ের শেষ ইচ্ছাতেই ঐ ভবনে স্থাপন করা হল একটি বিদ্যালয়। আর সেই বিদ্যালয়ের নামই হল ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যালয়। সময়টা ১৯১৯ সাল।
স্কুল ছেড়ে আর একটু সামনে মোড় ঘুরতেই চোখ জুড়িয়ে দেখা মিলল সিংহদরজার, তিন তিনটি ; আর অনুপম সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জমিদার বাড়ির। জানলাম বালিয়াটি এলাকার নামে পরিচিত এই প্রাসাদতুল্য চত্বরটি প্রায় ১৬৫৫৪ বর্গমিটার জমির উপর ছড়িয়ে থাকা ৭টি দক্ষিণমুখী প্রাসাদতুল্য দালানের সমাবেশ। এই দালানগুলো খ্রিষ্টীয় মধ্যউনিশ শতক থেকে বিশ শতকের প্রথমভাগের বিভিন্ন সময়ে একটি স্থানীয় ধনী পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দ্বারা নির্মিত হয়েছিল।
এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন গোবিন্দ রাম সাহা। তিনি মূলত খ্রিষ্টীয় আঠারো শতকের শেষ দিকে একজন বর্ধিষ্ণু লবন ব্যবসায়ী ছিলেন।
এবার আসা যাক একটু ইতিহাসের দিকে, না তেমন কিছু না। কেউ আবার পড়ার বন্ধ করে দিবেন না যেন।
ভারতবর্ষে মূলত দুটি সময়ের মধ্যেই বড় বড় স্থাপনা বা প্রাসাদ তৈরীর কাজ সম্পন্ন হয়েছিল। একবার হচ্ছে মোঘল শাষণামলে আর অপরটি ব্রিটিশ রাজত্বকালীন সময়ে। দুটি সময়কালীন সমসাময়িক সময়ে স্থানীয় এলাকার স্থানীয় প্রভাব প্রতিপত্তিশালীদের সমীহের চোখে দেখা হত। মোঘল পরবর্তী সময়ে সেই ধারা অব্যাহত ছিল একইভাবে। ব্রিটিশ রাজত্বকালীন সময়ে শুধু তারাই জমিজমা, ক্ষমতা, প্রতিপত্তির পসার ঘটায়নি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা অর্থ্যাৎ জমিদাররাও আড়ম্বরে গড়েছেন জাকজমকপূর্ণ পাচ্য আর পাশ্চাত্যের সংমিশ্রণে বিশাল বিশাল জমিদারী ভবন, স্থাপনা। আর এই জমিদার এবং তাদের জমিদারী বাংলা স্থাপত্যরীতির এক অনন্য স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়। এসব পরিবারের মধ্যে পাবনার তারাশ রাজ, সিতলাই এর মিত্র, বলিহার এর চক্রবর্তী, নওগাঁর দুবলহাটির রাজ এবং মানিকগঞ্জের বালিয়াটির সাহা অন্যতম।
যদিও সময়ের আবর্তে মানিকগঞ্জ তার গৌরবোজ্জল ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছে তবুও সেই জাকজমকপূর্ণ ঐতিহ্যের ধ্বংসাবশেষ নিয়ে এখনো জানান দিচ্ছে যে তার বুকেই প্রোথিত আছে তোস্তা, ধনকোড়া, তেরশ্রী, পাকুটিয়া আর বালিয়াটির সুখদু:খ আর হাজারো কাড়ানাকাড়ার বর্ণাঢ্য ইতিহাস। মানিকগঞ্জ একসময় ঢাকা জেলার সাথেই অন্তর্ভূক্ত ছিল। আর বর্ণাঢ্য এ এলাকা এতই প্রাচুর্যে ভরা ছিল যে আশেপাশের অন্যান্য এলাকা থেকে মানিকগঞ্জ ছিল একেবারেই ভিন্ন। এছাড়া বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মানিকগঞ্জের এক অনন্য অধ্যায়। এ জমিদার বাড়ির পর পর সাজানো ভবনগুলো এখনো যেন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার সাহা পরিবারের গৌরবোজ্জল ইতিহাস ধারন করে আছে।
আগেই বলেছিলাম এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা গোবিন্দ রাম সাহার কথা। মধ্য উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তার বংশধরেরাই জমিদারী লাভ এবং ভোগ করেন এবং তা ব্রিটিশ উপনিবেশকারীদের মধ্যসহ। এছাড়া এদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের নিজ নিজ এলাকা ছাড়াও ঢাকা শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বাগান, মন্দির এবং দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপনের কৃতিত্বের দাবিদার। আর এ প্রসঙ্গে বালিয়াটির জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরী ও তার পুত্র জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরীর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। জমিদার জগন্নাথ রায় চৌধুরীর নামেই ঢাকার জগন্নাথ কলেজের নামকরণ করা হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের নামকরণ হয় এই বালিয়াটির জমিদারের নামেই। আর এই হলের জন্য সমস্ত আর্থিক সহযোগীতা করেছিলেন জগন্নাথ রায় চৌধুরীর ছেলে জমিদার কিশোরী লাল রায় চৌধুরী। বর্তমানের কে এল জুবিলী স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথ রায়েরই প্রত্যক্ষ কার্যক্রমে। সময়টা ১৮৬৮ সালের দিকে।
উল্লেখিত ব্যক্তিত্ব ছাড়াও এই বালিয়াটি জমিদারবাড়ির সাথে যাদের কৃতিত্ব উজ্জ্বল তাদের মধ্যে নিত্যানন্দ রায় চৌধুরী, ঈশ্বরচন্দ্র রায় চৌধুরী, বৃন্দাবন চন্দ্র, কানাই লাল, যশোর্ধ লাল, হীরা লাল চৌধুরী এবং হরেন্দ্র কুমার রায় চৌধুরীর নাম বিশেষ ভাবে অগ্রগন্য। এছাড়া এ জমিদার বাড়ির চারপাশে হরনাথ রায় চৌধুরী, হরিবোল রায় চৌধুরী এবং দীনেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর কিছু কিছু নিদর্শনাদি আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।
যা হোক, অনেক ইতিহাস হলো, এবার ফিরে আসা যাক বাস্তবে। বলছিলাম একটু সামনে এগুতেই চোখ জুড়িয়ে দেখা মিলল সিংহদরজা, তিন তিনটি ; আর অনুপম সৌন্দর্য নিয়ে দাড়িয়ে থাকা মস্ত জমিদার বাড়ি।
বালিয়াটি জমিদার বাড়ি মূলত ভিন্ন ব্লকে প্রায় একই রকম দেখতে পাঁচটি জমিদারবাড়ির সমন্বয়। তার মধ্যে দক্ষিণমুখো প্রশ্বস্থ তিনটি স্থাপনা রাস্তার দিক থেকে চোখে পড়ে। আর তার আগেই চোখ আটকে যাবে অনন্য স্থাপনার আলাদা আলাদা তিনটি সিংহ ফটকে। প্রতিটি ফটকের উপর দন্ডায়মান তেজস্বী সিংহ। জমিদার বাড়ির গৌরবময় ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয় মুহুর্তে। ভেতরের প্রতিটি দালান নকশাখচিত আর করন্থিয়ান ডিজাইনের গোলাকার কলামে সারিবদ্ধভাবে সুসজ্জিত যা লম্বায় প্রায় ৪০০ ফুট।
স¤প্রতি বালিয়াটি জমিদার বাড়ি বাংলাদেশ সরকারের প্রত্নতত্ত বিভাগের তত্তাবধানে সংস্কার চলছে। তাই সাধারনের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ। অগত্যা আর কি করা। ওখানকার কেয়ারটেকার এর সাথে ‘ফিস ফিস’ চুক্তি করতে হলো বাধ্য হয়েই।
ভেতরে ঢুকেই আমার বিক্ষিপ্ত মন শান্ত হয়ে এলো বালিয়াটি জমিদার বাড়ির অনুপম নির্মানশৈলী আর হারানো জাঁকজমকের অতীত সন্ধানে। পুরো জমিদার বাড়িটি প্রায় ২০ একর জমির। পুরো প্রাঙ্গনে বিভিন্ন মাপের ঘর রয়েছে ২০০টির উপরে। প্রথমে ঢুকলেই সারি সারি সাজানো সিন্দুক যা প্রদর্শনের জন্য অপেক্ষা করে আছে। বলে রাখা ভালো এই জমিদার বাড়িটি কিছুদিন আগেও সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারী আর কিছু দপ্তরের অধীনে দখল ছিল। মূলত তাদের সরিয়ে দখলমুক্ত করাই বর্তমান প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের সাফল্যমাত্র। এ বাড়ির সমস্ত সরঞ্জাম, তৈজষ, মূল্যবান স্মৃতিসামগ্রী সব লুট হয়ে গেছে সেই ৪৮ সালে। তারপর ধীরে ধীরে সাধারণ লোকজনের হাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এইসব ভবন আর ভবনের আসবারসহ অন্যান্য। বিশ কিছু সামগ্রী স্থানান্তর করা হয়েছে জাতীয় যাদুঘর, শাহবাগে। আর বালিয়াটিতেই একটা রুমে অবশিষ্ট কিছু মালামাল রক্ষিত আছে। সে রুম এখন তালাবদ্ধ। তবে বিশেষ ‘ফিস ফিস’ চুক্তিমতে আমি সে রুমে প্রবেশ করতে পেরেছিলাম। জানলাম ঐ রুমই ছিল জমিদার বাড়ির মূল বৈঠকখানা।
প্রথম বাড়ি পেরিয়ে ভেতরে গেলে চারটি মহল। যা জমিদারবাড়ির অন্দরমহল নামে পরিচিত। সব তালাবদ্ধ। শুনশান পিনপতন নিরবতা। বাইরের প্রচন্ড গরমের মধ্যেও অন্দরমহলের ভেতর শীতল আবহাওয়া। সব কিছু মিলে কেমন যেন অন্যরকম অনুভূতি এনে দেয় মন, মননে, শরীরে। তালা খুলে খুলে একে একে ঘুরে দেখলাম সব, অন্দরমহল, ঘর, বারান্দা, কুয়োতলা, ছাদ .....
অন্দরমহলের উত্তরে বিরাট বিরাট ঘাট বাঁধানো পুকুর। টলটলে জলের বাঁধানো ঘাটে বসে কাটিয়ে দিলাম বেশ কিছুক্ষণ।
এবার ফিরে আসার পালা। অদ্ভুত ছিমছাম আর নিরবতায় ভরা বালিয়াটি জমিদার বাড়ি আমাকে মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল পুরোটা সময়। কিভাবে ৩টি ঘন্টা পেরিয়ে গেল টেরই পেলাম না।
ফেরার সময় খারাপ লাগছিল। যেন কিছুর পেছনের টান। হয়তোবা তাই। অতীত সমৃদ্ধি আর গৌরবের ক্ষয়িষ্ণু বর্তমান পেছনে তো টানবেই।
#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#^^#
লেখক নিষাদ
- নিষাদ -এর ব্লগ
- ৪৪ টি মন্তব্য
- ২৫ আগস্ট ২০০৯, ১১:১৯
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৪৪ টি মন্তব্য
-
ভাস্কর২২৫ আগস্ট ২০০৯, ০৪:১৪
গোবিন্দ রাম সাহা'র উত্তরাধিকারীগণ কিভাবে রায় চৌধুরী হলেন? দয়া করে একটু স্পষ্ট করবেন কি? -
ফারুক২৫ আগস্ট ২০০৯, ০৬:২২
কেয়ারটেকার এর সাথে ‘ফিস ফিস’ চুক্তি ----- লোকটার চাকরি বোধহয় খাইলেন !! বড় কর্তারা এখন ব্লগে না আসলেই হয়।
আপনার সাথে সাথে ঘুরলাম , অসাধারন লেগেছে একটুও হাপীয়ে যাইনি
-
সৌম্য২৫ আগস্ট ২০০৯, ১১:৪৫
নোমান ভাই। আপনার ছবি গুলা রাইট ক্লিক করে সেভ করে নিলাম। এক পাবলিককে দেখাবো। সে সিনেমা করতেছে। এমন এক প্রাচীন রাজবাড়ি (বা জমিদার বাড়ী) দরকার। যেটা পুরাতন স্টাইলে কিন্তু এখনো নতুন। সেই বাড়ির ব্যালকনীতে এক রুপবতী কিশোরী থাকে। গল্পের কিশোর নায়ক যার প্রেমে পড়ছে। ঐ ছেলের মেন্টোর এক পাগল। সেই পাগল যখন ওর বয়সে ছিল সেও ঐ মেয়ের প্রেমে পড়ছিলো। সব কিছু পালটে যায় নায়িকা চির নবীন। বাড়ীটাও। মনে হয় প্যারানর্মাল কিছু। গল্পের আগা মাথা কিছুই বুঝি নাই। তবে ভালো লাগছে।
আপনি তো প্রত্নত্বত্ত নিয়া ঘাটা ঘাটি করেন। এমন বাসা পেলে একটু আমারে জানিয়েন। আর ওখানে শ্যুটিং করার কি সিস্টেম। -
সুরভী২৫ আগস্ট ২০০৯, ০৩:০১
পড়লাম। ছোট ছেলে ঈশ্বরচন্দ্রের অভিমান খুব নিষ্ঠুর , অবশ্য এর ফলে উনার ইচ্ছাধিকার প্রাধান্য পেল। আপনার সাথে সাথে আমিও ঘুরে এলাম বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, ভালো লাগল বর্ণনা। আমি অনেকদিন হল (প্রায় দুবছর)কোথাও বেড়াতে যাই না। আপনি আর মাহমুদ ভাই বিভিন্ন জায়গা থেকে বেড়িয়ে আনেন। ভালই লাগে। ভাল থাকবেন। ধন্যবাদ -
শামিম রহমান২৫ আগস্ট ২০০৯, ১১:৫৯
নিষাদ ভাই 'ফিস ফিস' চুক্তিটা একটু শিখাইয়া দিয়েন তো।
একটা কথা আগে বলেছিলাম আপনার লেখা নিয়ে।
আজকে আপনিও লিখলেন 'অতীত সমৃদ্ধি আর গৌরবের ক্ষয়িষ্ণু বর্তমান পেছনে তো টানবেই।'
একারনেই আপনি ছুটে যান, সুজোগ পেলেই। এরপর কোথাও গেলে আমাকে একটু আওয়াজ কি একটু আওয়াজ দেয়া যাবে? আমি নিশ্চিত আমি সে আওয়াজ শুনবো না কারন তা শোনার যে শ্রবন যন্ত্র লাগে তা আমার নাই। তবুও! -
হাফিজ২৫ আগস্ট ২০০৯, ১২:১০
কথা দিলাম, আবার আসবো
...........................
আবার কবে যাবেন , একটু আওয়াজ দিয়েন
-
দেবদাস২৫ আগস্ট ২০০৯, ১২:২৭
একটু বেশী সময় নিয়ে পড়লাম।
ঈশ্বরচন্দ্রের অভিমানের পরিনতি খুব খারাপ লাগলো। বেচেঁ থাকলে সেও হয়ত অনেক কীর্তি রচনা করে যেত। মানসিকতা যে শিক্ষানুরাগী ছিল সেটা সহজেই বুঝা যায়।
আমার অনেক সময়েই মনে হয়েছে জগন্নাথ হলের নামকরনের মানুষটি আসলে কে? বিশেষ করে ঢাকা ইউনিভার্সিটির জগন্নাথ হলের এই মর্মান্তিক কাহিনীর কথা পড়ে প্রায়ই সেটা মনে হত। জানিনা কেন? জগন্নাথ কলেজ বলতে বর্তমান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কেই বুঝিয়েছেন মনে হয়।
কারুকার্যের কথা কি আর বলব! অত সৌখীন মন আমার নেই। অসাধারণ সব নির্মান শৈলী।
ছবিতে খুব মোটু লাগছে আপনাকে। ঘটনা কি? এত ঘুরাঘুরি আর ফিসফিসানি তারপরেও এমন হলে তো চলবেনা ভাই!!
অসধারন বর্ণনা আর তথ্যসমৃদ্ধ এই পোষ্টটির জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। -
মাহমুদ২৫ আগস্ট ২০০৯, ১২:৩০
অসাধারন লেখা। আমিও একবার গিয়েছিলাম। আমার দেখা জীবনের সবচে বড় এবং সুন্দর জমিদার বাড়ি এটি। -
ভাস্কর২২৬ আগস্ট ২০০৯, ০৫:৩৫
নিষাদ ভাই,
আপনার পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ। এটি অবশ্যই একটি তথ্যবহুল পোস্ট। এই পোস্টটিকে আরও তথ্য (যতটা সম্ভব সঠিক তথ্য) সমৃদ্ধ করার জন্য দয়া করে নিচের তথ্যসূত্রটি দেখবেন কি?
মানিকগঞ্জের শত মাণিক (প্রথম খণ্ড)
মোঃ আজহারুল ইসলাম
পৃষ্ঠা ৭৪০-৭৫৩
প্রকাশক: মানিকগঞ্জ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, ঢাকা।
পৌষ ১৪১১
জানুয়রি ২০০৫।
ভাল থাকবেন। -
লুবনা২৬ আগস্ট ২০০৯, ০৬:৫৪
ছবি গুলোর মতো লেখাও টা বেশ না অনেক বেশী ভালো লাগলো পড়ে, মনে হচ্ছে এখনই ঘুরে আসি। ধন্যবাদ নোমান ভাই -
সুমাইয়া শারমিন২৬ আগস্ট ২০০৯, ০৭:২৬
নিষাদ ভাই, অনেক ভালো লাগলো আর প্রিন্ট করে নিলাম লেখাটি। এরকম লেখা নিয়মিত চাই। -
সজল শর্মা২৬ আগস্ট ২০০৯, ১২:৩৮
খুব ভাল লাগলো। কোন কিছুই স্থায়ী হয় না। জ্বলন্ত প্রতাপ একসময় শীতল হয়ে যায়, হারিয়ে যায়। শুধু রেখে যায় অতীতের স্মৃতি।
জমিদার বাড়ির জলসাঘরের ছবি দিলেন না? -
বিডি বাইকার২৭ আগস্ট ২০০৯, ০৫:৩৬
নোমান ভাই আগামী শুক্রবার যাওয়ার প্ল্যান করে ফেললাম.....আমার মটর বাইক আছে। যদি মনে করেন তো আপনার প্ল্যান অনুযায়ী অন্য কোথাও যেতে পারি আপনি চাইলে।
তানভীর: ০১৯১১৪৮১৬৩৪ -
থাবা_বাবা১৩ নভেম্বর ২০০৯, ১১:৪৮
আমার জানা ইতিহাসের শূণ্যস্থান পূরন হলো খানিকটা! তবে তৃষ্ণা মিটলো না!





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
স্টিকি হয়ে গেছে নাকি।
অনেক পড়ে আসলাম তো।
ভালো থাকবেন।