অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তি
রূপান্তর
হেমিংওয়ে একদা মাত্র ছয়টি শব্দে একটি গল্প লিখেছিলেন (For sale: baby shoes, never worn), যেটিকে তিনি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে গণ্য করতে বলেছিলেন। এই ইতিহাসকে পুঁজি করে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত WIRED ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ ২০০৬ সালে মুদ্রণ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও গেমস জগতের সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও হরর লেখকদের এরকম আয়তনের গল্প লিখবার আমন্ত্রণ জানায়। তাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক ডজন লেখক তাঁদের বিবেচনায় উৎকৃষ্ট রচনাটি লিখে দেন। অবশ্য আর্থার সি ক্লার্ক শেষ পর্যন্ত তাঁর রচনাটি কেটেছেঁটে এই সংখ্যায় রাখতে রাজি হন নি (“God said, `Cancel Program GENESIS,’ The universe ceased to exist.”)। পাঁচজন সেরা গ্রাফিক ডিজাইনার প্রাপ্ত গল্পসমূহের ওপরে ড্রয়িং করেন এবং বাছাই করা মোট ৩৪টি গল্প নিয়ে নভেম্বর ২০০৬-এ ম্যাগাজিনটির একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সংখ্যাটির জন্য মোট জমা হওয়া ৯৩টি গল্পের বাকিগুলো অবশ্য ওয়েব সংস্করণে ঠাঁই পায়।
বিষয়টি হঠাৎই নজরে এলে আমি বিশেষভাবে চমৎকৃত হই। সাহিত্য নিয়ে কত বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষাই না হচ্ছে পৃথিবী জুড়ে। ছয় শব্দেও গল্প, তারও আবার বিশেষ সংখ্যা। মনে হলো লেখাগুলোর কয়েকটি রূপান্তর করবার চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। আমি দেখতে চাচ্ছিলাম, শব্দের সীমাটা ঠিক রেখে বা না-রেখেও বাংলায় কোনো রূপ ফোটানো আদৌ সম্ভব কি না, এবং যদিবা সম্ভব হয়ও তবে ফুটে ওঠা রূপটা পাঠককে আক্রান্ত করতে পারে কি না। বলাই বাহুল্য, আমি প্রায়ই শব্দসীমা ঠিক রাখতে পারি নি। তার সবটা অবশ্য আমার রূপান্তরে অক্ষমতার কারণে নয়, কিছুটা বাংলায় অর্থময়তা রক্ষার চেষ্টা এবং কিছুটা যোগাযোগের চেষ্টা থেকেই ওরকম করা হয়েছে। জানিয়ে রাখা ভালো, WIRED লেখাগুলোকে চিহ্নিত করেছিল Very short story হিসেবে। আমি বলছি অতি ক্ষুদ্র গল্প। মোট তিনটি কিস্তিতে আমার রূপান্তরিত গল্পগুল এখানে উপস্থাপিত হবে। আজ দেয়া হলো হার্ড ভার্সনে অন্তর্ভুক্ত গল্পগুলো থেকে মোট ১০টি।
মানুষ থাকার খরচ অনেক।
বুশ স্টারলিং
সমাধিলিপি : বোকা মানুষ, পৃথিবী থেকে পালাতে পারে নি।
ভারনর ভিঞ্জ
ওটা তোমার পেছনে! আগে ছোটো।
রকনে এস. ও'বেনন
মুজিব পূর্বে কখনো পায়ের আঙুল খায় নি।
কেভিন স্মিথ
মানবিকতা রক্ষার্থে তিনি আরেকবার মরেছিলেন।
বেন বোভা
তাকে বিয়ে করো না, বরং একটা বাড়ি কেনো।
স্টিফেন আর. ডোনাল্ডসন
খুবই সহজ, কেবল দিয়াশলাই স্পর্শ কর।
উরসুলা কে. লি গুইন
কেঁদো না সোনা, আমি তোমার ভবিষ্যৎ।
স্টিফেন বেক্সটার
তাকে পাবার আকুলতা। পাওয়া। ছি!
মার্গারেট এটউড
১৯৪৩। যুবক হিটলার। ধর্মসংগীতের মহাগুরু।
মিখাইল মোরকক

Phonetic
ফেভারিটে!
ধন্যবাদ।
তাকে পাবার আকুলতা। পাওয়া। ছি!
মার্গারেট এটউড-
এটা বেশ ভালো লেগেছে। এত সুন্দর একটি পোষ্ট দেবার জন্য মুজিব ভাইকে ধন্যবাদ।
উষ্ণতা বোধ করছি।
দুঃখিত মাহমুদ ভাই, খুব আনাড়ির মতো একটা কাজ করে ফেলেছি। পোস্ট এডিট করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল। সমস্যা দূর করবার জন্য মডারেটরদের অনুরোধ করেছিলাম। যেহেতু ঠিক করে দেয়া হয়েছে তাই সংশ্লিষ্ট কমেন্ট মুছে ফেলতে গিয়ে আপনার মূল্যবান কমেন্টটিও মুছে গেছে। খুব অপরাধবোধ হচ্ছে, মাফ করবেন।
আপনার কমেন্টে আপনি মার্গারেট এটউড-এর 'তাকে পাবার আকুলতা। পাওয়া। ছি!'-এর বিস্তারণ করেছিলেন। আবার করবার ক্ষেত্রে যদি খুব বিরক্ত বোধ না করেন, তাহলে কখনো করে দেবেন দয়া করে।
আপনার কমেন্টের জবাবে মাভেরিকের করা কমেন্টটাও দেখছি নেই। কী যে সর্বনাশ করলাম! এই মোছামুছির চেষ্টাটা করাই ঠিক হয় নি একদম।
না, আর করব না।
খুবই চমৎকার পোস্ট। প্রিয়তে রাখলাম। শুভেচ্ছা রইলো।
ধন্যবাদ। পরের দুই কিস্তিও পড়বার আমন্ত্রণ রইল।
নতুন ধারা, ভাল লাগলো।
ধন্যবাদ আপনাকে।
আমাদের কাছে নতুন লাগছে, আসলে তো অনেক আগে থেকেই হচ্ছে এসব। হেমিংওয়ে কত আগে লিখেছেন দেখুন।
কমেন্ট মডারেশন প্যানেল থেকে মাহমুদ ভাইয়ের কমেন্টটা কুড়িয়ে আনা গেল।
মাহমুদ বলেছেন:
'আমি আপনার জন্য একটা গল্প একটু বড় করে দিলাম :
মূল : তাকে পাবার আকুলতা। পাওয়া। ছি!
মার্গারেট এটউড
কছুটা বড় : তাকে পাবার কি আকুলতা ছিলো একটা সময়! মনে আছে তার জন্য, তাকে কাছ পাবার জন্য ঈশ্বরের কাছে কত কেদেছি। বাবা, মার কত মার খেয়েছি, পরশীর কত নিন্দা শুনেছি। একদিন তাকে কাছ পেলাম। সব বাধা উপেক্ষা করে আমরা ঘর বাধলাম। কিন্তু হায়! একি হলো? ক্রমেই তার কুতসিত রুপটা ফুটে উঠলো। কথায় কথায় খোটা, মারধোর-পুরো অন্য এক মানুষ। ছি! মানুষ চিনতে আমি এত ভুল করলাম?'
এটাও পাওয়া গেল।
'
'মাভেরিক বলেছেন :
আরে মাহমুদ ভাই, আপনার ভ্রমণকাহিনী পড়ে কবে থেকে বতুতা সাং আর পোলোর সাথে ঘুরছি। কিন্তু এখনতো দেখি ভ্রমণে অনাবিষ্কৃত আরো অনেক সাহিত্যরস রয়ে গেছে।
এক লাইনের একটি বাক্য কেও আমরা এখানে গল্প বলে চালাচ্ছি
কিন্তু কেনো?
এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবেন হেমিংওয়ে। পারা উচিত এমনকি WIRED-এরও। আমরা তো রূপান্তর করেছি মাত্র। ভূমিকায় প্রেক্ষাপটটা পরিষ্কারভাবেই বলা আছে আশা করি।
ছোট গল্পকে এককালে গল্প বলা হতো না। অসম্পূর্ণতাই জীবন, তাই অনেক সময় অসম্পূর্ণতাই শিল্পের বাহন।