হাওয়ার ম্যান্ডোলিন

জানুয়ারি
১৬

এইসব নিয়ে থাকি

সময় ২০:৪৭:৩২

কবিতা

বলি লোহালিয়া অতিরূপকথা, তোমার প্যাঁচের ভিতরে সমাজ ও সংসার যেভাবে তরতর বেড়ে ওঠে বাঁচার নিয়মে, আমাকে সেভাবে তুমি রাখো, গাছের আদরে রাখো পাখি

দূরপ্রবাসের তীরে ফণা ধরা হাহাকার ছুড়ে ফেলি, ঢুকি মনের খোড়লে, ওখানে থাকেন যিনি, ভাব করি তার সাথে, তারে ছুঁয়ে যাই, ছুঁতে ছুঁতে যাই, দেখি ঢেউ নাচে হিয়ার বাতাসে আর নাচের মুদ্রার সাথে মেশে এসে জলের গলাও

ধানে-জলে মাখামাখি ভাটিজনপদে, হেসে ওঠে বাংলার দেহবল্লরি, এই রূপকাহিনির দেশে ভেসে যায় রাশি রাশি তরী সদা’গরি, উজানি বাতাসে ভেজা রয়ানির সুর ধেয়ে আসে, বিষণ্ন বাদামি

ঘুরি পথে পথে আর পথের পাথর বুকে এইসব নিয়ে থাকি, তা না হলে কার সাথে ভাগ করে নেব বলো কুড়ানো বেদনা, এতসব ...

জানুয়ারি
০৬

নন্দন প্রহার

সময় ১৫:৩৭:১৯

কবিতা

কটিভূষণ পরার মতো কেউ কি আজ আর নেই এই ভূ-ভারতে
অরব মেখলা, মানস-সমুদ্র সন্নিহিতা, একে একে উঠে যাচ্ছে তীরে
খাঁখাঁ শূন্যতার লেজ ধরে নেই-গ্রামে নামত ঝুলে থাকবে বলে

ছিলে বাহানার ধনী, নিবিড় বাহানা তুমি কর নি অথচ
ফুটে ওঠে লালসা কাহিনি এক মনের আনাচে

ভালোবাসি নিজেকেই বেশি এই অপবাদ কাঁধে নিয়ে
একটা বসন্ত পুরো হিমালয় পাড়ি দিয়ে ফিরেছি ঘুরেছি
লামার পাহাড় ধরে গম্ভীর তিব্বতে
কটিবন্ধে গাঁথা ছিল ভোঁতামুখ অহিংস তরবারি

তুমি কতদূর যাবে ওই বাতিকসমেত কোনো আনকোরা পথে
যদি দেখ নি পথের পাশে চিরপুষ্প একাকী ফুটেছে
পুরোটা শ্রাবণ জুড়ে বিলিয়েছে গন্ধ নিরলস

পথে নাম নিও চিরপথিকের
এই নাও মৃদুবিছা প্রেমচন্দ্রহার
মৌনতার ভাষাবলি নন্দন ...

ডিসেম্বর
০৭

এক আঙড়া প্রজ্জ্বলন

সময় ১৪:০০:৩৭

কবিতা

এক শ’ একটা বস্তুভার উচ্চে উঠিয়ে জেনেছি অহঙই মূল্যবান এ ক্যাকটাস বনে, অনিদ্র কাঁটার আঘাতে যত রক্তক্ষরণ, নিজস্ব নিভৃতে পোষে পাতার ক্লান্তিকে

সাহসের নাম পর্বতশিখর, ভয়েরে সমুদ্র বলি, কল্লোলগুলো স্থিতিনাশী, কেতকি ফলের কাছে করুণা ভিক্ষা চেয়ে তিল তিল বেঁচে থাকার এ প্রার্থনাবাণী শুনিয়ে গেল বুঝি প্রহরপ্রতিমা

পরাহ্ণে আলোই ঈশ্বরী দেবী, ঘুমের ছায়ায় ছায়ায় বনের গরিমা সব পাতার গহনে যে রূপ ধরে রাখে, তারে দিতে পারে মূর্ত ক্ষমতা, তার বাণীগুলি ছড়ে’ থাকা অমোঘতা ভেঙে ডিমে কেন্দ্রিত জাগৃতি করে প্রভাবন, ধরে অনুকাল আকৃতি

নিঃস্ব রাত্রিকে করি জয়-জুলুমত, শরীরে থোকা থোকা ঝুলে থাকে লাল-লাল ফোলা-ফোলা ...

ডিসেম্বর
০৬

আত্মপক্ষ সমর্থনের মাত্রাতিরিক্ত সুযোগ থাকাটাই স্ব-মূল্যায়নের সবচে’ বড়ো সীমাবদ্ধতা

সময় ১৬:২১:১০

উভলিঙ্গ রচনা

বয়সানুপাতে এক্সপোজড কাজবাজ এত কম কেন ? এ কথা ভাবতে গেলেই বাইশ সংখ্যাটা খুব মনে পড়ে, আসলে একুশ, লোকজন কেন যে একুশ-আঙুলেদের মিছে বাইশ-আঙুলে বলে ডাকে, আগে কখনো তা ভেবেও দেখি নি, বলতেন তিনি, শুয়ে কখনো অঙ্ক কষবি না দোহাই, অথচ তাঁর প্রিয় ছাত্রদের একজন হয়েও, শুয়ে শুয়ে ভেবে, তুচ্ছ এ কবিজীবনের আমি, ১১টা ৫৮ প্রায় বাজিয়ে ফেলেছি, এবার আমার, কী বলো, নিশ্চয়ই ফেরা দরকার কোনো টেবিলের দিকে

‘বয়স কেবল সময় দিয়েই বাড়ে’-- এরকম এক বিকলাঙ্গ সত্যের সাথে আমরা বিনাবাক্যব্যয়ে বহুদিন সংসার করে যাচ্ছি, এবার ওকে জানান দেয়া দরকার যে ভ্যালিড আরো ফ্যাক্টর আছে, বয়স কত হলে এক্সপোজার কত চাই, এরও অবশ্য কোনো মানদণ্ড নেই, সর্বজনগ্রাহ্য, নানা মত ও ভাবকে আমলে নিয়ে আমরা গণতন্ত্রের ঢেকুর সামলাতে ভিতর দিক থেকে এত ব্যস্ত হয়ে পড়ি যে শিল্পসুনাম প্রযোজিত মানুষ এবং মানুষ প্রযোজিত শিল্পসুনামের মধ্যে কোনটি বেশি অর্থবহ শিল্পীর জীবনে, মত স্থির করতে করতে সে সিদ্ধান্তে, বেলা বেশ বেড়ে যায়

ভাষাটাই বড়ো ব্যর্থতা ব্যর্থ লেখকের, সব বলবার কথা ধরা দেয় না সব ভাষায়, এ কথা যে যত আগে বোঝে, সে তত পথ হাঁটে দাপটের সাথে, বেশি মশলায় কষানো অখাদ্যের ...

ডিসেম্বর
০২

অতি ক্ষুদ্র গল্প : চতুর্থ কিস্তি

সময় ২৩:৩২:০৭

শুরুতে বলেছিলাম, WIRED ম্যাগাজিন থেকে নেয়া অতি ক্ষুদ্র গল্পগুলোর বাংলা রূপান্তর নিয়ে মোট তিনটি পোস্ট দেব। ইতোমধ্যে তিন কিস্তি পোস্ট করা হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে, ঝেড়েবেছে আরো একটা পোস্ট দেয়া যায়। কাজেই বোনাস হিসেবে রইল এই চতুর্থ কিস্তিটাও।

আগের পোস্ট তিনটি দেখতে চাইলে, এখানে ঢুঁ মারতে পারেন--

অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তি
অতি ক্ষুদ্র গল্প : দ্বিতীয় কিস্তি
অতি ক্ষুদ্র গল্প : তৃতীয় কিস্তি

ভেবেছি আমি ঠিক ছিলাম, ছিলাম না ?
গ্রেইমি গিবসন

স্টিভ সম্পাদকের দেয়া শব্দসীমা লঙ্ঘন করল, এবং...
স্টিভেন মেরেটস্কি

নিষ্ফলা দিন, নিষ্ফলা জীবন। মরুভূমি, হায়!
স্টিভেন মেরেটস্কি

আমরা সৌরগমন করলাম, সূর্য করল নোভাগমন।
ক্যান ম্যাকলিউড

সমাধিলিপি : তার এটা ভোজনে লাগানো উচিত নয়।
ব্রিয়ান হারবার্ট

অট্টালিকা চূড়া থেকে আলো প্রক্ষিপ্ত হলো। মানুষের গজাল পাখা।
গ্রেগরি মেগুইরি

তোমার বাড়িটা আমার : পুতুপুতু বিপ্লব।
হাওয়ার্ড ওয়ালড্রপ

ডিসেম্বর
০১

অতি ক্ষুদ্র গল্প : তৃতীয় কিস্তি

সময় ১৬:২৫:৪৩

রূপান্তর

অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথমদ্বিতীয় কিস্তিতে মোট ২০টি (১০+১০) গল্প পোস্ট করা হয়। এ কিস্তিতে আরো ১০টি পোস্ট করা হলো। গল্পগুলো WIRED ম্যাগাজিনের মুদ্রণ ও ওয়েব সংস্করণ থেকে নেয়া।

স্বর্গেরও পতন হয়। বিস্তারিত ১১-এ দেখুন।
রবার্ট জর্ডান

তিনি তার মৃত্যু সংবাদ পড়লেন স্বীকারোক্তিসহ।
স্টিফেন মেরেজোকি

হারানো, আবার খুঁজে পাওয়া। খুব খারাপ।
গ্রেইমি জিবসন

তবে সে তৃতীয়বারের মতো চেষ্টা করেছিল।
জেমস পি ব্লে লক

লেখাটায় শব্দ খরচ হয়েছে মাত্র ছয়টা।
গ্রিগরি মেগোইরি

টেনে আলখাল্লা খোলা হলো। প্রধান, ক্রমশ মলিন।
জন হোয়েডন

আমি মৃত, তোমার কথা মনে পড়ছে খুব। ...চুমো ?
নেইল গেইমান

ডরোথি বলল, গুল্লি মারি, আমি এখানেই থাকব।
স্টিফেন মেরেজোকি

আমি বিশ্বাস করতে পারি না যে সে আমায় গুলি করতে পারে।
হাওয়ার্ড সায়কিন

আমরা চুমালাম, সে গলে গেল। এবার ঝেঁটাও।
জেমস পেট্রিক ...

নভেম্বর
২৮

অতি ক্ষুদ্র গল্প : দ্বিতীয় কিস্তি

সময় ০০:১০:০২

রূপান্তর

নভেম্বর ২০০৬-এ আমেরিকা থেকে প্রকাশিত WIRED ম্যাগাজিনের একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। ওটি ছিল তাদের মতে Very short stories-এর একটি সংকলন। ম্যাগাজিনটির ওই বিশেষ মুদ্রণ সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ১০টি লেখার বাংলা রূপান্তর আমার গত পোস্টে প্রকাশিত হয়। ওই পোস্টটিরই দ্বিতীয় কিস্তি আজ প্রকাশিত হলো। এ কিস্তিতে অন্তর্ভুক্ত ১০টি লেখা মুদ্রণ ও আন্তর্জাল উভয় সংস্করণ থেকে গৃহীত। যাঁরা এ বিষয়ক আমার প্রথম পোস্টটি দেখেন নি বা/এবং গল্পগুলোর রচনা ও বাংলায় রূপান্তরণের পটভূমি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা পেতে চান, তাঁরা দয়া করে অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তিতে ঢুঁ মারলেও মারতে পারেন।

মহাশূন্যে সংঘর্ষ, কক্ষসমূহ বিদীর্ণ, বিদায়, ভালোবাসা।
ডেভিড ব্রিন

বুশ সত্য বলল, নরক ঘনীভূত হলো।
উইলিয়াম গিবসন

ইরাকে গিয়ে ফিরেছে প্রতি তিনজনে একজন।
গ্রেইমি গিবসন

এটায় চলবে (অলস লেখক শুধালেন) ?
কেন ম্যাকলিওড

আমরা সীমা অতিক্রম করলাম, তারা আমাদের মেরে ফেলল।
হাওয়ার্ড ওয়ালড্রপ

লেইয়া : বাচ্চাটা তোমার। লিউক : দুঃসংবাদ।
স্টিভেন মেরেজোকি

তার পুরুষাঙ্গ ভেঙে গেছে, ...

নভেম্বর
২৬

অতি ক্ষুদ্র গল্প : প্রথম কিস্তি

সময় ১৩:৪৪:২১

রূপান্তর

হেমিংওয়ে একদা মাত্র ছয়টি শব্দে একটি গল্প লিখেছিলেন (For sale: baby shoes, never worn), যেটিকে তিনি তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে গণ্য করতে বলেছিলেন। এই ইতিহাসকে পুঁজি করে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত WIRED ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ ২০০৬ সালে মুদ্রণ, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র ও গেমস জগতের সায়েন্স ফিকশন, ফ্যান্টাসি ও হরর লেখকদের এরকম আয়তনের গল্প লিখবার আমন্ত্রণ জানায়। তাদের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কয়েক ডজন লেখক তাঁদের বিবেচনায় উৎকৃষ্ট রচনাটি লিখে দেন। অবশ্য আর্থার সি ক্লার্ক শেষ পর্যন্ত তাঁর রচনাটি কেটেছেঁটে এই সংখ্যায় রাখতে রাজি হন নি (“God said, `Cancel Program GENESIS,’ The universe ceased to exist.”)। পাঁচজন সেরা গ্রাফিক ডিজাইনার প্রাপ্ত গল্পসমূহের ওপরে ড্রয়িং করেন এবং বাছাই করা মোট ৩৪টি গল্প নিয়ে নভেম্বর ২০০৬-এ ম্যাগাজিনটির একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হয়। সংখ্যাটির জন্য মোট জমা হওয়া ৯৩টি গল্পের বাকিগুলো অবশ্য ওয়েব সংস্করণে ঠাঁই পায়।

বিষয়টি হঠাৎই নজরে এলে আমি বিশেষভাবে চমৎকৃত হই। সাহিত্য নিয়ে কত বিচিত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষাই না হচ্ছে পৃথিবী জুড়ে। ছয় শব্দেও গল্প, তারও আবার বিশেষ সংখ্যা। মনে হলো লেখাগুলোর কয়েকটি রূপান্তর করবার চেষ্টা করে দেখা ...

নভেম্বর
২০

মুহূর্ত নির্মিতি

সময় ২০:৪০:৪৯

কবিতা

৬ নভেম্বর ১৯৯৫। বাসে করে ঢাকা থেকে খুলনা যাচ্ছি, জীবনে প্রথম। ওটাই প্রথম অত দীর্ঘ ভ্রমণ আমার। কবিতার সাথে তখন মাত্র অর্ধযুগের দহরম মহরম। যা দেখি তাই সুন্দর লাগে ধরনের বয়স। পরবর্তী জীবনের অভিজ্ঞতায় দু'য়েকটা বিশেষ ব্যতিক্রমী অঞ্চল ছাড়া গোটা দেশের ভূ-প্রকৃতিকেই প্রায় একইরকম মনে হলেও, সেবার আমার চোখে বৈচিত্র্যের আর শেষ ছিল না যেন। বাসের জানালাগুলো খুবই চঞ্চল হয়ে উঠেছিল একজোড়া তৃষ্ণার্ত চোখের নাচুনিতে। বসেছি একপাশের জানালায়, কিন্তু বারেবারেই মনে হচ্ছিল, আহা, ওপারে বুঝি অদেখা রয়ে যাচ্ছে কোনো বিরল সুন্দর! বাসের যাত্রীদের মধ্যকার কেউ কেউ যাত্রার খানিক পর থেকেই সশব্দে ঘুম যাচ্ছিল, আমার পোড়াচোখের ওই দুর্মতি ছিল না। বরং এ জানালা থেকে ও জানালা, এই বাম তো এই ডান, এই আবার সম্মুখ। এর মধ্যেই কখন যে কাগজ-কলম বের করে নিয়েছিলাম খেয়ালই করতে পারি নি। এটা ওরকম বয়সেই সম্ভব। এখন তো মাথায় কবিতা কিলবিল করলেও জনসমক্ষে কাগজ-কলম বের করে লিখে ওঠা হয় না কিছুই। মাত্র যুগটাক ব্যবধানেই মানুষ কত বদলে যায়! কিন্তু সেবার, মনে পড়ে, যশোর অবধি গিয়ে খাতার পাতার শাদাকে অন্ধকার এসে একেবারে গ্রাস করে নেবার আগপর্যন্ত ...

নভেম্বর
০৮

‌'নির্মমতার ছকে বাঁধা সৌন্দর্য-- বেজির বালের মতো হাসে'

সময় ২২:০২:০৪

প্রবন্ধ


এই রচনাটি বদরুজ্জামান আলমগীর রচিত অহরকণ্ডল নামধেয় একটি টেক্সটকে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা। পরবর্তীসময়ে এটি কামালউদ্দিন কবিরের নির্দেশনায় জন্মসূত্র-এর প্রথম প্রযোজনা হিসেবে মঞ্চসফল হলেও মঞ্চায়ন বিষয়ে এই রচনায় কোনো মূল্যায়ন হাজির করা হয় নি।

প্রথমেই বলে নেয়া ভালো যে, এই টেক্সট, অহরকণ্ডল, আলোচনার জন্য খুব উপাদেয় বস্তু নয়। এর মধ্যে সেই ধরনের বেপরোয়াপনা লক্ষণীয়, যা সৃজনশীল রচনার অ্যাকাডেমিক সীমারেখাকে থোরাই কেয়ার করে, যা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখাপল্লির প্রচলিত ডাকনাম--- কবিতা, নাটক, গল্প ইত্যাদি কোনোটি শুনেই ঘাড় কাত করে পুরোপুরি সায় দেয় না বরং নাখোশ হয়েছে এরকম আচরণ করে। না থাকলেও চলত, কিন্তু তবু এর ওপরেও একটি গোত্রনাম-- 'দৃশ্যকাব্য', অর্থাৎ দৃশ্যং তত্রাভিনেয়ম, চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কারণ বস্তুপৃথিবীর সকল কিছুরই একটা না একটা গোত্রপরিচয় থাকতে হয়। থাকতে হয় এই অর্থে যে যারা এই গোত্রভেদগুলো করে, অর্থাৎ মানুষ, তারা অনির্দিষ্ট ও অশনাক্তকৃত কোনোকিছুকেই খুব একটা সহ্য করতে পারে বলে মনে হয় না। তাই পূর্বতন নারী-পুরুষ কর্তৃক কোনোকিছুর ভেদ-অভেদ স্থির না করা হলে নিজেরাই স্থির করে নেয়। ...

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫