শুক্রবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১০, ১৯ ভাদ্র, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

স্বাস্থ্য বিষয়ক ৪: সুস্থ জীবনের জন্য সুনিদ্রা

যান্ত্রিক জীবনের অতি ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় নেই অনেকের। অথবা হয়তো অনেকেই রাতের পর রাত ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের সামনে বসে পার করছেন। সকাল থেকে আবার পড়াশোনা বা অফিসের কাজ। ঘুমানোর অতো সময় কোথায়! কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম জীবনের জন্য, শরীরের জন্য, সুস্থতার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। রাতের নির্বিঘœ, গভীর ঘুম পরদিন মানুষকে চনমনে রাখে, দিন শুরু হয় নতুন শক্তিতে, নতুন উদ্দীপনায়। এসব আমরা জানি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পাশাপাশি ঘুমের আরও কিছু উপকারিতার কথা বলছেন, যেগুলো একটু অন্যরকম ও নতুন শোনালেও তা গবেষণা থেকেই পাওয়া।
গবেষকরা বলছেন, যারা কম ঘুমায়, তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। দেখা গেছে, যারা রাতে মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমায় তাদের দেহে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন বেশী নিঃসৃত হয়। এ নিঃসরণের পরিমাণ যারা ৮ ঘন্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে ১৫% বেশী। একই সাথে ক্ষুধা কমানোর হরমোনটিও কম নিঃসৃত হয়। বেশী ক্ষুধার কারণে এরা বেশী খায়, ফলে বেড়ে যায় তাদের বডি মাস ইনডেক্সও। তাই, ‘স্লিম ফিগারে’র জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম।
পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক দল ব্যক্তিকে পিয়ানো বাজানো শিখিয়ে তাদের দুই গ্র“পে ভাগ করে দেন। এক গ্র“প শেখার পরবর্তী ১২ ঘন্টা ঘুমায়, অপর গ্র“প এই ১২ ঘন্টা জেগে থাকে। পরবর্তীতে দেখা যায়, যারা ঘুমিয়েছিল, তারা পিয়ানোতে সঠিক সুরটি তুলতে বেশী পারঙ্গমতা দেখিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বিজ্ঞানীরা বলেন, এ সময় অন্য কোন তথ্য বা কাজ তাদের ব্রেনকে ব্যস্ত না রাখায় শেখা সুরটি স্মৃতিতে ভালভাবে গেঁথেছে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সুনিদ্রা প্রয়োজন। যখন আমরা ঘুমিয়ে থাকি, তখন দেহে ‘মেলাটোনিন’ হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ক্যান্সার-প্রতিরোধী এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও। দেখা গেছে, যেসব মহিলা রাতে কাজ করেন, তাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার ঝুঁকি ৭০ গুণ বেশী। এছাড়া রাতের পর রাত জেগে থাকা মানুষের গ্যাস্ট্রিক আলসারের সম্ভাবনাও বেশী থাকে। কারণ, গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পাকস্থলীর কোষকে রক্ষা করে যে রাসায়নিক পদার্থ- তা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই বেশী নিঃসৃত হয়।
বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতেও ঘুমের ভূমিকা উল্লেখ্যযোগ্য। রাতের পর রাত নিদ্রাহীনতা বার্ধক্যজনিত রোগের তীব্রতা বাড়ায়। অপরদিকে, গবেষকরা দেখেছেন, যারা রাতে গড়ে ৬-৭ ঘন্টা ঘুমায়, তারা সাড়ে চার ঘন্টার কম ঘুম যাদের, তাদের চেয়ে বেশীদিন বাঁচে।
অন্যদিকে, টিন এজারদের নিদ্রাহীনতা তাদের জীবন বিশৃংখল করে তুলতে পারে। এরা অন্যদের চেয়ে বেশী বিষণœতায় ভোগে ও কম আত্মবিশ্বাসী হয়। চিকিৎসকরা বলেছেন, যারা ছোটবেলায় নিদ্রাহীনতায় ভোগে, তাদের বয়ঃসন্ধিকালে মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের তুলনায় দ্বিগুণ।
তাই, জীবনকে অতি ব্যস্ততায় জড়িয়ে না ফেলে নিজের বিশ্রামের জন্য সময় বের করুন, পর্যাপ্ত সময় ঘুমান। যাপন করুন সুস্থ, নীরোগ, দীর্ঘ জীবন।
(রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে)

সূত্র: দৈনিক আমার দেশ ২-২-২০১০
১০ টি মন্তব্য
rangeela রঙের মানুষ রঙ্গীলা (সুজা)০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০৭:৫৩
ধন্যবাদ সুন্দর পোস্টের জন্য।
ভাল থাকুন।
muntasirmaruf মুনতাসীর মারুফ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০১:০৮
ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকুন।
fakir007 ফকির আব্দুল মালেক০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০৮:০২
ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য। ঠিক কতক্ষণ ঘুমালে সঠিক বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন? অতিরিক্ত ঘুম কি সু-স্বাস্থ্য বইয়ে আনে?
muntasirmaruf মুনতাসীর মারুফ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০১:১০
কমপক্ষে ৬ ছয় ঘন্টা বলেন বেশীরভাগ। বেশী ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না।
linajambil লিনা জামবিল০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০৮:০৫
যথোপযুক্ত পোস্ট--- ধন্যবাদ ------------
muntasirmaruf মুনতাসীর মারুফ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ১২:৪৩
ধন্যবাদ।
kutubi নিজাম কুতুবী০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ১০:২২
ধন্যবাদ সুন্দর হইল। আপনে ডাঃ কিনা বলুনতু?
muntasirmaruf মুনতাসীর মারুফ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ১২:৪২
ধন্যবাদ আপনাকেও। হ্যাঁ, ঢাকা মেডিকেল থেকে পাস করেছি - প্রায় ৬ বছর হলো।
mou মৌসুমী দত্ত০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ১০:৫৮
ধন্যবাদ তথ্যের জন্য।
আমি ঘুমাতে খুবই পছন্দ করি।
muntasirmaruf মুনতাসীর মারুফ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১০, ০১:১১
ধন্যবাদ। ঘুম আমারো পছন্দের। বেশী ঘুমানো কিন্তু স্বাস্থ্যের জন্য ভাল না।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment