ফেব্রুয়ারি
২৫

স্বাস্থ্য বিষয়ক ৫: স্বাস্থ্যকর ভালবাসা

সময় ২০:৩৭:০৮

প্রকৃত অর্থে ভালবাসার কোন মৌসুম নেই, কোন নির্দিষ্ট দিন-মাস নেই। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষার জন্য ভালবাসা আটকে থাকে না। ভালবাসার অনুভব কারো মনে সঞ্চারিত হতে পারে যে কোন সময়। তবুও এই ফেব্র“য়ারী মাসে ভালবাসা বিশেষ আবেদন নিয়ে আমাদের হৃদয়কে আন্দোলিত করে। কারণ, এই মাসেরই ১৪ তারিখ পৃথিবীর তাবৎ প্রেমিক-প্রেমিকা, ভালবাসার সকল পূজারী পালন করে ভালবাসার দিন, ভ্যালেন্টাইনস ডে। এ মাসেই আমাদের দেশে ফাল্গুনের সূচনা, বসন্তের আবির্ভাব।
সর্বব্যাপী এই ভালবাসা কেবল প্রেমিক-প্রেমিকা বা কবি-সাহিত্যিকদেরই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু নয়, বিজ্ঞানী ও গবেষকদেরও এর প্রতি রয়েছে প্রবল আগ্রহ। তবে তাদের আগ্রহের কারণটা ভিন্ন এবং বলতে পারেন, নন-রোমান্টিকও। মানব-স্বাস্থ্যের উপর ভালবাসার প্রভাবই তাদের প্রধান ঔৎসুক্য। তাদের গবেষণালব্ধ ফল ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য উদ্দীপকই বটে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভালবাসা স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক। তবে, এখানে ভালবাসা বলতে আকর্ষণের প্রাথমিক উদ্দামতা, মোহগ্রস্ততা বা কেবলমাত্র নর-নারীর আদিম প্রেমকে বোঝানো হচ্ছে না। ভালবাসা বলতে অন্তরঙ্গ ও উপভোগ্য একটি স্থায়ী ...

ফেব্রুয়ারি
১০

নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৯ : ‌'ভালবাসাঃ শুধুই রসায়ন?' - সাপ্তাহিক ২০০০

সময় ১৯:৫৫:৩২

সাপ্তাহিক ২০০০, ভালবাসা দিবস সংখ্যা, ২০১০ এ প্রকাশিত ফিচারের অ- (পরি/সং)শোধিত ও অ-(পরি)মার্জিত সংস্করণ...........

ওর মুখোমুখি হলেই আমার জগৎটা কেমন যেন এলোমেলো হয়ে যায়। খুব দূর থেকে যদি ওর ছায়াটাও চোখে পড়ে, বুকের ভেতরটায় কেমন যেন অদ্ভূত এক আবেশ ছড়ায়। কখনো শূন্যতা জাগে, কখনো মনে হয় যেন বেড়াল খামচে ধরেছে ভেতরটা, ধড়ফড় করে বুক- আমি নিজ কানেই শুনতে পাই সেই ধুকপুকানি। পেটের ভেতরের প্রত্যঙ্গগুলো যেন জীবন্ত হয়ে নড়তে শুরু করে। জিহ্বা শুকিয়ে আসে, গলার ভেতরটায় হাজার বছরের না-মেটা তৃষ্ণা। হাত-পা ঝিম ঝিম করে, হঠাৎ করে যেন শক্তিহীন শরীরটা। তবু ভাল লাগে সেই অনুভব। কাছে থাকে না যখন, ওর চিন্তাই ঘিরে থাকে মন। অন্য কিছুই ভাবতে পারি না। ভাবতে চাই, দৈনন্দিন কাজগুলোয় মনোযোগ দিতে চাই- কিন্তু কোত্থেকে যেন ওর ভাবনাটাই হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে মগজের কোষে কোষে। ঘুম-কাতুরে এই আমার ঘুম যেন কোথায় হারিয়ে যায়। ওর সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলে কাটে বিনিদ্র রজনী - কিন্তু ক্লান্তি জাগে না তারপরও।
কি হয়েছে আমার?
প্রেমে পড়েছি? গভীর ভালবাসায় জড়িয়েছি?
জগতের তাবৎ রোমান্টিক মানুষ, কবি-সাহিত্যিকরা তা-ই বলবেন।
কিন্তু ...

ফেব্রুয়ারি
০৯

স্বাস্থ্য বিষয়ক ৪: সুস্থ জীবনের জন্য সুনিদ্রা

সময় ১৯:৪৬:০৮

যান্ত্রিক জীবনের অতি ব্যস্ততায় পর্যাপ্ত ঘুমানোর সময় নেই অনেকের। অথবা হয়তো অনেকেই রাতের পর রাত ফোন, কম্পিউটার, ইন্টারনেটের সামনে বসে পার করছেন। সকাল থেকে আবার পড়াশোনা বা অফিসের কাজ। ঘুমানোর অতো সময় কোথায়! কিন্তু পর্যাপ্ত ঘুম জীবনের জন্য, শরীরের জন্য, সুস্থতার জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয়। রাতের নির্বিঘœ, গভীর ঘুম পরদিন মানুষকে চনমনে রাখে, দিন শুরু হয় নতুন শক্তিতে, নতুন উদ্দীপনায়। এসব আমরা জানি। কিন্তু বিজ্ঞানীরা এর পাশাপাশি ঘুমের আরও কিছু উপকারিতার কথা বলছেন, যেগুলো একটু অন্যরকম ও নতুন শোনালেও তা গবেষণা থেকেই পাওয়া।
গবেষকরা বলছেন, যারা কম ঘুমায়, তাদের মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। দেখা গেছে, যারা রাতে মাত্র ৫ ঘন্টা ঘুমায় তাদের দেহে ক্ষুধা উদ্রেককারী হরমোন বেশী নিঃসৃত হয়। এ নিঃসরণের পরিমাণ যারা ৮ ঘন্টা ঘুমায় তাদের চেয়ে ১৫% বেশী। একই সাথে ক্ষুধা কমানোর হরমোনটিও কম নিঃসৃত হয়। বেশী ক্ষুধার কারণে এরা বেশী খায়, ফলে বেড়ে যায় তাদের বডি মাস ইনডেক্সও। তাই, ‘স্লিম ফিগারে’র জন্য চাই পর্যাপ্ত ঘুম।
পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা এক দল ...

ফেব্রুয়ারি
০৮

নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৮ : 'রাতের রাস্তায়' - রহস্যপত্রিকা

সময় ২০:০০:০৫

(রহস্যপত্রিকা, ফেব্রুয়ারী, ২০১০ সংখ্যায় প্রকাশিত)
ডেটলাইন - ৩০ আগস্ট, ২০০৮। রাত্রি সাড়ে নয়টা। মৌচাকের সম্মুখ হইতে রিক্সা লইলাম। দুর্বল-পাতলা-রোগা ধরণের চালক। তবে চলিল মোটামুটি স্বাভাবিক গতিতেই। ডুবিয়া ছিলাম আকাশ-কুসুম কল্পনায়। রিক্সাটি যখন মালিবাগ বাজার ছাড়াইয়া খিলগাঁওয়ের দিকে যাইতেছিল, কল্পনা ভঙ্গ হইলো পার্শ্ববর্তী অপর এক তিন চাকার যান হইতে জনৈক যাত্রীর কথা শুনিয়া। আমার চালককে উদ্দেশ্য করিয়া তিনি বলিলেন, ‘ওহে বাপু, দেখিয়া শুনিয়া থুথু নিক্ষেপ করিও। তুমি যে আমার হস্তে তোমার মুখ-নিঃসৃত জলীয় পদার্থ প্রক্ষেপন করিয়াছ!’ (কথাবার্তা সকলই চলিত, কথ্য ভাষায় হইয়াছিল। রচনারীতির সুবিধার্থে এইরূপ পরিবর্তন ক্ষমার চোখে দেখিবেন আশা করি)।
আমি পীড়িত বোধ করিলাম। আহা! লোকটি নিতান্তই ভদ্রগোছের। রিক্সাচালক এতবড় অপরাধ করা সত্ত্বেও তিনি বিন্দুমাত্র কুপিত না হইয়া স্বাভাবিক স্বরে তাহাকে বুঝাইবার চেষ্টা করিতেছেন!
তবে, আমার রিক্সাচালক ঐ যাত্রীটির প্রতি ভ্রƒক্ষেপও করিল না। যেন সে উহার কথা শুনিতেই পায় নাই। ইহাতে ঐ যাত্রীটি কিছুটা মনক্ষুণœ হইলেন বলিয়া বোধ হইলো। তিনি স্বর একটু উঁচু করিয়া ...

জানুয়ারি
২৪

স্বাস্থ্য বিষয়ক ৩: শীতে সুস্থ থাকুন

সময় ১৪:১২:২৭

কথায় আছে, মাঘের শীতে বাঘও কাঁপে। এসে গেছে হাড় কাঁপানো শীতের সেই মাঘ মাস। কিন্তু এর আগেই এক দফা শৈত্যপ্রবাহ ছুঁয়ে গেছে আমাদের। শুধু ছুঁয়ে গেছে বললে ভুল হবে, হাড়ে হাড়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তার কাঁপন। শীতের এই তীব্রতায় বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগবালাইও। জ্বর, হাঁচি, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, হাঁপানী, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কিওলাইটিস, কনজাংটিভাইটিস, কোল্ড ডায়রিয়া, আমাশয়, খুশকি, খোঁসপাচড়াসহ দেখা দিচ্ছে শীতকালীন নানা রোগ। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেশী হচ্ছে। এ জন্য প্রয়োজন পড়ছে বাড়তি সতর্কতার, বাড়তি যতেœর।
শীতের রোগগুলি সাধারণত ভাইরাস ও অ্যালার্জিজনিত কারণে হয়ে থাকে। ব্যাকটিরিয়াজনিত কারণেও কিছু রোগ হতে পারে। আরো সমস্যা হচ্ছে, দায়ী জীবাণুগুলো খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। ধূলো-বালি, আক্রান্তের হাঁচি-কাশির মাধ্যমে, অথবা দৈনন্দিন খাবার বা ব্যবহার্য জিনিস থেকে। তবে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে অনেকটাই নিরাপদ থাকা সম্ভব।

ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন
যতটা সম্ভব ঠান্ডা বাতাস এড়িয়ে চলুন এবং শিশুকেও ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে রাখুন। ঠান্ডার সময় গরম কাপড় পরুন, এমনকি ঘরের ভেতরেও। পাকা মেঝের ঠান্ডা ...

  • ৩টি মন্তব্য

জানুয়ারি
২১

স্বাস্থ্য বিষয়ক ২ : কেন হাঁটবেন?

সময় ০১:৫৩:০৩

স্যাটেলাইট চ্যানেলের কল্যাণে বিদেশী একটি মোবাইল ফোন কোম্পানীর বিজ্ঞাপন দেখে থাকবেন অনেকেই। ঐ বিজ্ঞাপনের মূল স্লোগান হচ্ছে ‘ওয়াক এন্ড টক’। অর্থাৎ কি না মোবাইল ফোনে কথা বলার সময়টুকুতে হাঁটুন। ফোন কোম্পানীগুলোর নানা ‘অফারে’র বদৌলতে মোবাইলে কথা বলার প্রবণতা যে ব্যাপকহারে বেড়েছে - এ কথা অনস্বীকার্য। এমনকি অনেককে বিছানায় গা এলিয়ে অথবা সোফায় পিঠ হেলিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনে এই কথা বলার সময়টুকুতে বসে বা শুয়ে না থেকে হাঁটতে হাঁটতে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়। এবং বিজ্ঞাপনের শেষাংশে দেখানো হয়, এই অভিনব ‘আইডিয়া’ অনুসরণের ফলে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা শারীরিকভাবে আগের চেয়ে অনেক বেশী ‘ফিট’ হয়ে উঠেছেন।
মূলতঃ আলোচ্য কোম্পানীর প্রচারণার জন্যই বিজ্ঞাপনটির সৃষ্টি, কিন্তু এর অন্তর্নিহিত বক্তব্যটিও রসিকতার ঢং-এ উপস্থাপিত হলেও বেশ গুরুত্ব বহন করে। অনেক আগে থেকেই চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা মেনে আসছেন, হাঁটাই সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম - ডধষশরহম রং ঃযব করহম ড়ভ ঃযব বীবৎপরংব। সব বয়সের মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী এ ব্যায়ামটি সবচেয়ে কম খরচে শারীরিকভাবে সবচেয়ে ভাল ...

ডিসেম্বর
২০

নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৭ : ইন্টারনেট অ্যাডিকশন ডিসঅর্ডার - সাপ্তাহিক ২০০০

সময় ১৬:৪৫:৫৫

ভালবেসেই বিয়ে হয়েছিল ব্রেন্ডা-এরিকের। দশ বছর ধরে সুখেই ছিল আমেরিকান এই দম্পতি। তারপর একদিন ব্রেন্ডার পরিচয় ঘটে ইন্টারনেটের সাথে। তার সামনে খুলে যায় এক নতুন জগত। ধীরে ধীরে অন্তর্জালের মায়াবী জগত আর ‘চ্যাটিং’ হয়ে ওঠে তার ধ্যান-জ্ঞান। শুধু বাথরুমে যাওয়া আর খাওয়ার সময়টুকু ছাড়া বাকী সময় তার কাটে কম্পিউটারের সামনে। রাতে সে যখন শুতে যায়, এরিক গভীর ঘুমে তলিয়ে গেছে তারও কয়েক ঘন্টা আগে। তাদের দাম্পত্য জীবনে ফাটল ধরে। নেট নিয়ে প্রতিদিন তাদের মাঝে খিটিমিটি লেগেই থাকে। এরিক বহুবার চেষ্টা করে ব্রেন্ডাকে আগের জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে। কিন্তু ব্রেন্ডার কোন পরিবর্তন হয় না। সে বরং বলে - ‘ইন্টারনেট এখন আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি এটা ছাড়তে পারবো না, এমনকি এরিকের জন্যেও না।’
ব্রাজিলের সাওপাওলোর ১৫ বছর বয়সী কিশোরের কাহিনীটি আরও উদ্বেগের। এ বছরের মার্চ মাসে প্রকাশিত এক গবেষণা-প্রতিবেদনে নাম উল্লেখ না করে তার বর্ণনা দেয়া হয়। ঐ কিশোর ২ বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ১২-১৮ ঘন্টা বাড়িতেই থাকতো, শুধুমাত্র ইন্টারনেট নিয়ে। এমনও হয়েছে, টানা ৩৮ ঘন্টা ধরে সে রয়েছে ভার্চুয়াল জগতে। শুরুর পর ধীরে ধীরে ...

নভেম্বর
১৯

নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৬: পতিতাবৃত্তির বর্তমান প্রবণতা - সাপ্তাহিক ২০০০

সময় ১৫:২৭:১৭

সহস্রাব্দ-প্রাচীন এই পেশাটি সমাজের কাছে প্রকাশ্যে নন্দিত হয়নি কখনো, কিন্তু সমাজেরই একাংশের প্রয়োজনে ও পরোক্ষ প্রণোদনায় এই পেশা নিয়ত বর্তমান। রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তৃতির সময়ে পরাজিত প্রতিপক্ষের অসহায় নারী ও শিশুদের ধরে এনে এ পেশায় নিযুক্ত করা হতো। বিজিত শত্র“পক্ষের ছোট বালিকাদের নির্দিষ্ট একটি এলাকায় বা বাড়িতে এনে তৈরী করা হতো এ পেশার উপযোগী করে। পুরুষের গোপন কামনা চরিতার্থের নিমিত্তে এদের লালন করা হতো। কিন্তু প্রকাশ্যে এই পেশাকে ধিক্কার জানাতো সবাই। সমাজের মূলস্রোত থেকে এদের বিচ্ছিন্ন রাখা হতো সকলভাবেই। মধ্যযুগে শহরের সীমানাদেয়ালের ভেতরে এদের কাজ করার অনুমতি দেয়া হতো না। তবে, শহর থেকে দূরে আলাদা নিজস্ব এলাকায় এই বৃত্তি চলতে পারতো। ফ্রান্স এবং জার্মানীর অনেক শহরে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা বা রাস্তায় এদের বিচরণ সরকারের কাছে সহনীয় ছিল, এর বাইরে নয়। পরবর্তীকালে দক্ষিণ ইউরোপে নির্দিষ্ট কিছু ব্রোথেল গড়ে ওঠে, যেখানে এই পেশাজীবীদের কাজে কেউ বিঘœ সৃষ্টি করতো না, তবে এর বাইরে পতিতাবৃত্তিকে আইনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হতো। যদিও তখনো পতিতাবৃত্তি আইনত অবৈধই ছিল।
একটা সময় ...

নভেম্বর
১৮

নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৫ : ‌'শুধু স্বপ্ন নয়' - রহস্যপত্রিকা

সময় ২৩:২৮:২৫

'রহস্য-পত্রিকা' নভেম্বর-২০০৯ সংখ্যায় ছাপা হওয়া গল্পের 'অ-(পরি)মার্জিত' ও 'অ-(পরি/সং)শোধিত' সংস্করণ ........
চোখ মেলে তাকাতেই অন্ধকার যেন চোরা শিকারীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে। চোখটা বুজে ফেলি। ধীরে ধীরে আবার খুলে অন্ধকারটা চোখে সইয়ে নেয়ার চেষ্টা করি। কম্বলের নিচে শরীরটা ঘামে ভিজে জব জব করছে। পঞ্জিকাবর্ষ অনুযায়ী এখন শীতকাল। যদিও ঢাকায় এখন মাঘেও সেই হিম ঠান্ডা খুব কমই পড়ে, তবে রাতে অন্তত কম্বল গায়ে জড়ানোর মতো হিম তো থাকেই। কিন্তু মাঘের এই শীতেও আমি ঘামছি কুল কুল করে। গায়ের উপর থেকে কম্বলটা সরিয়ে উঠে বসি। জানালার কাঁচের শার্সি ভেদ করে আসা না-ফোটা আলো জানান দেয়, সূর্যের আগমন-বার্তা জানানো লালিমা পূব আকাশে দেখা দেয়ারও ঢের দেরী আছে। পাশের বিছানায় রাজ শুয়ে আছে, ওর হালকা আয়েশী নাক-ডাকার শব্দ কানে আসে। আবছা অন্ধকারে কিছুটা হাতড়ে জগ থেকেই সরাসরি পানি ঢালি গলায়। শ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসার অপেক্ষায় বসে থাকি কিছুক্ষণ ঝিম মেরে।
স্বপ্নটা আজ আবার আমি দেখেছি। ঘন আঁধারে জঙ্গলমতো একটা জায়গায় পরিত্যক্ত একটা কুঁড়েঘর। কুঁড়েঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে দুজন লোক। ক্যামেরা জুম করার মতো করে দুজনের চেহারাই যখন স্পষ্ট ...

নভেম্বর
০৭

‍নিজের ঢাক নিজেই পেটাই ১৪ : অন্যায় - 'ছুটির দিনে, প্রথম আলো'

সময় ১৫:০৩:২৩

হঠাৎ করেই বিশ্রী গন্ধটা নাকে লাগে, ঝট করে যেন মগজের ভেতরটা পর্যন্ত নাড়িয়ে দেয়। এই গন্ধটা সহ্যই করতে পারি না কখনো। মাথা দপ দপ করতে থাকে, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। উঠে দাঁড়িয়ে দেখি সামনের দুই সীট আগে বসা এক ভদ্রলোক (!) সিগারেট ধরিয়েছেন। গলার আওয়াজটা একটু উঁচু করেই বলি, ‘এই যে ভাই সিগারেট ধরালেন যে?’
‘তো?’ নির্বিকার ভঙ্গিতে উল্টো প্রশ্ন করেন ভদ্রলোক।
‘ট্রেনে সিগারেট ধরানো নিষেধ, এইটা আপনি জানেন না?’
লোকটি মুচকি হাসে, জবাব দেয় না, সিগারেট ধরা হাতটা কেবল কিছুটা জানালার দিকে এগিয়ে রাখে।
মেজাজ চড়ে যায়। - ‘দেখেন না কি লেখা আছে?’ বলে ‘প্রকাশ্যে ধূমপান আইনত দন্ডনীয়’ লেখাটা তাকে দেখিয়ে দিই- ‘আপনারা দেখি আইনও মানতে চান না। এখন পুুলিশ ডেকে আনি, জরিমানা করে দেবে আপনারে?’
লোকটি এবার বিরক্তি প্রকাশ করে - ‘কি শুরু করলেন ভাই? এই দেশে কে কয়টা আইন মানে? আপনি নিজেই কয়টা মানেন? ট্রেনের কারোই কোনো সমস্যা হইতেছে না, খালি আপনেই চিল্লাফাল্লা করতেছেন। অসুবিধা হইলে আমি সিগারেট শেষ করা পর্যন্ত আপনি একটু ঘুইরা আসেন।’
চরম ক্রোধে আমি বাক্য হারিয়ে ফেলি। সাহায্যের আশায় আশপাশে তাকাই। বেশীরভাগ যাত্রীই নিজ নিজ ...

  • ১৬টি মন্তব্য

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫