আয়না সুন্দর ও নীলছুরি
এক
আয়নায় যেই মুখ নীলছুরি তাঁর নাভি লাল
দুই
প্রতিদিন তাঁর তীরে দাঁড়ের শব্দে নিবিড় দৃষ্টি
লুফে নেয় বাহুডোর, সন্ধ্যা নামে ঠোটের কিনারে
তিন
মাঝিদের বাহুলগ্ন রোদমাখা দিন শেষে একা
একটা বেড়াল দেখি ঘরের মেঝেতে, বিছানায়
আঁচড় কাটে নিশিতে, নির্জনে তাকে আদর করি
চার
তাঁর নখের আঁচড়ে আমার দেহের সবকটা
জানালায় সূর্য ওঠে, আলোর পেরেকে ঝুলে থাকে
অসংখ্য পালক, সুর। শিহরণে কাঁটা গেঁথে রাখি
ভোরের স্নানে, পাখিরা উড়ে যায় আপেলের বনে
পাঁচ
উতলা বাতাসে যেই হাত রাখি বৃক্ষদের ডালে
সবুজের দাগ লেগে সেই হাত পাতা হয়ে যায়
কথা বলে ওঠে মেঘ, সুদূরের এক আওয়াজ
আমাকে জাগিয়ে রাখে তোমার খোপার অভ্যন্তরে
আমি জাগি নৈশলিপি লিখে একা আকাশে উড়াই
ছয়
একলা হলেই তুমি যে আকাশে ওড়ে নৈশলিপি
তার জ্বরতপ্ত দেহে একা খোঁজ শাদা মেঘমালা
আমি খুঁজি ফুলগন্ধ, দিগন্তের নীলাভ সুন্দরী।
ঘাড়ের ওপোর চাঁদ নেমে আসে, জানালার কাচে
বসে থাকে ঘুমহীন মুখেদের বিষাদের ছবি
ক্যামেরা তাদের মুখ দেখে তুলে রাখে দেওয়ালে
সাত
বর্ষা আসে যায় তবু তার ঘ্রাণ লেগে থাকে মনে
দেওয়ালে তার ছবি ফুটে ওঠে, তোমার কোমর
সেই ছবির শরীরে লেপটে থাকে, আমার স্নিগ্ধ
মাটির গন্ধ মনেতে উড়তে থাকে যার ঠিকানা
নাই কিনারাও নাই, নদী এসে ঘর ভরে তোলে
ঢেউয়ে মাতাল হয়ে আমার পুরনো প্রেমিকেরা
সবুজের জামাপরে উঠে আসে নির্জন ডাঙায়
আট
ক্ষেতের আড়ালে মায়া পরীদের ভিড়, নীল নখে
আমার জমানো রোদ, তাদের পিঠের যবক্ষেতে
হলদে বনে শিশির, আমার পা ভিজে ওঠে, হাতে
উড়ে এসে বসে টিয়ে, চোখের শহরে ভিড় করে
জোনাকিদের উল্লাস, এইসব আমি আয়নায়
দেখি, ছুরির গতরে জেগে ওঠে গ্রাম, বালুভূমি
রাখালদের গামছা, তবু ঘুম থেকে জেগে উঠে
দেখি সব ফাঁকা, মায়া। আমার শহর নাই মনে
নয়
নতুন রাস্তার পাশে আমি খুলে রাখি দেহতুলি
অজানা মেঘলা এসে আমাকে ভিজিয়ে দিতে চায়
ছুরির ধার খুবলে ঢুকতে চায় জামার চোখে
আমি কিছুই বলিনা মৌমাছিদের ঘরের কোণে
চুপ করে বসে থাকি ভাবি এ শহর আমার না
তোমার। তোমার নাক ফুলে আমি দীর্ণ আগন্তক
আয়নার মধ্যে আমি খাই দাই ঘুমাই দৌড়াই
গভীর রাতে তোমার ঘরে ঢুকি সেই আয়নায়
ফালি ফালি দেহখন্ড হয় রাত্রে তোমার আহার
দশ
তুমি আমাকেই চাও আমাকে পেলে আরো রক্তিম
হয়ে ওঠে ওষ্ঠ, গাল। আমি তোমার আজ্ঞার পাত্র
দেওয়ালে সেঁটে রাখো, আলনায়ও রাখো ঝুলিয়ে
পেটিকোটে, ব্লাউজের হুকে, রান্নাঘরে, বিছানায়
আমি থাকি নির্জনতা ছুঁয়ে তোমারই অঙ্গে-অঙ্গে
বাহানার খিড়কিতে। পথের আড়ালে তুমি আমি
এক। জগতের আর সব মায়া, ভ্রম। আমাদের
উরুর জগতে চাঁদ ওঠে প্রতিরাতে প্রতিক্ষণে
আমরা শরীরে আলো ফেলে দেখি কামতীর্থনদী
এই নদীর পাড়েই গড়ে তুলি আমাদের ঘর
এগার
আমাদের ঘরে নাই জানালা দরোজা সবদিকে
খোলা আকাশের ছায়া। আপেলের বন থেকে দেখা
যায় আমাদের গৃহ, বাক্যহীন ঠোটে রোদভেজা
ঘ্রাণ লেগে থাকে, পাখি ওড়ে, ঝিঁঝিঁ ডাকে সারাক্ষণ
মননের তলে, লতা পাতা ঝোপঝাড় যেইখানে
আছে সেইখানে তুমি দেখি সবুজ পাতার ফাঁকে
একটুকরো রৌদ্দুর। আমি এই রোদে মুখ ধুয়ে
তোমাকেই দেখি আর ভাবি ডাবসানো পেয়ারার
দিকে তাকিয়ে যা দেখি তাকি এই জীবনের যত
যন্ত্রণা যত মধুর স্মৃতি জমা হয়ে আছে চোখে
সেটা কি আমার? নাকি ভীত গ্রহের অচেনা কারো
বার
এই দ্বিধা এই ঘোর কলপাড়ের স্নান দৃশ্যের
অবয়বে ফুটে ওঠে দেখার তৃষ্ণায় দৃষ্টি ডুবে
রয় বিভাজিত রোদে, ডানা নাই কেন, চণ্ডালিনী
বাঁকা চোখে এইসব দেখে আর রিমঝিম হাসে
ওই হাসি বুনো হাঁস, পুকুর পাড়ের অন্ধকারে
ও হাসির পানবাটা আমি খুলে দেখেছি ওখানে
পান বরজের রাত, সুপারি বাগানের হাওয়া
জড়াজড়ি করে থাকে, বুকের চিনচিন ব্যথার
সুর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আমার সমস্ত অস্তিত্বকে
ঢেকে নেয়, গ্রাস করে, তুমি ছুরির বাটে আমার
মৃত্যুদৃশ্য দেখো, হাসো, বুনো হাঁসের পালকে মুখ
মুছে ঢুকে পড়ো ফের আয়নায়, ছুরিওষ্ঠ্যধ্যানে

Phonetic
অনেক ভাল হয়েছে, সাথে অনেক কঠিন ো
আপনাকে শুভেচ্ছা। এইটা একটা খেরো কবিতার মত করে দেখেন। এইটার উপর আরো কাজ করার আছে। আপনার মতামত দেবার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।