শুক্রবার ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১০, ১৯ ভাদ্র, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

এই দেহ ও ওই ঘড়িবাজ

সব কিছুতেই এই দেহ
আর ওই রাতের নির্জন ঘড়িবাজ; যার নৈ:শব্দ্যের ইন্দ্রজালে
কার পায়ের শব্দ উঠে আসছে ঘাড় বেয়ে বেয়ে
বিধূরতার সীমানা ছকের বেলাভূমিতে বিচ্ছিন্নতার শাদাকাঁখে
নীল কলসি ভাসে, জলের ছায়া পড়ে চোখে

আমরা কফি খাই সিগারেট টানি ধুয়া উড়াতে উড়াতে দেখি
রাস্তার পাশে ট্রাক; সামরিক কামান তার উপরে ফিট করা, আমরা দেখতে থাকি তার দেহ, নির্লিপ্ত চোখের তারা
তার তো মন নাই ঘুম নাই তবু আমরা দেখি বিমানের পাখা, ভাঙা
সমস্বরে গান গেয়ে ওঠে আধূনিক মানুষেরা তাদের গলার ভেতর থেকে উড়ে যায় পাখিরা তাদের কালোঝুঁটিতে মেঘ
ঝুলে থাকে

গোধূলি বেলার কাচে
গলিত ঘড়ির কাঁটা নাচে

নাচুক যারা চলে গেছে মায়াহরিণের বনে, তারা আর ফিরবে না, অন্য কোথাও আমরা আলোকাঠের পেরেকে তাদের চোখাচোখির তেরচা প্রক্ষেপণ দেখবো তখন আমাদের জ্বলন্ত পাহাড়গুলো থেকে আগুনের পাখিরা পুড়ে ছাই হবে, আমরা সেই ছায়ে জলের
দাগ খুঁজবো হাতের ছাপ দেখার চেষ্টা করবো ঠোটের গোপন অভিসার যদি টের পাই, সেটা আমরা গুছিয়ে তুলে নেবো কোচড়ে

দেহের ডালে উড়বে পাখি
আমি খুঁজবো তোমার রাখি

আঁখি খুঁজবোনা ঝোপের ডালপালায় শরীরের কাঁপন মুছে যায়নি যাদের তাদের চোখে নদীতে স্নান দেখবো ডুবে যাওয়া জাহাজের জায়গাটাকে বেধে রাখবো ফ্রেমে ওখানে
আরো যাদের আঙুলেরা ছুতে পারে নাই আকাশের রঙ তাদের পিঠে তুলে দেবো গান

গানে গানে নাও ভেসে যাবে
দূরের ময়না দ্বীপে

আমরা একটু বেলাটাকে বাড়িয়ে রোদের আচড়কে খামাচানিগুলোকে ছড়িয়ে দেবো মানুষের মুখে হাতের কবজিতে, এর ফলে পাখিরা হরিণেরা জল খুঁজতে থাকবে
আমরা তাদের মুখে

জল দেবো নিজেদের তৃষ্ণার দেওয়ালে গড়াতে থাকবে ভোর ছটফট করবে মানুষেরাও বৃক্ষের গভীরে ঠোট ডুবিয়ে ফোটা ফোটা বৃষ্টির জন্য জড়ো হবে
জগতের সমস্ত আলো আমরা এই আলোর বাইরে এসে অনুভব করবো ভাষাহীন এক মায়ার কষে আমাদের জিভ ভরে উঠবে কেমন তেজি হয়ে উঠবে বাহুর দাঁড়, আমরা ফের গান গেয়ে উঠবো

ও কোকিল ও কোকিলা
আমারে ফেলে একলা, কই গ্যালা কই গ্যালা

শেষে আমরা পথের ধারে বৃক্ষদের গ্রামে ঢুকে পড়বো যেখানে সব কিছুতেই লেপটানো থাকবে
নীল আলো সব সময় নদীদের ঘুম হবে ভালো হা হা করতে করতে আমরা একবাড়িতে
গিয়ে আশ্রয় চাইবো বৃক্ষদের রাজ্যকর্ণধার আমাদের আশ্রয় দেবার আশ্বাস দেবে নিশ্চয়ই

আমরা তাকে পাতার পোষাকে দেখবো তাতে হাত রাখলেই দীর্ঘ পাখিরা সারি সারি উড়ে যাবে আকাশে তাদের
ডানার শব্দে শাদা শাদা কাশবনের হাওয়া সবুজ তরঙ্গে ভেসে থাকবে
তার গভীরে জগতের ক্রন্দন আরো গভীর রাতের বেলা কেউ ঘুমিয়ে গেলে আমরা তাকে জাগিয়ে তুলবো

আমরা পাতার শিরায় সময়ের তাবু ঘরে যূথবদ্ধ হয়ে, পাখিদের সংসারে জেগে থাকবো, বিষন্ন পযর্টকেরা জেগে উঠবে বালি ও কাঁকড়ায়
২ টি মন্তব্য
doipaoyon সোহেল হাসান গালিব০৮ নভেম্বর ২০০৮, ০২:২৫
অনেক বড় কবিতা, অন্তত কম্পিউটার-স্ক্রিনে পড়ার জন্য। তারপরও পড়লাম। ভালই লাগছিলো, কিন্তু মন্তব্য করতে গিয়ে দেখি ভাষাহীন এক মায়ার কষে জীব আটকে গেছে।
muktemandal মুক্তি মন্ডল১৩ নভেম্বর ২০০৮, ০৯:৪৫
ধন্যবাদ গালিব। কাল রাতে মন্তব্য করতে গিয়ে পারি নাই। একটু সমালোচনা করলে ভাল লাগবে।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment