মেঘের জানালা

নভেম্বর
২৩

ইউটোপিয়া

সময় ১৬:০২:০৭


আমি তাঁকে দেখি নাই, তাঁর উপস্থিতি টের পাই
সে যখন আমার পিছনে এসে একাকী দাঁড়ায়
আমার সামনে সারি সারি ফুলক্ষেতে ভরে ওঠে
আমি ফুলক্ষেতে দেখি যোগিনীরা চুল খুলে দিয়ে
ফুল তোলে, পাখিদের টহলে ভরে যায় আকাশ
দূরের দিগন্তে ভেসে ওঠে তাঁর কোকিল আকার

আমি কোকিলের চোখে রাত ভর ছুরমা লাগাই
পালকের গায়ে স্পর্শ ছড়িয়ে দেহের কানাগলি
ফুটপথে বিছিয়ে দিই তৃষ্ণার গাল, লোভাতুর চোখ
বাস, ট্র্যাক, সেনাবাহিনীর গাড়ি এরা সব একে একে
ঢুকে পড়ে ড্রেনে, আমি দেখি, আর হাসি
আমার হাসির বস্তিতে রাজা সাজে আমার হাত
ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে আমি রাজ ভবনের দিকে
যেতে থাকলে আকাশ থেকে পাখিরা ফুল ছিটায়..

অন্ধকার গুহাঘরে মিশে থাকা তোমার দেহের
কোষে বনপরীদের নৃত্যে হাতের ভেতর হাত
গজিয়ে ওঠে ঠোটের ভেতর গজিয়ে ওঠে তীরের
ফলা, দৃষ্টিতে বৃষ্টির শব্দ ফুটিয়ে তোলে পাহাড়

চুল হয়ে ওঠে বাতাসের প্রাণ - মনোকূপে তার
জানালার রড থেকে অনেক হাতের দীর্ঘ লাইন
এককাতারে মাটিতে গিয়ে মেশে - তাঁর আগমন
আমি টের পাই, সে আমার পিছন দিকের আলো


ওই দিকে চোখ জুঁইফূলে ঝুলে রয়, আঙুলের ডগা
বেয়ে নেমে পড়ে নি:শব্দের কালো ...

  • ৫টি মন্তব্য

নভেম্বর
১৯

নাচের স্কুল

সময় ২১:১১:০২

ওইখানে নদীর শুকানো দাগ, কালোসংহার, মায়াসূচি খুলে একটা গাছের নিচে সবুজ সংরাগ জড়িয়ে আছে, যার ভেতর তুঁত শিল্পের পোকাদের বেদনাসমূহ নীলজরি
তারা শিরার ভেতর কাল রাতে অনেক পাখি উড়িয়েছিল, তাদের চোখের মৌচাকে মেঘলা আকাশ
নেচে নেচে আজ আমার শরীর খুঁড়ছে, পাখি বিক্রেতার মুখে মিলিয়ে যাচ্ছে ঝুমঝুম বৃষ্টির শব্দ, তারে জাগিওনা
হাতের মধ্যে দেখো বাঁশীওয়ালার ধড়, কালী মন্দিরের পাশে ঘুমানো পাগল দেখো মিটিমিটি আকাশের তারা, তাকে জাগাও, তাঁর
চুলের বাগানে
খুন হয়ে যাওয়া শেফালী ফুলের মালায় আজ রোদ উঠেছে, নদীহীন মুখের মানুষেরাও দেখো যেচে যেচে নাচের স্কুলে এসেছে, ওদেরকে তুমি নাচ শেখাও, আমি এখন ঘুমাতে যাবো বংশীবাদকের চোখে
আমাকে কেউ ডেকো ...

  • ২টি মন্তব্য

নভেম্বর
১৩

আয়না সুন্দর ও নীলছুরি

সময় ০০:২১:০৬

এক
আয়নায় যেই মুখ নীলছুরি তাঁর নাভি লাল
দুই
প্রতিদিন তাঁর তীরে দাঁড়ের শব্দে নিবিড় দৃষ্টি
লুফে নেয় বাহুডোর, সন্ধ্যা নামে ঠোটের কিনারে
তিন
মাঝিদের বাহুলগ্ন রোদমাখা দিন শেষে একা
একটা বেড়াল দেখি ঘরের মেঝেতে, বিছানায়
আঁচড় কাটে নিশিতে, নির্জনে তাকে আদর করি
চার
তাঁর নখের আঁচড়ে আমার দেহের সবকটা
জানালায় সূর্য ওঠে, আলোর পেরেকে ঝুলে থাকে
অসংখ্য পালক, সুর। শিহরণে কাঁটা গেঁথে রাখি
ভোরের স্নানে, পাখিরা উড়ে যায় আপেলের বনে
পাঁচ
উতলা বাতাসে যেই হাত রাখি বৃক্ষদের ডালে
সবুজের দাগ লেগে সেই হাত পাতা হয়ে যায়
কথা বলে ওঠে মেঘ, সুদূরের এক আওয়াজ
আমাকে জাগিয়ে রাখে তোমার খোপার অভ্যন্তরে
আমি জাগি নৈশলিপি লিখে একা আকাশে উড়াই
ছয়
একলা হলেই তুমি যে আকাশে ওড়ে নৈশলিপি
তার জ্বরতপ্ত দেহে একা খোঁজ শাদা মেঘমালা
আমি খুঁজি ফুলগন্ধ, দিগন্তের নীলাভ সুন্দরী।
ঘাড়ের ওপোর চাঁদ নেমে আসে, জানালার কাচে
বসে থাকে ঘুমহীন মুখেদের বিষাদের ছবি
ক্যামেরা তাদের মুখ দেখে তুলে রাখে দেওয়ালে
সাত
বর্ষা আসে যায় তবু তার ঘ্রাণ লেগে থাকে মনে
দেওয়ালে তার ছবি ...

  • ২টি মন্তব্য

নভেম্বর
০৫

কামার্ত তাঁবুর মধ্যে

সময় ১০:৪৯:৫৫

আমি আসলে জানিনা কামার্ত তাঁবুর মধ্যে
নীল জোৎস্নায় কাদের মুখের ওপোর নেচে গেছে রাখালেরা
ওদের পায়ের দাগ-চিহ্ন দেখে কালরাতে জানালায়
নিস্তব্ধতা চুয়ে চুয়ে পড়েছে আর আমি রেলভ্রমণে যাদের সঙ্গী হয়েছিলাম
তারাও দেখি মেঝেতে নেচে গেছে
তাদের পায়ের দাগ মেঝেতে পড়েনি, যে অরণ্যে পথ হারিয়ে বাঁশীর সুর
মিশে গেছে পাতাদের স্বরে তাদের পরিবার পরিকল্পনার কোন প্লান নেই শুনেছি
হর্ষ-কামী পেরেক কালকে দেওয়ালে ঝুলিয়ে রেখেছিল স্লিপিং গাউন
যার আসার কথা ছিল সে আসে নাই
তার ছায়া এসে বলে গেছে দরোজার কানে
আজ টিয়ে পাখিরা আকাশে নামবে না
আসলে আমি বৃষ্টির মধ্যে দু'ভাগ হয়ে আছি একভাগে জেব্রাক্রসিং
এবং সমব্যথী বন্ধুদের মুখের উজ্জ্বলতা
অন্যভাগে মাংশের ট্রাক, স্বাভাবিক পথচারিদের উপড়ানো চোখ
একভাগের লুকানো রোদে উড়ে যায় অন্যভাগের নদী
স্থির হয়ে থাকে আপেলের বন, স্নিগ্ধ ...

  • ২টি মন্তব্য

নভেম্বর
০৩

এই দেহ ও ওই ঘড়িবাজ

সময় ১২:০৬:০২

সব কিছুতেই এই দেহ
আর ওই রাতের নির্জন ঘড়িবাজ; যার নৈ:শব্দ্যের ইন্দ্রজালে
কার পায়ের শব্দ উঠে আসছে ঘাড় বেয়ে বেয়ে
বিধূরতার সীমানা ছকের বেলাভূমিতে বিচ্ছিন্নতার শাদাকাঁখে
নীল কলসি ভাসে, জলের ছায়া পড়ে চোখে

আমরা কফি খাই সিগারেট টানি ধুয়া উড়াতে উড়াতে দেখি
রাস্তার পাশে ট্রাক; সামরিক কামান তার উপরে ফিট করা, আমরা দেখতে থাকি তার দেহ, নির্লিপ্ত চোখের তারা
তার তো মন নাই ঘুম নাই তবু আমরা দেখি বিমানের পাখা, ভাঙা
সমস্বরে গান গেয়ে ওঠে আধূনিক মানুষেরা তাদের গলার ভেতর থেকে উড়ে যায় পাখিরা তাদের কালোঝুঁটিতে মেঘ
ঝুলে থাকে

গোধূলি বেলার কাচে
গলিত ঘড়ির কাঁটা নাচে

নাচুক যারা চলে গেছে মায়াহরিণের বনে, তারা আর ফিরবে না, অন্য কোথাও আমরা আলোকাঠের পেরেকে তাদের চোখাচোখির তেরচা প্রক্ষেপণ দেখবো তখন আমাদের জ্বলন্ত পাহাড়গুলো থেকে আগুনের পাখিরা পুড়ে ছাই হবে, আমরা সেই ছায়ে জলের
দাগ খুঁজবো হাতের ছাপ দেখার চেষ্টা করবো ঠোটের গোপন অভিসার যদি টের পাই, সেটা আমরা গুছিয়ে তুলে নেবো কোচড়ে

দেহের ডালে উড়বে পাখি
আমি খুঁজবো তোমার রাখি

আঁখি খুঁজবোনা ঝোপের ডালপালায় শরীরের কাঁপন ...

অক্টোবর
২৮

ভ্রমণ

সময় ১১:২৮:১৪

অস্পষ্ট তিলের দিকে যতবার গেছি
আকাশের দিকে উড়ে গেছে ডানা মেলে পাখিদের ঝাঁক
প্রগাঢ় সম্পর্কের সেতু ভেঙে পড়েছে রুমালের কোনা থেকে
নদীর কাছে গিয়েই ডুবে গেছে চাঁদ

আয়নামহলে চূড়ি-হাসির পায়রাগুলো উড়ে উড়ে
কোথাও বসেনি গাছেদের কাছে
এগিয়ে এসেছে দূরের কেউ তাকে কেউই চেনে নাই
হরেকরকম ঝুমঝুমির ভেতর হারিয়ে গেছে যেসব
ডালে বসা সবুজ দাগের চিহ্ন
তাদের বুকের পাশে শুকনো নদীদের মেলা বসেছে

ঘর ছেড়ে পালিয়ে ইচ্ছের বংশীবাদকের সাথে
কাঁধ বিনিময় করে তোমাদের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আছি
তাঁর যাদুকরী সুখ-দু:খের ঝোলায় তোমার গোপনে
খোপাবাধারদৃশ্যগুলো লুকিয়ে রেখেছি

পথের দিকে তাকিয়ে থেকে থেকে চোখের সড়ক থেকে
উপড়িয়ে রেখেছি মাইলপোস্টের ছায়া
নাইটকোচভর্তি মালিনীদের লাল টিপেরা ছেড়ে গেছে
বাসস্টপেজ তাদের মলিন মুখে তোমার হাসি
দেখে আমি আর কোথাও যাই নাই

ছিকেইঝোলানো নি:শব্দের সুগন্ধী স্পর্শরা আমাকে চেনেনি
বাসনার পিঠে মালমাল উঠিয়ে নাও ছেড়ে দিয়েছে
বিরহপাড়ার বণিকেরা – তাদের বন্দর ছেড়ে যাওয়া দৃশ্যের দিকে
তাকিয়ে থেকে ভেবেছি – এবার গভীর গাঙে ছেড়ে দেবো

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫