বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

চলতি পথে একদিন: মহিলা সিট বিতর্ক

ঢাকার রাস্তায় চলা লোকাল বাসগুলোতে সামনের দিকে ইন্জিনের পাশের কিছু আসন মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া আছে। এই নিয়ম বহুকাল ধরেই চলে আসছে। এরপর এলো টিকেট সিস্টেম বাস সার্ভিস। প্রথম দিকে এগুলো ছিল সিটিং সার্ভিস। এরপর ধীরে ধীরে তা লোকাল বাসের মত স্ট্যান্ডিং এ্যালাউড সার্ভিসে পরিণত হয়। মজার ব্যপার হল এতে মহিলাদের জন্য আলাদা কোন আসনের ব্যবস্থা রাখা হলনা, যদিও লোকাল বাসগুলোতে এই ব্যবস্থা ছিল। ইদানিং টিকেট সিস্টেমের বাসগুলোতে ডানদিকের সারির সামনের দিকে তিনটি সিট (যেখানে মোট ৯ জন বসতে পারেন) মহিলাদের জন্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

এবার আসল গল্পে যাওয়া যাক। সেদিন শাহবাগ থেকে একটি টিকেট বাসে করে রামপুরা যাচ্ছিলাম। বসার জায়গা না পেয়ে দাড়িয়েই যেতে হচ্ছে। কাকরাইল স্টপেজে দুইজন মহিলা বাসে উঠলেন। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বয়স্ক। আনুমানিক ৫০ এর কাছাকাছি বয়স। অপরজন সম্ভবত তাঁর মেয়ে হবেন। তারা বাসের মহিলা সিটগুলোর সামনে গিয়ে দাড়ালেন। তাদের ঠিক সামনেই মহিলা আসনে বসে ছিলেন একজন পুরুষ। তো মেয়েটি তাকে মহিলা সিট ছেড়ে দিয়ে বয়স্ক মহিলাকে বসতে দেয়ার কথা বললেন। কিন্তু তিনি নাছোড়বান্দা। তার অকাট্য যুক্তি, যদি পুরুষ সিটে মহিলারা বসতে পারেন তাহলে মহিলা সিটে কেন পুরুষ বসতে পারবেনা। তার এই যুক্তির কারণ, বাসের অন্য সিট গুলোতে পুরুষদের পাশাপাশি কয়েকজন মহিলাও বসেছিলেন। এরপর বাসের অন্যযাত্রীদের কয়েকজন বয়স্ক মহিলাকে বসতে দেওয়ার অনুরোধ করলেও লোকটির ঐ এক কথা। তাছাড়া ভিড় বাসে দাড়িয়ে যেতে পারবেন না জেনেও ঐ বয়স্ক মহিলা কেন বাসে উঠলেন। অতঃপর তুমুল বিতর্ক।

বিতর্ক যখন চুড়ান্ত পর্যায়ে, এমন সময় একজন যাত্রী সংসদের উদাহরন টেনে আনলেন। বললেন, সংসদে মহিলা আসনগুলোতে কোন পুরুষ প্রার্থি হতে পারেননা। কিন্তু অন্য আসনগুলোতে পুরুষ-মহিলা নির্বিশেষে যে কেউ প্রার্থি হতে পারেন। একথায় বিতর্ক নতুন দিকে মোড় নেয়। তারপর আর লোকটির কোন যুক্তি ধোপে টেকেনি। তাই নিতান্ত বাধ্য হয়ে তিনি মহিলা সিটটি ছেড়ে দেন।
১৭ টি মন্তব্য
sujanpranto12 সুজন১৩ মে ২০০৯, ০৬:০৬
মামুন ভাই এত অনিয়মিত হলে ব্লগ চলবে?
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:১৪
আর কয়টা দিন সবুর কর, থিসিস বুনে নেই।
sujanpranto12 সুজন১৩ মে ২০০৯, ০৬:১০
লোকটার দেখি আক্কেল জ্ঞান কিছুই নেই। ঘাড় তেড়া লোক মনে হয়।
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:১৬
হুমম। তবে সিট ছেড়ে দেবার পর তার চেহারা হয়েছিল দেখার মত। এখনও মনে হলে হাসি পায়।
n_h_sarja নেহাল হাসনাইন সার্জা১৩ মে ২০০৯, ০৬:১৭
কি খবর তোমার!!! অনেক দিন পরে দেখলাম তোমাকে!!!
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:২৩
ফাইনাল ইয়ার থিসিস নিয়ে ব্যস্ত আছি। তবে সময় পেলেই চলে আসি।
hafij হাফিজ১৩ মে ২০০৯, ০৬:১৭
ঘাড় তেড়া না ঘারের রগ তেড়া
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:২৪
দুইটাই তেড়া।
n_h_sarja নেহাল হাসনাইন সার্জা১৩ মে ২০০৯, ০৬:১৮
এই রকম একটা ঘটন আমি ও দেখছি, আমি মাঝের একটা সিটে ছিলাম, আমি আমার সিটে বসতে দিয়ে উঠে গেছিলাম।
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:২৬
খুবই ভাল।
এই ঘটনা এখন রেগুলার ঘটছে।
smc এস মাহবুব১৩ মে ২০০৯, ০৬:২৮
যাক লোকটার শেষ পর্যন্ত সুমতি হয়েছিল
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:৩৬
সুমতি তো হয়নি। বরং চাপে পরে..........।
তবে সংসদের উদাহরনটা কিন্তু দারুণ ছিল। এতেই কাজ হয়।
bbq_hearts ফারুক১৩ মে ২০০৯, ০৬:৩৮
লিঙ্গ বেদাবেদ না থাকলে , এই রকম কোন জামেলাই হত না
mamunur মামুনুর রহমান১৩ মে ২০০৯, ০৬:৪৪
ahsanullahsumon আহসান উললাহ সুমন১৩ মে ২০০৯, ০৬:৫০
আসলে মামুন ভাই আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকের মাঝেই মা বোনদের প্রতি কোন সম্মানবোধ নেইতো তাই এ অবস্থা। ঐ লোকের বাসায় গিয়ে দেখেন হয় বউকে মারে, মাকে গালাগালি করে ইত্যাদি ইত্যাদি। সে রকম লোকদের কাছ থেকে এর বেশী কি আশা করা যায়।
mamunur মামুনুর রহমান১৭ মে ২০০৯, ০৮:৩১
অধিকাংশ কিনা জানিনা। তবে কথাটা অনেকের ক্ষেত্রেই সত্য। রাস্তায় বেরুলে প্রায়ই তার প্রমাণ পাওয়া যায়।
savik আসিফুর রহমান২৫ ডিসেম্বর ২০০৯, ০৭:১৫
জটিলস্

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment