এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল... মিঠা নদীর পানি.......... খোদা তোমার মেহেরবানী..

ফেব্রুয়ারি
০৯

সালাতের আহকাম ও পদ্ধতি (শেষ পর্ব)


সুন্নত সালাত
রাতদিনে মোট দশ রাকা‘আত সালাতের পাবন্দী করা সুন্নাত। রাসূল নিজেও এসব সালাতের বিশেষ পাবন্দী করতেন।
অর্থাৎ যোহরের সালাতের পূর্বে দুই রাকা‘আত এবং পরে দুই রাকা‘আত মাগরিবের সালাতের পরে দুই রাকা‘আত এবং ফযরের সালাতের পূর্বে দুই রাকা‘আত।
প্রমাণ :
عن ابن عمر رضي الله عنه أنه قال حفظت من النبي صلي الله عليه وسلم عشر ركعات ركعتين قبل الظهر وركعتين بعدها وركعتين بعد المغرب في بيته وركعتين بعد العشاء في بيته وركعتين قبل صلاة الصبح. (رواه مسلم:১১০৯)
ইবনে উমার রা.-এর হাদীস তিনি বলেন : আমি রাসূল সা. হতে দশ রাকা‘আত সালাত সংরণ করি—যোহরের পূর্বে দুই রাকা‘আত এবং পরে দুই রাকা‘আত। মাগরিবের সালাতের পর দুই রাকা‘আত এশার সালাতের পর নিজ গৃহে দুই রাকা‘আত। আর ফযরের সালাতের পূর্বে দুই রাকা‘আত। (মুসলিম:১১০৯)
যোহরের সালাতের পূর্বে চার রাকা‘আত এবং পরে দুই রাকা‘আতের কথাও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
তখন দিবারাত্রে মোট সালাত হবে বার রাকা‘আত। রাসূল সা. বলেন:
ما من عبد مسلم يصلي لله كل يوم ثنتي عشرة ركعة تطوعا غير فريضة إلا بنى الله له بيتاً في الجنة (رواه مسلم:১১১৯)
‘কোন মুসলমান যদি ফরয সালাত ছাড়া প্রতিদিন বার রাকা‘আত সালাত আদায় করে আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য বেহেস্তের মধ্যে একটি ঘর তৈরী করেন।’ (মুসলিম:১১১৯)
অনুরূপভাবে যোহরের পরে ও চার রাকা‘আত পড়া হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
রাসূল সা. বলেন :
من حافظ علي أربع ركعات قبل الظهر وأربعاً بعدها حرمه الله على النار. (رواه الترمذى:৩৯৩)
‘যে ব্যক্তি যোহরের পূর্বে চার রাকা‘আত এবং তার পরে চার রাকা‘আত সালাত আদায় করে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেয়।’ (তিরমিযি:৩৯৩)
ফযরের দুই রাকা‘আত সুন্নাত সালাত রাসূল সা. সফরে এবং বাড়ীতে কখনোই ছাড়তেন না।
সালাত আদায়ের মাকরূহ সময়
বিশেষ কয়েকটি সময়ে সালাত পড়া মাকরূহ আর তা হল নিæ রূপ :
১. ফযরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত। তবে যে ব্যক্তি ফযরের দুই রাকা‘আত পড়তে পারেনি, সে অবশ্যই দুই রাকা‘আত ফযরের সুন্নাত পরে পড়ে নিবে।
২. সূর্যোদয়ের সময় হইতে সূর্য এক ধনুক পরিমান উঁচু হওয়া পর্যন্ত।
৩. সূর্য আকাশের মধ্যভাগে অবস্থানকাল থেকে পশ্চিম আকাশের দিকে ঢলে পড়া পর্যন্ত। (অর্থাৎ—যোহরের সালাতের সামান্য পূর্বে)
৪. আছরের সালাতের পর সূর্যাস্ত র্পযন্ত।
৫. সূর্যাস্তের মুহূর্তে।

সালাতের দুআ সমূহ
সালাতের সালাম ফিরানোর পর সুন্নত হল তিন বার أستغفرالله বলবে।
তারপর নিæ দু‘আ গুলি পড়বে ।
اللهم أنت السلام ومنك السلام تباركت يا ذا الجلال والإكرام.
হে আল্লাহ তুমি শান্তিময় আর তোমার নিকট হতেই শান্তির আগমন । তুমি কল্যানময় হে মহা মার্যাদাবান!

لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، اللهم لامانع لما أعطيت ولامعطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد.
আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই । রাজত্ব ও র্কতৃত্ব এক মাত্র আল্লাহরই আর সকল প্রশংসা এক মাত্র আল্লাহরই, তিনি সকল কিছুর উপর মতাবান। হে আল্লাহ তুমি যা প্রদান কর তা বাধা দেয়ার আর কেউ নেই আর তুমি যা দিবেনা তা প্রদান করার মত আর কেউ নেই তোমার আযাব হতে কোন বিত্তশীল পদর্মযাদার অধিকারীকে তার ধন সম্পদ বা পদর্মযাদা রা করতে পারেনা।
لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، لاحول ولا قوة إلا بالله، لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إياه، له النعمة، وله الفضل، وله الثناء الحسن، لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون.
আল্লাহ ছাড়া সত্যিকার কোন মাবুদ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই । রাজত্ব ও র্কতৃত্ব এক মাত্র আল্লাহরই আর সকল প্রশংসা এক মাত্র আল্লাহরই, তিনি সকল কিছুর উপর মতাবান। কোন পাপকাজ, রোগ-শোক, বিপদ-আপদ হতে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় এবং সৎ কাজ করার কোন মতা নেই আল্লাহর তাওফীক ছাড়া কারোই নেই। আল্লাহ ছাড়া ইবাদত যোগ্য কোন মাবুদ নেই, আমরা তারই ইবাদত করি। সকল নেয়ামত তার, সকল অনুগ্রহ এবং সকল উত্তম প্রশংসা তার। তিনি ছাড়া আর কোন সত্যিকার ইলাহ নেই। আমরা তার দেয়া জীবন বিধান এক মাত্র তার জন্যই একনিষ্টভাবে মান্য করি। যদিও কাফেরদের নিকট ইহা অপ্রীতিকর।
اللهم أعني على ذكرك وشكرك وحسن عبادتك.
হে আল্লাহ! তোমার যিকির, তোমার শুকরীয়া এবং তোমার ইবাদত বন্দেগী সুন্দর ও সঠিকভাবে আদায় করতে আপনি আমাকে তাওফীক দান করুন।
اللهم إني أعوذ بك من الجبن وأعوذ بك أن أرد إلى أرذل العمر وأعوذ بك من فتنة الدنيا وأعوذ بك من عذاب القبر.
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় র্প্রাথনা করছি কাপুরুশষতা হতে আর আশ্রয় র্প্রাথনা করছি বার্ধক্যের চরম দুঃখ কষ্ট হতে আরো র্প্রাথনা করছি দুনিয়ার ফিৎণা-ফাসাদ এবং কবরের আযাব হতে।
اللهم إني أعوذ بك من الكفر والفقر وعذاب القبر.
হে আল্লাহ! আমি আশ্রয় চাচ্ছি কুফর হতে এবং কবরের আযাব হতে।
তার পর سبحان الله ৩৩ বার الحمدلله ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবর الله أكبر)) ৩৪ বার।
সুরা নাছ, ফালাক, এখলাছ প্রত্যেক সালাতের পর একবার করে আর মাগরিব ও এশার সালাতের পর তিন বার করে।
এছাড়া প্রত্যেক সালাতের পর আয়াতুল কুরছি পড়া সুন্নাত।



মূল : গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী
অনুবাদ : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের
সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়া, রিয়াদ


১৪টি মন্তব্য

  • কারিম ভাই বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:০৫:১৮

    ধন্যবাদ স্যার

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:১২:২৪

    স্যার .........

    ধন্যবাদ কারিম ভাই

  • বই পাগল বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:১৯:৪০

    অনেক শুকরিয়া।
    প্রয়োজনীয় পোস্টের জন্য।

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:২৬:৪৬

    অনেক ধন্যবাদ
    পড়ার জন্য

  • নাসরীন জুবায়ের বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১১:৩৯:৪৯

    ধন্যবাদ

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১২:০৩:৪৯

    ধন্যবাদ আপু

  • ‍িচন্তা বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৩:০৩:৪৩

    নতুন কোন বিষয় নিয়া লিখবেন ?

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৩:২১:৩৪

  • রাজিন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৩:১০:০১

    একটা সফল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল, খুব ভাল হয়েছে ভাইয়া ।

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৩:২২:০৩

    ধন্যবাদ

  • হাসান মাহমুদ বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৩:২৬:১২

    খুব প্রয়োজনীয় এবং কাজের পোস্ট।
    আল্লাহ আপনাকে আপনার পরিশ্রমের উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন।
    ধন্যবাদ সাইক্লোন ভাই।

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৪:২৯:২৫

    ধন্যবাদ হাসান ভাই

  • সাইদুর রহমান চৌধুরী বলেছেন ২০১০/০২/০৯ ১৭:১০:৪৮

    দেরী হয়ে গেল
    নুতন করে আর কি বলবো,
    একটা বড় কাজ শেষ করলেন, তার অভিনন্দন।
    এ পর্বে আগেরগুলোর লিংক দিলে খুব কাজের হোত।
    শুভেচ্ছা নেবেন।

    সাইক্লোন বলেছেন ২০১০/০২/১৩ ১৩:০২:৪৬

    ধন্যবাদ সাইদ ভাই......



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫