এই সুন্দর ফুল, সুন্দর ফল... মিঠা নদীর পানি.......... খোদা তোমার মেহেরবানী..

ফেব্রুয়ারি
০২

সালাতের আহকাম ও পদ্ধতি (১)


সালাতের শর্তাবলি

সালাতের শর্ত নয়টি :

এক : মুসলমান হওয়া :

সালাত ছাড়াও অন্যান্য যে কোন ইবাদতের েেত্রই মুসলমান হওয়া পূর্বশর্ত। মুসলমান বলতে উদ্দেশ্য হল, যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে বিশ্বাস করে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে রাসূল বলে স্বীকৃতি প্রদান, আর ইসলামকে একমাত্র দ্বীন বলে মনে-প্রাণে গ্রহণ করে। অবিশ্বাসীর যাবতীয় ইবাদত প্রত্যাখ্যাত । অবিশ্বাসীদের কোন ইবাদতই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তারা জমিনভর স্বর্ণ কল্যাণকর কাজে ব্যয় করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا. (الفرقان :২৩)
‘আমি তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করব, অতঃপর সেগুলোকে বিপ্তি ধুলি-কণায় পরিণত করব।’ (সূরা আল-ফুরকান : ২৩)

দুই : বুঝার বয়সে উপনীত হওয়া :

বুঝার মত বয়সে উপনীত হওয়া হল শরীয়তের বিধানাবলী উপলব্ধি ও গ্রহণ করার একমাত্র উপায়। জ্ঞানহীন ব্যক্তির উপর শরীয়তের কোন বিধানই ওয়াজিব নয়।
প্রমাণ : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
رفع القلم عن ثلاثة: النائم حتى يستيقظ، والمجنون حتى يفيق، والصغير حتى يكبر.
(رواه الترمذي:১৩৪৩)
তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত, তাদের কোন গুনাহ লিখা হয় না।
ক-ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত।
খ-পাগল সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
গ-ছোট বাচ্চা বড় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। (তিরমিযি:১৩৪৩)

তিন : ভাল মন্দের বিচার করা :

ভাল মন্দ বিচারের উপযুক্ত বয়সে উপনীত হওয়া। অবুঝ বা ছোট শিশু, যে নিজের জন্য কোন রূপ ভাল মন্দ চি‎িহ্নত করতে সম নয়, তার উপর সালাত ওয়াজিব নয়। শিশু যখন ভাল মন্দের পার্থক্য করতে পারে এবং সুন্দর ও অসুন্দর চিনতে পারে, তখন বুঝতে হবে যে, সে বিচার বিশ্লেষণ বা তাময়ীয করার মত বয়সে পৌঁছে গেছে। সাধারণত সাত বছর বয়সে বাচ্চারা ভাল-মন্দ বুঝতে পারে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
مروا أبناءكم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع. )رواه أحمد:৬৪৬৭)
‘তোমর সাত বছর বয়সে তোমাদের বাচ্চাদের সালাতের আদেশ দাও। আর সালাত না পড়লে দশ বছর বয়সে তাদের হালকা মার-ধর কর। আর তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।’ (আহমাদ:৬৪৬৭)

চার : পবিত্রতা :

নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী ওযু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন হয়।
আল্লাহ বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ .(مائدة:৬)
‘হে মুমিনগণ ! যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হও তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পা-গুলোকে টাখনু অবধি ধুয়ে ফেল।’(মায়েদাহ:৬)
হে ঈমানদার সকল ! তোমরা যখন সালাতের ইচ্ছা কর, তখন তোমরা মুখমণ্ডল ধৌত কর, তোমাদের হাত-দ্বয় ধৌত কর, মাথা মাছেহ কর এবং উভয় পায়ের গোড়ালিসহ ধৌত কর।

পাঁচ : না-পাকী দূর করা:

তিনটি স্থান হতে সালাতের পূর্বে না-পাকী দূর করতে হবে।
—শরীর পাক হতে হবে।
—পোশাক পাক হতে হবে।
আল্লাহ বলেন :
وثيابك فطهر.
‘তুমি তোমার কাপড় পাক কর’।
—সালাতের স্থান পাক হতে হবে।
রাসূল বলেন :
إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول والعذر. (رواه مسلم:৪২৯)
‘নিশ্চয় মসজিদ গুলোতে পেশাব পায়খানা করা কোন ক্রমেই সঙ্গত নয়।’ ( মুসলিম:৪২৯)



মূল : গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী
অনুবাদ : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের
সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়া, রিয়াদ


১৪টি মন্তব্য



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫