সালাতের আহকাম ও পদ্ধতি (১)
![]()
সালাতের শর্তাবলি
সালাতের শর্ত নয়টি :
এক : মুসলমান হওয়া :
সালাত ছাড়াও অন্যান্য যে কোন ইবাদতের েেত্রই মুসলমান হওয়া পূর্বশর্ত। মুসলমান বলতে উদ্দেশ্য হল, যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে বিশ্বাস করে এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে রাসূল বলে স্বীকৃতি প্রদান, আর ইসলামকে একমাত্র দ্বীন বলে মনে-প্রাণে গ্রহণ করে। অবিশ্বাসীর যাবতীয় ইবাদত প্রত্যাখ্যাত । অবিশ্বাসীদের কোন ইবাদতই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়, যদিও তারা জমিনভর স্বর্ণ কল্যাণকর কাজে ব্যয় করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَقَدِمْنَا إِلَى مَا عَمِلُوا مِنْ عَمَلٍ فَجَعَلْنَاهُ هَبَاءً مَنْثُورًا. (الفرقان :২৩)
‘আমি তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করব, অতঃপর সেগুলোকে বিপ্তি ধুলি-কণায় পরিণত করব।’ (সূরা আল-ফুরকান : ২৩)
দুই : বুঝার বয়সে উপনীত হওয়া :
বুঝার মত বয়সে উপনীত হওয়া হল শরীয়তের বিধানাবলী উপলব্ধি ও গ্রহণ করার একমাত্র উপায়। জ্ঞানহীন ব্যক্তির উপর শরীয়তের কোন বিধানই ওয়াজিব নয়।
প্রমাণ : রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
رفع القلم عن ثلاثة: النائم حتى يستيقظ، والمجنون حتى يفيق، والصغير حتى يكبر.
(رواه الترمذي:১৩৪৩)
তিন ব্যক্তি দায়মুক্ত, তাদের কোন গুনাহ লিখা হয় না।
ক-ঘুমন্ত ব্যক্তি ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া পর্যন্ত।
খ-পাগল সুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত।
গ-ছোট বাচ্চা বড় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। (তিরমিযি:১৩৪৩)
তিন : ভাল মন্দের বিচার করা :
ভাল মন্দ বিচারের উপযুক্ত বয়সে উপনীত হওয়া। অবুঝ বা ছোট শিশু, যে নিজের জন্য কোন রূপ ভাল মন্দ চিিহ্নত করতে সম নয়, তার উপর সালাত ওয়াজিব নয়। শিশু যখন ভাল মন্দের পার্থক্য করতে পারে এবং সুন্দর ও অসুন্দর চিনতে পারে, তখন বুঝতে হবে যে, সে বিচার বিশ্লেষণ বা তাময়ীয করার মত বয়সে পৌঁছে গেছে। সাধারণত সাত বছর বয়সে বাচ্চারা ভাল-মন্দ বুঝতে পারে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন :
مروا أبناءكم بالصلاة لسبع، واضربوهم عليها لعشر، وفرقوا بينهم في المضاجع. )رواه أحمد:৬৪৬৭)
‘তোমর সাত বছর বয়সে তোমাদের বাচ্চাদের সালাতের আদেশ দাও। আর সালাত না পড়লে দশ বছর বয়সে তাদের হালকা মার-ধর কর। আর তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।’ (আহমাদ:৬৪৬৭)
চার : পবিত্রতা :
নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী ওযু দ্বারা পবিত্রতা অর্জন হয়।
আল্লাহ বলেন :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ .(مائدة:৬)
‘হে মুমিনগণ ! যখন তোমরা সালাতের উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হও তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও, আর মাথা মাসেহ কর এবং পা-গুলোকে টাখনু অবধি ধুয়ে ফেল।’(মায়েদাহ:৬)
হে ঈমানদার সকল ! তোমরা যখন সালাতের ইচ্ছা কর, তখন তোমরা মুখমণ্ডল ধৌত কর, তোমাদের হাত-দ্বয় ধৌত কর, মাথা মাছেহ কর এবং উভয় পায়ের গোড়ালিসহ ধৌত কর।
পাঁচ : না-পাকী দূর করা:
তিনটি স্থান হতে সালাতের পূর্বে না-পাকী দূর করতে হবে।
—শরীর পাক হতে হবে।
—পোশাক পাক হতে হবে।
আল্লাহ বলেন :
وثيابك فطهر.
‘তুমি তোমার কাপড় পাক কর’।
—সালাতের স্থান পাক হতে হবে।
রাসূল বলেন :
إن هذه المساجد لا تصلح لشيء من هذا البول والعذر. (رواه مسلم:৪২৯)
‘নিশ্চয় মসজিদ গুলোতে পেশাব পায়খানা করা কোন ক্রমেই সঙ্গত নয়।’ ( মুসলিম:৪২৯)

মূল : গবেষণা পরিষদ, আল-মুনতাদা আল-ইসলামী
অনুবাদ : জাকেরুল্লাহ আবুল খায়ের
সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়া, রিয়াদ

Phonetic
কেমন আছেন?
সাইক্লোন ভাইয়া আপনি একটু এই পোষ্টটা প্রথম থেকে পড়ে দেখবেন
ধন্যবাদ ভাইয়া, ভালো অাছি
ধন্যবাদ
ধন্যবাদ

ধন্যবাদ।
আল্লাহ আমাদের সঠিক ভাবে নামাজ পড়ার তৌফিক দান করুক।
ধন্যবাদ শামীম ভাই
ধন্যবাদ ভাইয়া চমতকার পোষ্টের জন্য। আল্লাহ আমাদের স্টহিক ভাবে নামাজ কায়েম করার তৌফিক দান করুন আমীন।
ধন্যবাদ, অামীন
ধন্যবাদ আপনাকে।
আপনাকেও
ধন্যবাদ সাইক্লোন ভাই,
ধন্যবাদ ভাইয়া
বিশাল একটি দায়িত্ব পালন করেছেন।
ধন্যবাদ।
জা জা কাল্লাহ খাইর,অনেক দরকারী পোষ্ট।