বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ব্লগ

এপ্রিল
১৪

বিষু উৎসবঃ নানান জাতিতে নানান রূপে


আজ সূর্যোদয়ের পরপরই শুরু হবে মণিপুরীদের বিষু উৎসব। বাংলাদেশের মৌলবীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার মণিপুরী বসতিগুলোতে চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে সাতদিন ব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়ারা বছরের শেষ দিনটিতে 'বিষু' বা 'চেরৌ' আর মণিপুরী মৈতৈরা 'শাজিবু চৈরৌবা' উৎযাপন করে। আর এ দিনটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের কাছে 'বিঝু', মারমাদের নিকট 'সাংগ্রাই', ত্রিপুরাদের 'বৈসুক' এবং অসমীয়াদের 'বিহু' এবং বাঙালীদের কাছে 'চৈত্র সংক্রান্তি'।


মণিপুরীদের বিষু উৎসব


বছরের শেষ দিনটিতে মণিপুরীরা সুর্যোদয়ের আগেই ঘরদোর, ঘরের চারপাশ এবং ঘরের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্ত্র আসবাবপত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে ফেলে। স্নানের পর রান্নাবান্না শুরু হয়। রান্না মানে অসংখ্য পদের নিরামিষ রান্না। এরপর লৌকিক দেবতা "আপোকপা" এবং কুলদেবতা "লামরদৌ" এর উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করাতে হয়। আগে একশ আটটি রান্না ভোগ দেয়ার প্রচলন ছিল, এখন তা সম্ভব হয়না। ভোগ নিবেদনের পর চলে সম্প্রীতির নিদর্শন হিসাবে ঘর থেকে ঘরে রান্না করা খাবার বিনিময়ের পালা। সন্ধ্যায় তৈরী হয় নানান জাতের পিঠা। মণিপুরী লেইসাঙ বা মন্দিরগুলো আরতি, পালা, কীর্তন ও মৃদঙ্গের শব্দে মুখরিত হয়ে উঠে। কোথাও কোথাও বসে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং গানের আসর। রাতভর চলে তরুণ তরুনীদের ঐতিহ্যবাহী নিকন (বিশেষ ধরনের পাশাখেলা), গিল্লা, লাকাটি ইত্যাদি নানান খেলা। বিষুর দিনটিতে যারা গ্রামের বাড়ীর বাইরে থাকেন তাদেরকে বাড়ী ফিরে আসতে হয়, আর যারা গ্রামের বাড়ী থাকেন তাদের বাইরে যাওয়া বারন। বিষুর দিনে কাছ থেকে ধরাকর্জ করা নিষেধ, অন্যথায় বছরের বাকী দিনগুলো ধারদেনার মধ্যে কাটাতে হতে পারে বলে মণিপুরীদের বিশ্বাস।



৪টি মন্তব্য



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫