বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ব্লগ

মে
২৮

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের সাহিত্যকীর্তি

সময় ২৩:৩২:১৪


বাংলাদেশে শতাধিক ক্ষুদ্র ধর্ম-সংস্কৃতি ও ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর বসবাস। এদের মধ্যে যে জনগোষ্ঠীটি তার সংস্কৃতি তথা নৃত্য-ঐতিহ্যের কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিল তারা হলো মণিপুরি জনগোষ্ঠী। রবীন্দ্রনাথের তৎপরতায় তাদের নৃত্যরীতি সমগ্র ভারতবর্ষে ধ্রুপদী নৃত্যের মর্যাদা পায় ঠিকই, কিন্তু এ কথাও ঠিক যে, রবীন্দ্রনাথ প্রদত্ত সেই পরিচয়ের আড়ালে থেকে যায় মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সাহিত্য, দর্শন ও বৃহত্তর সংস্কৃতির ঐতিহ্যগত পরিচয়। যেমন বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম-ত্রিপুরায় বসবাসরত মণিপুরিদের নৃত্যধারার পাশাপাশি অন্যান্য সৃজনশীল ও গৌরবময় পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিনির্ভর সাহিত্যকীর্তি। সম্প্রতি কবি ও নাট্যকার শুভাশিস সিনহার অনুবাদ ও সম্পাদনায় দুই খন্ডে প্রকাশিত মণিপুরী সাহিত্য সংগ্রহ পাঠে মূলত বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিনির্ভর সাহিত্যকীর্তি হিসেবে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরিদের প্রাচীন মৌখিক রীতির গান, কবিতা, প্রবাদ, লোককথার পাশাপাশি আধুনিককালে রচিত প্রবন্ধ, গল্প, নাটকের সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রমাণ পাওয়া গেল।

গ্রন্থটির ...

এপ্রিল
১৪

বিষু উৎসবঃ নানান জাতিতে নানান রূপে

সময় ০০:১৯:৪০


আজ সূর্যোদয়ের পরপরই শুরু হবে মণিপুরীদের বিষু উৎসব। বাংলাদেশের মৌলবীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার মণিপুরী বসতিগুলোতে চৈত্র মাসের শেষ দিন থেকে সাতদিন ব্যাপী এই উৎসব পালিত হয়। এই উৎসবের মাধ্যমে পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। মণিপুরী বিষ্ণুপ্রিয়ারা বছরের শেষ দিনটিতে 'বিষু' বা 'চেরৌ' আর মণিপুরী মৈতৈরা 'শাজিবু চৈরৌবা' উৎযাপন করে। আর এ দিনটিই পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমাদের কাছে 'বিঝু', মারমাদের নিকট 'সাংগ্রাই', ত্রিপুরাদের 'বৈসুক' এবং অসমীয়াদের 'বিহু' এবং বাঙালীদের কাছে 'চৈত্র সংক্রান্তি'।


মণিপুরীদের বিষু উৎসব


বছরের শেষ দিনটিতে মণিপুরীরা সুর্যোদয়ের আগেই ঘরদোর, ঘরের চারপাশ এবং ঘরের যাবতীয় ব্যবহার্য বস্ত্র আসবাবপত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে ফেলে। স্নানের পর রান্নাবান্না শুরু হয়। রান্না মানে অসংখ্য পদের নিরামিষ রান্না। এরপর লৌকিক দেবতা "আপোকপা" এবং কুলদেবতা "লামরদৌ" এর উদ্দেশ্যে ভোগ নিবেদন করাতে হয়। আগে একশ আটটি রান্না ভোগ দেয়ার প্রচলন ছিল, এখন তা সম্ভব হয়না। ভোগ নিবেদনের পর চলে সম্প্রীতির নিদর্শন হিসাবে ঘর থেকে ঘরে রান্না করা ...

মার্চ
০৮

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের ভাষা আন্দোলনের কথা

সময় ০১:১৫:০৭

পৃথিবীর ইতিহাসে কেবল দু'টি ভাষার জন্যই জনগণকে লড়াই করতে হয়েছে, বুকের রক্ত ঝরাতে হয়েছে - ভাষা দু'টি হলো বাংলা এবং বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী। তামিল ও কন্নাড়া ভাষাকে প্রাদেশিক ভাষা করার দাবীতেও আন্দোলন হয়েছে, তবে কেবল বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার আন্দোলন পুরোপুরিভাবে জাতিগত অস্তিত্তের সাথে সম্পর্কিত ছিল। বাংলার মতোই বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদেরকে তাদের মাতৃভাষার স্বীকৃতির জন্য কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেই সংগ্রামে অনেক রক্ত ও প্রাণ ঝরেছে এবং সে সংগ্রাম ছিল বাংলা ভাষা আন্দোলনের চেয়েও দীর্ঘতর। মাতৃভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও মাতৃভাষায় শিক্ষার দাবীতে ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে প্রায় অর্ধশত বছর ধরে সংঘটিত হয়েছে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের চরম পর্যায়ে পুলিশের গুলিতে আত্মাহুতি দিয়েছিল সুদেষ্ণা সিংহ নামের এক বিদ্রোহী তরুণী।

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী নামে পরিচিত ভাষিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠির আদিভূমি হলো ভারতের উত্তর পুর্বাঞ্চলের মণিপুর নামের একটি রাজ্য। ...

জানুয়ারি
১০

মথুরা সিংহের কবিতা

সময় ০৯:৫৯:৩৯

বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী কবিতা


মথুরা সিংহ সমকালীন বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী সাহিত্যের অন্যতম কবি। তার জন্ম অসমের করিমগঞ্জ জেলার শিংলায়। সহজ হিউমার ও ড্রামাটিক আইরনি তার কবিতার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্য। মুলতঃ কবি হলেও প্রব্ন্ধ লিখেছেন সাহিত্য ও অন্যান্য বিষয়ে। ফলাল নামে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার একটি শিশু সাহিত্যের কাগজ পত্রিকা সম্পাদনার কাজ করেন। উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থঃ আমার মণি, ইমা, শহীদর নিঙে এবং প্রবন্ধের বই আজিকার কথা


তোমার কথায়

তোমার কথায় ভরসা রেখে
জল মেশালাম দুধে
বেচতে গিয়ে ধরা পড়লাম।

তোমায় খুঁজতে গিয়ে আমি
শূন্য আকাশ দেখে
চতূর্দিকের ব্যঙ্গভরা
হাসিতে যাই ঢেকে

সংকুচিত গুটি গুটি
ফিরি অন্ধ করে
তোমার কথায় ভরসা রেখে
পড়ল চাঁদও ঝরে।


সময়

সূর্যের আলোয়
একটি শাদা পদ্ম তুলে আনব
বলে
আমি ভোরের অপেক্ষা করেছি
সকালে
বাগানে যেতেই দেখলাম
গাছে আর এক ফোঁটা হাসিও
অবশিষ্ট নেই।

অনুবাদঃ শুভাশীষ ...

  • ৭টি মন্তব্য

নভেম্বর
০৭

কাল থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে দুদিন ব্যাপী মণিপুরী নাট্যোৎসব

সময় ০০:৫৪:০২


মণিপুরী থিয়েটারের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর পরীক্ষণ থিয়েটার হলে দুদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য নাট্যোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মণিপুরী থিয়েটার বাংলাদেশের অন্যতম প্রান্তিক জাতিসত্তা বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের সাংস্কৃতিক ধারার একটি সংগঠন। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের অন্তর্ভুক্ত এ দলটি ফেডারেশানের সামান্য কিছু সহযোগিতার কথা বাদ দিলে বিগত দিনগুলোতে সম্পূর্ণ নিজেদের শ্রমে, চেষ্টায় ও সদস্য-অর্থায়নে ব্যাপক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে।

মণিপুরী থিয়েটারের নাটক কেবল নিজ এলাকায় বা বৃহত্তর সিলেটে নয়, ঢাকার মঞ্চেও ইতোমধ্যেই তুমুল প্রশংসিত হয়েছে। জাতীয় নাট্যোৎসব, ঢাকা থিয়েটারের রজত জয়ন্তী উৎসব, নাট্যকেন্দ্রের এক যুগ পূর্তি উৎসব, আদিবাসী নাট্যোৎসব সহ বিভিন্ন উৎসবে আমন্ত্রিত দল হিসেবে মণিপুরী থিয়েটার ঢাকার মূল মুল মঞ্চগুলোতে নাটক ও নাট্যমূলক আঙ্গিক পরিবেশন করেছে এবং বহুল প্রশংসিত হয়েছে।


৭ নভেম্বর ২০০৮, শুক্রবার
* সেমিনার
* গুণীজন সম্মাননা
* নাটক : শ্রীকৃষ্ণকীর্তন

৮ ...

অক্টোবর
২৭

কার্ত্তিক মাসের কার্ত্তিকা উৎসব ও পুঁথিপাঠ

সময় ০৩:২০:৪৭


কার্ত্তিক মাসটি বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরীদের কাছে একটি গুরুত্বপুর্ণ মাস। এ মাসের শেষেই অনুষ্ঠিত হবে মণিপুরীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব মহারাসলীলা। মহারাস উৎসবের আগে পুরো কার্ত্তিক মাস জুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ। গ্রাম ও শহরতলীর মণিপুরী মন্দিরগুলো ঢাক, করতাল, মইবুঙ ও সেলবুঙের শব্দে মুখরিত হয়ে ওঠে। ধনী-গরীব নির্বিশেষে সবার উপর পালাক্রমে অর্পিত হয় "দৌর এইরুক কাৎকরানির পালা", অর্থাৎ দেবতার উদ্দেশ্যে ভোগ বা প্রসাদ নিবেদনের দায়িত্ব। পর্বটি "নিয়মপালি" বা "নিয়মসেবা" নামে পরিচিত। কার্ত্তিক মাসকে জ্ঞানচর্চার মাসও বলা হয়ে থাকে কারণ কার্ত্তিকের নিয়মপালির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ দিক হলো পুঁথিপাঠ ও তা শ্রবন। বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষায় বলা হয় "লেইরিক থিকরানি"।

নিয়মপালিতে ভক্ত শ্রোতাদের সম্মুখে মহাভারত, রামায়ন, ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ ইত্যাদি পুরাণের কাহিনী থেকে নির্বাচিত অংশের সুরেলা আবৃত্তি ও তার সরল গদ্যানুবাদ ও ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়। মণিপুরীদের অন্যান্য বিভিন্ন ধর্মীয় কৃত্যে-পার্বণে এটি একটি আবশ্যিক পরিবেশনা। অবশ্য রামায়ন মহাভারতের বাইরে চৈতন্য চরিতামৃত, ভাগবৎ পুরাণ, গীতা ...

  • Phonetic
  • Probhat
  • Inscript
  • Unijoy
  • Bijoy
  • English
  • Virtual