ইসলামী শরিয়ত বনাম বাংলাদেশ আইন (পর্ব ১)
অনেক দিন ধরে মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে একটি প্রশ্ন। আর তা হচ্ছে; একজন মুসলমান হিসাবে ইসলামের পথে মানে পবিত্র কোরআন শরীফের আলোকে চলবো না বাংলাদেশ আইন অনুসরণ করবো? সমস্যা হত না যদি না এই দুইয়ের ভেতর দ্বন্দ না হত।
আজকের প্রথম আলোর (০৩/০২/২০০৯ইং) “রাগের মাথায় তালাক উচ্চারণ, মৌলভীর সালিস ও দুই দম্পতির দুর্গতি” শিরনামের খবরটি পড়তে গিয়ে প্রশ্নটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।
প্রায়ই আমরা তালাক নিয়ে এ ধরনের সংবাদ পত্রিকায় বা আমাদের আশেপাশে দেখি। আর এই সব নিয়ে দুই আইনের্ দ্বন্দের কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে ধর্ম প্রাণ মানুষ গুলো।
একজন ঈমানদার বা মোত্তাকী ব্যক্তি অবশ্যই মহান আল্লাহ তালার কাছে নিজেকে সমরপণ করে তারই প্রেরিত পবিত্র কোরআনের আলোকে চলিবে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত-৩; আল-কোরআন সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, এতে রয়েছে মোত্তাকীদের জন্য পথের দিশা।
এখন বলব স্ত্রীলোকের তালাক সম্পর্কে আল-কোরআন কি বলে;
•কোরআন শরীফে শুধু মাত্র স্বামীকে তালাক দেবার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোন ভাবেই স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকারের কথা উল্ল্যেখ নেই।
কিন্তু অপর দিকে বাংলাদেশ মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন, ১৯৭৪ বলে; স্বামী কর্তিক বিবাহর সময় নিকানামায় যদি স্ত্রীকে ক্ষমতা প্রদান করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রী তালাক দিতে পারবে। প্রসংগ ক্রমে উল্ল্যেখ যে নিকানামায় উহা সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন থাকে স্বামীর উদ্দ্যেশে। যাহার উত্তরে হ্যা বা না দুইটি ঘর থাকে। এবং আমাদের কাজীরা আগেই হ্যা ঘরে টিক দিয়ে রাখে, কখনো তারা বরকে ইহা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করেন না। সাথে আমাদের সমাজেও ইহা একটি রীতি হয়ে গেছে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো যেখানে ইসলামে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয়া হয় নাই সেখানে স্ত্রী যদি স্বামীর অমতে স্বামীকে বাংলাদেশ আইনে তালাক প্রদান করে, সেক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে উহা তালাক হিসাবে গণ্য হইবে না। এখন যদি সেই স্ত্রী আবার অন্য কোন খানে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হয় সেই ক্ষেত্রে কি সেই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার হিসাবে গণ্য হইবে না?
ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে সূরা নিসা, আয়াত ১৫ বলছে; তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে ব্যভিচারিণীদেরকে ঘরে আবদ্ব করে রাখবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের অন্য কোন ব্যবস্থা করেন।
(আমি একবারেই নতুন লিখছি। এতএব কোন ভুলত্রুটি হলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন।)
চলবে……………………
আজকের প্রথম আলোর (০৩/০২/২০০৯ইং) “রাগের মাথায় তালাক উচ্চারণ, মৌলভীর সালিস ও দুই দম্পতির দুর্গতি” শিরনামের খবরটি পড়তে গিয়ে প্রশ্নটা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো।
প্রায়ই আমরা তালাক নিয়ে এ ধরনের সংবাদ পত্রিকায় বা আমাদের আশেপাশে দেখি। আর এই সব নিয়ে দুই আইনের্ দ্বন্দের কারণে ভুক্তভোগী হচ্ছে ধর্ম প্রাণ মানুষ গুলো।
একজন ঈমানদার বা মোত্তাকী ব্যক্তি অবশ্যই মহান আল্লাহ তালার কাছে নিজেকে সমরপণ করে তারই প্রেরিত পবিত্র কোরআনের আলোকে চলিবে।
সূরা আল-বাকারা, আয়াত-৩; আল-কোরআন সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই, এতে রয়েছে মোত্তাকীদের জন্য পথের দিশা।
এখন বলব স্ত্রীলোকের তালাক সম্পর্কে আল-কোরআন কি বলে;
•কোরআন শরীফে শুধু মাত্র স্বামীকে তালাক দেবার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোন ভাবেই স্ত্রীকে তালাক দেবার অধিকারের কথা উল্ল্যেখ নেই।
কিন্তু অপর দিকে বাংলাদেশ মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইন, ১৯৭৪ বলে; স্বামী কর্তিক বিবাহর সময় নিকানামায় যদি স্ত্রীকে ক্ষমতা প্রদান করা হইয়া থাকে তবে স্ত্রী তালাক দিতে পারবে। প্রসংগ ক্রমে উল্ল্যেখ যে নিকানামায় উহা সংক্রান্ত একটি প্রশ্ন থাকে স্বামীর উদ্দ্যেশে। যাহার উত্তরে হ্যা বা না দুইটি ঘর থাকে। এবং আমাদের কাজীরা আগেই হ্যা ঘরে টিক দিয়ে রাখে, কখনো তারা বরকে ইহা সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করেন না। সাথে আমাদের সমাজেও ইহা একটি রীতি হয়ে গেছে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো যেখানে ইসলামে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেয়া হয় নাই সেখানে স্ত্রী যদি স্বামীর অমতে স্বামীকে বাংলাদেশ আইনে তালাক প্রদান করে, সেক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে উহা তালাক হিসাবে গণ্য হইবে না। এখন যদি সেই স্ত্রী আবার অন্য কোন খানে বিবাহ বন্দনে আবদ্ধ হয় সেই ক্ষেত্রে কি সেই স্ত্রীলোকটি ব্যভিচার হিসাবে গণ্য হইবে না?
ব্যভিচারের শাস্তি সম্পর্কে সূরা নিসা, আয়াত ১৫ বলছে; তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা ব্যভিচার করে তাদের বিরুদ্ধে তোমদের মধ্য থেকে চারজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, যদি তারা সাক্ষ্য প্রদান করে তবে ব্যভিচারিণীদেরকে ঘরে আবদ্ব করে রাখবে যে পর্যন্ত না তাদের মৃত্যু হয় অথবা আল্লাহ তাদের অন্য কোন ব্যবস্থা করেন।
(আমি একবারেই নতুন লিখছি। এতএব কোন ভুলত্রুটি হলে নিজ গুণে ক্ষমা করবেন।)
চলবে……………………
লেখক তপ্তকাঞ্চন
- তপ্তকাঞ্চন -এর ব্লগ
- ২৫ টি মন্তব্য
- ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ১০:২৩
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ২৫ টি মন্তব্য
-
হাসান মাহমুদ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ১০:২৯
আপনি খুব সুন্দর লিখেন। বিষয়টা একটু কনফিউজিংতো বটেই। আমাদের কারো যেন সে অবস্থায় পরতে না হয়। আল্লাহ আপনি কবুল করুন। আমিন।
ভাল থাকবেন ভাইয়া। -
সুজন০৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ১০:৩৬
Bisoy ta bitorkito. Islam shantir dhormo. Quran a emon kisu nirdesh thakbe na ja amader jonno valo noy.
Thanx (mobi cmnt) -
ইঊসুফ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ১১:২৮
ভাই মন্তব্য লিখতে গিয়ে বেশ বড় হয়ে গেল, তাই ভিন্ন পোষ্টে দিয়ে দিলাম। পড়ে দেখবেন। অনেক ধন্যবাদ। পোষ্টের লিংক -
সনি০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০২:১৫
ইউসুফ ভাইয়ের পোষ্ট পড়তে গিয়ে আপনার লেখা পড়লাম। বিষয়টা অনুসন্ধান করে দেখার দাবী রাখে। ধন্যবদ আপনাকে। -
মুসলীমা০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০২:২৪
"আমি কে, কেন এসেছি, কোথায় যাবো? কিছুই জানি না...."
তপ্তকাঞ্চন আপনি কি কখনো জানার চেষ্টা করেছেন? ধন্যবাদ আপনাকে। -
মুসলীমা০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৩:১৮
"তবে বহু যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর অগণিত মানুষ চেষ্টা করে আসছে।তারা এখনও এর উত্তর পায়নি। " ---- এটা আপনার ভুল ধারণা। অনেকেই এর উত্তর পেয়েছেন।
আপনিও সঠিকভাবে চেষ্টা করুন দেখবেন একদিন পেয়ে যাবেন ইনশাল্লাহ। -
মুসলীমা০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৩:৫৮
ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি আমার উত্তরটি দিয়ে দিয়েছেন,"আপনি যদি উত্তরটির জন্য ধর্মের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন..." একজন মুসলমানের identity নিয়ে কোন প্রশ্ন থাকার কথা না।
"শুধু বলবো ধর্মের ভিত্তি বিশ্বাসের উপর। "...শুধুমাত্র বিশ্বাস না, ইসলাম একটি পরীক্ষিত ধর্ম।
আপনার ভাষায় পরীক্ষিত উত্তর বলতে কি বুঝিয়েছেন আমি জানি না তবে তা যদি বিবর্তনবাদ হয়, তাহলে আমার কাছে এর উত্তর জানা নেই। কারন আমি বিবর্তনের ফসল নই। -
জাকির বেপারী০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৪:০১
আচ্ছা বাংলাদেশ কি ইসলামী রাষ্ট্র বা বিশ্বে কোন ইসলামী রাষ্ট্র আছে কিনা ?
আর যদি বিশ্বে কোথাও ইসলামী রাষ্ট্র না থেকে থাকে তাহলে কেনো আমরা ''তালাক, তালাক'' করে চিল্লা চিল্লি করছি ! ! ! -
জাকির বেপারী০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৪:৩৮
আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না, বিশ্বের কোথাও পরিপূর্ণ ইসলামীক রাষ্ট্র নেই। -
উম্মু০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৯:০৯
কাজীরা টিক দিয়ে থাকলে তো হবে না। স্বামীদের অনিচ্ছায় কাজীরা স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দিতে পারে না। তালাকের একক অধিকার স্বামীর যা সে চাইলে স্ত্রীকে অর্পন করতে পারে।
আমি অবশ্য এমন শুনিনি কখনও। সব বিয়েতেই টার্মস গুলো আগেই ঠিক করা থাকে।
এছাড়া তালাকের ক্ষমতা না থাকলেও নারীর খোলার ক্ষমতা থাকে। বাংলাদেশে খোলার বিষয়টি খুব একটা নারী ফ্রেন্ডলি হয় নি। পারিবারিক আদালত করে নারীকে খোলার সবরকম সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। খোলা ততটা কঠিন নয়। -
উম্মু০৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০৯:১১
"স্ত্রী যদি স্বামীর অমতে স্বামীকে বাংলাদেশ আইনে তালাক প্রদান করে, সেক্ষেত্রে ইসলামের দৃষ্টিতে উহা তালাক হিসাবে গণ্য হইবে না।"
বাংলাদেশে মুসলিম পারিবারিক আইনে নেয়া তালাক গ্রহনযোগ্য। কারন আদালতের দ্বারা সালিশকৃত তালাক বৈধ তালাক। স্বামীর দায়িত্ব পালনে অক্ষমতায় স্ত্রী তালাকের অধিকার লাভ করে। এক্ষেত্রে কিছু শর্ত আছে - এটা একেবারে অবাধ নয়।





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক