জিকোবাজি

ডিসেম্বর
১৯

শুটিং স্মৃতি: মেহেরজান

সময় ১৪:৫৯:০০

সিনেমার শুটিং চলছে। কান্নার দৃশ্য। মা বিদায় দেবেন ছেলেকে। মা গ্লিসারিন নিচ্ছেন না। বললেন, স্বাভাবিকভাবেই তিনি কাঁদতে পারবেন। শুধু একটা গান শোনাতে হবে তাকে।

হুকুম মোতাবেক ল্যাপটপ আনা হলো সেটে। হ্যান্ডমাইকে নির্দেশ দেয়া হলো, অল কোয়াইট, ইন দ্য মুড প্লিজ। হইচই থেমে গেল। নেমে এলো নিরবতা।

লতা মুঙ্গেশকারের কণ্ঠ। ক্যামেরায় সমীরণদা, আলোয় বাবলা দা, ফোকাস পুলার টিপু ভাই, মিটার রিডার জামান ভাইসহ প্রডাকশনের জনা ত্রিশেক অপেক্ষা করছি, মায়ের কান্নার জন্য। ঘরের ভেতর শুটিংয়ে হাজার ওয়াটের লাইট জ্বলছে। মা বিছানায় বসে চুপ করে শুনছেন। গান শেষে মা কাঁদতে লাগলেন।

সবাই স্ট্যান্ডবাই। পরিচালক বললেন, টেকে যাবো আমরা। গান বন্ধ। ক্ল্যাপবোর্ডে দৃশ্য-টেক নম্বর লিখে ক্ল্যাপ দিলো শশী। দৃশ্যের মাঝে ঝামেলা বাঁধালেন ছেলে। তার সংলাপ গড়বড় হয়ে গেল।

আবার গান ছাড়া। আবার কান্না। আবার ছেলের সংলাপ গড়বড় কিম্বা ম্যাগাজিনে সেলুলয়েড ফিতা শেষ হয়ে যাওয়া (রান আউট)।

এই করে আট বার নেয়া হলো দৃশ্যটি। পরিচালক শেষ টেকে বললেন, ওকে।

আহ, মুহুর্মহু হাততালি প্রডাকশন ...

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫