একজন বড়ভাইকে বাঁচাতে সাহায্য চাই
শাম্মা ভাইয়ের সাথে দেখা হলে তাঁর যে বৈশিষ্ট্যের জন্য সহজেই তাঁকে মনে থাকবে সবার, সেটা তাঁর মাথার একরাশ কাঁচাপাকা চুল। কাজেই প্রথম যেদিন ভর্তি কোচিং করতে গিয়ে তাঁকে দেখি, কোন সন্দেহই ছিল না এই লোককে অনেক বছর পরেও মনে থাকবে। কিন্তু ঐ পাকা চুল বা বুদ্ধিদীপ্ত চেহারা বা এমনকি ভাল পড়ানোর জন্যও না, শাম্মা ভাইয়ের সাথে খাতির হয়ে গেল তাঁর সহজ ব্যবহার আর একদমই বড়ভাইসুলভ কর্তৃত্ব না থাকা হাসিখুশি চরিত্রের জন্য। বুয়েটের ৯৫ ব্যাচ, সিভিল এন্ঞ্জিনিয়ার, কিন্তু কেন ওমেকাতে পড়াচ্ছেন পূর্ণকালীন, সেটা জিজ্ঞেস করার তখনো সাহস হয়নি, হাজার হোক, তিনি সিনিয়র, আমি সদ্য এইচএসসি দেয়া ছাত্র।
সেই সাহসটা হলো বুয়েটে ভর্তি হবার পর, যখন বাড়তি দু'পয়সা কামাবার ধান্দায় আমি আর আরো অনেক বন্ধুবান্ধবই কোচিংয়ে এসে জুটেছি, অন্যরা একটু এলিট, ক্লাস নেয় হবু বুয়েটিয়ানদের, আমি খাতা দেখি, পরীক্ষা নিই, মাঝে মাঝে ২-১টা ক্লাস পাই। বেশিরভাগ সময়ই এক জায়গায় বসে খাতা দেখতে হয় বলে শাম্মা ভাইয়ের সাথে সারাক্ষনই কথাবার্তা বলি, বাচাল হিসেবে আমার কুখ্যাতি আছে, সেটা কতটা বেশি ভাইয়া হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। বিরক্ত হবার কথা, কিন্তু স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে দীর্ঘ কয়েকটা মাস এই অধমের অত্যাচার সহ্য করে গেলেন। একদিন জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, চাকরিবাকরি না করে এখানে কেন? জানালেন, বাজার ভাল না, আর মালিকপক্ষের সাথে বনিবনা হয় না, ক'দিন পরপরই চাকরি ছাড়েন। মাঝে প্রথম আলোতেও নাকি ক'দিন কাজ করেছেন, সেখানেও বনেনি, এখন কোচিংয়ে পড়ান। প্রথম আলো নিয়ে তখন আমরা বেশ অবসেসড, এমন জায়গায় সুযোগ পেয়েও যে ছাড়ে, সে খানিক বেকুব টাইপেরই হবে, ধরে নিলাম। যাই হোক, এ নিয়ে ঘাঁটালাম না, যার যার ব্যাপার।
তো এহেন শাম্মা ভাই যখন হুট করে একদিন ওমেকার চাকরি ছেড়েও হাওয়া হয়ে গেলেন, অবাক হলাম না। ওমেকার মিজান ভাই ধান্দাবাজ লোক, তাঁর সাথে ঘাড়ত্যাড়া কারো বনিবনা হবার কথা না, শাম্মা ভাইয়ের মত হলে তো কথাই নেই। ফোন করে জানলাম, ঘটনা সেরকমই। এরপর মোবাইল ছিনতাই হলো আমার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, একমাথা কাঁচাপাকা চুলের লোকটার কথা প্রায় ভুলেই গেলাম।
সময় যায়, বুয়েটে শেষবর্ষে চলে এসেছি, বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে জীবনের অনেক কিছু নিয়েই মোহভঙ্গ ঘটেছে ততদিনে। পুরকৌশলীদের চাকরির বাজার নিয়ে যেমন, তেমনি প্রথম আলোর মত সুশীলদের নিয়ে, শাম্মা ভাইয়ের আপাতরূঢ় কথাগুলোর অর্থ বুঝতে শিখেছি অনেক দাম দিয়ে। একদিন আনমনে ক্যাম্পাসে হাঁটছি, হঠাৎ একরাশ কাঁচাপাকা চুল দেখে দৌড় দিলাম, ঠিক সেরকমই আছেন, শাম্মা ভাই কিন্তু দেখেই চিনলেন, কথা শুনে মনে হলো, মাত্রই গতকাল দেখা হয়েছে। এবারে বেশ স্থির হয়ে বসেছেন, একটা স্থায়ী চাকরিও হয়েছে, মাস্টার্স করেন বুয়েটে, স্বভাব অনুযায়ী এখানেও এর মাঝেই একবার একটা ছেড়ে আরেকটায় ঢুকেছেন। কথাবার্তা বলে সান্ত্বনা দিলেন, তাঁর যখন গতি হয়েছে আমাদেরও যে হবে এনিয়ে কোন সন্দেহ নাকি তাঁর নেই। ঠিক আগের মানুষটাই আছেন, দেখে ভাল লাগলো খুব, একটা সময় পাখি ঘরে ফেরেই।
যোগাযোগ হয়েছে এরপরে নিয়মিতই, অফিসেও গেছি, কিন্তু গত প্রায় ৬ মাস ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্যই কোন যোগাযোগ নেই। গতকালকে ফেসবুকে হঠাৎ একটা গ্রুপ থেকে মেইল, সাধারণত এসব মেইল দেখার আগেই ডিলিট করে দেই, প্রথম শব্দটাই "শাম্মা, সিভিল ৯৫" দেখে ঢুকলাম। যা দেখলাম তার জন্য তৈরি ছিলাম না, গত ২১ অক্টোবর, বুধবার, মালিবাগের কাছে শাম্মা ভাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েছেন। বেঁচে গেছেন, কিন্তু ডান পা খানা ৩ টুকরো হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি অপারেশন করতে হবে যদি পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচাতে হয়, কিন্তু অপারেশনের খরচ প্রায় ২০ লাখ টাকা, যেতে হবে ব্যাঙ্কক। দেখার পর মাথা এলোমেলো হয়ে গেল, ওরকম প্রাণবন্ত হাসিখুশি একজন মানুষকে কিছুতেই হাসপাতালের বেডে অথবা পঙ্গু হিসেবে কল্পনা করতে পারলাম না, আমি নিশ্চিত যারা একবার হলেও শাম্মা ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে তারা দুঃস্বপ্নেও সেটা কল্পনা করতে পারবে না।
মেইলটার সাথে একটা অ্যাকাউন্ট নাম্বার আর মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল, তাড়াতাড়ি পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেল যা দেখছি সেটা দুঃস্বপ্ন না, নির্মম বাস্তব। মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ এক লোক রাস্তায় নেমে আসে, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, মোটরবাইকটা তাঁর ডানপায়ের উপর পড়ে হাড় টুকরো করে দিয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আছেন, ডাক্তাররা
জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই ধরণের অপারেশনের ব্যবস্থা নেই, ৫-৬ দিনের মাঝে ব্যাঙ্ককে নিয়ে অপারেশন করতে হবে। সময় খুবই কম, দেরি হলে আজীবন এই ভাঙা পা নিয়ে থাকতে হবে তাঁকে। বন্ধুরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি এত টাকার ব্যবস্থা করা যে কারো জন্যই কঠিন ব্যাপার। প্রাথমিক খরচ অর্থাৎ বাইরে যাওয়া, ভর্তি, ওষুধপত্র হিসেবেই ৮ লাখ টাকা লাগবে, কয়েকদিনের মাঝেই। বুয়েটে যাই না অনেকদিন, কিছু করার ক্ষমতা নেই বললেই চলে, ব্যাচমেটরাও বাইরে, যে ক'জন চেনা লোক আছে জানালাম, কয়েকজন জুনিয়রকেও জানানো গেল। ব্লগার অদ্রোহ আর বোহেমিয়ানকে যখন বললাম, জানালো যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, তবে ব্লগে একটা পোস্ট দিয়ে যেন জানাই, নিশ্চয়ই কারো না কারো সাহায্য পাওয়া যাবে।
কথা শুনে মনে হলো, আগেও এটা ভাবলে পারতাম। আমি ক্ষুদ্র মানুষ হতে পারি, ক্ষমতা সীমিত হতে পারি, কিন্ত ব্লগে হাজার হাজার ব্লগারের মাঝে অনেক অনেক বড় মনের মানুষ আছেন, সবসময়ই সেটার প্রমাণ পেয়েছি। আমরা ক'জন সামান্য মানুষ যদি তাদের বড় ভাইয়ের জন্য হাত পেতে দাঁড়াই, আমি নিশ্চিতভাবে জানি তাঁরা আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না। খুব বেশি কিছু করতে হবে না, আমাদের যা সামর্থ্য সেই অনুযায়ী সামান্য দিলেও কিন্তু হয়ে যায়, ২০ হাজার মানুষ ১০০ টাকা করে দিলেও ২০ লাখ টাকা হয়। কারো এক প্যাকেট সিগারেটের দাম, কারো এক বেলা ঘোরাঘুরির টাকা, কারো আড্ডার বাজেট, কারো একটা টিশার্ট কেনার টাকা, কারো এক বেলা ব্যুফে খাবার টাকাটা যদি উৎসর্গ করি, একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়া যায় তাঁর বিনিময়ে, প্রাপ্তির তুলনায় ব্যয়টা তখন খুব সামান্য মনে হয় না?
যতদিন আমরা ভার্সিটিতে ছিলাম, কোন কিছু হলে মাঠে নেমেছি। সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছি অনেক সহৃদয় বন্ধুকে। আজকে ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে, কিন্তু আমরা জানি, মৃত্যু আর অসহায়তার সামনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা যুদ্ধ করবো, আমাদের সহযোদ্ধার অভাব হবে না। ব্লগাররা, কোন দয়া নয়, শুধু একজন মানুষ যখন পঙ্গুত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন, তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মেলাতে আপনারাও এগিয়ে আসুন, আপনাদের সহৃদয় হাত বাড়িয়ে দিন একজন যোদ্ধার উঠে দাঁড়ানোর জন্য। আমি জানি, আমরা জানি, আপনারা পিছিয়ে যাবেন না, মানুষ কখনো পিছিয়ে যায় না, মানুষ হারে না, হারতে পারে না।
যারা দেওয়ান আইনুল হক শাম্মাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তাঁদের জন্য নিচের ইস্টার্ন ব্যাঙ্কে শাম্মা ভাইয়ের বন্ধু রেশাদ ভাইয়ের অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও মোবাইল নম্বর:
Kazi Reshad Islam
A/C no- 101-102-12687
Eastern Bank Ltd
Dhanmondi Branch, Dhaka-1205
Mobile no - +880 1819 202020
মেইল-- reshad25@gmail.com
যারা আমেরিকা বা অন্যান্য দেশ থেকে টাকা পাঠাতে চান, তারা moneygram বা Western Union এর মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। পাঠানোর পরে কোড নাম্বারটা রেশাদ ভাইয়ের কাছে জানালেই তিনি তুলে নেবার ব্যবস্থা করবেন, অথবা যারা আমেরিকায় আছেন তারা এখানেও যোগাযোগ করতে পারেন:
Jony কন্টাক্ট নাম্বার--- (405 429 9354)
রামপুরা বা আশপাশের এলাকার ব্লগাররা যদি কোন সাহায্য করতে চান, আমার এই নম্বরে ফোন করলে, অথবা মেইল করলে নিজ দায়িত্বে সেটা পৌঁছানোর চেষ্টা করবো।
01190-535292
farhan7123@gmail.com
যারা বুয়েটে টাকা জমা দিতে চান, তাঁরা দয়া করে ব্লগার বোহেমিয়ান কথকতার (CSE, Batch 05) সাথে যোগাযোগ করুন। কন্টাক্ট নাম্বার:
01733-731856
ব্লগাররা, সবার কাছেই হাত পাতছি, খুব তাড়াতাড়ি সাহায্য দরকার, দয়া করে আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না।
আপডেট: শাম্মা ভাইকে এখন অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যেহেতু এখনই ব্যাঙ্কক যেতে প্রয়োজনীয় টাকাটা যোগার করা যায়নি, অ্যাপোলোতেই প্রাথমিকভাবে শুরু করতে হচ্ছে, সম্ভব হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মাঝে ব্যাঙ্কক যাওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী মাসের প্রথম দিকটাতেও যদি কেউ সাহায্য করতে চান, ইস্টার্ন ব্যাঙ্কের যে কোন শাখাতে এই অ্যাকাউন্ট নম্বরের উদ্দেশ্যে টাকাটা জমা দিয়ে দিলেই হবে।
সেই সাহসটা হলো বুয়েটে ভর্তি হবার পর, যখন বাড়তি দু'পয়সা কামাবার ধান্দায় আমি আর আরো অনেক বন্ধুবান্ধবই কোচিংয়ে এসে জুটেছি, অন্যরা একটু এলিট, ক্লাস নেয় হবু বুয়েটিয়ানদের, আমি খাতা দেখি, পরীক্ষা নিই, মাঝে মাঝে ২-১টা ক্লাস পাই। বেশিরভাগ সময়ই এক জায়গায় বসে খাতা দেখতে হয় বলে শাম্মা ভাইয়ের সাথে সারাক্ষনই কথাবার্তা বলি, বাচাল হিসেবে আমার কুখ্যাতি আছে, সেটা কতটা বেশি ভাইয়া হাড়ে হাড়ে টের পেলেন। বিরক্ত হবার কথা, কিন্তু স্বভাবসুলভ হাসি দিয়ে দীর্ঘ কয়েকটা মাস এই অধমের অত্যাচার সহ্য করে গেলেন। একদিন জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, চাকরিবাকরি না করে এখানে কেন? জানালেন, বাজার ভাল না, আর মালিকপক্ষের সাথে বনিবনা হয় না, ক'দিন পরপরই চাকরি ছাড়েন। মাঝে প্রথম আলোতেও নাকি ক'দিন কাজ করেছেন, সেখানেও বনেনি, এখন কোচিংয়ে পড়ান। প্রথম আলো নিয়ে তখন আমরা বেশ অবসেসড, এমন জায়গায় সুযোগ পেয়েও যে ছাড়ে, সে খানিক বেকুব টাইপেরই হবে, ধরে নিলাম। যাই হোক, এ নিয়ে ঘাঁটালাম না, যার যার ব্যাপার।
তো এহেন শাম্মা ভাই যখন হুট করে একদিন ওমেকার চাকরি ছেড়েও হাওয়া হয়ে গেলেন, অবাক হলাম না। ওমেকার মিজান ভাই ধান্দাবাজ লোক, তাঁর সাথে ঘাড়ত্যাড়া কারো বনিবনা হবার কথা না, শাম্মা ভাইয়ের মত হলে তো কথাই নেই। ফোন করে জানলাম, ঘটনা সেরকমই। এরপর মোবাইল ছিনতাই হলো আমার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল, একমাথা কাঁচাপাকা চুলের লোকটার কথা প্রায় ভুলেই গেলাম।
সময় যায়, বুয়েটে শেষবর্ষে চলে এসেছি, বড় হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে জীবনের অনেক কিছু নিয়েই মোহভঙ্গ ঘটেছে ততদিনে। পুরকৌশলীদের চাকরির বাজার নিয়ে যেমন, তেমনি প্রথম আলোর মত সুশীলদের নিয়ে, শাম্মা ভাইয়ের আপাতরূঢ় কথাগুলোর অর্থ বুঝতে শিখেছি অনেক দাম দিয়ে। একদিন আনমনে ক্যাম্পাসে হাঁটছি, হঠাৎ একরাশ কাঁচাপাকা চুল দেখে দৌড় দিলাম, ঠিক সেরকমই আছেন, শাম্মা ভাই কিন্তু দেখেই চিনলেন, কথা শুনে মনে হলো, মাত্রই গতকাল দেখা হয়েছে। এবারে বেশ স্থির হয়ে বসেছেন, একটা স্থায়ী চাকরিও হয়েছে, মাস্টার্স করেন বুয়েটে, স্বভাব অনুযায়ী এখানেও এর মাঝেই একবার একটা ছেড়ে আরেকটায় ঢুকেছেন। কথাবার্তা বলে সান্ত্বনা দিলেন, তাঁর যখন গতি হয়েছে আমাদেরও যে হবে এনিয়ে কোন সন্দেহ নাকি তাঁর নেই। ঠিক আগের মানুষটাই আছেন, দেখে ভাল লাগলো খুব, একটা সময় পাখি ঘরে ফেরেই।
যোগাযোগ হয়েছে এরপরে নিয়মিতই, অফিসেও গেছি, কিন্তু গত প্রায় ৬ মাস ব্যক্তিগত ব্যস্ততার জন্যই কোন যোগাযোগ নেই। গতকালকে ফেসবুকে হঠাৎ একটা গ্রুপ থেকে মেইল, সাধারণত এসব মেইল দেখার আগেই ডিলিট করে দেই, প্রথম শব্দটাই "শাম্মা, সিভিল ৯৫" দেখে ঢুকলাম। যা দেখলাম তার জন্য তৈরি ছিলাম না, গত ২১ অক্টোবর, বুধবার, মালিবাগের কাছে শাম্মা ভাই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় পড়েছেন। বেঁচে গেছেন, কিন্তু ডান পা খানা ৩ টুকরো হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি অপারেশন করতে হবে যদি পঙ্গুত্ব থেকে বাঁচাতে হয়, কিন্তু অপারেশনের খরচ প্রায় ২০ লাখ টাকা, যেতে হবে ব্যাঙ্কক। দেখার পর মাথা এলোমেলো হয়ে গেল, ওরকম প্রাণবন্ত হাসিখুশি একজন মানুষকে কিছুতেই হাসপাতালের বেডে অথবা পঙ্গু হিসেবে কল্পনা করতে পারলাম না, আমি নিশ্চিত যারা একবার হলেও শাম্মা ভাইয়ের সাথে কথা বলেছে তারা দুঃস্বপ্নেও সেটা কল্পনা করতে পারবে না।
মেইলটার সাথে একটা অ্যাকাউন্ট নাম্বার আর মোবাইল নাম্বার দেয়া ছিল, তাড়াতাড়ি পরিচিতদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেল যা দেখছি সেটা দুঃস্বপ্ন না, নির্মম বাস্তব। মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন, হঠাৎ এক লোক রাস্তায় নেমে আসে, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন, মোটরবাইকটা তাঁর ডানপায়ের উপর পড়ে হাড় টুকরো করে দিয়েছে। হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আছেন, ডাক্তাররা
জানিয়েছেন, বাংলাদেশে এই ধরণের অপারেশনের ব্যবস্থা নেই, ৫-৬ দিনের মাঝে ব্যাঙ্ককে নিয়ে অপারেশন করতে হবে। সময় খুবই কম, দেরি হলে আজীবন এই ভাঙা পা নিয়ে থাকতে হবে তাঁকে। বন্ধুরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু এত তাড়াতাড়ি এত টাকার ব্যবস্থা করা যে কারো জন্যই কঠিন ব্যাপার। প্রাথমিক খরচ অর্থাৎ বাইরে যাওয়া, ভর্তি, ওষুধপত্র হিসেবেই ৮ লাখ টাকা লাগবে, কয়েকদিনের মাঝেই। বুয়েটে যাই না অনেকদিন, কিছু করার ক্ষমতা নেই বললেই চলে, ব্যাচমেটরাও বাইরে, যে ক'জন চেনা লোক আছে জানালাম, কয়েকজন জুনিয়রকেও জানানো গেল। ব্লগার অদ্রোহ আর বোহেমিয়ানকে যখন বললাম, জানালো যথাসাধ্য চেষ্টা করবে, তবে ব্লগে একটা পোস্ট দিয়ে যেন জানাই, নিশ্চয়ই কারো না কারো সাহায্য পাওয়া যাবে।
কথা শুনে মনে হলো, আগেও এটা ভাবলে পারতাম। আমি ক্ষুদ্র মানুষ হতে পারি, ক্ষমতা সীমিত হতে পারি, কিন্ত ব্লগে হাজার হাজার ব্লগারের মাঝে অনেক অনেক বড় মনের মানুষ আছেন, সবসময়ই সেটার প্রমাণ পেয়েছি। আমরা ক'জন সামান্য মানুষ যদি তাদের বড় ভাইয়ের জন্য হাত পেতে দাঁড়াই, আমি নিশ্চিতভাবে জানি তাঁরা আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না। খুব বেশি কিছু করতে হবে না, আমাদের যা সামর্থ্য সেই অনুযায়ী সামান্য দিলেও কিন্তু হয়ে যায়, ২০ হাজার মানুষ ১০০ টাকা করে দিলেও ২০ লাখ টাকা হয়। কারো এক প্যাকেট সিগারেটের দাম, কারো এক বেলা ঘোরাঘুরির টাকা, কারো আড্ডার বাজেট, কারো একটা টিশার্ট কেনার টাকা, কারো এক বেলা ব্যুফে খাবার টাকাটা যদি উৎসর্গ করি, একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেয়া যায় তাঁর বিনিময়ে, প্রাপ্তির তুলনায় ব্যয়টা তখন খুব সামান্য মনে হয় না?
যতদিন আমরা ভার্সিটিতে ছিলাম, কোন কিছু হলে মাঠে নেমেছি। সহযোদ্ধা হিসেবে পেয়েছি অনেক সহৃদয় বন্ধুকে। আজকে ক্যাম্পাস থেকে অনেক দূরে, কিন্তু আমরা জানি, মৃত্যু আর অসহায়তার সামনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা যুদ্ধ করবো, আমাদের সহযোদ্ধার অভাব হবে না। ব্লগাররা, কোন দয়া নয়, শুধু একজন মানুষ যখন পঙ্গুত্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছেন, তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মেলাতে আপনারাও এগিয়ে আসুন, আপনাদের সহৃদয় হাত বাড়িয়ে দিন একজন যোদ্ধার উঠে দাঁড়ানোর জন্য। আমি জানি, আমরা জানি, আপনারা পিছিয়ে যাবেন না, মানুষ কখনো পিছিয়ে যায় না, মানুষ হারে না, হারতে পারে না।
যারা দেওয়ান আইনুল হক শাম্মাকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে চান, তাঁদের জন্য নিচের ইস্টার্ন ব্যাঙ্কে শাম্মা ভাইয়ের বন্ধু রেশাদ ভাইয়ের অ্যাকাউন্ট নাম্বার ও মোবাইল নম্বর:
Kazi Reshad Islam
A/C no- 101-102-12687
Eastern Bank Ltd
Dhanmondi Branch, Dhaka-1205
Mobile no - +880 1819 202020
মেইল-- reshad25@gmail.com
যারা আমেরিকা বা অন্যান্য দেশ থেকে টাকা পাঠাতে চান, তারা moneygram বা Western Union এর মাধ্যমে পাঠাতে পারেন। পাঠানোর পরে কোড নাম্বারটা রেশাদ ভাইয়ের কাছে জানালেই তিনি তুলে নেবার ব্যবস্থা করবেন, অথবা যারা আমেরিকায় আছেন তারা এখানেও যোগাযোগ করতে পারেন:
Jony কন্টাক্ট নাম্বার--- (405 429 9354)
রামপুরা বা আশপাশের এলাকার ব্লগাররা যদি কোন সাহায্য করতে চান, আমার এই নম্বরে ফোন করলে, অথবা মেইল করলে নিজ দায়িত্বে সেটা পৌঁছানোর চেষ্টা করবো।
01190-535292
farhan7123@gmail.com
যারা বুয়েটে টাকা জমা দিতে চান, তাঁরা দয়া করে ব্লগার বোহেমিয়ান কথকতার (CSE, Batch 05) সাথে যোগাযোগ করুন। কন্টাক্ট নাম্বার:
01733-731856
ব্লগাররা, সবার কাছেই হাত পাতছি, খুব তাড়াতাড়ি সাহায্য দরকার, দয়া করে আমাদের ফিরিয়ে দেবেন না।
আপডেট: শাম্মা ভাইকে এখন অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হয়েছে, যেহেতু এখনই ব্যাঙ্কক যেতে প্রয়োজনীয় টাকাটা যোগার করা যায়নি, অ্যাপোলোতেই প্রাথমিকভাবে শুরু করতে হচ্ছে, সম্ভব হলে ৭ থেকে ১০ দিনের মাঝে ব্যাঙ্কক যাওয়া হবে। অর্থাৎ আগামী মাসের প্রথম দিকটাতেও যদি কেউ সাহায্য করতে চান, ইস্টার্ন ব্যাঙ্কের যে কোন শাখাতে এই অ্যাকাউন্ট নম্বরের উদ্দেশ্যে টাকাটা জমা দিয়ে দিলেই হবে।
লেখক ফারহান দাউদ
- ফারহান দাউদ -এর ব্লগ
- ৫৬ টি মন্তব্য
- ২৮ অক্টোবর ২০০৯, ০৮:৩৮
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ৫৬ টি মন্তব্য
-
সুজন২৯ অক্টোবর ২০০৯, ১১:৪৫
আমি জানি এই পোষ্ট কোন উপকারে আসবেনা। তাই অতি কষ্টেও হাসলাম। এখন আমার কথা বিশ্বাস হলো তো? আপনার পোষ্টের জন্য একটি আকুল আহবান জানিয়েছি।
এখানে ক্লিক করুন -
ফাতেমা আবেদীন নাজলা২৮ অক্টোবর ২০০৯, ১০:৩৩
ফারহান পোস্টটা দেখেই লগইন করলাম। শোনো তোমাকে একটা নির্মমতা শেখাই যেটা তুমি এখনো শেখনি বা জানোনি। তাই আশা নিয়ে বল ২০হাজার ব্লগার ১০০টাকা দিলে ২০লাখ টাকা হয়ে যায়। কোনোদিনো হবে না।
শিবলী ভাইকে দেখেছো কেমন আছে জানো? জানো না।
মানুষের কাছ থেকে কোনোদিনো কিছু আশা করবে না। আশা করা অনেক বড় ভুল।
শাম্মা ভাই ভালো হবেন আবার হাটবেন এই কামনা করছি। আর ইয়াহু আইডি দাও ডিটেইলস বলছি। কি করা যায় উনার জন্য। -
মাসুম আহমদ৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১২:০৮
মন্তব্য দিয়া কি করবেন। কেও কারো জন্য মরেও যায় নাই কেও কারো জন্য বেঁচেও থাকে নাই। সবাই নিজের জন্য বাঁচে। শাম্মা ভাই ও বেঁচে উঠবে ।
এটা নাজলা আপার মন্তব্য সুজন ভাইয়ের পোষ্টে।
এরসাথে পুরোটা স হ ম ত -
দখিনো হাওয়া২৯ অক্টোবর ২০০৯, ১১:৫৬
প্রথম আলো ব্লগ একটা স্বজনপ্রীতি টাইপ ব্লগ এখানে কম পরিচিত ব্লগারের লেখা কেউ পরে না। ধন্যবাদ:! :! -
আলপিন৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৮:৫৪
এটা ভুল সবাই পড়ে! তবে মন্তব্য বুঝে শুনে দেয়! যারা মন্তব্যের উত্তর দেয়না মানুষ তাদের ব্লগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়! -
নির্বাসিত নিশাচর২৯ অক্টোবর ২০০৯, ১১:৫৭
শাম্মা ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করি , তিনি যেন অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠেন এবং আবার ও আগের মত হাঁটাচলা করতে পারেন... -
নীরব৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:৪৭
শাম্মা ভাইয়ের জন্য প্রার্থনা করি , তিনি যেন অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে ফিরে আসেন তার সেই আগের হাসি খুসি জীবনে। -
উদাসমন৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:৫৯
দোয়া করি, শাম্মা ভাই খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আনন্দময়ী আপুকে ধন্যবাদ, খুশীর একটা খবর শোনানোর জন্য। আর আমরা যারা নানা ধরনের অসুস্থতায় কাতর মানুষের পাশে আসার সুযোগ পাই মেডিকেলের বিভিন্ন ওয়ার্ডে, দেখেছি মানুষ কতটা অসহায়। খুব ইচ্ছে করে কিছু করতে, কিন্তু সামর্থ্য আর সাধ দুটোতো এক বিন্দুতে কখনই মেলেনা। আমি সবাইকে বলব, সুযোগ পেলেই রক্ত দিন। মানুষের খুব প্রয়োজনে আপনার এটুকু অবদান হয়ে উঠতে পারে অমৃতসম।
সবাইকে ধন্যবাদ -
অলিউর রহমান চৌধুরী৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৫:০৮
ভয়ঙ্কর খবর একই সাথে ফারহানের শেষ মন্তব্য পড়ে আশাবাদী হবার মতনও অনেক কিছু দেখছি। যদি পে-পেল দিয়ে টাকা পাঠাই কারো একাউন্ট আছে তোলার জন্য? -
সারোয়ার হোসেন৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৯:২৮
ফারহান ভাই,
আপনার মোবাইলে ট্রাই করছি, কিন্তু ব্যাস্ত।
দয়া করে ০১৭১৫৮৮৫৬৭৩ এ নাম্বারে একটু ফোন করবেন? -
আনন্দময়ী৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৯:৪১
অনেক দিন ব্লগ লিখি না। লেখার সময় হয় না। ব্যস্ততা এতই বেড়েছে যে ব্লগ পড়ার সময়ও হয় না। আমি জানি না কি কারনে এই শুক্রবার সকালে ভার্সিটি যাবার পরিবর্তে ব্লগে আসলাম। প্রথম পাতায় ফারহানের স্টিকি পোস্টের নামের প্রথম শব্দটা পড়েই আমি বুঝেছি এটা শাম্মা ভাইকে নিয়ে লেখা। পোস্ট ওপেন করি দেখি ঠিক তাই।
ফারহান প্রথমকেই তোমাকে অনেক ধন্যবাদ এই পোস্টটা ব্লগে দেবার জন্য। তবে আজকে আমি একটু ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলব। তার আগে প্রথমেই বলে নেই শাম্মা ভাইকে কি করে জানি। বুয়েটে ভর্তি হবার পর থেকেই শাম্মা ভাইয়ের নাম শুনেছি। দেখি নি। প্রায় বছর খানেক বাদে ইউকসু নির্বাচন উপলক্ষে শাম্মা ভাইকে দেখলাম। বুয়েটের ৯১ থেকে ২০০০ পর্যন্ত সব ব্যাচের ছেলেমেয়েরা এক নামে শাম্মা ভাইকে চেনে। আমার সাথে উনার ব্যক্তিগত ভাবে কোন পরিচয় ছিল না বুয়েট জীবনে, যদিও একই ফ্যাকান্টির ছিলাম আমরা। বুয়েট জীবনে শাম্মা ভাই কেন এত জনপ্রিয় ছিলেন সে কথা আমার আর বলার প্রয়োজন নেই। ফারহানের পোস্ট থেকে সবাই বুঝতে পারবে।
২০০৫ এ যখন চাকরীতে যোগ দিলাম হঠাৎ দেখি "আরে শাম্মা ভাই"। সেই থেকে শাম্মা ভাই আমার সহকর্মী। এই দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছরে শাম্মা ভাইয়ের সাথে কত কথা কত যোগাযোগ। প্রায় তিন মাস চাকরীর শুরুতে ট্রেনিং এর সময়টা আমরা এক গ্রুপে ছিলাম। সারা বাংলাদেশ এক সাথে ঘুরে বেড়ালাম সেও তো শাম্মা ভাই ছিলেন। কত দুষ্টুমি কত পথ হাঁটা কত ছবি এখনো মনে পড়ছে। অফিসে কোন গ্রুপ ইভেন্ট হলেই সবার আগে যোগাযোগ করি শাম্মা ভাইয়ের সাথে। গত বছর শাম্মা ভাইয়ের বিয়েটা মিস করলাম অষ্ট্রেলিয়া থাকার কারনে। কি দুঃখ লাগলো। মাঝে মাঝে কথা হতো ওনার সাথে।
এক সপ্তাহ আগে যখন ওনার এ্যাক্সিডেন্টের খবরটা পেলাম স্তব্ধ হয়ে বসেছিলাম কিছুক্ষন। এর পর শুরু করলাম খোঁজখবর। তখনো ওনার কোন অপারেশন হয় নি। জানলাম কি ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেছে ওনার উপর দিয়ে। এ থেকে সেরে উঠতে ৪/৫ টা অপারেশন লাগবে আর লাগবে অজস্র টাকা। কিন্তু ২০লাখ টাকার অংকটা আমাকে যতটানা নাড়া দিয়েছে তার চাইতে বেশি দিয়েছে এই খবরটা সে এই অপারেশন খুব দ্রুত হতে হবে। আর বাংলাদেশে কেনা জানে সময়ের কোন দাম নেই। তবু ওনার দেশের বাইরে যাবার সব কাজ কর্ম গুছিয়ে দিচ্ছিলেন বন্ধুরা আর সহকর্মীরা। এর মাঝে চলতে থাকে ফান্ড কালেকশন। প্রথমে অবশ্য আমরা সব গ্রুপে শাম্মা ভাইয়ের জন্য সাহায্য চাই নি। ব্যাচমেট আর সহকর্মীরা মিলে কাজটা করছিলাম। প্রথম দিন আমরা কয়েক বন্ধু মিলে টাকা পাঠালাম ষাট হাজার। আমার জানা মতে কেবল অষ্ট্রেলিয়া থেকেই পাঁচ লাখ টাকা পাওয়া যাচ্ছে। এই পর্যন্ত দেশের বাইরে থাকা বন্ধু এবং সহকর্মীদের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। আজকে সকালে খুব ভাল একটা খবর জানলাম। সেটা হলো অফিস থেকে শাম্মাভাইয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হবে।
সময়ের অভাবে শাম্মা ভাইয়ে ব্যাংকক নেয়া যায়নি এখনই। তবে সামনে তার প্রয়োজন হতে পারে। তাছাড়া এই সময়ে ভারতের খুব বড় একজন অর্থপেডিস্ক ডঃ আগরওয়াল বাংলাদেশে থাকাতে উনাকে দিয়েই অপারেশন করানো হয়েছে। আর গতকাল ওনার অপারেশনটা বেশ সাকসেসফুল হয়েছে। ডাক্তার আশা করছেন আর কোন অপারেশন নাও লাগতে পারে। এবং হয়তো এক বছরের মধ্যে শাম্মা ভাই ৬০ ডিগ্রী মত পা বাঁকা করতে পারবেন। এখন শাম্মা ভাইয়ের জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। তাই করছি।
এত কথা বলার একটু মানে আছে। শাম্মা ভাইয়ের এই এ্যাক্সিডেন্ট থেকে দুটো জিনিস আমার মধ্যে কাজ করেছে। প্রথমত: আমরা কত অসহায়। এই ঘটনা তো যে কারো ক্ষেত্রে ঘটতে পারতো। আর বাংলাদেশের কয়টা সাধারন পরিবার দু দিনের মধ্যে ২০লক্ষ টাকা জোগাড় করতে পারবে? যদি না পারে তাহলে কি হবে? চোখের সামনে আপনজনের পঙ্গু হয়ে যাওয়া দেখতে হবে? ব্যপারটা চিন্তা করে আমি শিউরে উঠছি।
দ্বিতীয়ত: আবার শাম্মা ভাইয়ের কাছে ফিরে আসি। শাম্মা ভাই খুব ভাল একজন মানুষ। মানুষের মধ্যে যে মানবীয় গুনগুলো থাকা দরকার সেগুলো ওনার খুব বেশি আছে। ওনাকে সবাই খুব পছন্দ করে হয়তো একারনেই। তা না হলে ওনার এই সময় সবাই যেভাবে এগিয়ে এসেছে সেটা দেখে আমি মুগ্ধ, অভিভূত। এই নিষ্ঠুর জগতে সবাই এখনো এত মমতা লালন করে এটা দেখে আমার খুব ভাল লাগছে। শাম্মা ভাইয়ের জন্য ফান্ড কালেকশনে আমি শুধু একটা কথা বিশেষ ভাবে বলেছি। এটা কোন চ্যারিটি নয়, এটা আমাদের কর্তব্য। বন্ধুর প্রতি, সহকর্মীর প্রতি আর মানুষের প্রতি। আজকে বন্ধু কিংবা সহকর্মী কিংবা কেবলমাত্র মানবতার প্রতি আপনার হাত প্রসারিত করুন। আগামীকাল আপনার দুঃসময়ে অন্যবাও দাঁড়াবে। এমনই তো হওয়া উচিত, নয় কি ? -
ফাতেমা আবেদীন নাজলা৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০১:৪৫
আনন্দ, আমি প্রতিদিন মনে মনে তোমার জন্য অপেক্ষা করি।কারণ তুমি যখন আসো খুব আনন্দময় কিছু ঘটনা ঘটে। আমি তোমাদের শাম্মা ভাইকে চিনিও না জানিও শুধু জানি একদিন আমার জীবনেও এমন কিছু ঘটতে পারে।আমার পাশেও কাওকে লাগতে পারে। সেই আবেগ থেকে যত মানুষকে পারছি জানাইছি শাম্মা ভাইয়ের কথা। একটু সাহায্য চাইছি।
তোমার লেখাটা আবার আমাকে জানালো মানবতবোধটাকে আমরা এখনো মেরে ফেলিনি। শাম্মা ভাই আবার একটা পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাবেন। এটা প্রতিজ্ঞা।
ভালো থেকো । -
জাকির বেপারী৩০ অক্টোবর ২০০৯, ০৬:৪৮
আনন্দ আপার মন্তব্য থেকে শাম্মা ভাই সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারলাম। -
েমাহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধূরী৩১ অক্টোবর ২০০৯, ০৩:০২
শুনে ভাল লাগলো শাম্মা ভাইয়ের অপারেশন সাকসেসফুল হয়েছে। আল্লাহ উনাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ্য করে তুলুন এই দোয়া করি। -
বাতাস৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১১:২০
বেশি কিছু লিখতে পারব না কারন আমার মাথায় বুদ্ধিসুদ্ধি কম । আমি জানি শুধু কাজ ,আজকেই দেখি কিছু .......।। সারাজীবন শুধু কামাইয়া গেলাম কিন্তু যখন ভাবি এই ধন স্মপদ খাইবো কে তখন মনটাই চায়। আমি মনে করি আশার বানী শুনাইয়া কিছুই হবে ক রে দেখাতে হবে। -
পুনপুনি৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১১:৫৪
আমার কিছু বলার নেই। শুধুমাত্র প্রাণভরে দোয়া করি মহান আল্লাহ তাআলার কাছে, উনি যেন ভাল হয়ে যান। -
মাসুম আহমদ৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১২:০০
আমি একটু আগে জনি যে উনার সাথে কথা বললাম, উনি বললেন গতকাল শাম্মা ভাইয়ের একটা অপারেশন হয়েছে এপোলোতে ,ডাঃ দু একদিনের মধ্যে জানাবে উনার আর অপারেসন লাগবে কিনা ।যদি লাগে তাহলে উনাকে ব্যংকক নিয়ে যেতে হবে । -
মাসুম আহমদ৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১২:০২
দোয়া করি , তিনি যেন অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ্য হয়ে উঠেন এবং আবার ও আগের মত হাঁটাচলা করতে পারেন... -
তুস৩০ অক্টোবর ২০০৯, ১২:৫৭
পোষ্টটি নজরে পড়েও উঁকি দেই নি
কেন দেই নি সেটা না হয় নাই বললাম
কিন্তু সুজন ভাই যেভাবে লজ্জা দিলেন তাতে না এসে পারলাম না
আর এসে নিজের অপরাধবোধ বাড়ল বৈকি।
কেউ যদি ব্যঙ্কে পে করেন এখানে জানালে বা চিঠি লিখলে আমি একটা ছোট্ট এমাঊণ্ট তার মোবাইলে ফ্লেক্সি করে দিতাম -
নিশু৩১ অক্টোবর ২০০৯, ০১:০৩
বাস্তব অনেক কঠিন। নাজলা আপু ঠিকই বলেছেন-কারো কাছ থেকে আশা না রাখাই ভালো।দোয়া করি উনি ভালো হয়ে উঠুন।Dhanmondi Branch টা কোথায়? -
মেহরাব শাহরিয়ার৩১ অক্টোবর ২০০৯, ০১:১৪
Dhanmondi Branch
House 21, Road: 8
Dhanmondi R/A
Dhaka.
Phone: 02-9126141, 9146235, 9114145
Fax: 02-9114145
Email: dhanmondi@ebl-bd.com -
নিষাদ৩১ অক্টোবর ২০০৯, ১১:৫৬
আজ পড়লাম।
সবার মন্তব্য পড়ে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছে।
জানি খুব বেশী কোন কিছুই করতে পারবো না।
আমার নিজের ইষ্টার্ণ ব্যাংকে একাউন্ট আছে। আগামীকাল অফিসে আসার আগেই ব্যাংকে যাবো।
একজন যোদ্ধার লড়াইয়ে কাঁধ মিলানোর এই সুযোগ ফেলে দেয়া যাবে না কিছুতেই। -
নীলসাধু৩১ অক্টোবর ২০০৯, ১২:১৭
সহমত নিষাদ ভাই ।
একজন যোদ্ধার লড়াইয়ে কাঁধ মিলানোর এই সুযোগ ফেলে দেয়া যাবে না কিছুতেই।
আশা করি সবাই এগিয়ে আসবেন । -
নীলসাধু৩১ অক্টোবর ২০০৯, ১২:১৬
আমি আমার সাধ্যমত দিয়ে তার পাশে থাকার চেস্টা করব ।
আল্লাহ উনাকে সুস্থ করে তুলুক এই দোয়া করি। -
ইঊসুফ৩১ অক্টোবর ২০০৯, ১২:২১
আনন্দ আপুর মন্তব্য থেকে অপারেশনের কথা জানলাম। এখন দোয়া করি, যেন তিনি দ্রুত সুস্থ, স্বাভাবিক হয়ে উঠেন। বিশ হাজার ব্লগার ১০০ টাকা না দিতে পারি, একবার কি দোয়াও করতে পারব না?!
اللهم لا تدع منا مريضا الا شفيته - و انت قلت و قولك الحق المبين - و اذا مرضت فهو يشفين -
নিশু৩১ অক্টোবর ২০০৯, ১২:৫৮
বাস্তব অনেক কঠিন। নাজলা আপু ঠিকই বলেছেন-কারো কাছ থেকে আশা না রাখাই ভালো।দোয়া করি উনি ভালো হয়ে উঠুন।Dhanmondi Branch এ টাকা দেওয়া যাবে? -
তমা০১ নভেম্বর ২০০৯, ০৩:০৫
আমার ছোট কাজিনটা বুয়েটে পড়ে। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করবার ইচ্ছে রাখি। আর পূর্ণ সহমর্মিতা এবং শুভকামনা এমন একজন বড় ভাইয়ের প্রতি যার ভালোবাসা এবং স্নেহে অনেকেই সিক্ত হয়ে আছেন।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য






নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক