ডিসেম্বর
৩১

রাজাকারদের ছেলেমেয়েদের কি আমরা ঘৃণা করব না?

পুরাতন হয় নূতন পুনরায়

[সামহোয়্যারইনব্লগে এই পোস্টটা বাইর হয় ৩/১০/২০০৭-এ। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পাওয়ারফুল অবস্থায় পোস্টটার সবিশেষ গুরুত্ব বিবেচনা কইরা প্রথম আলোব্লগে এইটা পোস্ট করলাম। সামহোয়্যারইনব্লগের মন্তব্যগুলা দেখার জন্য লিংক-এ ক্লিক করতে হইব। আর এইখানকার মন্তব্যগুলার একটা লিংক ওইখানে দিয়া দেব। - ব্রারা]

এরও আগে যেই প্রশ্ন জারী থাকে তা হলো মুক্তিযোদ্ধারা কি ঘৃণা সহকারে যুদ্ধ করছেন? যুদ্ধ করতে গেলে কি ঘৃণা অবশ্যম্ভাবী? জাতিঘৃণা বা এথনিক ক্লিনিজং-এ যারা খুশি বিশ্বাস রাখতে পারেন; আমি তাদের সঙ্গে নাই। যারা জাতিঘৃণা বা গোষ্ঠীঘৃণা করেন আমি তাদেরও ঘৃণা করি না।

আমার দেশ যদি কেউ আক্রমণ করে তবে কি মাতৃভূমি রক্ষার জন্য ঘৃণা অত্যাবশ্যকীয় জিনিস? যদি তাই হয় তবে সর্বশেষ শত্রুসেনাকে হত্যা করার আগ পর্যন্ত দেশপ্রেমিকরা কীভাবে থামবেন?

যারা রাজাকারের সন্তানের (এইভাবে আমি বলতে চাই না) পছন্দের লিংকে আমার নাম দেইখা আমারে রাজাকারের তালিকায় উঠাইতে চান, তাদের প্রতি বক্তব্য: কেউ যদি আমার লেখালেখি পছন্দ করেন আমার জন্য সেইটা আনন্দদায়ক। তিনি যদি খুনী বা ধর্ষণকারীও হন আমার তাতে আনন্দ কমবে না। আমি গোষ্ঠীর জন্য লিখি না। আমার উপ্রে কোনো ফরজ জারী নাই। মুক্তিযুদ্ধ নিয়া লেইখা ফাটাইয়া ফেলাইয়া আমার প্রমাণ করতে হবে না যে আমি রাজাকার নই।

আমি দেশপ্রেমে বা সীমান্ত প্রেমে বিশ্বাস রাখি না, কাজে কাজেই বিদেশ প্রেমেও না। আমার পাকিস্তান বা ভারতপ্রীতি নাই। বাংলাদেশপ্রীতিও না। ফলে আমারে রাজাকার বলা যাবে না। দেশের আইন যদি রাজাকারদের সন্তানদের ঘৃণা করার বিধান তৈরি করে আমি সেইটারও বিরোধিতা করব।

যদি কোনোদিন অন্য কোনো দেশ আমার নিজের দেশ আক্রমণ করে তখনো যেন সেই দেশের মানুষকে ঘৃণা করার মত অবস্থা আমার তৈরি না হয়। ঘৃণা ছাড়াই যুদ্ধ করা সম্ভব। তাতে যুদ্ধের পাপ হত্যাকারীকে স্পর্শ করে না। যদি আবার পাকিস্তানপন্থী বা নব্য ভারতপন্থীদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তার জন্য দেশপ্রেম ঘৃণা বা রাজাকারদের সংশ্রব এড়ানো কোনো কাজে আসবে না। কৌশল এবং তৎপরতাই কাজে আসবে। যারা গীতা পড়তে চান পইড়া নিয়েন। গীতা এই ব্যাপারে আমার চেয়ে ভালো বলছেন।

যারা জামাতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে চান তারা কেবল ঘৃণা দিয়াই তা সারতে চান। তাতে জামাত শক্তিশালী হয় মাত্র। জামাতের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো এজেন্ডা নাই। গণতন্ত্র বিরোধী একটা দলরে সবাই ভোটে অংশগ্রহণ করতে দিতেছে। মে বি তারা সকলেই রাজাকার হইয়া গেছে!

কমেন্টগুলা দেখার জন্য লিংকে ক্লিক করুন।


১১টি মন্তব্য

  • সালাহ্ উদ্দিন শুভ্র বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫২:৫৫

    একদম হক কথা। সবই ওতাছে কনসিপরেসি... ভোটের রাজনীতি। দেহেন না আওয়ামিলীগ কি করে।

    ব্রাত্য রাইসু বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫৮:০৯

    আওয়ামী লীগ খারাপ কিছু করবে মনে হয় না। আওয়ামী লীগের অভিভাবকরা যথা আর্মি ও আম্রি(কা) তা তাদের করতে দিবে না। আওয়ামী লীগের মারফতে পাবলিকের বিজয়ে শুভেচ্ছা! তেলও যদি বেচতে হয়, ঘাটও যদি বেচতে হয় পাবলিকে বেচুক। আওয়ামী লীগ এখন যাই করুক না কেন তা পাবলিকই করবে।

    সুমিন শাওন বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১৩:৩৬:৪০

    দাদা..মাঝি মঝি অমন খটমট কিছু কথা বুক ফুলাইয়া বলাবার লোক তাইলে অহনো বাংলার জমিনে আছে,,আপনার বক্তব্য শুনিয়া,,বড়ই প্রীত হলাম,,তো সময় মত বলার জন্য আমাগোরেও ডাক দিয়েন,,সাথে পাইবেন>।

  • নাসরীন জুবায়ের বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫৩:৪৪

    পাপকে ঘৃনা কর পাপিকে নয়

    সুমিন শাওন বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫৬:৩৬

    সহমত,,@নাসরিন আপু>

    ব্রাত্য রাইসু বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১৩:১০:৪১

    ঘৃণা করতে গেলে পাপী তো লাগবেই। পাপীরে থুইয়া কি পাপরে ঘৃণা করা যায়? আমি বলতেছি, গোষ্ঠিঘৃণা না করলে কেমন হয়? যেই বিষয় থিকা আইনী ও রাজনৈতিক ভাবে আমরা বাইরাইয়া যাইতে পারব সেইখানে কেন ঘৃণার বাধনে আটকা পইড়া থাকি। ঘৃণা তো গ্লানির মইধ্যে রাখে ঘৃণাকারীরেও।

  • স‍‍নি বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫৭:৫৯

    জামাতের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক দলের কোনো এজেন্ডা নাই।------এইবার কিছু হইবো আশা রাখি।

  • সুজন বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১২:৫৮:৫৯

    আমিও মনে করি পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর।

  • এস এম সনেট বলেছেন ২০০৮/১২/৩১ ১৩:৫৮:৪৩

    রাজাকারের ছেলে-মেয়ে যদি তার বাবা বা স্বাধীনতা বিরোধী আত্ত্বীয় পরিজনদের ঘৃনা করে ও বুঝতে পারে তার বাবা ভুল করেছিল তাহলে তাদেরকে কেন ঘৃনা করবো, তাদেরকে পাশে নিয়ে চলবো কিন্তু তার বাবাকে নয়।

  • ব্রাত্য রাইসু বলেছেন ২০০৯/০৩/২৫ ১০:০৩:৩৯

    সামহোয়্যারইনব্লগ থিকা আমার পোস্টগুলা নিষ্কাশন কইরা নিছি বিধায় কমেন্ট ওইখানে পাইবেন না। আমি bratya-raisu.com এ পরে ওগুলা রাইখা দিব।

  • তুষার কন্যা বলেছেন ২০০৯/০৩/২৫ ১০:১৪:০৬

    "ঘৃণা ছাড়াই যুদ্ধ করা সম্ভব। তাতে যুদ্ধের পাপ হত্যাকারীকে স্পর্শ করে না।"...।এর উপর কথা হয় না।



প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫