নভেম্বর
১৭

ওবামার বিজয়ঃ এটি নীতির বদল না রঙের বদল? -শেষ পর্ব

সময় ১০:১৬:৩৯


(কৃতজ্ঞতা: ফিরোজ মাহবুব কামাল)
(প্রথম পর্বের পর) নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিকে ওবামা ইরাক থেকে সৈন্য-অপসারণের কথা বলেছেন। কিন্তু এখন সুর পাল্টিয়েছেন। বলছেন, এ ব্যাপারে জেনারেলদের সাথে পরামর্শ করবেন। আর জেনারেলগণ তো চায় ইরাকে মার্কিনী সৈন্যের অব্যাহত উপস্থিতি। অতএব সৈন্য-অপাসারণের ঘোষণা থেকেও পিছু হঠবার বাহানা খুঁজছেন। আরো লক্ষণীয় হল, শুরুতে ইরাক-যুদ্ধের বিরোধী হলেও পরবর্তীতে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে অর্থ জোগাতে তিনি সিনেটে বার বার ভোট দিয়েছেন। জন পিলজারের ন্যায় কলামিস্টগণ ওবামার ইরাক-নীতিকে তুলনা করেছেন ষাটের দশকে ডিমোক্রাট দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ও ১৯৬৮ আতোতায়ীর হাতে নিহত রবার্ট কেনেডীর সাথে। বেঁচে থাকলে ওবামার মত রবার্ট কেনেডীও নির্বাচনে জিততেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধীতা করতেন। তবে এজন্য নয় যে, তিনি যুদ্ধের বিরোধী ছিলেন। বরং এজন্য যে, ভিয়েতনামে মার্কিনীদের বিজয় অসম্ভব ছিল। ইরাক নিয়ে তেমন একটি বিশ্বাস ওবামারও। ইরাক যুদ্ধে মার্কিনীদের অর্থনাশ ও প্রাণনাশই শুধু বেড়েছে। এর ফলে অনেক রিপাবলিকান নেতাও ...

নভেম্বর
১৬

ওবামার বিজয়ঃ এটি নীতির বদল না রঙের বদল? -পর্ব: ১

সময় ১০:৪৮:২৬

(কৃতজ্ঞতা: ফিরোজ মাহবুব কামাল)
মার্কিন নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বারাক হোসেন ওবামা। তাঁর বিজয়ে আনন্দ-উৎসব হয়েছে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বহুদেশে। কোন এক ব্যক্তির নির্বাচনী বিজয়ে দেশ, বর্ণ, ভাষা ও ধর্মের গন্ডি ডিঙ্গিয়ে এভাবে আনন্দ প্রকাশের ঘটনা বিরল। নির্বাচন-পুর্বে মিশরে এক জরিপ চালিয়েছিল “দি ইকোনমিষ্ট”। সে জরিপে প্রকাশ পায়, ভোট দেওয়ার অধিকার থাকলে শতকরা ৯১ ভাগ মিশরীয়ই ভোট দিত বারাক ওবামাকে। ব্রাজিলের নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী নাম পরিবর্তন করে ভোট চেয়েছে ওবামা নামে। অনেকের ধারণা, ওবামার বিজয়ে মার্কিন রাজনীতিতে শুরু হবে নতুন যুগ। তাদের কথা, ওবামা হলেন একাবিংশ শতাব্দীর নেতা। তাদের যুক্তি, তাঁর পিতা আফ্রিকার মুসলিম পরিবারের। মা একজন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন। তাঁর শৈশব কেটেছে ইন্দোনেশিয়ায়। লেখাপড়া করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মজীবনের শুরুতে সমাজকর্মী রূপে কাজ করেছেন দরিদ্র শ্রমিক এলাকায়। এভাবে তার চরিত্রে সংমিশ্রণ ঘটেছে বিচিত্র ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর পদে বসবার জন্য এমন বিচিত্র ...

নভেম্বর
১৩

বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ও ইসলাম- পর্ব-২

সময় ১৯:৫৪:৪৬

(কৃতজ্ঞতা: ফিরোজ মাহবুব কামাল)
ইসলাম প্রতিটি ব্যক্তিকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ বানাতে চায়। এর জন্য শর্ত হলো ইলমুল অহি এবং ইলমু আক্‌লের মিশ্রণ। পৃথিবীর বুকে রয়েছে আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন বা আয়াত, সেগুলীকে একমাত্র আকলমন্দরাই দেখতে পায়। চন্দ্র-সূর্যের উদয়-অস্ত, বৃক্ষের পল্লব, পাখীর কলকাকলী এসবের মধ্যেও কিন্তু আল্লাহর কুদরত দৃশ্যমান। কিন্তু জ্ঞানীরা ছাড়া অন্য কেউ এগুলীকে শুনতে পায় না। তাই ইসলাম ধর্মশিক্ষাকে যেমন প্রতিটি নরনারীর উপর ফরজ করেছে তেমনি ফরজ করেছে বুদ্ধিচর্চাকেও। ধর্মচর্চা পাদ্রী বা ব্রাক্ষন করবে আর বুদ্ধিচর্চা করবে বুদ্ধিজীবী তেমনটি ইসলামে নাই। ইসলামে উভয়টি সার্বজনীন। বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী নামে একটি বিশেষ কুলীন শ্রেণী গড়ে তোলার এ রোগ সংক্রমিত হয়েছে খৃষ্টান ইউরোপ আর হিন্দু বাঙ্গালীদের থেকে। মুসলমানরা অতীতে বৃদ্ধিবৃত্তির যেরূপ বিশাল বাঙ্গালী বুদ্ধিজীবীরা তার ধারে কাছেও নেই। কিন্তু বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী বলে পরজীবী যে শ্রেণীর জন্ম হয়েছে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে তার নজীর নেই। বুদ্ধিচর্চা প্রতিটি মুসলমানের জন্য এতই গুরুত্বপূর্ণ যে এটি ছাড়া ...

  • ১টি মন্তব্য

নভেম্বর
০৭

বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ ও ইসলাম- পর্ব-১

সময় ১৭:২২:৫৪

(কৃতজ্ঞতা: ফিরোজ মাহবুব কামাল)
বুদ্ধিবৃত্তি, বুদ্ধিজীবি ও বুদ্ধির মুক্তি এসব কথা গুলো বাংলাদেশের মত অধিকাংশ মুসলিম দেশে বহুল পরিচিত শব্দ। এ নিয়ে বিভ্রান্তিও প্রচুর। বুদ্ধিবৃত্তি প্রতি সমাজেই অতি শ্রেষ্ঠকর্ম রূপে গণ্য। কারণ, মানুষ সৃষ্টির সেরা শুধু এ বিশেষ গুণের কারণেই, দৈহিক শক্তি বা অন্য কোন কারণে নয়। তবে প্রশ্ন হলো বুদ্ধিবৃত্তি বলতে আমরা কি বুঝি? সমাজে বুদ্ধিবৃত্তির ভূমিকা কি এবং এনিয়ে ইসলামের বক্তব্যই কি? ইংরেজিতে যেটি ইনটেলেকচুয়ালিজম বাংলাতে সেটিই বুদ্ধিবৃত্তি। যারা একাজে জড়িত তাদেরকে বলা হয় বুদ্ধিজীবী। প্রশ্ন হলো এ ধরণের সংজ্ঞায়ন কতটুকু সঠিক। তাছাড়া এমন বুদ্ধিবৃত্তির সাথে ইসলামের সম্পর্কই বা কি? বুদ্ধির প্রয়োগই হলো বুদ্ধিবৃত্তির ভিত্তি। তবে এ সমাজে বুদ্ধির প্রয়োগ কে না করে?

সব পেশার মানুষকেই কম-বেশী বুদ্ধি খাটিয়েই রুজীরোজগার বাড়াতে হয়, তা দিয়েই তাদেরকে বেঁচে থাকতে হয়। এমনকি পশুকেও বুদ্ধি খাটিয়ে শিকার ধরতে হয় বা শিকারীর ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে আসতে হয়। তাহলে সবাই কি বুদ্ধিজীবী? বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরকে যেমন বুদ্ধিখাটাতে হয় তেমনি ...

অক্টোবর
২৮

যে ভ্রষ্টতা বাংলাদেশের রাজনীতিতে

সময় ২১:৪৫:৩৯

সমাজ রাজনীতি

জাতীয় জীবনে মূল ইঞ্জিন হল রাজনীতি। এ ইঞ্জিনই জাতিকে সামনে টানে। এবং সে সামনে চলাটি কোন পথে হবে -নিছক বৈষয়ীক উন্নয়ন না নৈতিক ও সার্বিক মানবিক উন্নয়নের পথে- সেটি নির্ভর করে এ ইঞ্জিনের চালকদের উপর। কোন একটি জাতির ব্যর্থতা দেখে নিশ্চিত বলা যায়, সে জাতির রাজনৈতিক নেতারা সঠিক ভাবে কাজ করেনি। আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মূলতঃ সেটিই ঘটেছে। একটি দেশের উন্নয়ন বা সুখ-সমৃদ্ধির জন্য জরুরী নয়, সেদেশের জলবায়ু, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক সম্পদে বিপুল বিপ্লব আসতে হবে। বরং বিপ্লব আনতে হয় নেতৃত্বে এবং সেদেশের রাজনীতিতে। রাজনীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পায় পথ-নির্দেশনা, রাজনৈতিক নেতাদের মাঝে পায় অনুকরণীয় মডেল খুজে পায়। আলেকজান্ডারের আমলে গ্রীস যখন বিশ্বশক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ তখন গ্রীসের জলবায়ু, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক সম্পদে কোন পরিবর্তন আসেনি। পরিবর্তন এসেছিল রাজনৈতিক নেতৃত্বে। তেমনি আরবের মুসলমানেরা যখন বিশ্বের প্রধান শক্তি রূপে আত্মপ্রকাশ করল তখন আরবের জলবায়ু, আবহাওয়া বা প্রাকৃতিক সম্পদে কোন বিপ্লব আসেনি। বরং বিপ্লব এসেছিল নেতৃত্বে ও রাজনীতিতে। রাজনীতি হল সমাজসেবার সর্বশ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মুসলিম ...

অক্টোবর
২৭

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সমস্যা কোথায়?

সময় ২০:১৪:৪১

শিক্ষাব্যবস্থার মূল্যায়নে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটি ছাত্র, শিক্ষক বা শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানর সংখ্যা নয়। কত বছর বা বছরে কত ঘন্টা ছাত্রকে শিক্ষা দেওয়া হয় সেটিও নয়। পিএইচডি বা সর্বোচ্চ ডিগ্রি নিয়ে কতজন বের হলো সেটিও মাপকাঠি নয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, জাতির মেরুদন্ড কতটা মজবুত হলো, মানবিক, অর্থনৈতিক বা সামরিক দিক দিয়ে জাতি কতটা সামনে এগুলো সেটি। ক্ষেত্রে ব্যর্থতা বাড়লে নিছক ছাত্র, শিক্ষক ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি পাওয়াতে দেশের কল্যাণ বাড়ে না। শিক্ষালয়েই নির্মিত হয় জাতির মেরুদন্ড। এখানে থেকেই জাতি পায় বেঁচে থাকার শক্তি। নির্মিত হয় জাতির মন, মনন ও সংস্কৃতি। নিছক ক্ষেতে-খামারে ও কল-কারখানায় উৎপাদন বাড়ালে জাতি বাঁচে না, এজন্য বিদ্যাচর্চাও বাড়াতে হয়। বিবেক বা আত্মার পুষ্টির জন্য এটি অপরিহার্য। নইলে দেহ নিয়ে বেঁচে থাকাটি সম্ভব হলেও অসম্ভব হয় মানুষ রূপে বাঁচাটি। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বহু বেড়েছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শুধু থানা পর্যায়েই নয়, ইউনিয়নেও কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বহু জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যায়। শিক্ষাই সরকারি ...

  • ০টি মন্তব্য

প্রথম আলো, সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা ১২১৫