বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের এক বৎসর পূর্তিতে সবাইকে শুভেচ্ছা। (পুন:পোস্ট)

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
ভার্চুয়াল অফিস : প্রথম আলো ব্লগ এবং www.meghnaparschool.com
আজ ১৪ জুলাই ২০০৯, মঙ্গলবার। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের আজ এক বৎসর পুর্তি। এই দিনে প্রথম আলো ব্লগের সমস্ত বন্ধুকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের অব্যাহত সহায়তা এবং সমর্থনে আমাদের স্বপ্নের
মেঘনাপাড় স্কুলটি আজ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। ৮৬ জন শিক্ষার্থী থেকে বেড়ে এখন শিক্ষার্থী সংখ্যা ৮৯ জন।

একটি স্কুল স্থাপনা সে অনেক কঠিন কাজ। বিশেষ করে যদি সে স্কুলটি অলাভজনক কোন উদ্দেশে স্থাপিত হয়। কারণ এখানে কারও স্বার্থগত কোন লাভালাভের ব্যাপার নেই। স্বেচ্ছা শ্রম, অর্থ, সময় সবকিছু দিয়ে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করা ভয়াবহ এক কঠিন কাজ। তারচেয়েও নির্মম যে সত্যটা তা হচ্ছে অনেকেরই মনে ভাবনা আসতে পারে আমার স্বার্থ কি?
আমি এরকম প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছি অনেকবার। অনেকেই আমার কাছে জানতে চেয়েছে আমি কি কোন এনজিওর পক্ষ হয়ে স্কুলটি করছি কিনা। আমি কেন এরকম একটি কাজে হাত দিলাম সেই প্রশ্নটির উত্তর আমি নিজেও খুঁজেছি বহুবার। বারবার আমার মনে শুধু ভেসে উঠেছে মেঘনাপাড়ের সেই অবহেলিত শিশু যারা জীবনেও শিক্ষার ছোঁয়া পাবেনা। সময় চলে যাবে। এই শিশুগুলো একদিন বড় হবে। শিক্ষার ছোঁয়া না পেয়ে এরা দেশের বোঝা হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে রাষ্ট্র এদের জন্য কিছুই করতে পারেনি। কিন্তু তাই বলে আমরা আমাদের ছোট্ট ছোট্ট সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে ক্ষতি কি? গরীব জেলে শিশুদের জন্য একটি স্কুল করতে চেয়েছি দশ জনের সাহায্য নিয়ে- তাতে এত প্রশ্ন কেন?
যে সময়টুকু আমি মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের জন্য ব্যয় করছি এই সময়টুকু আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে
দিলে অনেক কিছু প্রাপ্তি ঘটত। কিন্তু সবার দ্বারা সবকিছু হয় না। তাই ব্যক্তিগত লাভালাভের বিষয়টি চিন্তায় না এনে আমি মানসিক প্রশান্তির বিষয়টুকুকেই আমি আমার স্বার্থ ধরে নিচ্ছি। আমি এই স্বার্থেই স্কুলটির জন্য আপনাদের সবার কাছে ধর্ণা দিচ্ছি। এতে আপনারা কেউ যদি আমার কোন স্বার্থ উদ্ধারের বিষয়টি ভেবে থাকেন ভাবতে থাকুন। আমি আমার কাজ করেই যাব।

খুব দু:খ থেকে কথাগুলো বললাম। গত ৪ দিন লক্ষ্মীপুরে অবস্থান করে অনেকের সাথে সাক্ষাৎ করেছি। একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতি মহোদয় প্রশিক্ষণের কারণে দেশের বাইরে। সবাইকে সংগঠিত করা চাট্টিখানি কথা নয়। আমি একাই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি স্কুলটির জন্য। প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুরা তাৎক্ষণিক কিছু সহায়তা না দিলে এ পর্যন্ত আসা অসম্ভবের ব্যাপার ছিল।
গত বৃহস্পতিবার স্কুলের জন্য কাজ করতে লক্ষ্মীপুর গিয়েছিলাম। ব্লগের বন্ধুদের বাইরে লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় প্রভাবশালী অনেকের কাছে সহায়তা চেয়েছি। সবাই আশ্বাস দিয়েছেন। স্কুলের সাহায্যের জন্য একটি ডোনার লিস্ট করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। কিন্তু চারদিন ঘুরেও আমি আশ্বাসপ্রদানকারীদের কাছ থেকে ডোনার লিস্ট পাইনি। মোবাইল করলে আজ না কাল, কাল না পরশু বসব। এই করে করে চারদিন নষ্ট। আমার তো সময়ের কিছুটা হলেও মূল্য আছে। তাই মেঘনাপাড়ের শিশুদের কাছ থেকে চারদিন পর একপ্রকার পালিয়েই এসেছি। কারণ ওদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলাম খুব শীঘ্রই নতুন স্কুলে ওরা পড়তে পারবে। কিন্তু অর্থের অভাবে আমি চারিদিকে গভীর অন্ধকার দেখতে পাচ্ছি।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটি তা হচ্ছে নতুন স্কুল ভবন দাঁড় করিয়ে ফেলা। নতুবা শিশুরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।
নতুন ভবনটি নির্মানের জন্য বেশ কিছু অর্থের প্রয়োজন। কারণ এখন বড় পরিসরে স্কুলটিকে দাঁড় করাতে কমপক্ষে
১,০০,০০০/- টাকা প্রয়োজন। আমাদের হাতে যা ছিল তা দিয়ে স্কুলের ভিটি প্রস্তুত এবং বালি ভরাটের কাজ চলছে। এখন বলতে গেলে ফান্ড শূন্য।
এই মুহূর্তে স্কুলের জন্য প্রয়োজনীয় যে কাজগুলো আছে তা হচ্ছে ভিটি পাকা করা, চারিদিকে টিনের বেড়া এবং চাল দিতে প্রায় ৭ বান টিন (প্রতি বান ৭,২০০/-), কাঠ ইত্যাদি লাগবে।

স্কুলটিকে নিয়ে আমার সর্বশেষ যে পোস্ট দিয়েছিলাম তাতে একটি পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। বিক্ষিপ্তভাবে সহায়তা না করে একেকজন শিশুর ১ বৎসরের শিক্ষার দায়িত্ব নিলেই জবাবদিহিতার সাথে স্কুলটি পরিচালনা করা সম্ভব হতো।

এখানে সংক্ষিপ্তভাবে এ পর্যন্ত আয়-ব্যয়ের হিসাব তুলে দেওয়া হলো। আমাদের ওয়েবসাইটে ডিটেইলস বর্ণিত আছে। এবার গিয়ে ম্যাডামকে জুলাই মাসের বেতন বাবদ ১০০০/- দিয়েছি।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয় হিসাব অধ্যায় থেকে এ পর্যন্ত আপডেটেড :
(সংক্ষিপ্তসার। ওয়েবসাইটে দেওয়া গঠনতন্ত্রে ডিটেইলস আছে)

উদ্যোক্তা (২ জন) = ১৯,৫৯০/- টাকা
এবং লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় সহায়তা = ৬,২১৫/- টাকা
প্রথম আলো ব্লগ এবং সা.ইন.ব্লগ থেকে প্রাপ্ত ডোনেশন = ৩০,৫০০/- টাকা
লক্ষ্মীপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ থেকে প্রাপ্ত সহায়তা = ২০,৫০০/- টাকা
........................................................................................................
মোট = ৭৬,৮০৫/- টাকা

১৪ জুলাই ০৮ তারিখ থেকে জুলাই ২০০৯ পর্যন্ত মোট ব্যয় = ৬৭,৩১২/- টাকা
স্কুলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা = ১,০০০/-
ম্যাডামের বেতন বাবদ (জুলাই) = ১,০০০/-
হাতে নগদ = ৭,৪৯৩/-
.......................................................................................................
মোট = ৭৬,৮০৫/- টাকা

হাতে নগদ যে অর্থটুকু আছে তা দ্বারা স্কুলের সফটওয়্যারের প্রাথমিক কাজ এবং অন্যান্য যোগাযোগ ব্যয় বাবদ খুচরা নগদান হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তাই বলা যায় এ মুহূর্তে মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের ফান্ড শূন্য।
আসুন আমরা একেবারে শূন্য থেকে শুরু করে ১০০ জন ডোনার ১০০ জন শিক্ষার্থীর ১ বৎসরের শিক্ষার দায়িত্বটুকু
নেই।
ডোনেশন পাঠানোর ঠিকানা
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
সঞ্চয়ী হিসাব ০০১-৭২৩২
সোনালী ব্যাংক, সদর, লক্ষ্মীপুর।

(আপনাদের যে কোন মন্তব্যের জবাব অনলাইনে আসলে দেবো। ধন্যবাদ সবাইকে।)
৭ টি মন্তব্য
sujanpranto12 সুজন১৫ জুলাই ২০০৯, ০৮:২২
অনেক ধন্যবাদ আপডেটের জন্য।
সফলতায় পরিপূর্ণ হোক আপনাদের ভালবাসার মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন।
azman আজমান আন্দালিব১৫ জুলাই ২০০৯, ০৮:৩৯
আপনাকেও ধন্যবাদ।
afruj আফরোজ১৫ জুলাই ২০০৯, ১০:০৯
ধন্যবাদ
azman আজমান আন্দালিব১৬ জুলাই ২০০৯, ০১:২৬
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
ferdousmirza ফেরদৌস মির্জা১৫ জুলাই ২০০৯, ১২:১৫
বর্ষপূর্তিতে শুভেচ্ছা। কিন্তু আপনার বর্ননায় স্কুলের বর্তমান অবস্হায় আমারই দূঃচিন্তা হচ্ছে। আর আপনার যে কি অবস্হা! ভাল থাকবেন।
ferdousmirza ফেরদৌস মির্জা১৫ জুলাই ২০০৯, ১২:২০
দো্য়া রইল। আল্লাহ সহায় হোন।
azman আজমান আন্দালিব১৬ জুলাই ২০০৯, ০১:২৪
দু:শ্চিন্তার কিছু নেই। আল্লাহ সহায়। আমাদের স্কুলের সভাপতি মহোদয় আগামী ৭ আগষ্ট প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরছেন। তারপর ম্যানেজিং কমিটির পূর্ণাঙ্গ একটি মিটিং করে অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধানের একটা উপায় খুঁজে বের করতে পারবো ইনশাল্লাহ। এদিকে স্থানীয়ভাবে জেলা পরিষদ থেকে স্কুলের জন্য অনুদানের আবেদন করেছি। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা এগিয়ে যাবো- এই প্রত্যাশা। সভাপতি মহোদয় আসলে আমরা আমাদের পরবর্তী কমর্সূচি নিয়ে হাজির হবো। ধন্যবাদ আপনাকে।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment