বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন ০৯ জুলাই ২০০৯, বৃহস্পতিবার এর আপডেট (পুন:পোস্ট)

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
০৯ জুলাই ২০০৯, বৃহস্পতিবার এর আপডেট
সকাল ১০ টা : সোনালী ব্যাংক, সদর, লক্ষ্মীপুর গমন। এটি লক্ষ্মীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকাগামী বাস স্ট্যান্ডের সাথে। এখানেই আমাদের স্কুলের সঞ্চয়ী হিসাব চালু আছে। হিসাব নাম্বার - ০০১-৭২৩২। আগের ম্যানেজিং কমিটির পরিবর্তে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্বে আছেন জনাব মফিজুর রহমান, ম্যানেজার, লক্ষ্মীপুর সোনালী ব্যাংক।
সভাপতি, সদস্য সচিব এবং ট্রেজারার এই তিনজনের যে কোন দু'জনের যৌথ স্বাক্ষরে অর্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হবে। মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের জন্য এই দায়িত্ব তিনি গৌরবের সাথে পালন করবেন আশ্বাস দিয়ে আমাদের গঠনতন্ত্রে স্বাক্ষর করেছেন। এবং ১ কপি ট্রেজারার মহোদয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সকাল ১১ টা : লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজে গমন। লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ জনাব প্রফেসর রফিকুল আহসান আমাদের বিদ্যানিকেতনের একজন সম্মানিত উপদেষ্টা। স্যার আমাদের স্কুলের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে স্কুলটির উপদেষ্টা হিসেবে যে কোন সহায়তার আশ্বাস দিয়ে গঠনতন্ত্রে স্বাক্ষর করেছেন। স্যারকে গঠনতন্ত্রের ১ কপি সরবরাহ।
দুপুর ১২ টা : লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জনাব ফারুক আহাম্মদ এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক জনাব মাইন উদ্দিন পাঠান যথাক্রমে স্কুলটির বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি এবং উপদেষ্টা। গঠনতন্ত্রে উভয়ের স্বাক্ষর গ্রহণ এবং ১ কপি করে হস্তান্তর।
দুপুর ১.৩০ : লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা শিক্ষা অফিসার জনাব আব্দুল জলিল মিয়া এর সাথে মতবিনিময়। তিনিও আমাদের স্কুলের একজন সম্মানিত উপদেষ্টা। গঠনতন্ত্রে ওনার স্বাক্ষর গ্রহণ এবং ১ কপি হস্তান্তর।
বিকাল ৪.২০ : মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু। লক্ষ্মীপুর বাস স্ট্যান্ডের কাছ থেকে সিএনজি একদম মজু চৌধুরী হাট পর্যন্ত যায়। ভাড়া ২০ টাকা। ওখান থেকে সামান্য একটু পায়ে হাঁটা পথ আমাদের এই স্কুল পর্যন্ত যেতে। স্কুলে যখন পৌঁছি ৪ টা ৪০ বাজে। ফারজানা ম্যাডাম বাচ্চাদের নিয়ে ক্লাস নিচ্ছেন। বিগত ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে স্কুলঘরটির এখন হতশ্রী অবস্থা। উত্তর পাশের বাঁশের বেড়াটুকু একেবারে খসে গিয়েছে। এখানে কোনমতেই ক্লাশ চলে না। তবুও এখানকার শিক্ষার্থীরা দুচোখ ভরে স্বপ্ন নিয়ে স্কুলটিতে আসছে। এখন যেখানে ক্লাশ চলে সেখান থেকে ৩০ গজ পূর্বে ওদের জন্য আরও বড় করে একটি স্কুলঘর হচ্ছে। ওরা নাকি খুব খুশী। ওদের অভিভাবকরাও খুশী। ফারজানার কাছ থেকে তা জেনে আমি ওদের জিজ্ঞেস করি। ওদের চোখে-মুখে আনন্দের ছটা দেখতে পাই। বাচ্চাদের সাথে দু'চারটি কথা বলি।
একটি চটপটে মেয়ে দাঁড়িয়ে বলে স্যার আপার জন্য একটা চেয়ারের ব্যবস্থা করে দেন। ফারজানা বলে না স্যার চেয়ার না দিয়ে একখানা মোড়া হলে ভালো হয়। চেয়ার রাখার জয়গা নেই। মোড়া হলে যে কোন একজনের নৌকায় রেখে দেওয়া যাবে।
কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের ভিটি পাকা করে একটি স্কুল ঘর হতে যাচ্ছে। ম্যাডাম ফারজানার জন্য আলাদা একটি রুম হচ্ছে। এখানে একটি টেবিল থাকবে, চেয়ার থাকবে। স্কুলের দলিল পত্র সংরক্ষণের জন্য একটি আলমারী থাকবে। বাচ্চাদের বসার জন্য বেঞ্চ থাকবে। ফারজানার এই মোড়াটি তখন নিশ্চয়ই আমাদের প্রাথমিক অর্থনৈতিক দৈনতার নিদর্শন হয়ে থাকবে। স্কুলের তাৎক্ষণিক যে কোন প্রয়োজন মিটানোর জন্য আরও ১০০০/- টাকা বরাদ্দ করি। এর মধ্যে ম্যাডামের জন্য মোড়া ক্রয়ও থাকবে।
আমরা খুব শীঘ্রই নতুন স্কুলে প্রবেশ করে পড়াশুনা করবো, আমি ওদের এই আশ্বাস দেই। আমি ওদের চোখের স্বপ্নকে আরও রঙ্গিন করে রাঙিয়ে তুলি। কারণ এখন আমি জানি- আমরা এখন পারবো। প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুরা যেভাবে একটি স্বপ্নকে আর্থিক এবং মানসিক সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন- এটি এখন আর থেমে যাবার নয়।

সন্ধ্যা ৬ টা : স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা এবং পদাধিকার বলে সদস্য-সচিব ম্যাডাম ফারজানার স্বাক্ষর গ্রহণ এবং কপি হস্তান্তর।
অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে সোহরাব মাঝির স্বাক্ষর গ্রহণ এবং গঠনতন্ত্রের কপি হস্তান্তর। ম্যাডাম ফারজানার বেতন স্বরূপ ১,০০০/- (এক হাজার টাকা) হস্তান্তর।
রাত ১০ টা : লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে গমন। সাথে আমাদের স্কুলের অন্যতম উপদেষ্টা জনাব মাইন উদ্দিন পাঠান। প্রেসক্লাবের সভাপতি জনাব হোসাইন আহমদ হেলাল, সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: কামাল হোসেন, এড. নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কমিটির সভাপতি জনাব এড. শওকত আলী চৌধুরী লিটন এর সাথে মত বিনিময় করি।
আজ শুক্রবার রাত ৮ টায় লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে আমরা পরবর্তী কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে বসব। সাথে স্কুলের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং উপদেষ্টাদের কয়েকজন থাকবেন।
পরবর্তী আপডেট আগামীকাল দেবো। ততক্ষণ পর্যন্ত...শুভ ব্লগিং...সবাই ভালো থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।
৯ টি মন্তব্য
opo_debota অপদেবতা১০ জুলাই ২০০৯, ১০:০১
azman আজমান আন্দালিব১০ জুলাই ২০০৯, ১০:২৯
sujanpranto12 সুজন১০ জুলাই ২০০৯, ১০:০২
সব সময় শুভকামনা থাকবে আপনার এই মহতী কাজের জন্য।
azman আজমান আন্দালিব১০ জুলাই ২০০৯, ১০:৩০
ধন্যবাদ এবং আপনার জন্যও শুভকামনা।
prantik প্রান্তিক১০ জুলাই ২০০৯, ১০:০৩
"অ"
azman আজমান আন্দালিব১০ জুলাই ২০০৯, ১০:৩১
"অ্যাঁ"
opo_debota অপদেবতা১০ জুলাই ২০০৯, ১০:৩৪
আ - হা
sadid_hasan না বলা কথা১০ জুলাই ২০০৯, ১০:০৬
প্রথমবার যখন দিয়েছেন তখনই পড়ে নিয়েছি। অনেক অনেক দোয়া রইল।
azman আজমান আন্দালিব১০ জুলাই ২০০৯, ১০:৩৪
ধন্যবাদ আপনাকে। গতকাল অনেক রাতে পোস্টটি দিয়েছিলাম। তাই হয়তো অনেকের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। এজন্য পুন:পোস্ট। ভালো থাকবেন।

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment