বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই ২০১০, ১৪ শ্রাবণ, ১৪১৭ সাইনইন | রেজিস্টার |bangla font problem

মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন এবং আপডেট

প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আশা করি ভালো আছেন। প্রথমেই আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ব্লগে অনিয়মিত বলে। তাই বলে আমি কিন্তু থেমে ছিলাম না। আমাদের সবার স্বপ্নের মেঘনাপাড় ধীবর স্কুলের কাজে ঢাকায়ও ব্যস্ত ছিলাম। এর মাঝে আপনাদের পরামর্শগুলো নিয়ে গঠনতন্ত্রটা আপডেট করে ওয়েবসাইটে দিয়েছি। ওয়েবসাইটের ঠিকানা হচ্ছে- www.meghnaparschool.com। গঠনতন্ত্রের হার্ড কপিও করেছি । গঠনতন্ত্রে আয়-ব্যয় নামক একটি অধ্যায়ে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত এবং ব্যয়িত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।

গত পরশু আমাদের সবার শ্রদ্ধেয় মোজাফফর স্যারের বাসায় গিয়েছিলাম গঠনতন্ত্রটি দেখাতে। স্যারের কাছ থেকে কিছু পরামর্শ নিয়েছি। মাধ্যমিক স্তরের কোন সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে গঠনতন্ত্রটি নিয়ে পরামর্শ এবং লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় কোন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিকে প্রধান উপদেষ্টা করার পরামর্শটি আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি। স্যার একজন সম্মানিত ভিজিটর হিসেবে আমাদের স্কুলের সাথে যুক্ত থাকবেন। স্যার আমাদের স্কুলে যাওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। এরকম একজন সম্মানিত অতিথিকে পেলে আমাদের মেঘনাপাড় স্কুল গর্ববোধ করবে। আমাদের আশা আমরা প্রথম আলো ব্লগার বন্ধুসহ যারা সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন সবাই মিলে স্যারের সাথে একদিন মেঘনাপাড় স্কুলে কাটাই। আসার সময় স্যারকে গঠনতন্ত্রের এক কপি দিয়ে এসেছি। লক্ষ্মীপুর থেকে ফিরে আবার স্যারের সাথে দেখা করবো।
গত তিনদিন আগে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছিলাম ৬ তারিখ লক্ষ্মীপুর যাচ্ছি এবং সেখান থেকে নিয়মিত আপডেট দেবো। লক্ষ্মীপুর যেয়ে একনাগাড়ে ৪/৫ দিন থাকবো। অনিবার্য কারণবশত গতকাল লক্ষ্মীপুর যাওয়া হয়নি। আজও যেতে পারছি না। স্কুলটিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় আরও কিছু কাজ অসমাপ্ত রয়ে গিয়েছে। ঢাকায় বসেই সেগুলো সমাপ্ত করতে হবে। আরও ব্যক্তিগত বেশ কিছু কারণ আছে। তাই কর্মসূচি কিছুটা রদবদল করতে হয়েছে। যদি আর জরুরী কোন কাজ না থাকে তাহলে ৮ তারিখ থেকে লক্ষ্মীপুরে একনাগাড়ে ৪/৫ দিনের একটা ট্যুর করার পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করবো।

গতকাল মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনের নির্বাহী কমিটির সভাপতি এবং সদস্য যথাক্রমে এড. শওকত আলী খান লিটন এবং ডাক্তার রিয়াজের সাথে কথা হয়। ফোনে যেটুকু আপডেট জেনেছি তাই পাঠকদের উদ্দেশে ছেড়ে দিলাম-
সকাল ১১.০০ টা : ডাক্তার রিয়াজের সাথে মোবাইলে কথা হয়। রিয়াজ জানায় স্কুলের ভিটির চারিদিকে ৩ ফুট উচু গাঁথুনির কাজ শুরু হয়েছে। একজন রাজমিস্ত্রি এবং একজন জোগালী সকাল ১০ টায় কাজে যোগ দিয়েছে।
বিকাল ৪ টা : রিয়াজের কাছ থেকে পরবর্তী আপডেট হচ্ছে গাঁথুনি নির্মাণ শেষ। কিছু ইট বেচেছে, যেগুলো দিয়ে স্কুল ঘরের দরজায় পৌঁছানোর জন্য একটি রাস্তা করা যায়। এখন গাঁথুনির ভেতর মাটি বা বালু ভরাট করতে হবে। এটি দুইভাবে করা যেতে পারে। এক- বালু ক্রয় করে। আরেকটি উপায় হচ্ছে নদীর মাঝে ভাটার সময় একটি চর পড়ে। সোহরাব মাঝিরা যেখানে নৌকা বেধে রাখে এর আশেপাশেই এরকম আধা ডুবো চর থেকে বালু উত্তোলন করা যায়। এতে করে নদীতে চর জেগে নদীটি মরে যাবে না।
আমি লক্ষ্মীপুর গিয়ে এ কাজটি শুরু করবো। যদি এখান থেকে ফোনে যোগাযোগ করা যায় তাহলে কাজটা শুরু করে দিতে বলবো। আমি গিয়ে আরো গুরুত্বপূর্ণ কাজে হাত দিতে পারবো।
রাত ১০.০০ টা : নির্বাহী কমিটির সভাপতি জনাব এড. শওকত আলী চৌধুরী সাহেবের সাথে কথা হয়। আমি আগামী ৮ তারিখ আসছি জানিয়ে রেখেছি। আশা করি আমরা ম্যানেজিং কমিটি এবং নির্বাহী কমিটির তত্ত্বাবধানে খুব দ্রুত স্কুলের কাজ শেষ করে ফেলতে পরবো।

আগামী ১৪ জুলাই স্কুলের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এই দিনে আমরা স্কুলটিকে কেন্দ্র করে একটি মিটআপ করতে পারি লক্ষ্মীপুরে। আপনারা সবাই কি বলেন....
আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি যারা আমাদেরকে ব্লগে উৎসাহ যুগিয়ে স্কুলটিকে এ পর্যায়ে আনতে সহায়তা করেছেন। আপনাদের অব্যাহত সমর্থন আমাদেরকে স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করছে। মেঘনাপাড়ের ৮৬ জন শিক্ষার্থী আজ স্বপ্ন দেখার সাহস পেয়েছে। আমি আশা করি লক্ষ্মীপুর গিয়ে আমাদের স্কুলের শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যাটা স্কুলে জায়গা দেওয়ার সামর্থ্য অনুযায়ী ১০০ জনে উন্নীত করে ফেলবো। আর এই ১০০ জন শিশুর মাত্র ১ বছরের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমি ব্লগার বন্ধু, শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবক-লোকাল কমিউনিটি সবার কাছে একটি প্রস্তাবনা উত্থাপন করবো। শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে ধারণ করে মেঘনাপাড় স্কুলটিকে স্বাবলম্বী করে তোলার সেই প্রস্তাবনাটা আমি গঠনতন্ত্রে দিয়েছি। ব্লগার বন্ধুদের বিনীতভাবে অনুরোধ করছি সেখান থেকে দেখে নেওয়ার জন্য।

আগামী কয়েকদিন আশা করি নিয়মিত আপনাদের সাথে সরাসরি স্পট থেকে যোগাযোগ করতে পারবো সমস্ত আপডেট নিয়ে। ততদিন পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন। ধন্যবাদ সবাইকে।
২৯ টি মন্তব্য
sharmabangla সজল শর্মা০৭ জুলাই ২০০৯, ০১:২৫
আপডেটের জন্য ধন্যবাদ।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:১৯
আপনাকেও ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন।
chinta ‍িচন্তা০৭ জুলাই ২০০৯, ০১:৩৯
এগিয়ে যাক বিদ্যালয়টি সেই কামনাই করছি ... সাথে আছি।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:২০
চিন্তা কেমন আছেন? আপনারা সাথে থাকলে অনেক সাহস পাই।
zolpori জলপরী০৭ জুলাই ২০০৯, ০১:৪৫
অনেক শুভ কামনা।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:২১
আপনার জন্যও শুভকামনা।
laboni আইরিন সুলতানা০৭ জুলাই ২০০৯, ০১:৪৮
চমৎকার কাজ হচ্ছে....ধন্যবাদ আপডেটের জন্য এবং শুভকামনা।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:২২
আপনাকেও ধন্যবাদ। সামনে ক'দিন স্পট থেকে আপেডট দিতে পারবো...আশা করি সাথে থাকবেন।
trivuz ত্রিভুজ০৭ জুলাই ২০০৯, ০১:৫৫
আজমান আন্দালিব, কেমন আছেন? এগিয়ে যান....
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:২৮
আমি ভাল। আপনি কেমন আছেন? আপনাদের সহায়তা এবং সমর্থন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি...ভালো থাকবেন।
sajalchakraborty হাজারি০৭ জুলাই ২০০৯, ০২:২২
শুভকামনা ।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:৩৩
আপনার জন্যও শুভকামনা...
bbq_hearts ফারুক০৭ জুলাই ২০০৯, ০৭:২১
সফলতা কামনা করছি , সাথে আছি এগিয়ে যান -----
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:২৬
আপনাদের সাথে থাকা আমাকে নিরন্তর প্রেরণা যোগায়...
sujanpranto12 সুজন০৭ জুলাই ২০০৯, ০৮:৪০
আপনাকে অনিয়মিত দেখে আমিও চিন্তা করছিলাম। ১৪ তারিখের প্রস্তাবটি মন্দ নয়। ব্লগার বন্ধুরা আশা করি আলোচনার মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্ত নেবেন।

আপডেটের জন্য ধন্যবাদ। প্রতিষ্ঠানটির সফলতা কামনা করি।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ১১:১৭
আমি লক্ষ্মীপুর থেকে নিয়মিত আপডেট জানাবো। তখন আশা করি লক্ষ্মীপুরে মিটআপ এর একটি তারিখ সবাই মিলে ঠিক করতে পারবো। ধন্যবাদ সুজন। ভালো থাকবেন।
ador আদর০৭ জুলাই ২০০৯, ১২:২৭
অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া। সফলতা কামনা করি।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ১২:৩৪
আদর, কেমন আছেন? আপনার মেসেজ ৭১ কেমন আছে? আমি অবশ্যই আপনার সুন্দর কাজের সাথে যুক্ত আছি। একটু গুছিয়ে নেই...তারপর আপনার সাথে একত্রিত হবো।
dukkho দুঃখ০৭ জুলাই ২০০৯, ১২:৩০
সফলতার দিকে এগিয়ে যাক স্কুলটি।
azman আজমান আন্দালিব০৭ জুলাই ২০০৯, ১২:৩৬
দু:খ, কেমন আছেন? আপনাদের সহায়তায় স্কুলটি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে আশা করি এটি একদিন অনেক বড় হবে। মেঘনাপাড়ের শিশুরা নতুন নতুন সব স্বপ্ন দেখার সাহস পাবে।
smc এস মাহবুব০৮ জুলাই ২০০৯, ০৬:৩২
নদীর চরের বালু সরকারি খাস সম্পত্তি হিসেবে গন্য। সেক্ষেত্রে অনুমতিবিহীন (ইজারা/রয়্যালটি ব্যতীত ) বালু উত্তোলন অবৈধ হয়ে যাবে।
বেটার হয় যদি স্হানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি নলেজে রেখে বালু উত্তোলন করেন।
ভাল থাকবেন।
azman আজমান আন্দালিব০৯ জুলাই ২০০৯, ০৯:৪১
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা হয়েছে। ওনার নলেজে দিয়েই তবে এ কাজটি করতে হবে। ধন্যবাদ আপনাকে।
myousufs ইঊসুফ০৮ জুলাই ২০০৯, ০৯:১০
জামান ভাই, কেমন আছেন? মেঘনাপাড় স্কুলের জন্য সবসময় দোয়া করি। শারীরীক ভাবে সেদিন উপস্থিত হতে না পারলেও আত্মিক ভাবে অবশ্যই থাকব, ইনশা'আল্লাহ। ভালো থাকুন।
azman আজমান আন্দালিব০৯ জুলাই ২০০৯, ০৯:৪২
ধন্যবাদ ইউসুফ, কেমন আছেন। একদিন সবাই মিলে অবশ্যই স্কুলটিকে দেখতে আসবো। কি বলেন...
sadi সাদি০৮ জুলাই ২০০৯, ১১:১৪
প্রতিষ্ঠানটির সফলতা কামনা করি।
azman আজমান আন্দালিব০৯ জুলাই ২০০৯, ০৯:৪৪
ধন্যবাদ সাদি ভাই। আপনার সহায়তা খুব দরকার। ভালো থাকবেন।
sadid_hasan না বলা কথা০৮ জুলাই ২০০৯, ১২:৪৯
অনেক ধন্যবাদ ভাইয়া। এগিয়ে চলুন। মহান আল্লাহ আপনাদের সাথে আছেন।
azman আজমান আন্দালিব০৯ জুলাই ২০০৯, ০৯:৩৮
ধন্যবাদ আপনাকে।
computer নির্বাসিত নিশাচর০৯ জুলাই ২০০৯, ০২:১৫
শুভকামনা......

সাম্প্রতিক পোস্ট Star

সাম্প্রতিক মন্তব্যComment