মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন : প্রথম আলো ব্লগ দ্বিতীয় মিটআপে পাঠকৃত আমার প্রস্তাবনা।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা :
স্কুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে এগার কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর একটি শাখার তীরে মজু চৌধূরী হাট। মেঘনা নদীর এই শাখাটিকে শাসন করার জন্য এখানে দুইটি স্লুইস গেট আছে। গেট দুইটির মাঝ বরাবর ডান দিক দিয়ে একটি কাচা রাস্তা পশ্চিমে কিছুদূর গিয়ে থেমে গেছে। এই রাস্তার মাথাটিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০/৫০টি জেলে পরিবারের বসবাস। ৩০/৪০ বৎসর ধরে এই নৌকাতেই তাদের জীবনযাত্রা, এখানেই বেড়ে ওঠা এবং এখানেই তাদের বসবাস।
গড়ে ৪ জন করে শিশু ধরলে প্রায় দেড়-দুইশ শিশুর বসবাস এই নৌকায়। দেড় দুই কিলোমিটার দূরে একটি প্রাইমারী স্কুল থাকলেও শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। কারণ বাবা-মা’র সাথে নৌকায় করে সুদূর চরে চলে যেতে হয় মাছ ধরতে। যখন ফিরে আসে তখন স্কুলের সময় থাকে না। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের অনীহা এবং অসচেতনতাও অনেকটা দায়ী।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকাল : ২০০৮ সালের ১৪ জুলাই তারিখে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
স্কুলটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা : স্কুল পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান এই গ্লোবাল ভিলেজের যুগে বিশ্বের যে যেখানেই থাকুন না কেন স্কুলটি পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। স্থানীয়ভাবে স্কুলের শিক্ষিকা ফারজানা সুলতানা এবং জেলেপাড়ার অভিভাবক হিসেবে সোহরাব মাঝি স্কুলটি দেখাশুনা করছেন।
ম্যানেজিং কমিটি : স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক বিষয়াদি দেখাশুনার জন্য একটি ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্কুলের চেয়ারম্যান পদের জন্য একজন দক্ষ সংগঠক এবং লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ’বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-পরিচালক’ জনাব আজিজুন নাহার সভাপতির পদ গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। স্কুলের একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সবার শ্রদ্ধাভাজন এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ স্যার স্কুলটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
স্কুলের অন্যান্য পদগুলো যেমন-
ভাইস চেয়ারম্যান, ট্রেজারার, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, আইটি কনসালটেন্ট, ল কনসালটেন্ট, সরকারি প্রতিনিধি, বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি- এগুলো উন্মুক্ত আছে। প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুদের মধ্য থেকে আমরা এই পদগুলো পূরণের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করছি। প্রয়োজনে পদসংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
স্কুলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা : একটি ছোট্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমরা শুরু করেছি কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা এখানেই থেমে যাবে না। আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই। এই কাজের সবকিছুতেই আপনাদের অংশিদারত্ব এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে।
ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার : একটি যুগোপযোগী ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ, ডোনার মেম্বার প্রত্যেকের নামে আলাদা তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। স্কুলের যে কোন বিষয়ে যে কোন মন্তব্য এবং পরামর্শ প্রদান করার ব্যবস্থা সংবলিত একটি ব্লগিং সাইটও ডেভেলপ করার কাজ চলছে।
ই-ব্যাংকিং : স্কুলের ভবিষ্যত আর্থিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য একটি ই-ব্যাংকিং সফটওয়্যার ডেভেলপ করার প্রচেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাধারণ সদস্য, ডোনার সদস্য, পরিচালনা পর্ষদ প্রত্যেকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা :
ধরা যাক মেঘনাপাড় স্কুলের বর্তমান মোট শিক্ষার্থী = ১০০ জন।
এই ১০০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের নামে একটি ফ্রি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া হলো। আজকাল অনলাইনের মাধ্যমেই এরকম ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। পে-পল, মানি বুকারস ইত্যাদি অনলাইন ব্যংকিং করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। শিক্ষার্থী প্রত্যেকের নামে হিসাব পরিচালিত হবে। শুধু অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কিংবা তাদের মনোনীত অভিভাবক/ব্যক্তি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এটি পরিচালনা করবে।
www.meghnaparschool.com নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এরকম অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে। মূল অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশের কোন সিডিউল ব্যাংকে পরিচালিত হবে।
মনে করা যাক প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষার্থীর নামে একটি সঞ্চয় স্কীম চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের নামে ব্যাংকে সঞ্চয় জমতে থাকবে। প্রতিদিন ১৪ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করলে ১০০০ দিন শেষে (প্রায় ৩ বছর) ১৪,০০০/- (চৌদ্দ হাজার) টাকা সঞ্চয় দাঁড়াবে। একজন শিক্ষার্থী পিছু এই সঞ্চয়টা মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন শিক্ষা ফান্ড হিসেবে গণ্য হবে।
এখন ধরা যাক, মেঘনাপাড়ের স্কুলের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা সবাই মিলে শিশুদের শিক্ষা বীমার দায়িত্বটা কাঁধে নিলেন। প্রতিটি শিশুর মাথাপিছু ১৪,০০০/- টাকা শিক্ষা বন্ড হিসেবে একটি ফান্ড যোগান দেওয়া হলো। তাহলে মোট ফান্ড দাঁড়ায় ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা। এই বন্ড শিশুদের বীমা নিরাপত্তাও দেবে।
এই ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। মেঘনাপাড়ের বিস্তৃর্ণ চর অঞ্চলে জমি লীজ নিয়ে/ক্রয় করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া সম্ভব। ঐ এলাকার স্থানীয় পণ্য (মাছ, শষ্য, সয়াবিন) এবং সেবা (ট্যুরিজম) কে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মাইক্রো বিজনেস গড়ে তোলা সম্ভব। শিশুদের অভিভাবকরা এগুলো পরিচালনা করবে। জোরদার মনিটরিং এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করলে ৩ বৎসরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব।
৩ বৎসর শেষে একজন শিক্ষার্থীর সঞ্চয়কৃত অর্থ এবং মাইক্রো বিজনেস পরিচালিত লাভ মিলে মাথাপিছু ২৮,০০০/- টাকা হবে। ১০০ জন শিক্ষার্থীর মোট সঞ্চয় মিলে ২৮ লক্ষ টাকার একটি বড় ফান্ড গড়ে উঠবে ৩ বৎসরে। এভাবে স্কুলটি একসময় নিজেই শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। স্কুলটির মাধ্যমে একদল দক্ষ প্রফেশালের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
আপনাদের অব্যাহত সমর্থন এবং সহযোগিতা পেলে আরও অনেক কিছুই করা সম্ভব। মেঘনাপাড় স্কুলকে কেন্দ্র করে আমরা ১৪ লক্ষ টাকার একটি শিক্ষা ফান্ড গড়তে যাচ্ছি। অর্ধলক্ষ টাকারও বেশি ফান্ড আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ফান্ডের প্রতিটি অর্থের হিসাব সংরক্ষণের জন্য আমরা মেঘনাপাড় স্কুল ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিত করে রেখেছি। একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করে দেয়ার ইচ্ছায় আমরা আপনার মতামতের অপোয় আছি। আপনার যে কোন মতামত জানাতে admin@meghnaparschool.com এই অ্যাড্রেসে অথবা ফোন করুন- ০১৭২৭-২৬২১৯৫ এই নাম্বারে।
প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুরা সবাই মিলে কমপক্ষে ১০০ টি শিশুর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আসুন মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্পটির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই। যার যতটুকু সামর্থে কুলায় এই ফান্ডটি গঠনে সহায়তা দিন।
বিষন্নময়ী আপা একটু আগে স্কুলটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। কারও চোখ এড়িয়ে গিয়ে থাকলে দয়া করে আরেকবার চোখ বুলান।
(বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বইছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্লগে থাকতে পারছিনা বলে দু:খিত। অনলাইনে আসলে পাঠকদের যে কোন কৌতুহলী প্রশ্নের জবাব দেবো।)
স্কুলের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি : লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায় সাড়ে এগার কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর একটি শাখার তীরে মজু চৌধূরী হাট। মেঘনা নদীর এই শাখাটিকে শাসন করার জন্য এখানে দুইটি স্লুইস গেট আছে। গেট দুইটির মাঝ বরাবর ডান দিক দিয়ে একটি কাচা রাস্তা পশ্চিমে কিছুদূর গিয়ে থেমে গেছে। এই রাস্তার মাথাটিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪০/৫০টি জেলে পরিবারের বসবাস। ৩০/৪০ বৎসর ধরে এই নৌকাতেই তাদের জীবনযাত্রা, এখানেই বেড়ে ওঠা এবং এখানেই তাদের বসবাস।
গড়ে ৪ জন করে শিশু ধরলে প্রায় দেড়-দুইশ শিশুর বসবাস এই নৌকায়। দেড় দুই কিলোমিটার দূরে একটি প্রাইমারী স্কুল থাকলেও শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না। কারণ বাবা-মা’র সাথে নৌকায় করে সুদূর চরে চলে যেতে হয় মাছ ধরতে। যখন ফিরে আসে তখন স্কুলের সময় থাকে না। শিশুদের স্কুলে ভর্তি করাতে অভিভাবকদের অনীহা এবং অসচেতনতাও অনেকটা দায়ী।
স্কুলটির প্রতিষ্ঠাকাল : ২০০৮ সালের ১৪ জুলাই তারিখে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
স্কুলটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা : স্কুল পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনার জন্য একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমান এই গ্লোবাল ভিলেজের যুগে বিশ্বের যে যেখানেই থাকুন না কেন স্কুলটি পরিচালনায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। স্থানীয়ভাবে স্কুলের শিক্ষিকা ফারজানা সুলতানা এবং জেলেপাড়ার অভিভাবক হিসেবে সোহরাব মাঝি স্কুলটি দেখাশুনা করছেন।
ম্যানেজিং কমিটি : স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড এবং আর্থিক বিষয়াদি দেখাশুনার জন্য একটি ম্যানেজিং কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। স্কুলের চেয়ারম্যান পদের জন্য একজন দক্ষ সংগঠক এবং লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ব্যক্তি হিসেবে ’বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-পরিচালক’ জনাব আজিজুন নাহার সভাপতির পদ গ্রহণে সম্মত হয়েছেন। স্কুলের একজন অভিভাবক হিসেবে আমাদের সবার শ্রদ্ধাভাজন এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ স্যার স্কুলটির প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করার জন্য সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন।
স্কুলের অন্যান্য পদগুলো যেমন-
ভাইস চেয়ারম্যান, ট্রেজারার, অর্গানাইজিং সেক্রেটারি, আইটি কনসালটেন্ট, ল কনসালটেন্ট, সরকারি প্রতিনিধি, বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি- এগুলো উন্মুক্ত আছে। প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুদের মধ্য থেকে আমরা এই পদগুলো পূরণের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করছি। প্রয়োজনে পদসংখ্যা আরও বাড়ানো যেতে পারে।
স্কুলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা : একটি ছোট্ট পরিকল্পনা নিয়ে আমরা শুরু করেছি কিন্তু আমাদের প্রচেষ্টা এখানেই থেমে যাবে না। আমরা একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করতে চাই। এই কাজের সবকিছুতেই আপনাদের অংশিদারত্ব এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকবে।
ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যার : একটি যুগোপযোগী ওয়েবসাইট এবং সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্কুলের সার্বিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ, ডোনার মেম্বার প্রত্যেকের নামে আলাদা তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। স্কুলের যে কোন বিষয়ে যে কোন মন্তব্য এবং পরামর্শ প্রদান করার ব্যবস্থা সংবলিত একটি ব্লগিং সাইটও ডেভেলপ করার কাজ চলছে।
ই-ব্যাংকিং : স্কুলের ভবিষ্যত আর্থিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য একটি ই-ব্যাংকিং সফটওয়্যার ডেভেলপ করার প্রচেষ্টা চলছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, সাধারণ সদস্য, ডোনার সদস্য, পরিচালনা পর্ষদ প্রত্যেকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা :
ধরা যাক মেঘনাপাড় স্কুলের বর্তমান মোট শিক্ষার্থী = ১০০ জন।
এই ১০০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের নামে একটি ফ্রি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেয়া হলো। আজকাল অনলাইনের মাধ্যমেই এরকম ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। পে-পল, মানি বুকারস ইত্যাদি অনলাইন ব্যংকিং করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী। শিক্ষার্থী প্রত্যেকের নামে হিসাব পরিচালিত হবে। শুধু অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কিংবা তাদের মনোনীত অভিভাবক/ব্যক্তি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এটি পরিচালনা করবে।
www.meghnaparschool.com নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এরকম অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হবে। মূল অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশের কোন সিডিউল ব্যাংকে পরিচালিত হবে।
মনে করা যাক প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষার্থীর নামে একটি সঞ্চয় স্কীম চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের নামে ব্যাংকে সঞ্চয় জমতে থাকবে। প্রতিদিন ১৪ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করলে ১০০০ দিন শেষে (প্রায় ৩ বছর) ১৪,০০০/- (চৌদ্দ হাজার) টাকা সঞ্চয় দাঁড়াবে। একজন শিক্ষার্থী পিছু এই সঞ্চয়টা মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন শিক্ষা ফান্ড হিসেবে গণ্য হবে।
এখন ধরা যাক, মেঘনাপাড়ের স্কুলের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা সবাই মিলে শিশুদের শিক্ষা বীমার দায়িত্বটা কাঁধে নিলেন। প্রতিটি শিশুর মাথাপিছু ১৪,০০০/- টাকা শিক্ষা বন্ড হিসেবে একটি ফান্ড যোগান দেওয়া হলো। তাহলে মোট ফান্ড দাঁড়ায় ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা। এই বন্ড শিশুদের বীমা নিরাপত্তাও দেবে।
এই ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। মেঘনাপাড়ের বিস্তৃর্ণ চর অঞ্চলে জমি লীজ নিয়ে/ক্রয় করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া সম্ভব। ঐ এলাকার স্থানীয় পণ্য (মাছ, শষ্য, সয়াবিন) এবং সেবা (ট্যুরিজম) কে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মাইক্রো বিজনেস গড়ে তোলা সম্ভব। শিশুদের অভিভাবকরা এগুলো পরিচালনা করবে। জোরদার মনিটরিং এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করলে ৩ বৎসরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব।
৩ বৎসর শেষে একজন শিক্ষার্থীর সঞ্চয়কৃত অর্থ এবং মাইক্রো বিজনেস পরিচালিত লাভ মিলে মাথাপিছু ২৮,০০০/- টাকা হবে। ১০০ জন শিক্ষার্থীর মোট সঞ্চয় মিলে ২৮ লক্ষ টাকার একটি বড় ফান্ড গড়ে উঠবে ৩ বৎসরে। এভাবে স্কুলটি একসময় নিজেই শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। স্কুলটির মাধ্যমে একদল দক্ষ প্রফেশালের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
আপনাদের অব্যাহত সমর্থন এবং সহযোগিতা পেলে আরও অনেক কিছুই করা সম্ভব। মেঘনাপাড় স্কুলকে কেন্দ্র করে আমরা ১৪ লক্ষ টাকার একটি শিক্ষা ফান্ড গড়তে যাচ্ছি। অর্ধলক্ষ টাকারও বেশি ফান্ড আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। ফান্ডের প্রতিটি অর্থের হিসাব সংরক্ষণের জন্য আমরা মেঘনাপাড় স্কুল ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। আমরা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মপরিকল্পনা চিহ্নিত করে রেখেছি। একটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ শুরু করে দেয়ার ইচ্ছায় আমরা আপনার মতামতের অপোয় আছি। আপনার যে কোন মতামত জানাতে admin@meghnaparschool.com এই অ্যাড্রেসে অথবা ফোন করুন- ০১৭২৭-২৬২১৯৫ এই নাম্বারে।
প্রথম আলো ব্লগের বন্ধুরা সবাই মিলে কমপক্ষে ১০০ টি শিশুর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে নিশ্চিত করতে পারি। আসুন মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতনকে কেন্দ্র করে এই প্রকল্পটির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই। যার যতটুকু সামর্থে কুলায় এই ফান্ডটি গঠনে সহায়তা দিন।
বিষন্নময়ী আপা একটু আগে স্কুলটিকে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন। কারও চোখ এড়িয়ে গিয়ে থাকলে দয়া করে আরেকবার চোখ বুলান।
(বাইরে প্রচণ্ড ঝড় বইছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্লগে থাকতে পারছিনা বলে দু:খিত। অনলাইনে আসলে পাঠকদের যে কোন কৌতুহলী প্রশ্নের জবাব দেবো।)
লেখক আজমান আন্দালিব
- আজমান আন্দালিব -এর ব্লগ
- ৪ টি মন্তব্য
- ২৪ মে ২০০৯, ০৮:৩৪
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক
এক্ষেত্রেও থাকবে, আমরা সবাই মিলে একটি স্বপ্নকে সফল করতে পারব ইনশাল্লাহ।