মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন- ৩ বৎসর মেয়াদে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন- ৩ বৎসর মেয়াদে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা।
মেঘনাপাড় স্কুলটিকে যারা আর্থিক এবং নৈতিক সমর্থন দিয়ে জেলে শিশুদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন- তাদের অনেকেরই স্কুলটির ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা আছে। সবার ভাবনা-চিন্তার যোগফল নিয়েই আমি একটি খসড়া প্রকল্প প্রস্তাবনা দাঁড় করাচ্ছি। ২৩ তারিখ প্রথম আলো ব্লগ দ্বিতীয় মিটআপে নাকি স্কুলটিকে নিয়ে আমাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বলতে হবে। তাই আগেভাগেই এই পরিকল্পনার কথা বলছি।
ধরা যাক মেঘনাপাড় স্কুলের বর্তমান মোট শিক্ষার্থী = ১০০ জন।
এই ১০০ জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের নামে একটি ফ্রি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হলো। আজকাল অনলাইনের মাধ্যমেই এরকম ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। পে-পল, মানি বুকারস ডট কম ইত্যাদি অনলাইন ব্যাংকিং করে যাচ্ছে বিশ্বব্যাপী।
শিক্ষার্থী প্রত্যেকের নামে হিসাব পরিচালিত হবে। শুধু অ্যাকাউন্ট হোল্ডার কিংবা তাদের মনোনীত অভিভাবক/ব্যক্তি নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এটি পরিচালনা করবে। www.meghnaparschool.com নামে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এরকম অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হতে পারে। মূল অ্যাকাউন্টটি বাংলাদেশের কোন সিডিউল ব্যাংকে পরিচালিত হবে।
মনে করা যাক প্রতিটি শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষার্থীর নামে একটি সঞ্চয় স্কীম চালু করেছেন। শিক্ষার্থীদের নামে ব্যাংকে সঞ্চয় জমতে থাকবে। প্রতিদিন ১৪ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করলে ১০০০ দিন শেষে (প্রায় তিন বছর) ১৪,০০০/- টাকা সঞ্চয় দাঁড়াবে। একজন শিক্ষার্থী পিছু এই সঞ্চয়টা মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন শিক্ষা ফান্ড হিসেবে গণ্য হবে।
এখন ধরা যাক, মেঘনাপাড়ের স্কুলের প্রতি সহানুভূতিশীল ব্যক্তিরা সবাই মিলে শিশুদের শিক্ষা বীমার দায়িত্বটা কাঁধে নিলেন। প্রতিটি শিশুর মাথাপিছু ১৪,০০০/- টাকা শিক্ষা বন্ড হিসেবে একটি ফান্ড যোগান দেওয়া হলো। তাহলে মোট ফান্ড দাঁড়ায় ১৪,০০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ) টাকা। এই বন্ড শিশুদের বীমা নিরাপত্তাও দেবে।
এই ১৪ লক্ষ টাকা দিয়ে অনেক কিছু করা সম্ভব। মেঘনাপাড়ের বিস্তৃর্ণ চর অঞ্চলে জমি লীজ নিয়ে/ক্রয় করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া সম্ভব। ঐ এলাকার স্থানীয় পণ্য (মাছ, শষ্য) এবং সেবা (ট্যুরিজম) কে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে মাইক্রো বিজনেস গড়ে তোলা সম্ভব। শিশুদের অভিভাবকরা এগুলো পরিচালনা করবে। জোরদার মনিটরিং এবং সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করলে ৩ বৎসরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব।
৩ বৎসর শেষে ১ জন শিক্ষার্থীর সঞ্চয়কৃত অর্থ এবং মাইক্রো বিজনেস পরিচালিত লাভ মিলে মাথাপিছু ২৮,০০০/- টাকা হবে। ১০০ জন শিক্ষার্থীর মোট সঞ্চয় মিলে ২৮ লক্ষ টাকার একটি বড় ফান্ড গড়ে উঠবে ৩ বৎসরে। এভাবে স্কুলটি একসময় নিজেই শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে। স্কুলটির মাধ্যমে একদল দক্ষ প্রফেশনালের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব।
মেঘনাপাড় স্কুলকে কেন্দ্র করে আমরা ১৪ লক্ষ টাকার একটি শিক্ষা ফান্ড গড়তে যাচ্ছি। আপনাদের অব্যাহত সমর্থন এবং পরামর্শ নিয়ে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। অর্ধলক্ষ টাকারও বেশি ফান্ড আমাদের হাতে এসে পৌছেছে। ফান্ডের প্রতিটি অর্থের হিসাব সংরক্ষণের জন্য আমরা মেঘনাপাড় স্কুল ই-ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। খুব শীঘ্রই এটি ওয়েবসাইটে চলে যাবে। প্রতিটি ডোনারের হিসাবও এই ব্যাংকিং কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
কমপক্ষে ১০০ টি শিশুর শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানকে আমরা নিশ্চিত করতে পারি। আসুন মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন প্রকল্পটির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হই। যার যতটুকু সামর্থ্যে কুলায় প্রকল্পের এই ফান্ডটি গঠনে সহায়তা দিন। আপনাদের কোন পরামর্শ থাকলে দয়া করে জানান admin@meghnaparschool.com এই অ্যাড্রেসে।
(দু:খিত কিছু সময়ের জন্য অনলাইনে থাকতে পারছি না। পাঠকদের যে কোন কৌতুহলের জবাব অনলাইনে আসলে দেবো।)
লেখক আজমান আন্দালিব
- আজমান আন্দালিব -এর ব্লগ
- ১০ টি মন্তব্য
- ১৯ মে ২০০৯, ০৮:৩৪
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ১০ টি মন্তব্য
-
এস মাহবুব১৯ মে ২০০৯, ১০:০১
ওয়েব সাইট ভিজিট করে আসলাম। আমি কিছুটা কনফিউজড। শেয়ার করছি আপনার সাথে। আমি ধরে নিচ্ছি শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কি আপনারা প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্হার বাইরে কাজ করছেন বা করবেন? ম্যানেজিং কমিটি দেখে আমার তাই মনে হল। কারণ বেসরকারিভাবে কোন স্কুল প্রতিষ্ঠা হলেও তার জন্য সরকার নির্ধারিত নিয়মে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করতে হয়। এক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে।
জানাবেন প্লীজ। -
এস মাহবুব২০ মে ২০০৯, ০৭:৪৮
বিস্তারিতভাবে লিখার জন্য ধন্যবাদ। আমার মনে হয় আমার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি। সরকারি নিয়ম না মানলে কোন সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে সরকারি কোন সাহায্য পাওয়া যাবে না-এই যা!
তবে আপনার পরিকল্পনা দেখে মনে হয়েছে ওটার কোন প্রয়োজন হবে না। এক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি খুবই আকর্ষণীয় এবং শক্তিশালী হয়েছে নিঃসন্দেহে। এমন স্মার্ট বিষয়ের সাথে না থেকে কি পারা যায়?
অবশ্যই আছি আপনাদের সাথে।
শুভ কামনা। -
বিল রাসেল২০ মে ২০০৯, ১২:০১
"প্রতিদিন ১৪ টাকা হারে সঞ্চয় জমা করলে ১০০০ দিন শেষে (প্রায় তিন বছর) ১৪,০০০/- টাকা সঞ্চয় দাঁড়াবে। একজন শিক্ষার্থী পিছু এই সঞ্চয়টা মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন শিক্ষা ফান্ড হিসেবে গণ্য হবে।:
অনেক বড় একটা বিষয় কিন্তু এত সহজভাবে করা সম্ভব সেটা দেখে খুব ভাল লাগল...এভাবে যদি ক্ষুদ্র থেকে আমরা শুরু করতে পারি তবে এই পরিকল্পনাটি শিঘ্রই বাস্তবতায় রুপ দেয়া সম্ভব...এখন শুধু প্রয়োজন কিছু উদ্যামি মানুষ....আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক