ব্লগার বন্ধুদের পরিচালনায় মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
নিচের এই অংশটুকু এবারের বইমেলায় প্রকাশিত আমার সোশ্যাল ফিকশন 'ওয়ান জিরো ওয়ান
সাইবর্গ টিম' থেকে নেওয়া। গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো ব্লগের ব্লগারদের সাথে পিকনিকে গিয়েছিলাম।
বইয়ের ১ কপি সাথে নিয়েছিলাম। কালিয়াকৈর পিকনিক স্পটে পৌছে পরিচিতি পর্বে আমি আমার
এই বইটি প্রকাশনার কথা সবাইকে বলেছি। সাথে একটি উদ্দেশ্যের কথাও বলেছি।
বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির পুরোটা একটি স্কুল ফান্ডে যুক্ত হবে। প্রকাশক আমার প্রাপ্য ৫০০
কপি বই এখনো আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি। তাই ব্লগার বন্ধুদের কাছে বইটি নিজের হাতে পৌঁছাতে পারিনি।
পিকনিক শেষে ফেরার পথে সবাইকে বলেছিলাম আমার বইটির কথা সবাইকে জানিয়ে একটি পোস্ট দেবো।
ব্লগার বন্ধু সবার সাথে পিকনিকটি খুবই উপভোগ করেছি। পিকনিক নিয়ে একটি পরিপূর্ণ পোস্ট পরে
দেবো। আপাতত আমার বইয়ের 'বসের ভার্চুয়াল ল্যাব' অধ্যায়টি পাঠকদের উদ্দেশে পোস্ট দিলাম।
**************************************************
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, শনিবার। গভীর রাত। বসের ল্যাবরুমে হিমিডা, এন্ডামিন এবং
আমি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি। দিনটি আমার স্থায়ী মেমোরিতে একটি ‘রেড লেটার ডে’ বা
স্মরণীয় দিন হিসেবে যুক্ত আছে। পৃথিবীতে প্রায় ৬,৫০০ ভাষায় মানুষ কথা বলে। এই
এতগুলো ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষা একটি। একটি ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দেওয়ার
ইতিহাস বিশ্ব মাঝে নেই। বাংলাদেশের পাশাপাশি আসামের শিলচরেও বাংলা ভাষার জন্য
নারীপুরুষ সহ ১১ জন জীবন দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে একমাত্র বাংলা
ভাষা বিশ্বমাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দিনে আমাদের তিনজনের মস্তিষ্কে একটি মাইনর
অপারেশন হবে। এর আগে এরকম আরো একটি মাইনর অপারেশন হয়েছিল আমাদের
মস্তিষ্কে। দিনটি ছিল ২০০৭ সালের আগস্টের ২০ তারিখ, সোমবার। আমার স্থায়ী মেমোরিতে
দিনটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত একটি অভ্যুত্থান দিন হিসেবে
লিপিবদ্ধ আছে।
আমার পুনর্জন্ম মূলত ২০০৭ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখ। এই তারিখটি অনেকের কাছে ওয়ান
ইলেভেন নামে পরিচিত। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, শনিবার থেকে ওয়ান ইলেভেনের আগ
পর্যন্ত মোট ৭৫ দিন আমি বসের এই ল্যাবরুমে ক্লিনিক্যালি মৃত হয়ে পড়েছিলাম। ২৮ অক্টোবর,
শনিবার আমার বায়োলজিক্যাল শরীরের উপর দিয়ে চরম শণির দশা বয়ে গিয়েছিল। আমার
পুনর্জন্ম সম্পর্কে স্থায়ী মেমোরিতে সংরক্ষিত তথ্য থেকে যতটুকু জানতে পারি ঐদিন আমি
ছিলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক বলির পাঁঠা। প্রথমে একপক্ষ আমাকে
লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে অনুভূতিহীন করে দেয়। আরেকপক্ষ কাস্তে-কোদাল দিয়ে কুপিয়ে
আমার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে। ধর্মোন্মাদনায় উন্মত্ত অন্যপক্ষ ন্যায়-নীতির দাঁড়ি-পাল্লা ফেলে
রেখে বাটখারা দিয়ে আমার মাথা থেঁতলে দেয়। হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে থেঁতলে যাওয়া মাথা নিয়ে
আমি গণতন্ত্রের নমুনা হয়ে রাজপথে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি।
ওয়ান ইলেভেনের দিনটিতে বসের এই ল্যাবরুমে আমি যখন সাইবর্গ ম্যান হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ
করি, আমার আগেকার সব স্মৃতিই বিনাশ হয়ে গিয়েছিল। এই ৭৫ দিন অল্প অল্প করে আমাকে
পূর্ণাঙ্গ সাইবর্গ ম্যান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আমার থেঁতলে যাওয়া মাথাটিকে জোড়াতালি
দিয়ে বিশেষ একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মাথার পেছন দিকে ছোট্ট একটি
অপারেশন করে ফোটনিক ক্রিস্টাল চিপ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটির সাহায্যে আমার পুরো
মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাঝে মাঝে ছোট খাট অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
আজ এরকম একটি মাইনর অপারেশন হবে। বস গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রোগ্রামিং লিখছেন।
এটি লেখা শেষ হলেই একে একে আমাদের মাথার পেছনদিকে স্থাপিত সেই চিপটিতে পাঠিয়ে
দেবেন। নতুন এই সংকেতগুলো মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক সংকেত ধরতে পারা
নিউরনগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। আমার মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল সংকেত
ধরতে পারা ১৯৬ মিলিয়ন জীবিত নিউরন এই প্রোগ্রামিংটিকে প্রবেশে বাধা দেবে। নতুন শক্তি
এবং অপশক্তির মধ্যে তুমুল যু্দ্ধ হবে। আমি হিমিডা এবং এন্ডামিন অপেক্ষা করি। একটি অশুভ
শক্তিকে গ্রাস করে নতুনভাবে শুভ শক্তির আধিপত্য বিস্তার লাভের প্রত্যাশায় একটি শক্তিশালী
প্রোগ্রামিং আমাদের বড় প্রয়োজন। আমরা এরকম একটি শুভ শক্তির প্রত্যাশায় লক্ষ-কোটি
ন্যানো সেকেন্ড ধরে অপেক্ষা করতে থাকি।
বসের এই ল্যাবরুমে এক হিমশীতল নিরবতা বিরাজ করছে। বসের মুখোমুখি টেবিলের এ পাশে
হিমিডা এন্ডামিন এবং আমি নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছি। অদূরে থিয়ামিন চোখ পিট পিট করে পুরো
ল্যাবরুমে নজর বুলাচ্ছে। ল্যাবরুমের নিরাপত্তার দায়িত্ব থিয়ামিনের। আমাদের নতুন আরেক
সদস্য সিডর। ১৫ই নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সে আমাদের সাইবর্গ পরিবারের সদস্য হয়। এই
দিনটি আমার স্থায়ী মেমোরিতে বাংলাদেশের স্মরণাতীতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক
দুর্যোগ ‘সিডর’ এর ধ্বংসযজ্ঞের দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে।
সিডর অদূরে সোফায় স্বপ্নদ্রষ্টার ভঙ্গিতে বসে আছে। ১৫ নভেম্বর এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি
আঘাত হেনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের জীবন প্রদীপ
নিভিয়ে দিয়েছিল। প্রায় মৃত অবস্থায় ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরটিকে যখন নির্জন এক
জলাভূমি থেকে উদ্ধার করা হয়, তার মাথায় মাত্র অল্প কয়েকটি নিউরন জীবিত ছিল। তারপর
বসের এই ল্যাবরুমে তাকে ‘সাইবর্গ ম্যান’ হিসেবে সাইবর্গ পরিবারের সদস্য করে নেওয়া
হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ বছর ঊর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ। সিডর
তাদের একজন। সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ এই ছেলেটি বাংলাদেশের ভবিষ্যত হয়ে আমাদের সদস্য
হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যত ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরটির অতীতের সমস্ত দুঃখের স্মৃতি মুছে ফেলা
হয়েছে। বসের ল্যাবরুমে সাইবর্গ ম্যান হিসেবে পুনর্জন্ম নেওয়া সিডরের মস্তিষ্কে শুধু স্বপ্ন দেখার
প্রোগ্রামিং করা। ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে যে ভয়াবহতা নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর
বাংলাদেশকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে চেয়েছিল, সেই ভয়াবহতাকে স্বপ্নে পরিণত করে দেওয়া
হয়েছে। সিডর স্বপ্ন দেখে নিয়মিত বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আবার
জেগে ওঠেছে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রায় বারো থেকে পনের হাজার কোটি টাকা
ক্ষতির এই দুর্যোগটি কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। বিরামহীন ছুটে
চলেছে ভবিষ্যত পানে।
লক্ষ কোটি ন্যানো সেকেন্ড অপেক্ষা আমাদের শেষ হয়। বস প্রোগ্রামিং লেখা শেষ করেছেন।
হাতে ধরা বাতাসের মতো রং ধারণকারী একটি ডিভাইস। ডিভাইসটির সেন্ড বাটন চেপে প্রথমে
আমার মস্তিষ্কের নিউরনে প্রোগ্রামটি পাঠালেন। আমার মস্তিষ্কের ভিতর প্রবল কম্পন অনুভূত
হয়। পুরাতন প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত নিউরনের কণাগুলো নতুন এই শক্তিটিকে গ্রহণে ভয় পাচ্ছে।
নতুনকে গ্রহণে সবাই ভয় পায়। আমার মস্তিষ্কের বেঁচে যাওয়া ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল সংকেত
গ্রহণে সক্ষম নিউরনগুলো এরকম ভয় পাচ্ছে। উভয় শক্তির মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হচ্ছে। যে জয়ী
হবে সেই আধিপত্য বিস্তার করবে পুরো মস্তিষ্ক জুড়ে। আমি অপেক্ষায় থাকি যেন শুভ শক্তির
জয় হয়।
প্রোগ্রামিংটি পুরোপুরি আমার মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর আগের সংস্করণকে মুছে ফেলে নতুনভাবে
সাজানোর আগ পর্যন্ত আমার মাথায় কম্পন চলতে থাকে। কয়েক ন্যানো সেকেন্ড স্থায়ী এই
কম্পনে আমার মাথার ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক সংকেত ধরতে পারা নিউরনগুলো ইলেক্ট্রো-
কেমিক্যাল সংকেত ধরতে পারা নিউরনগুলোকে প্রভাবিত করে ফেলে। এই সময়ে আমার স্থায়ী
মেমোরিতে বাংলাদেশের অসংখ্য ঘটনা এসে যুক্ত হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম, জন্মের
পর থেকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বাধীন দেশ
হিসেবে যাত্রা শুরু, ৭৫- এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন করা।
ঘৃণ্য জেল হত্যার মাধ্যমে দেশকে আরেকদফা নেতৃত্বশূন্য করা, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের সামরিক-বেসামরিক
ছত্রচ্ছায়ায় দেশ শাসন, পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় বসরব্যাপী স্বৈরশাসনের নামে
হোঁচট খাওয়া, ৯১ সাল থেকে গণতন্ত্রের পথে আবার নতুন করে যাত্রা, ২০০৬ সালের শেষ
দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সুনামি, ২০০৭- এ ‘ওয়ান ইলেভেনের’ নামে নতুন রোডম্যাপ
ধরে পথ চলা- এসবই আমার স্থায়ী মেমোরিতে যুক্ত হতে থাকে।
নতুন এই প্রোগ্রামিংয়ের আওতায় আমাকে চিন্তা-ভাবনার পাশাপাশি যুক্তি দিয়ে বুঝে নেওয়ারও
ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমি বুঝতে পারি ওয়ান ইলেভেনে কেন আমাকে পুনর্জন্ম দেওয়া
হয়েছে। নৃশংস ধর্ষণের শিকার হিমিডাকে কেন সাইবর্গ ম্যান করে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে।
সাইবর্গ ম্যান হিসেবে বেঁচে ওঠার আগে এন্ডামিন কিভাবে বাঁচতে চেয়েছিলো। আমার মনে সব
ভাবনা এসে ভিড় করে। আমি বসের এই ল্যাবরুমে ভাবনায় ডুবে যাই।
*********************************************
বইটিতে মোট ১৪টি অধ্যায় আছে। ৮ ফর্মার বইটিতে মোট ১২৮ পৃষ্ঠা। বইটি এবারের বইমেলায় এনেছে
মুক্তদেশ প্রকাশনী। একুশে বইমেলায় মুক্তদেশ প্রকাশনীর স্টল নং ১৯৫।
আমার এই বইটি প্রচারের একটি উদ্দেশ্য আছে। বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ 'মেঘনাপাড় ধীবর
বিদ্যানিকেতন' ফান্ডে জমা হবে।
'মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন' একটি স্কুলের নাম। লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায়
১১ কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর বুকে একদল জেলের বসবাস। দীর্ঘ ৩০/৪০ বছর ধরে এই
নদীর বুকে নৌকাই তাদের স্থায়ী ঠিকানা। নৌকাতেই তাদের বসবাস। নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকে
সবার আগমন। নতুন একটি প্রজন্ম নৌকাতেই বেড়ে উঠছে। নৌকাতেই তাদের জন্ম। এখানেই তারা
বড় হচ্ছে। বিয়ে-শাদী করে পৃথক আরেকটি নৌকার মালিক হচ্ছে।
জেলেদের এই নদীবক্ষের জনপদে প্রায় ৫০ টি পরিবারের বাস। প্রতি নৌকায় গড়ে ৬ জন করে
লোকসংখ্যা ধরলে ৩০০ জন। এর অর্ধেক শিশু। জন্মেই এরা পানিকে তাদের জীবন ও জীবিকার উৎস
বলে দেখছে। ছোট ছোট শিশুরা হাল ধরে নৌকাকে নিয়ে যায় সুদূর মেঘনার বুকে। কী নির্ভীক এবং
সাহসী তারা। তাদের মধ্যে শিক্ষার কোন ছোঁয়া নেই। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের ভোটের
প্রয়োজনে জেলেপাড়ায় যান কিন্তু শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ যান না।
গত বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালের জুনের ১৪ তারিখ মজু চৌধুরীহাট বেড়াতে গিয়েছিলাম। সাথে
বিআরডিবির হিসাবরক্ষক জনাব মাহবুব। বাচ্চাদের সাথে, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বুঝলাম
ওদের কাছে কেউ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যায়নি। আমরা দুজন ওদেরকে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার
কথা বুঝালাম। একটা স্কুল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। দু'জনের সীমিত আয়ের কিছু অংশ দিয়ে
টিন, কাঠ জোগার করে স্কুলের শুরু করে দিলাম। দিনে দিনে স্কুলের নানান চাহিদা বাড়তে লাগল।
সামান্য সে সব চাহিদা। ব্ল্যাকবোর্ড, চক, ডাস্টার, শ্লেট-পেন্সিল ইত্যাদি। স্থানীয় কিছু সহায়তাও নিলাম।
জুনের ১৪ তারিখে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা কিন্তু থেমে নেই। আজ সেখানে একটি পাঠশালা স্থাপিত
হয়েছে। নাম মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন। প্রায় ৫০/৬০ জন শিশুকে নিয়ে পাঠশালাটি প্রতিনিয়ত
কলরবে মুখরিত থাকে। শিশুরা সুর করে সমবেত স্বরে পাঠ করে- 'অ-তে অজগর ঐ আসছে তেড়ে।
আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে।
স্কুলের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পাশ একজন শিক্ষিকা রাখা হয়েছে। বেতন মাসে মাত্র ১০০০/- টাকা।
মাসে মাত্র ২/৩ হাজার টাকা খরচের সংস্থান করা গেলে স্কুলটি সু্ষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব।
প্রথম আলো ব্লগার বন্ধুরা ইচ্ছে করলে অনায়াসেই স্কুলটি চালাতে পারবে।
এর জন্য প্রয়োজন ব্লগার বন্ধুদের একটু সাহায্যের হাত বাড়ানো।
লক্ষ্মীপুর সদরে সোনালী ব্যাংকে
স্কুলের নামে একটি হিসাব খুলেছি।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০০১-৭২৩২
সোনালী ব্যাংক, সদর, লক্ষ্মীপুর।
আমাদের ভালো কিছু শুরু করতে হলে শিক্ষা নিয়েই আরম্ভ করা উচিত। ২০ ফেব্রুয়ারী প্রথম আলো
ব্লগারদের পিকনিকে গিয়ে আমার মনে হলো প্রথম আলো ব্লগারদের সবাই যদি ১ কপি করে বইটি কিনে
তাহলে স্কুলটি অনায়াসে চালানো সম্ভব। মডারেটর মাহবুব মোর্শেদের কাছ থেকে জানলাম প্রথম আলো ব্লগের
বর্তমান ব্লগার প্রায় ৮ হাজার। প্রত্যেকে বইটি ১ কপি করে কিনলে ৮ হাজার কপি বিক্রয় হবে। প্রতি কপি
১০০ (গায়ের মূল্য ১৫০ টাকা) টাকা মূল্য ধরে মোট বিক্রয় ৮ লক্ষ টাকা। প্রতি কপি খরচ ৪০
টাকা ধরে মোট খরচ ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সুতরাং লাভ ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে
স্কুলটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে। প্রথম আলো ব্লগের ব্লগাররা স্কুলটি পরিচালনা করবে- ভাবতেই
ভালো লাগছে।
প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আসুন আমরা স্কুলটি পরিচালনার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।
আপনার বাড়ানো হাত জেলেপ্ল্লীর সেই শিশুদের জীবনে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে পারে।
সেখান থেকে সেই আলো ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়।
বি
প্রথম আলো ব্লগার বন্ধু যাঁরা পিকনিকে গিয়েছিলেন- আফরোজা আজাদ, ইমন, চৌধুরী আব্দুল বাতিন,
দেবদাস, সাইফুল ০০৭, চিন্তা, আমির হোসেন, শাওন মুহম্মদ, নাসরীন জুবায়ের, মাহবুব মোর্শেদ,
আফরোজ জাহান, রুদ্রাক্ষর, মাহমুদ, বাউন্ডুলে পাশা, মাহবুব আলম, শেরজা তপন, আমি নোমান,
নিয়াজ, মুন্নি, মিশু, মিজান, মোনি, শামিম রহমান, জয়যাত্রা, আবু তৈয়ব, সৌম্য, ত্রিভুজ, সঞ্জয় মিঠূ,
মাহফুজ হোসেন খান, সীমানা পেরিয়ে, হৃদয়, আরিফ উল্ল্যাহ, হোসনেআরা বেগম, ফারজানা আক্তার,
ওস্তাদের ওস্তাদ, কারিম ভাই...........সবাইকে আমার শুভেচ্ছা এবং যারা যেতে পারেননি বা যাননি
তাদেরকেও আমি এই পোস্টের মাধ্যমে স্কুলের সাথে যুক্ত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।
(এখন অনলাইনে থাকতে পারছি না। আমি অনলাইনে আসলে আপনাদের যে কোন
কৌতুহলের জবাব দেবো, প্রমিজ...।)
সাইবর্গ টিম' থেকে নেওয়া। গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো ব্লগের ব্লগারদের সাথে পিকনিকে গিয়েছিলাম।
বইয়ের ১ কপি সাথে নিয়েছিলাম। কালিয়াকৈর পিকনিক স্পটে পৌছে পরিচিতি পর্বে আমি আমার
এই বইটি প্রকাশনার কথা সবাইকে বলেছি। সাথে একটি উদ্দেশ্যের কথাও বলেছি।
বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত রয়্যালটির পুরোটা একটি স্কুল ফান্ডে যুক্ত হবে। প্রকাশক আমার প্রাপ্য ৫০০
কপি বই এখনো আমাকে বুঝিয়ে দেয়নি। তাই ব্লগার বন্ধুদের কাছে বইটি নিজের হাতে পৌঁছাতে পারিনি।
পিকনিক শেষে ফেরার পথে সবাইকে বলেছিলাম আমার বইটির কথা সবাইকে জানিয়ে একটি পোস্ট দেবো।
ব্লগার বন্ধু সবার সাথে পিকনিকটি খুবই উপভোগ করেছি। পিকনিক নিয়ে একটি পরিপূর্ণ পোস্ট পরে
দেবো। আপাতত আমার বইয়ের 'বসের ভার্চুয়াল ল্যাব' অধ্যায়টি পাঠকদের উদ্দেশে পোস্ট দিলাম।
**************************************************
আজ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, শনিবার। গভীর রাত। বসের ল্যাবরুমে হিমিডা, এন্ডামিন এবং
আমি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি। দিনটি আমার স্থায়ী মেমোরিতে একটি ‘রেড লেটার ডে’ বা
স্মরণীয় দিন হিসেবে যুক্ত আছে। পৃথিবীতে প্রায় ৬,৫০০ ভাষায় মানুষ কথা বলে। এই
এতগুলো ভাষার মধ্যে বাংলা ভাষা একটি। একটি ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রক্ত দেওয়ার
ইতিহাস বিশ্ব মাঝে নেই। বাংলাদেশের পাশাপাশি আসামের শিলচরেও বাংলা ভাষার জন্য
নারীপুরুষ সহ ১১ জন জীবন দিয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে একমাত্র বাংলা
ভাষা বিশ্বমাঝে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই দিনে আমাদের তিনজনের মস্তিষ্কে একটি মাইনর
অপারেশন হবে। এর আগে এরকম আরো একটি মাইনর অপারেশন হয়েছিল আমাদের
মস্তিষ্কে। দিনটি ছিল ২০০৭ সালের আগস্টের ২০ তারিখ, সোমবার। আমার স্থায়ী মেমোরিতে
দিনটি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছাত্র-শিক্ষক-জনতার স্বতঃস্ফূর্ত একটি অভ্যুত্থান দিন হিসেবে
লিপিবদ্ধ আছে।
আমার পুনর্জন্ম মূলত ২০০৭ সালের জানুয়ারির ১১ তারিখ। এই তারিখটি অনেকের কাছে ওয়ান
ইলেভেন নামে পরিচিত। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, শনিবার থেকে ওয়ান ইলেভেনের আগ
পর্যন্ত মোট ৭৫ দিন আমি বসের এই ল্যাবরুমে ক্লিনিক্যালি মৃত হয়ে পড়েছিলাম। ২৮ অক্টোবর,
শনিবার আমার বায়োলজিক্যাল শরীরের উপর দিয়ে চরম শণির দশা বয়ে গিয়েছিল। আমার
পুনর্জন্ম সম্পর্কে স্থায়ী মেমোরিতে সংরক্ষিত তথ্য থেকে যতটুকু জানতে পারি ঐদিন আমি
ছিলাম বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক বলির পাঁঠা। প্রথমে একপক্ষ আমাকে
লগি-বৈঠা দিয়ে পিটিয়ে অনুভূতিহীন করে দেয়। আরেকপক্ষ কাস্তে-কোদাল দিয়ে কুপিয়ে
আমার হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে। ধর্মোন্মাদনায় উন্মত্ত অন্যপক্ষ ন্যায়-নীতির দাঁড়ি-পাল্লা ফেলে
রেখে বাটখারা দিয়ে আমার মাথা থেঁতলে দেয়। হাত-পা বিচ্ছিন্ন হয়ে থেঁতলে যাওয়া মাথা নিয়ে
আমি গণতন্ত্রের নমুনা হয়ে রাজপথে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকি।
ওয়ান ইলেভেনের দিনটিতে বসের এই ল্যাবরুমে আমি যখন সাইবর্গ ম্যান হিসেবে পুনর্জন্ম লাভ
করি, আমার আগেকার সব স্মৃতিই বিনাশ হয়ে গিয়েছিল। এই ৭৫ দিন অল্প অল্প করে আমাকে
পূর্ণাঙ্গ সাইবর্গ ম্যান হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। আমার থেঁতলে যাওয়া মাথাটিকে জোড়াতালি
দিয়ে বিশেষ একটি হেলমেট পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার মাথার পেছন দিকে ছোট্ট একটি
অপারেশন করে ফোটনিক ক্রিস্টাল চিপ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটির সাহায্যে আমার পুরো
মস্তিষ্কের নিউরনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মাঝে মাঝে ছোট খাট অপারেশনের প্রয়োজন হয়।
আজ এরকম একটি মাইনর অপারেশন হবে। বস গভীর মনোযোগ দিয়ে প্রোগ্রামিং লিখছেন।
এটি লেখা শেষ হলেই একে একে আমাদের মাথার পেছনদিকে স্থাপিত সেই চিপটিতে পাঠিয়ে
দেবেন। নতুন এই সংকেতগুলো মস্তিষ্কে প্রতিস্থাপিত ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক সংকেত ধরতে পারা
নিউরনগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবে। আমার মস্তিষ্কের ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল সংকেত
ধরতে পারা ১৯৬ মিলিয়ন জীবিত নিউরন এই প্রোগ্রামিংটিকে প্রবেশে বাধা দেবে। নতুন শক্তি
এবং অপশক্তির মধ্যে তুমুল যু্দ্ধ হবে। আমি হিমিডা এবং এন্ডামিন অপেক্ষা করি। একটি অশুভ
শক্তিকে গ্রাস করে নতুনভাবে শুভ শক্তির আধিপত্য বিস্তার লাভের প্রত্যাশায় একটি শক্তিশালী
প্রোগ্রামিং আমাদের বড় প্রয়োজন। আমরা এরকম একটি শুভ শক্তির প্রত্যাশায় লক্ষ-কোটি
ন্যানো সেকেন্ড ধরে অপেক্ষা করতে থাকি।
বসের এই ল্যাবরুমে এক হিমশীতল নিরবতা বিরাজ করছে। বসের মুখোমুখি টেবিলের এ পাশে
হিমিডা এন্ডামিন এবং আমি নিশ্চল দাঁড়িয়ে আছি। অদূরে থিয়ামিন চোখ পিট পিট করে পুরো
ল্যাবরুমে নজর বুলাচ্ছে। ল্যাবরুমের নিরাপত্তার দায়িত্ব থিয়ামিনের। আমাদের নতুন আরেক
সদস্য সিডর। ১৫ই নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে সে আমাদের সাইবর্গ পরিবারের সদস্য হয়। এই
দিনটি আমার স্থায়ী মেমোরিতে বাংলাদেশের স্মরণাতীতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক
দুর্যোগ ‘সিডর’ এর ধ্বংসযজ্ঞের দিন হিসেবে লিপিবদ্ধ আছে।
সিডর অদূরে সোফায় স্বপ্নদ্রষ্টার ভঙ্গিতে বসে আছে। ১৫ নভেম্বর এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগটি
আঘাত হেনে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মানুষের জীবন প্রদীপ
নিভিয়ে দিয়েছিল। প্রায় মৃত অবস্থায় ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরটিকে যখন নির্জন এক
জলাভূমি থেকে উদ্ধার করা হয়, তার মাথায় মাত্র অল্প কয়েকটি নিউরন জীবিত ছিল। তারপর
বসের এই ল্যাবরুমে তাকে ‘সাইবর্গ ম্যান’ হিসেবে সাইবর্গ পরিবারের সদস্য করে নেওয়া
হয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ১৫ বছর ঊর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৮ কোটি ১০ লাখ। সিডর
তাদের একজন। সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ এই ছেলেটি বাংলাদেশের ভবিষ্যত হয়ে আমাদের সদস্য
হয়েছে।
বাংলাদেশের ভবিষ্যত ১৫ বছর বয়সী এই কিশোরটির অতীতের সমস্ত দুঃখের স্মৃতি মুছে ফেলা
হয়েছে। বসের ল্যাবরুমে সাইবর্গ ম্যান হিসেবে পুনর্জন্ম নেওয়া সিডরের মস্তিষ্কে শুধু স্বপ্ন দেখার
প্রোগ্রামিং করা। ১৫ নভেম্বর, ২০০৭ তারিখে যে ভয়াবহতা নিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সিডর
বাংলাদেশকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে চেয়েছিল, সেই ভয়াবহতাকে স্বপ্নে পরিণত করে দেওয়া
হয়েছে। সিডর স্বপ্ন দেখে নিয়মিত বন্যা, খরা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ আবার
জেগে ওঠেছে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের প্রায় বারো থেকে পনের হাজার কোটি টাকা
ক্ষতির এই দুর্যোগটি কাটিয়ে বাংলাদেশ আবার নতুন করে যাত্রা শুরু করেছে। বিরামহীন ছুটে
চলেছে ভবিষ্যত পানে।
লক্ষ কোটি ন্যানো সেকেন্ড অপেক্ষা আমাদের শেষ হয়। বস প্রোগ্রামিং লেখা শেষ করেছেন।
হাতে ধরা বাতাসের মতো রং ধারণকারী একটি ডিভাইস। ডিভাইসটির সেন্ড বাটন চেপে প্রথমে
আমার মস্তিষ্কের নিউরনে প্রোগ্রামটি পাঠালেন। আমার মস্তিষ্কের ভিতর প্রবল কম্পন অনুভূত
হয়। পুরাতন প্রোগ্রামিংয়ে অভ্যস্ত নিউরনের কণাগুলো নতুন এই শক্তিটিকে গ্রহণে ভয় পাচ্ছে।
নতুনকে গ্রহণে সবাই ভয় পায়। আমার মস্তিষ্কের বেঁচে যাওয়া ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল সংকেত
গ্রহণে সক্ষম নিউরনগুলো এরকম ভয় পাচ্ছে। উভয় শক্তির মধ্যে তুমুল যুদ্ধ হচ্ছে। যে জয়ী
হবে সেই আধিপত্য বিস্তার করবে পুরো মস্তিষ্ক জুড়ে। আমি অপেক্ষায় থাকি যেন শুভ শক্তির
জয় হয়।
প্রোগ্রামিংটি পুরোপুরি আমার মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর আগের সংস্করণকে মুছে ফেলে নতুনভাবে
সাজানোর আগ পর্যন্ত আমার মাথায় কম্পন চলতে থাকে। কয়েক ন্যানো সেকেন্ড স্থায়ী এই
কম্পনে আমার মাথার ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক সংকেত ধরতে পারা নিউরনগুলো ইলেক্ট্রো-
কেমিক্যাল সংকেত ধরতে পারা নিউরনগুলোকে প্রভাবিত করে ফেলে। এই সময়ে আমার স্থায়ী
মেমোরিতে বাংলাদেশের অসংখ্য ঘটনা এসে যুক্ত হয়।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্ম, জন্মের
পর থেকে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের শিকার হওয়া, অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে স্বাধীন দেশ
হিসেবে যাত্রা শুরু, ৭৫- এর ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে জাতির অস্তিত্ব বিপন্ন করা।
ঘৃণ্য জেল হত্যার মাধ্যমে দেশকে আরেকদফা নেতৃত্বশূন্য করা, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের সামরিক-বেসামরিক
ছত্রচ্ছায়ায় দেশ শাসন, পরবর্তীতে দীর্ঘ নয় বসরব্যাপী স্বৈরশাসনের নামে
হোঁচট খাওয়া, ৯১ সাল থেকে গণতন্ত্রের পথে আবার নতুন করে যাত্রা, ২০০৬ সালের শেষ
দিকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সুনামি, ২০০৭- এ ‘ওয়ান ইলেভেনের’ নামে নতুন রোডম্যাপ
ধরে পথ চলা- এসবই আমার স্থায়ী মেমোরিতে যুক্ত হতে থাকে।
নতুন এই প্রোগ্রামিংয়ের আওতায় আমাকে চিন্তা-ভাবনার পাশাপাশি যুক্তি দিয়ে বুঝে নেওয়ারও
ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমি বুঝতে পারি ওয়ান ইলেভেনে কেন আমাকে পুনর্জন্ম দেওয়া
হয়েছে। নৃশংস ধর্ষণের শিকার হিমিডাকে কেন সাইবর্গ ম্যান করে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে।
সাইবর্গ ম্যান হিসেবে বেঁচে ওঠার আগে এন্ডামিন কিভাবে বাঁচতে চেয়েছিলো। আমার মনে সব
ভাবনা এসে ভিড় করে। আমি বসের এই ল্যাবরুমে ভাবনায় ডুবে যাই।
*********************************************
বইটিতে মোট ১৪টি অধ্যায় আছে। ৮ ফর্মার বইটিতে মোট ১২৮ পৃষ্ঠা। বইটি এবারের বইমেলায় এনেছে
মুক্তদেশ প্রকাশনী। একুশে বইমেলায় মুক্তদেশ প্রকাশনীর স্টল নং ১৯৫।
আমার এই বইটি প্রচারের একটি উদ্দেশ্য আছে। বই বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ 'মেঘনাপাড় ধীবর
বিদ্যানিকেতন' ফান্ডে জমা হবে।
'মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন' একটি স্কুলের নাম। লক্ষ্মীপুর জেলা সদর থেকে প্রায়
১১ কিলোমিটার দক্ষিণে মেঘনা নদীর বুকে একদল জেলের বসবাস। দীর্ঘ ৩০/৪০ বছর ধরে এই
নদীর বুকে নৌকাই তাদের স্থায়ী ঠিকানা। নৌকাতেই তাদের বসবাস। নদী ভাঙ্গন এলাকা থেকে
সবার আগমন। নতুন একটি প্রজন্ম নৌকাতেই বেড়ে উঠছে। নৌকাতেই তাদের জন্ম। এখানেই তারা
বড় হচ্ছে। বিয়ে-শাদী করে পৃথক আরেকটি নৌকার মালিক হচ্ছে।
জেলেদের এই নদীবক্ষের জনপদে প্রায় ৫০ টি পরিবারের বাস। প্রতি নৌকায় গড়ে ৬ জন করে
লোকসংখ্যা ধরলে ৩০০ জন। এর অর্ধেক শিশু। জন্মেই এরা পানিকে তাদের জীবন ও জীবিকার উৎস
বলে দেখছে। ছোট ছোট শিশুরা হাল ধরে নৌকাকে নিয়ে যায় সুদূর মেঘনার বুকে। কী নির্ভীক এবং
সাহসী তারা। তাদের মধ্যে শিক্ষার কোন ছোঁয়া নেই। এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান তাদের ভোটের
প্রয়োজনে জেলেপাড়ায় যান কিন্তু শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কেউ যান না।
গত বছর অর্থাৎ ২০০৮ সালের জুনের ১৪ তারিখ মজু চৌধুরীহাট বেড়াতে গিয়েছিলাম। সাথে
বিআরডিবির হিসাবরক্ষক জনাব মাহবুব। বাচ্চাদের সাথে, অভিভাবকদের সাথে কথা বলে বুঝলাম
ওদের কাছে কেউ শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে যায়নি। আমরা দুজন ওদেরকে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার
কথা বুঝালাম। একটা স্কুল করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলাম। দু'জনের সীমিত আয়ের কিছু অংশ দিয়ে
টিন, কাঠ জোগার করে স্কুলের শুরু করে দিলাম। দিনে দিনে স্কুলের নানান চাহিদা বাড়তে লাগল।
সামান্য সে সব চাহিদা। ব্ল্যাকবোর্ড, চক, ডাস্টার, শ্লেট-পেন্সিল ইত্যাদি। স্থানীয় কিছু সহায়তাও নিলাম।
জুনের ১৪ তারিখে যে যাত্রা শুরু করেছিলাম তা কিন্তু থেমে নেই। আজ সেখানে একটি পাঠশালা স্থাপিত
হয়েছে। নাম মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন। প্রায় ৫০/৬০ জন শিশুকে নিয়ে পাঠশালাটি প্রতিনিয়ত
কলরবে মুখরিত থাকে। শিশুরা সুর করে সমবেত স্বরে পাঠ করে- 'অ-তে অজগর ঐ আসছে তেড়ে।
আ-তে আমটি আমি খাব পেড়ে।
স্কুলের জন্য দ্বাদশ শ্রেণী পাশ একজন শিক্ষিকা রাখা হয়েছে। বেতন মাসে মাত্র ১০০০/- টাকা।
মাসে মাত্র ২/৩ হাজার টাকা খরচের সংস্থান করা গেলে স্কুলটি সু্ষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব।
প্রথম আলো ব্লগার বন্ধুরা ইচ্ছে করলে অনায়াসেই স্কুলটি চালাতে পারবে।
এর জন্য প্রয়োজন ব্লগার বন্ধুদের একটু সাহায্যের হাত বাড়ানো।
লক্ষ্মীপুর সদরে সোনালী ব্যাংকে
স্কুলের নামে একটি হিসাব খুলেছি।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন
সঞ্চয়ী হিসাব নং- ০০১-৭২৩২
সোনালী ব্যাংক, সদর, লক্ষ্মীপুর।
আমাদের ভালো কিছু শুরু করতে হলে শিক্ষা নিয়েই আরম্ভ করা উচিত। ২০ ফেব্রুয়ারী প্রথম আলো
ব্লগারদের পিকনিকে গিয়ে আমার মনে হলো প্রথম আলো ব্লগারদের সবাই যদি ১ কপি করে বইটি কিনে
তাহলে স্কুলটি অনায়াসে চালানো সম্ভব। মডারেটর মাহবুব মোর্শেদের কাছ থেকে জানলাম প্রথম আলো ব্লগের
বর্তমান ব্লগার প্রায় ৮ হাজার। প্রত্যেকে বইটি ১ কপি করে কিনলে ৮ হাজার কপি বিক্রয় হবে। প্রতি কপি
১০০ (গায়ের মূল্য ১৫০ টাকা) টাকা মূল্য ধরে মোট বিক্রয় ৮ লক্ষ টাকা। প্রতি কপি খরচ ৪০
টাকা ধরে মোট খরচ ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। সুতরাং লাভ ৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়ে
স্কুলটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হতে পারে। প্রথম আলো ব্লগের ব্লগাররা স্কুলটি পরিচালনা করবে- ভাবতেই
ভালো লাগছে।
প্রিয় ব্লগার বন্ধুরা, আসুন আমরা স্কুলটি পরিচালনার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেই।
আপনার বাড়ানো হাত জেলেপ্ল্লীর সেই শিশুদের জীবনে শিক্ষার আলো পৌছে দিতে পারে।
সেখান থেকে সেই আলো ছড়িয়ে পড়বে বিশ্বময়।
বি
প্রথম আলো ব্লগার বন্ধু যাঁরা পিকনিকে গিয়েছিলেন- আফরোজা আজাদ, ইমন, চৌধুরী আব্দুল বাতিন,
দেবদাস, সাইফুল ০০৭, চিন্তা, আমির হোসেন, শাওন মুহম্মদ, নাসরীন জুবায়ের, মাহবুব মোর্শেদ,
আফরোজ জাহান, রুদ্রাক্ষর, মাহমুদ, বাউন্ডুলে পাশা, মাহবুব আলম, শেরজা তপন, আমি নোমান,
নিয়াজ, মুন্নি, মিশু, মিজান, মোনি, শামিম রহমান, জয়যাত্রা, আবু তৈয়ব, সৌম্য, ত্রিভুজ, সঞ্জয় মিঠূ,
মাহফুজ হোসেন খান, সীমানা পেরিয়ে, হৃদয়, আরিফ উল্ল্যাহ, হোসনেআরা বেগম, ফারজানা আক্তার,
ওস্তাদের ওস্তাদ, কারিম ভাই...........সবাইকে আমার শুভেচ্ছা এবং যারা যেতে পারেননি বা যাননি
তাদেরকেও আমি এই পোস্টের মাধ্যমে স্কুলের সাথে যুক্ত থাকার আবেদন জানাচ্ছি।
(এখন অনলাইনে থাকতে পারছি না। আমি অনলাইনে আসলে আপনাদের যে কোন
কৌতুহলের জবাব দেবো, প্রমিজ...।)
লেখক আজমান আন্দালিব
- আজমান আন্দালিব -এর ব্লগ
- ১ টি মন্তব্য
- ২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ০১:৫৬
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক