ঘূর্ণিঝড় বিজলী এবং আমাদের মেঘনাপাড়ের স্কুলে গমন
http://pimg.s3.amazonaws.com/img/1098.1240000721.DSC07331.jpg
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন। লক্ষ্মীপুর জেলার মজুচৌধুরীহাটের অবহেলিত জেলে জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য স্কুলটি নির্মিত হয়েছিল ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে। অবশ্য ১৪ জুলাই তারিখে স্কুলটির সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত। তারপর এক স্বপ্নের যাত্রা শুরু।
একে একে অনেক বাধা পেরিয়ে স্কুলটি আজ ৮৬ জন জেলে শিশুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। গতকাল অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল আমরা (আমি, বিল রাসেল এবং আজব ঢাকা) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা হই। কুমিল্লার কাছাকাছি দাউদকান্দি ব্রিজ পার হতেই ঘূর্ণিঝড় বিজলীর প্রভাব টের পেতে শুরু করি। আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু। সাথে শো শো বাতাসের গর্জন। ভাবছিলাম শেষ পর্যন্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছুতে পাবো কি না।
মজুচৌধুরীহাটের সোহরাব মাঝির সাথে ফোনে যোগাযোগ করি। ও জানায় মজু চৌধুরীহাটের মেঘনার বুকে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব চলছে। সকাল থেকেই প্রচন্ড বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাস। জেলে শিশুরা সবাই নৌকার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে। স্কুলে উপস্থিত হওয়ার জন্য কাউকে বলতে পারেনি।
লক্ষ্মীপুরের তরুণ সাংবাদিক যায়যায়দিনের রিপোর্টার স্বপনের সাথে যোগাযোগ করি। স্বপন জানাল সে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে। আমরা আসছি জেনে ও আমাদের সাথে মজু চৌধুরীহাটের স্কুলে যেতে প্রস্তুত বলে জানাল। দিগন্ত টেলিভিশনের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ হয়। মাসুদ জানায় এই দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে ওখানে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তারপরও আমরা আসছি জেনে ও আমাদের সাথে যেতে প্রস্তুত।
লক্ষ্মীপুর পৌঁছে আমরা ঘূর্র্ণিঝড় বিজলীর সরব উপস্থিতি টের পাই। লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডের সাথে মোহাম্মদীয়া হোটেলে দুপুরের খাওয়া সেরে নেই এবং আবহাওয়ার প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও সবাই মজু চৌধুরী হাট যাওয়ার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ থাকি। এতদূরে এসে স্কুলের কাছে না গিয়ে ফিরে যাওয়ার কোন মানে হয় না।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিল রাসেল এবং আজব ঢাকা তিনটি ছাতা কিনে আনে। যাক্, আপাতত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সামান্য একটু ব্যবস্থা হলো। আমরা সর্বমোট ছয়জন। দুইটি সিএনজি ভাড়া করি। তারপর সেই স্কুলের উদ্দেশে যাত্রা।
স্কুলে পৌঁছে দেখি মেঘনার বুকে নৌকাগুলো বৃষ্টতে ভিজে সব জবুথবু হয়ে আছে। অনেকটা নির্জন হয়ে আছে এলাকাটা। স্কুলকে ঘিরে বিকেলবেলা শিশুদের যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকার কথা তার ছিঁটেফোটাও নেই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু শিশু এসে ভিড় জমায়। ওদের কাছে স্কুলের কিছু খবর নেই। কিছুক্ষণের মধ্যে ম্যাডাম এসে হাজির হয়। ম্যাডামের বকেয়া ৫ মাসের বেতন পরিশোধ করি। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে কেনা ছাতা দুইটির একটি ম্যাডাম এবং অপরটি সোহরাবকে উপহার দেই।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বই বিতরণ করতে পারিনি। আগামী শণিবার আবারও এসে বই বিতরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিকেলেই শহরে চলে আসি।
বিল রাসেল স্কুলের ফান্ড নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট দেবে। আজব ঢাকা বেশ কিছু ছবি তুলেছে। এগুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে সে পোস্ট দেবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুজনেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। এভাবেই আমাদের মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন পরিদর্শন শেষ হয়।
জেলে শিশুদের সেই স্কুলটিকে সহায়তা করা এবং উৎসাহিত করার জন্য আমি ব্লগার বন্ধুদের কাছে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন। লক্ষ্মীপুর জেলার মজুচৌধুরীহাটের অবহেলিত জেলে জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য স্কুলটি নির্মিত হয়েছিল ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে। অবশ্য ১৪ জুলাই তারিখে স্কুলটির সম্ভাবনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত। তারপর এক স্বপ্নের যাত্রা শুরু।
একে একে অনেক বাধা পেরিয়ে স্কুলটি আজ ৮৬ জন জেলে শিশুর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। গতকাল অর্থাৎ ১৭ এপ্রিল আমরা (আমি, বিল রাসেল এবং আজব ঢাকা) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের উদ্দেশে রওনা হই। কুমিল্লার কাছাকাছি দাউদকান্দি ব্রিজ পার হতেই ঘূর্ণিঝড় বিজলীর প্রভাব টের পেতে শুরু করি। আকাশ কালো করে বৃষ্টি শুরু। সাথে শো শো বাতাসের গর্জন। ভাবছিলাম শেষ পর্যন্ত গন্তব্যস্থলে পৌঁছুতে পাবো কি না।
মজুচৌধুরীহাটের সোহরাব মাঝির সাথে ফোনে যোগাযোগ করি। ও জানায় মজু চৌধুরীহাটের মেঘনার বুকে ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব চলছে। সকাল থেকেই প্রচন্ড বৃষ্টি এবং প্রবল বাতাস। জেলে শিশুরা সবাই নৌকার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে। স্কুলে উপস্থিত হওয়ার জন্য কাউকে বলতে পারেনি।
লক্ষ্মীপুরের তরুণ সাংবাদিক যায়যায়দিনের রিপোর্টার স্বপনের সাথে যোগাযোগ করি। স্বপন জানাল সে কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছে। আমরা আসছি জেনে ও আমাদের সাথে মজু চৌধুরীহাটের স্কুলে যেতে প্রস্তুত বলে জানাল। দিগন্ত টেলিভিশনের লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ হয়। মাসুদ জানায় এই দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে ওখানে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। তারপরও আমরা আসছি জেনে ও আমাদের সাথে যেতে প্রস্তুত।
লক্ষ্মীপুর পৌঁছে আমরা ঘূর্র্ণিঝড় বিজলীর সরব উপস্থিতি টের পাই। লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ডের সাথে মোহাম্মদীয়া হোটেলে দুপুরের খাওয়া সেরে নেই এবং আবহাওয়ার প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও সবাই মজু চৌধুরী হাট যাওয়ার ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ থাকি। এতদূরে এসে স্কুলের কাছে না গিয়ে ফিরে যাওয়ার কোন মানে হয় না।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিল রাসেল এবং আজব ঢাকা তিনটি ছাতা কিনে আনে। যাক্, আপাতত বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সামান্য একটু ব্যবস্থা হলো। আমরা সর্বমোট ছয়জন। দুইটি সিএনজি ভাড়া করি। তারপর সেই স্কুলের উদ্দেশে যাত্রা।
স্কুলে পৌঁছে দেখি মেঘনার বুকে নৌকাগুলো বৃষ্টতে ভিজে সব জবুথবু হয়ে আছে। অনেকটা নির্জন হয়ে আছে এলাকাটা। স্কুলকে ঘিরে বিকেলবেলা শিশুদের যে প্রাণচাঞ্চল্য থাকার কথা তার ছিঁটেফোটাও নেই। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে কিছু শিশু এসে ভিড় জমায়। ওদের কাছে স্কুলের কিছু খবর নেই। কিছুক্ষণের মধ্যে ম্যাডাম এসে হাজির হয়। ম্যাডামের বকেয়া ৫ মাসের বেতন পরিশোধ করি। লক্ষ্মীপুর শহর থেকে কেনা ছাতা দুইটির একটি ম্যাডাম এবং অপরটি সোহরাবকে উপহার দেই।
দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বই বিতরণ করতে পারিনি। আগামী শণিবার আবারও এসে বই বিতরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিকেলেই শহরে চলে আসি।
বিল রাসেল স্কুলের ফান্ড নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট দেবে। আজব ঢাকা বেশ কিছু ছবি তুলেছে। এগুলো নিয়ে পর্যায়ক্রমে সে পোস্ট দেবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুজনেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। এভাবেই আমাদের মেঘনাপাড় ধীবর বিদ্যানিকেতন পরিদর্শন শেষ হয়।
জেলে শিশুদের সেই স্কুলটিকে সহায়তা করা এবং উৎসাহিত করার জন্য আমি ব্লগার বন্ধুদের কাছে সবিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
লেখক আজমান আন্দালিব
- আজমান আন্দালিব -এর ব্লগ
- ২০ টি মন্তব্য
- ১৮ এপ্রিল ২০০৯, ১০:৩২
- বিবিধ
প্রিন্ট করুন
- ২০ টি মন্তব্য
-
ত্রিভুজ১৮ এপ্রিল ২০০৯, ০১:৪২
দারুণ একটা কাজ করছেন আপনারা... ইচ্ছে ছিলো আপনাদের ইস্কুলে যাওয়ার... সময় করে ওঠতে পারছি না। একদিন নিশ্চয় যাবো...
-
জনী জনী১৮ এপ্রিল ২০০৯, ১১:৩৩
বিল রাসেল ভাই এর পূর্ণাঙ্গ পোস্ট দেবে এবং আজব ঢাকা ছবির আপেক্ষায় রইলাম। -
িচন্তা১৮ এপ্রিল ২০০৯, ১১:৩৩
এবার হয়নি তাতে কি হয়েছে পরেরবার হবে। এগিয়ে যান এই সুন্দর উদ্যোগটি নিয়ে ... -
আবরার১৮ এপ্রিল ২০০৯, ১১:৪৮
বিল রাসেল স্কুলের ফান্ড নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ পোস্ট দেবে।
- এ জিনিষটা খুবই গুরুত্বপূর্ন। কারন যতদুর জানি অনেক ব্লগার তাদের কষ্ঠার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়েছেন আপনাদের স্কুলের জন্য। তাই তাদের জানা থাকা দরকার যে তাদের টাকার ভালো ব্যবহার হচ্ছে। তাহলে অন্যরাও এগিয়ে আসবে।
আর একটা কথা স্কুলটা হয়েছে একবছরও হয়নি। এরি মাঝে একমাত্র ম্যাডামের ৫ মাসের বেতন বাকী পরেছে। তার মানে এর উদ্যোক্তারা তুব একটা অর্থ বরাদ্দ করেনি এ কাজের শুরুতে। যদি তাই হয় শুধু অন্যের টাকায় এটা কতদিন টিকে থাকবে সেটা একটা প্রশ্ন। -
ফাতেমা আবেদীন নাজলা২১ এপ্রিল ২০০৯, ১২:১৮
আজমান ভাই চমৎকার। একটা কাজ। এটা ঠিক একটা অবকাঠামো থাকা উচিত অন্যের উপর কতদিন চলবে? আমিও এইটাই বিশ্বাস করি। তবে যিনি প্রশ্নটি করেছেন তার জন্য বলছি। এটা কোন ব্যাবসায়িক ইনভেস্টমেন্ট না, তাই হয়তো এরকম কোন প্ল্যান করা হয়নি। নিতান্তই মানবীয় আবেগ থেকে করা কিছু কাজ। এটা যে এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন এর জন্য সাধুবাদ। আশা করি খুব শীঘ্র একটা অবকাঠামো দাড়িয়ে যাবে।
-
সাম্প্রতিক পোস্ট
-
সাম্প্রতিক মন্তব্য





নীতিমালা
ব্লগ বই
অভিযোগ
সাম্প্রতিক পোস্ট

ফনেটিক